২৩ ফেব, ২০১৭

তুরাবা ও নাজাদ আক্রমণ - কে ছিল আগ্রাসী? কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৬০): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত চৌত্রিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই প্রাণবন্ত বর্ণনার আলোকে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীদের সংঘটিত খায়বার (পর্ব: ১৩০-১৫২)  ফাদাক (পর্ব: ১৫৩-১৫৮)  ওয়াদি আল-কুরার (পর্ব-১৫৯) নিরপরাধ জনপদের ওপর তাদের অমানুষিক নৃশংস আগ্রাসী আক্রমণের ইতিবৃত্ত গত ত্রিশটি পর্বে করা হয়েছে।

হুদাইবিয়া সন্ধি চুক্তি সম্পন্ন শেষে (পর্ব: ১১১-১২৯) মদিনায় ফিরে আসার পর হিজরি সাত সালে (মে ১১, ৬২৮ - এপ্রিল ৩০, ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দ) এই হামলাগুলোই হলো অবিশ্বাসী জনপদের ওপর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সর্বপ্রথম আগ্রাসী আক্রমণ। মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল-তাবারী ও আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, খায়বার যুদ্ধ প্রাক্কালে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশ্যে চারটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সেই নিষেধাজ্ঞা গুলো হলো: [1] [2]

১. গৃহপালিত গাধার মাংস ভক্ষণ করা নিষিদ্ধ, পরিবর্তে তিনি তাদেরকে ঘোড়ার মাংস খাওয়ার অনুমতি প্রদান করেন। ২. যে কোনো ধরনের মাংসাশী প্রাণীর মাংস ভক্ষণ করা নিষিদ্ধ; ৩. লুটের মালের হিস্যা যথাযথভাবে বরাদ্দ করার আগেই সেখান থেকে কোনোকিছু বিক্রি করা নিষিদ্ধ, ও ৪. গনিমতের মাল হিসাবে ধৃত নারীদের সাথে যৌনসঙ্গমের পর সেই নারীটির ঋতুস্রাব হওয়ার পূর্বে, কিংবা নারীটি গর্ভধারণ করলে সেই সন্তান প্রসবের পূর্বে তাঁর সাথে অন্য কোনো অনুসারীর যৌনসঙ্গম করা নিষিদ্ধ।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনা মতে, মুহাম্মদ তাঁর এই আগ্রাসী হামলাগুলো সম্পন্ন করার পর মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন হিজরি সাত সালের সফর মাসে। আল-ওয়াকিদির বর্ণনার উদ্ধৃতি সাপেক্ষে আল-তাবারীর বর্ণনায় আমরা জানতে পারি: [3]

>> হিজরি ৭ সালের মহরম মাসে (যার শুরু হয়েছিল ১১ই মে, ৬২৮ সাল) মুহাম্মদ তাঁর কন্যা যয়নাবকে তাঁর স্বামী আবু আল-আস বিন আল-রাবির কাছে পুনরায় ফেরত দেন। বদর যুদ্ধের (১৫ই মার্চ, ৬২৪ সাল) অব্যবহিত পরেই মুহাম্মদ তাঁর এই কন্যাকে কীভাবে তাঁর এই স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে মদিনায় পাঠাতে বাধ্য করেছিলেন, তার বিস্তারিত আলোচনা "নিকট আত্মীয়রাও রক্ষা পায়নি (পর্ব-৩৮)!" পর্বে করা হয়েছে। এরপর সুদীর্ঘ চারটি বছর (৬২৪-৬২৮ সাল) তাঁরা একে অপরের নিকট থেকে থাকেন বিচ্ছিন্ন! আবু আল-আস বসবাস করেন মক্কায় আর তাঁর স্ত্রী জয়নাব বসবাস করেন মদিনায়। অতঃপর সিরিয়া থেকে বাণিজ্যসামগ্রী নিয়ে মক্কায় প্রত্যাবর্তনের সময় মুহাম্মদের এই জামাতা কীভাবে তাঁর শ্বশুরের অনুসারী হানাদার দস্যুদের কবলে পড়েছিলেন, অতর্কিত হামলায় এই ডাকাতরা কীভাবে তাঁর সমস্ত অর্থ ও বাণিজ্যসামগ্রী লুণ্ঠন করে মদিনায় নিয়ে এসেছিলেন, আবু আল-আস তাঁর প্রাণ রক্ষা ও বন্দীত্ব হতে রক্ষা পাওয়ার প্রচেষ্টায় কীভাবে পালিয়ে এসে মদিনায় অবস্থানকারী তাঁর এই স্ত্রীর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন, জয়নাব তাঁর এই স্বামীকে কীভাবে সাহায্যে করেছিলেন, অতঃপর আবু আল-আস কীভাবে তাঁর শ্বশুর মুহাম্মদকে নবী হিসাবে স্বীকার করে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছিলেন, ইত্যাদি বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা "আবু আল আস আবারও আক্রান্ত (পর্ব-৪০)!" পর্বে করা হয়েছে। আবু আল-আস মুসলমান হওয়ার পর মুহাম্মদ তাঁর এই কন্যাকে তার হাতে পুনরায় হস্তান্তর করেন।

>> এই একই বছর হাতিব বিন আবু বালতা (Hatib b. Abi Balta'ah) নামের মুহাম্মদের এক অনুসারী আলেকজান্দ্রিয়ার (মিশর) সম্রাট আল-মুকাওকিস-এর কাছ থেকে মুহাম্মদের জন্য পাঠানো উপঢৌকন হিসাবে মারিয়া আল-কিবতিয়া ও তাঁর ভগ্নি শিরিন নামের দুই সুন্দরী দাসী এবং মাবুর নামের এক দাসকে সঙ্গে নিয়ে মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন [বিস্তারিত: "মুহাম্মদের যৌন জীবন ও সন্তান জন্ম দানের ক্ষমতা (পর্ব-১০৮)!"]। 

আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা যা জানতে পারি, তা হলো: খায়বার, ফাদাক ও ওয়াদি আল-কুরা আগ্রাসন শেষে মদিনায় প্রত্যাবর্তনের (সফর, হিজরি ৭ সাল) পর পরবর্তী ৮ মাস মুহাম্মদ মদিনায় অবস্থান করেন ও বহু হামলাকারী দল বিভিন্ন স্থানের অবিশ্বাসী জনপদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা এই হামলাগুলোর অল্প-বিস্তর বর্ণনা তাঁদের নিজ নিজ 'সিরাত (মুহাম্মদের জীবনী)' ও হাদিস গ্রন্থে বিভিন্নভাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন! এ বিষয়ের সবচেয়ে বিস্তারিত ও প্রাণবন্ত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন আল-ওয়াকিদি, তাঁর 'কিতাব আল-মাগাজি' গ্রন্থে। তাঁদের সেই বর্ণনার আলোকে আমরা যা জানতে পারি, তা হলো: খায়বার, ফাদাক ও ওয়াদি আল-কুরা আগ্রাসনের পর পরবর্তী দশ মাসে (জিলহজ মাস পর্যন্ত) মুহাম্মদের আদেশে তাঁর অনুসারীরা বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অবিশ্বাসী জনপদের ওপর কমপক্ষে আরও সাতটি আগ্রাসী আক্রমণ পরিচালনা করেন, যার সংক্ষিপ্ত আলোচনা 'আল ফাতহ' বনাম আঠারটি হামলা (পর্ব-১২৪)!' পর্বে করা হয়েছে। এই হামলাগুলো ছাড়াও মক্কা থেকে পালিয়ে আসা আবু বসির নামের মুহাম্মদের আর এক অনুসারীর নেতৃত্বে কুরাইশ বাণিজ্যবহরের ওপর হামলা, তাঁদেরকে খুন ও তাঁদের মালামাল লুণ্ঠন ছিল পুরোদমে অব্যাহত [বিস্তারিত: 'হুদাইবিয়া সন্ধি-চুক্তি ভঙ্গ চার (পর্ব-১২৮)!']। 


মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও আল-তাবারীর বর্ণনা: [4] [5]

'খায়বার থেকে মদিনায় প্রত্যাবর্তনের পর আল্লাহর নবী রবিউল আওয়াল (যার শুরু হয়েছিল জুলাই ১১, ৬২৮ সাল), রবিউস-সানি, জমাদিউল-আওয়াল, জমাদিউস-সানি, রজব, শাবান, রমজান ও শওয়াল মাস (জুলাই ৬২৮ - মার্চ ৬২৯ সাল) পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন ও এই সময়টিতে তিনি একাধিক হামলাকারী দল প্রেরণ করেন। অতঃপর জিলকদ মাসে (যার শুরু হয়েছিল মার্চ ২, ৬২৯ সাল), আগের বছর যেই মাসটি তে মুশরিকরা (polytheists) তাঁকে  ফিরিয়ে দিয়েছিল [পর্ব-১১১], তিনি তাদের সেই ফিরিয়ে দেয়া ওমরা হজ পালন করার উদ্দেশ্যে পুনরায় রওনা হন।----‘  

- অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ - লেখক।

>>> আল-ওয়াকিদি, আল-তাবারী, মুহাম্মদ ইবনে সা'দ - প্রমুখ আদি ও বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনা মতে খায়বার, ফাদাক ও ওয়াদি আল-কুরা আক্রমণের পর অবিশ্বাসী জনপদের ওপর মুহাম্মদের যে পরবর্তী আগ্রাসী হামলা, তার নাম: "তুরাবা ও নাজাদ আক্রমণ!"

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ সাল) বিস্তারিত বর্ণনা: [6] [7] [3]

উমর ইবনে আল-খাত্তাবের নেতৃত্বে তুরাবা হামলা:

'আবু বকর বিন উমর বিন আবদ আল-রাহমান এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উসামা বিন যায়েদ বিন আসলাম আমাদের যা অবহিত করেছেন, তা হলো, তিনি বলেছেন: আল্লাহর নবী তাঁর ত্রিশজন অনুসারীকে সঙ্গে দিয়ে উমর-কে তুরাবার আজুয হাওয়াযিন গোত্রের লোকদের কাছে পাঠান। বানু হিলাল গোত্রের এক পথপ্রদর্শককে (গাইড) সঙ্গে নিয়ে উমর যাত্রা শুরু করেন। তারা রাত্রিকালে যাত্রা অব্যাহত রাখে ও দিনের বেলায় নিজেদের লুকিয়ে রাখে, কিন্তু খবরটি হাওয়াযিন গোত্রের লোকদের কাছে এসে পৌঁছে ও তারা পালিয়ে যায়। উমর তাদের লোকালয়ে আসেন কিন্তু তিনি তাদের একজন লোকেরও সাক্ষাত পান না। তিনি মদিনায় প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে রওনা হন; যখন তিনি আল-নাদিয়া (al-Najdiyya) অতিক্রম করছিলেন, ছিলেন প্রাচীরের সন্নিকটে, হিলালী লোকটি উমর ইবনে খাত্তাব-কে বলে, "তুমি কি অন্য একটি দলের লোকদের মোকাবেলায় যেতে চাও, যারা হলো খাতাম গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ঐ লোকগুলো যাদেরকে আমি ছেড়ে এসেছি? তারা এসেছে হেঁটে, কারণ তাদের শুকনো জমি।"

উমর বলে, "তাদের বিষয়ে আল্লাহর নবী আমাকে কোনো আদেশ করেননি। বস্তুত: তিনি আমাকে আদেশ করেছেন তুরাবার হাওয়াযিন গোত্রের লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে।" অতঃপর উমর মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন।' [8] [9]

আবু বকর ইবনে কুহাফার নেতৃত্বে নাজাদ আক্রমণ:

'আইয়াস বিন সালামার পিতা সালামা বিন আল-আকওয়া হইতে > আইয়াস বিন সালামা হইতে > ইকরিমা বিন আমমার হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে হামযা বিন আবদ আল-ওয়াহিদ আমাকে যা বলেছেন তা হলো, তিনি বলেছেন: আল্লাহর নবী আবু বকর-কে প্রেরণ করেন, তিনি তাকে আমাদের নেতা হিসাবে নিযুক্ত করেন। আমাদের স্থানটি ছিল হাওয়াযিন গোত্রের লোকদের দ্বারা জনাকীর্ণ। আমি নিজের হাতে আবিয়াত অঞ্চলের সাতজন লোককে হত্যা করেছি। আমাদের হামলার সংকেত (code) শব্দটি ছিল, "হত্যা কর! হত্যা কর!"'

আল-তাবারী ও মুহাম্মদ ইবনে সা'দের (৭৮৪-৮৪৫ খৃষ্টাব্দ) অতিরিক্ত বর্ণনা: [3] [7]

'এই বছর শাবান মাসে (যার শুরু হয়েছিল ৪ ডিসেম্বর, ৬২৮ সাল) আবু বকর ইবনে কুহাফার নেতৃত্বে এক হামলাকারী দল নাজাদ অঞ্চলে গমন করে। সালামা বিন আল-আকওয়া হইতে বর্ণিত: "ঐ বছর আমরা আবু বকরের নেতৃত্বে আক্রমণ করি।" এ বিষয়ের বর্ণনা আগেই দেয়া হয়েছে [পর্ব-১১০]।' [10]

[অর্থাৎ, আল-তাবারী ও মুহাম্মদ ইবনে সা'দের মতে এই আক্রমণটিই হলো আবু বকরের নেতৃত্বে বানু ফাযারাহ গোত্রের ওপর হামলা (বিস্তারিত: 'উম্মে কিরফা হত্যাকাণ্ড!' পর্ব।)]  

- অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ - লেখক।

>>> আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো, তুরাবা ও নাজাদ অঞ্চলের অধিবাসীরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের ওপর কোনোরূপ আক্রমণ করতে আসেননি। বরাবরের মতই বিনা উস্কানিতে অবিশ্বাসী জনপদের ওপর অতর্কিত ('তারা রাত্রিকালে যাত্রা অব্যাহত রাখে ও দিনের বেলায় নিজেদের লুকিয়ে রাখে!') আগ্রাসী আক্রমণকারী যে দল তার নাম, "মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা!"

আদি উৎসের বিশিষ্ট সুন্নি মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই বর্ণনায় যা আমরা জানি, তা হলো, মুহাম্মদ তাঁর মদিনা-জীবনে (৬২২-৬৩২ সাল) যে প্রায় একশত আগ্রাসী হামলার সাথে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন, ওপরে বর্ণিত অখ্যাত (সিংহভাগ মুহাম্মদ অনুসারী যার নামই কখনোই শোনেননি) এ দু'টি হামলা ছাড়া মুহাম্মদ আর কোনোটিতেই আবু বকর ও উমর-কে নেতৃত্ব পদমর্যাদায় নিয়োগ দেননি। শুধু তাইই নয়, আদি উৎসের বর্ণনায় আমরা আরো যে বিষয়টি জানতে পারি, তা হলো, মুহাম্মদের জীবদ্দশায় এই বিপুল সংখ্যক আক্রমণের কোনোটিতেই আবু বকর ইবনে কুহাফা ও উমর ইবনে খাত্তাব "কোনো বিশেষ বীরত্ব প্রদর্শন" করেছিলেন, এমন ইতিহাসও কোথাও উল্লেখিত হয়নি।

তা সত্ত্বেও, 
মুহাম্মদের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের সমস্ত পরিবার সদস্য ও নিকট আত্মীয়দের বঞ্চিত করে এই আবু বকর ইবনে কুহাফা ও উমর ইবনে খাত্তাব হয়েছিলেন মুহাম্মদের রেখে যাওয়া সুবিশাল সম্পদ (পর্ব- ১৫৫)  ক্ষমতার সর্বপ্রথম স্বত্বভোগী (পর্ব-১৫৮)! সুন্নি সম্প্রদায়ভুক্ত ইসলাম-বিশ্বাসীদের কাছে আবু বকর ইবনে কুহাফা ও উমর ইবনে খাত্তাব ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। অন্যদিকে শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত ইসলাম-বিশ্বাসীদের কাছে এই দুই ব্যক্তি হলো ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত চরিত্র (পর্ব-১৩২)! মুহাম্মদের দীক্ষায় দীক্ষিত ও তাঁর শিক্ষায় শিক্ষিত এই দুই অনুসারী ছিলেন মুহাম্মদ পরবর্তী ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কূট-রাজনীতিবিদ! তাদের সেই কূট-রাজনীতির সর্বপ্রথম শিকার হয়েছিলেন মুহাম্মদেরই একান্ত নিজস্ব পরিবার সদস্য ও নিকট আত্মীয়রা!

ইসলামের ইতিহাস বড়ই বিচিত্র!

ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল-ওয়াকিদির মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি। ইবনে ইশাক ও আল-তাবারীর মূল ইংরেজি অনুবাদ ইন্টারনেটে বিনামূল্যে ডাউনলোড লিঙ্ক: তথ্যসূত্র [1] ও [3].

The detailed narrative of Al-Waqidi (748-822 AD): [6] [7]

THE EXPEDITION OF ‛UMAR B. AL-KHAṬṬĀB TO TURBA

‘Usāma b. Zayd b. Aslam related to us from Abū Bakr b. ‛Umar b. ‛Abd al-Raḥmān, who said: The Messenger of God sent thirty men with ‛Umar to ‛Ajuz Hawāzin in Turba. ‛Umar set out with a guide from the Banū Hilāl. They marched by night and hid by day, but news came to the Hawāzin and they fled. ‛Umar came to their locality but did not meet even one of them. He turned to return to Medina, and when he was passing al-Najdiyya, and he was at the wall, the Hilālī said to ‛Umar b. al-Khaṭṭāb, “Would you like to have another group that I have left, from Khath‛am? They came walking, for their land is dry.” ‛Umar said, “The Prophet did not command me about them. Indeed, he commanded me to stay and fight the Hawāzin in Turba.” And ‛Umar returned to Medina.’

THE EXPEDITION OF ABŪ BAKR TO NAJD 

‘Hamza b. ‛Abd al-Wāhid related to me from ‛Ikrima b. ‛Ammār from Iyās b. Salama from his father, who said: The Messenger of God sent Abū Bakr and appointed him commander over us. Our house was populated with Hawāzin. I killed seven of the people from Abyāt with my hands. The code was “Kill! Kill!”’

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা: 

[1] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ: A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৫১১-৫১২; বিনামূল্যে ডাউনলোড লিঙ্ক:

[2] অনুরূপ বর্ণনা: “কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ), ed. Marsden Jones, লন্ডন ১৯৬৬; ভলুম ২, পৃষ্ঠা ৬৬০-৬৬১; ইংরেজি অনুবাদ: Rizwi Faizer, Amal Ismail and Abdul Kader Tayob; ISBN: 978-0-415-86485-5 (pbk); পৃষ্ঠা ৩২৫ http://www.amazon.com/The-Life-Muhammad-Al-Waqidis-al-Maghazi/dp/0415864852#reader_0415864852

[3] অনুরূপ বর্ণনা: “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৮, ইংরেজী অনুবাদ: Michael Fishbein, University of California, Los Angeles, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-7914-3150—9 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৫৯১-১৫৯৩; বিনামূল্যে ডাউনলোড লিঙ্ক:

[4] Ibid মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, পৃষ্ঠা ৫৩০

[5] Ibid আল-তাবারী, পৃষ্ঠা (Leiden) ১৫৯৩-১৫৯৪

[6] Ibid আল-ওয়াকিদি, পৃষ্ঠা ৭২২; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৩৫৫

[7] অনুরূপ বর্ণনা: কিতাব আল-তাবাকাত আল-কাবির – লেখক: মুহাম্মদ ইবনে সা'দ (৭৮৪-৮৪৫ খৃষ্টাব্দ), অনুবাদ এস মইনুল হক, প্রকাশক কিতাব ভবন, নয়া দিল্লি, সাল ২০০৯ (3rd Reprint), ISBN 81-7151-127-9 (set), ভলুউম ২, পৃষ্ঠা ১৪৬- ১৪৭

[8] তুরাবা স্থানটির অবস্থান ছিল মক্কার দক্ষিণ দিকে।

[9] Ibid আল-তাবারী, নোট নম্বর ৫৩৯: 'আজুয হাওয়াযিন গোত্রগুলো ছিল উত্তর আরবের হাওয়াযিন গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছোট ছোট গোত্র: জুশাম, নাসর ও সা'দ বিন বকর।'

[10] Ibid আল-তাবারী, নোট নম্বর ৫৪২