১১ ফেব, ২০১৭

নুনুভূতিনাশক প্রেসক্রিপশন

লিখেছেন শহিদুল ইসলাম

১.
ডাক্তার ও রোগী কথোপকথন।

ডাক্তার: বলুন, আপনার কী অসুবিধা?

রোগী: জে ডাক্তার সাপ, ব্লগ দিয়া ইন্টারনেট চালানোর সময় নাস্তিকদের লেখা পড়তে যাইয়া আচৌক্কা অনুভূতিতে তীব্র আঘাত পাইছি! এখন খুবই আহত অবস্থায় আছি!

ডাক্তার: হুম, আঘাতটা কবে পেয়েছেন?

রোগী: জে গত দুইদিন আগে। পরে নাস্তিকদের অশ্রাব্য নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করছি, ফাঁসি দাবি করছি! কিন্তু এতেও অনুভূতি ঠিক হয় নাই! 

ডাক্তার: আপনারা, রোগীরা, এই কাজটা খুবই খারাপ করেন। সমস্যা গুরুতর না হইলে অল্প থাকতে আসেন না, যাই হোক, আপনার প্রেসক্রিপশন লিখে দিচ্ছি। চাপাতি দিয়া তিন দিন প্রত্যেক দিনে একটা কইরা নাস্তিক কোপাইবেন! এতেও কাজ না হলে বিচিবোমা দিয়ে দিচ্ছি। আপনার দুইটা বিচির সাথে একটা বিচিবোমা অ্যাড করে নিবেন। পরে কিছু নাস্তিকদের মাঝে যাইয়া বিচি ফাটাইয়া দিবেন! এই জনমের মত অনুভূতিতে আর আঘাত পাইবেন না গ্যারান্টি!! 

২.
রোগী ও নাস্তিকের কথোপকথন।

রোগী: নাস্তিকতা হইলো বোকামি, আস্তিকতা বা ঈশ্বরে বিশ্বাস করাটাই যৌক্তিক, কারণ বাইচান্স মৃত্যুর পরে দেখা গেল একজন ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে, তখন নাস্তিকরা সম্পূর্ণ ফেঁসে যাবে? আর আস্তিকদের ঈশ্বরের শাস্তি থেকে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। অতএব ঈশ্বরে বিশ্বাস করাটাই প্রকৃত বুদ্ধিমানের কাজ। তোমরা নাস্তিকরা এখন যতই ফাল পারো, মরার পরেই প্রমাণ পাইবা! 

নাস্তিক: তাহলে আমি পৃথিবীর সকল ধর্মের সব ঈশ্বরেই বিশ্বাস করলাম! কারণ বলা তো যায় না, কোন ঈশ্বরের অস্তিত্ব আছে! হা হা হা! আরেকটা কথা কন তো, ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ শুধু মৃত্যুর পরেই পাওয়া যায় কেন? 

রোগী: তুই ধর্ম নিয়া ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছ, আমার ধর্মানুভূতিতে আঘাত দিছো! খাড়া, এখন আমি ডাক্তারের দেওয়া কোনও একটা প্রেসক্রিপশন প্রয়োগ করুম...

... বাকি অংশ রূপালি পর্দায়।