২৪ মার্চ, ২০১৭

হাদীসের প্রথম পাঠ - ০২

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


মানুষ মুহাম্মদ - নবী মুহাম্মদ

আবু কাশেম মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব! ৬১০ সালের শুরুতে মক্কায় এ নামেই পরিচিত ছিলেন মুহাম্মদ, এখন যাকে আমরা ‘নবী মুহাম্মদ’ নামে চিনি। ৬১০ সালের আগষ্ট মাস থেকে এই আজকের দিন পর্যন্ত ‘মানুষ মুহাম্মদ’-এর ওপর নবুয়্যতের যে-পোশাক চাপানো হয়েছে, তারই ফলশ্রুতিতে পৃথিবী আজ দুটি ভাগে বিভক্ত; একদলে আছে মুহাম্মদের অনুসারী মুসলিম, বাকি সমগ্র পৃথিবীর মানুষের পরিচয় অবিশ্বাসী-কাফের নামে!

যেহেতু এই সিরিজটিতে আমরা মানুষ মুহাম্মদ ও নবী মুহাম্মদের ভালো-মন্দের একটি রূপরেখা তুলে ধরবো, তাই প্রথম অধ্যায়ে সব বিষয়ের ছোট-খাট আভাস দেবো। চলুন, প্রথমেই জেনে নিই কেমন ছিলেন এই মানুষটি, চেহারা থেকে শুরু করে মন-মননে, চাল-চলনে।
বুখারী-৭-৭২-৭৯১: মুহাম্মদ-এর চুল মধ্যম ধরনের ছিলো, না একেবারে সোজা লম্বা, না অতি কোঁকড়ানো; আর তা ছিলো দু'কান ও দু'কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান পর্যন্ত।
বুখারী-৭-৭২-৭৯৩: মুহাম্মদ-এর মাথা ও দু'পা ছিলো মাংসবহুল। তাঁর আগে ও তাঁর পরে আমি তাঁর মত অপর কাউকে দেখিনি; তাঁর হাতের তালু ছিলো চওড়া।
বুখারী-৪-৫৬-৭৫১: মুহাম্মদ মাঝারি গড়নের ছিলেন। তাঁর উভয় কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান প্রশস্ত ছিলো। তাঁর মাথার চুল দুই কানের লতি পর্যন্ত প্রসারিত ছিল। আমি তাঁকে লাল ডোরাকাটা জোড় চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। তাঁর চেয়ে অধিক সুন্দর কাউকে আমি কখনো দেখিনি।
মুহাম্মদ ছিলেন উজ্জ্বল সাদা (ফর্সা) রংয়ের মানুষ, এতটাই সাদা যে, শরীরের রংয়ের জন্য আলাদা করে চেনা যেতো তাকে!
বুখারী-৪-৫৬-৭৬৫: মুহাম্মদ যখন সিজদা করতেন, তখন উভয় বাহুকে শরীর থেকে এমনভাবে পৃথক করে রাখতেন যে, আমরা তার বগল দেখতে পেতাম। অন্য রেওয়াতে আছে, বগলের সাদা শুভ্রতা দেখতে পেতাম।
বুখারী-৯-৯০-৩৪২: খন্দকের যুদ্ধে রাসুলূল্লাহ আমাদের সাথে মাটি উঠাচ্ছিলেন। আমি তাঁকে দেখতে পেলাম, তাঁর পেট মুবারকের সাদা শুভ্রতাকে মাটি আচ্ছাদিত করে ফেলেছে।
বুখারী-১-৩-৬০: একবার আমরা রাসুলুল্লাহ্‌-এর সঙ্গে মসজিদে বসা ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি সওয়ার অবস্থায় ঢুকলো। মসজিদে (প্রাঙ্গণে) সে তার উটটি বসিয়ে বেঁধে রাখলো। এরপর সাহাবীদের লক্ষ্য করে বললো: তোমাদের মধ্যে রাসুলুল্লাহ্‌ কে? রাসুলুল্লাহ্‌ তখন তার সামনেই হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। আমরা বললাম: এই হেলান দিয়ে বসা ফর্সা রঙের ব্যক্তিই হলেন তিনি।
সাধারণ স্বাভবিক মানুষের মতই মুহাম্মদ কথা না শুনলে রেগে যেতেন, স্বাভাবিকভাবেই নিজের রাগ-ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন না; একজন নেতা হিসেবে অনুসারীদের প্রতি মায়া-অনুশাসন ছিলো প্রাকৃতিকভাবেই।
বুখারী-১-২-১৯: মুহাম্মদ সাহাবীদের যখন কোনো আমলের নির্দেশ দিতেন, তখন তাঁরা যতটুকু সমর্থ্য রাখতেন, ততটুকুই নির্দেশ দিতেন। একবার তাঁরা বললেন: ইয়া রাসুলুল্লাহ্! আমরা তো আপনার মত নই। আল্লাহ্ তাআলা আপনার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকল ত্রুটি মাফ করে দিয়েছেন। একথা শুনে তিনি রাগ করলেন, এমনকি তাঁর চেহারা মুবারকে রাগের চিহ্ন প্রকাশ পাচ্ছিলো। এরপর তিনি বললেন: তোমাদের চাইতে আল্লাহকে আমিই বেশি ভয় করি ও বেশি জানি।
বুখারী-১-৩-৮৭: একবার এক ব্যক্তি বললো: ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ্! আমি সালাতে (জামাতে) শামিল হতে পারি না; কারণ অমুক ব্যক্তি আমাদের নিয়ে খুব লম্বা করে সালাত আদায় করেন। (আবু মাসউদ বলেন) আমি রাসুলুল্লাহ্‌-কে কোনো ওয়াজের মজলিসে সেদিনের তুলনায় বেশি রাগান্বিত হতে দেখিনি। (রাগত স্বরে) তিনি বললেন: হে লোক সকল! তোমরা মানুষের মধ্যে বিরক্তির সৃষ্টি করো। অতএব: যে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করবে, সে যেন সংক্ষেপ করে; কারণ তাদের মধ্যে রোগী, দুর্বল ও কর্মব্যস্ত লোক থাকে।
আয়েশা মুহাম্মদের সবচেয়ে প্রিয় স্ত্রীদের একজন ছিলেন; ৫১ বছর বয়সে ৬ বছর বয়সী আয়েশাকে বিয়ে করেন মুহাম্মদ। এই আয়েশা পর্যন্ত ফেরেশতা জিব্রাইলকে দেখার সুযোগ পাননি; অন্যদের তো প্রশ্নই ওঠে না। তার কথা তিনি নিজেই বলেছেন, এসব থেকে আমরা মুহাম্মদের যৌনরুচি আর শিশুকাম-প্রীতির আভাস পেতেই পারি।

মুসলিম-৩১-৫৯৯৭:
 আয়েশা থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ বলছেন: হে আয়েশা! এই যে জিব্রাঈল তোমাকে সালাম বলছেন। আয়েশা বললেন: ওয়া আলাইহিল সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ- তাঁর উপরও সালাম এবং আল্লাহর রহমত। এরপর আয়েশা বললেন, তিনি (মুহাম্মদ) তো এমন কিছু দেখেন যা আমি দেখতে পাই না।
মুসলিম-৩১-৫৯৭৭:  আয়েশা থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ বলেছেন: স্বপ্নযোগে তিনদিন আমাকে তোমায় দেখানো হয়েছে একজন ফিরিশতা তোমাকে একটি রেশমখণ্ডে আবৃত করে নিয়ে এসে বললো, এটা আপনার স্ত্রী। আমি তোমার মুখের কাপড় সরিয়ে দেখি সেটি তুমিই। আমি বললাম, যদি এ স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ হতে হয়, তবে তাই বাস্তবায়িত হবে।
মুসলিম-০৮-৩৩০৯:  আয়েশা থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ আমাকে বিয়ে করেছেন, আমার বয়স তখন ছয় বছর। তিনি আমাকে নিয়ে বাসর ঘরে যান, তখন আমার বয়স নয় বছর। আয়েশা বলেন, আমরা রাত করে মদীনায় পৌঁছার পর আমি একমাস যাবৎ জ্বরে আক্রান্ত ছিলাম এবং আমার মাথার চুল পড়ে গিয়ে কানের কাছে (কিছু) থাকে। (আমার মা) উম্মে রুমান আমার নিকট এলেন, আমি তখন একটি দোলনার উপরে ছিলাম এবং আমার কাছে আমার খেলার সাথীরাও ছিল। তিনি আমাকে উচ্চস্বরে ডাকলেন, আমি তার নিকট গেলাম। আমি বুঝতে পারিনি যে, তিনি আমাকে নিয়ে কী করবেন। তিনি আমার হাত ধরে দরজায় নিয়ে আমাকে দাঁড় করালেন। আমি তখন বলছিলাম, আহ, আহ। অবশেষে আমার উদ্বেগ সত্যি হলো। আমাকে একটি ঘরে নিয়ে গেলেন, সেখানে আনসার মহিলাগণ উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলে আমার কল্যাণ ও রহমতের জন্য দোয়া করলেন এবং আমার সৌভাগ্য কামনা করলেন। তিনি (মা) আমাকে তাঁদের নিকট সোপর্দ করলেন। তাঁরা আমার মাথা ধুয়ে দিলেন এবং আমাকে সুসজ্জিত করলেন; আমি কোনো কিছুতে ভীত শংকিত হইনি। সকালের সময় রাসুলুল্লাহ এলেন এবং তারা আমাকে তাঁর নিকট সোপর্দ করলেন।
মুসলিম-৩১-৫৯৮১:  আয়েশা থেকে বর্ণিত: তিনি রাসুলুল্লাহ-এর কাছে পুতুল নিয়ে খেলতেন। আয়েশা বলেন: আমার কাছে আমার বান্ধবীরা আসতো। তারা রাসুলুল্লাহ-কে দেখে সরে পড়তো। রাসুলুল্লাহ তাদেরকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিতেন।
মুহাম্মদকে যদি যৌনকাতর মানুষ বলে সজ্ঞায়িত করা হয়, তবে তার জন্য কিছুটা তথ্য নিচের হাদীসগুলোয় অনায়াসে পেয়ে যেতে পারেন পাঠক।
বুখারী-১-৫-২৪৯: মায়মুনা থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ সালাতের ওজুর ন্যায় ওজু করলেন, অবশ্য পা দুটো ছাড়া এবং তাঁর লজ্জাস্থান ও যে যে স্থানে নাপাক লেগেছে তা ধুয়ে নিলেন; তারপর নিজের উপর পানি ঢেলে দেন। তারপর সেখান থেকে সরে গিয়ে পা দুটো ধুয়ে নেন। এই ছিল তাঁর জানাবাতের (সহবাসের পর) গোসল।
বুখারী-৭-৭১-৬৬০: রাসুলুল্লাহ-এর উপর একবার যাদু করা হয়। এমন অবস্থা হয় যে তাঁর মনে হতো তিনি বিবিগণের কাছে (সহবাসে) এসেছেন, অথচ তিনি আদৌ তাঁদের কাছে আসেন নি। সুফিয়ান বলেন: এ অবস্থা যাদুর চরম প্রতিক্রিয়া। বর্ণনাকারী বলেন: একদিন রাসুলুল্লাহ ঘুম থেকে জেগে উঠেন এবং বলেন: হে আয়েশা! তুমি অবগত হও যে, আমি আল্লাহর কাছে যে বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে তা বলে দিয়েছেন। (স্বপ্নে দেখি) আমার নিকট দু'জন লোক এলেন। তাদের একজন আমার মাথার নিকট এবং অপর জন আমার পায়ের নিকট বসলেন। আমার কাছের লোকটি অন্যজনকে জিজ্ঞাসা করলেন: এ লোকটির কি অবস্থা? দ্বিতীয় লোকটি বললেন: একে যাদু করা হয়েছে। প্রথম জন বললেন: কে যাদু করেছে? দ্বিতীয় জন বললেন: লাবীদ ইবনে আসাম। ঈহুদীদের মিত্র সুরায়ক গোত্রের একজন, সে ছিল মুনাফিক। প্রথম ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন: কিসের মধ্যে যাদু করা হয়েছে? দ্বিতীয় ব্যক্তি উত্তর দিলেন: চিরুণী ও চিরুণী করার সময় উঠে যাওয়া চুলের মধ্যে। প্রথম ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন: সেগুলো কোথায়? দ্বিতীয় ব্যক্তি উত্তর দিলেন: পুং খেজুর গাছের জুবের মধ্যে রেখে ‘যারওয়ান’ নামক কুপের ভিতর পাথরের নিচে রাখা আছে। রাসুলুল্লাহ উক্ত কুপের নিকট এসে সেগুলো বের করেন এবং বলেন: এটিই সে কুপ, যা আমাকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে। এর পানি মেহেদী মিশ্রত পানির তলানীর ন্যায়, আর এ কুপের (পার্শ্ববর্তী) খেজুর গাছের মাথাগুলো শয়তানের মাথার মত দেখতে। বর্ণনাকারী বলেন: সেগুলো তিনি সেখান থেকে বের করেন। আয়েশা বলেন: আমি জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি এ কথা প্রচার করে দিবেন না? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, তিনি আমাকে আরোগ্য দান করেছেন; আর আমি মানুষকে এমন ব্যাপারে প্ররোচিত করতে পছন্দ করি না, যাতে অকল্যাণ রয়েছে।
বুখারী-১-৬-২৯৮: আয়িশা থেকে বর্ণিত: আমি ও রাসুলুল্লাহ্ জানাবাত অবস্থায় একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম এবং তিনি আমাকে নির্দেশ দিলে আমি ইযার পরে নিতাম, আর আমার হায়য (মাসিক রক্তস্রাব) অবস্থায় তিনি আমার সাথে মিশামিশি (দুই ঊরুতে ঘষাঘষি করে বীর্যপাত) করে শুতেন। তাছাড়া তিনি ইতিকাফ অবস্থায় মাথা বের করে দিতেন, আর আমি হায়য অবস্থায় মাথা ধুয়ে দিতাম।
মুহাম্মদকে ম্যানিয়া বা শুচিবাইগ্রস্ত বললে কতটা ভুল হবে, সে প্রশ্নের উত্তর আমরা খুঁজে নিতে পারি খুব সহজে।
বুখারী-১-৪-১৬৯: মুহাম্মদ জুতা পরা, চুল আঁচড়ানো এবং পবিত্রতা অর্জন করা তথা প্রত্যেক কাজই ডান দিক থেকে শুরু করতে ভালবাসতেন।
বুখারী-৭-৬৫-২৯২: মুহাম্মদ পবিত্রতা অর্জনে, জুতা পরিধানে এবং চুল আঁচড়ানো যথাসাধ্য ডান দিক থেকে শুরু করতেন।
মুসলিম-২৩-৫০১৮: মুহাম্মদ কোনো কিছু দাঁড়িয়ে পান করতে নিষেধ করেছেন। কাতাদা বলেন: আমরা বললাম, তবে খাওয়া? তিনি (আনাস) বললেন: সেটা তো আরো খারাপ, আরো নিকৃষ্ট।
মুসলিম-২৩-৫০২৯: মুহাম্মদ পান করার সময় তিনবার পাত্রে (পাত্রের বাইরে) শ্বাস গ্রহণ করতেন।
মুসলিম-২৩-৫০৩৭: মুহাম্মদ বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন খাবার খায়, সে যেন স্বীয় হাত মুছে না ফেলে যতক্ষণ না সে তা চেটে খায় বা অন্যকে দিয়ে চাটায়।
মুসলিম-২৪-৫২৩৪: মুহাম্মদ কোনা ব্যক্তির বাম হাতে আহার করা, এক পায়ে জুতা পরে চলাফেরা করা, এক কাপড়ে সমস্ত দেহ পেঁচিয়ে রাখা ও গুপ্তাঙ্গ খোলা রেখে এক কাপড়ে গুটি মেরে বসা থাকা নিষেধ করেছেন।
মুসলিম-২৪-৫২৩৮: মুহাম্মদ বলেছেন: কেউ যেন চিৎ হয়ে শুয়ে এক পায়ের ওপর অপর পা ভুলে না দেয়।
বুখারী-৭-৭২-৮০৭: একজন লোক একটি ছিদ্র পথ দিয়ে নবী-এর ঘরে উকি মারে। নবী তখন চিরুনি দিয়ে মাথা আঁচড়াচ্ছিলেন। তিনি বললেন আমি যদি বুঝতাম যে, তুমি ছিদ্র দিয়ে তাকিয়ে দেখছো, তাহলে এ (চিরুনি) দিয়ে আমি তোমার চোখ ঘায়েল করে দিতাম। দৃষ্টি থেকে বাঁচবার জন্যই তো অনুমতি গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।
মুহাম্মদ মানুষ ক্রয়-বিক্রয়ে বিশ্বাসী ছিলেন; তিনি মানুষকে গৃহপালিত প্রাণীর মত ক্রয়-বিক্রয়ে দ্বিধা করতেন না; দাস প্রথার বড় মাপের ব্যবসায়ী ছিলেন তিনি। একজন সামন্ত প্রভূর সকল চরিত্র ধারণ করতেন তিনি!
বুখারী-৩-৩৪-৩৫১: এক ব্যক্তি তার মৃত্যুর পর তার গোলাম আযাদ (মুক্ত) হবে বলে ঘোষণা দিলো। তারপর সে অভাবগ্রস্থ হয়ে পড়লো। মুহাম্মদ গোলামটিকে নিয়ে নিলেন এবং বললেন, কে একে আমার নিকট থেকে খরিদ (ক্রয়) করবে? নুআঈম ইবনে আবদুল্লাহ (তাঁর কাছ থেকে) সেটি এত এত মূল্যে খরিদ করলেন। মুহাম্মদ গোলামটি তাকে বুঝিয়ে দিলেন।
বুখারী-৭-৬৫-৩৪৪: মুহাম্মদ তাঁর এক দর্জি গোলামের বাড়িতে আসলেন। (আহার কালে তাঁর সামনে কদু উপস্থিত করা হলে তিনি (বেছে বেছে) কদু খেতে লাগলেন। সে দিন থেকে আমিও (আনাস) কদু খেতে ভালবাসি, যেদিন রাসুলুল্লাহ্-কে কদু খেতে দেখলাম।
বুখারী-৯-৯১-৩৬৮: উমর থেকে বর্ণিত: আমি আসলাম, তখন রাসুলুল্লাহ তাঁর দ্বিতল কক্ষে অবস্থানরত ছিলেন। আর রাসুলুল্লাহ-এর কৃষ্ণকায় গোলামটি দরজার সম্মুখে দাঁড়ানো। আমি তাকে বললাম, তুমি বলো উমর ইবনে খাত্তাব এসেছে; তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন।
ইসলামের প্রশ্নে মুহাম্মদ ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ‍যুদ্ধবাজ নেতা।
বুখারী-৯-৯০-৩৩২: আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমি রাসুলূল্লাহ-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি কিছু লোক আমার সঙ্গে শরীক না হয়ে পিছনে থেকে যাওয়াটা অপছন্দ না করতো, আর সবাইকে বাহন (যুদ্ধ সরঞ্জাম) সরবরাহ করতে আমি অক্ষম না হতাম, তাহলে আমি কোনো যুদ্ধ থেকেই পেছনে থাকতাম না। আমার বড়ই কামনা হয় যে, আমাকে মহান আল্লাহর পথে শহীদ করা হয়, আবার জীবিত করা হয়। আবার শহীদ করা হয়, আবার জীবিত করা হয়। আবার শহীদ করা হয়, আবার জীবিত করা হয়। আবার শহীদ করা হয়।
মুহাম্মদ ছিলেন কখনও কখনও শিশুতোষ রসিক।
মুসলিম-৩১-৫৯৩২: আমির ইবনে সাদ থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ ওহুদ যুদ্ধের দিন তাঁর জন্য স্বীয় পিতা ও মাতাকে একত্রে উল্লেখ করেছিলেন। সাদ বলেন: মুশরিকদের একটা লোক মুসলমানদের জ্বালিয়ে মারছিলো। তখন রাসুলুল্লাহ বললেন: হে সাদ, তীর মারো, আমার পিতা-মাতা তোমার জন্য উৎসর্গ। আমি তার উদ্দেশ্যে একটা তীর বের করলাম যাতে ধারালো অংশটি ছিলো না- ওটা তার পাঁজরে লাগলে সে পড়ে গেলো, এতে তার লজ্জাস্থান প্রকাশিত হয়ে গেল। রাসুলুল্লাহ হাসলেন আমি তার মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখতে পেলাম।
মুহাম্মদ ছিলেন কখনও কখনও নিষ্ঠুর মানুষ।
বুখারী-২-২৪-৫৭৭: উরাইনা গোত্রের কতিপয় লোকের মদীনার আবহাওয়া প্রতিকুল হওয়ায় রাসূলুল্লাহ তাদেরকে যাকাতের জন্য প্রাপ্ত উটের কাছে গিয়ে উটের দুধ ও পেশাব পান করার অনুমতি প্রদান করেন। তারা রাখালকে হত্যা করে এবং উট হাঁকিয়ে নিয়ে (পালিয়ে) যায়। রাসুলুল্লাহ তাদের পশ্চাদাবনে লোক প্রেরণ করেন, তাদেরকে ধরে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাদের হাত পা কেটে দেন এবং তাদের চোখে তপ্ত শলাকা বিদ্ধ করেন আর তাদেরকে হাররা নামক উত্তপ্ত স্থানে ফেলে রাখেন। তারা (যন্ত্রণায়) পাথর কামড়ে ধরে ছিল।
চলুন, প্রথম অধ্যায়ের শেষে মুহাম্মদের প্রাকৃতিক প্রয়োজনের বিষয়টি জেনে আসি; পরের অধ্যায় শুরুর আগে হালকা থাকাটা জরুরি!
বুখারী-১-৮-৪৭৯: আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ্‌ যখন প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হতেন, তখন আমি ও একজন বালক তাঁর পিছনে যেতাম। আর আমাদের সাথে থাকতো একটা লাঠি বা একটা ছড়ি অথবা একটা ছোট লাঠি, আরো থাকতো একটা পানির পাত্র। তিনি তাঁর প্রয়োজনে সেরে নিলে আমরা তাঁকে ঐ পাত্রটি দিতাম।
(চলবে)