১৮ জানু, ২০১৭

কোরআন যেভাবে অবতীর্ণ: মক্কা - তৃতীয় অধ্যায়: না ঘরকা না ঘাটকা (পর্ব ২৪)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


{আবু জেহেলের নেতৃত্বে আবু তালেব-কে জানানো হলো মুহাম্মদকে কুরাইশদের দায়িত্বে দিয়ে দেওয়া হোক, তারা মুহাম্মদের ভণ্ডামির যথাযথ বিচার করবেন! চাচা আবু তালেব মুহাম্মদের জটিলতা বুঝতে পারলেন, তিনি তার অধীনস্থ হাশিম গোত্র এবং তার নিয়ন্ত্রণাধীন ১০টি উপগোত্রের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলেন; আর যাই হোক, মুহাম্মদকে নিরাপত্তা প্রদানে তারা পিছপা হবে না; এটি এখন ব্যক্তি মুহাম্মদের বদলে গোত্রের সম্মানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

গত পর্বে প্রশ্ন রাখা হয়েছিলো: মুহাম্মদ কীভাবে উত্তরের সন্ধান পেলেন! 

ঘটনাটি এমন: 
৭ থেকে ১০ দিন অতিবাহিত হবার পর কুরাইশরা যখন মুহাম্মদের ভণ্ডামি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে গেলেন, প্রশ্নের উত্তর নিয়ে সেসময় থেকেই আলোচনা শুরু হয় কুরাইশ মহলে; আর মদিনা থেকে জেনে আসা আরও একাধিক গল্প নিয়ে বিশ্লেষণ হতে থাকে দারুন নদওয়া-তে; মক্কাবাসীদের আগ্রহের কারনে এ বিষয়ের চর্চা চলে যায় মাঠ পর্যন্ত! মুহাম্মদ এসব সূত্র থেকে পেয়ে যান উত্তর! বলে রাখা ভালো, মুহাম্মদের জীবন ইতিহাস নিয়ে পর্যালোচনা করলে কুরাইশদের মধ্যে থেকে কখনও মুসলিম না হওয়া ঘরের শত্রু বিভীষণ ধাঁচের একাধিক চরিত্রের সন্ধান পাওয়া যায়; সেসব নিয়ে ভবিষ্যতে বলার ইচ্ছা রইল! তবে একথাও নিশ্চিত বলা যায়, ৯৭ নং প্রকাশের বোনাস গল্পদুটো মুহাম্মদের ভণ্ডামি ধরতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিলো! কীভাবে? ভাবতে থাকুন আবারও!

আবু জেহেলে ও দারুন নদওয়ার কমিটি আবু তালিবের সিদ্ধান্ত জানার পর চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলেন, এবং তারা পৃথিবীর সবচেয়ে ভদ্র শাস্তি-প্রক্রিয়া অবলম্বন করলেন; আর তা হলো - মুহাম্মদ সহ হাশিম গোত্র ও তার সহযোগী ১০ টি উপগোত্রের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করা। চূড়ান্তভাবে বয়কট করা হলো তাদের! কেউ তাদের সাথে ওঠা-বসা, পানহার-খাবার বন্টন, ব্যবসা, বিবাহ-বন্ধুত্ব, ক্রয়-বিক্রয় সহ কোনো প্রকার সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে না; এবং তাদের বসত এলাকা ছাড়া কাবা এবং মক্কার দেড় কিলোমিটারের অন্যান্য অঞ্চলে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারবে না!

বেশির ভাগ গবেষক বলে থাকেন, মুহাম্মদ এবং হাশিম গোত্রকে মক্কা থেকে বের করে দিয়ে শিয়াবে আবু তালেব (আবু তালিবের পাহাড়/উপত্যকা)-এ নির্বাসিত করা হয়! এটি একটি চূড়ান্ত মিথ্যাচার অথবা বোঝার অজ্ঞতা! মুহাম্মদ এবং হাশিম গোত্র মক্কাতেই ছিলেন; কেবল তাদের বাসস্থানের পাশেই সমাবেত হবার একটি নতুন স্থান যুক্ত হয়েছিলো; যার নাম শিয়াবে আবু তালেব

পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে

সংযুক্ত ছবিটির স্থানকে শিয়াবে আবু তালেব বলা হয়; ছবিটির বাম পাশের ওপরের দিকে মক্কা টাওয়ার/ক্লক টাওয়ার দেখা যাচ্ছে; এই ছবি প্রমাণ করে শিয়াবে আবু তালেব ছিলো মক্কার দেড় কিলোমিটার সীমারেখার সাথে গায়ে-গায়ে লাগানো! আরও সহজ করে বললে, এই অংশ ছিলো আবু তালেবের নিয়ন্ত্রণাধীন মক্কার এলাকা সংলগ্ন (পর্ব ০৬ দেখুন)! হাশিম গোত্র এটিকে বয়কট চলাকালীন নিজস্ব সমাবেশ স্থান হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন!

এই পর্বের ৯৯ তম প্রকাশের সময়কাল থেকে বয়কট শুরু হবার লক্ষণ পাওয়া যায়; এবং পরবর্তী প্রায় তিন বছর চলে মুহাম্মদের না ঘরকা না ঘাটকা অবস্থা! এ সময়কালে মুহাম্মদ ও তার সাহাবীরা একটি অলৌকিক ঘটনা/মুজেজা দেখার জন্য কাতর হয়ে ওঠেন; এবং সত্যি সত্যি মুহাম্মদের সামনে চলে আসে ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে আলোচিত অলৌকিক ঘটনা/মুজেজা দেখানোর সুযোগ! তার জন্য অবশ্য আগামী পর্ব পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে আমাদের! তবে চলচ্চিত্র মুক্তির আগে তার কিছু অংশ এই পর্বের শেষে দেখে নিতে পারেন অবশ্যই!

কোরআন অবতীর্ণ হবার ধারাবাহিকতা অনুসারে প্রকাশের আজ ২৪ তম পর্ব; এই পর্বে থাকছে মক্কা - তৃতীয় অধ্যায়: না ঘরকা না ঘাটকার ২য় চার অংশঅনুবাদের ভাষা একাধিক বাংলা/ইংরেজি অনুবাদ অনুসারে নিজস্ব।}

মুহাম্মদ দ্বারা ৯৮ তম প্রকাশ: সূরা আত মুত্বাফ্ফিফীন (৮৩) (প্রতারণা করা), ১ থেকে ৩৬ আয়াত:

১. মন্দ পরিণাম তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়,

২. যারা লোকের নিকট হতে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে।

৩. এবং যখন তাদের জন্য মেপে অথবা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়।

৪. তারা কি চিন্তা করে না যে (তাদের মৃত্যুর পর) তাদেরকে আবার ওঠানো হবে,

৫. সেই মহাদিবসে,

৬. যেদিন মানুষ বিশ্ব প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে।

৭. না, না, কখনই না; পাপাচারীদের ‘আমলনামা নিশ্চয়ই সিজ্জীনে থাকে;

৮. সিজ্জীন কী, তা কি তুমি জান?

৯. ওটা হচ্ছে লিখিত পুস্তক।

১০. সেদিন মন্দ পরিণাম হবে মিথ্যাচারীদের

১১. যারা কর্মফল দিনকে অস্বীকার করে,

১২. আর সীমা লংঘনকারী মহাপাপী ব্যতীত কেহই ওকে মিথ্যা বলতে পারে না।

১৩. তার নিকট আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হলে সে বলেঃ এটাতো পুরাকালীন কাহিনী।

১৪. না, এটা সত্য নয়, বরং তাদের কৃতকর্মের ফলেই তাদের মনের ওপর মরিচা জমে গেছে।

১৫. না, অবশ্যই সেদিন তারা তাদের রবের সাক্ষাত হতে অন্তরীণ থাকবে;

১৬. অনন্তর নিশ্চয়ই তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে;

১৭. অতঃপর বলা হবে: এটাই তা যা তোমরা অস্বীকার করতে।

১৮. অবশ্যই পুণ্যবানদের ‘আমলনামা ইল্লিয়্যীনে থাকবে,

১৯. ইল্লিয়্যীন কী, তা কি তুমি জান?

২০. (তা হচ্ছে) লিখিত পুস্তক।

২১. আল্লাহর সান্নিধ্য প্রাপ্তরা ওটা প্রত্যক্ষ করবে।

২২. সৎ আমলকারীতো থাকবে পরম স্বাচ্ছন্দ্যে।

২৩. তারা সুসজ্জিত আসনে বসে অবলোকন করবে।

২৪. তুমি তাদের মুখমণ্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের দীপ্তি দেখতে পাবে,

২৫. তাদেরকে মোহরযুক্ত বিশুদ্ধ মদিরা হতে পান করানো হবে,

২৬. ওর মোহর হচ্ছে কস্তুরীর। আর থাকে যদি কারও কোনো আকাংখা বা কামনা, তাহলে তারা এরই কামনা করুক।

২৭. ওর মিশ্রণ হবে তাসনীমের।

২৮. এটি একটি প্রস্রবণ, যা হতে নৈকট্য প্রাপ্ত ব্যক্তিরা পান করে।

২৯. অপরাধীরা মুমিনদেরকে উপহাস করত,

৩০. এবং তারা যখন মুমিনদের নিকট দিয়ে যেত তখন,

৩১. এবং যখন তাদের আপনজনের নিকট ফিরে আসতো তখন তারা ফিরতো উৎফুল্ল হয়ে।

৩২. এবং যখন তাদেরকে দেখত তখন বলত: এরাই তো পথভ্রষ্ট।

৩৩. তাদেরকে তো এদের সংরক্ষকরূপে পাঠানো হয়নি!

৩৪. আজ তাই মুমিনগণ উপহাস করছে কাফিরদেরকে

৩৫. উচ্চ আসনে বসে তাদের অবস্থা দেখছে।

৩৬. কাফেররা যা করত, তার প্রতিফল পেয়েছে তো?

মুহাম্মদ দ্বারা ৯৯ তম প্রকাশ: সূরা আল মুল্ক (৬৭) (সার্বভৌম কতৃত্ব), ১ থেকে ৩০ আয়াত:

১. অতি মহান ও শ্রেষ্ঠ তিনি, সর্বময় কর্তৃত্ব ও রাজত্ব যাঁর হাতে; তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

২. যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য - কে তোমাদের মধ্যে কর্মে উত্তম? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।

৩. তিনি সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে সপ্তাকাশ। দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোন খুঁত দেখতে পাবে না; আবার দেখ, কোনো ত্রুটি দেখতে পাও কি?

৪. অতঃপর তুমি বারবার দৃষ্টি ফেরাও, সেই দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।

৫. আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দিয়ে সুসজ্জিত করেছি আর শয়তানকে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য, এবং প্রস্তুত করে রেখেছি জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি।

৬. যারা তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে তাদের জন্য আছে জাহান্নামের শাস্তি; কতই না নিকৃষ্ট সে প্রত্যাবর্তনস্থল!

৭. যখন তন্মধ্যে নিক্ষিপ্ত হবে, তখন তারা উহার উৎক্ষিপ্ত গর্জন শুনতে পাবে, আর ওটা হবে উদ্বেলিত।

৮. ক্রোধে আক্রোশে জাহান্নাম ফেটে পড়ার উপক্রম হবে। যখনই কোনো দলকে তাতে ফেলা হবে, তখন তার রক্ষীরা তাদেরকে জিজ্ঞেস করবে, ‘তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আসেনি?’

৯. তারা বলবে: অবশ্যই আমাদের নিকট সতর্ককারী এসেছিল, আমরা তাকে মিথ্যাবাদী গণ্য করেছিলাম এবং বলেছিলাম: আল্লাহ কিছুই অবতীর্ণ করেননি, তোমরা তো মহা বিভ্রান্তিতে রয়েছ।

১০. এবং তারা আরও বলবে: যদি আমরা শুনতাম অথবা বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করতাম, তাহলে আমরা জাহান্নামবাসী হতামনা।

১১. তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। অভিশাপ জাহান্নামীদের জন্য!

১২. যারা তাদের প্রতিপালকে না দেখেই ভয় করে, তাদের জন্য আছে ক্ষমা আর মহা পুরস্কার।

১৩. তোমরা তোমাদের কথা গোপনেই বল অথবা প্রকাশ্যে বল, তিনি তো অন্তর্যামী।

১৪. যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানেন না? অথচ তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী, পূর্ণ অবহিত।

১৫. তিনিই তো তোমাদের জন্য ভূমিকে সুগম করে দিয়েছেন; অতএব তোমরা দিক-দিগন্তে বিচরণ কর এবং তাঁর প্রদত্ত জীবনোপকরণ হতে আহার্য গ্রহণ কর; পুনরুত্থান তো তাঁরই নিকট।

১৬. তোমরা কি নিশ্চিত আছ যে, আকাশে যিনি রয়েছেন তিনি তোমাদেরকে সহ ভূমিকে ধ্বসিয়ে দেবেন না, আর ওটা আকস্মিকভাবে থর থর করে কাঁপতে থাকবে?

১৭. কিংবা তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ যে, যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদের ওপর পাথর বর্ষণকারী ঝড়ো হাওয়া পাঠাবেন না? যাতে তোমরা জানতে পারবে যে, কেমন (ভয়ানক) ছিল আমার সতর্কবাণী।

১৮. এবং এদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যা আরোপ করেছিল; ফলে কি রূপ হয়েছিল আমার শাস্তি!

১৯. তারা কি লক্ষ্য করে না তাদের উর্ধ্বদেশে বিহঙ্গকূলের প্রতি, যারা পক্ষ বিস্তার করে ও সংকুচিত করে? দয়াময় আল্লাহই তাদেরকে স্থির রাখেন। তিনি সর্ব বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা।

২০. দয়াময় আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের এমন কোনো সৈন্যবাহিনী আছে কি, যারা তোমাদের সাহায্য করবে? কাফিরেরা তো বিভ্রান্তিতে রয়েছে।

২১. এমন কে আছে, যে তোমাদের জীবনোপকরণ দান করবে, তিনি যদি জীবনোপকরণ বন্ধ করে দেন? বস্তুত তারা অবাধ্যতা ও সত্যবিমুখতায় অবিচল রয়েছে।

২২. যে ব্যক্তি মুখে ভর দিয়ে ঝুকে চলে, সে কি ঠিক পথে চলে, না কি সেই ব্যক্তি যে সরল পথে চলে?

২৩. বলে দাও, 'তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন আর তোমাদেরকে দিয়েছেন শোনার ও দেখার শক্তি আর অন্তঃকরণ; তোমরা শোকর আদায় খুব অল্পই করে থাক।'

২৪. বল: তিনিই পৃথিবীতে তোমাদেরকে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাঁরই নিকট তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।

২৫. তারা বলে: তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তাহলে বল, এই প্রতিশ্রুতি কখন বাস্তবায়িত হবে?

২৬. বল: এর জ্ঞান শুধু আল্লাহরই নিকট আছে, আমি তো স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।

২৭. যখন ওটা আসন্ন দেখবে, তখন কাফিরদের মুখমণ্ডল ম্লান হয়ে যাবে এবং তাদেরকে বলা হবে" এটাই তো তোমরা চাচ্ছিলে।

২৮. বল: তোমরা ভেবে দেখেছ কি - যদি আল্লাহ আমাকে ও আমার সঙ্গীদেরকে ধ্বংস করেন অথবা আমাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করেন, তাতে কাফিরদের কী? তাদেরকে কে রক্ষা করবে বেদনাদায়ক শাস্তি হতে?

২৯. বল: তিনি দয়াময়, আমরা তাঁকে বিশ্বাস করি ও তাঁরই উপর নির্ভর করি, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে, কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।

৩০. বল: তোমরা ভেবে দেখেছ কি, কোনো এক ভোরে যদি পানি ভূ-গর্ভে তোমাদের নাগালের বাইরে চলে যায়, তাহলে কে তোমাদেরকে এনে দেবে প্রবাহমান পানি?

মুহাম্মদ দ্বারা ১০০ তম প্রকাশ: সূরা ইব্রাহীম (১৪) (নবী ইব্রাহিম), ৪২ থেকে ৫২ আয়াত:

৪২. তুমি কখনও মনে কর না যে, যালিমরা যা করে, সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন। তবে তিনি সেদিন পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন, যেদিন তাদের চক্ষু হবে স্থির।

৪৩. আতঙ্কিত হয়ে মাথা তুলে পালাতে থাকবে, দৃষ্টি তাদের নিজেদের পানে ফিরে আসবে না, আর তাদের দিল উড়ে যাবে।

৪৪. যেদিন তাদের শাস্তি আসবে, সেদিন সম্পর্কে তুমি মানুষকে সতর্ক কর। তখন যালিমরা বলবে: হে আমাদের রাব্ব! আমাদের কিছুকালের জন্য অবকাশ দিন, আমরা আপনার আহবানে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করবই। তোমরা কি পূর্বে শপথ করে বলতে না যে, তোমাদের পতন নেই?

৪৫. অথচ তোমরা বাস করতে তাদের বাসভূমিতে যারা নিজেদের প্রতি যুলম করেছিল এবং তাদের প্রতি আমি কি করেছিলাম, তাও তোমাদের নিকট সুবিদিত ছিল এবং তোমাদের নিকট আমি তাদের দৃষ্টান্তও উপস্থিত করেছিলাম।

৪৬. তারা ভীষণ চক্রান্ত করেছিল, কিন্তু আল্লাহর নিকট তাদের চক্রান্ত রক্ষিত রয়েছে। তাদের চক্রান্ত এমন ছিল না, যাতে পর্বত টলে যেত।

৪৭. তুমি কখনও মনে কর না যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলদের প্রতি প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন; আল্লাহ পরাক্রমশালী, দণ্ড বিধায়ক।

৪৮. যেদিন এই পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে এবং আকাশমণ্ডলীও এবং মানুষ উপস্থিত হবে আল্লাহর সামনে, যিনি এক, পরাক্রমশালী।

৪৯. সেদিন তুমি অপরাধীদেরকে দেখবে শৃঙ্খলে তাদের হাত পা শক্ত করে বাঁধা।

৫০. তাদের পোশাক হবে আলকাতরার আর আগুন তাদের মুখমণ্ডল আচ্ছন্ন করবে।

৫১. যাতে আল্লাহ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কৃতকর্মের প্রতিফল দিতে পারেন। আল্লাহ তো হিসাব গ্রহণে খুবই দ্রুতগতি।

৫২. এটা মানুষদের জন্য একটা বার্তা, যার দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে আর যাতে তারা জানতে পারে যে, তিনি এক ইলাহ আর যাতে বুদ্ধিমান মানুষেরা উপদেশ লাভ করে।

মুহাম্মদ দ্বারা ১০১ তম প্রকাশ: সূরা আন নাহল (১৬) (মৌমাছি), ১ থেকে ১২৫ আয়াত:

১. আল্লাহর নির্দেশ এসে গেছে, অতএব এর জন্য তাড়াহুড়ো করো না। তিনি মহান পবিত্র, তারা যাকে শরীক সাব্যস্ত করে তার থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।

২. তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা নির্দেশ সম্বলিত ওহীসহ ফেরেশতা প্রেরণ করেন, এই মর্মে সতর্ক করার জন্য, আমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; সুতরাং আমাকে ভয় কর।

৩. তিনি যথাযথভাবে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন; তারা যাকে শরীক করে তিনি তার উর্ধ্বে।

৪. তিনি মানবকে এক ফোটা বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছেন। এতদসত্ত্বেও সে প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী হয়ে গেছে।

৫. তিনি চতুস্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন; তোমাদের জন্য ওতে শীত নিবারক উপকরণ এবং আরও বহু উপকার রয়েছে; এবং ওটা হতে তোমরা আহার্য পেয়ে থাক।

৬. আর যখন তোমরা গোধূলি লগ্নে ওদেরকে চারণভূমি হতে গৃহে নিয়ে আসো এবং প্রভাতে যখন ওদেরকে চারণভূমিতে নিয়ে যাও, তখন তোমরা ওর সৌন্দর্য উপভোগ কর এবং গৌরব অনুভব কর।

৭. আর ওরা তোমাদের ভার বহন করে নিয়ে যায় দূরদেশে যেখানে প্রাণান্ত ক্লেশ ব্যতীত তোমরা পৌঁছতে পারতে না; তোমাদের রাব্ব অবশ্যই দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।

৮. তিনি ঘোড়া, খচ্চর ও গর্দভ সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা ওগুলোতে আরোহণ করতে পার আর শোভা-সৌন্দর্যের জন্যও; তিনি সৃষ্টি করেন অনেক কিছু, যা তোমাদের জানা নেই।

৯. সরল পথ আল্লাহর কাছে পৌঁছায়, কিন্তু পথগুলির মধ্যে বক্র পথও রয়েছে। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকেই সৎ পথে পরিচালিত করতেন।

১০. তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, যাতে আছে তোমাদের জন্য পানীয় আর তাতে জন্মে বৃক্ষ লতা যা তোমাদের পশুগুলোকে খাওয়াও।

১১. তিনি তা দিয়ে তোমাদের জন্য জন্মান শস্য, যায়তূন, খেজুর, আঙুর এবং সর্বপ্রকার ফল। এতে চিন্তাশীল মানুষদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।

১২. তিনিই তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন রাত্রি, দিন, সূর্য এবং চাঁদকে। আর নক্ষত্ররাজিও অধীন হয়েছে তাঁরই আদেশে; অবশ্যই এতে বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।

১৩. আর বিবিধ প্রকাশ্য বস্তুও, যা তোমাদের জন্য পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছেন। এতে রয়েছে নিদর্শন সেই সম্প্রদায়ের জন্য, যারা উপদেশ গ্রহণ করে।

১৪. তিনিই সমুদ্রকে অধীন করেছেন, যাতে তোমরা তা হতে তাজা গোশত আহার করতে পার এবং যাতে তা হতে আহরণ করতে পার রত্নাবলী যা তোমরা ভূষণ রূপে পরিধান কর; এবং তোমরা দেখতে পাও, ওর বুক চিরে নৌযান চলাচল করে এবং তা এ জন্য যে, তোমরা যেন তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার এবং তোমরা যেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

১৫. আর তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে আন্দোলিত না হয় এবং স্থাপন করেছেন নদ-নদী ও পথ, যাতে তোমরা তোমাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার।

১৬. আর পথ নির্ণায়ক চিহ্নসমূহও; এবং নক্ষত্রের সাহায্যেও মানুষ পথের নির্দেশ পায়।

১৭. যিনি সৃষ্টি করেন তিনি কি তার মত যে সৃষ্টি করে না? তবে কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না?

১৮. তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ গণনা করলে ওর সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না; আল্লাহ অবশ্যই ক্ষমাপরায়ণ, পরম দয়ালু।

১৯. তোমরা যা গোপন রাখ এবং যা প্রকাশ কর, আল্লাহ তা জানেন।

২০. তারা আল্লাহ ছাড়া অপর যাদেরকে আহবান করে তারা কিছুই সৃষ্টি করে না, তাদেরকেই সৃষ্টি করা হয়।

২১. তারা নিষ্প্রাণ নির্জীব এবং পুনরুত্থান কবে হবে, সে বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই।

২২. তোমাদের ইলাহ হলেন এক ইলাহ। কাজেই যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সত্য-অস্বীকারকারী আর তারা অহংকারী।

২৩. এটা নিঃসন্দেহ যে, আল্লাহ জানেন যা তারা গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে; তিনি অহংকারীকে পছন্দ করেন না।

২৪. তাদেরকে যখন বলা হয়, ‘তোমাদের প্রতিপালক কী নাযিল করেছেন’, তখন তারা বলে, ‘পূর্ববর্তীদের কল্পকাহিনী’।

২৫. যার ফলে ক্বিয়ামাত দিবসে তারা বহন করবে নিজেদের পাপের বোঝা পূর্ণ মাত্রায়, আর (আংশিক) তাদেরও পাপের বোঝা যাদেরকে তারা গুমরাহ করেছে নিজেদের অজ্ঞতার কারণে। হায়, তারা যা বহন করবে, তা কতই না নিকৃষ্ট!

২৬. তাদের পূর্ববর্তীরাও চক্রান্ত করেছিল। আল্লাহ তাদের ইমারাতের ভিত্তিমূলে আঘাত করেছিলেন; ফলে ইমারাতের ছাদ তাদের উপর ধ্বসে পড়ল এবং তাদের প্রতি শাস্তি নেমে এলো এমন দিক হতে যা ছিল তাদের ধারণার বাহির।

২৭. পরে কিয়ামাত দিবসে তিনি তাদের লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন: কোথায় আমার সেই সব শরীক, যাদের সম্বন্ধে তোমরা বিতণ্ডা করতে? যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছিল তারা বলবে: নিশ্চয়ই আজ লাঞ্ছনা ও অমঙ্গল কাফিরদের জন্য।

২৮. ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটায় নিজেদের প্রতি যুলম করা অবস্থায়। 'অতঃপর তারা আত্মসমর্পণ করে বলবে, ‘আমরা তো কোন খারাপ কাজ করতাম না।' (ফেরেশতারা জবাব দিবে) 'বরং, তোমরা যা করছিলে আল্লাহ সে বিষয়ে খুব ভালভাবেই অবগত।

২৯. সুতরাং তোমরা দ্বারগুলি দিয়ে জাহান্নামে প্রবেশ কর, সেখানে স্থায়ী হওয়ার জন্য। দেখ, অহংকারীদের আবাসস্থল কত নিকৃষ্ট!

৩০. পরহেযগারদেরকে বলা হয়: তোমাদের পালনকর্তা কী নাযিল করেছেন? তারা বলে: মহাকল্যাণ। যারা এ জগতে সৎকাজ করে, তাদের জন্যে কল্যাণ রয়েছে এবং পরকালের গৃহ আরও উত্তম। পরহেযগারদের গৃহ কি চমৎকার?

৩১. ওটা স্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে; ওর পাদদেশে স্রোতস্বিনী নদী প্রবাহিত; তারা যা কিছু কামনা করবে তাতে তাদের জন্য তাই থাকবে; এভাবেই আল্লাহ পুরস্কৃত করেন মুত্তাকীদেরকে।

৩২. ফেরেশতা যাদের মৃত্যু ঘটায় পবিত্র অবস্থায় এই বলে যে, ‘তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, তোমরা যে 'আমাল করতে তার ফল হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ কর।'

৩৩. তারা কি এই অপেক্ষায় আছে যে, ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে কিংবা তোমার প্রতিপালকের ফায়সালা এসে পড়বে? তাদের পূর্ববর্তীরাও এ রকমই করত। আল্লাহ তাদের প্রতি কোনো যুলম করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলম করত।

৩৪. সুতরাং তাদের প্রতি আপতিত হয়েছিল তাদেরই মন্দ কর্মের শাস্তি এবং তাদেরকে পরিবেষ্টন করেছিল, ওটাই যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত।

৩৫. মুশরিকরা বলে: আল্লাহ ইচ্ছা করলে আমাদের পিতৃ-পুরুষরা ও আমরা তিনি ব্যতীত অপর কোনো কিছুর ইবাদাত করতাম না এবং তাঁর অনুমতি ব্যতীত আমরা কোনো কিছু নিষিদ্ধ করতাম না। তাদের পূর্ববর্তীরাও এই রূপই করত; রাসূলদের কর্তব্য তো শুধু সুস্পষ্ট বাণী প্রচার করা।

৩৬. আল্লাহর ইবাদাত করার ও তাগুতকে বর্জন করার নির্দেশ দেয়ার জন্য আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি; অতঃপর তাদের কতককে আল্লাহ সৎ পথে পরিচালিত করেন এবং তাদের কতকের ওপর পথভ্রান্তি সাব্যস্ত হয়েছিল। সুতরাং পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ, যারা সত্যকে মিথ্যা বলেছে তাদের পরিণাম কী হয়েছে!

৩৭. তুমি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করতে আগ্রহী হলেও আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেছেন তাকে তিনি সৎ পথে পরিচালিত করবেন না এবং তাদের কোন সাহায্যকারীও নেই।

৩৮. তারা দৃঢ়তার সাথে আল্লাহর শপথ করে বলে: যার মৃত্যু হয় আল্লাহ তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন না। কেন নয়? তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেনই; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটা অবগত নয়।

৩৯. তিনি পুনরুত্থিত করবেন, যে বিষয়ে তাদের মতানৈক্য ছিল তা তাদেরকে স্পষ্টভাবে দেখানোর জন্য এবং যাতে কাফিরেরা জানতে পারে যে, তারাই ছিল মিথ্যাবাদী।

৪০. আমি কোনো কিছু ইচ্ছা করলে সেই বিষয়ে আমার কথা শুধু এই যে, আমি বলি ‘হও,’ ফলে তা হয়ে যায়।

৪১. যারা অত্যাচারিত হওয়ার পর আল্লাহর পথে হিজরাত করেছে আমি অবশ্যই তাদেরকে দুনিয়ায় উত্তম আবাস প্রদান করব এবং আখিরাতের পুরষ্কারই তো শ্রেষ্ঠ। হায়! তারা যদি ওটা জানত!

৪২. তারা ধৈর্য ধারণ করে এবং তাদের রবের ওপর নির্ভর করে।

৪৩. তোমার পূর্বে আমি অহীসহ (পুরুষ) মানুষই প্রেরণ করেছিলাম, তোমরা যদি না জান তাহলে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর।

৪৪. তাদের প্রেরণ করেছিলাম স্পষ্ট নিদর্শন ও গ্রন্থসহ এবং তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি মানুষকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য, যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছিল, যাতে তারা চিন্তা ভাবনা করে।

৪৫. যারা দুষ্কর্মের ষড়যন্ত্র করে তারা কি এ বিষয়ে নিশ্চিত যে, আল্লাহ তাদেরকে ভূ-গর্ভে বিলীন করবেন না, অথবা এমন দিক হতে শাস্তি আসবে না, যা তাদের ধারণাতীত?

৪৬. অথবা চলাফেরা করতে থাকাকালে তিনি তাদেরকে ধৃত করবেন না? তারা তো এটা ব্যর্থ করতে পারবে না।

৪৭. কিংবা ভীতি প্রদর্শনের পর তাদেরকে পাকড়াও করবেন? তোমাদের পালনকর্তা তো অত্যন্ত নম্র, দয়ালু।

৪৮. তারা কি লক্ষ্য করে না আল্লাহর সৃষ্ট বস্তুর প্রতি, যার ছায়া ডানে ও বামে ঢলে পড়ে আল্লাহর প্রতি সাজদা হয় নত হয়?

৪৯. আকাশসমূহ ও পৃথিবীতে যত জীব-জন্তু ফেরেশতারা, সমস্তই আল্লাহকে সাজদাহ করে; তারা অহঙ্কার করে না।

৫০. তারা তাদের ওপরে আল্লাহকে ভয় করে আর তারা তা-ই করে, যা তাদেরকে আদেশ দেয়া হয়।

৫১. আল্লাহ বলেন: তোমরা দুই ইলাহ গ্রহণ কর না; তিনিই একমাত্র ইলাহ, সুতরাং তোমরা আমাকেই ভয় কর।

৫২. আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা তাঁরই; এবং নিরবচ্ছিন্ন আনুগত্য তাঁরই প্রাপ্য; তোমরা কি আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে ভয় করবে?

৫৩. তোমরা যে সব অনুগ্রহ ভোগ কর, তা তো আল্লাহরই নিকট হতে। অধিকন্তু যখন দুঃখ-দৈন্য তোমাদেরকে স্পর্শ করে, তখন তোমরা তাঁকেই ব্যাকুলভাবে আহবান কর।

৫৪. অতঃপর যখন তিনি তোমাদের থেকে দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেন, তখন তোমাদের একদল তাদের প্রতিপালকের সঙ্গে অন্যকে শরীক করে বসে

৫৫. আমি তাদেরকে যা দিয়েছি, তাদের না-শোকরি করা জন্য। অতএব তোমরা ভোগ করে নাও, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে।

৫৬. আর আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি, তার একাংশ তারা ঐ সবের জন্য নির্ধারিত করে যাদের সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না। আল্লাহর শপথ! তোমাদের এই মিথ্যে উদ্ভাবন সম্পর্কে তোমাদেরকে অবশ্য অবশ্যই জিজ্ঞেস করা হবে

৫৭. তারা নির্ধারণ করে আল্লাহর জন্য কন্যাসন্তান। তিনি পবিত্র মহিমান্বিত, এবং তাদের জন্য ওটাই যা তারা কামনা করে।

৫৮. তাদের কেহকে যখন কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয় তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হয়।

৫৯. তাকে যে সংবাদ দেয়া হয়, তার গ্লানি হেতু সে নিজ সম্প্রদায় হতে আত্মগোপন করে। সে চিন্তা করে যে, হীনতা সত্ত্বেও সে তাকে রেখে দেবে, নাকি মাটিতে পুঁতে ফেলবে। সাবধান! তারা যা সিদ্ধান্ত নেয়, তা কতই না নিকৃষ্ট!

৬০. যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তারা নিকৃষ্ট প্রকৃতির সদৃশ। আর আল্লাহ তো মহত্তম প্রকৃতির অধিকারী; এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

৬১. আল্লাহ যদি মানুষকে তাদের সীমা লংঘনের জন্য শাস্তি দিতেন, তাহলে ভূপৃষ্ঠে কোনো জীবজন্তুকেই রেহাই দিতেন না; কিন্তু তিনি এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। অতঃপর যখন তাদের সময় আসে, তখন তারা মুহুর্তকাল বিলম্ব অথবা ত্বরা করতে পারবে না।

৬২. যা তারা অপছন্দ করে, তাই তারা আল্লাহর প্রতি আরোপ করে। তাদের জিহবা মিথ্যা বর্ণনা করে যে, মঙ্গল তাদেরই জন্য। নিশ্চয়ই তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম এবং তাদেরকেই সর্বাগ্রে তাতে নিক্ষেপ করা হবে।

৬৩. শপথ আল্লাহর! আমি তোমার পূর্বেও বহু জাতির নিকট রাসূল প্রেরণ করেছি; কিন্তু শাইতান ঐ সব জাতির কার্যকলাপ তাদের দৃষ্টিতে শোভন করেছিল; সুতরাং সে'ই আজ তাদের অভিভাবক এবং তাদেরই জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।

৬৪. আমি তো তোমার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যারা এ বিষয়ে মতভেদ করে তাদেরকে সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য এবং মুমিনদের জন্য পথ-নির্দেশ ও দয়া স্বরূপ।

৬৫. আর আল্লাহ আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন। অতঃপর তা দিয়ে যমীনকে তার মৃত্যুর পর সজীব করেছেন। নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে সেই কওমের জন্য, যারা শোনে।

৬৬. অবশ্যই (গৃহপালিত) চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে তোমাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে; ওগুলির উদরস্থিত গোবর ও রক্তের মধ্য হতে তোমাদেরকে আমি পান করাই বিশুদ্ধ দুগ্ধ, যা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।

৬৭. আর খেজুর ও আঙুর ফল থেকে তোমরা মদ ও উত্তম খাদ্য প্রস্তুত কর, জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।

৬৮. তোমার প্রতিপালক মৌমাছিকে ইঙ্গিতে জানিয়েছে যে, পাহাড়ে, বৃক্ষে আর উঁচু চালে বাসা তৈরি কর।

৬৯. অতঃপর প্রত্যেক ফল থেকে আহার কর, অতঃপর তোমার প্রতিপালকের (শেখানো) সহজ পদ্ধতি অনুসরণ কর। এর পেট থেকে রং-বেরং এর পানীয় বের হয়। এতে মানুষের জন্য আছে আরোগ্য। চিন্তাশীল মানুষের জন্য এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে।

৭০. আল্লাহই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে কাউকে উপনীত করা হয় জরাজীর্ণ বয়সে। ফলে তারা যা কিছু জানত, সে সম্বন্ধে তারা সজ্ঞান থাকে না; আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।

৭১. আল্লাহ জীবনোপকরণে তোমাদের একজনকে অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। যাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়া হয়েছে তারা তাদের অধীনস্থ দাস দাসীদেরকে নিজেদের জীবনোপকরণ হতে এমন কিছু দেয় না, যাতে তারা এ বিষয়ে সমান হয়ে যায়; তাহলে কি তারা আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করে?

৭২. আর আল্লাহ তোমাদের হতেই তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের যুগল হতে তোমাদের জন্য পুত্র-পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন এবং উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছেন। তবুও কি তারা মিথ্যা বিষয়ে বিশ্বাস করবে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?

৭৩. এবং তারা কি ইবাদাত করবে আল্লাহ ছাড়া অপরের যাদের আকাশমণ্ডলী অথবা পৃথিবী হতে কোন জীবনোপকরণ সরবরাহ করার শক্তি নেই? এবং তারা কিছুই করতে সক্ষম নয় ।

৭৪. সুতরাং তোমরা আল্লাহর কোনো সদৃশ স্থির কর না; নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।

৭৫. আল্লাহ উপমা দিচ্ছেন অপরের অধিকারভুক্ত এক দাসের, যে কোন কিছুর উপর শক্তি রাখে না। এবং অপর এক ব্যক্তি যাকে তিনি নিজ হতে উত্তম রিয্ক দান করেছেন এবং সে তা হতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে; তারা কি উভয়ে একে অপরের সমান? সকল প্রশংসা আল্লাহরই প্রাপ্য; অথচ তাদের অধিকাংশ এটা জানে না।

৭৬. আল্লাহ আরও উপমা দিচ্ছেন দু'ব্যক্তির। ওদের একজন মূক, কোন কিছুরই শক্তি রাখে না এবং সে তার মালিকের জন্য বোঝা স্বরূপ। তাকে যেখানেই পাঠানো হোক না কেন সে ভাল কিছুই করে আসতে পারে না; সে কি ঐ ব্যক্তির মত সমান হবে, যে ন্যায়ের নির্দেশ দেয় এবং যে আছে সরল পথে?

৭৭. আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহরই এবং কিয়ামাতের ব্যাপারতো চোখের পলকের ন্যায়, বরং ওর চেয়েও সত্বর; আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।

৭৮. আর আল্লাহ তোমাদেরকে নির্গত করেছেন তোমাদের মাতৃগর্ভ হতে এমন অবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না, এবং তিনি তোমাদেরকে দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং হৃদয়, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

৭৯. তারা কি লক্ষ্য করে না আকাশের শূন্য গর্ভে নিয়ন্ত্রণাধীন বিহঙ্গের প্রতি? আল্লাহই ওদেরকে স্থির রাখেন; অবশ্যই এতে নিদর্শন রয়েছে মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য।

৮০. এবং আল্লাহ তোমাদের গৃহকে করেন তোমাদের আবাসস্থল, আর তিনি তোমাদের জন্য পশুচর্মের তাবুর ব্যবস্থা করেন; ওটা বহনকালে (তোমাদের ভ্রমণকালে) এবং ওতে অবস্থানকালে তোমরা তা সহজে বহন করতে পার। তিনি তোমাদের জন্য ব্যবস্থা করেন ওদের পশম, লোম ও কেশ হতে কিছু কালের জন্য গৃহ সামগ্রী ও ব্যবহার উপকরণ।

৮১. আর আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তাতে তোমাদের জন্য ছায়ার ব্যবস্থা করেন এবং তিনি তোমাদের জন্য পাহাড়ে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন এবং তোমাদের জন্য ব্যবস্থা করেন পরিধেয় বস্ত্রের; ওটা তোমাদেরকে তাপ হতে রক্ষা করে এবং তিনি ব্যবস্থা করেন তোমাদের জন্য বর্মের, ওটা তোমাদেরকে যুদ্ধে রক্ষা করে; এভাবে তিনি তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করেন, যাতে তোমরা আত্মসমর্পণ কর।

৮২. অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তোমার কর্তব্য তো শুধু স্পষ্টভাবে বাণী পৌঁছে দেয়া।

৮৩. তারা আল্লাহর অনুগ্রহ জ্ঞাত আছে; কিন্তু সেগুলি তারা অস্বীকার করে এবং তাদের অধিকাংশই কাফির।

৮৪. যেদিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায় হতে এক একজন সাক্ষী উত্থিত করব, সেদিন কাফিরদেরকে অনুমতি দেয়া হবে না এবং তাদেরকে (আল্লাহর) সন্তুষ্টি লাভের সুযোগ দেয়া হবে না।

৮৫. যখন যালিমরা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে কোন বিরাম দেয়া হবে না।

৮৬. মুশরিকরা যাদেরকে (আল্লাহর) শরীক করেছিল তাদেরকে দেখে বলবে: হে আমাদের রাব্ব! এরাই তারা যাদেরকে আমরা আপনার শরীক করেছিলাম, যাদেরকে আমরা আহবান করতাম আপনার পরিবর্তে; অতঃপর তদুত্তরে তারা বলবে: তোমরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।

৮৭. সেদিন তারা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং তারা যে মিথ্যা উদ্ভাবন করত তা তাদের জন্য নিষ্ফল হবে।

৮৮. যারা কুফরী করেছে ও আল্লাহর পথ হতে বাধা দিয়েছে, আমি তাদের শাস্তির ওপর শাস্তি বৃদ্ধি করব।

৮৯. সেদিন আমি উত্থিত করব প্রত্যেক সম্প্রদায় হতে তাদের বিষয়ে এক একজন সাক্ষী এবং তোমাকে আমি আনব সাক্ষী রূপে এদের বিষয়ে; আমি আত্মসমর্পণকারীদের (মুসলিম) জন্য প্রত্যেক বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ, পথ নির্দেশ, দয়া ও সুসংবাদ স্বরূপ তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি।

৯০. নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং তিনি নিষেধ করেন অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও সীমা লংঘন করতে। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।

৯১. তোমরা আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর যখন পরস্পর অঙ্গীকার কর এবং তোমরা শপথ দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ কর না; তোমরা যা কর আল্লাহ তা জানেন।

৯২. তোমরা এমন নারীর মত হয়ো না, যে তার সূতাগুলোকে শক্ত করে পাকানোর পর নিজেই তার পাক খুলে টুকরো টুকরো করে দেয়। তোমরা তোমাদের শপথগুলোকে পারস্পরিক ব্যাপারে ধোঁকা-প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার কর, যেন একদল আরেক দল অপেক্ষা বেশি ফায়দা লাভ করতে পারে। আল্লাহ কেবল এর দ্বারা তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন। আল্লাহ ক্বিয়ামাতের দিন অবশ্য অবশ্যই স্পষ্ট করে দেবেন যে বিষয়ে তোমরা মতভেদ করতে।

৯৩. আল্লাহ ইচ্ছে করলে তোমাদেরকে অবশ্যই এক উম্মাত করে দিতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছে গুমরাহ্ করেন, আর যাকে ইচ্ছে সঠিক পথপ্রদর্শন করেন। তোমরা যা কর সে সম্পর্কে অবশ্য অবশ্যই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

৯৪. তোমরা তোমাদের নিজেদের শপথগুলোকে পরস্পর ধোঁকা-প্রবঞ্চনার উপায় হিসেবে গ্রহণ করো না, তা করলে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পা আবার পিছলে যাবে, আর আল্লাহর পথে বাধা দেয়ার কারণে তোমরা মন্দ পরিণতি ভোগ করবে, আর তোমাদের জন্য থাকবে কঠিন শাস্তি।

৯৫. তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি কর না; আল্লাহর কাছে যা আছে, শুধু তাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।

৯৬. তোমাদের কাছে যা আছে, তা নিঃশেষ হবে এবং আল্লাহর কাছে যা আছে, তা স্থায়ী; যারা ধৈর্য ধারণ করে আমি নিশ্চয়ই তাদেরকে তারা যে উত্তম কাজ করে তা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করব।

৯৭. মুমিন পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে কেহ সৎকাজ করবে, তাকে আমি নিশ্চয়ই আনন্দময় জীবন দান করব এবং তাদেরকে তাদের কর্মের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার প্রদান করব।

৯৮. যখন তুমি কুরআন পাঠ করবে, তখন অভিশপ্ত শাইতান হতে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করবে।

৯৯. তার কোনো আধিপত্য নেই তাদের ওপর যারা ঈমান আনে ও তাদের রবের ওপরই নির্ভর করে।

১০০. তার আধিপত্য শুধু তাদেরই ওপর, যারা তাকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করে এবং যারা (আল্লাহর) সাথে শরীক করে।

১০১. আমি যখন এক আয়াতের পরিবর্তে অন্য এক আয়াত উপস্থিত করি, আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন, তা তিনিই ভাল জানেন, তখন তারা বলে: তুমি তো শুধু মিথ্যা উদ্ভাবনকারী, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।

১০২. তুমি বল: তোমার রবের নিকট হতে রূহুল কুদুস (জিবরাঈল) সত্যসহ কুরআন অবতীর্ণ করেছেন যারা মু’মিন তাদেরকে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এবং হিদায়াত ও সুসংবাদ স্বরূপ আত্মসমর্পনকারীদের জন্য।

১০৩. আমিতো জানিই তারা বলেঃ তাকে শিক্ষা দেয় জনৈক ব্যক্তি। তারা যার প্রতি এটা আরোপ করে, তার ভাষা তো আরবী নয়; কিন্তু কুরআনের ভাষা স্পষ্ট আরবী ভাষা।

১০৪. যারা আল্লাহর আয়াত বিশ্বাস করে না, তাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত করেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি।

১০৫. যারা আল্লাহর নিদর্শনে বিশ্বাস করে না, তারা তো শুধু মিথ্যা উদ্ভাবক এবং তারাই মিথ্যাবাদী।

১০৬. কেউ ঈমান আনার পর আল্লাহকে অস্বীকার করলে এবং কুফরীর জন্য হৃদয় উন্মুক্ত রাখলে তার উপর আপতিত হবে আল্লাহর গযব এবং তার জন্য আছে মহা শাস্তি; তবে তার জন্য নয়, যাকে কুফরীর জন্য বাধ্য করা হয়, কিন্তু তার চিত্ত ঈমানে অবিচল।

১০৭. এটা এ জন্য যে, তারা দুনিয়ার জীবনকে আখিরাতের ওপর প্রাধান্য দেয় এবং এ জন্য যে, আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।

১০৮. ওরাই তারা, আল্লাহ যাদের অন্তর, কর্ণ ও চক্ষুর উপর মোহর করে দিয়েছেন এবং তারাই গাফিল।

১০৯. নিশ্চয়ই তারা আখিরাতে হবে ক্ষতিগ্রস্ত।

১১০. অবশ্যই তোমার প্রতিপালক তাদের জন্য যারা নির্যাতিত হওয়ার পর হিজরাত করে, অতঃপর জিহাদ করে, অতঃপর ধৈর্যধারণ করে, এ সবের পর তোমার প্রতিপালক অবশ্যই বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।

১১১. স্মরণ কর সেই দিনকে, যেদিন আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি উপস্থিত করতে আসবে প্রত্যেক ব্যক্তি এবং প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফল দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি যুলম করা হবে না।

১১২. আল্লাহ দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন এক জনপদের যা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত, যেখানে আসত সব দিক হতে প্রচুর জীবনোপকরণ; অতঃপর ওরা আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করল। ফলে তাদের কৃতকর্মের কারণে আল্লাহ তাদেরকে আস্বাদ গ্রহণ করালেন ক্ষুধা ও ভীতির।

১১৩. তাদের নিকট এসেছিল এক রাসূল তাদেরই মধ্য হতে, কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করেছিল; ফলে সীমা লংঘন করা অবস্থায় শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করল।

১১৪. আল্লাহ তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তন্মধ্যে যা বৈধ ও পবিত্র তা তোমরা আহার কর এবং তোমরা যদি শুধু আল্লাহরই ইবাদাত কর তাহলে তাঁর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

১১৫. আল্লাহ তোমাদের জন্য হারাম করেছেন মৃত জীব, রক্ত, শূকরের মাংস আর যা যবেহ করার সময় আল্লাহ ছাড়া অন্যের নাম নেয়া হয়েছে। কিন্তু কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অবাধ্য না হয়ে ও সীমালঙ্ঘন না করে নিতান্ত নিরুপায় (হয়ে এসব খেতে বাধ্য) হলে আল্লাহ তো বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।

১১৬. তোমাদের জিহবা থেকে সাধারণত যে সব মিথ্যা কথা বের হয়ে আসে, সেরূপ তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে বল না - এটা হালাল এবং ওটা হারাম। যারা আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করবে তারা সফলকাম হবে না।

১১৭. তাদের সুখসম্ভোগ সামান্য এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি।

১১৮. ইয়াহুদীদের জন্য আমি শুধু তাই নির্ধারণ করেছিলাম, যা তোমার নিকট আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি এবং আমি তাদের উপর কোন যুলম করিনি, কিন্তু তারাই যুলম করত তাদের নিজেদের প্রতি।

১১৯. যারা অজ্ঞতাবশতঃ খারাপ কাজ করে তারা পরে তাওবাহ করলে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করলে তাদের জন্য তোমার রাব্ব অবশ্যই অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

১২০. নিশ্চয়ই ইব্রাহীম ছিল এক উম্মাত আল্লাহর অনুগত, একনিষ্ঠ এবং সে ছিল না মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত।

১২১. সে ছিল আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞ; আল্লাহ তাকে মনোনীত করেছিলেন এবং তাকে পরিচালিত করেছিলেন সরল পথে।

১২২. আমি তাকে দুনিয়ায় দিয়েছিলাম মঙ্গল এবং আখিরাতেও নিশ্চয়ই সে সৎকর্মপরায়ণদের অন্যতম।

১২৩. এখন আমি তোমার প্রতি প্রত্যাদেশ করলাম, তুমি একনিষ্ঠ ইবরাহীমের ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর; এবং সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

১২৪. শনিবার পালন তো শুধু তাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, যারা এ সম্বন্ধে মতভেদ করত। যে বিষয়ে তারা মতভেদ করত তোমার রাব্ব অবশ্যই কিয়ামাত দিবসে সেই বিষয়ে তাদের মীমাংসা করে দেবেন।

১২৫. জ্ঞান-বুদ্ধি আর উত্তম উপদেশের মাধ্যমে তুমি (মানুষকে) তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান জানাও আর লোকেদের সাথে বিতর্ক কর এমন পন্থায়, যা অতি উত্তম। তোমার প্রতিপালক ভালভাবেই জানেন, কে তাঁর পথ ছেড়ে গুমরাহ হয়ে গেছে। আর কে সঠিক পথে আছে তাও তিনি বেশি জানেন।

আয়াত প্রকাশের মনোজগত: বয়কটের সময়কালীন মুহাম্মদের নতুন প্রকাশ নিয়ে আসার অনুপাত সবচেয়ে কম; চাইলে তার এই তিন বছরের খতিয়ান তিন/চারটি পর্বে শেষ করে দেওয়া সম্ভব; কিন্তু তাতে মজা নষ্ট হয়ে যাবে অনেক কিছুর! শুধু্ আজ এটুকু বলে রাখি, মুহাম্মদ সত্যিই কি চাঁদ দিখণ্ডিত করে দেখিয়েছিলেন কি না, সেটা জানতে পারবেন! কথা দিচ্ছি; মুহাম্মদের সবচেয়ে বড় মুজেজার বিষয়টি মুহাম্মদের পক্ষে থেকেই প্রমাণ করে দেবার চেষ্টা করবো আগামী পর্বে! কারণ এই ধারাবাহিকের ৪র্থ পর্বে দেওয়া কথা রাখার সময় যে হয়ে গেছে!

(চলবে)