২৩ ফেব, ২০১৭

কোরআন যেভাবে অবতীর্ণ: মক্কা - তৃতীয় অধ্যায়: না ঘরকা না ঘাটকা (পর্ব ২৬)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


পরপর দু'টি ছেলে-সন্তান হারানোর শোক এখনও কমেনি খাদিজার, আব্দুল্লাহ মারা যাবার বছরই বন্যা হলো মক্কায়; শরীরটা তখন থেকেই ভালো যাচ্ছে না। মুহাম্মদ-পক্ষের বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন নিজের বোনের ছেলের সাথে, সে ছেলে কোনোভাবেই মুসলমান হচ্ছে না! তার পরের পিঠোপিঠি দুই মেয়ের বিয়ে নিয়ে আবু লাহাবের ছেলেদের সাথে যা হলো, তা আর বলার মত নয়!

মন-শরীর নিয়মিত খারাপই থাকে এখন, মক্কায় বের হলেই যেভাবে প্রশ্নচোখে তাকায় সবাই! তাই প্রাকৃতিক কাজ ছাড়া খুব একটা বের হন না খাদিজা। মুহাম্মদকে বলেন প্রতিনিয়ত, "তুমি যে এমন পাগলামী করো মাঝে মাঝে, আমি যদি না থাকি, বাচ্চাদের কী হবে, ভেবে দেখেছো?" মুহাম্মদ প্রশ্নের উত্তর দেন না; খাদিজাকে কীভাবে বোঝাবেন কতটা চাপে আছেন তিনি; না পারেন বলতে, না পারেন সইতে! যাদের হাতে এক-ঈশ্বর বিশ্বাসের হাতেখড়ি মুহাম্মদের, কেউ নেই তাদের; যার সবচেয়ে বেশি অনুরক্ত ছিলেন মুহাম্মদ, যে তাকে হারাম-হালাল শিখিয়েছে, নামাজ পড়া শিখিয়েছে, হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন হতে শিখিয়েছে, তার ছেলে অনুগামী সাহাবা হলেও, তিনি তো বেঁচে নেই; মুহাম্মদ জন্মদাতা পিতাকে জাহান্নামী মনে করলেও তাকে (পাঠকের কাছে নাম জানতে চেয়ে প্রশ্ন থাকলো) দিয়েছেন নবীর মর্যাদা, সে হিসাবে মক্কায় তিনি প্রথম নবী নন! আরেকজন তো মুসলিম হয়ে হাবাশায় গিয়ে খ্রিষ্টান হয়ে গেছেন! যে কোনো বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আলোচনার মানুষ এখন হাতের কাছে পাওয়া যায় না সহজে; তারপর কুরাইশরা যা শুরু করেছে! যদি কখনও সুযোগ আসে, সবগুলোকে বারো-ঘাটের মরুভূমির বালি খাওয়াবেন তিনি!

মক্কার বয়কটকালীন মুহাম্মদ ক্রমশ নিজেকে নীরব সন্ত্রাসীতে রূপান্তরিত করতে থাকেন; মনের ভেতর প্রতিশোধ স্পৃহা জমাট বাঁধতে শুরু করে তার; যদিও কোণঠাসা মানুষের মতই  কখনও মনের ক্ষোভ প্রকাশ পায় প্রকাশিত আয়াতে, আবার কখনও নিজেকে খুব ক্ষুদ্র মানুষের বাইরে কিছুই মনে হয় না তার! মক্কার ১৩ বছরে মুহাম্মদের আব্রাহামিক ধর্মজ্ঞান ছিলো খুব প্রাথমিক পর্যায়ের, অনেক কিছু্ই জানতেন না। জানতেন না ইব্রাহিমের তৃতীয় স্ত্রী ছিলো (কটুরা) এবং সে পক্ষে তার ৬ সন্তান ছিলো! তিনি জানতেন না, ঈসার মা কার বোন! জানতেন না, তার বর্ণনা করা ধর্মের আদি রূপরেখা মধ্য ইরাক থেকে এসেছে; ভালো-মন্দের রূপরেখা এসেছে ইরান থেকে, তিনি জানতেন না, আদম-এর হাওয়া/ঈভের পূর্বেও স্ত্রী-সন্তান ছিলো!

সব মিলিয়ে মুহাম্মদের ৪১ হাজার অ-মৌলিক হাদিসের যে সন্ধান আজও পাওয়া যায়, তার ৯০ শতাংশ প্রকাশের সময়কাল মদিনার দশ বছর! মক্কায় মুহাম্মদ একজন স্বল্পজ্ঞানী সংখ্যালঘু ধর্মসংস্কারকের বেশি কিছু ছিলেন না কখনই! ১৩ বছর পার করেছেন মাত্র ৮/১০টি গল্প দিয়ে বহুপদের খিচুড়ি রান্না করে!

এ পর্বের প্রকাশিত আয়াতে মুহাম্মদের এই অস্থির দ্বৈত রূপের পরিচয় পাওয়া যায়; মুহাম্মদ এখন কুরাইশদের চাইতে তার অনুসারীদের পুনরায় ধর্মপাঠ দিচ্ছেন বেশি, কারণ অনেকেই মুহাম্মদের ধর্মমত থেকে পূর্বমতে চলে যেতে শুরু করেছে!

কোরআন অবতীর্ণ হবার ধারাবাহিকতা অনুসারে প্রকাশের আজ ২৬ তম পর্ব; এই পর্বে থাকছে মক্কা তৃতীয় অধ্যায়: না ঘরকা না ঘাটকার ৪র্থ তিন অংশ। অনুবাদের ভাষা একাধিক বাংলা/ইংরেজী অনুবাদ অনুসারে নিজস্ব।}



মুহাম্মদ দ্বারা ১০৬ তম প্রকাশ: সূরা আল মুমিন (৪০) (বিশ্বাসী), ৫৬-৫৭ বাদে ১ থেকে ৬০ আয়াত:

১. হা-মীম।
২. এই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিকট হতে
৩. যিনি পাপ ক্ষমা করেন এবং তাওবাহ কবূল করেন, যিনি শাস্তি দানে কঠোর, শক্তিশালী। তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। প্রত্যাবর্তন তাঁরই নিকট।
৪. শুধু কাফিরেরাই আল্লাহর নিদর্শন সম্বন্ধে বিতর্ক করে; সুতরাং দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ যেন তোমাদের বিভ্রান্ত না করে।
৫. তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায় এবং তাদের পরে অন্যান্য দলও মিথ্যা আরোপ করেছিল। প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ রাসূলকে আবদ্ধ করার জন্য অভিসন্ধি করেছিল এবং তারা অসার তর্কে লিপ্ত হয়েছিল, সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার জন্য। ফলে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম এবং কত কঠোর ছিল আমার শাস্তি!
৬. এভাবে কাফিরদের ক্ষেত্রে সত্য হল তোমার পালনকর্তার বাণী - এরা জাহান্নামী।
৭. যারা আরশ বহন করে আছে এবং যারা এর চতুর্পার্শ্ব ঘিরে আছে তারা তাদের পালনকর্তার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে প্রশংসার সাথে এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে: হে আমাদের পালনকর্তা! আপনার দয়া ও জ্ঞান সর্বব্যাপী, অতএব যারা তাওবাহ করে ও আপনার পথ অবলম্বন করে, আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করুন।
৮. আমাদের প্রতিপালক! আপনি তাদেরকে আর তাদের পিতৃপুরুষ, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানাদির মধ্যে যারা সৎ কাজ করেছে তাদেরকেও চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করান যার ওয়াদা আপনি তাদেরকে দিয়েছেন; আপনি মহা পরাক্রমশালী, মহা বিজ্ঞ।
৯. এবং আপনি তাদেরকে পাপ হতে রক্ষা করুন, সেই দিন আপনি যাকে শাস্তি হতে রক্ষা করবেন, তাকে তো অনুগ্রহই করবেন, এটাই তো মহাসাফল্য।
১০. কাফিরদেরকে উচ্চ কন্ঠে বলা হবে: তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের ক্ষোভ অপেক্ষা আল্লাহর অপ্রসন্নতা ছিল অধিক, যখন তোমাদের ঈমানের প্রতি আহবান করা হয়েছিল, আর তোমরা তা অস্বীকার করেছিলে।
১১. তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! আপনি আমাদেরকে দু'বার মৃত্যু দিয়েছেন এবং দু'বার জীবন দিয়েছেন। এখন আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি। অতঃপর এখন ও নিস্কৃতির কোন উপায় আছে কি?
১২. তোমাদের এই পার্থিব শাস্তি এ জন্য যে, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হত তখন তোমরা তাঁকে অস্বীকার করতে এবং আল্লাহর শরীক স্থির করা হলে তোমরা তা বিশ্বাস করতে। বস্তুতঃ মহান আল্লাহরই সমস্ত কর্তৃত্ব।
১৩. তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান এবং আকাশ হতে প্রেরণ করেন তোমাদের জন্য রিযক। আল্লাহর অভিমুখী ব্যক্তিই উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।
১৪. সুতরাং আল্লাহকে ডাক তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে, যদিও কাফিরেরা এটা অপছন্দ করে।
১৫. তিনি সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের অধিপতি, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা অহী প্রেরণ করেন স্বীয় আদেশসহ যাতে সে সতর্ক করতে পারে কিয়ামাতের দিন সম্পর্কে;
১৬. যেদিন মানুষ বের হয়ে পড়বে। সেদিন আল্লাহর নিকট তাদের কিছুই গোপন থাকবে না। ঐ দিন কর্তৃত্ব কার? এক, পরাক্রমশালী আল্লাহরই।
১৭. এদিন প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের ফল দেয়া হবে; কারও প্রতি অবিচার করা হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাব গ্রহণে তৎপর।
১৮. তাদেরকে সতর্ক করে দাও আসন্ন দিন সম্পর্কে, যখন দুঃখ কষ্টে তাদের প্রাণ কন্ঠাগত হবে। যালিমদের জন্য কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু নেই, যার সুপারিশ গ্রাহ্য হবে এমন কোনো সুপারিশকারীও নেই।
১৯. চক্ষুর অপব্যবহার ও অন্তরে যা গোপন আছে সেই সম্বন্ধে তিনি অবহিত।
২০. আল্লাহ বিচার করেন সঠিকভাবে; আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদেরকে ডাকে তারা বিচার করতে অক্ষম। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
২১. তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? তাহলে দেখতে পেত তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কী হয়েছিল? পৃথিবীতে তারা ছিল এদের অপেক্ষা শক্তিতে এবং কীর্তিতে প্রবলতর। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিয়েছিলেন তাদের অপরাধের জন্য এবং আল্লাহর শাস্তি হতে তাদেরকে রক্ষা করার কেহ ছিলনা।
২২. এটা এজন্য যে, রসূলগণ তাদের কাছে স্পষ্ট (নিদর্শন) নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তারা তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তখন আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করেছিলেন। তিনি প্রবল শক্তিধর, শাস্তিদানে কঠোর।
২৩. আমি আমার নিদর্শন ও স্পষ্ট প্রমাণসহ মূসাকে প্রেরণ করেছিলাম
২৪. ফেরাউন, হামান ও কারূনের কাছে। কিন্তু তারা বলল, (এ লোকটা) এক জাদুকর, ঘোর মিথ্যুক।
২৫. অতঃপর যখন মূসা আমার নিকট হতে সত্য নিয়ে তাদের নিকট উপস্থিত হল তখন তারা বলল: মূসার ওপর যারা ঈমান এনেছে, তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা কর এবং নারীদেরকে জীবিত রাখ। কিন্তু কাফিরদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবেই।
২৬. ফেরাউন বলল, ছেড়ে দাও আমাকে, আমি মূসাকে হত্যা করব, ডাকুক সে তার উপাস্যকে। আমি আশঙ্কা করছি, সে তোমাদের জীবন পদ্ধতিকে বদলে দেবে কিংবা দেশে বিপর্যয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
২৭. মূসা বলল, আমি আমার ও তোমাদের প্রতিপালকের আশ্রয় গ্রহণ করছি সকল দাম্ভিক অহংকারীদের হতে, যারা বিচার দিবসে বিশ্বাস করে না।
২৮. ফেরাউনের দলের এক মুমিন ব্যক্তি - যে তার ঈমানকে গোপন রেখেছিল - বলল, তোমরা একজন লোককে শুধু কি এজন্য মেরে ফেলবে যে, সে বলে, আল্লাহ আমার প্রতিপালক। অথচ সে তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছে। সে যদি মিথ্যাবাদী হয়, তাহলে তার মিথ্যা বলার পরিণাম সে নিজেই ভুগবে। আর সে যদি সত্যবাদী হয়, তাহলে সে তোমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছে তার কিছু না কিছু তোমাদের ওপর পড়বেই। যে সীমালঙ্ঘন করে আর মিথ্যে বলে, আল্লাহ তাকে সঠিক পথ দেখান না।
২৯. হে আমার সম্প্রদায়! আজ কর্তৃত্ব তোমাদের, দেশে তোমরাই প্রবল; কিন্তু আমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি এসে পড়লে কে আমাদেরকে সাহায্য করবে? ফেরাউন বলল: আমি যা বুঝি, আমি তোমাদের তা-ই বলছি। আমি তোমাদেরকে শুধু সৎ পথই দেখিয়ে থাকি।
৩০. মুমিন ব্যক্তিটি বলল: হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্য পূর্ববর্তী সম্প্রদায়সমূহের শাস্তির দিনের অনুরূপ দুর্দিনের আশংকা করি
৩১. যেমন ঘটেছিল নূহের কাওম, আদ, সামূদ এবং তাদের পরবর্তীদের ক্ষেত্রে। আল্লাহ তো বান্দাদের প্রতি কোনো যুলম করতে চান না।
৩২. হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্য আশংকা করি কিয়ামাত দিবসের
৩৩. যেদিন তোমরা পশ্চাৎ ফিরে পলায়ন করতে চাইবে, আল্লাহর শাস্তি হতে তোমাদেরকে রক্ষা করার কেহ থাকবে না। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোন পথ প্রদর্শক নেই।
৩৪. ইতোপূর্বে ইউসুফ তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছিল। কিন্তু সে তোমাদের কাছে যা নিয়ে এসেছিল, সে ব্যাপারে তোমরা সন্দেহ পোষণ করেই চললে। শেষ পর্যন্ত যখন তার মৃত্যু হল, তখন তোমরা বললে- ওর পরে আল্লাহ আর কক্ষনো কোনো রসূল পাঠাবেন না। সীমালঙ্ঘনকারী ও সন্দেহবাদীদেরকে আল্লাহ এভাবেই পথভ্রষ্ট করেন।
৩৫. যারা নিজেদের নিকট কোনো দলিল-প্রমাণ না থাকলেও আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়, তাদের এ কাজ আল্লাহ এবং মুমিনদের দৃষ্টিতে অতিশয় ঘৃণার্হ। এভাবে আল্লাহ প্রত্যেক উদ্ধত ও স্বৈরাচারী ব্যক্তির হৃদয়কে মোহর করে দেন।
৩৬. ফেরাউন বলল, হে হামান! তুমি আমার জন্য এক সুউচ্চ ইমারত তৈরি কর, যাতে আমি উপায় পেয়ে যাই
৩৭. আকাশে ওঠার উপায়, যাতে আমি মূসার ইলাহকে দেখতে পাই; আমি মূসাকে অবশ্যই মিথ্যাবাদী মনে করি। এভাবে ফেরাউনের জন্য তার মন্দ কাজকে সুশোভিত করা হয়েছিল, আর সঠিক পথ থেকে তাকে বিরত রাখা হয়েছিল। ফেরাউনের অপকৌশল কেবল তার ধ্বংসই ডেকে এনেছিল।
৩৮. যে লোকটি ঈমান এনেছিল, সে আরো বলল, হে আমার জাতির লোকেরা! তোমরা আমার অনুসরণ কর, আমি তোমাদেরকে সঠিক পথ দেখাচ্ছি।
৩৯. হে আমার সম্প্রদায়! এ পার্থিব জীবন তো অস্থায়ী উপভোগের বস্তু এবং আখিরাতই হচ্ছে চিরস্থায়ী আবাস।
৪০. যে খারাপ কাজ করবে, তাকে কাজের অনুপাতেই প্রতিফল দেয়া হবে। পুরুষ হোক আর নারী হোক যে ব্যক্তিই সৎ কাজ করবে (উপরন্তু) সে মুমিনও, তাহলে তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে, তার মধ্যে তারা বে-হিসাব রিযক প্রাপ্ত হবে।
৪১. হে আমার সম্প্রদায়! কী আশ্চর্য, আমি তোমাদেরকে আহবান করছি মুক্তির দিকে, আর তোমরা আমাকে আহবান করছ জাহান্নামের দিকে।
৪২. তোমরা আমাকে বলছ আল্লাহকে অস্বীকার করতে এবং তাঁর সমকক্ষ দাঁড় করাতে, যার সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান নেই; পক্ষান্তরে আমি তোমাদেরকে আহবান করছি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল আল্লাহর দিকে।
৪৩. নিশ্চয়ই তোমরা আমাকে আহবান করছো এমন এক জনের দিকে যে দুনিয়া ও আখিরাতে কোথাও আহবানযোগ্য নয়। বস্তুতঃ আমাদের প্রত্যাবর্তন তো আল্লাহর নিকট এবং সীমালংঘনকারীরাই জাহান্নামের অধিবাসী।
৪৪. আমি তোমাদেরকে যা বলছি, তোমরা তা অচিরেই স্মরণ করবে এবং আমি আমার ব্যাপার আল্লাহয় অপর্ণ করছি; আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি সবিশেষ দৃষ্টি রাখেন।
৪৫. অতঃপর আল্লাহ তাকে তাদের ষড়যন্ত্রের অনিষ্টতা হতে রক্ষা করলেন এবং কঠিন শাস্তি পরিবেষ্টন করল ফেরাউন সম্প্রদায়কে।
৪৬. সকাল-সন্ধ্যায় তাদেরকে উপস্থিত করা হয় আগুনের সম্মুখে এবং যেদিন কিয়ামাত সংঘটিত হবে, সেদিন বলা হবে: ফেরাউন সম্প্রদায়কে নিক্ষেপ কর কঠিনতম শাস্তিতে।
৪৭. যখন তারা জাহান্নামে পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হবে, তখন দুর্বলেরা দাম্ভিকদেরকে বলবে: আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম, এখন কি তোমরা আমাদের থেকে জাহান্নামের আগুনের কিয়দংশ নিবারণ করবে?
৪৮. দাম্ভিকেরা বলবে: আমরা সবাই তো জাহান্নামে আছি, নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের বিচার করে ফেলেছেন।
৪৯. আগুনের বাসিন্দারা জাহান্নামের রক্ষীদের বলবে, তোমাদের প্রতিপালকের নিকট দুআ কর, তিনি যেন আমাদের থেকে একদিনের শাস্তি কমিয়ে দেন।
৫০. তারা বলবে: তোমাদের নিকট কি স্পষ্ট নিদর্শনসহ তোমাদের রাসূলগণ আসেননি? জাহান্নামীরা বলবে: অবশ্যই এসেছিল। প্রহরীরা বলবে: তাহলে তোমরাই প্রার্থনা কর, আর কাফিরদের প্রার্থনা ব্যর্থই হয়।
৫১. নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে ও মুমিনদেরকে সাহায্য করব পার্থিব জীবনে এবং যেদিন সাক্ষীগণ দণ্ডায়মান হবে,
৫২. যেদিন যালিমদের কোনো ওযর আপত্তি কোন কাজে আসবে না, তাদের জন্য রয়েছে লানত এবং নিকৃষ্ট আবাস।
৫৩. আমি অবশ্যই মূসাকে দান করেছিলাম পথনির্দেশ এবং বানী ইসরাঈলকে উত্তরাধিকারী করেছিলাম সেই কিতাবের
৫৪. পথনির্দেশ ও উপদেশ স্বরূপ; বোধশক্তিসম্পন্ন লোকদের জন্য।
৫৫. অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর; নিশ্চয়ই আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য, তুমি তোমার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় তোমার প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।
৫৮. সমান নয় অন্ধ ও চক্ষুম্মান এবং যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে, আর যারা দুষ্কৃতিপরায়ণ। তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।
৫৯. কিয়ামাত অবশ্যম্ভাবী, এতে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু অধিকাংশ লোক বিশ্বাস করে না।
৬০. তোমার প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি (তোমাদের ডাকে) সাড়া দেব। যারা অহংকারবশতঃ আমার ‘ইবাদাত করে না, নিশ্চিতই তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

মুহাম্মদ দ্বারা ১০৭ তম প্রকাশ: সূরা আন নমল (২৭) (পিপীলিকা), ১ থেকে ৯৩ আয়াত:

১. তা সীন; এগুলি আয়াত আল-কুরআনের এবং সুস্পষ্ট কিতাবের।
২. পথ নির্দেশ ও সুসংবাদ মুমিনদের জন্য।
৩. যারা সালাত কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে এবং যারা আখিরাতে নিশ্চিত বিশ্বাসী।
৪. যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের দৃষ্টিতে তাদের কাজকে আমি শোভন করেছি, ফলে তারা বিভ্রান্তিতে ঘুরে বেড়ায়।
৫. এদেরই জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং এরাই আখিরাতে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত।
৬. নিশ্চয় তোমাকে কুরআন দেয়া হয়েছে মহাবিজ্ঞ সর্বজ্ঞের নিকট হতে।
৭. স্মরণ কর সেই সময়ের কথা, যখন মূসা তার পরিবারবর্গকে বলেছিল: আমি আগুন দেখেছি, সত্বর আমি সেখান হতে তোমাদের জন্য কোনো খবর আনব অথবা তোমাদের জন্য আনব জ্বলন্ত অঙ্গার, যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।
৮. অতঃপর সে যখন ওর নিকট এলো, তখন ঘোষিত হল: ধন্য সেই ব্যক্তি, যে আছে এই আগুনের মধ্যে এবং যারা আছে ওর চতুর্পার্শ্বে। জগতসমূহের রাব্ব আল্লাহ পবিত্র ও মহিমান্বিত।
৯. হে মূসা! আমি তো আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
১০. তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর, অতঃপর যখন সে ওটাকে সর্পের ন্যায় ছুটাছুটি করতে দেখল, তখন সে পেছনের দিকে ছুটতে লাগল এবং ফিরেও তাকাল না। বলা হল: হে মূসা! ভীত হয়ো না, নিশ্চয়ই আমি এমন, আমার সান্নিধ্যে রাসূলগণ ভয় পায় না।
১১. তবে যে অত্যাচার করে অতঃপর মন্দ কাজের পরিবর্তে সৎ কাজ করে, তাহলে নিশ্চয় আমি ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।
১২. আর তুমি তোমার হাত বগলে ঢোকাও, তা শুভ্র হয়ে বের হয়ে আসবে দোষমুক্ত অবস্থায়, তা হল ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়ের নিকট নিয়ে আসা নয়টি নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয় তারা ছিল পাপাচারী সম্প্রদায়।
১৩. অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার দৃশ্যমান নিদর্শন আসল, তারা বলল, ‘এটা স্পষ্ট জাদু।
১৪. তারা অন্যায় ও উদ্ধতভাবে নিদর্শনগুলি প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর ঐগুলিকে সত্য বলে গ্রহণ করেছিল। দেখ, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কী হয়েছিল!
১৫. আমি অবশ্যই দাউদকে ও সুলাইমানকে জ্ঞান দান করেছিলাম এবং তারা বলেছিল: প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদেরকে তাঁর বহু মুমিন বান্দাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
১৬. সুলাইমান দাঊদের উত্তরাধিকারী হয়েছিল। সে বলেছিল, ‘হে মানুষেরা! আমাকে পক্ষীকুলের ভাষা শিক্ষা দেয়া হয়েছে আর আমাদেরকে সব কিছু দেয়া হয়েছে, এটা (আল্লাহর পক্ষ হতে) অবশ্যই সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।’
১৭. সুলাইমানের সামনে সমবেত করা হল তার বাহিনীকে, জিন, মানুষ ও পক্ষীকুলকে এবং তাদেরকে বিন্যস্ত করা হল বিভিন্ন বুহ্যে।
১৮. যখন তারা পিপীলিকা অধ্যুষিত উপত্যকায় পৌঁছল, তখন এক পিপীলিকা বলল: হে পিপীলিকা বাহিনী! তোমরা তোমাদের গৃহে প্রবেশ কর, যেন সুলাইমান এবং তার বাহিনী তাদের অজ্ঞাতসারে তোমাদেরকে পদতলে পিষে না ফেলে।
১৯. সুলাইমান ওর উক্তিতে মৃদু হাস্য করল এবং বলল: হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন যাতে আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, আমার প্রতি ও আমার মাতা-পিতার প্রতি আপনি যে অনুগ্রহ করেছেন তজ্জন্য এবং যাতে আমি সৎ কাজ করতে পারি, যা আপনি পছন্দ করেন এবং আপনার অনুগ্রহে আমাকে আপনার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের শ্রেণীভুক্ত করুন।
২০. সুলাইমান পক্ষীকুলের সন্ধান নিল এবং বলল: ব্যাপার কী, হুদহুদকে দেখছি না যে! সে অনুপস্থিত নাকি?
২১. সে উপযুক্ত কারণ দর্শাতে না পারলে আমি অবশ্যই তাকে কঠিন শাস্তি দিব অথবা যবাহ করব।
২২. অতঃপর হুদহুদ অবিলম্বে এসে বলল, ‘আমি যা অবগত হয়েছি আপনি তা অবগত নন, আমি সাবা থেকে নিশ্চিত খবর নিয়ে আপনার কাছে এসেছি।
২৩. আমি দেখলাম এক নারী তাদের উপর রাজত্ব করছে, আর তাকে সব কিছুই দেয়া হয়েছে আর তার আছে এক বিরাট সিংহাসন।
২৪. এবং আমি তাকে আর তার সম্প্রদায়কে দেখলাম আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সেজদা করতে। শয়ত্বান তাদের কাজকে তাদের জন্য শোভন করে দিয়েছে এবং তাদেরকে সৎ পথ থেকে বাধা দিয়ে রেখেছে কাজেই তারা সৎ পথ পায় না।
২৫. তারা নিবৃত্ত রয়েছে আল্লাহকে সাজদাহ করা হতে, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর লুকায়িত বস্তুকে প্রকাশ করেন, এবং যিনি জানেন যা তোমরা গোপন কর এবং যা তোমরা প্রকাশ কর।
২৬. আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই; তিনি মহা আরশের মালিক।
২৭. সুলাইমান বলল: আমি দেখব, তুমি সত্য বলেছ, নাকি তুমি মিথ্যাবাদী?
২৮. তুমি যাও আমার এই পত্র নিয়ে এবং এটা তাদের নিকট অর্পণ কর; অতঃপর তাদের নিকট হতে দূরে সরে থেক এবং লক্ষ্য কর তাদের প্রতিক্রিয়া কী?
২৯. সেই নারী বলল, ‘ওহে সভাসদগণ! এই যে আমাকে এক সম্মানযোগ্য পত্র দেয়া হয়েছে।
৩০. এটা সুলাইমানের পক্ষ হতে আর তা এই: অসীম দাতা, অতীব দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু,
৩১. অহমিকা বশে আমাকে অমান্য করনা, এবং আনুগত্য স্বীকার করে আমার নিকট উপস্থিত হও।
৩২. সে বলল, ওহে সভাসদরা! তোমরা আমার কর্তব্য সম্পর্কে আমাকে সিদ্ধান্ত দাও। তোমাদের উপস্থিতি ব্যতীত আমি কোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিনি।’
৩৩. তারা বলল: আমরাতো শক্তিশালী ও কঠোর যোদ্ধা; তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আপনারই। কী আদেশ করবেন, তা আপনি ভেবে দেখুন।
৩৪. সে বলল: রাজা-বাদশাহরা যখন কোনো জনপদে প্রবেশ করে তখন ওকে বিপর্যস্ত করে দেয় এবং সেখানকার মর্যাদাবান ব্যক্তিদেরকে অপদস্থ করে; এরাও এ রূপই করবে।
৩৫. আমি তাঁর কাছে উপঢৌকন পাঠাচ্ছি, তারপর দেখি, দূতেরা কী (জবাব) নিয়ে আসে।’
৩৬. অতঃপর দূতরা যখন সুলাইমানের কাছে আসল, সুলাইমান বলল, ‘তোমরা কি আমাকে সম্পদ দিয়ে সাহায্য করছ, কিন্তু আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন, তা তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তার চেয়ে উত্তম, বরং তোমরাই তোমাদের উপঢৌকন নিয়ে আনন্দ কর।
৩৭. তাদের কাছে ফিরে যাও, আমি অবশ্য অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে এক সেনাবাহিনী নিয়ে আসব যার মুকাবালা করার শক্তি তাদের নেই, আমি অবশ্য অবশ্যই তাদেরকে অপমানিত করে সেখানে থেকে বের করে দেব আর তারা হবে অপদস্থ।’
৩৮. সুলাইমান বলল, ‘হে সভাসদবর্গ! তারা আমার কাছে আত্মসমর্পণ করে আসার আগে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমার নিকট নিয়ে আসবে?’
৩৯. এক শক্তিধর জ্বিন বলল, ‘আপনি আপনার জায়গা থেকে উঠবার আগে আমি তা আপনার কাছে এনে দেব, এ কাজে আমি অবশ্যই ক্ষমতার অধিকারী ও আস্থাভাজন।
৪০. যার কাছে কিতাবের (তাওরাতের) জ্ঞান ছিল সে বলল, ‘আপনার দৃষ্টি আপনার দিকে ফিরে আসার পূর্বেই আমি তা আপনার কাছে এনে দেব।’সুলাইমান যখন তা তার সামনে রক্ষিত দেখতে পেল তখন সে বলল- ‘এটা আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ, আমাকে পরীক্ষা করার জন্য- আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, না অকৃতজ্ঞ হই। যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে নিজের কল্যাণেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আর যে অকৃতজ্ঞ হয় (সে জেনে রাখুক), নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অভাবমুক্ত, মর্যাদায় সর্বশ্রেষ্ঠ।’
৪১. সুলাইমান বলল, ‘তার সিংহাসনের আকৃতি বদলে দাও, অতঃপর আমরা দেখি, সে (তার নিজের পৌঁছার পূর্বেই আলৌকিকভাবে তার সিংহাসন সুলায়মানের দরবারে রক্ষিত দেখে সত্য) পথের দিশা পায়, না যারা পথের দিশা পায় না সে তাদের অন্তর্ভুক্ত।
৪২. ঐ নারী যখন এলো, তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হল, তোমার সিংহাসন কি এইরূপই? সে বলল, এটা তো যেন ওটাই; আমাদেরকে ইতোপূর্বেই প্রকৃত জ্ঞান দান করা হয়েছে এবং আমরা আত্মসমর্পনও করেছি।
৪৩. আল্লাহর পরিবর্তে সে যার পূজা করত তাই তাকে সত্য পথে চলা থেকে বাধা দিয়ে রেখেছিল, সে নারী ছিল কাফির সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
৪৪. তাকে বলা হল, ‘প্রাসাদে প্রবেশ কর।’যখন সে তা দেখল, সে ওটাকে পানির হ্রদ মনে করল এবং সে তার পায়ের গোছা খুলে ফেলল। সুলাইমান বলল- ‘এটা তো স্বচ্ছ কাঁচমণ্ডিত প্রাসাদ। সে নারী বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমি অবশ্যই নিজের প্রতি যুলম করেছি আর আমি সুলাইমানের সঙ্গে বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করছি।’
৪৫. আমি ছামূদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই সালিহকে পাঠিয়েছিলাম এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর। কিন্তু তারা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হল।
৪৬. সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কেন কল্যাণের পূর্বে অকল্যাণ ত্বরান্বিত করতে চাচ্ছ? কেন তোমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছ না, যাতে তোমরা অনুগ্রহ ভাজন হতে পার?
৪৭. তারা বলল, তোমাকে ও তোমার সঙ্গে যারা আছে তাদেরকে আমরা অমঙ্গলের কারণ মনে করি। সালিহ বলল, তোমাদের শুভাশুভ আল্লাহর এখতিয়ারে, বস্তুতঃ তোমরা এমন এক সম্প্রদায়, যাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
৪৮. আর সেই শহরে ছিল এমন নয় ব্যক্তি যারা দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করত এবং সৎ কাজ করত না।
৪৯. তারা বলল, তোমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ কর; আমরা রাতে তাকে ও তার পরিবার পরিজনকে অবশ্যই আক্রমণ করব, অতঃপর তার অভিভাবককে নিশ্চিত বলব: তার পরিবার পরিজনের হত্যা আমরা প্রত্যক্ষ করিনি; আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।
৫০. তারা এক চক্রান্ত করেছিল এবং আমিও এক চক্রান্ত করেছিলাম। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি।
৫১. অতএব দেখ, তাদের চক্রান্তের পরিণাম কী হয়েছে। আমি অবশ্যই তাদেরকে ও তাদের সম্প্রদায়ের সকলকে ধ্বংস করেছি।
৫২. এইতো তাদের ঘরবাড়ি সীমা লংঘন হেতু যা জনশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে; এতে জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।
৫৩. আর যারা ঈমান এনেছিল ও (আল্লাহকে) ভয় করত তাদেরকে রক্ষা করেছিলাম।
৫৪. স্মরণ কর লূতের কথা, সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমরা দেখে-শুনে কেন অশ্লীল কাজ করছ,
৫৫. তোমরা কি কাম আসক্তি মেটানোর জন্য নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের নিকট গমন কর? তোমরা এমন এক জাতি যারা মূর্খের আচরণ করছ।
৫৬. তখন তার সম্প্রদায়ের এ কথা বলা ছাড়া আর কোনো জওয়াব ছিল না যে, তোমাদের জনপদ থেকে লূতের পরিবারবর্গকে বের করে দাও, এরা এমন লোক যারা পবিত্র সাজতে চায়।
৫৭. অতঃপর আমি তাকে ও তার পরিবারবর্গকে রক্ষা করলাম, তার স্ত্রী ব্যতীত। আমি তার ভাগ্য ধ্বংসপ্রাপ্তদের মধ্যে নির্ধারণ করেছিলাম।
৫৮. তাদের উপর ভয়ঙ্কর বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম; যাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল, তাদের জন্য এই বর্ষণ ছিল কত মারাত্মক।
৫৯. বল: প্রশংসা আল্লাহরই এবং শান্তি তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি। শ্রেষ্ঠ কি আল্লাহ, নাকি তারা যাদেরকে শরীক করা হয়?
৬০. নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ) যিনি সৃষ্টি করেছেন আসমানসমূহ ও পৃথিবী এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা দ্বারা আমি মনোরম উদ্যানরাজি উদগত করি, তার বৃক্ষাদি উদগত করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বরং তারা হচ্ছে এক ন্যায়-বিচ্যুত সম্প্রদায়।
৬১. নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ) যিনি এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করেছেন আর তার ফাঁকে ফাঁকে নদীনালা প্রবাহিত করেছেন, তাতে সুদৃঢ় পর্বত সংস্থাপিত করেছেন এবং দু'দরিয়ার মাঝে পার্থক্যকারী আড়াল সৃষ্টি করেছেন; আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্য আছে কি? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।
৬২. নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ) যিনি আর্তের আহবানে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং দুঃখ-কষ্ট দূর করেন আর তোমাদেরকে পৃথিবীর উত্তরাধিকারী করেন? আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? অতি সামান্য উপদেশই তোমরা গ্রহণ কর।
৬৩. নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ) যিনি জল-স্থলের গভীর অন্ধকারে পথ দেখান এবং যিনি তাঁর (বৃষ্টিরূপী) অনুগ্রহের পূর্বক্ষণে শুভবার্তাবাহী বাতাস প্রেরণ করেন? আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো উপাস্য আছে কি? তারা যাকে (আল্লাহর) শরীক করে, আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।
৬৪. নাকি তিনিই (শ্রেষ্ঠ) যিনি সৃষ্টির সূচনা করেন, অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি করেন এবং যিনি তোমাদেরকে আসমান ও যমীন থেকে রিযক দান করেন? আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? বল, তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের প্রমাণপঞ্জি পেশ কর।
৬৫. বল, আকাশ ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা কেউই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না আল্লাহ ছাড়া, আর তারা জানে না কখন তাদেরকে জীবিত করে উঠানো হবে।
৬৬. বরং আখিরাত সম্পর্কে তাদের জ্ঞান নিঃশেষ হয়েছে; তারা তো এ বিষয়ে সন্দেহের মধ্যে রয়েছে, বরং এ বিষয়ে তারা অন্ধ।
৬৭. কাফিরেরা বলে: আমরা ও আমাদের পিতৃ-পুরুষরা মাটিতে পরিণত হয়ে গেলেও কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে?
৬৮. এ বিষয়ে তো আমাদেরকে এবং পূর্ব-পুরুষদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল। এটা তো পূর্ববর্তী উপকথা ব্যতীত আর কিছুই নয়।
৬৯. বল: পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর এবং দেখ অপরাধীদের পরিণাম কিরূপ হয়েছে।
৭০. তাদের জন্য দুঃখ কর না, আর তাদের চক্রান্তের কারণে মনে কষ্ট নিয়ো না।
৭১. তারা বলে, তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে বল, এই ওয়াদা কখন পূর্ণ হবে?
৭২. বল, তোমরা যে বিষয়ে ত্বরান্বিত করতে চাচ্ছ সম্ভবতঃ তার কিছু তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছে।
৭৩. তোমার প্রতিপালক নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু তাদের অধিকাংশই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।
৭৪. তোমার প্রতিপালক অবশ্যই জানেন তাদের অন্তর যা গোপন করে আর যা প্রকাশ করে।
৭৫. আকাশে আর যমীনে এমন কোনো অদৃশ্য বিষয় নেই, যা সুস্পষ্ট কিতাবে নেই।
৭৬. নিশ্চয় এ কুরআন সেগুলোর অধিকাংশ বিবৃত করে যে বিষয়ে বানী ইসরাঈল মতভেদ করেছিল।
৭৭. আর তা নিশ্চিতই মুমিনদের জন্য সঠিক পথের দিশারী ও রহমত।
৭৮. তোমার প্রতিপালক তাঁর বিধান অনুযায়ী তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন আর তিনি প্রবল পরাক্রান্ত, সর্বজ্ঞানের অধিকারী।
৭৯. কাজেই তুমি আল্লাহর উপর নির্ভর কর, তুমি তো সুস্পষ্ট সত্যের উপর আছ।
৮০. মৃতকে তুমি কথা শোনাতে পারবে না, বধিরকেও পারবে না আহবান শোনাতে, যখন তারা পেছন ফিরে চলে যায়।
৮১. তুমি অন্ধদেরকে তাদের পথভ্রষ্টতা হতে পথে আনতে পারবে না। তুমি শোনাতে পারবে শুধু তাদেরকে যারা বিশ্বাস করে। আর তারাই আত্মসমর্পনকারী (মুসলিম)।
৮২. যখন ঘোষিত শাস্তি তাদের উপর এসে যাবে, তখন আমি মাটির গহবর হতে বের করব এক জীব, যা তাদের সাথে কথা বলবে; এ জন্য যে, মানুষ আমার নিদর্শনে অবিশ্বাসী।
৮৩. স্মরণ কর সেই দিনের কথা, যেদিন আমি সমবেত করব প্রত্যেক সম্প্রদায় হতে এক একটি দলকে, যারা আমার নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করত এবং তাদেরকে সারিবদ্ধ করা হবে।
৮৪. যখন তারা সমবেত হবে তখন (আল্লাহ তাদেরকে) বলবেন, তোমরা আমার নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করেছিলে, অথচ ওটা তোমরা জ্ঞানায়ত্ত করতে পারনি? না তোমরা অন্য কিছু করছিলে?
৮৫. সীমা লংঘন হেতু তাদের উপর ঘোষিত শাস্তি এসে পড়বে; ফলে তারা কিছুই বলতে পারবে না।
৮৬. তারা কি অনুধাবন করে না যে, আমি রাত সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিনকে করেছি আলোকপ্রদ? এতে মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।
৮৭. আর যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, সেদিন আল্লাহ যাদেরকে চান তারা ব্যতীত আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সবাই ভীত-বিহবল হয়ে পড়বে এবং সবাই তাঁর নিকট আসবে বিনীত অবস্থায়।
৮৮. তুমি পর্বতমালা দেখে অচল মনে করছ, অথচ সেদিন ওগুলি হবে মেঘপুঞ্জের ন্যায় চলমান, এটা আল্লাহরই সৃষ্টি-নৈপুণ্য, যিনি সব কিছুকে করেছেন সুষম। তোমরা যা কর, সেই সম্বন্ধে তিনি সম্যক অবগত।
৮৯. যে কেহ সৎ কাজ নিয়ে আসবে, সে উৎকৃষ্টতর প্রতিফল পাবে এবং সেদিন তারা শংকা হতে নিরাপদ থাকবে।
৯০. আর যে কেহ অসৎ কাজ নিয়ে আসবে, তাকে অধোমুখে নিক্ষেপ করা হবে আগুনে (এবং তাদেরকে বলা হবে) তোমরা যা করতে, তারই প্রতিফল তোমাদেরকে দেয়া হচ্ছে।
৯১. আমি নির্দেশিত হয়েছি এই (মক্কা) নগরীর প্রতিপালকের ‘ইবাদাত করার জন্য যিনি তাকে (অর্থাৎ এই নগরীকে) সম্মানিত করেছেন। সকল বস্তু তাঁরই, আর আমি আদিষ্ট হয়েছি আমি যেন (আল্লাহর নিকট) আত্মসমর্পণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হই।
৯২. আমি আরও আদিষ্ট হয়েছি কুরআন আবৃত্তি করতে। অতঃপর যে ব্যক্তি সৎ পথ অনুসরণ করে, সে তা অনুসরণ করে নিজেরই কল্যাণের জন্য এবং কেহ ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করলে তুমি বল, আমি তো শুধু সর্তককারীদের মধ্যে একজন।
৯৩. আর বল, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহরই। তিনি শীঘ্রই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনগুলো দেখাবেন, আর তা তোমরা চিনতে পারবে। তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে তোমার পালনকর্তা অমনোযোগী নন।

মুহাম্মদ দ্বারা ১০৮ তম প্রকাশ: সূরা আয্-যুমার (৩৯) (দলবদ্ধ জনতা), ২৯ থেকে ৬৬ আয়াত:

২৯. আল্লাহ একটি দৃষ্টান্ত পেশ করছেন, এক ব্যক্তির মালিক অনেক যারা পরস্পর বিরুদ্ধ ভাবাপন্ন এবং এক ব্যক্তির মালিক শুধু একজন; এই দুইয়ের অবস্থা কি সমান? প্রশংসা আল্লাহরই প্রাপ্য; কিন্তু তাদের অধিকাংশই এটা জানে না।
৩০. তুমি তো মরণশীল এবং তারাও মরণশীল।
৩১. অতঃপর ক্বিয়ামত দিবসে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সম্মুখে বাদানুবাদ করবে।
৩২. যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা বলে এবং সত্য আসার পর তা প্রত্যাখ্যান করে সে অপেক্ষা যালিম আর কে? কাফিরদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয়?
৩৩. যারা সত্য নিয়ে আগমন করছে এবং সত্যকে সত্য মেনে নিয়েছে; তারাই তো খোদাভীরু।
৩৪. তাদের বাঞ্ছিত সব কিছুই আছে তাদের রবের নিকট। এটাই সৎকর্মশীলদের পুরস্কার।
৩৫. কারণ তারা যে সব মন্দ কাজ করেছিল আল্লাহ তা ক্ষমা করে দেবেন এবং তাদেরকে তাদের সৎ কাজের জন্য পুরস্কৃত করবেন।
৩৬. আল্লাহ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? অথচ তারা তোমাদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে অপরের ভয় দেখায়। আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেন তার জন্য কোনো পথ প্রদর্শক নেই।
৩৭. আর আল্লাহ যাকে পথ দেখান, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আল্লাহ কি মহাশক্তিধর প্রতিশোধ গ্রহণকারী নন?
৩৮. তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ! বল, তোমরা কি ভেবে দেখেছ যে, আল্লাহ আমার অনিষ্ট চাইলে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা কি সেই অনিষ্টতা দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চাইলে তারা কি সেই অনুগ্রহ রোধ করতে পারবে? বল, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা আল্লাহর ওপর নির্ভর করে।
৩৯. বল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা স্ব স্ব অবস্থায় কাজ করতে থাক, আমিও আমার কাজ করছি। শীঘ্রই জানতে পারবে
৪০. কার উপর আসবে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি এবং কার উপর আপতিত হবে স্থায়ী শাস্তি।
৪১. আমি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি মানুষের কল্যাণের জন্য। অতঃপর যে সৎ পথ অবলম্বন করে সে তা করে নিজেরই কল্যাণের জন্য এবং যে বিপথগামী হয় সেতো বিপথগামী হয় নিজেরই ধ্বংসের জন্য এবং তুমি তাদের তত্ত্বাবধায়ক নও।
৪২. আল্লাহই প্রাণ হরণ করেন জীবসমূহের, তাদের মৃত্যুর সময় এবং যাদের মৃত্যু আসেনি তাদের প্রাণও নিদ্রার সময়। অতঃপর যার জন্য মৃত্যুর সিদ্ধান্ত করেন তার প্রাণ তিনি রেখে দেন এবং অপরগুলি ফিরিয়ে দেন, এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।
৪৩. তাহলে কি তারা আল্লাহ ছাড়া অপরকে সুপারিশ সাব্যস্ত করেছে? বল, তাদের কোনো ক্ষমতা না থাকলেও এবং তারা না বুঝলেও?
৪৪. বল, সুপারিশ ইখতিয়ারে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই। অতঃপর তাঁরই নিকট তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে।
৪৫. একক আল্লাহর কথা বলা হলে, যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয় এবং আল্লাহর পরিবর্তে তাদের দেবতাগুলির উল্লেখ করা হলে তারা আনন্দে উল্লসিত হয়।
৪৬. বল, হে আল্লাহ! আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা! দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা! আপনার বান্দারা যে বিষয়ে মতবিরোধ করে, আপনি তাদের মধ্যে ওর ফাইসালা করে দেবেন।
৪৭. যারা অন্যায়কারী দুনিয়াতে যা কিছু আছে সমস্ত কিছু যদি তাদেরই হয়, আর তার সাথে আরো অত পরিমাণ হয়, তারা ক্বিয়ামতের কঠিন ‘আযাব থেকে বাঁচার জন্য মুক্তিপণ স্বরূপ দিতে চাইবে। সেখানে আল্লাহর নিকট থেকে তারা এমন কিছুর সম্মুখীন হবে, যা তারা কক্ষনো অনুমানও করেনি।
৪৮. তাদের কৃতকর্মের মন্দ রূপ সেদিন প্রকাশ হয়ে পড়বে, আর তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত তাই তাদেরকে ঘিরে ফেলবে।
৪৯. মানুষকে দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করলে সে আমাকে আহবান করে। অতঃপর যখন আমি তার প্রতি অনুগ্রহ করি তখন সে বলে, আমি তো এটা লাভ করেছি আমার জ্ঞানের মাধ্যমে। বস্তুতঃ এটা এক পরীক্ষা, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বোঝে না।
৫০. তাদের পূর্ববর্তীরাও এটাই বলত, কিন্তু তাদের কৃতকর্ম তাদের কোন কাজে আসেনি।
৫১. তাদের কর্মের মন্দ ফল তাদের উপর আপতিত হয়েছে, তাদের মধ্যে যারা যুল্‌ম করে তাদের উপরও তাদের কর্মের মন্দ ফল আপতিত হবে এবং তারা ব্যর্থও করতে পারবে না।
৫২. তারা কি জানে না, আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা তার রিযিক বৃদ্ধি করেন অথবা হ্রাস করেন। এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য।
৫৩. বল, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি অতি ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।
৫৪. তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হও আর তাঁর অনুগত হও তোমাদের কাছে ‘আযাব আসার পূর্বে। (‘আযাব এসে গেলে) তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে না।
৫৫. তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে যাকে উত্তম আখ্যায়িত করা হয়েছে, তোমরা সেগুলোর অনুসরণ কর তোমাদের কাছে অকস্মাৎ ‘আযাব এসে যাওয়ার পূর্বে যে বিষয়ে তোমরা টেরও পাবে না।
৫৬. যাতে কাউকে বলতে না হয়, হায় আফসোস! আমি আল্লাহর প্রতি (আমার কর্তব্যে) অবহেলা করেছিলাম, আর আমি তো ঠাট্টা বিদ্রূপকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।
৫৭. অথবা এ কথা যেন বলতে না হয় যে, আল্লাহ যদি আমাকে সঠিক পথ দেখাতেন, তাহলে আমি অবশ্যই মুত্তাক্বীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।
৫৮. অথবা শাস্তি দেখার পর কাউকে যেন বলতে না হয়, আমাকে যদি একবার (পৃথিবীতে) ফিরে যাবার সুযোগ দেয়া হত, তাহলে আমি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।
৫৯. (তাকে উত্তর দেয়া হবে) না, বরং তোমার কাছে আমার নিদর্শন এসেছিল, তখন তুমি সেগুলোকে মিথ্যে বলে অস্বীকার করেছিলে, অহংকার করেছিলে আর কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।
৬০. যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে ক্বিয়ামতের দিনে তুমি তাদের মুখগুলো কালো দেখতে পাবে. অহংকারীদের আবাসস্থল কি জাহান্নামে নয়?
৬১. আর যারা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করে তাদের আল্লাহ্ উদ্ধার করবেন তাদের সাফল্যময় স্থানসমূহে, মন্দ তাদের স্পর্শ করবে না, আর তারা দুঃখও করবে না।
৬২. আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সব কিছুর কর্মবিধায়ক।
৬৩. আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর চাবি তাঁরই নিকট। যারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
৬৪. বল, হে অজ্ঞ ব্যক্তিরা! তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদাত করতে বলছ?
৬৫. তোমার প্রতি, তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই অহী হয়েছে; তুমি আল্লাহর শরীক স্থির করলে তোমার কাজ নিস্ফল হবে এবং তুমি হবে ক্ষতিগ্রস্ত।
৬৬. অতএব তুমি আল্লাহরই ইবাদাত কর এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত থাকুন।

আয়াত প্রকাশের মনোজগত: যদি বয়কটকালীন প্রকাশের সাথে পূর্বের প্রকাশিত আয়াতের ভাষার ব্যবহার দেখেন, তবে মুহাম্মদের মনোজগতের অস্থিরতা ও নতজানু হবার নমনীয়তা চোখে পড়বে সহজেই; আর এই নমনীয়তাই মুহাম্মদের সন্ত্রাসী মানসিকতা তৈরির প্রথম পদক্ষেপ; মুহাম্মদ আল্লার নামে এতটাই বর্বর মরুদস্যুতে রূপান্তরিত হবেন একসময় যে, একদিনে ৭০০ থেকে ৯০০ মানুষকে মাথা কেটে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে আরামে নামাজ শেষ করবেন, এবং নামাজ থেকে ফিরে এসে পরবর্তী আক্রমণের অস্ত্র সংগ্রহ করার জন্য হাজারখানেক নারী-শিশুকে দাস হিসেবে বিক্রি করতে পাঠিয়ে দেবেন। ইতিহাসে খুনী থেকে সাধু হওয়া মানুষের সংখ্যা কম নয়, কিন্তু এরকম আত্মপ্রেমী, গোবেচারা, ভিড় এড়িয়ে চলা মানুষ থেকে দ্বৈতসত্তার ঠাণ্ডা মাথার খুনী হয়ে ওঠা মানুষ একজনই!

সত্য উন্মোচিত হবে অবশ্যই, ১৪০০ বছরের বালিচাপায় তা ঢাকা থাকবে না মোটেই! তবে আপাতত আপনাকে করা প্রশ্নের উত্তরটা খুঁজে বের করলেই অনেককিছু উন্মোচিত হয়ে যাবে ধাঁধাঁর। প্রশ্ন হচ্ছে: মুহাম্মদ মক্কার প্রথম নবীর মর্যাদা কাকে দিয়েছিলেন এবং কীভাবে?

(চলবে)