আরজ আলী মাতুব্বর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আরজ আলী মাতুব্বর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৩ মার্চ, ২০১৪

ভ্রান্তিতৃপ্তরা


পাঠিয়েছেন অহম


আরজ আলী মাতুব্বর লিখেছিলেন:
সকল সম্প্রদায়ের ধর্মযাজকেরা এই কথাই বলিয়া থাকেন যে, তাঁহাদের আপন আপন ধর্মই একমাত্র সত্যধর্ম, অন্য কোন ধর্মই সত্য নহে। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের স্বর্গপ্রাপ্তি, পরিত্রাণ, নির্বাণ বা মোক্ষলাভ ঘটিবে না। এ যেন বাজারের গোয়ালাদের ন্যায় সকলেই আপন আপন দধি মিষ্ট বলে।
(সত্যের সন্ধান, আরজ আলী মাতুব্বর রচনা সমগ্র ১, প্রকাশক: পাঠক সমাবেশ, ১৯৯৩)

শনিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১০

মাঙ্গলিক মাতুব্বর


গতকাল ছিলো বাংলাদেশের স্বশিক্ষিত দার্শনিক ও চিন্তাবিদ আরজ আলী মাতুব্বরের জন্মদিন।

প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি থাকলেই কাউকেই শিক্ষিত বলা কি উচিত, যদি সে মুক্তচিন্তা করতে না পারে? কয়েকটি পাঠ্যপুস্তক পড়ে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করাটাই কি শিক্ষিত হবার পরিচায়ক? বিশ্বাস ভেঙে যাবে বলে প্রশ্ন করতে ভীত হলে সেই শিক্ষার মূল্য কতোটা? তেমন তথাকথিত শিক্ষিত ব্যক্তিকে সুশিক্ষিত বলা যাবে? 

আরজ আলী মাতুব্বর। জন্ম ১৯০১, মৃত্যু ১৯৮৬। গ্রাম্য কৃষক। স্কুল-কলেজের ডিগ্রি তাঁর ছিলো না। পড়েছেন "সেকালের পাঠশালার দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত" (তাঁর ভাষায়)। কৃষিকাজের অবসরে নিজ উৎসাহে ও উদ্যোগে পড়াশোনা করেছেন দূর শহরের লাইব্রেরিতে পায়ে হেঁটে গিয়ে। তিনি স্ব-শিক্ষিত এবং সুশিক্ষিতও। তিনি কুসংস্কারমুক্ত ছিলেন বলে মুক্তচিন্তা করতে পারতেন। ধর্মীয় রীতিনীতি ও কুসংস্কার বিষয়ে যতো প্রশ্ন এসেছে তাঁর যুক্তিমনস্ক মস্তিষ্কে, তিনি সেসবের উত্তর খুঁজেছেন, বিশ্লেষণ করেছেন, প্রচ্ছন্ন সরস কটাক্ষ করেছেন। ডিগ্রিধারী ক'জন শিক্ষিত লোক তা করে থাকে?

তিনি তাঁর লব্ধ জ্ঞান ও নিজস্ব অনুসন্ধিৎসু বুদ্ধিবৃত্তির অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে কয়েকটি বই রচনা করেন। তাঁর ভাষাজ্ঞান, রসবোধ অপূর্ব। মুক্তচিন্তাশীল প্রতিটি পাঠকের অবশ্যপাঠ্য বই সেগুলো। তাঁর জীবনকাহিনীও খুব বিচিত্র। তাঁর সম্পর্কে অনেক লেখালেখি হয়েছে পত্র-পত্রিকায়, নানান বাংলা ব্লগে।

আমি মনে করি, তাঁর লেখা অন্তত একটি বই প্রতিটি মুক্তমনের মানুষের পড়া উচিত অতিঅবশ্য। নাম "সত্যের সন্ধানে"। বাংলাদেশবাসী পাঠকদের আহ্বান জানাই বইটি কিনে পড়তে। প্রবাসীদের জন্য ডাউনলোড লিংক (সায়কা শাহরিন-এর সৌজন্যে)। পিডিএফ-এর মান অতি উন্নত নয় বটে, তবে যেহেতু মাত্র ৮৬ পৃষ্ঠার বই, তা মনিটরেই পড়ে নেয়া যাবে।

বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১০

আরজ আলীর মাঙ্গলিক মাতুব্বরি – ০১


(প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি থাকলেই কাউকেই শিক্ষিত বলা কি উচিত, যদি সে মুক্তচিন্তা করতে না পারে? কয়েকটি পাঠ্যপুস্তক পড়ে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করাটাই কি শিক্ষিত হবার পরিচায়ক? বিশ্বাস ভেঙে যাবে বলে প্রশ্ন করতে ভীত হলে শিক্ষিত ব্যক্তিকে সুশিক্ষিত বলা যাবে? 

আরজ আলী মাতুব্বর। জন্ম ১৯০১, মৃত্যু ১৯৮৬। গ্রাম্য কৃষক। স্কুল-কলেজের ডিগ্রি তাঁর ছিলো না। পড়েছেন "সেকালের পাঠশালার দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত" (তাঁর ভাষায়)। কৃষিকাজের অবসরে নিজ উৎসাহে ও উদ্যোগে পড়াশোনা করেছেন দূর শহরের লাইব্রেরিতে পায়ে হেঁটে গিয়ে। তিনি স্ব-শিক্ষিত এবং সুশিক্ষিতও। তিনি কুসংস্কারমুক্ত ছিলেন বলে মুক্তচিন্তা করতে পারতেন। ধর্মীয় রীতিনীতি ও কুসংস্কার বিষয়ে যতো প্রশ্ন এসেছে তাঁর যুক্তিমনস্ক মস্তিষ্কে, তিনি সেসবের উত্তর খুঁজেছেন, বিশ্লেষণ করেছেন, প্রচ্ছন্ন সরস কটাক্ষ করেছেন। ডিগ্রিধারী ক'জন শিক্ষিত লোক তা করে থাকে?
তিনি তাঁর লব্ধ জ্ঞান ও নিজস্ব অনুসন্ধিৎসু বুদ্ধিবৃত্তির অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে কয়েকটি বই রচনা করেন। মুক্তচিন্তাশীল প্রতিটি পাঠকের অবশ্যপাঠ্য বই সেগুলো। তাঁর জীবনকাহিনীও খুব বিচিত্র। তাঁর সম্পর্কে অনেক লেখালেখি হয়েছে পত্র-পত্রিকায়, নানান বাংলা ব্লগে। এখানে ক্লিক করে তাঁকে নিয়ে রচিত বেশ কিছু লেখার লিংক পাওয়া যাবে।

ধর্মকারীতে আরজ আলী মাতুব্বরের নানান লেখা থেকে ছোট ছোট অংশ উদ্ধৃত করা হবে। আজ সেটির প্রথম পর্ব।)



১. ভক্তদের নিকট আপন আপন ধর্ম সর্বশ্রেষ্ঠ, সনাতন ও ঈশ্বর-অনুমোদিত, মুক্তি বা পরিত্রাণের একমাত্র পন্থা। বলা বাহুল্য যে, এরূপ ধারণা প্রত্যেক ধর্মেই বিদ্যমান। কোন ধর্মে একথা কখনও স্বীকার করে না যে, অপর কোন ধর্ম সত্য অথবা অমুক ধর্মাবলম্বী লোকদের স্বর্গপ্রাপ্তি, মুক্তি বা নির্বাণ ঘটিবে। বরং সকল সম্প্রদায়ের ধর্মযাজকেরা এই কথাই বলিয়া থাকেন যে, তাঁহাদের আপন আপন ধর্মই একমাত্র সত্যধর্ম, অন্য কোন ধর্মই সত্য নহে। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের স্বর্গপ্রাপ্তি, পরিত্রাণ, নির্বাণ বা মোক্ষলাভ ঘটিবে না। এ যেন বাজারের গোয়ালাদের ন্যায় সকলেই আপন আপন দধি মিষ্ট বলে।
(সত্যের সন্ধান, আরজ আলী মাতুব্বর রচনা সমগ্র ১, প্রকাশক: পাঠক সমাবেশ, ১৯৯৩)

২. এক যুগের বৈজ্ঞানিক সত্য আরেক যুগে মিথ্যা প্রমাণিত হইয়া যায় এবং যখনই উহা প্রমাণিত হয়, তখনই বৈজ্ঞানিক সমাজ উহাকে জীর্ণবস্ত্রের ন্যায় পরিত্যাগ করেন এবং নূতন সত্যকে সাদরে গ্রহণ করেন।
ধর্মজগতে কিন্তু ঐরূপ নিয়ম পরিলক্ষিত হয় না। তৌরিত, জব্বুর, ইঞ্জিল, কোরআন, বেদ-পুরাণ, জেন্দ-আভেস্তা ইত্যাদি ধর্মগ্রন্থসমূহের প্রত্যেকটি অপৌরুষেয় বা ঐশ্বরিক পুঁথি কি না, তাহা জানি না, কিন্তু ইহাদের প্রত্যেকটি গ্রন্থ এই কথাই বলিয়া থাকে যে, এই গ্রন্থই সত্য। যে বলিবে মিথ্যা - সে নিজে মিথ্যাবাদী, অবিশ্বাসী, পাপী এবং নারকী।
(সত্যের সন্ধান, আরজ আলী মাতুব্বর রচনা সমগ্র ১, প্রকাশক: পাঠক সমাবেশ, ১৯৯৩)