২৭ ফেব, ২০১৭

কুফরী কিতাব: উম হানি ও মুহাম্মদ (ইসলামের মহানবীর প্রথম ভালবাসা) - আবুল কাশেম

স্টিকি পোস্ট

ভূমিকা থেকে:
উম হানি এবং নবী মুহাম্মদের মাঝে পরকীয়া প্রেমের বিষয়ে আলোকপাত করা অত্যন্ত জটিল এবং বিপজ্জনক। জটিল এই কারণে যে, উম হানির ব্যাপারে আধুনিক ইসলামী পণ্ডিতেরা কোনো কিছুই জানাতে চান না। কারণ নবীর জীবনের এই অধ্যায় তেমন আনন্দদায়ক নয়। নবীর শিশু-স্ত্রী আয়েশা, পালকপুত্রের স্ত্রী যয়নবের সাথে নবীর বিবাহ, এবং আরও অন্যান্য নারীদের সাথে নবীর যৌন এবং অযৌন সম্পর্কের ব্যাপার আজ আমরা বেশ ভালভাবেই জানতে পারি। তা সম্ভব হয়েছে আন্তর্জালের অবাধ শক্তির জন্যে। আজকাল এই সব নিয়ে প্রচুর লেখালেখি হচ্ছে এবং আমরা নবীর জীবনের অনেক অপ্রকাশিত অন্ধকার দিকগুলি অবলোকন করতে পারছি। কিন্তু উম হানির সাথে যে নবী আজীবন পরকীয়া প্রেম করে গেছেন—অগনিত স্ত্রী ও যৌনদাসী থাকা সত্ত্বেও—তা নিয়ে আজ পর্যন্ত তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো প্রবন্ধ লেখা হয়নি। 
উম হানি ছিলেন নবী মুহাম্মদের প্রথম এবং আজীবন প্রেম। ধরা যায়, নবী উম হানিকে মনঃপ্রাণ দিয়ে ভালবাসতেন এবং কোনোদিন এক মুহূর্তের জন্য উম হানিকে ভোলেননি। ইসলামের নির্ভরযোগ্য প্রাচীন ও মৌলিক উৎস ঘেঁটে এই রচনা লেখা হয়েছে, যাতে নবী জীবনের এই উপাখ্যান দীর্ঘ জানা যায়। যেহেতু উম হানির জীবন এবং নবীর সাথে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে কোনো ইসলামী পণ্ডিত ইচ্ছাকৃতভাবেই তেমন মাথা ঘামাননি, তাই অনেক কিছুই অনুমান করে নিতে হয়েছে। জোরালো হাদিস এবং প্রাথমিক জীবনীকারদের থেকে জানা তথ্যই এই অনুমানের ভিত্তি। এই রচনাতে নবী মুহাম্মদের পরকীয়া প্রেমের অনেক প্রশ্নের উত্তর পাঠকেরা হয়ত পাবেন।
ইছলামের নবীর জীবনের এই অধ্যায়টি নিয়ে বাংলা ভাষায় এতো গভীর গবেষণাসমৃদ্ধ রচনা আর লেখা হয়নি। আর এই কাজটি করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও কিংবদন্তিতুল্য ইছলাম-গবেষক এবং কোরান, হাদিস ও ইছলামের ইতিহাস সম্পর্কে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী আবুল কাশেম। 

এই ইবুকের পরিকল্পনা, বিন্যাস, প্রচ্ছদ ও নির্মাণ নরসুন্দর মানুষ-এর।

ফরম্যাট: পিডিএফ (সম্পূর্ণভাবে মোবাইলবান্ধব)
সাইজ: ১.১ মেগাবাইট মাত্র

ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/To2GY5
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/ZnlihF

(অনলাইনে লভ্য সমস্ত বাংলা কুফরী কিতাব এক জায়গায়এই ঠিকানায়)

নিচে অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শন:

প্রস্তাব

সূরা মঙ্গল

অবতীর্ণ হয়েছে বেনামী সংস্কারক-এর ওপরে

১. তোমরা কি দেখ না আমি কত সুন্দর করে তৈরি করেছি ধূসর গ্রহ, যেখানে রয়েছে তোমাদের জন্য শুভ ও কল্যাণময় বস্তু?

২. এই দুনিয়া তোমাদের জন্য ক্ষণস্থায়ী জায়গা, সময় ফুরিয়ে আসবে শীঘ্রই।

৩. যখন তোমরা বিষের তাড়নায় অস্থির হয়ে দিগ্বিদিক ছুটবে তখন কে তোমাদের আশা দেবে? কে তোমাদের ভরসা দেবে? কে শোনাবে আশার বাণী?

৪. যখন তোমরা পিপাসায় কাতরাবে, কিন্তু যা দেখবে সবই দৃষ্টিভ্রম।

৫. তোমাদের জন্য সেখানে আছে কল্যাণময় বস্তু, যা তোমরা কল্পনাও করনি, যা কোনও চোখ দেখেনি, যা কোনও কান শোনেনি, যার ঘ্রাণ কেউ পায়নি।

৬. তোমরা আমার সীমানার বাইরে যেতে পারবে না, কিন্তু তোমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছি তা ব্যতীত।

৭. হে মানব সম্প্রদায়, তোমরা যাকে মহাপুরুষ ভেবেছিলে, সে কতজনের কতভাবে সর্বনাশ করেছিল, তা কি তোমরা জানো?

৮. তোমাদের মাঝে যাকে ভেবেছিলে নিকৃষ্ট, সেই আজ তোমাদের জন্য নিয়ে আসবে কল্যাণ।

৯. তোমাদের জন্য অপেক্ষায় আছে ঘূর্ণায়মান উদ্যান।

১০. যখন তোমরা থাকবে না, কিন্তু তোমাদের পরবর্তী প্রজন্ম জানবে আমার করুণা।

১১. সুতরাং আর কতবার কতভাবে বললে বুঝবে এই গ্রন্থ কল্যাণময়, এটাই একমাত্র সত্যি, আমার থেকে প্রেরিত।

১২. সময় থাকতেই তাই সবাই এক হও, ভেঙে ফেল সব বাধা বিদ্বেষ পৈতা তিলক দাড়ি টুপি ক্রুশ ত্রিশুল।

তাৎপর্য

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৭৫

২৬ ফেব, ২০১৭

নিমো হুজুরের খুতবা - ২৯

লিখেছেন নীল নিমো

ফুরফুরে মেজাজে আছি। নাস্তিকদের প্রশ্নের উত্তর দিবার জন্য নতুন একখানা বই হাতে পেয়েছি। বইটার নাম হল - প্যারডক্সিকাল সাজিদ। কোরান হাদিস সব কিছুই নাস্তিকদের কাছে ফেল খাইছে, এখন প্যারডক্সিকাল সাজিদ সাহেবই ভরসা।

আজকে এক নাস্তিকের সাথে দেখা হওয়া মাত্রই প্যারডক্সিকাল সাজিদ বইটা খুলে নাস্তিককে দাঁতভাঙা প্রশ্ন করলাম:
- ওহে জাহান্নামি নাস্তিক, আপনার বাবা-মা যে আপনার জন্মদাতা বাবা-মা, এর প্রমাণ কী? আপনি অন্ধভাবে আপনার বাবা-মাকে বিশ্বাস করেছেন। ঠিক তেমনিভাবেই অন্ধভাবেই আল্লাহকে বিশ্বাস করতে দোষ কী?

নাস্তিক উত্তর দিল:
- আমার বাবা-মা আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে দাবি করেছে যে, তারা আমার বাবা-মা। আপনার আল্লাহকে বলেন, আমার সামনে এসে দাড়িয়ে নিজেকে সৃষ্টিকর্তা হিসাবে দাবি করতে।

নাস্তিকের প্রশ্ন শুনে ভাবাচ্যাকা খাইলাম। বুঝলাম, প্যারডক্সিকাল সাজিদ ধরা খাইছে। নাস্তিককে সেটা বুঝতে না দিয়ে নিজে বুদ্ধি করে পাল্টা প্রশ্ন করলাম:
- আল্লাহপাক তো কোরানে দাবি করেছেন, তিনি সৃষ্টিকর্তা। সামনে আসার দরকার কী? নাস্তিকদের সামনে আসতে আল্লাহ কম্ফোর্ট ফিল করেন না। আপনার বাবা-মা সামনে এসে দাঁড়িয়ে দাবি করলেও তো আপনাকে বিশ্বাস করে নিতে হবে, ঠিক কি না?

নাস্তিক উত্তর দিল:
- বর্তমানে DNA এবং ব্লাড টাইপ ম্যাচ করে বাবা-মা সহজেই নির্নয় করা যায়। আল্লাকে বলেন, তার DNA স্যাম্পল পাঠিয়ে দিতে।

আমি বলিলাম:
- DNA, ব্লাড টাইপ বুঝি না, সহজ করে বলেন।

নাস্তিক উত্তর দিল:
- আপনি তো মাদ্রাসার ছাত্র, তাই DNA, ব্লাড টাইপ বুঝবেন না। তাই আপনার জন‍্য আরেকটা যুক্তি দিচ্ছি। আপনার মা যখন আপনাকে জন্ম দিয়েছিল, তখন চারপাশে লোকজন সাক্ষী হিসাবে ছিল। তাই কে আপনার মা, এটা জানা খুবই সহজ ব্যাপার। কোনো মা লোকচক্ষুর অন্তরালে হেরা গুহা কিংবা মিরাজে গিয়া চুপিচুপি বাচ্চা জন্ম দেয় না।

এইবার বাবার বিষয়ে আসুন। ধরেন, আপনার ১ লক্ষ টাকা চুরি হয়ে গেছে। আপনি চোরকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু পাচ্ছেন না। হঠাৎ এক লোক চুরির দায়িত্ব স্বীকার করে আপনাকে ১ লক্ষ টাকা ফেরত দিল। আপনি কি তাকে জিজ্ঞাস করবেন, সে আসল চোর কি না? আপনি কখনোই জিজ্ঞাস করবেন না, কারণ আপনি আপনার টাকা ফেরত পেয়েছেন, এতেই আপনি খুশি। কে টাকা চুরি করেছিল, সেটা গুরুত্বহীন ব্যাপার। ঠিক তেমনি জন্ম দিলেই বাবা হওয়া যায় না। বরং যে বাবার দ্বায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়, সেই আসল বাবা। আপনার জন্মদাতা বাবা যদি আপনাকে জন্ম দিয়েই পালিয়ে যায়, তাহলে সেই বাবা থাকা বা না-থাকা একই কথা। পুরুষ মানুষের শুক্রাণু তো আজকাল বাজারে কিনতে পাওয়া যায়।

তাছাড়া, আপনাদের মহানবীর (সঃ) জন্মদাতা বাবা আবদুল্লাহ বাবার দায়িত্ব পালন করতে পারে নাই, তাই নবীজি শেষ বয়সে এসে বখে গিয়েছিল। বখাটে চরিত্রহীন মুহাম্মদ (সঃ) একে একে ১১ টা বিয়ে করে ফেলেছিল, কুপিয়ে মানুষ হত্যা করেছিল। আবদুল্লাহ যদি বেঁচে থাকতেন, এবং সঠিকভাবে বাবার দায়িত্বপালন করতেন, তাহলে এই ঘটনা ঘটত না, মুহাম্মদ নিজেকে নবী দাবি করতে পারত না। তাই মুহাম্মদ (সঃ) নিজের পিতা সম্পর্কে বলে গেছেন, কাফের আবদুল্লাহ কখনো বেহেশতে যাবে না। জন্মদাতা বাবা কাফের, একটা কতটা কষ্টকর, সেটা নবীজি ছাড়া কেউই বুঝবে না। আপনি এখন বুঝতে পারছেন, দায়িত্বহীন বাবার পরিচয় জানাটা যেমন জরুরি নয়, ঠিক তেমনি দায়িত্বহীন সৃষ্টিকর্তার পরিচয় জানাটাও নাস্তিকদের জন্য জরুরি নয়।

নাস্তিকের উত্তর শুনে নিঃশব্দে আমার ওযু নষ্ট হয়ে গেল। আমি হাম্মামখানার দিকে গেলাম।

পিতার রকমফের

(পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে)

সম্পর্ক সম্পর্কিত সম্পৃক্ততা - ১

অভিজিৎহীন দু'টি বছর

'মুক্তমনা' ব্লগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অনলাইনে বাংলায় মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রকৃত পথিকৃৎ অভিজিৎ রায়ের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

দু'বছর আগে ঠিক এই দিনে হেফাজতে ইছলাম নিয়ন্ত্রিত মোল্লা একাডেমী কর্তৃক আয়োজিত সিসি ক্যামেরাময় কিতাব মাহফিলের ঠিক বাইরে নির্লিপ্ত পুলিশের উপস্থিতিতে ও অজস্র মানুষের সামনে তাঁকে হত্যা করে শিক্ষাবিদ্বেষী, সভ্যতাবিমুখ ও বর্বর ইছলামের মহানবীর মহান বীর অনুসারীরা।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অনলাইনে কটু মন্তব্য করলে দক্ষ ও তৎপর গোয়েন্দা বাহিনী ছদ্মনামের আড়ালে থাকা ব্যক্তিকেও ধরে ফেলতে পারে ঠিক পরদিনই, কিন্তু অগণ্য প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ দু'বছরে তদন্ত ও বিচারকাজ কতোটুকু এগিয়েছে?

বস্তুত এই হত্যাকাণ্ডের পর উচ্চকণ্ঠে বা নীরবে পুলক-বোধ-করা রাষ্ট্র, সরকার, গোয়েন্দা, পুলিশ ও সর্বোপরি আপামর তৌহিদী মুছলিম জনতা বিন্দুমাত্র সদিচ্ছা বোধ করে না এর তদন্ত ও বিচারকার্যে। তবু যেটুকু করা হয়েছে বা হচ্ছে (বলা উচিত, করার ভান করতে হচ্ছে), তা বহির্বিশ্বের চাপে।

ইছলামী ধর্মবাজদের ঘাঁটানোর সাহস আসলে নেই কোনও প্রশাসনেরই। বরং প্রশাসন এদেরই আজ্ঞাবহ। নইলে ইছলামীরা নিজেদের খোমা মোবারক প্রদর্শন করে বছরের পর বছর প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে, স্পষ্ট দেশবিরোধী বক্তব্য রেখে, এমনকি ইছলামতোষণ-তৎপর মদিনা সনদের নেত্রীকে তীব্র অপমান করে, ব্যঙ্গ করে কীভাবে থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে?

অভিজিৎ রায় বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ, দর্শন ও বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে লেখালেখি করলেও তাঁর প্রধান অপরাধ ছিলো - যুক্তি-তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে ইছলামের আরোপিত মাহাত্ম্যকে ধুলিস্যাৎ করা। ইছলামীরা তাই তাদের নবীর পথ অনুসরণ করে সমালোচনার জবাব দিয়েছে সুন্নতী উপায়ে - সমালোচক-হত্যার মাধ্যমে।

এবং এ কথা মানতেই হবে, এই হত্যাকাণ্ড বিপুলভাবে জননন্দিত ও সমর্থিত - যেহেতু বাংলাদেশে হত্যা-ধর্ষণ-ডাকাতি-দুর্নীতিসহ যে-কোনও ভয়াবহ অপরাধের চেয়ে ইছলাম-সমালোচনার অপরাধ অনেক অনেক বেশি গুরুতর। 

অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুতে অপরিমেয় ক্ষতি হয়েছে মুক্তচিন্তা চর্চা আন্দোলনের। মৃত্যুর পরে কারুর স্থান শূন্য থাকে না বলে যে-কথাটির প্রচলন আছে, সেটি আসলে ভ্রান্ত বাণী। অভিজিৎ রায়ের মতো সুশিক্ষিত, প্রজ্ঞাবান, বিদগ্ধ, মানবতাবাদী, যুক্তিমনস্ক, সংস্কৃতিমনা, প্রতিভাধর, সুলেখক ও আপাদমস্তক ভদ্রজনের স্থান পূরণ হয় না।

২৫ ফেব, ২০১৭

হুজুর হবার উপকারিতাসমূহ

লিখেছেন বুদ্ধ মোহাম্মদ যীশু কৃষ্ণ

১. কোনো অপরাধ করলেও হুজুর হবার কারণে পার পেয়ে যাওয়া যাবে।

২. কোনো কাম-কাজ না করেও বসে বসে সাধারণ মানুষের অন্নধ্বংস করা যাবে ।

৩. এলাকার সব থেকে বড় প্রভাবশালী ব্যক্তিও আপনাকে সম্মান করে চলবে।

৪. এদেশের বড় বড় রাজাকারদের সাপোর্ট করলেও কেউ আপনাকে কিছু বলবে না।

৫. আপনি যতই আজগুবি গল্প বলেন না কেন, সবাই সেইটাই বিশ্বাস করবে।

৬. রকস্টারদের চেয়েও বেশি চাহিদা থাকবে আপনার। বছরে ৭০- ৮০ টা লাইভ কনসার্ট থুক্কু ওয়াজ করতে পারবেন, সাথে অ্যারাবিয়ান ইশটাইলে ভুঁড়িভোজ ও মোটা অংকের হাদিয়াও পাবেন।

৭. আপনার অপছন্দের কোনো মানুষকে কাফের-নাস্তিক-মুরতাদ-মুনাফেক ঘোষণা করে সমাজের সবার কাছে তাকে ঘৃণীত করে তুলতে পারবেন।

৮. কষ্টহীনভাবে অনেক চ্যালা পাবেন, যাদের আপনি যে কোনো কাজে লাগাতে পারবেন।

৯. এলাকায় খয়রাতির বেশে থাকলেও গ্রামের বাড়ি ৩-৪ তলা করতে পারবেন।

১০. মসজিদ উন্নয়নের অর্ধেক অর্থ আপনার পকেটে ভরতে পারবেন। 

১১. আর সব চেয়ে বড় যে সুবিধাটি পাবেন, সেটা হল - চারটা বিয়ে করলেও কেউ আপনাকে নিয়ে কিছু বলবে না। 

শিবলিঙ্গ নাকি লিঙ্গ নয়!

নামাজরঙ্গ - ৪৬

২৪ ফেব, ২০১৭

হারানো প্রাপ্তি

লিখেছেন রাজিব রাজ রায়

আমার রুমমেট সুজন খুব ঠাকুরভক্ত। একদিন হঠাৎ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে দেখি, স্নান করে সূর্যের দিকে দুই হাত জোড় করে কী যেন বিড় বিড় করতাছে। ভাবলাম, ঠাকুরপূজা করবে কিন্তু কিছুক্ষণ চিন্তা করে মাথায় এলো: আগে তো কোনোদিন এতো সকালে স্নান করে নাই!

আমার বুঝতে আর বাকি রইল না, রাতে স্বপ্নে তার পাশে স্বপ্নের রাজকন্যা আসছিলো। তারপরও ব্যাপারটা নিশ্চিত করতে হয়। প্রশ্ন করলাম:
- দোস্ত, কী হইছে?

কোনো জবাই নাই। ধ্যানে মগ্ন। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম একই প্রশ্ন। তাতেও কোন উত্তর নাই। ধ্যান শেষে আমার উপর রাগ ঝেড়ে বলল:
- কী সমস্যা?
- কী হইছে তোর?

আমি ভয় পেয়ে গেলাম। আবার ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম:
- ভাই, কী হইছে, এতো সকাল সকাল স্নান-পূজা... ব্যাপার কী?

সে আমাকে উত্তর দিলো:
- তোর মত ফালতু মানুষের প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারব না। জীবনে কোনোদিন ধর্মের বই কিংবা কোনো শ্লোক পড়েছিস।

আমি ওর কথা শুনে পুরা বোকচোদ হয়ে গেলাম, আমার ইচ্ছা জাগলো ধর্মের বই পড়ার। সাথে সাথেই ওর বই থেকে শ্লোক পড়তে শুরু করলাম। একটা শ্লোক পড়ার পরই আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না, সকাল সকাল সুজনের স্নান আর পূজার মানে কী।

শ্লোকটা হলো:
ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বৈশ্য ব্রহ্মচারী যদি অনিচ্ছাবশতঃ স্বপ্নাবস্থায় রেতঃস্ফলন করে, তাহলে সে স্নান করে, গন্ধপুস্পাদির দ্বারা সূর্যদেবের অর্চনা ক'রে 'পুর্নর্মামৈতু ইন্দ্রিয়ম্' অর্থাৎ "আমার বীর্য পুনরায় আমাতে ফিরে আসুক্"- এই মন্ত্র তিনবার জপ করবে। [মনুসংহিতা ২-১৮১]
হিন্দু ভাইরা রাতে স্বপ্নে স্বপ্নের রাজকন্যার সাথে রাত কাটাতেই পারেন - যেহেতু এই মন্ত্রের বলে আপনার হারিয়ে যাওয়া বীর্য আবার ফিরে পাবেন।

বি: দ্র: সুজন চরিত্রটি কাল্পনিক।

ক্রুশের ছবি – ২৩

নেহাতই ক্রুশের ছবি। অন্য কোনওদিকে নজর গেলে বা অন্য কিছু বুঝলে তার দায় ধর্মপচারকের নহে।

কুদরতিক্রিয়া - ০৫

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

১৩.
আজিয়া ২৪ সে পেব্রুয়ারি, ২১ পেব্রুয়ারি সেস। ওই দিন তেকে বাংলা বাশাড় ফ্রতি আমার দরদও সেস। আমি কেমুন বাংলা লেকলাম, এইডা নিয়া আমি এতু মাতা গামাই না। সুদ্দ না বুল - তাতে আমার আর কিসু যায় আসে না। আমার ফ্রিয় বাশা অইলে আরুবি। আরুবি বাশা আল্লার নবি রাসুলের বাশা, অফর দিকে বাংলা অইলে ইন্দুয়ানি বাশা। মরার ফরে কবরে জবাব আরুবি বাশায় ই দিতি অইবে, তাই আরুবি বাশা সিক্কা করা অত্যন্ত জরুরি। দরুন, হাশরের ময়দানে আফনি হটাত নবিজির দিকা ফেয়ে গেলেন। তকন নবিজির ফায়ে ফরি কান্দাকাটি কইল্লেন আর নবিজিকে বাংলায় বইল্লেন আল্লার কাসে সাফায়াত করাত জইন্ন। তকন ত আমাগের নবিজি আফনার বাংলা বাশা বুইজবেন না। আর আফনি হয়ত আমার সাতে তরক কইত্তে ফারেন যে, বাংলা ত আন্তরজাতিক মাতরি বাশা, নবিজির ত এই বাশা জানা দরকার। তালি ফরে বাই আফনি তক্কে হেরে যাবেন। কারন আফনি আমাক এমুন কুনু হাদিস দিকাইতে ফাইরবেন না, যিকানে বলা আচে, নবিজি আরুবি বাশা সারা আর অন্য কুনু বাশা জাইনতেন। তা অলে ফরে একন কি দারাল? যেহুতু একুসে পেব্রুয়ারি সেস, অতএব আমারা আবার আমাগের ফ্রিয় আরুবি বাশায় ফিরি যাইব। আরুবি বাশার গুন গান গাইব।

১৪.
কেমেরা একটা নাস্তেকি জন্ত্র। ফ্রয়ুজন চাড়া কেমেরায় ফডু তুলা ফাফ। অতচ আমাগের মজ্জিদ এর মুয়াজ্জিম মজ্জিদে কেমেরা লাগাইছে। তাও আবার মুশন কেমেরা। নমাজ ফরতে দারাইলে মুনে হয় সুটিং এ দারাইছি। মজ্জিদের বিত্রে এমুন নাস্তেকি জন্ত্র ফ্রবেশ করানির লাই মুয়াজ্জিম এর কি সাস্তি হবে, বলেন আফনারা?

১৫.
কুরান মজ্জিদ বিসসের একমাত্র বিজ্ঞান ময় কিতাব। পিতিবির এমুন কুনু বিগগান, কলা, সংস্কিতি নাই, যার কতা কুরানে উল্লেক নাই। পিতিবির সব কিসু একমাত্র কুরান বেতিত অন্য কুনু কিত্তাবে লেকা নাই। কুরান যেহেতু একমাত্র বিগগানের বই, সেহেতু কুরানের হাফিজ বা যারা কুরান সিক্কা করেসে, তারা এক এক জন বিসসের বড় বড় বিগগানি। মেডিকেলে চাইন্স, মহাকাস চাইন্স, রসায়ন চাইন্স, জিব বিগগান, উদবিত বিগগান সহ এমুন কুনু বিগগান নাই, যা তারা জানে না। অতস সরকার তাদেরকে কুনু বিগগানিক সাকরি দেয় না। দেসের বর বর বিগগানাগার বা গবেসনাগারে তাদেরখে নিয়ুগ দিলে দেস আজিয়া কত আগাই তাইকত, তা আর বলা লাগে না। আজিয়া আমাদের এইসব হাফেজ বিজ্ঞানিরা সুদু বারি বারি মিলাদ ফড়ানু আর রমজানে তেরাবি ফড়ানু সারা আর কুনু কাম ফায় না। তাদের ফকেটের অবস্তা এই অল্ফ সিক্কিত কুদরত আলির সেয়েও অদিক কারাফ। তাই দেসের সরকার ও বিগগ জনের কাসে আমাগের অনুরুদ, আমাদের এই সব হাফেজ বিগগানি বাইদের কে দেসের ফ্রতিটি মেডিকেল, বিসসবিদ্যালয়, কলেজ এর গবেসনাগারে নিয়ুগ দেয়া হুক, তাহলে দেকবেন, আগামি ৫০ বসরে দেস ফুরা জান্নাত হই গিসে। আমিন।

মমিন-মন

২৩ ফেব, ২০১৭

তুরাবা ও নাজাদ আক্রমণ - কে ছিল আগ্রাসী? কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৬০): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত চৌত্রিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই প্রাণবন্ত বর্ণনার আলোকে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীদের সংঘটিত খায়বার (পর্ব: ১৩০-১৫২)  ফাদাক (পর্ব: ১৫৩-১৫৮)  ওয়াদি আল-কুরার (পর্ব-১৫৯) নিরপরাধ জনপদের ওপর তাদের অমানুষিক নৃশংস আগ্রাসী আক্রমণের ইতিবৃত্ত গত ত্রিশটি পর্বে করা হয়েছে।

হুদাইবিয়া সন্ধি চুক্তি সম্পন্ন শেষে (পর্ব: ১১১-১২৯) মদিনায় ফিরে আসার পর হিজরি সাত সালে (মে ১১, ৬২৮ - এপ্রিল ৩০, ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দ) এই হামলাগুলোই হলো অবিশ্বাসী জনপদের ওপর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সর্বপ্রথম আগ্রাসী আক্রমণ। মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল-তাবারী ও আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, খায়বার যুদ্ধ প্রাক্কালে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশ্যে চারটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সেই নিষেধাজ্ঞা গুলো হলো: [1] [2]

১. গৃহপালিত গাধার মাংস ভক্ষণ করা নিষিদ্ধ, পরিবর্তে তিনি তাদেরকে ঘোড়ার মাংস খাওয়ার অনুমতি প্রদান করেন। ২. যে কোনো ধরনের মাংসাশী প্রাণীর মাংস ভক্ষণ করা নিষিদ্ধ; ৩. লুটের মালের হিস্যা যথাযথভাবে বরাদ্দ করার আগেই সেখান থেকে কোনোকিছু বিক্রি করা নিষিদ্ধ, ও ৪. গনিমতের মাল হিসাবে ধৃত নারীদের সাথে যৌনসঙ্গমের পর সেই নারীটির ঋতুস্রাব হওয়ার পূর্বে, কিংবা নারীটি গর্ভধারণ করলে সেই সন্তান প্রসবের পূর্বে তাঁর সাথে অন্য কোনো অনুসারীর যৌনসঙ্গম করা নিষিদ্ধ।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনা মতে, মুহাম্মদ তাঁর এই আগ্রাসী হামলাগুলো সম্পন্ন করার পর মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন হিজরি সাত সালের সফর মাসে। আল-ওয়াকিদির বর্ণনার উদ্ধৃতি সাপেক্ষে আল-তাবারীর বর্ণনায় আমরা জানতে পারি: [3]

>> হিজরি ৭ সালের মহরম মাসে (যার শুরু হয়েছিল ১১ই মে, ৬২৮ সাল) মুহাম্মদ তাঁর কন্যা যয়নাবকে তাঁর স্বামী আবু আল-আস বিন আল-রাবির কাছে পুনরায় ফেরত দেন। বদর যুদ্ধের (১৫ই মার্চ, ৬২৪ সাল) অব্যবহিত পরেই মুহাম্মদ তাঁর এই কন্যাকে কীভাবে তাঁর এই স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে মদিনায় পাঠাতে বাধ্য করেছিলেন, তার বিস্তারিত আলোচনা "নিকট আত্মীয়রাও রক্ষা পায়নি (পর্ব-৩৮)!" পর্বে করা হয়েছে। এরপর সুদীর্ঘ চারটি বছর (৬২৪-৬২৮ সাল) তাঁরা একে অপরের নিকট থেকে থাকেন বিচ্ছিন্ন! আবু আল-আস বসবাস করেন মক্কায় আর তাঁর স্ত্রী জয়নাব বসবাস করেন মদিনায়। অতঃপর সিরিয়া থেকে বাণিজ্যসামগ্রী নিয়ে মক্কায় প্রত্যাবর্তনের সময় মুহাম্মদের এই জামাতা কীভাবে তাঁর শ্বশুরের অনুসারী হানাদার দস্যুদের কবলে পড়েছিলেন, অতর্কিত হামলায় এই ডাকাতরা কীভাবে তাঁর সমস্ত অর্থ ও বাণিজ্যসামগ্রী লুণ্ঠন করে মদিনায় নিয়ে এসেছিলেন, আবু আল-আস তাঁর প্রাণ রক্ষা ও বন্দীত্ব হতে রক্ষা পাওয়ার প্রচেষ্টায় কীভাবে পালিয়ে এসে মদিনায় অবস্থানকারী তাঁর এই স্ত্রীর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন, জয়নাব তাঁর এই স্বামীকে কীভাবে সাহায্যে করেছিলেন, অতঃপর আবু আল-আস কীভাবে তাঁর শ্বশুর মুহাম্মদকে নবী হিসাবে স্বীকার করে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছিলেন, ইত্যাদি বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা "আবু আল আস আবারও আক্রান্ত (পর্ব-৪০)!" পর্বে করা হয়েছে। আবু আল-আস মুসলমান হওয়ার পর মুহাম্মদ তাঁর এই কন্যাকে তার হাতে পুনরায় হস্তান্তর করেন।

>> এই একই বছর হাতিব বিন আবু বালতা (Hatib b. Abi Balta'ah) নামের মুহাম্মদের এক অনুসারী আলেকজান্দ্রিয়ার (মিশর) সম্রাট আল-মুকাওকিস-এর কাছ থেকে মুহাম্মদের জন্য পাঠানো উপঢৌকন হিসাবে মারিয়া আল-কিবতিয়া ও তাঁর ভগ্নি শিরিন নামের দুই সুন্দরী দাসী এবং মাবুর নামের এক দাসকে সঙ্গে নিয়ে মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন [বিস্তারিত: "মুহাম্মদের যৌন জীবন ও সন্তান জন্ম দানের ক্ষমতা (পর্ব-১০৮)!"]। 

আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা যা জানতে পারি, তা হলো: খায়বার, ফাদাক ও ওয়াদি আল-কুরা আগ্রাসন শেষে মদিনায় প্রত্যাবর্তনের (সফর, হিজরি ৭ সাল) পর পরবর্তী ৮ মাস মুহাম্মদ মদিনায় অবস্থান করেন ও বহু হামলাকারী দল বিভিন্ন স্থানের অবিশ্বাসী জনপদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা এই হামলাগুলোর অল্প-বিস্তর বর্ণনা তাঁদের নিজ নিজ 'সিরাত (মুহাম্মদের জীবনী)' ও হাদিস গ্রন্থে বিভিন্নভাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন! এ বিষয়ের সবচেয়ে বিস্তারিত ও প্রাণবন্ত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন আল-ওয়াকিদি, তাঁর 'কিতাব আল-মাগাজি' গ্রন্থে। তাঁদের সেই বর্ণনার আলোকে আমরা যা জানতে পারি, তা হলো: খায়বার, ফাদাক ও ওয়াদি আল-কুরা আগ্রাসনের পর পরবর্তী দশ মাসে (জিলহজ মাস পর্যন্ত) মুহাম্মদের আদেশে তাঁর অনুসারীরা বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অবিশ্বাসী জনপদের ওপর কমপক্ষে আরও সাতটি আগ্রাসী আক্রমণ পরিচালনা করেন, যার সংক্ষিপ্ত আলোচনা 'আল ফাতহ' বনাম আঠারটি হামলা (পর্ব-১২৪)!' পর্বে করা হয়েছে। এই হামলাগুলো ছাড়াও মক্কা থেকে পালিয়ে আসা আবু বসির নামের মুহাম্মদের আর এক অনুসারীর নেতৃত্বে কুরাইশ বাণিজ্যবহরের ওপর হামলা, তাঁদেরকে খুন ও তাঁদের মালামাল লুণ্ঠন ছিল পুরোদমে অব্যাহত [বিস্তারিত: 'হুদাইবিয়া সন্ধি-চুক্তি ভঙ্গ চার (পর্ব-১২৮)!']। 

পেশাদারী মনোভাব

কোরআন যেভাবে অবতীর্ণ: মক্কা - তৃতীয় অধ্যায়: না ঘরকা না ঘাটকা (পর্ব ২৬)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


পরপর দু'টি ছেলে-সন্তান হারানোর শোক এখনও কমেনি খাদিজার, আব্দুল্লাহ মারা যাবার বছরই বন্যা হলো মক্কায়; শরীরটা তখন থেকেই ভালো যাচ্ছে না। মুহাম্মদ-পক্ষের বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন নিজের বোনের ছেলের সাথে, সে ছেলে কোনোভাবেই মুসলমান হচ্ছে না! তার পরের পিঠোপিঠি দুই মেয়ের বিয়ে নিয়ে আবু লাহাবের ছেলেদের সাথে যা হলো, তা আর বলার মত নয়!

মন-শরীর নিয়মিত খারাপই থাকে এখন, মক্কায় বের হলেই যেভাবে প্রশ্নচোখে তাকায় সবাই! তাই প্রাকৃতিক কাজ ছাড়া খুব একটা বের হন না খাদিজা। মুহাম্মদকে বলেন প্রতিনিয়ত, "তুমি যে এমন পাগলামী করো মাঝে মাঝে, আমি যদি না থাকি, বাচ্চাদের কী হবে, ভেবে দেখেছো?" মুহাম্মদ প্রশ্নের উত্তর দেন না; খাদিজাকে কীভাবে বোঝাবেন কতটা চাপে আছেন তিনি; না পারেন বলতে, না পারেন সইতে! যাদের হাতে এক-ঈশ্বর বিশ্বাসের হাতেখড়ি মুহাম্মদের, কেউ নেই তাদের; যার সবচেয়ে বেশি অনুরক্ত ছিলেন মুহাম্মদ, যে তাকে হারাম-হালাল শিখিয়েছে, নামাজ পড়া শিখিয়েছে, হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন হতে শিখিয়েছে, তার ছেলে অনুগামী সাহাবা হলেও, তিনি তো বেঁচে নেই; মুহাম্মদ জন্মদাতা পিতাকে জাহান্নামী মনে করলেও তাকে (পাঠকের কাছে নাম জানতে চেয়ে প্রশ্ন থাকলো) দিয়েছেন নবীর মর্যাদা, সে হিসাবে মক্কায় তিনি প্রথম নবী নন! আরেকজন তো মুসলিম হয়ে হাবাশায় গিয়ে খ্রিষ্টান হয়ে গেছেন! যে কোনো বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আলোচনার মানুষ এখন হাতের কাছে পাওয়া যায় না সহজে; তারপর কুরাইশরা যা শুরু করেছে! যদি কখনও সুযোগ আসে, সবগুলোকে বারো-ঘাটের মরুভূমির বালি খাওয়াবেন তিনি!

মক্কার বয়কটকালীন মুহাম্মদ ক্রমশ নিজেকে নীরব সন্ত্রাসীতে রূপান্তরিত করতে থাকেন; মনের ভেতর প্রতিশোধ স্পৃহা জমাট বাঁধতে শুরু করে তার; যদিও কোণঠাসা মানুষের মতই  কখনও মনের ক্ষোভ প্রকাশ পায় প্রকাশিত আয়াতে, আবার কখনও নিজেকে খুব ক্ষুদ্র মানুষের বাইরে কিছুই মনে হয় না তার! মক্কার ১৩ বছরে মুহাম্মদের আব্রাহামিক ধর্মজ্ঞান ছিলো খুব প্রাথমিক পর্যায়ের, অনেক কিছু্ই জানতেন না। জানতেন না ইব্রাহিমের তৃতীয় স্ত্রী ছিলো (কটুরা) এবং সে পক্ষে তার ৬ সন্তান ছিলো! তিনি জানতেন না, ঈসার মা কার বোন! জানতেন না, তার বর্ণনা করা ধর্মের আদি রূপরেখা মধ্য ইরাক থেকে এসেছে; ভালো-মন্দের রূপরেখা এসেছে ইরান থেকে, তিনি জানতেন না, আদম-এর হাওয়া/ঈভের পূর্বেও স্ত্রী-সন্তান ছিলো!

সব মিলিয়ে মুহাম্মদের ৪১ হাজার অ-মৌলিক হাদিসের যে সন্ধান আজও পাওয়া যায়, তার ৯০ শতাংশ প্রকাশের সময়কাল মদিনার দশ বছর! মক্কায় মুহাম্মদ একজন স্বল্পজ্ঞানী সংখ্যালঘু ধর্মসংস্কারকের বেশি কিছু ছিলেন না কখনই! ১৩ বছর পার করেছেন মাত্র ৮/১০টি গল্প দিয়ে বহুপদের খিচুড়ি রান্না করে!

এ পর্বের প্রকাশিত আয়াতে মুহাম্মদের এই অস্থির দ্বৈত রূপের পরিচয় পাওয়া যায়; মুহাম্মদ এখন কুরাইশদের চাইতে তার অনুসারীদের পুনরায় ধর্মপাঠ দিচ্ছেন বেশি, কারণ অনেকেই মুহাম্মদের ধর্মমত থেকে পূর্বমতে চলে যেতে শুরু করেছে!

কোরআন অবতীর্ণ হবার ধারাবাহিকতা অনুসারে প্রকাশের আজ ২৬ তম পর্ব; এই পর্বে থাকছে মক্কা তৃতীয় অধ্যায়: না ঘরকা না ঘাটকার ৪র্থ তিন অংশ। অনুবাদের ভাষা একাধিক বাংলা/ইংরেজী অনুবাদ অনুসারে নিজস্ব।}

আমার বোরখা-ফেটিশ – ২০৮


২২ ফেব, ২০১৭

নিমো হুজুরের খুতবা - ২৮

লিখেছেন নীল নিমো

একটি দুঃসংবাদ!

ডেনমার্কে আমার এক মুরিদকে ড্যানিশ পুলিশে ধরে নিয়ে গেছে। তার অপরাধ - সে পাবলিক প্লেসে অশ্লীল ভঙ্গি করে মেয়েদেরকে উত্যক্ত করছিল।

যাই হোক, ঘটনাটা একটু খুলে বলি।

আমি আমার মুরিদেরকে কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছিলাম মলমুত্র ত্যাগ করার পর, ঢিলা বা পাথর ব্যবহার করতে হবে, উঠে দাঁড়াতে হবে, ৪০ কদম হাঁটতে হবে, লাফালাফি করতে হবে কিংবা গলাখাকরি দিতে হবে। যে কোনোভাবেই হোক পেশাবের ফোঁটা বন্ধ হয়েছে - এরূপ নিশ্চিত হতে হবে। এতে করে পাকপবিত্রতা নিশ্চিত করা যায়। পাকপবিত্রতা ছাড়া নামাজ কবুল হয় না। আর ঢিলা-কুলুখ হল রাসুলের সুন্নাহ।

তো আজকে দুপুরবেলা আমার সেই মুরিদ ভাইটি ডেনমার্কের পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করার পর টয়লেট থেকে বের যায়। তারপর সে প্যান্টের ভেতরে হাত দিয়ে ৪০ কদম ইস্তিঞ্জারে (ঢিলা-কুলুখ ব্যবহারে) নিয়োজিত ছিল। ঠিক ঐ অবস্থায় ডেনমার্কের পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। আমার মুরিদ শত বুঝিয়েও পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। 

পুলিশ বলছে, জনসমক্ষে প্যান্টের ভেতরে হাত দিয়ে হস্তমৈথুন করে সে অশ্লীল যৌনভঙ্গি করেছে, যা দেখে আশেপাশের মেয়েরা সঙ্গত কারণেই বিব্রত বোধ করছে। 

যদিও আমার মুরিদ বার বার পুলিশকে বলছে: 
- পুলিশ ভাই, আমি রাসুল্লাহর সুন্নত পালন করছিলাম, এইটা আমার মানবাধিকার। আমি নিজের পাকপবিত্রতায় নিয়োজিত ছিলাম। আমি হাত মারছিলাম না।

মূর্খ ড্যানিশ পুলিশ বুঝতেই পারলো না ঢিলা-কুলুখের ফজিলত। মনে হচ্ছে, আমার মুরিদ ভাইটিকে আজকে বড় অংকের একটা জরিমানা দিতে হবে।

পল্টিবাজ কোরান - ০৩


দ্বীনবানের দীন বাণী - ৫৬

ধর্মবিশ্বাস ও ঈশ্বরবিশ্বাস বস্তুত এমন নিঃশর্ত আনুগত্যের দীক্ষা দেয় যে, নিজের বোধবুদ্ধি, নৈতিকতা ও মানবতাকে বিকল করে রেখে প্রশ্নাতীতভাবে পালন করতে হয় ঐশী আদেশ, কিতাবের নির্দেশ, রসুলের বাণী। নিচে একটি উদাহরণ, যা প্রমাণ করে বিশ্বাসী মস্তিষ্কে ঘিলুর প্রয়োজনহীনতা।

মূল ভিডিও: https://youtu.be/Ysecinv367w

প্রায় প্রাসঙ্গিক একটি কার্টুন:

মুছলিম ও বামাতিরা যেভাবে ভাবে

২০ ফেব, ২০১৭

সকল প্রশংসা আল্লাহর

লিখেছেন সুজন আরাফাত

১. 
মুসলমান বাঙালি নিজের পরিশ্রমের ক্রেডিট অবলীলায় অনায়াসে আল্লাহকে দিয়ে দেয়। এতে তারা মনে মনে শুধু নয় আসলেই বেশ তৃপ্ত হয়। সরিষাক্ষেতের আইল দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। মাহবুর ভাই. যিনি ওই ক্ষেতের মালিক, তাঁকে বললাম যে, সরিষা তো বেশ ভালো ফলাইছেন, ভাই। জবাবে তিনি যা বললেন, তা শুনে আর কিছু বলতে পারলাম না: 'আলহামদুলিল্লাহ!'

আচ্ছা, আল্লাহ কবে কৃষিকাজের সাথে জড়িত ছিলেন?ন সৌদি আরবে কোনোদিন সরিষা আবাদ হয়েছে বলে তো শুনিনি, অথচ সরিষা ফলানোর ক্রেডিট পাইয়া গেল আল্লাহ; তাও বিনা পরিশ্রমে।

২. 
হুজুরে ওষুধ কিনতে আসছে ফার্মেসিতে। বলছে, 'ডাক্তরসাব, আমাশা হইছে অষুদ দেন। বেশি লাগবে না, দুই ডোজ খাইলেই তো ভাল হইয়া যাবে ইনশাল্লাহ।'

ইনশাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ চায় তো। দুইটা মেট্রো আর দুইটা সিপ্রো দিয়া বিদায় করলাম। মনে মনে বললাম, আপনার আল্লাহ এখন যদি নাও চায়, তবু আমার দেয়া ওষুধের কল্যাণে আপনার আমাশয় নিরাময় হবে।

আচ্ছা,মধু আর কালিজিরার মত কোরান-সমর্থিত সর্বরোগের ওষুধ থাকতে হুজুরে আমার কাছে আসছিল কেন?

৩. 
হুজুরের সাথে আমার ভাল সম্পর্ক। নিয়মিত ওষুধপাতি নিয়ে থাকেন, ধার-বাকিও থাকে। একদিনের কথা বলি।

'আমার হিসাবটা কত দাঁড়াল? আজকেরটাও লিখে রাখা যায় না? দিয়ে দেব, দিয়ে দেব। আচ্ছা, একটা কলম দেয়া যায় না? ভাল কলম একটা?'

আমার তো দয়ার শরীর, না বলতে পারি না; দিলাম। কলম হাতে পাইয়া, 'নতুন? আলহামদুলিল্লাহ।'

আচ্ছা, মানুষ এইরকম হয় কী করে? কলম দিলাম আমি আর সে প্রশংসা করলো আল্লাহর! একটা ধন্যবাদ তো দিতে পারত অন্তত!

৪.
'আমার হাঁটু নিয়া বড়ই সমস্যায় ছিলাম, নামাজে উঠতে-বসতে কষ্ট হচ্ছিল। আপনার দেওয়া ওষুধ খেয়ে আল্লাহর রহমতে বেশ ভাল আছি।'

হায়রে মুমিন বান্দা, আল্লাহর রহমতও চিনো না ঠিকমতো! আল্লাহর রহমত হইল মধু আর কালিজিরা! ইহুদি-নাছারাদের বানানো ওষুধ খাইবা আর প্রশংসা করবা আল্লাহর! আল্লাহ এদেরকে তুমি তুমার রহমত চেনার তৌফিক দিয়ো।

বেদ্বীনবাণী - ৮৫


ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৯৪

৩১৫.
মজা করার জন্য পাড়ার দোকানে গিয়ে বললাম:
- ৭২ টা হুরি দিন তো।
দোকানদার আমাকে গছিয়ে দিলো একটি কোরান আর একটি সুইসাইড ভেস্ট।

৩১৬.
- মুমিন মুসলমানের প্রায় অনিবার্য বৈশিষ্ট্য কী?
- তারা জীবনে একবার হলেও যেতে চায় সোনার মদীনায়, আর আজীবনের জন্য যেতে চায় ইহুদি-নাসারাদের ইউরোপ-আমেরিকায়।
(বানিয়েছেন সাইফুল ইসলাম)

৩১৭.
স্ত্রীর সঙ্গে কোনও ঝামেলা হলেই আমি ভাবতে বসি: আমার জায়গায় যিশু হলে কী করতো?
তারপর আমি মরার ভান করে তিনদিনের জন্য উধাও হয়ে যাই।

৩১৮.
জুম্মার নামাজে খুতবার সময় ইমাম:
- আজ আমি কথা বলবো মিথ্যা সম্পর্কে। প্রসঙ্গটি শুরু করার আগে একটি প্রশ্ন করতে চাই সবাইকে: আপনাদের মধ্য্যে কে কে কোরানের ১১৫ নম্বর সুরাটি পড়েছেন?

হাত তুললো অনেকেই। দেখে ইমাম বললো:
- আজকের প্রসঙ্গটি আপনাদের জন্য। কোরানে সুরার সংখ্যা ১১৪ টি।

৩১৯.
- ইছলাম অনুসারে, "নারীদের স্থান বাসায়।" তাহলে পুরুষদের স্থান কোথায়?
- জঙ্গলে।

হিজাবী হুরি যতো - ৫



১৯ ফেব, ২০১৭

কুদরতিক্রিয়া - ০৪

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

১০.
মাদ্রাসার শিক্কা শেস করি আমি একন আদুনিক শিক্কা নেওয়ার জইন্য কম্ফিউটার এর উফর এখটা ডিফ্লমা কোস কইত্তেচি। নাস্তেকরা আমাদের মত মাদ্রাসার সাত্রদের লিয়ে হাসি তামসা করে। কয়, আমরা হুজুররা নিকি ইউটুব আর পেচবুক সারা কিসুই জানি না। তাই আমি নাস্তেকদের চেলেঞ্জ হিসেবে রাইতে কম্ফিটার এর উপর ডিফ্লমা করি নাস্তেক দের মুকে সুনকালি দিব। দিনে মাদ্রেসায় সাত্র পরাইব, আর রাইতে নাস্তেকদের সাতে কম্ফিটার এর জ্ঞান লই টক্কর দিব। কম্ফিটার এর উফর ডিফ্লমা কইত্তে যায়া আমার জিবহা ভাইর হইয়া যাইতেচে। কুন শালায় যে এওত কডিন জিনিস বানাইছে। সার রা ফরা দিলে আমি মুতার কতা কই বাগা মারি দেই। হুম ওয়াক না কি যানি এখটা আছে না, অইটা হইল আমার দুই সুকের দুসমন। হুম অয়াক এর কারনে আইজ কাইল ইসলামি মেহফিলেও ঠিম মত তাইকতে ফারি না। এই কম্ফিটার হইল এখটা নাস্তেকি যন্ত্র। আমাদের নবির আমলই বালো সিল, পেচবুক নাই ইউটুব নাই কিসুই নাই। কালি উটে সরে ঘুরো আর হেরেমে নতুন নতুন বিবি আনো।

১১.
"ছবাই কেন গাইতে গেলে ফ্রেমের গানই গায়?
আমি অন্য কিসু গাইব আজ অন্য সুরে গাইব।"

একানে "অন্য কিসু" বলতে অন্য কিসু বুঝানু হয় নি।
একানে "অন্য কিসু" বলতে আল্লা ও তার দোস্তের দীনের গানকে বুজানু হয়েছে।

১২.
সুটু বেলায় ফ্রায় বিস বসর বয়চ ফইয্যন্ত আমার মুকে বুকে বগলে নিম্নাংগে (হিন্দি সুল) কুতাও সুল গজাইতে সিল না। আমার মুক সিল জেনানা দের মত কুমল। ফারা ফ্রতিবেসি বন্দু বান্দব সবাই মোরে লই আসায়াসি কইত্ত। আমার ফরিবার সবাই সিন্তায় ফরি যায়। কি কইরবে কি কইরবে সবাই জকন বাইবতে সিল, এমুন সুময় ফাসের ফ্রামের লেংড়া কবির আসি কয় সফি হুজুরের কাসে যাইতে। সে নিকি সফি হুজুরের কাস তেকে একটা ফু নিয়েসিল, তার ফর তার ফাও বালা হই যায়। আল্লার উফর বরসা করি মোর বাপ মায় মোরে সফি হুজুরের দারে লই গেল। হুজুর মোরে দেকি দুয়া ফরি এক্কান ফু দিলেন। তারফর তেকে আজিয়া আমার নিচে উফ্রে এত সুল। মুকে গনো দারি । সবাই আমার মুকের সুন্দর দারি দেকি ইনবকচে কালি জিগায় হুজুর আফনার এত সুন্দর দারির রহসসো কি? তাই আজিয়া বলি দিলাম। আল্লামা সফি হুজুরের ফু তে ই আজিয়া আমার মুকে বুকে এত সুন্ধর সুল (হিন্দিতে ফইরবেন না)।

বিতর্কক্লান্ত আস্তিক

ইসলামের নবী ও ইসলামে শাদী মোবারক

লিখেছেন পুতুল হক

'কবুল' বললেই বিয়ে হয়ে যায় আর 'তালাক' বললেই বিয়ে ভেঙে যায়। ইসলামে বিয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ যদি হয়, তাহলে এই সম্পর্কে একটাও আয়াত নেই কেন? কোনোমতে "কবুল" বলেই মেয়েদের নিয়ে বিছানাতে যাওয়া ইসলামী পদ্ধতিতে বিয়ের উদ্দেশ্য। তাই মন্ত্র-ফন্ত্র পড়ে সময় নষ্ট করার কথা মোহাম্মদ ভাবেনি। ঘর থেকে পুরোন একটা জড় পদার্থ বের করে ফেলে দিতে যতোটা সময় লাগে, মুসলমান পুরুষের ক্ষেত্রে তার স্ত্রীকে তালাক দিতে ততটুকু সময়ও লাগে না ধর্মীয় বিধান মতে।

আমাদের দেশে বিয়ে নিয়ে যে সমস্ত অনুষ্ঠানাদি হয়, তা সবই ইসলাম-পূর্ব যুগের ধর্ম বা সামাজিক প্রথা থেকে নেয়া। বিয়েকে কেন্দ্র করে ইসলাম ধর্মে আনন্দ করার সুযোগ নেই। যেখানে-সেখানে যখন তখন কবুল বলেই বিয়ে হয়ে যায়। শুধু প্রয়োজন দু'জন পুরুষ সাক্ষী বা একজন পুরুষ ও দু'জন নারী সাক্ষী। হরদম যেহেতু বিয়ে করা চলতেই থাকে, তাই বিয়ে করা জীবনের কোনো বিশেষ ঘটনা নয়। ইসলামী মতে, নারী-অঙ্গ পুরুষের কাছে বিক্রি করে দেয়াটাই বিয়ে। তাও আবার মূল্য নির্ভর করে ক্রেতার সামর্থ্যের ওপর। বিক্রয়ের এই চুক্তিটি যখন সম্পন্ন হয়, তখন ক্রেতার সুবিধা-অসুবিধার দিকটি একমাত্র বিবেচনার বিষয়।

সমমনা হওয়া, বা মনের মিল হওয়া বা ভালোবাসা, প্রেম এসবের কোনোই প্রয়োজন নেই। বিয়ের উদ্দেশ্য - যৌনতা আর সন্তান পয়দা করা। যয়নবকে বিয়ে করার পর মোহাম্মদের বিয়ের গাড়ি থামেনি, আয়েশাকে বিয়ে করার পরও নয়। ৬৩ বছরে পৃথিবী থেকে বিদায় না নিয়ে যদি ৮৩ বছর পর্যন্ত সে বেঁচে থাকতো, তাহলে পৃথিবীর যে কী হাল হতো, তা কল্পনাও করা যায় না। আরও এক কুড়ি বিবি আর শতাধিক দাসী অবশ্যই তার প্রয়োজন হতো। তার সক্ষমতা ধরে রাখার জন্য জিবরাইল ৪০০ পুরুষের শক্তিসম্পন্ন আরক নিয়ে হাজির হতো।

মহানবীর একটি হাদিসে আছে: "যখন কোনো বান্দা বিবাহ করলো, তখন যে তার অর্ধেক ঈমান পূর্ণ করল। আর বাকী অর্ধেকের জন্য সে যেন তাকওয়া অবলম্বন করে" - বায়হাকী। খাদিজার মৃত্যুর পর যখন সে বিপুল বিক্রমে একের পর এক বিয়ে করা শুরু করলো, তখন কি তাঁর ঈমান ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হয়েছিল? বারবার বিয়ে করেও ক্ষয় পূরণ হচ্ছিলো না তাই।

কোরআনে আছে, "তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে..." [সূরা আর-রোম, আয়াত-২১]।

এখন আল্লা সবকিছু সৃষ্টিরও পূর্বে তার নূর দিয়ে মোহাম্মদকে সৃষ্টি করেছে। মোহাম্মদের থেকে তার বিবিরা সৃষ্টি হয়েছে। তাহলে মোহাম্মদের বিবিরাও কি আল্লার নূরের সৃষ্টি? "এলেন করা" কাকে বলে, জানি আমরা? বিয়ের সময় কনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। বিয়ের পর ঘোষণা করে বা অন্য যে কোনো পন্থায় সামাজিকভাবে তা জানিয়ে দিতে হবে, যাকে "এলান করা" বলা হয়।

আরও একটি হাদিস দেখুন: "আয়িশা (রাঃ) একবার নবীজী (সাঃ) কে প্রশ্ন করেছিলেন, একজন যুবতী নারীর ক্ষেত্রে যখন তাকে তার পিতা-মাতা বিবাহ দেয়,তার অনুমতি নেয়া উচিত কি? রাসূল (সাঃ) উত্তর দিলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই তাকে (কনেকে) তার (নিজের) মতামত দিতে হবে; আয়িশা (রাঃ) আবার প্রশ্ন করলেন, কিন্তু একজন কুমারী তো লাজুক থাকে, হে আল্লাহর রাসূল? রাসূল (সাঃ) উত্তর দিলেন, তার নীরবতাই সম্মতি বলে বিবেচিত হবে।"  - বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।

মোহাম্মদ যখন আয়েশাকে বিয়ে করে, তখন কি সে সম্মতি দেয়ার মত পরিণত হয়েছিল? তাহলে মোহাম্মদের সাথে আয়েশার বিয়ে বৈধ হয় কীভাবে?

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৭৪

১৮ ফেব, ২০১৭

নিমো হুজুরের খুতবা - ২৭

লিখেছেন নীল নিমো

আজকে শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে বয়ান দিচ্ছিলাম। বিষয় ছিল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সঃ) এর মক্কা বিজয়। বয়ান দিচ্ছিলাম এইভাবে:
- ... বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় ছিল মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক স্মরণীয় ঘটনা। ১৪০০ বছর পার হয়ে গেল, পৃথিবীর কোনো সেনাপতি আজ পর্যন্ত পারে নাই এবং পারবে না বিনা রক্তপাতে শত্রুকে পরাস্ত করতে। দ্বীনের নবী হজরত মোস্তফা (সঃ) একমাত্র সেনাপতি, যিনি এই কাজ করতে পেরেছিলেন...

বয়ান শান্তিমত শেষ করতে পারলাম না, একটা ছিনতাইকারী সামনের কাতারে বসা ছিল। হলুদ দাঁত কেলিয়ে খিলখিল করে জোরে জোরে হাসতেছিল। আমার মেজাজ প্রচণ্ড খারাপ হয়ে গেল। প্রশ্ন করলাম:
- ওরে জাহান্নামি ছিনতাইকারী, তুই কবে জেল থেকে ছাড়া পেলি? এইভাবে হাসতেছিস কেন?

ছিনতাইকারী হাসতে হাসতে উত্তর দিল:
- হুজুর, নবীজির স্ট্র্যাটেজি দুনিয়ার কোনো সেনাপতি না বুঝলেও আমি, এই অধম ছিনতাইকারী, বুঝতে পারি এবং অনুসরণ করি।

আমি আনন্দে গদগদ হয়ে বললাম:
- মাশাল্লাহ। তা তুই কীভাবে কাজটা করিস, দাঁড়িয়ে সবাইকে বল।

ছিনতাইকারী মসজিদে দাড়িয়ে বলল:
- খুবই সিম্পল ব্যাপার। ভোঁতা ছুরি, চাপাতি দিয়ে বিনা রক্তপাতে ছিনতাই করা যায় না। ভোঁতা জিনিষ দেখলে লোকজন ভয় পায় না। বরং উল্টো ছিনতাইকারীকে অ্যাটাক করে। এতে করে মারামারি হয়, রক্তপাত হয়। তাই আমি নবীজির স্ট্র্যাটেজি অনুসরণ করে সবসময় সাথে ধারালো চকচকে চাপাতি, ছুরি রাখি। ধারালো ছুরি দেখলে লোকজন সহজে ভয় পেয়ে দ্রুত সবকিছু দিয়ে দেয়। একেবারে বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয়ের মত। নবীজি ১০ হাজার সৈন্য নিয়ে মক্কা আক্রমণ করেছিল। উনি ভোঁতা ছুরি, মানে ১০ জন লোক নিয়া মক্কা আক্রমণ করে নাই। এভাবে ভিক্টিমের মনে আতংক সৃষ্টি করে বিনা রক্তপাতে সহজে শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানে ছিনতাই করতে হয়।

ছিনতাইকারীর কথা শুনে উত্তেজনার ঠেলায় আমার বায়ু বের হয়ে গেল। আমি ওযু করতে দৌড় দিলাম।

হুজুরের দোয়া ব্যর্থ হয় না

বিশ্বাসের দরজায় করাঘাত!: পর্ব ১৫ – (প্রমাণ করুন মদপান হারাম!)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


বড় চাচার বন্ধু ডাকলেন একদিন, জামাতের বড় মাপের আলেম তিনি; ডেকেই প্রশ্ন করলেন, "বাবা, তুমি নাকি তোমার চাচারে বলেছো, কোরান অনুসারে মদপান হারাম না! নিয়ম মেনে মাতাল না হয়ে ২/৩ পেগ খাওয়া যায়! এসব কী কথা তোমার?!"

আমি বললাম, "চাচা, ইসলামে তো কোরানই শেষ কথা, আল্লার নবী তো নিজেই হাদীস লিখে রাখতে মানা করেছিলেন; এবং আপনারাই বলেন, কোরানের কোনো কথার বিপরীতে যদি হাদীসের বক্তব্য চলে আসে, তবে সে হাদীস মানা যাবে না। যদি তা-ই হয়, তবে মদ হারাম বিষয়ে হাদীসের বক্তব্য কোরানের পুরোপুরি বিপরীত, এবং সত্যিই কোরান অনুসারে মদপান হারাম নয়!"

চাচা বললেন, "আমাকে বিস্তারিত বুঝাইয়া দাও!"

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৭৯

১৭ ফেব, ২০১৭

থাবার থাবড়া (দ্বিতীয় সংস্করণ): কুফরী কিতাব

ঠিক চার বছর আগে এই দিনে ইছলামের মহানবীর মহান বীর কিছু অনুসারী অশেষ ছওয়াব হাছিলপূর্বক তাদের বেহেশতগমন নিশ্চিত করে ফেলেছে থাবা বাবার মতো এক বেদ্বীন, কাফের, মুশরিক, নাস্তিককে হত্যা করার মতো ফরজ ও সুন্নত কর্মটি সাধন করে। এবং দেশের বিপুল সংখ্যক মুছলিম এই হত্যাকাণ্ডে উচ্চকণ্ঠ বা নীরব সমর্থন জানিয়ে প্রকাশ্য করেছে তাদের মনে পুষে রাখা বর্বরতা। অবশ্য "লেখার কারণে মানুষহত্যা যায়েজ" - এমন শিক্ষায় তাদের দীক্ষিত করেছে ইছলাম ধর্ম। নবীজি নিজেই তার জীবনে এমন উদাহরণ স্থাপন করে গেছে কয়েকটি।

"থাবা বাবা" ছদ্মনামের আড়ালে সরল কিন্তু স্পষ্টবক্তা, সরস কিন্তু প্রয়োজনে শ্লেষাত্মক এবং বিচিত্র বিষয়ে ঈর্ষণীয় জ্ঞানের অধিকারী কিন্তু নিরহংকারী এই মানুষটিকে তাঁর পরিচিত গণ্ডির অনেকে খুব পছন্দ করতো, তবে বাকিদের চক্ষুশূল ছিলেন তিনি তাঁর অকপট স্পষ্টবাদিতার কারণে। 

চার বছর ধরে থাবা বাবা নেই, তবে তাঁর লেখাগুলো থেকে যাবে চিরকালই। "থাবার থাবড়া" নামে একটি ইবুক প্রকাশ করা হয়েছিল তিন বছর আগে। তবে বর্তমান সংস্করণটি কিছুটা পরিবর্ধিত তো বটেই এবং তা সাজানোও হয়েছে ভিন্ন ধরনে। ধর্মকারীতে প্রকাশিত থাবা বাবার সমস্ত লেখা (প্রবন্ধ, গল্প, ছড়া, রম্য রচনা), তাঁর বানানো ও অনূদিত সব পোস্টার ও কার্টুন সংকলিত হয়েছে এখানে।

এই ইবুকের পরিকল্পনা, বিন্যাস ও নির্মাণ নরসুন্দর মানুষ-এর। প্রচ্ছদ বানিয়েছেন কবি

ফরম্যাট: পিডিএফ (সম্পূর্ণভাবে মোবাইলবান্ধব)
সাইজ: ২.৫ মেগাবাইট মাত্র

ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/2YD6RG
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/ubyQZc

(অনলাইনে লভ্য সমস্ত বাংলা কুফরী কিতাব এক জায়গায়, এই ঠিকানায়)

নিচে অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শন:

উম হানি ও মুহাম্মদ: ইসলামের মহানবীর প্রথম ভালবাসা (শেষ পর্ব)

লিখেছেন আবুল কাশেম


উপসংহার

এই রচনা পড়ে আমরা নিম্নের কয়েকটি সিদ্ধান্ত দিতে পারি।

১) নবী মুহাম্মদ তাঁর চাচাত বোন উম হানিকে বাল্য এবং কৈশোর থেকেই ভালবাসতেন। নবী তাঁর এই প্রথম প্রেম কোনদিনই ভোলেননি।

২) আবু তালেব যখন যুবক মুহাম্মদ কর্তৃক উম হানিকে বিবাহের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, তখন মুহাম্মদ অতিশয় নিরাশ এবং অপমানিত বোধ করেন। এই অপমানের জ্বালা মুহাম্মদ কখনই ভোলেননি। হয়ত প্রতিশোধ গ্রহণের প্রবণতাও তাঁর মধ্যে ছিল। মুহাম্মদ নবূয়ত লাভের পর এই প্রতিশোধ গ্রহণের আকাঙ্ক্ষা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। অনুমান করা যায়, নবীর আগ্রাসন এবং প্রতিহিংসাপরায়ণতার অন্যতম কারণ উম হানির সাথে নবীর ব্যর্থ প্রেমেই নিহিত আছে। এটা বলা অতিশয় হবে না যে, আবু তালেব উম হানিকে (হিন্দকে) ভেড়ার পালের রাখাল, নিরক্ষর, বেকার মুহাম্মদের হাতে তুলে দিলে ইসলামের জন্ম হত না।

৩) খাদিজাকে বিবাহের পরেও নবী উম হানির সাথে যোগাযোগ রাখতেন, যদিও অনুমান করা যায় যে, ধনকুবের খদিজার বিবাহের অন্যতম শর্ত ছিল যে, তাঁর জীবদ্দশায় মুহাম্মদ অন্য স্ত্রী নিতে পারবেন না। খাদিজা হয়ত মুহাম্মদের পরকীয়া প্রেমের ব্যাপারে অবহিত ছিলেন না। নবী অতি কৌশলে তাঁর পরকীয়া প্রেম খাদিজার কাছ থেকে গোপন রেখেছিলেন।

৪) মুহাম্মদ উম হানির স্বামী হুবায়রাকে মনে-প্রাণে ঘৃণা করতেন, এবং চিরজীবন তাকে পথের কাঁটা হিসাবে ভেবেছেন।

৫) উম হানির স্বামী হুবায়রা কোনোদিনই মুহাম্মদের বশ্যতা স্বীকার করেননি, ইসলাম গ্রহণ করেননি। নির্বাসন, একাকীত্ব বেছে নিয়েছেন—কিন্তু মুহাম্মদের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি।

৬) উম হানির স্বামী সর্বদাই ইসলামের বিরুদ্ধে ছিলেন। বিভিন্ন যুদ্ধে যোগদান করেছেন, মুসলিম সৈন্য হত্যা করেছেন এবং নিজেও আহত হয়েছেন।

৭) উম হানি এবং মুহাম্মদের সাক্ষাত ছিল খুবই ঘন ঘন—বিশেষত্ব হুবায়রার অবর্তমানে। এর কারণ এই হতে পারে যে, কাবার যেখানে মুহাম্মদ নামায পড়তেন অথবা কোরান আবৃত্তি করতেন, তা ছিল উম হানির গৃহের অতি নিকটে—শ্রুতির দূরত্বের মাঝে।

৮) মুহাম্মদ শত চেষ্টা করে—এমনকি আল্লাহর কাছ থকে বার্তা আনিয়েও পারেননি উম হানিকে মদিনায় নিয়ে গিয়ে তাঁর হেরেমে ঢোকাতে। উম হানি তাঁর স্বামী থেকে দূরে থাকলেও কখনই তাঁর স্বামী হুবায়রাকে ছাড়েননি।

৯) হুবায়রার পরিবার পরিজনের প্রতি উম হানির যথেষ্ট দরদ ছিল। তার প্রমাণ দেখা যায় যখন উম হানি আশ্রয় দিলেন তাঁর দুই দেবরকে। আলী চেয়েছিলেন এই দুই দেবরকে হত্যা করতে।

১০) নবীর জীবনে যদি কোনো ব্যর্থতা থেকে থাকে তা হবে - উম হানিকে উনি তাঁর অগুণতি স্ত্রীর মধ্যে একজন বানাতে পারেননি। উম হানি কখনও চাননি, অন্য সতীনদের সাথে মুহাম্মদের সংসারে ঢুকতে।

তথ্যসূত্র:

শান্তি প্রচারের প্রাথমিক শিক্ষা

১৬ ফেব, ২০১৭

নাস্তিক হবার অনুভূতি

চিকিৎসায় দোয়ার ভূমিকা

(পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে)

কুদরতিক্রিয়া - ০৩

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

৭.
হিজরত করি ডাকা সহর আসার ফরে আমাগের শেক হাসিনা বুর ইচলামের প্রতি বালবাসা দেকি আঁই তব্দা কাই জাই। দেসের সবসেয়ে বরো ইন্টানেসনাল এয়ারফুটের নামকরন তিনি করেসেন একজন জায়নামাজ বিগগানির নামে। জায়নামাজ বিগগানি হয়রত শাহজালাল (রাঃ) বাবা হিজরত কালে সিলেডের সুরমা নদি জায়নামাজে করি ফারি দিয়েসিলেন। এই গডনা লিয়ে একডা গান আচে - "বাবায় সুরমা নদি ফারি দিলো জায়নামাজে চড়ি।" তিনিই একমাত্র বিগগানি, যিনি বিনা ইঞ্জিলে জায়নামাজরে বাতাসে বাসাই সুরমা নদি ফারি দিয়াসিলেন। 

আজকে এই যে আকাসে এত এত বিমান, হেলিকফটার, ডুরন ঊড়ে, সবই ত বাবা জায়নামাজ বিগগানির অবদান। তার বাতাসে উড়া নকল করিই ত আজিয়া সবাই আকাসে উড়ে। আমাগের ইচলাম-বান্দব সরকার এত বরো একজন বিগনানির অবদানকে সিক্রিতি দেওয়ায় আমরা মুচল্মানরা দন্য। সারা বিশস আজ আমাগের বিগগানি বাবার অবদান জাইনতে ফারবে। পিতিবিতে আমাগের এই মুচলমান জায়নামাজ বিগগানি চাড়া আর কেউ কি ফেরেসিল ইঞ্জিল চাড়া জায়নামাজ আকাসে উড়াইতে? বলেন আফনারা? 

৮.
নাস্তেক জুতা-চুর মজিদ মিয়ায় আমারে এডাম টিজিং করেছে। আমারে হুনাইয়া হুনাইয়া কয়, "হুজুরের দাড়ি আর আমার ছাগলের দাড়ি সেইম।"
এহন আই কি কইত্তাম? ছাগলের দাড়ি শেইভ করি ফালাই দিয়ুম? নাকি আমার দাড়ি শেইভ করি দিয়ুম?

৯.
জাবেদ সাসারে লই আর ফারি না। লেকাপরা কিসু জানে না, অতস তাবিজের দুকান কুলি রাকসে। কুরানের একটা সুরারে ফডুকপি কইরা সাসায় ১০০০ কপি বানায়। হেরপর এই একহাজার কপিরে এক হাজার তাবিজের বাক্সের বিত্রে বইরা এক হাজার তাবিজ বানায়। এইডা মুচল্মানদের জন্য। আবার হিন্দুদের জইন্য গিতা ফডুকপি করে। একন এক কাস্টমারে তাবিজ নিয়া রেজাল না ফাইয়া সাসার কাসে আইয়া সাদারে দউরানি দিসে। 

একন আফনারাই বলেন সুরা ফডুকপি কইল্লে কি তাবিজে কাম দিব? কুন সুরার অর্ত কি, কুন সুরার নাম কি - সাসায় কিসুই জানে না। কালি কুরান সরিফ ফডুকপি করে। এইরম ফডুকপি তাবিজে যুদি কাম কইত্ত, তাইলে ত আমিও কবিরাজ হই যাইতাম।

বোরখা ও দৃঢ় ঈমান

১৪ ফেব, ২০১৭

ওয়াদি আল-কুরা হামলা - কে ছিল আক্রমণকারী?: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৫৯): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত তেত্রিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর মৃত্যুকালে যে সুবিশাল অংকের সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন, তার সর্ব প্রথম স্বত্বভোগী ছিলেন তাঁর কোন দুই বিশিষ্ট অনুসারী; অতঃপর পরবর্তী তিন শত বছর যাবত কারা তাঁর সেই বিশাল সম্পদের স্বত্বভোগ করেছিলেন; অন্যদিকে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সহায়তায় "ইসলাম" নামের যে বিষবৃক্ষের গোড়াপত্তন করেছেন, কারা হলেন সেই বিষবৃক্ষের ভুক্তভোগী; ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

খায়বার ও ফাদাক আগ্রাসন শেষে মদিনায় প্রত্যাবর্তনের পূর্বেই মুহাম্মদ আরও এক জনপদের ওপর তাঁর আগ্রাসী আক্রমণ চালান। সেই জনপদের নাম 'ওয়াদি আল-কুরা'। আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা সেই ঘটনার প্রাণবন্ত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন।

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ) বিস্তারিত বর্ণনার: [1]

‘আনাস হইতে বর্ণিত: খায়বার থেকে ফিরে আসার জন্য আমরা আল্লাহর নবীর সাথে রওনা হই, তিনি ওয়াদি আল-কুরা (Wadi al-Qurā) যাবার জন্য মনস্থির করেন। [এরপর সিরাতে 'পথিমধ্যে মুহাম্মদের সাফিয়া-কে বিবাহ, বিবাহ বাসর ও তাঁর হত্যা আশংকায় আবু আইয়ুবের সারারাত জেগে তাঁকে পাহারা দেয়ার বর্ণনা (পর্ব-১৪৪)]'।------আল্লাহর নবী আল-সাহবা নামক স্থানে আসেন ও বিরমার পাশ দিয়ে ওয়াদি আল-কুরা পর্যন্ত গমন করেন ও সেখানে যে-ইহুদিরা থাকে, তিনি তাদের সন্ধান করেন। 

আবু হুরাইরা হইতে বর্ণিত: আমরা আল্লাহর নবীর সঙ্গে খায়বার থেকে ওয়াদি আল-কুরা অভিমুখে রওনা হই। রিফা বিন যায়েদ বিন ওয়াহাব আল-জুধামি আল্লাহর নবীকে মিদাম নামের এক কালো ক্রীতদাস উপহার স্বরূপ প্রদান করে, যেন সে আল্লাহর নবীর ঘোড়ার জিনটি ঠিকঠাক করে দেয়। তারা ওয়াদি আল-কুরায় অবতরণ করে ও অবশেষে আমরা সেখানকার ইহুদিদের কাছে এসে পৌঁছাই, যাদের কাছে এসে আশ্রয় নিয়েছিল বেদুইনরা। যখন মিদাম আল্লাহর নবীর দেখাশুনা করছিলো, আমাদের ঘাঁটির স্থানটিতে ইহুদিরা তাদের বল্লম নিয়ে আমাদের মুখোমুখি হয়। তাদের কোনো প্রস্তুতি ছিল না ও তারা তাদের দুর্গগুলোর মধ্যে চিৎকার করছিলো। একটা তীর এসে মিদাম-কে বিদ্ধ করে ও তার মৃত্যু হয়। লোকজন বলাবলি করে: তুমি বেহেশতে পরমানন্দে কাটাবে। আল্লাহর নবী বলেন, "না। যার হাতে আমার জীবন তার কসম, খায়বার যুদ্ধের সময় সে যে আলখাল্লাটি লুটের মালগুলো থেকে হস্তগত করেছিল, তা যেভাবে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়ার দরকার ছিল, তা সে করেনি, এখন তা তাকে জাহান্নামের আগুনে জ্বালাচ্ছে।" যখন লোকেরা তা শুনতে পায়, একজন লোক একটি বা দু'টি জুতার ফিতা নিয়ে লোকদের কাছে আসে। আল্লাহর নবী বলেন যে, জুতার এই ফিতাগুলো ছিল তাকে আগুনে জ্বালানোর রসদ।

আল্লাহর নবী তাঁর অনুসারীদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেন। তিনি তাদেরকে সারিবদ্ধ করেন ও একটি ফ্ল্যাগ দেন সা'দ বিন উবাদা-কে, একটি ব্যানার দেন আল-হুবাব বিন আল-মুনধির-কে, অন্য একটি দেন সাহল বিন হুনায়েফ-কে ও তা ছাড়াও আর একটি দেন আব্বাদ বিন বিশর-কে। অতঃপর আল্লাহর নবী ইহুদিদেরকে ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি তাদের অবহিত করান যে, যদি তারা ইসলামে দীক্ষিত হয়, তবে তারা তাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে পারবে, আর আল্লাহ তাদের কর্ম অনুযায়ী তাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি দ্বন্দ্ব যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ জানায় ও আল-যুবায়ের বিন আল-আওয়াম [পর্ব-১৪১] তা গ্রহণ করে ও তাকে হত্যা করে। অতঃপর আর একজন চ্যালেঞ্জ জানায়, আল-যুবায়ের তা গ্রহণ করে ও তাকেও সে হত্যা করে। তারপর আর একজন চ্যালেঞ্জ জানায়, আলী তা গ্রহণ করে ও তাকে সে হত্যা করে। তারপর অন্য একজন  দ্বন্দ্ব যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ জানায়, আবু দুজানা তার কাছে গমন করে ও তাকে সে হত্যা করে। অতঃপর আর একজন দ্বন্দ্ব যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ জানায়, আবু দুজানা তাকেও হত্যা করে, যতক্ষণে না আল্লাহর নবী তাদের এগারোজন লোককে হত্যা করে।  যখনই একজন লোককে হত্যা করা হতো, তিনি তাদের অবশিষ্ট লোকদের ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানাতেন। বস্তুত সেই সময় নামাজ আদায় করা হয়েছিল। সেই সময় আল্লাহর নবী তাঁর অনুসারীদের সাথে নামাজ আদায় করেন। অতঃপর  তিনি প্রত্যাবর্তন করেন ও তাদেরকে আল্লাহ ও তার নবীর দলে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

মিথ্যার রকমফের

আল্লাহর অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ – ০৯

আল্লাহর অস্তিত্বের শত-সহস্র অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বেতমিজ নাস্তিকেরা তাতে ঈমান আনতে চায় না। অথচ তারা নাকি যুক্তিবাদী! বর্তমান সিরিজে তাদের উদ্দেশে একের পর এক প্রমাণ হাজির করা হবে। দেখা যাক, এবার তারা কী বলে।

প্রমাণ ৪১.
নাস্তিকেরা বলে, তারা আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না। আসলে নাস্তিকতা একটা ফ্যাশন এবং তাই তারা শুধু ভাব মারার জন্যেই এ কথাটা বলে থাকে। এর থেকেই প্রমাণিত হয়, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৪২.
আমাদের পাড়ার খলিল শেখকে জ্বিনে ধরেছিল। অতএব স্বীকার করতেই হবে যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৪৩.
আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ আমার কাছে আছে। কিন্তু আমি সেটা প্রকাশ করবো না। কারণ আপনারা, নাস্তিকেরা, সেটা শুনে যুক্তি দিয়ে নাকচ করে দেবেন। অতএব আমার প্রমাণ যেহেতু অটুট রয়েছে, তার মানে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৪৪.
নাস্তিকেরা আধ্যাত্মিকতা বোঝে না। অতএব আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

প্রমাণ ৪৫.
ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমি জানি, আল্লাহ আছে। সেই অভিজ্ঞতার কথা শুনলে আপনি আমাকে পাগল মনে করবেন। কিন্তু আমাকে কি পাগল মনে হয়? হয় না। এর থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর অস্তিত্ব আছে।

(বিদেশী রচনার ছায়া অবলম্বনে)

আমার বোরখা-ফেটিশ – ২০৭

ভ্যালেন্টাইন দিবসে সবচেয়ে ছহীহ উপহার

১৩ ফেব, ২০১৭

পল্টিবাজ কোরান - ০২

নিমো হুজুরের খুতবা - ২৬

লিখেছেন নীল নিমো

আজকে এক মুরিদ প্রশ্ন করিলো:
- হুজুর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত মানে কী? কীভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে?

আমি উত্তর দিলাম:
- খুবই সিম্পল জিনিস। কানাকে কানা, লুলাকে লুলা বললে অনুভূতিতে আঘাত লাগবেই।

মুরিদ প্রশ্ন করল:
- হুজুর, ইকটু খোলাসা করে বলেন।

আমি উত্তর দিলাম:
- একবার আমার সাথে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি বিল গেটসের দেখা হইছিল। তাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম, "ফক্কিন্নির বাচ্চা, কেমন আছো?" বিল গেটস হাসতে হাসতে আমাকে বলেছিল, "'আরে মি. নীল নিমো কেমন আছেন? আসেন, একসাথে বসে বিয়ার খাই।" এর কিছুদিন পরে, বাংলাদেশের ফার্মগেটে এক ভিক্ষুককে দেখে, আমি জিজ্ঞাস করেছিলাম, "ফক্কিন্নির বাচ্চা, কেমন আছো?" ভিক্ষুক সাহেব লাঠি নিয়ে আমাকে পিটাইতে আসিয়াছিল। কয়েক মাস আগে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাথে দেখা হয়ে গেল। আমি তাকে বলেছি, "'একটা মশা মারার ক্ষমতা তোর নাই, তোর লজ্জা হওয়া উচিত।" ওবামা হাসতে হাসতে আমাকে বলিল, "আরে মি. নীল নিমো সাহেব, কেমন আছেন? আপনার সাথে কথা বলে বেশ ভাল লাগছে।" গতরাতে, ঘুমের ভিতর স্বপ্নে, আল্লাহ ও তার নবীর সাথে দেখা হয়ে গেল। আমি তাদের বলেছি, "একটা মশা মারার ক্ষমতা তোদের নাই, তোদের লজ্জা হওয়া উচিত।" আল্লাহ ও তার নবী উত্তর দিল, "হালার পুত, তোরে কুপাইয়া কল্লা ফালাইয়া দিমু। তারপর দোজগের আগুনে অনন্তকাল দহন করবো। সুরা লাহাব পড়ে দেখছ নাই? আবু লাহাবের মত তোরেও টর্চার করমু।"

আমার উত্তর শুনে মুরিদ তব্দা খাইয়া বলিলো:
- তওবা, তওবা। হুজুর, এখন থেকে শিশুকামীকে শিশুকামী বলিবো না, ডাকাতকে ডাকাত বলিবো না।

আমি বলিলাম:
- মাসাল্লাহ, এই না হলে আমার মুরিদ!

অধিকারবলে

১২ ফেব, ২০১৭

ছাগুবান্ধব পিপীলিকা

গুগল, বিং ও ইয়াহু তো বটেই, এমনকি Lycos, Gigablast-এর মতো বিজাতীয় সার্চ এঞ্জিনে বাংলা বা ইংরেজিতে 'ধর্মকারী' ভুল বানানে (ধর্মকারি, dhormokari, dharmokery ইত্যাদি) লিখে খোঁজ লাগালেও একেবারে শুরুতেই ধর্মকারীর লিংক দেখায়। অথচ বাংলাদেশের প্রথম এবং পূর্ণাঙ্গ সার্চ এঞ্জিন হিসেবে কথিত 'পিপীলিকা'র চোখে বাংলা ব্লগ ধর্মকারী ধরা পড়ে না। 

পিপীলিকা চালু হবার পরপরই কৌতূহলবশে 'ধর্মকারী' লিখে খোঁজ লাগিয়ে হতাশ হয়েছিলাম। বিভিন্ন ব্লগে-পত্রিকায় ধর্মকারীর নাম উল্লেখের লিংক তাতে পেছিলাম বটে, তবে ধর্মকারীর কোনও লিংক ছিলো না। "সবে চালু করেছে এঞ্জিনটি, এখনও হয়তো সব সাইট ইনডেক্সভুক্ত করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি" ভেবে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলাম একটা বছর। না, ধর্মকারীর নাম ওখানে ঢোকেনি এখনও। খুঁজলাম 'চুতরাপাতা' ও 'ধর্মলিকস' নামের আরও দু'টি ধর্মবিরোধী ব্লগ। না, সেগুলোও নেই। 

তবে 'সবুজ বাংলা' আর 'সদালাপ'-এর মতো ছাগুবান্ধব ব্লগগুলোর লিংক পিপীলিকা পিলপিল করে সরবরাহ করছে। মনে হচ্ছে, পিপীলিকা একটি ছাগুবান্ধব ছহীহ ছার্চ এঞ্জিন।

পিপীলিকা নিজেকে পূর্ণাঙ্গ বলে দাবি করলেও সার্চ এঞ্জিনের জন্য সবচেয়ে জরুরি অঙ্গ চোখেই তার সমস্যা। সে স্পষ্টতই একচোখা। তবে তার ঈমানদণ্ড মমিনদেরটার মতোই স্পর্শকাতর বলেই বোধ হয়।

এ থেকে আমরা কী বুঝবো? পিপীলিকারও কি ধর্মানুভূতি আছে?

* ২০১৪ সালে প্রকাশিত। অবস্থার পরিবর্তন হয়নি গত তিন বছরেও্। তবে সুখের কথা এই যে, পিপীলিকার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গ ছাড়া ছাড়া আর কেউ এই সার্চ এঞ্জিন ব্যবহার করে বলে মনে হয় না।

বেদ্বীনবাণী - ৮৪

ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৯৩

৩১০.
- নারীধর্ষণের ক্ষেত্রে চারজন পুরুষ সাক্ষীর রীতি চালু করা হয়েছে কেন?
- কারণ সেই যুগে পর্ন দেখার আর কোনও উপায় ছিলো না।

৩১১.
স্রেফ বিশ্বাসের কারণে মানুষদের স্টেরিওটাইপিং করা ভালো ব্যাপার নয় একেবারেই। হোক সে খ্রিষ্টান, ইহুদি, হিন্দু, বৌদ্ধ বা টেররিস্ট।

৩১২.
- দুনিয়ার সবচেয়ে স্লো এবং অকার্যকর সার্চ ইঞ্জিন কোনটা?
- কোরআন। এখানে দুনিয়ার আদি থেকে অন্ত সব ইনডেক্সড (লিপিবদ্ধ) করা আছে। কিন্তু সেসব খুঁজে পাওয়া যায় ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর।
(বানিয়েছেন সাইফুল ইসলাম)

৩১৩.
- আস্তিকেরা কোরান থেকে শান্তিকামী আয়াত উদ্ধৃত করলে নাস্তিকদের কী জবাব দেয়া উচিত?
- "আয়াতটা প্রসঙ্গ-বহির্ভূতভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। আপনাকে প্রেক্ষাপট জানতে হবে এবং পড়তে হবে আগের ও পরের আয়াতগুলো।"

৩১৪.
নাস্তিকে ও আস্তিকে একটি মিল আছে: এদের কেউই পরকাল নিয়ে চিন্তিত নয়। আস্তিক জানে, সে যাবে বেহেশতে। আর নাস্তিক পরকালে বিশ্বাসই করে না।
টেনশনে থাকে শুধু অজ্ঞেয়বাদীরা।

ঈশ্বরের বাসস্থান

১১ ফেব, ২০১৭

জুম্মাবারে কুফরী কিতাব: কোরানে জিহাদ ও আক্রমণের আহ্বান

"জিহাদ" শব্দটি শুনলে কি আপনার মানসচক্ষে ভেসে ওঠে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ইছলামের প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠার কথা? মুছলিমদের অন্তরে যা-ই থাক, অন্তত মুখে তারা সে কথাই বলে। বাস্তবতাটা আসলে কী? শুধু কোরান ও তার ছহীহ তাফসির থেকে এই উত্তর খুঁজেছেন নরসুন্দর মানুষ। বইটির প্রচ্ছদ ও নির্মাণ-কৃতিত্বও তাঁরই।

ইছলাম বিষয়ে অগাধ জ্ঞানের অধিকারী তিনি। ধর্মকারীতে চলমান তাঁর দুটো সিরিজ ও তাঁর লেখা ইবুকগুলোই সেই প্রমাণ দেবে। বাংলা ভাষার খ্যাতিমান ইছলাম-গবেষকদের কাতারে তিনি ঠাঁই করে নিচ্ছেন, এ নিয়ে কোনও সংশয় অন্তত আমার নেই।

বর্তমান ইবুকের ভূমিকায় তিনি লিখেছেন:
সংবাদপত্রে দেখতে পাই মাঝে মধ্যেই 'নিষিদ্ধ জিহাদী বই-পত্র উদ্ধার’! মনে প্রশ্ন জাগে, জিহাদী বই কী কী? ইসলাম ধর্মের মূল গ্রন্থ কোরান কি জিহাদী বই-পত্রের মধ্যে গণ্য? যদি তা না হয়, তবে তা কেন, আর যদি হয় তাই বা কেন?...
জিহাদ নিয়ে কী বলে কোরান? জিহাদ কি কেবলই মনের ময়লার বিরুদ্ধে, নাকি যুদ্ধ বলতে যা আমরা বুঝি (আক্রমণ, হত্যা, লুন্ঠন, দখল, মানুষ বিক্রি, দাসী গ্রহণ, যুদ্ধনারী ভোগ); জিহাদ তাই? ...
এসবের উত্তর খোঁজার চেষ্টা হয়েছে এ ইবুকটিতে; আমি চেষ্টা করেছি কোরানে প্রাপ্ত সকল যুদ্ধ (জিহাদ) ও আক্রমণ সংক্রান্ত আয়াত তুলে আনতে; আর যেহেতু আমি নিরপেক্ষতা অবলম্বন করেছি, তাই নিজের মনগড়া কোনো ব্যাখ্যা যোগ করিনি; কারণ কিছুতেই আমি প্রভাবিত করতে চাই না পাঠককে; পাঠক নিজ দায়িত্বে সিদ্ধান্ত নেবে, কোরানকে কি জিহাদী গ্রন্থ বলা চলে?
ফরম্যাট: পিডিএফ (সম্পূর্ণভাবে মোবাইলবান্ধব)
সাইজ: ১.৭ মেগাবাইট মাত্র
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/RuKIUW
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/IOkKCO

(অনলাইনে লভ্য সমস্ত বাংলা কুফরী কিতাব এক জায়গায়, এই ঠিকানায়)

নিচে অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শন:

নুনুভূতিনাশক প্রেসক্রিপশন

লিখেছেন শহিদুল ইসলাম

১.
ডাক্তার ও রোগী কথোপকথন।

ডাক্তার: বলুন, আপনার কী অসুবিধা?

রোগী: জে ডাক্তার সাপ, ব্লগ দিয়া ইন্টারনেট চালানোর সময় নাস্তিকদের লেখা পড়তে যাইয়া আচৌক্কা অনুভূতিতে তীব্র আঘাত পাইছি! এখন খুবই আহত অবস্থায় আছি!

ডাক্তার: হুম, আঘাতটা কবে পেয়েছেন?

রোগী: জে গত দুইদিন আগে। পরে নাস্তিকদের অশ্রাব্য নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করছি, ফাঁসি দাবি করছি! কিন্তু এতেও অনুভূতি ঠিক হয় নাই! 

ডাক্তার: আপনারা, রোগীরা, এই কাজটা খুবই খারাপ করেন। সমস্যা গুরুতর না হইলে অল্প থাকতে আসেন না, যাই হোক, আপনার প্রেসক্রিপশন লিখে দিচ্ছি। চাপাতি দিয়া তিন দিন প্রত্যেক দিনে একটা কইরা নাস্তিক কোপাইবেন! এতেও কাজ না হলে বিচিবোমা দিয়ে দিচ্ছি। আপনার দুইটা বিচির সাথে একটা বিচিবোমা অ্যাড করে নিবেন। পরে কিছু নাস্তিকদের মাঝে যাইয়া বিচি ফাটাইয়া দিবেন! এই জনমের মত অনুভূতিতে আর আঘাত পাইবেন না গ্যারান্টি!! 

২.
রোগী ও নাস্তিকের কথোপকথন।

রোগী: নাস্তিকতা হইলো বোকামি, আস্তিকতা বা ঈশ্বরে বিশ্বাস করাটাই যৌক্তিক, কারণ বাইচান্স মৃত্যুর পরে দেখা গেল একজন ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে, তখন নাস্তিকরা সম্পূর্ণ ফেঁসে যাবে? আর আস্তিকদের ঈশ্বরের শাস্তি থেকে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। অতএব ঈশ্বরে বিশ্বাস করাটাই প্রকৃত বুদ্ধিমানের কাজ। তোমরা নাস্তিকরা এখন যতই ফাল পারো, মরার পরেই প্রমাণ পাইবা! 

নাস্তিক: তাহলে আমি পৃথিবীর সকল ধর্মের সব ঈশ্বরেই বিশ্বাস করলাম! কারণ বলা তো যায় না, কোন ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে! হা হা হা! আরেকটা কথা কন তো, ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ শুধু মৃত্যুর পরেই পাওয়া যায় কেন? 

রোগী: তুই ধর্ম নিয়া ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছ, আমার ধর্মানুভূতিতে আঘাত দিছো! খাড়া, এখন আমি ডাক্তারের দেওয়া কোনও একটা প্রেসক্রিপশন প্রয়োগ করুম...

... বাকি অংশ রূপালি পর্দায়।

হিজাবী হুরি যতো - ৪

কুদরতিক্রিয়া - ০২

লিখেছেন গরিব অল্ফ সিক্কিত মাদেসার হুজুর কুদরত আলি

৪.
সুন্দরবন লই এত লাপালাপি করার কি আচে, বুজি না! সুন্দরবন সারাও ত মানুস বাইসতে ফারে। আমাগোর নবির দেসে কি কুনু সুন্দরবন আচে নিকি? আরবের মরুবুমিতে ত কুনু গাচ নাই, তার ফরেও ত আরবরা কত উন্নত। সুনা-দানা-তেলের অবাব নাই। আমাগের নবির দেসে সুন্দরবন নাই বইল্লা কি হেতেরা অকচিজেনের অবাবে মরি গেসে। সুন্দর বন কুনু বিসয় না, আসল কতা হইচ্ছে আল্লার রহমত। আল্লার রহমত তাইকলে মরুবুমিও অকচিজেনের পেকটরি অই যাই। তা সারা সুন্দরবনে আচেডা কি? গুরা, দুম্বা, উট কিছুই ত নাই! এই বনে আচে সুদু কিসু ইংস্র ফ্রানি। যারা সুন্দরবনের জইন্ন আন্দুলন কইত্তেসে, তাদেরকে এইসব ফ্রানিদের সামনে নিয়ে চেরে দেওয়া হুক, তাইলে বুজবে কত দানে কত চাইল। সুন্দরবন দংস হই মরুবুমি হই গেলে আমাগের লাব। সারদিকে উট, গাদা, দুম্বা গুরি বেরাইবে। ...দেসে আরব-আরব একটা বাব আইসবে। আহ কত সান্তি!

৫.
সিতের দিন যাতিসে। সিতের দিনে আমার কী যে কুসি লাগে, বুঝাইতে ফারুম না। সিতের রাইতে গরম গরম ওয়াজ মেহফিল আর মানসের বারিত গরম গরম গুস্ত রুটি কি মদুর! এইবারের সিতের সিজনডা বালো করি কাডাইতে ফাইল্লে (মানে ফকেডডা ভারি কইত্তে ফাইল্লে) সামনের বসর গরে বিবি ঊডাইব ইন্সাল্লা। সিতে তাই আরব দেসের কিচ্ছা কাহিনীরে রস লাগাই বলি মানসের চুকে ফানি এনে দিতেসি। যত রস তত টেকা।

৬.
আজিয়া জুম্মাবারে মজ্জিদে এক গরম জুসের কুতবা ফাট করেন আমাগের বরো হুজুর। কুতবার বিসয় সিল - ১৪ ঈ ফেব্রুআরি বিশসো বালোবাসা দিবসে যুবক যুবতি গনের বেলাল্লাপনা রুদ করি কী বাবে সহি সালামতে তা ফালন করা যায়। বয়ানে হুজুর বলেন, অই দিন কম বয়সি সেলেমেয়েরা ফ্রকাইশ্যে, গুফনে, সিফায় সাফায়, বনে-জংগলে, গাসের আড়ালে সুমাসুমিতে লিপ্ত অই যায়। যা জেনার সমতুইল্য গুনা। আগামি বিশসো বালোবাসা দিবস উফলক্কে এইসব ফাফ তেকে যুবক যুবতিদের রইক্কা কইত্তে আমাগের মাদেসার সাত্র বাহিনী সেচ্চাসেবক হিসেবে এক গণ বিবাহের আয়ুজন কইরবে। আমাগের সাত্র বাহিনী কাতা কলম লই মাডে গাটে গুরাগুরি কইরবে, আর যেকানে অবিবাহিত যুবক যুবতিকে সুমাসুমিতে লিপ্ত অবস্তায় ফাইবে, সেকানে তাদেরকে দুইজনের সম্মতিতে অলফ সুময়ের জইন্ন মুতা বিবাহ দেয়া অইবে। এই বিবাহের মেয়াদ তাইকবে এক গন্টা তেকে ফাচ গন্টা ফইয্যন্ত। বিবাহ সেসে তাহারা উক্ত সুময়ের জইন্য ফ্রকাসে সুমাসুমি কইত্তে ফাইরবে। বিবাহের হাদিয়া দাইয্য করা অয়েসে মাতর ফাচশত টেকা। মাদেসার সাত্রগন সারাদিন বিবাহ ফরানি সেসে যে আয় হবি, তা আমাগের মাদেসার উন্নয়নে বেয় করা হবি। তাই সকল যুবক যুবতি গনের উদ্দেস্যে গুসনা অইলো: আসুন, আমরা সকলেই বিশসো বালোবাসা দিবসে সহি হালাল উফায়ে সুমাসুমি করি আর মাদেসার অর্তনিতিক উন্নয়নে বুমিকা রাকি।

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৭৩

১০ ফেব, ২০১৭

ধর্ম ও ধার্মিক এবং আমার অভিজ্ঞতা - ০২

লিখেছেন রাহুল মল্ল

নিজে নাস্তিক হয়েও বিভিন্ন সময় ধার্মিক বন্ধু, পরিবার, সহপাঠীর সাথে দিন কাটাতে হয়। এই ক্ষেত্রে প্রায় ধর্মও ধার্মিক দের ব্যাপারে অদ্ভুত কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে ধারাবাহিক সিরিজের আজ ২য় পর্ব।

৫) চট্টগ্রাম থেকে এক ছুটিতে বাড়ি ফিরছি। ছাত্র ছিলাম তখন। পকেটে তেমন বেশি টাকাটুকা নেই। ভাড়া দিয়ে পকেটে ১০৫ টাকা ছিল। ১০০ টাকার একটা নোট আর ৫টাকার নোট। বারো আউলিয়া নামের একটি বাজারে আসতেই বাসের গতি কমে যায়। কারণ ছিল এটি রাস্তার পাশে একটি সুসজ্জিত মাজার। সবাই জানালা দিয়ে টাকা দিচ্ছে নিয়ত করে। ছোটছোট বাচ্চারা নিচে থেকে কুড়িয়ে দানবাক্সে রাখছে। সামনে আমার পরীক্ষা। চিন্তা করলাম, দোয়া একটু নিই। ভাবতে ভাবতে বাসের গতিও বাড়ছে। দ্রুত পকেট থেকে বের করে ৫ টাকার নোট দিতে গিয়ে ১০০ টাকার নোট দিয়ে দিলাম। সেদিন থেকে আলি আউলিয়ার ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে গেছে।

৬) পাশের বাড়িতে একটা ছেলে ছিল। নাম আলাউদ্দিন। ছোট থেকেই সবাই হুজুর ডাকতো। কারণ ছিল ছোট থেকেই সে খুব ধার্মিক। ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো, রোজা রাখতো। রমজান মাসে খুব ভোরে সুর করে আজান দিতো। তাঁর আজানের সুর আশেপাশে যে কেউ শুনেই আলাদা করতে পারতো। এক কথায়, আর দশটা ছেলে থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল সে। ১২ বছর বয়সে মারা গেছে। মাথায় টিউমার হয়ে।

৭) গার্লফ্রেন্ডকে বললাম, আমি ধর্ম বিশ্বাস করি না। সেদিন সাথে সাথে ব্রেক-আপ হওয়ার দশা। একটু চিন্তা করে 'মিথ্যা' বললাম, "আমি মজা করেছি। আসলে আমি ধার্মিক।" তারপর সব ঠিক। 

৮) আমাদের গ্রামে এক মহিলা আছে। আগে প্রায় প্রতি মাসে তার জন্য বিচার-সভা-মিটিং হতো গ্রামে। কারণ ছিল - স্বামী ছাড়াও তার যৌনসম্পর্ক ছিল অনেকের সাথে। খুব খারাপ মহিলা হিসাবে পরিচিত ছিল পাড়ায়।

কিছুদিন আগে মা-কে ফোন দিয়ে জানতে পারলাম, সেই মহিলার শরীরে মহাদেব স্থান করেছে। জটাধারী হয়ে গেছে সে। গ্রামে তার জন্য অনেক বড় মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে নিয়মিত তাকে পূজা দিচ্ছে সবাই। মন্দিরের আর্থিক সহায়তা করে গ্রামের মান্যগণ্য ব্যক্তি, যারা এক সময় সেই মহিলার বিচার করতো, সাজা দিতো।

(চলবে)