৩ এপ্রিল, ২০১৭

ইছলামী ভুয়া দাবিগুলোর ব্যবচ্ছেদ - ১

লিখেছেন সিরাজুল হক

অনলাইনে ও অফলাইনে ইছলামী অপপ্রচার চলে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। মিথ্যা, ভুয়া ও অবাস্তব ইছলামী দাবিও নিঃশর্তে মেনে নিয়ে "আলহামদুলিল্লাহ"-র ঢেঁকুর তোলে তথ্য যাচাইয়ে অনীহ মুছলিমরা। অবশ্য কুয়ার ব্যাঙ কুয়ার বাইরের খবর রাখবে, তেমন আশা করাটাও নির্বুদ্ধিতা। 

কোরানে নাকি এমন সব বৈজ্ঞানিক তথ্য দেয়া আছে, যেগুলো নাকি সেই যুগে অর্থাৎ প্রায় দেড় হাজার বছর আগে অজানা তো ছিলোই, এমনকি কোরানে উল্লেখিত সেই তথ্যগুলো নাকি সাম্প্রতিক বিজ্ঞান সবে আবিষ্কার করছে!

আমি সেই অপপ্রচারগুলোর তথ্যনিষ্ঠ জবাব দেবো এক এক করে।

১.
ইছলামী দাবি: বিজ্ঞান কিছুদিন আগে জেনেছে চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই। সূরা ফুরক্বানের ৬১ নং আয়াতে কুরআনে এই কথা বলা হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে।

বাস্তবতা: চাঁদের নিজস্ব আলো নেই, এই কথা প্রথম বলেন গ্রীক বৈজ্ঞানিক Anaxagoras, খ্রিষ্টপূর্ব ৫১০ সালে, অর্থাৎ ইসলামের আবির্ভাবের ১০০০ বছরেরও বেশি আগে। তিনিই প্রথম বলেন, "The sun is a mass of fiery metal, and the moon is an earthy lump (with no light of its own)."

২. 
ইছলামী দাবি: বিজ্ঞান মাত্র দু'শো বছর আগে জেনেছে, চন্দ্র এবং সূর্য কক্ষপথে ভেসে চলে। সূরা আম্বিয়ার ৩৩ নং আয়াতে এই কথা বলা হয়েছে প্রায় ১৪০০ বছর আগে।

বাস্তবতা: চাঁদ, সূর্য, প্রভৃতি Celestial বস্তুর কক্ষপথে ভেসে যাওয়ার কথা প্রথম বলেন গ্রীক দার্শনিক Philolaus, ৩৯০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে অর্থাৎ ইসলামের আবির্ভাবের ৮০০ বছর আগে।

৩.
ইছলামী দাবি: সূরা কিয়ামাহ’র ৩ ও ৪ নং আয়াতে ১৪০০ বছর আগেই জানানো হয়েছে, মানুষের আঙুলের ছাপ দিয়ে মানুষকে আলাদা ভাবে সনাক্ত করা সম্ভব, যা আজ বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

বাস্তবতা: উক্ত আয়াতদ্বয়ের কোথাও ফিঙ্গারপ্রিন্টের কথা আল্লাহ বলেনি। সেখানে কেবল বলা হয়েছে যে, আল্লাহ মানুষকে পুনঃসৃষ্টি করবেন, এমনকি তার আঙ্গুলের ডগা পর্যন্ত। আঙুলের ছাপের কথা কোথাও লেখা হয়নি। ওটা ইসলামী অপপ্রচারমাধ্যমের সংযোজন। তবু একটা তথ্য মমিনদের জানা দরকার: ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে মানুষকে পৃথকভাবে সনাক্তকরণ শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব ২৪৬ সালেরও আগে, অর্থাৎ ইসলামের আবির্ভাবের ৭০০ বছরেরও বেশি পূর্বে। 

(চলবে)