১৪ ফেব, ২০১৭

ওয়াদি আল-কুরা হামলা - কে ছিল আক্রমণকারী?: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৫৯): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত তেত্রিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর মৃত্যুকালে যে সুবিশাল অংকের সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন, তার সর্ব প্রথম স্বত্বভোগী ছিলেন তাঁর কোন দুই বিশিষ্ট অনুসারী; অতঃপর পরবর্তী তিন শত বছর যাবত কারা তাঁর সেই বিশাল সম্পদের স্বত্বভোগ করেছিলেন; অন্যদিকে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সহায়তায় "ইসলাম" নামের যে বিষবৃক্ষের গোড়াপত্তন করেছেন, কারা হলেন সেই বিষবৃক্ষের ভুক্তভোগী; ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

খায়বার ও ফাদাক আগ্রাসন শেষে মদিনায় প্রত্যাবর্তনের পূর্বেই মুহাম্মদ আরও এক জনপদের ওপর তাঁর আগ্রাসী আক্রমণ চালান। সেই জনপদের নাম 'ওয়াদি আল-কুরা'। আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা সেই ঘটনার প্রাণবন্ত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন।

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ) বিস্তারিত বর্ণনার: [1]

‘আনাস হইতে বর্ণিত: খায়বার থেকে ফিরে আসার জন্য আমরা আল্লাহর নবীর সাথে রওনা হই, তিনি ওয়াদি আল-কুরা (Wadi al-Qurā) যাবার জন্য মনস্থির করেন। [এরপর সিরাতে 'পথিমধ্যে মুহাম্মদের সাফিয়া-কে বিবাহ, বিবাহ বাসর ও তাঁর হত্যা আশংকায় আবু আইয়ুবের সারারাত জেগে তাঁকে পাহারা দেয়ার বর্ণনা (পর্ব-১৪৪)]'।------আল্লাহর নবী আল-সাহবা নামক স্থানে আসেন ও বিরমার পাশ দিয়ে ওয়াদি আল-কুরা পর্যন্ত গমন করেন ও সেখানে যে-ইহুদিরা থাকে, তিনি তাদের সন্ধান করেন। 

আবু হুরাইরা হইতে বর্ণিত: আমরা আল্লাহর নবীর সঙ্গে খায়বার থেকে ওয়াদি আল-কুরা অভিমুখে রওনা হই। রিফা বিন যায়েদ বিন ওয়াহাব আল-জুধামি আল্লাহর নবীকে মিদাম নামের এক কালো ক্রীতদাস উপহার স্বরূপ প্রদান করে, যেন সে আল্লাহর নবীর ঘোড়ার জিনটি ঠিকঠাক করে দেয়। তারা ওয়াদি আল-কুরায় অবতরণ করে ও অবশেষে আমরা সেখানকার ইহুদিদের কাছে এসে পৌঁছাই, যাদের কাছে এসে আশ্রয় নিয়েছিল বেদুইনরা। যখন মিদাম আল্লাহর নবীর দেখাশুনা করছিলো, আমাদের ঘাঁটির স্থানটিতে ইহুদিরা তাদের বল্লম নিয়ে আমাদের মুখোমুখি হয়। তাদের কোনো প্রস্তুতি ছিল না ও তারা তাদের দুর্গগুলোর মধ্যে চিৎকার করছিলো। একটা তীর এসে মিদাম-কে বিদ্ধ করে ও তার মৃত্যু হয়। লোকজন বলাবলি করে: তুমি বেহেশতে পরমানন্দে কাটাবে। আল্লাহর নবী বলেন, "না। যার হাতে আমার জীবন তার কসম, খায়বার যুদ্ধের সময় সে যে আলখাল্লাটি লুটের মালগুলো থেকে হস্তগত করেছিল, তা যেভাবে ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়ার দরকার ছিল, তা সে করেনি, এখন তা তাকে জাহান্নামের আগুনে জ্বালাচ্ছে।" যখন লোকেরা তা শুনতে পায়, একজন লোক একটি বা দু'টি জুতার ফিতা নিয়ে লোকদের কাছে আসে। আল্লাহর নবী বলেন যে, জুতার এই ফিতাগুলো ছিল তাকে আগুনে জ্বালানোর রসদ।

আল্লাহর নবী তাঁর অনুসারীদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেন। তিনি তাদেরকে সারিবদ্ধ করেন ও একটি ফ্ল্যাগ দেন সা'দ বিন উবাদা-কে, একটি ব্যানার দেন আল-হুবাব বিন আল-মুনধির-কে, অন্য একটি দেন সাহল বিন হুনায়েফ-কে ও তা ছাড়াও আর একটি দেন আব্বাদ বিন বিশর-কে। অতঃপর আল্লাহর নবী ইহুদিদেরকে ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি তাদের অবহিত করান যে, যদি তারা ইসলামে দীক্ষিত হয়, তবে তারা তাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে পারবে, আর আল্লাহ তাদের কর্ম অনুযায়ী তাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি দ্বন্দ্ব যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ জানায় ও আল-যুবায়ের বিন আল-আওয়াম [পর্ব-১৪১] তা গ্রহণ করে ও তাকে হত্যা করে। অতঃপর আর একজন চ্যালেঞ্জ জানায়, আল-যুবায়ের তা গ্রহণ করে ও তাকেও সে হত্যা করে। তারপর আর একজন চ্যালেঞ্জ জানায়, আলী তা গ্রহণ করে ও তাকে সে হত্যা করে। তারপর অন্য একজন  দ্বন্দ্ব যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ জানায়, আবু দুজানা তার কাছে গমন করে ও তাকে সে হত্যা করে। অতঃপর আর একজন দ্বন্দ্ব যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ জানায়, আবু দুজানা তাকেও হত্যা করে, যতক্ষণে না আল্লাহর নবী তাদের এগারোজন লোককে হত্যা করে।  যখনই একজন লোককে হত্যা করা হতো, তিনি তাদের অবশিষ্ট লোকদের ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানাতেন। বস্তুত সেই সময় নামাজ আদায় করা হয়েছিল। সেই সময় আল্লাহর নবী তাঁর অনুসারীদের সাথে নামাজ আদায় করেন। অতঃপর  তিনি প্রত্যাবর্তন করেন ও তাদেরকে আল্লাহ ও তার নবীর দলে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

তারা একে অপরের সাথে সন্ধ্যা পর্যন্ত যুদ্ধ করে ও যে পর্যায়ে সূর্য বর্শার ফলার পরিমাণ ও প্রতীয়মান হয় না, তখন তারা আত্মসমর্পণ করে। তিনি তাদেরকে শক্তিবলে পরাস্ত করেন। আল্লাহ তাদের সম্পত্তি লুট করে ও তারা প্রচুর পরিমাণে আসবাবপত্র ও মালামাল হস্তগত করে। আল্লাহর নবী চার দিন যাবত ওয়াদি আল-কুরায় অবস্থান করেন। ওয়াদি আল-কুরায় যা তিনি হস্তগত করেছিলেন, তিনি তার হিস্যা তাঁর অনুসারীদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। কিন্তু তিনি খেজুরের গাছ ও ভূমিগুলো ইহুদিদের হাতেই রেখে দেন ও সেখানে তিনি তাদেরকে শ্রমিক হিসাবে নিযুক্ত করেন।’ 

তেইমার ইহুদিদের পরিণতি!

'আল্লাহর নবীর খায়বার, ফাদাক ও ওয়াদি আল-কুরার বিজয়ের খবর যখন তেইমার ইহুদিদের কাছে এসে পৌঁছে, তারা 'জিযিয়া প্রদান' শর্তে আল্লাহর নবীর সাথে শান্তি স্থাপন করে ও তাদের সম্পত্তিগুলো তাদের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়উমর তার খিলাফতের শাসন আমলে খায়বার ও ফাদাকের ইহুদিদের বিতাড়িত করেন [পর্ব-১৫০], কিন্তু তিনি তেইমা ও ওয়াদি আল-কুরার ইহুদিদের বিতাড়িত করেননি; কারণ পরের দলগুলোর অবস্থান ছিল আল-শাম [বর্তমান সিরিয়া] রাজ্য সীমার অন্তর্ভুক্ত। যা বিশ্বাস করা হতো, তা হলো, ওয়াদি আল-কুরার নিম্নভাগ থেকে মদিনা পর্যন্ত ভূ-সম্পত্তিগুলো ছিল হিজায-এর অন্তর্ভুক্ত। আর হিজাযের উত্তর দিকে অবস্থিত যা কিছু ছিল, তা আল-শাম এর অংশ। আল্লাহর নবী ওয়াদি আল-কুরা থেকে ঘুরে প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে রওনা হোন, সেটি ছিল তাঁর খায়বার ও ওয়াদি আল-কুরা  বিজয় ও আল্লাহ কর্তৃক সেগুলোর লুণ্ঠনের কাজ সম্পন্ন করার পর।' -----

- অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ - লেখক।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা: [2] [3] 

এই প্রসঙ্গে ইবনে হিশাম সংকলিত ও A. GUILLAUME অনুদিত মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের “সিরাত রসুল আল্লাহ” (ও আল-তাবারীর) গ্রন্থের বর্ণনা আল-ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত বর্ণনারই অনুরূপ; পার্থক্য হলো এই যে, উপাখ্যানের বিস্তারিত বর্ণনা সেখানে অনুপস্থিত। এই হামলাটির বিষয়ে যা তিনি উল্লেখ করেছেন, তা হলো এই,

"খায়বার অভিযান সম্পন্ন করার পর আল্লাহর নবী ওয়াদি আল-কুরায় গমন করেন ও কিছু রাত্রি যাবত সেখানকার লোকদের ঘেরাও করে রাখেন, অতঃপর তিনি সেখান থেকে মদিনায় প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যে রওনা হন (Having finished with Khaybar, the apostle went to Wadi'l-Qura and besieged its people for some nights, then he left to return to Medina)।"  

মূল হামলা বিষয়ে ব্যস এটুকুই বর্ণনা! অতঃপর তিনি বর্ণনা করেছেন উপঢৌকন প্রাপ্ত মুহাম্মদের ঐ ক্রীতদাসটির তীরবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ও কেন সে বেহেশতে যাবে না, তা শোনার পর মুহাম্মদের অন্য এক অনুসারীর চুরি করা 'চপ্পল' হাজির করার ঐ ঘটনার বর্ণনা।

ইমাম বুখারীর (৮১০-৮৭০ সাল) বর্ণনা: [4]

এই প্রসঙ্গে ইমাম বুখারীর বর্ণনা (৫:৫৯:৫৪১) আরও করুণ! তিনি শুধু মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল-তাবারী ও আল-ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত বর্ণনারই অনুরূপ উপঢৌকন প্রাপ্ত মুহাম্মদের ঐ ক্রীতদাসটির তীরবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা, কেন সে বেহেশতে যাবে না ও তা শোনার পর মুহাম্মদের অন্য এক অনুসারীর চুরি করা 'চপ্পল' হাজির করার ঘটনার বর্ণনা উল্লেখ করেছেন! ওয়াদি আল-কুরার জনপদের ওপর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের হামলার কোনো উল্লেখই তিনি করেননি।

>>> আদি উৎসে আল-ওয়াকিদি, মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল-তাবারী ও ইমাম বুখারীর ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যা স্পষ্ট, তা হলো - খায়বার ও ফাদাক আগ্রাসন শেষে মুহাম্মদ তাঁর খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে ‘ওয়াদি আল-কুরা’ নামক স্থানে গমন করেছিলেন। আদি উৎসের আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় চার দিন ও ইবনে ইশাকের বর্ণনায় কয়েক রাত্রি যাবত তারা ওয়াদি আল-কুরা জনপদের সমস্ত লোকদের ঘেরাও করে রেখেছিলেন। অতঃপর সেই জনপদের মানুষদের কী হাল হয়েছিল, তা ইবনে ইশাক ও আল-তাবারীর বর্ণনায় অনুপস্থিত, কিন্তু তা আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় বিস্তারিত ও প্রাণবন্ত! আর ইমাম বুখারীর বর্ণনায় যা উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু সেই উপাখ্যানটি পড়ে পাঠকরা বিভ্রান্ত হতে পারেন এই ভেবে যে, মুহাম্মদ তাঁর এই বিশাল সংখ্যক অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে "হাওয়া খেতে" ওয়াদি আল-কুরায় গমন করেছিলেন ও সেখানে তীরবিদ্ধ অবস্থায় তাঁরই পরিচর্যাকারী এক অনুসারী খুন হওয়া সত্ত্বেও সেই জনপদের ওপর “কোনোরূপ হামলা না করেই” মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা সেখান থেকে মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেছিলেন!

অর্থাৎ,
মুহাম্মদের নেতৃত্বে খায়বার যুদ্ধে (পর্ব: ১৩০-১৫২) অংশগ্রহণকারী ১৪০০ দুর্ধর্ষ মুহাম্মদ-অনুসারী কয়েক রাত্রি যাবত ওয়াদি আল-কুরা জনপদের সমস্ত লোকদের ঘেরাও করে রেখে তারা সেই জনপদের মানুষদের কী হাল করার পর মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেছিলেন, তা শুধুমাত্র ইবনে হিশাম সম্পাদিত “সিরাত রসুল আল্লাহ” ও আদি উৎসের সমস্ত হাদিস গ্রন্থগুলো পড়ে কোনোভাবেই জানা সম্ভব নয়। এ বিষয়ের প্রাসঙ্গিক বিস্তারিত আরও আলোচনা 'উমর ইবনে খাত্তাবের অভিপ্রায় (পর্ব-১২১)   'রক্তের হোলি খেলা (পর্ব-১৩৪)!' পর্বে করা হয়েছে।

>>> আদি উৎসের আল-ওয়াকিদির প্রাণবন্ত বিস্তারিত বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো - ওয়াদি আল-কুরার জনপদের ওপর অতর্কিত হামলাকারী ছিলেন মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা, বরাবরের মতই! আক্রান্ত এই জনপদবাসী খায়বারের জনগণের মতই প্রাণপণে লড়াই করেছিলেন তাঁদের জান ও সম্পদ রক্ষার প্রচেষ্টায়। খায়বারের জনপদবাসীদের মতই মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা তাঁদের সমস্ত অস্থাবর সম্পদ লুন্ঠন করে তা  তারা ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন নিজেদেরই মধ্যে! তাঁদের খেজুরের বাগান ও জমিগুলো হস্তগত করে তাঁদের সেই জমিগুলোতেই তারা তাঁদেরকে নিয়োগ করেছিলেন শ্রমিক-রূপে। আর তেইমার জনপদবাসী মুহাম্মদের করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন মুহাম্মদের বশ্যতা স্বীকার করে করজোড়ে 'জিযিয়া কর' প্রদানের মাধ্যমে (কুরান-৯:২৯)!

ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল-ওয়াকিদির মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি। ইবনে ইশাকের মূল ইংরেজি অনুবাদ ইন্টারনেটে বিনামূল্যে ডাউনলোড লিঙ্ক: তথ্যসূত্র [2]

The narrative of Al-Waqidi (784-822 AD):
‘Anas said: We turned with the Messenger of God from Khaybar, and he desired to go to Wadī al-Qurā. ------When the Messenger of God came to al-Ṣaḥbā’ he went to Birma until he came to Wādī al-Qurā seeking those Jews who lived there. Abū Hurayra related: We set out with the Messenger of God from Khaybar to Wādī al-Qurā. Rifā‛a b. Zayd b. Wahb al-Judhāmī had gifted to the Messenger of God a black slave named Mid‛am who would fix the saddle for the Messenger of God. When they alighted in Wādī al-Qurā, we finally reached the Jews and the people from the Bedouin had recourse to them. While Mid‛am settled the Messenger of God, the Jews received us with spears where we alighted. There was no preparation and they were shouting in their fortresses. A destitute arrow pierced Mid‛am and killed him. The people said: Paradise will delight you. The Messenger of God said, “No. By Him who holds my soul in his hand, the cloak, which he took on the day of Khaybar from the booty that had not been divided as it should, is now burning him in hell.” When the people heard that, a man came to the people with a shoelace, or two. The Prophet said that the shoelace was of fire.

The Messenger of God charged his companions to fight. He lined them up and gave a flag to Sa‛d b. ‛Ubāda, a banner to al-Ḥubāb b. al-Mundhir, another to Sahl b. Ḥunayf, and yet another to ‛Abbād b. Bishr. Then the Messenger of God invited the Jews to Islam. He informed them that if they converted they would keep their property and retain their blood, and God would deal with them according to their accounts. A man among them challenged for a duel and al-Zubayr b. al-Awwām accepted it, and killed him. Then another challenged, and al-Zubayr accepted and killed him as well. Then another challenged, and ‛Alī accepted his challenge and killed him. Then another challenged to a duel and Abū Dujāna went to him and killed him. Then another challenged to a duel, and Abū Dujāna killed him also, until the Messenger of God had killed eleven men from them. Whenever a man was killed he invited those who were remaining to Islam. Indeed prayers were attended at that time. The Messenger of God prayed with his companions at that time. Then he returned and invited them to God and His Prophet.

 They fought each other until evening, and it came to the point where the sun did not appear as much as a spear, when they surrendered. He conquered them by force. God plundered their property and they took furniture and goods in plenty. The Messenger of God stayed in Wādī al-Qurā for four days. He apportioned what he took among his companions in Wādī al-Qurā. But he left the dates and land in the hands of the Jews and employed them on it.

When news about the Messenger of God’s conquest of Khaybar, Fadak and Wādī al-Qurā, reached the Jews of Taymā’ they made peace with the Messenger of God on the jizya, and their property was established in their hands. During the caliphate of ‛Umar, he expelled the Jews of Khaybar and Fadak, but he did not expel the Jews of Taymā’ and Wādī al-Qurā, because the latter were within the land of al-Sham. It was believed that land from below Wādī al-Qurā to Medina was the Hijāz. And what was north of the Hijāz was part of al-Shām. The Messenger of God turned from Wādī al-Qurā to return, after the completion of his conquest of Khaybar and Wādī al-Qurā, and God plundered it.’ -------

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা: 

[1] “কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ), ed. Marsden Jones, লন্ডন ১৯৬৬; ভলুম ২, পৃষ্ঠা ৭০৭-৭১২; ইংরেজি অনুবাদ: Rizwi Faizer, Amal Ismail and Abdul Kader Tayob; ISBN: 978-0-415-86485-5 (pbk); পৃষ্ঠা ৩৪৮-৩৫০

[2] অনুরূপ বর্ণনা: “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ: A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৫১৬; বিনামূল্যে ডাউনলোড লিঙ্ক:

[3] অনুরূপ বর্ণনা: “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৮, ইংরেজী অনুবাদ: Michael Fishbein, University of California, Los Angeles, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-7914-3150—9 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৫৮৪-১৫৮৬

[4] অনুরূপ বর্ণনা: সহি বুখারী: ভলুম ৫, বই ৫৯, হাদিস নম্বর ৫৪১