১৬ মার্চ, ২০১৭

নিমো হুজুরের খুতবা - ৩৩

লিখেছেন নীল নিমো

আজকে এক নাস্তিককে প্যাঁচে ফেলে মাথা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বলিলাম:
- এক বিধবা মহিলারে বিয়ে করছিলাম। তার এক যুবতী মেয়ে ছিলো। তাকে বিয়ে করলো আমার বাবা। তো আমার মেয়ে হয়ে গেল আমার মা, আর আমি হয়ে গেলাম আমার বাবার শ্বশুর। তার ঘরে একটা মেয়ে হলো, সে হলো আমার বোন, কিন্তু আমি তার নানীর জামাই। সেদিক থেকে সে আমার নাতনিও। এভাবে আমার একটা পোলা হইলো। তো আমার পোলা হয়ে গেল আমার বাপের শালা, আর আমি হলাম আমার পোলার ভাইগ্না।

আমি ভাবছিলাম, আমার যুক্তি বা সম্পর্কের প্যাঁচ শুনে নাস্তিক মাথা ঘুরে পড়ে যাবে। কিন্তু তা হলো না, বরং নাস্তিক আমাকে উল্টা প্যাঁচ দিল:
- হুজুর, এইবার আমি আপনাকে বলি।

চাচাত ভাই আলীর কাছে মুহাম্মদ তার মেয়ে ফাতিমাকে বিবাহ দিল। যার ফলে মুহাম্মদ তার আপন চাচাত ভাইয়ের শ্বশুর হয়ে গেলে। মুহাম্মদের চাচা হয়ে গেল মুহাম্মদের মেয়ের শ্বশুর। আর মুহাম্মদ হয়ে গেল তার নিজের চাচাত বেয়াই।

মুহাম্মদের নাতনি উমামাকে বিবাহ করে মুহাম্মদের মেয়ের জামাই আলী। যার ফলে মুহাম্মদের মেয়ের জামাই হয়ে গেল মুহাম্মদের নাতজামাই। আর মুহাম্মদের নাতি হয়ে গেল মুহাম্মদের মেয়ের সতিন। আর মুহাম্মদ নিজে হয়ে গেল তার নিজের মেয়ের সতিনের নানা।

মুহাম্মদের শাশুড়ি আসমা-কে (আবু বকরের বউ) বিবাহ করে মুহাম্মদের মেয়ের জামাই আলী। যার ফলে মুহাম্মদের শাশুড়ি হয়ে গেল মুহাম্মদের মেয়ের সতিন। আর মুহাম্মদের মেয়ে হয়ে গেল মুহাম্মদের শালি।

মুহাম্মদের নাতি উম্ম কুলসুমকে বিবাহ করেছিল মুহাম্মদের শ্বশুর উমর। যার ফলে মুহাম্মদের শ্বশুর হয়ে গেলে মুহাম্মদের নাত জামাই। তাই মুহাম্মদ ওমরকে শ্বশুর আব্বা এবং উমর মুহাম্মদকে শ্বশুর নানা বলে ডাকত...

আমি আর নাস্তিকের এই ইসলামি প‍্যাঁচ ফলো করতে পারলাম না। ঠাস করে মাথা ঘুরে মাটিতে পড়ে গেলাম। এরপর আর কিছু মনে নাই। 

এখন হাসপাতালের বেডে শুয়ে লেখাটি লিখলাম। সবাই আমার জন‍্য দোয়া করবেন। মাথাটা এখনো ঘুরান্টি দিচ্ছে।