২৪ জানু, ২০১৭

বিশ্বাসের দরজায় করাঘাত!: পর্ব ১৩ – (এ কোন ফাতিমা?)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


কিছুদিন আগে খবর পেলাম, দত্তক কন্যাকে বিয়ে করার বৈধতা দিয়ে বিল পাস করেছে ইরানের পার্লামেন্ট! মাত্র ১৩ বছর বয়স হলেই পালিত কন্যাকে বিয়ে করতে আর কোনো রকম বাধা থাকবে না ইরানে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল ও গার্ডিয়ানের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নারী ও শিশু অধিকার কর্মীরা এ বিল পাশে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এতে বাল্যবিয়ের প্রবণতা আরো বাড়বে এবং দত্তক কন্যাকে বিয়ে করার সুযোগ অবারিত হবে।**

শরিয়া আইনে দত্তক সন্তানকে উত্তরাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এজন্য এমন সন্তান কখনো পালক পিতা/মাতার সম্পদের অংশীদার হয় না। কোনো মুসলমানের জন্য নিজের জন্মদাতা পিতা ব্যতীত অন্যকে পিতা বলে পরিচয় দেওয়া শরিয়া আইনে বৈধ নয়। সে হিসেবে খুব একটা চমকে যাবার মত খবর নয় এটা।

নবী মুহাম্মদ বলেছেন:
'জেনে-শুনে যে নিজ পিতা ব্যতীত অন্যকে পিতা বলে পরিচয় দেয়,
তার উপর জান্নাত হারাম' [1]

কিন্তু পরের খবরে না চমকে উপায় নেই; ইরাকে এ ধরনের এক নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের মেয়েকেও বিবাহ করা বৈধ! এবং শিয়া সূত্রানুসারে নবী মুহাম্মদ নিজেই নাকি নিজের কন্যা ফাতিমার প্রতি যৌনকাতর ছিলেন! 

সত্যি বলছি, গত ৫/৭ বছরের মধ্যে এত বড় ধাক্কা আর কোনো বিষয়েই পাইনি আমি! সকল সুন্নি হাদিস ও সিরাত সংকলন আমার সংগ্রহে আছে; আছে শিয়া হাদিস সংকলনসহ কয়েক হাজার বইপত্র! কিন্তু এমনটা চোখে পড়েনি আমার! এবার একটু নতুন করে গবেষণায় নামতেই হয়; এতো আমার নিজের বিশ্বাসের দরজাতেই নতুন করাঘাত! দেখতে শুরু করলাম নতুন করে। যতটুকু পেলাম, আপনাদের কাছে হুবুহু তুলে দিচ্ছি:

It was narrated by (imam) jafan Ibn. Muhamad:
The phophet Muhammad used to put his face between the breasts of Fatimah. [2]
(নবী মুহাম্মদ ফাতিমার দুই স্তনের মাঝখানে মুখ দিতেন!)

Whenever I long for paradise, I kiss the throat of Fatemah. [3]
(যখনই নবী মুহাম্মদ বেহেস্তের আকাঙ্ক্ষা করেন, তিনি ফাতিমার গলায় চুমু দেন)

Fatima is human huri whenever I long for paradise I smell her. [4]
(ফাতিমা মনুষ্য-হুরী, যখনই নবী মুহাম্মদ বেহেস্তের আকাঙ্ক্ষা করেন, তিনি তার ঘ্রাণ নেন)

সত্যিই তো; এসব কী? এটা কি পিতাসুলভ আচার, নাকি যৌনকাতর এক উন্মাদের প্রলাপ! এ সকল শিয়া তথ্য-উপাত্ত যদি সত্য হয়, তবে ইরানের পার্লামেন্টে বিল পাশ অথবা নিজ মেয়েকে বিয়ের বৈধতায় ইরাকী নির্দেশনাকে কতটা দোষ দেওয়া যায়! বীজ ভালো না হলে গাছ আর কতটা ভালো হতে পারে!

আপনাদেরকে নবী মুহাম্মদের জীবনকালীন তিনজন ফাতিমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া দরকার:

(ক) ফাতিমা বিনতে আসাদ (Fatimah bint Asad): মুহাম্মদের চাচা আবু তালেবের স্ত্রী, খলিফা আলীর জননী, ইনি ৬২৬ ইং সালে মদিনায় মারা যান; মুহাম্মদ মদিনায় মাঝে মাঝে তার ঘরে যেতেন এবং দুপুরে ঘুমাতেন! [5]

(খ) ফাতিমা আল-আলিয়া বিনতে যাবায়ান আল-দাহাক্ (Fatimah al-Aliya bint Zabyan al-Dahhak): ছোট একটি গোত্র-প্রধানের কন্যা ছিলেন, মুহাম্মদ তাকে ৬৩০ ইং সালের ফেব্রুয়ারি/মার্চের দিকে বিয়ে করেন এবং মসজিদের বাইরে পরপুরুষকে উঁকি দিয়ে দেখার অপরাধে দু-তিন সপ্তাহ পরই তালাক দিয়ে দেন! [6]

(গ) ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ (Fatimah bint Muhammad): মুহাম্মদের সবচেয়ে ছোট কন্যা, খলিফা আলীর প্রথম স্ত্রী, মুহাম্মদের মৃত্যুর কয়েক মাস পর আগষ্ট, ৬৩২ ইং সালে মাত্র ২৭/২৮ বছর বয়সে মারা যান! [7]

পাঠকদের কাছে প্রশ্ন, এই ফাতিমা যদি (খ) নং ফাতিমা আল-আলিয়া বিনতে যাবায়ান আল-দাহাক্ হয়ে থাকেন, তবে মুহাম্মদকে যৌনকাতর উন্মাদ বলার জন্য ক্ষমা চাইতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু যদি (ক) নং চাচী ফাতিমা অথবা (গ) নং কন্যা ফাতিমার মধ্যে কেউ হন, তবে মুমিন পাঠক কী বলবেন, জানার ইচ্ছা হয়!

আর তাই, আজকে একটাই প্রশ্ন আপনাদের কাছে; এ কোন ফাতিমা?!

তথ্যসূত্র:

** খবরের সত্যতা গুগল সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন; লিংক দিলাম না তাই!
[1]. বুখারী হাদিস, মুসলিম হাদিস; মিশকাত হাদিস/৩৩১৪।
[2]. Bihaar al-Anwar, Vol 43, Page 78.
[3]. Fadhael-Al-Khamsah, Vol 3, Page 127.
[4]. Lisan al Mizan, Vol 03, Page 346.
[5] ibn Sa'd, Muhammad (1995). Kitab at-Tabaqat al-Kabir (The Book of the Major Classes). VIII The Women of Madina. Translated by Bewley, Aisha. London: Ta-Ha Publishers. ISBN 978-1-897940-24-2.
[6] Bewley/Saad 8:100-101, 153. 
Al-Tabari, Vol. 9, p. 138; Al-Tabari, Vol. 39, pp. 186-188. Despite the confusion over the name, she is probably also the woman referred to in Al-Tabari, Vol. 9, pp. 136-137 and the “Fatima bint Shurayh” of Al-Tabari, Vol. 9, p. 139
[7] "Fatimah", Encyclopaedia of Islam. Brill Online.

(চলবে)