৪ ফেব, ২০১৭

আল-কুরান ও ডাইহাইড্রোজেন-মনোঅক্সাইড: ১৪০০ বছর আগে দেয়া বিস্ময়কর তথ্য

লিখেছেন আক্কাস আলী

বর্তমান যুগের কথিত বিজ্ঞানমনস্ক নাস্তেকরা কুরানের ভুল ধরায় ব্যস্ত। কুরানে হাজারটা বৈজ্ঞানিক নিদর্শন থাকলেও সেটা কখনই এই নাস্তেকদের চোখে পড়বে না। তাদের আরেকটা দাবি হচ্ছে, কুরানে নাকি কোনো বিজ্ঞানবিষয়ক তথ্যই স্পষ্ট করে দেয়া নেই।

আরে বলদ নাস্তেকরা, শুনে রাখ... Quran is a book of Signs and not Science. কুরান বিজ্ঞানের বই নয়, এটাতে থাকবে বিভিন্ন নিদর্শনসমূহ। আর, এই নিদর্শনসমূহ থেকেই আমাদেরকে বিজ্ঞানটা বের করে আনতে হবে। অর্থা, কুরানে শুধু ইঙ্গিত দেয়া থাকবে, বাকি বিজ্ঞানটা আমাদের বুঝে নিতে হবে।

কুরানে যদি বৈজ্ঞানিক নিদর্শন না-ই থাকবে, তাহলে কুরান নিয়ে সারা বিশ্বে এতো গবেষণা হচ্ছে কেনো? নাসা, ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইন্সটিটিউট, সার্ন, ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স, রয়াল সোসাইটি, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি... ইত্যাদি প্রতিটি জায়গায় আজকে কুরান নিয়ে ব্যাপক ঘাঁটাঘাঁটি হচ্ছে। তারা কুরান থেকে তথ্য চুরি করে নতুন নতুন আবিস্কার করে যাচ্ছে।

যাহোক, কথা বাড়াবো না। আজকে আমরা দেখবো কুরানের একটি মোজেজা। ১৪০০ বছর আগে আল কুরানে বলা হয়েছে ডাইহাইড্রোজেন-মনোঅক্সাইডের (dihydrogen monoxide) কথা। অতীতে এটা নিয়ে তেমন একটা ঘাঁটাঘাঁটি হতো না, কিন্তু বর্তমান বিজ্ঞানীরা এই যৌগটি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ আমার আল কুরানে হাজার বছর আগেই এই সম্পর্কে উল্লেখিত হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। কুরানের আয়াত ধরে ধরে আমরা রেফারেন্স একটু পরে দিচ্ছি। আগে জেনে আসি এই আশ্চর্য যৌগটি সম্পর্কে।

Dihydrogen Monoxide (DHMO) একটি বর্ণহীন, গন্ধহীন রাসায়নিক যৌগ। এটাকে হাইড্রোনিয়াম হাইড্রোঅক্সাইড কিংবা আরও সাধারণভাবে হাইড্রিক এসিডও বলা হয়ে থাকে। Dihydrogen Monoxide (DHMO) নিজে বিষাক্ত নয়, তবে প্রায়ই এতে অন্যান্য বিষাক্ত যৌগ মিশ্রিত থাকে। এ কারণে এটি খুব মারাত্মক ও জীবনঘাতী অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। ডাইহাইড্রোজেন-মনোঅক্সাইডের কিছু বিপদজনক প্রতিক্রিয়া:
➤ সামান্য পরিমাণ Dihydrogen Monoxide (DHMO) যদি দুর্ঘটনাবশত আপনার শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে, তাহলে আপনি মুহূর্তেই মারা যেতে পারেন।
➤ কঠিন DHMO-এর সংস্পর্শে আপনি অনেক সময় ধরে থাকলে আপনার শরীরের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
➤ Acid Rain-এর অন্যতম কারণ এই DHMO.
➤ বায়বীয় DHMO-এর সংস্পর্শে চামড়ায় মারাত্মক Burn হতে পারে।
➤ মাটি ক্ষয়ের একটি অন্যতম কারণ DHMO.
➤ DHMO-এর তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে El-Nino ওয়েদার ইফেক্ট শুরু হতে পারে।

এই তালিকা শেষ হবার নয়... তবে এই যৌগটি কি শুধুই আমাদের ক্ষতি করে? কোনো উপকার নেই এর মধ্যে? হ্যাঁ, ভাই, আমাদের মূল আলোচনার যায়গা এটাই। আল্লাহ কুরানে আমাদের ইঙ্গিত দিয়েছেন, বলেছেন কী কী ভাবে এই ডাইহাইড্রোজেন মনোঅক্সাইড যৌগটিকে মানুষের কল্যাণে লাগানো যায়। আল্লাহ আমাদের বলেছেন যৌগটির উপকারিতা সম্পর্কে। উক্ত আয়াতগুলো বিজ্ঞানীদের মনে ব্যাপক আশাবাদ জাগিয়ে তুলেছে। তো বন্ধুরা, চলুন দেখে আসি DHMO-এর কিছু উপকারিতা, অপকারিতা, ও বৈশিষ্ট্য - অবশ্যই কুরানের আলোকে।

➤ কোন পাথরকে সজোরে আঘাত করে ফাটানো হলে তা থেকে DHMO উদগীরণ হতে পারে।
➤ এমনকি, পা দিয়ে মাটিতে সজোরে লাথি দিলেও মাটি থেকে DHMO উদগীরণ হতে পারে। মাটি থেকে বের হয়ে আসা DHMO শীতলীকারক পদার্থ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
➤ DHMO যৌগটি না থাকলে পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব ঘটতো না।
➤ সকল উদ্ভিদ DHMO এর উপর নির্ভরশীল।
➤ অতীতে DHMO এর মাত্রাধিক্যের কারণে পৃথিবীর অধিকাংশ জীব মারা গিয়েছিলো।
➤ আমাদের সংস্পর্শে থাকা রোগ জীবাণু দূরীকরণে DHMO ব্যবহৃত হতে পারে।
➤ আকাশে অনেক পরিমাণ DHMO থাকতে পারে যা মাটির সংস্পর্শে আসে এবং মাটিতেও সংরক্ষিত হয়।

বলাই বাহুল্য, বিভিন্ন বিজ্ঞানীরা কুরান থেকে এইসকল তথ্য চুরি করে নিয়ে DHMO এর সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জেনেছে এবং আরও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। শুনে অবাক হবেন যে, আজকে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টেও এই ডাইহাইড্রোজেন মনোঅক্সাইড ব্যবহৃত হচ্ছে। হে নাস্তেকরা, একটিবার ভেবে দেখুন, ১৪০০ বছর আগে এক মূর্খ রাখাল কি করে এইসব তথ্য জানবে??

সর্বশেষে এই Dihydrogen Monoxide (DHMO) এর রাসায়নিক গঠন নিয়ে আলোকপাত করে আজকের বক্তব্য শেষ করবো। “ডাই” মানে হচ্ছে দুই। “ডাইহাইড্রোজেন” দিয়ে ২ টা হাইড্রোজেন পরমাণুকে বোঝায়। আর, “মনো” কথার অর্থ হচ্ছে এক। অর্থাৎ, “মনোঅক্সাইড” দিয়ে আমরা বুঝবো ১ টি অক্সিজেন পরমাণু। সুতরাং, ডাইহাইড্রোজেন মনোঅক্সাইড হচ্ছে দুইটা হাইড্রোজেন পরমাণু আর একটা অক্সিজেন পরমাণুর মিলিত রুপ। রাসায়নিক সংকেতটি হবে এরূপ: H2O । প্রচলিত ভাষায় ডাইহাইড্রোজেন মনোঅক্সাইডকে “পানি” বলা হয়ে থাকে।

ও আচ্ছা, রেফারেন্সগুলোই তো দেয়া হয়নি। ওপরে যে তথ্যগুলো দিলাম ডাইহাইড্রোজেন মনোঅক্সাইড নিয়ে, সেগুলো কুরানে পাবেন যথাক্রমে ২:৬০, ৩৮:৪২, ২১:৩০, ২০:৫৩, ১১:৪০, ৮:১১, ২৩:১৮ আয়াতগুলোতে।

যাযাকাল্লাহ খায়ের।