১৯ জানু, ২০১৭

সাইমুম (উপন্যাস: পর্ব ২৬)

লিখেছেন উজান কৌরাগ


এখন অনেক রাত, চারপাশ ঝিমিয়ে পড়েছে। কম্পিউটার চালিয়ে সবে ব্লগে ঢুকেছি শাশ্বতীদির লেখাটার শেষ পর্ব পড়ার উদ্দেশ্যে, তখনই কারেন্ট চ'লে গেল। আমার ইউপিএস ব্যাকআপ দিচ্ছে না, সম্ভবত ব্যাটারি বদলাতে হবে। বারান্দার চেয়ারে এসে ব'সে আছি। হঠাৎ সন্ধ্যায় দেখা বাসের লোকটির কথা মনে পড়লো। সন্ধ্যার পর আবির আর আমি বান্দরবান ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ আর টুকিটাকি জিনিসপত্র কিনে গিয়েছিলাম শাশ্বতীদির বাসায় ভ্রমণ নিয়ে শলাপরামর্শ করতে। তো যাবার সময় আমার পাশের সিটে এক বৃদ্ধ বসেছিল, বাস ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হলো তার জিকির। লোকটা মাথা দুলিয়ে জিকির করছিল আর মাঝে মাঝে আমার দিকে তাকাচ্ছিল, তার মুখের পান-সুপারি-জর্দা পচা গন্ধে গুলিয়ে উঠছিল আমার পেট। একবার চোখে-মুখে বিরক্তি নিয়ে তাকালাম তার দিকে, অমনি তার জিকিরের শব্দ এবং গতি আরো বেড়ে গেল। মুখের দুর্গন্ধে টিকতে না পেরে বাধ্য হয়ে এক পর্যায়ে নিজেই উঠে দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। পাবলিক বাস যে জিকির করার জায়গা নয়, সেটা বোঝাতে গেলেই হয়তো বাসের অধিকাংশ যাত্রী আমার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যেতো, ফলে আমি নিজেই স'রে গেলাম। এটাও সংখ্যালঘুর প্রতি সংখ্যাগুরুর এক ধরনের নিপীড়ন।

কারেন্ট এসে গেছে। ঘরে গিয়ে কম্পিউটার চালিয়ে পুনরায় ব্লগ ওপেন ক'রে শাশ্বতীদির ওয়ালে গিয়ে লেখা পড়তে শুরু করলাম -

জন্মান্তর (শেষ পর্ব)

ও মুহূর্ত মাত্র সময় নিলো, তারপর কেঁদে ফেললো। কাঁদতে কাঁদতে পাগলের মতো আমাকে একের পর এক চুমু খেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলো, আমিও আঁকড়ে ধরলাম ওকে। শ্মশান মানবজীবনের অন্তিম বিচ্ছেদের জায়গা হলেও আমাদের দু'জনের কাছে তা হয়ে রইলো মিলনস্থল। 

অনার্সের রেজাল্ট হওয়ার পরপরই আমি ফুলটাইম চাকরিতে ঢুকে পড়ি একটা এনজিও-তে, আর অরিত্র একটা স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেয়। পড়াশোনার ক্ষতি হবে ব'লে অরিত্র'র বাড়ি থেকে ওর বাবা-মা ওকে মাস্টার্স শেষ করার পর চাকরি করার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু ও চাকরি ছাড়েনি। আসলে তখন আমরা আর হলে থাকতে চাইনি, বাসা নিয়ে নিজেদের মতো থাকতে চেয়েছিলাম, ফলে টাকার প্রয়োজন ছিল আমাদের। আমরা দুই রুমের ছোট্ট বাসা নিয়েছিলাম আজিমপুরে; একটা আমাদের থাকার ঘর, আরেকটা বসার। একটু একটু ক'রে আমরা সবকিছু নিজেদের রুচি মতো গুছিয়ে নিচ্ছিলাম, কিন্তু দুই মাসের মাথায় আমাদেরকে বাসা ছাড়তে হলো। পহেলা বৈশাখে আমি শাড়ি-চুড়ি প'রে সেজেগুজে বেরিয়েছিলাম অরিত্র'র সঙ্গে, সেই প্রথম আমি নারীর বেশ ধারণ ক'রে প্রকাশ্যে ওর সঙ্গে বের হই। আমি লাল পাড়ের সাদা শাড়ি আর লাল ব্লাউজ পরেছিলাম, নববর্ষ উপলক্ষে চাঁদনী চক থেকে কিনে অরিত্র আমায় উপহার দিয়েছিল। সেই প্রথম আমার নিজের একটা শাড়ি হলো, একদম নিজের! এর আগে আমি বাড়িতে বেশ কয়েকবার দরজা বন্ধ ক'রে মায়ের শাড়ি লুকিয়ে পরেছিলাম, তুলি ভাবীও কয়েকবার তার শাড়ি আমাকে পরিয়ে দিয়েছিল, সে-ও বদ্ধ ঘরে। নববর্ষের আগের রাতে আমি শাড়িটা হাতে নিয়ে বারবার গন্ধ শুকেছিলাম, ভীষণ উত্তেজনায় ছিলাম এই ভেবে যে, কাল আমার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে, কাল আমি আমার প্রিয়জনের উপহার দেওয়া শাড়ি প'রে তার হাত ধরেই ঘুরতে যাব। আমিও অরিত্রকে উপহার দিয়েছিলাম পাঞ্জাবি আর পাজামা। দু'জন দু'জনের উপহার দেওয়া পোশাক প'রে নববর্ষের সকালে বেরিয়েছিলাম; চাঁদি ফাটানো রোদে সারাটা দিন টিএসসি, সোহরওয়ার্দী উদ্যান, চারুকলায় ঘুরে আর নিজেদের পছন্দ মতো খাবার খেয়ে কী যে ভাল কেটেছিল আমাদের সময়! অরিত্র তো আগেও বেরিয়েছে ওর আগের প্রেমিকাকে নিয়ে, কিন্তু আমি তো প্রথম, তাই আমার উত্তেজনা আর উচ্ছ্বাস ছিল বাঁধ ভাঙা! সারাটা দিন অতুল আনন্দে কাটিয়ে বাসায় ফেরার দশ মিনিটের মধ্যেই আমাদের সারাদিনের আনন্দ মাটি করতে হাজির বাড়িওয়ালা। আমাদের বাসা ছেড়ে দিতে হবে। 

আমি তখন ভেতরের ঘরে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মাথার ফুলের মালা খুলছি। কিন্তু আমার কান অরিত্র আর বাড়িওয়ালার কথায়। অরিত্র বললো, 'আংকেল, আমরা গত মাসে উঠলাম, আর এখনই আমাদের বাসা ছেড়ে দিতে বলছেন কেন?'

'এমনিই, আমার এক আত্মীয়রে তুলুম।'

'আপনার আত্মীয়কে তুলবেন বেশ ভাল কথা, তাহলে শুধু শুধু দু'মাসের জন্য বাসা ভাড়া দিয়ে আমাদেরকে হয়রানি করলেন কেন? কী হয়েছে, বলেন তো?'

'কিছু অয় নাই, তোমরা বাসা ছাইড়া দ্যাও।' বাড়িওয়ালার কথাবার্তা শুরু থেকেই রুক্ষ। 

'বাসা ছাড়তে হলেও এ মাসে ছাড়তে পারবো না, তিনমাস সময় দিতে হবে।'

'না, তোমাদের এই মাসেই বাসা ছাড়তে অইবো।'

অরিত্র এবার বেশ চড়া গলায় বললো, 'আপনি বললেই হলো! আজকে মাসের চোদ্দ তারিখ, চোদ্দ তারিখে আপনি কোনো ভাড়াটিয়াকে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিতে পারেন না। কথা ছিল, আমরা বাসা ছাড়লে পাঁচ তারিখের মধ্যে বলতে হবে, আবার বাসা ছাড়তে হলে আপনিও আমাদেরকে পাঁচ তারিখের মধ্যে বলবেন।'

বাড়িওয়ালাও গলা চড়ালো, 'বাসা ভাড়া নেওনের সময় তোমরাও তো কইছিলা যে, তোমরা দুই বন্ধু, অহন তো দেখতাছি, তোমার লগেরডা হিজড়া; মাইয়াগো মতো কাপড় পইরা ঘর থেইকা বাইর অয়!'

শুনে আমি তো থ! শাড়ির আঁচলটা বিছানায় ফেলে সবে কোমর থেকে কুঁচিগুলো বের করেছি; থমকে গেল আমার হাত।

অরিত্র বললো, 'একজন মানুষ নিজেকে ছেলে ভাবে না মেয়ে ভাবে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। সে শাড়ি প'রে বাইরে যাবে নাকি জিন্স প'রে বাইরে যাবে, সেটাও তার ব্যক্তিগত ব্যাপার; আমি বা আপনি তার পরিচ্ছদ ঠিক ক'রে দিতে পারি না।'

'আমার বাসা আমি কারে ভাড়া দিমু আর কারে দিমু না, সেটাও আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমার বাড়িতে আমি হিজড়া ভাড়া দিমু না।' 

আমি হাতে ধ'রে থাকা কুঁচিগুলো পুনরায় কোমরে গুঁজে, আঁচলটা বিছানা থেকে কুড়িয়ে কাঁধে ফেলে দু'জনের বাক-বিতণ্ডার মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ালাম, বাড়িওয়ালা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে জোর গলায় কথা বলছে আর তার বিপরীত দিকে দাঁড়িয়ে অরিত্র। বাড়িওয়ালা আমাকে দেখে আমার দিকে আঙুল তুলে বললো, 'অয় তো একটা হিজড়া, অস্বীকার করতে পারবা? অস্বীকার করো তো পাঁচজনরে ডাক দিয়া দ্যাহাই, দেহুক সবাই অয় হিজড়া কি-না!' 

অরিত্রর চোখ-মুখ রক্তবর্ণ, বাড়িওয়ালা আবার বললো, 'অ্যাদ্দিন ওরে প্যান্ট পইরা ঘুইরা বেড়াইতে দেখছি, আইজ আবার পরছে কাপড়; ব্যাটা মানুষ আবার কাপড় পরে নি! ওরে তো আমি দাড়িও কামাইতে দেখছি, মাইয়া মানইষের মুখে দাড়ি গজায় এইডা কেউ বাপের জন্মে কেউ কুনোদিন হুনছে! পরথমে বুঝি নাই, অহন তো কিলাশ টুয়ের বাচ্চাও ওরে দেইখা বুঝবো যে, অয় একটা হিজড়া!'

অরিত্র বললো, 'পুরুষের দেহ নিয়ে জন্মালেও নিজেকে ও মেয়ে-ই মনে করে।'

'আস্তাকফিরুল্লাহ্! কয় কী, কোনো পোলায়নি নিজেরে মাইয়া ভাবে, হিজড়া কুনহানকার একটা!'

'আপনি ভদ্রভাবে কথা বলেন, অসভ্যের মতো কথা বলবেন না।'

'একটা হিজড়ারে নিয়া হুইয়া থাহো, আবার আমারে ভদ্রতা শেহাও!'

অরিত্র জোর কলায় বললো, 'আমি কাকে নিয়ে শুয়ে থাকবো সেটা আপনি ঠিক ক'রে দেবেন?'

আমি বললাম, 'আংকেল আমি একজন নারী, কেন আমি নারী - সেই ব্যাখ্যা আপনাকে দিতাম, যদি তা বোঝার মতো ন্যূনতম সুশিক্ষা আপনার থাকতো; কিন্তু আপনার সেই সুশিক্ষা নেই, সুতরাং আপনাকে বলেও কোনো লাভ নেই।'

'কী মনে করছো তোমরা, আমি অশিক্ষিত? ছিয়াত্তর সালে বি এ পাশ করছি। তহন তোমাগো জন্মও অয় নাই!'

'আপনি খেটেখুটে একটা অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেট বগলদাবা করেছেন, কিন্তু সুশিক্ষা পাননি।' 

'তুমি চুপ থাহো, বেহায়া হিজড়া কুনহানকার!' 

অরিত্র আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলো না, বিস্ফোরণ ঘটানোর মতো বললো, 'আপনি যান, আমরা এই মাসেই আপনার বাসা ছেড়ে দেব, আপনার মতো অসভ্য ইতরের বাসায় আমার আর ভাল ঘুম হবে না।' 

'মুখ সামলাইয়া কথা কও, বেয়াদ্দপ, চিনো আমারে!' 

অরিত্র বাড়িওয়ালার চোখে রক্তচক্ষু রেখে আঙুল তুলে বললো, 'আপনি যে চ্যাটের বাল হরিদাস পাল-ই হন, আপনারে বাল দিয়াও পোছার টাইম নাই আমার! বলছি বাসা ছেড়ে দেব, আর একটা কথাও বাড়াবেন না, আমার সামনের থেকে বিদায় হন।' 

'মুখ সামলাইয়া কতা কও, বেয়াদ্দপ! আমার বাসার থেইকা তুমি আমারে বাইর ক'রে দেওনের ক্যাডা?'

'আপনার বাসা আমি টাকা দিয়ে ভাড়া নিয়েছি, আপনি অসভ্যতা করলে আপনাকে বের ক'রে দেবার রাইট আমার আছে।' 

দু'জনের তর্ক-বিতর্ক শুনে বাড়িওয়ালার মেয়ে এবং স্ত্রী আমাদের দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তারাও পেছন থেকে টুকরো টুকরো বাক্য নিক্ষেপ করছে। আমি অরিত্রর কাছে গিয়ে বললাম, 'বাদ দাও, আর একটা কথাও বলবে না।'

বাড়িওয়ালার উদ্দেশে বললাম, 'আপনি যান, আমরা এক তারিখে বাসা ছেড়ে দেব।'

বাড়িওয়ালা আমার দিকে তাকালোও না। অরিত্রর দিকে তাকিয়ে বললো, 'আমি চাইলে এই মুহূর্তে তোমাগো ঘাড় ধইরা বাড়ি থেইকা বাইর কইরা দিতে পারি।'

নারাচের বিপরীতে অরিত্রও পাল্টা ব্রহ্মাস্ত্র নিক্ষেপ করলো, 'ঢাকা কলেজের হল থেকে আমার নাম এখনো কাটা যায় নাই, আপনার বাড়ি শ্মশান বানাইতে আমার ত্রিশ মিনিটও লাগবে না!' 

ব্রহ্মাস্ত্রে যে কাজ হলো, তা বুঝলাম বাড়িওয়ালার মুখাবয়বের আকস্মিক পরিবর্তন দেখে, তিনি মুখে হারতে চাইলেন না, 'আমারে হলের গুণ্ডা পোলাপাইনের ভয় দেহাও! তোমারে কী করতে পারি, জানো?' 

'আপনি যা পারেন, কইরেন; তারপরে আমিও দেখাবো, আমি কী করতে পারি!' 

বাড়িওয়ালার মেয়ে পিছন থেকে তার হাত ধ'রে টানলো, 'আব্বু চ'লে আসো, এই হলের ছেলেরা খুব ডেঞ্জারাস হয়।' 

বাড়িওয়ালাকে তার মেয়ে ঘর থেকে বের ক'রে নিয়ে গেল। এরই মধ্যে সিঁড়ির কাছে অন্য ভাড়াটিয়ারা জড়ো হয়েছে। নিচের দিকের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে একজন বললো, 'ছি ছি, ভদ্রলোকের বাসায় এসব কী! দুনিয়ায় এ কী শুরু অইলো, কেয়ামতের আর দেরি নাই!'

লোকটাকে কিছু বলার জন্য অরিত্র দরজার দিকে এগোতেই আমি ওকে হাত ধরলাম, তবু ও দরজার বাইরে গিয়ে লোকটার উদ্দেশে বললো, 'ওই তুই কোন বালের ভদ্রলোক রে, পিছন থেকে উঁকি দিয়ে কথা বলিস ক্যান, সামনে এসে কথা বল, তোর কেয়ামত এক্ষুনি দেখায়ে দেই!'

কোনো কথা না ব'লে লোকটা সুরসুর ক'রে সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেল, অন্য ভাড়াটিয়ারাও স'রে পড়লো। বাড়িওয়ালা, তার স্ত্রী আর মেয়ে গজগজ করতে করতে চ'লে গেল। অরিত্র ক্ষোভের সাথে শব্দ ক'রে দরজা বন্ধ করলো।

ওইদিনের আগে আমি ওকে কখনোই রাগ করতে দেখিনি, ও যে ওভাবে রেগে যেতে পারে, তা আমি ভাবতেও পারিনি। ও আমার অপমান হজম ক'রে বাড়িওয়ালার সাথে পুতুপুতু ভাষায় কথা না ব'লে জোর প্রতিবাদ করেছিল, এমনকি স্ল্যাং-ও ব্যবহার করেছিল; এটা যে কী ভাল লেগেছিল আমার, তা বলার নয়, ওর জন্য গর্বে বুকটা ভ'রে উঠেছিল! সেদিন আমি আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলাম, ওকে ভালবেসে আমি একটুও ভুল করিনি, প্রয়োজনে ও আমার জন্য জীবন দিতেও দ্বিধা করবে না; ও আমার জীবনের এক অমূল্য প্রাপ্তি! 

পরের মাসেই আমরা মোহাম্মদপুরে নতুন বাসায় উঠলাম। নতুন ক’রে নিজেদের মতো ক'রে সাজালাম বাসাটা। তবে আমি আর শাড়ি প'রে বাইরে বের হতাম না নতুন কোনো ঝামেলার আশঙ্কায়, এ ব্যাপারে অরিত্রও আমাকে কিছু বলতো না। 

এরপরই আরেক আঘাত পেলাম আমার বাড়ি থেকে। আব্বা-আম্মা আমার জন্য আগে থেকেই পাত্রী ঠিক ক'রে রেখেছিলেন, আব্বার ফুফাতো বোনের মেয়ে। তারা কাবিন ক'রে রাখতে চায়, তারপর দু'-একবছর পর আনুষ্ঠানিকভাবে বউকে বাড়িতে আনা হবে। শুনে আমি অবাক হইনি, কেননা আমি জানতাম, যে কোনো একদিন আমাকে এই বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেই হবে। কিন্তু নিজে থেকে কী ক'রে আব্বা-আম্মাকে খুলে বলি! আমি খুলে বললে আব্বার যে উগ্র প্রতিক্রিয়া হবে, আম্মার যে বেদনাতুর নীরবতা আর কান্না আমাকে দেখতে হবে, সেই পরিস্থিতি আমার জন্য মোটেও সুখের হবে না। তাই তুলি ভাবীর শ্মরণাপন্ন হলাম, তুলি ভাবী আগে বাড়িতে বলুক, আব্বা-আম্মা আগে প্রাথমিক ধাক্কাটা সামলাক, তারপর আমি তাদের মুখোমুখি হবো। তুলি ভাবী আমার আর অরিত্রর ব্যাপারে আগেই সব জানতো, অরিত্রকে সে দেখেছেও। সেই যে আমি যশোর থেকে চ'লে এলাম, তারপর কথা মতো ঢাকায় ফেরার পথে অরিত্র আমাদের বাড়িতে এসেছিল, তিনদিন ছিল। আমার আব্বা-আম্মা আর বুবুরা ওকে আমার বন্ধু হিসেবে খুব পছন্দ করেছিল। তখনই অরিত্রর সঙ্গে তুলি ভাবীর পরিচয় করিয়ে দিই, তাকে সব খুলে বলি, আর তখন থেকেই ওর সঙ্গেও তুলি ভাবীর দারুণ বন্ধুত্ব; যা আজো অটুট। তুলি ভাবী সম্পর্কে সব কথা আমি আগেই বলেছিলাম অরিত্রকে। শ্মশানঘাটে আমাদের নতুন জীবন শুরুর আগে থেকেই আমরা দু'জন দু'জনের অতীতের সকল কথা জানতাম। 

তুলি ভাবী বাড়িতে বলার পর আব্বা আমাকে ফোন দেননি, আমার তিন বুবু, দুই দুলাভাই আর মা ফোন দিয়েছিলেন; ছোটবুবুর তখনো বিয়ে হয়নি। আম্মা তো ফোন দিয়ে রীতিমতো কান্নাকাটি শুরু করেছিলেন। আমি তাদেরকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে, আমার শরীর যা চায়, মন যা চায়, তার ওপর তো আমি জোর করতে পারি না; তোমরা আঘাত পাবে বলেই আমি এতোদিন একথা কাউকে বলিনি বা মেয়ের মতো জীবন-যাপন করিনি; কিন্তু নিজেকে আমি মেয়ে বলেই মনে করি। তারা আমায় বাড়ি যেতে বললেন, পরদিনই গেলাম বাড়িতে। বাড়ি যাবার আগে অরিত্র আমাকে বারবার বোঝালো যে, আমি যেন কোনোভাবেই রেগে না যাই, সবাইকে ঠাণ্ডা মাথায় বোঝাই। বাড়ি গিয়ে ঘরে ঢোকামাত্র আম্মা আমাকে জড়িয়ে ধ'রে হাউ-মাউ ক'রে এমনভাবে কাঁদতে শুরু করলেন, যেন আমার কোনো মৃত্যুরোগ হয়েছে! ছোটবুবু নীরবে চোখের জল ফেললো অদূরে দাঁড়িয়ে। সেদিন বিকেলেই বড় বুবু এলো ছোটো ভাগ্নেকে সঙ্গে নিয়ে, কাজ থাকায় বড় দুলাভাই আসতে পারলেন না; সন্ধ্যায় এলেন মেজো বুবু আর মেজো দুলাভাই। আব্বার সাথে একবার মুখোমুখি দেখা হলেও আমার সাথে কথা বললেন না। আব্বা আমার কাছ থেকে লুকোতে চাইলেন, কোথায় যেন গেলেন, রাতের আগে আর বাড়ি ফিরলেন না। 

রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর আমাদের বসার ঘরে সবাই আমাকে নিয়ে বসলেন, ভাগ্নেকে অন্যঘরে শুইয়ে দেওয়া হয়েছিল আগেই। সকলেই উদ্বিগ্ন, সেটা স্বাভাবিক; কেননা আমি সবার ছোট এবং সকলেরই আদরের; সবাই যেখানে অপেক্ষায় আছে আমার একটা লাল টুকটুকে বউ দেখার, সেখানে আমি নিজেই কিনা আরেকজনের বউ হবার জন্য প্রস্তুত! যদিও তুলি ভাবী আব্বা-আম্মাকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলেছে, তবু সকলেই আমার মুখ থেকে আমার সমস্যা শুনতে চাইলেন। আব্বার সামনে আমার বলতে লজ্জা লাগলেও আমি তাদেরকে বুঝিয়ে বললাম মনোলিঙ্গ-জৈবলিঙ্গ সম্পর্কে; বোঝালাম যে আমার দেহটা পুরুষের হলেও মনটা নারীর; নিজেকে আমি নারীই মনে করি।'

আব্বা বিষন্ন এবং শান্ত কণ্ঠে বললেন, 'পুরুষ মানুষের লিঙ্গ থাকলি সে কখনো মেয়ে হয় না।'

আমি আব্বার দিকে না তাকিয়েই বললাম, 'আব্বা, হয়। এটা বৈজ্ঞানিকভবে প্রমাণিত।'

'বিজ্ঞান যদি সবকিছু প্রমাণ করতে পারতো, তালি তো হায়াত-মউত সব বৈজ্ঞানিকরাই নিয়ন্ত্রণ করতো। মানুষ আর আল্লারে না ডাকে বৈজ্ঞানিকদের আল্লাহর জায়গায় বসাতো।' 

আমার আব্বা অশিক্ষিত নন, শিক্ষিত এবং সরকারি চাকুরে। তাকে বেশি বোঝাতে গেলে তিনিও হয়তো আমাকে বলবেন যে, তুমি আমার চেয়ে বেশি বোঝো, আমি অমুক সালে বি,এ পাশ করেছি, তোমার জন্ম দিয়েছি! এরা বিজ্ঞানমনস্ক নয়, আল্লাহমনস্ক! সেন্ট মার্টিন থেকে সাঁতরে অষ্ট্রেলিয়া যাওয়া আর এদেরকে বিজ্ঞান বোঝানো একই কথা! আমি অসহায়ের মতো কথা খুঁজতে লাগলাম, কীভাবে আব্বাকে বোঝাবো তা ভাবতে লাগলাম। জীবনে এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি আমি কখনো হইনি। 

তারপর আমার ওই অসহায় অবস্থার মধ্যেই আব্বা যা বললেন, তা শুনে আমি রীতিমতো হতভম্ব হয়ে গেলাম! আব্বা গম্ভীরকণ্ঠে বললেন, 'আমি ইমাম সাহেবের সাথে কথা বলছি। তিনি বলছেন যে, ওর তো পুরুষ লিঙ্গ আছে, যার পুরুষ লিঙ্গ আছে সে কখনো মেয়ে হয় না। ওর ওপর জ্বীনের আছর পড়িছে, ঝাড়ফুঁক করলি-ই সব ঠিক হয়ে যাবেনে।'

আমি হাঁ হয়ে তাকিয়ে রইলাম আব্বার দিকে। আব্বা আবার বললেন, 'কাল রাততিরি ইমাম সাহেব দোয়া-দরুদ প'ড়ে ঝাড়ফুঁক করবার আসপেনে।' 

আমি প্রায় আর্তনাদ ক'রে উঠলাম, 'আব্বা জ্বীন-ভূত ব'লে পৃথিবীতে কিছু নেই, ঝাড়ফুঁক ক'রে জগতের কোনো রোগই নিরাময় করা সম্ভব নয়। আর আমার কোনো রোগ হয়নি, আমি সম্পূর্ণ সুস্থ।'

'জ্বীনের আছর লাগা রোগী কখনো নিজের রোগ বোঝে না। কাল ইমাম সাহেব ঝাড়ফুঁক করবার আসপি, এইটাই আমার শেষ কথা।'

আমি মেজো দুলাভাই আর বুবুদের উদ্দেশে বললাম, 'বুবু, তোমরা চুপ ক'রে আছো কেন? দুলাভাই, আপনি কিছু বলেন, আব্বা এসব কী বলে!'

বড় বুবু বললো, 'আব্বা তো ঠিকই ক'তেছে, ঝাড়ফুঁক ক'রে দ্যাহা যাক ঠিক হয় কি না!'

'বুবু. আমি তো অসুস্থ নই।'

'অসুস্থ না হলি তুই নিজেরে মেয়ে ভাবিস ক্যান'

'বুবু, আমি তো তোমাদের বুঝিয়ে বললাম। কিছু মানুষের প্রকৃতিই এমন, পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে যাদের জৈবলিঙ্গ আর মনোলিঙ্গ এক নয়; আমারও তাই।'

'বাপের জন্মে এমন আজগুবি কথা শুনি নাই!'

মেজো বুবু বললো, 'শোন, তুই আমাদের একটা ভাই, তোরে নিয়ে আমাদের কতো আশা। তাছাড়া তুই যদি এখন নিজেরে মেয়ে ভেবে মেয়েদের মতো কাপড়-চোপড় প'রে ঘুরে বেড়াস, আব্বা-আম্মার মান-সম্মান থাকবে! আমরাই কি সমাজের মানুষের কাছে মুখ দেখাতে পারবো!'

আমি তীব্র স্রোতে ভেসে খড়কুঁটো আঁকড়ে ধরার মতো মেজো দুলাভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে অসহায়ভাবে বললাম, 'দুলাভাই, আপনি কিছু বলেন, আপনি এদেরকে বোঝান।' 

আমার কলেজ শিক্ষক মেজো দুলাভাই অন্যদের বোঝাবে কী, উল্টো তিনি আমাকেই বোঝালেন, 'অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যায়! ইমাম সাহেব যখন ঝাড়ফুঁকের কথা বলেছেন, উনি এসে ঝাড়ফুঁক করুক। আর পাত্রী তো রেডি-ই আছে, খুব দ্রুতই বিয়েটা ক'রে ফেল। বিয়ের পরও যদি একই ধরনের সমস্যা ফিল করো, তাইলে আমি নিজে ভারতে নিয়ে গিয়ে তোমার ট্রিটমেন্ট করিয়ে আনবো। ট্রিটমেন্ট করালে এ ধরনের সমস্যার সমাধান সম্ভব।' 

আব্বা মেজো দুলাভাইয়ের উদ্দেশে বললেন, 'ভারতে নিয়ে ডাক্তার দেহানোয় আমার কোনো আপত্তি নাই। তয় ইমাম সাহেব যহন নিজে মুখে ঝাড়ফুঁক করার কথা বলিছেন, ঝাড়ফুঁক ক'রে দেখা যাক। আর এর মদ্যে তুমি তোমার আর ওর পাসপোর্ট-ভিসার ব্যবস্থা করো, কোলকাতায় যাও আর দিল্লী-বোম্বাই যেহানে যাবার যাও, চিকিৎসা করায়ে আনো। টাকা-পয়সা যা লাগে লাগুক, দরকার হলি জমি বেচে চিকিৎসা করাবো।' 

মাথা নিচু ক'রে বললাম, 'আব্বা, আমার তো কোনো অসুখ হয়নি যে, চিকিৎসা করাতে হবে। আমার মনোলিঙ্গের ওপর জোর কোরো না, তোমরা যদি আমার পেছনে টাকা ব্যয় করতেই চাও, তো লিঙ্গ রূপান্তর ক'রে আমি শারীরিকভাবেও মেয়ে হয়ে যাই।'

আব্বা যেন আঁতকে উঠলেন, 'আস্তাগফিরুল্লাহ, আল্লা রে, এই ছিল আমার কপালে!' 

আম্মা কাঁদতে লাগলেন, বুবুদের চোখে জলের আভাস। অনেক কথার পর শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত হলো যে, হয় আমাকে ডাক্তার দেখাতে হবে, নয়তো সমাজের মান-সম্মানের কথা চিন্তা ক'রে আমাকে আব্বার ফুফাতো বোনের মেয়েকে বিয়ে ক'রে এভাবেই সংসার করতে হবে। আমি সবার সব কথা শুনলাম, তারপর আমার কথাটি বললাম, 'তোমরা আমার মনের ওপর জোর কোরো না, হয় আমার লিঙ্গ রূপান্তরের ব্যবস্থা করো, নয়তো আমি যেমন আছি তেমনই থাকি; কিন্তু বিয়ের জন্য আমাকে জোর কোরো না। আর কালকেই আমি ঢাকা যাব, পরশু আমার অফিস আছে।' 

ব'লে আমি নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়লাম; শুয়েই রইলাম কিন্তু ঘুম আর এলো না চোখে। আমাকে ঘিরে আব্বা-আম্মা, বুবু, দুলাভাই সকলেরই ভিন্ন ভিন্ন স্বপ্ন; তাদের সেই স্বপ্নে হঠাৎ বজ্রাঘাত হয়েছে, তারা তো তাদের স্বপ্ন বাঁচানোর শত চেষ্টা চেষ্টা করবেই। শুধু কি স্বপ্ন বাঁচানোর চেষ্টা? তাদের কাছে এটা সম্মান রক্ষার চেষ্টাও। কেননা আমি নারী হতে চাইলে তারা যে সমাজে বাস করে, সেই সমাজে একটা ঘাই লাগবে আর হাজারো জলবিম্বের মতো ফুটতে থাকবে কথা, সমাজের মানুষ আড়ালে হাসি-তামাশা করবে, ঠোঁটকাটা কেউ কেউ শুনিয়ে দেবে কটু কথা; যা তাদের কাছে অপমানের-অসম্মানের। কিন্তু আমারও তো মন আছে, স্বপ্ন আছে; তাদের কাছে এটা মান-সম্মানের ব্যাপার কিন্তু আমার কাছে তো জীবনের। সমাজের কিছু অন্ধ মানুষের কথা ভেবে তো আমি আমার জীবনটা নষ্ট করতে পারি না; আমি আমার স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্ক্ষা ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারি না। তাই মনকে শক্ত ক'রে আমাকে কঠিন হতেই হয়। 

পরদিন সকালে আমি ঢাকায় আসতে গেলে, সকলেই বাধা হয়ে দাঁড়ালো; কিছুতেই তারা আমাকে ঢাকায় ফিরতে দেবে না, কেননা রাতে ইমাম আমাকে ঝাড়ফুঁক করবে। আমিও নাছোড়বান্দা, ঢাকায় আসবোই। সেই সকালেই প্রথম আমি আব্বার মুখে মুখে তর্ক করলাম। এক পর্যায়ে আব্বা বললেন, 'হয় তুমি আমাদের ছেলে হয়ে বিয়ে-থা ক'রে ঘর-সংসার করবা, নয়তো চির জীবনের জন্য তুমি এই বাড়ি থেকে চ'লে যাবা, তোমার সঙ্গে আমাদের কারো কোনো সম্পর্ক থাকবে না। আমি জানবো যে, আমাদের ছেলে ম'রে গেছে!'

জলভরা চোখ নিয়ে সেই যে আমি বাড়ি ছেড়েছি, আর আমার বাড়িতে ফেরা হয়নি। তবে বাড়ির সব খবরই আমি পাই তুলি ভাবীর কাছ থেকে। তুলি ভাবী তার কথা রেখেছে, সে এখনো আমার সই হয়েই আছে, ফোনে কথা হয় প্রায়ই। সে এখন দুই সন্তানের জননী। ইকবাল ভাই দেশে ফিরে ফরিদপুরে ব্যবসা খুলেছেন। ইকবাল ভাই তুলি ভাবীর স্বামী, যথার্থ প্রভু; বন্ধু হতে পারেনি। বাংলাদেশের আরো অসংখ্য নারীর মতো তুলি ভাবীও সমাজের কথা ভেবে, সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে কোনোরকমে মানিয়ে নিয়ে জীবনটা পার ক'রে দিচ্ছে। মাঝে মাঝেই সে তার দুঃখের ঝাঁপি খোলে আমার কাছে। আর আর নতুন ক'রে কী দুঃখের ঝাঁপি খুলবো, অরিত্রর মতো বর ক'জনের হয়! আমি ফেলি আমার হারানো শিকড়ের জন্য দীর্ঘশ্বাস! 

আব্বা তো অবসর নিয়েছে সেই কবেই। এখন আব্বা-আম্মার দায়িত্ব ছোটবুবু আর দুলাভাইয়ের ওপর, ওরা আমাদের বাড়িতেই থাকে। ছোটবুবুর বিয়ে আমি দেখিনি, আমাকে যেতে বলেনি। আমিই তুলি ভাবীর কাছ থেকে শুনে বাড়িতে ফোন করেছিলাম, আমার ফোন কেউ ধরেনি। বড়বুবুকে ফোন করেছিলাম, বড়বুবু বলেছিল, 'তোর আসার দরকার নাই।' 

আমাকে তাদের প্রয়োজন নেই, যে প্রয়োজন বা চাহিদার জন্য তারা আমাকে বড় করেছে, আমি তাদের সেই চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছি; তাহলে তারা আর শুধু শুধু আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে কেন! তাদের ছেলের প্রয়োজন ছিল, তিন মেয়ে জন্মানোর পর তাই তারা আবার সন্তান নিয়েছে, দৈহিকভাবে একটি ছেলেসন্তান পেয়ে তারা দারুণ খুশি ছিল। স্বপ্ন বুনেছিল আমাকে নিয়ে ছেলে বড় হবে, বিয়ে দিয়ে ঘরে বউ আনবে, নাতি-নাতনি হবে, বংশ রক্ষা হবে, আরো কতো স্বপ্ন! তাদের সেই স্বপ্নে আমি জল ঢেলে দিয়েছি; আসলে আমি তো ঢালিনি, ঢেলেছে প্রকৃতি। কিন্তু তারা তো সেটা বোঝেনি, বুঝতে চায়ওনি, তারা শুধু বুঝতে চেয়েছে আমি পুরুষ; তাদের পুত্রবধু চাই, নাতি-নাতনি চাই। আমি এসবের কিছুই তাদেরকে দিতে পারিনি। তাদের কাছে আমি এখন উটকো ঝামেলা, ঝামেলা তো দূরে থাকাই ভাল! 

(চলবে)