৩০ নভেম্বর, ২০১৬

খায়বার যুদ্ধ - ২০: লুটের মাল ভাগাভাগি -আল কাতিবা অঞ্চল!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৪৯): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত তেইশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) খায়বারের নিরীহ জনপদবাসীদের খুন, জখম ও বন্দী করে দাস ও যৌনদাসী রূপে রূপান্তরিত করার পর তাঁদের আল-নাটা ও আল-শিইখ অঞ্চলের সমস্ত লুণ্ঠিত সম্পদ কী প্রক্রিয়ায় তাঁর অনুসারীদের মধ্যে বিলি-বণ্টন করেছিলেন, আদি উৎসে বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই প্রাণবন্ত বর্ণনার আলোকে তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

আদি উৎসে নথিভুক্ত এই সকল অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রাণবন্ত ইতিহাসগুলোকে পরবর্তী প্রজন্মের তথাকথিত মডারেট ইসলাম-বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা (অধিকাংশই না জেনে) তাঁদের নিজেদের সুবিধামত মিথ্যাচার, তথ্য-গোপন ও তথ্য-বিকৃতির মাধ্যমে উপস্থাপন করে যুগে যুগে সাধারণ সরলপ্রাণ অজ্ঞ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করেচলেছেন (পর্ব: ৪৫); কী কারণে তাঁদের এই অসৎ প্রচেষ্টা আজও অব্যাহত আছে ও যতদিন ইসলাম বেঁচে থাকবে, ততদিন তা কী কারণে বলবত থাকবে, তার আলোচনা 'জ্ঞান তত্ত্ব (পর্ব: ১০)’ পর্বে করা হয়েছে।

এই ইতিহাসগুলো লেখা হয়েছে মুহাম্মদের মৃত্যু-পরবর্তী সবচেয়ে নিকটবর্তী সময়ে, যা এখনও সহজলভ্য। উৎসাহী পাঠকরা ইচ্ছে করলেই তা বিভিন্ন উৎস থেকে অনায়াসেই খুঁজে নিয়ে প্রকৃত তথ্য জেনে নিতে পারেন। ইসলামকে সঠিকভাবে জানতে হলে "মুহাম্মদ-কে জানতেই হবে!" এর কোনোই বিকল্প নেই। ইসলামে কোনো কোমল, মডারেট বা উগ্রবাদী শ্রেণীবিভাগ নেই! ইসলাম একটিই, আর তা হলো মুহাম্মদের ইসলাম।

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ) অব্যাহত বিস্তারিত বর্ণনার পুনরারম্ভ: [1]

‘ইবনে ওয়াকিদ বলেছেন: আমাদের মধ্যে আল-কাতিবার বিষয়টি বিতর্কিত; কেউ কেউ বলে: এটির সম্পূর্ণই ছিল আল্লাহর নবীর জন্য, মুসলমানরা এ ব্যাপারে মনক্ষুণ্ণ ছিল না। নিঃসন্দেহে তা ছিল নবীর জন্য। ইবনে ঘুফায়ের-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আবদুল্লাহ বিন নুহ, বশির বিন ইয়াসার-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মুসা বিন আমর বিন আবদুল্লাহ বিন রাফি, নিজ পিতার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইবরাহিম বিন জাফর আমাকে বলেছেন যে, এক ভাষ্যকার তাকে বলেছেন, যা তিনি বলেছেন: খায়বারে আল্লাহর নবীর এক-পঞ্চমাংশ হিস্যাটি এসেছিল আল-শিইখ ও আল-নাটা থেকে

আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আমর বিন হিযাম-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কুদামা বিন মুসা আমাকে বলেছেন, যা তিনি বলেছেন: উমর বিন আবদুল আজিজ [৬৮২-৭২০ খ্রিষ্টাব্দ] তার শাসন আমলে আমার কাছে চিঠিতে যা লিখেছিলেন, তা হলো, "আমার জন্য আল-কাতিবা বিষয়টি তদন্ত করো!" আবু বকর বলেছেন: আমি আমরা বিনতে আবদ আল-রহমানকে জিজ্ঞাসা করি, সে বলেছে: বাস্তবিকই যখন আল্লাহর নবী বানু আবি আল-হুকায়েক-এর সাথে শান্তি চুক্তি করেন, তিনি নাটা, আল-শিইখ ও আল-কাতিবা পাঁচটি ভাগে ভাগ করেন। আল-কাতিবা ছিল তারই এক অংশ। আল্লাহর নবী তা পাঁচ "ভাগে ভাগ" করেন ও তা থেকে এক ভাগ আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করেন। অতঃপর আল্লার নবী বলেন, "হে আল্লাহ, আমি তোমার অংশটি আল-কাতিবা এলাকায় নির্ধারণ করবো।" প্রথমেই যে ভাগটি নির্ধারণ করা হয়, তাতে লেখা ছিল আল-কাতিবা। সুতরাং আল-কাতিবা ছিল আল্লাহর নবীর এক-পঞ্চমাংশ অন্যান্য অংশগুলো চিহ্নিত করা হয়নি।  সেগুলো ছিল মুসলমানদের জন্য আঠারটি ভাগে ভাগ করা। আবু বকর বলেছেন: আমি উমর বিন আবদুল আজিজ-কে এই বিষয়টি লিখে জানাই।"  [3]

হিযাম বিন সা'দ বিন মুহায়েয়িসা হইতে > আবু মালিক হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আবু বকর বিন আবি সাবরা আমাকে জানিয়েছেন, তিনি যা বলেছেন: যখন আল্লাহর নবীর অংশটি গ্রহণ করা হয়, আল-শিইখ ও আল-নাটা মুসলমানদের জন্য সমভাবে চার-পঞ্চমাংশ হিস্যার অংশ হিসাবে অধিষ্ঠিত হয়।

সা'ইদ বিন আল-মুসায়েব হইতে > আবু মালিক আল-হিমায়েরি হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আবদুল্লাহ বিন আউন; এবং আল-যুহরি হইতে হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মুহাম্মদ আমাকে জানিয়েছেন। তারা যা বলেছেন: আল-কাতিবা ছিল আল্লাহর নবীর এক-পঞ্চমাংশ হিস্যার অংশ। তিনি বলেন: আল্লাহর নবী আল-কাতিবা অংশ থেকে খাবার খান ও তা থেকে তাঁর পরিবারের খরচ প্রদান করেন।

ইবনে ওয়াকিদ বলেন: আমাদের সঙ্গে যা নিশ্চিত করা হয়েছে, তা হলো - খায়বারে এটিই ছিল আল্লাহর নবীর এক-পঞ্চমাংশ হিস্যা। আল্লাহর নবী শুধুমাত্র আল-নাটা ও আল-শিইখ থেকেই খাবার খাননি, তিনি সেখানে মুসলমানদের জন্য হিস্যা নির্ধারণ করেন। আল-কাতিবা ছিল সেই স্থান, যেখান থেকে তিনি খাবার খেয়েছিলেন। যা অনুমান করা হয়, তা হলো - আল-কাতিবায় আট হাজার ব্যারেল খেজুর ছিল। তার অর্ধেক ছিল ইহুদিদের জন্য, অর্থাৎ চার হাজার ব্যারেল। আল-কাতিবায় বার্লি বপন করা হয়েছিল ও সেখান থেকে কাটা হয়েছিল তিন হাজার পরিমাপ, যার অর্ধেক ছিল আল্লার নবীর জন্য; অর্থাৎ, দেড় হাজার পরিমাপ বার্লি। সেখানে ছিল খেজুরের বিচি, সম্ভবতঃ যা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল প্রায় এক হাজার পরিমাপ; যার অর্ধেক ছিল আল্লাহর নবীর জন্য। আল্লাহর নবী এই সমস্ত বার্লি, খেজুর ও খেজুরের বিচি থেকে মুসলমানদের দান করেন।'---- [*]

[[*] বানু নাদির (পর্ব: ৫২ ও ৭৫) গোত্র  বানু কেইনুকা গোত্র উচ্ছেদের (পর্ব-৫১) মতই মুহাম্মদ খায়বারের ইহুদিদেরও ভিটে-মাটি থেকে বিতাড়িত করতে চেয়েছিলেন, তাঁরা রক্ষা পেয়েছিলেন এই শর্তে যে, তাঁরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের গ্রাস করা “তাঁদেরই জমিতে ফল ও ফসল উৎপাদন” করে উৎপন্ন সেই ফল ও ফসলের অর্ধেকই (৫০ শতাংশ) তাঁদের ভূমির এই নব্য মালিকদের দিয়ে দেবেন। এ বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা "খায়বারে ইহুদিদের পরিণতি!" পর্বে করা হবে।]

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা: [2]

'অতঃপর আল্লাহর নবী আল-কাতিবার অংশ, যেটি ছিল খাস উপত্যকায়, তাঁর আত্মীয়-স্বজন, স্ত্রী ও অন্যান্য পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে বণ্টন করেন। তিনি তা প্রদান করেন তাঁর

বুদ্ধু বৌদ্ধ ভিক্ষুদ্বয়

বৌদ্ধধর্মের করুণার দেবী (দেবতা-দেবী তো ধর্মেই থাকে, নাকি?) Guanyin-এর মূর্তির কাছে পৌঁছতে এই দুই বুদ্ধু বৌদ্ধ হামাগুড়ি দিয়ে পাড়ি দেবে মাত্র ৫০০ মাইল পথ! (সংবাদটি পুরনো)


শুধু কি তাই? প্রতি তৃতীয় পদক্ষেপ (নাকি হাঁটুক্ষেপ) নেয়ার পর তারা থামবে, তারপর দেবীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে মাথা নোয়াবে।... গাঁড়োল-গবেট-গাণ্ডু ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা...

আরও এক দল বুদ্ধু চলেছে তীর্থযাত্রায়। এদের যাত্রাপদ্ধতিও উৎকট। এ থেকে রেহাই নেই শিশুদেরও...

ভিডিও লিংক: https://youtu.be/5S9ABnRvqDk

ইছলাম অনুমোদিত শঠতা

২৯ নভেম্বর, ২০১৬

আত্মহত্যার চেষ্টা করা সুন্নত

মমিন ভাই ও বোনেরা, আপনারা কি জানেন যে, আত্মহত্যার উপর্যুপরি উদ্যোগ নেয়া সুন্নত? কারণ ইছলামীর নবী আত্মহত্যার কথা ভেবেছে অনেকবার, চেষ্টাও করেছে আত্মহননের।... স্বীকৃত ইছলামী তথ্যসূত্রগুলো থেকেই এই তথ্য পাওয়া যায়। ভিডিও দেখে নিশ্চিত হয়ে নিন।... বলে রাখা দরকার, ভিডিওটি বানিয়েছেন এক মমিন খ্রিষ্টান। তবে ভিডিওতে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা গাওয়া হয়নি এবং সম্পূর্ণভাবে ছহীহ ইছলামী দলিল ব্যবহার করা হয়েছে।

ভিডিও লিংক: https://youtu.be/nmaJJ9-SOgg

ক্যাথলিক ঈমানদণ্ড

যৌবন বিগত, ধর্ম আগত

লিখেছেন উজান কৌরাগ


না-জায়েজ ছবিটাতে সংগীতশিল্পী তিমির নন্দীর পাশে নজরুলসঙ্গীত শিল্পী ফাতেমাতুজ জোহরা; আধুনিক সহি মুসলিম নারী! বেশ কয়েক বছর ধরেই তিনি সহি লাইনে আছেন। আজকাল দেখি আবার নতুন ভেক ধরেছেন মাথায় হিজাব (এটাকে কী বলে?) বেঁধে। ইনিয়ে-বিনিয়ে এমনভাবে কথা বলেন, মনে হয় যেন মাত্রই আল্লাহ্'র সাথে সাক্ষাৎ করে এলেন। অথচ তিনি গান করেন, যা ইসলামে হারাম; ভ্রু প্লাক করেছেন, যা ইসলামে হারাম; মুখে রঙ মেখেছেন, যা ইসলামে হারাম; মুখ বের করে রেখেছেন, যা ইসলামে হারাম; পরপুরুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, যা ইসলামে হারাম; ক্যামেরার সামনে বসে গান গেয়েছেন, দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন, যা ইসলামে হারাম!


এক সময় তিনি এলোচুলে, বাহারি সাজে ক্যামেরার সামনে কিংবা খোলা মঞ্চে গান পরিবেশন করেছেন। তখন গান শোনার পাশাপাশি মানুষ তার শারীরিক সৌন্দর্যও অবলোকন করেছে, কিন্তু তখন তিনি মাথায় হিজাব পরেননি। তখন তাঁর যৌবন ছিল, পুরুষেরা তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হলে সেই বয়সেই হওয়ার কথা; এখন তার যৌবন বিগত, এই বয়সের নারীদেরকে অতি বৃদ্ধরাও বোধহয় খুব কমই কামনা করে, তরুণেরাও শ্রদ্ধা করে; অথচ এখনই তিনি সহি ভেক ধারণ করেছেন। যৌবনে শারীরিক সৌন্দর্য দেখিয়ে, রঙিন লাইটের সামনে কালো চুলের রোশনাই ছড়িয়ে হাজারো পুরুষের সামনে দুলে দুলে গান গেয়ে টাকা কামিয়েছেন, আরাম-আয়েসে বিলাসী জীবন-যাপন করেছেন; আর এখন পড়তি সৌন্দর্য, পক্ককেশ ঢেকে সহি মুসলমানিত্ব জাহির করছেন! একটা পোশাক পরা মানুষের ব্যক্তিগত রুচির ব্যাপার; কে কী পরবে না পরবে তা অন্য কেউ ঠিক করে দিতে পারে না। কিন্তু বেশভূষার কিছু কিছু পরিবর্তন মানুষের ভেতরের ভণ্ডামিকে প্রকট করে তোলে; তখন আর কিছু না বলে মুখ বুজে থাকা যায় না। বাংলাদেশে অধিকংশ মানুষের মধ্যেই এটা একটা কমন ব্যাপার যে, যৌবনে যারা খুন, ধর্ষণ, দুর্নীতি, যথেচ্ছ যৌনাচার-ব্যভিচার, উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন, অসৎ পথে টাকা রোজগার ইত্যাদি করেছেন, একটা বয়সের পরে এরাই আবার পরম ধার্মিক সেজে ধর্মেকর্মে মন দিয়েছেন বা ধর্মরক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। 

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এখন ফাতেমাতুজ জোহরা স্টাইলটাই চলছে, চলছে নিজেকে সহি মুসলমান প্রমাণের তুমুল প্রচেষ্টা; কি ছেল কি মেয়ে, যৌবন ফুরোলে সবাই সহি মুসলমান! আজকাল শুটিং ইউনিট, থিয়েটার, সঙ্গীত সংগঠন, আবৃত্তি দল ইত্যাদি সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোতে রোজার মাসে কাজ বাদ দিয়ে ইফতার এবং ঘটা করে ইফতার পার্টির হিড়িক পড়ে যায়, যেটা বিশ বছর আগেও এতোটা প্রকট ছিল না। যে নায়িকা কোমর দুলিয়ে, পরপুরুষের বক্ষে পেষিত হয়ে নাচানাচি করে, কিন্তু দিন শেষে সেও ফেইসবুকে পোস্ট দেয় -'ইসলাম শান্তির ধর্ম। নামাজ পড়ুন, রোজা রাখুন।' এইসব ভণ্ড চরিত্রে আজ ভীষণ ভারী হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের বুক। 

ভণ্ড ফাতেমাতুজ জোহরার মধ্যে আমি পুরো বাংলাদেশটাকে দেখতে পাই! একাত্তরে জন্ম নেওয়া একটি স্বাধীন-সুন্দর-সৌন্দর্যে ভরপুর বাংলাদেশ মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে ধর্মীয় কলুষতা, সাম্প্রদায়িকতা, হিংস্রতার বিষবাষ্পে পতিত হতে হতে মহাপতনের দিকে ধাবিত হয়েছে। অবাক হবো না, যদি দু'দশক পরে দেখি নারীরা হিজাব পরে সিনেমা করছে, গান গাইছে, আবৃত্তি করছে, মঞ্চে অভিনয় করছে। ভণ্ডামির চূড়ান্ত মঞ্চের দিকে আমরা ধাবিত হচ্ছি। তবে এই ভণ্ডামিও খুব বেশি বছর দীর্ঘায়িত হবে না, কারণ একটা পর্যায়ে হিজাব কেন, বোরখা পরেও নাচতে-গাইতে-অভিনয় করতে দেবে না; গৃহবন্দী হওয়াই এদেশের নারীদের ভবিতব্য। তবু আমাদের বলতেই হবে, ইসলাম শান্তির ধর্ম। আরো শান্তি আসছে, সুদিন আসছে...

* যৌথ ছবিটা তিমির নন্দীর ফেইসবুক ওয়াল থেকে এবং অন্যগুলো গুগল থেকে সংগৃহীত।

বুরকা অ্যান্ড দ্য বিচ – ৩০

বিকিনিবহুল সমুদ্রতীর বা অন্যান্য রৌদ্রস্নানস্থলে বোরখাপরিহিতাদের অবস্থান বড়োই বেমানান, দৃষ্টিকটু, অশোভন এবং অশালীনও বটে। সেখানে তোলা কিছু ছবির সংকলন "বুরকা অ্যান্ড দ্য বিচ" ("বিচ" বানান কিন্তু beach. খিয়াল কৈরা!)।


২৮ নভেম্বর, ২০১৬

সত্যিকারের ডাইনিদের গল্প - ৩

লিখেছেন সরকার আশেক মাহমুদ

(ছোটবেলার রূপকথার বইতে জঙ্গলে হারিয়ে যাওয়া ভাই-বোনদের ডাইনি বুড়ির খপ্পরে পড়ার কাহিনী আপনারা সবাই হয়ত পড়েছেন। অথবা শুনেছেন হয়ত, ঝাড়ুতে ভর করে কীভাবে কীভাবে জাদুকরী উড়ে যেতে পারে আকাশে। আধুনিক রূপকথার হ্যারি পটারের কাহিনীতেও আমরা জাদুর বলে ঝাড়ুতে ভর করে উড়ে যাবার দৃশ্য দেখতে পেয়েছি। এই গল্পগুলো আমাদের জন্য যতই বিনোদনদায়ক হোক না কেন, এই জাতীয় গল্পের ঐতিহাসিক উৎসস্থলে ফিরে গেলে আমাদের নৃশংসতা আর বর্বরতা দেখে আঁতকে উঠতে হবে। মানুষের অজ্ঞতার যুগে ধর্মান্ধতার বাড়াবাড়ি পশ্চিমা বিশ্বের মানুষকেও কীভাবে ভয়ানক বর্বরতার দিকে ঠেলে দিয়েছিল, তা থেকে উঠে আসা পশ্চিমা বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে তুলনা করতে গেলে যা কিনা অভাবনীয় মনে হবে। সেই সাথে আমাদের ভাবতে সাহায্য করে - আমাদের অজ্ঞতা, অন্ধবিশ্বাস এবং অযৌক্তিক ভীতি কীভাবে আমাদের ঠেলে দিতে পারে সহিংসতার দিকে।)

ডাইনি গল্প তিন: অষ্ট্রিয়া 

কোনো ডাইনিকে বাঁচতে দিয়ো না। (বাইবেল, যাত্রাপুস্তক ২২:১৮)

১৬৭৫ সাল থেকে ১৬৯০ সাল ব্যাপী অস্ট্রিয়ার Salzburg-এর একটা ঘটনা। ১৬৭৫ সালে Barbara Kollerin নাম্নী এক মহিলাকে চুরির এবং জাদু করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল। নির্যাতনের সময় সে স্বীকার করল যে, তার ছেলে Paul Jacob Koller শয়তানের সাথে আঁতাত করেছে এবং তার সঙ্গী এই বিষয়ে স্বীকারোক্তি প্রকাশ করে বর্ণনা করে এবং বলে, জেকব একজন ২০ বছর বয়সের যুবক এবং তার মা তাকে চুরি, ভিক্ষা করা এবং প্রতারণা করা শিখিয়েছে। Barbara Kollerin-কে ১৬৭৫ সালে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় এবং কর্তৃপক্ষ তার ছেলেকে গ্রেফতারের জন্য হুলিয়া জারি করে এবং কালক্রমে এই জেকব Wizard Jackl or Magician Jackl বা Jäckel নামে পরিচিত হয়। (জার্মান - Schinderjackl /"Zaubererjackl")

দ্বীনবানের দীন বাণী - ৫০

ভিডিওসূত্র: https://youtu.be/UhQuUSNkxRM?t=4m18s

প্রাসঙ্গিক জ্ঞাতব্য: পৃথিবীর ওজন 6,000,000,000, 000,000,000,000,000 কিলোগ্রাম। এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের গড়পড়তা ওজন ৬২ কিলোগ্রাম।

পুতুলের হক কথা - ২৫

লিখেছেন পুতুল হক

৯৭.
ইবনে ইসহাক রচিত সিরাতে রাসুলুল্লাহ মুসলিম সমাজে রাসুলের জীবনচরিত হিসেবে খুবই সমাদৃত বই। মুসলিম পণ্ডিতগণ বিভিন্ন সময়ে এই বই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করেন। এই বইয়ের একটি ঘটনা বলছি।

সুহাইলি, রর.৭৯: ইউনুছের রেওওয়ায়েত কর্তৃক রেকর্ডকৃত: 
নবী তাঁকে (উম আল-ফজলকে) দেখেন যখন সে তাঁর সামনে হামাগুড়ি দিচ্ছিল। তিনি বলেন,-‘যদি সে বড় হয় এবং আমি তখনও বেঁচে থাকি, আমি তাঁকে বিয়ে করবো’; কিন্তু সে বড় হবার আগেই নবী ইন্তেকাল করেন এবং সুফিয়ান বীণ আল-আসওয়াদ বীণ আব্দুল আসাদ আল-মাখজুমির সাথে তাঁর বিয়ে হয় এবং সুফিয়ানের ঔরসে রিজক এবং লুবাবা নামে দুটি সন্তান জন্মে। (পৃষ্ঠা নং ৩১১)
পাক্কা মুসলিমের কাছে আমাদের হামাগুড়ি দেয়া শিশুরাও নিরাপদ নয়। এইসব বাচ্চাদের দেখে মুমিনের অন্তরে যৌনক্ষুধা জাগে। তবে বেচারি উম আল-ফজলের ক্ষেত্রে মহানবী উদারতা দেখিয়েছেন, কারণ তিনি ইচ্ছে করলে তৎক্ষণাৎ তাঁকে বিয়ে করতে পারতেন। ইসলামে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষরা দুগ্ধপোষ্য শিশুদের বিয়ে করতে পারে। 

এখন আধুনিক মুসলমান যদি বলে যে, এসব প্রাচীন ঘটনা, এখন আর এমন হয় না, তাহলে কিন্তু একটা কথা আসে। কোরআনকে সর্বকালের জীবনবিধান আর রাসুলের হাদিস যদি হয় চিরদিনের জন্য অনুকরণীয়, তাহলে এসব অবশ্যই ঘটবে। কোরআন আর হাদিস অনুযায়ী এক সহি মুসলমানের ইসলামিক বাংলাদেশের স্বপ্ন কি তারা দেখেন না? তারা কি চান না এই দেশে ইসলামী আইনের শাসন? রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় যদি ইসলাম আসে তাকে কি কেটে-ছেঁটে বনসাই করে রাখবেন? তা কী করে সম্ভব! আল্লা কি তার অনুমতি দিয়েছে?

৯৮.
এক পরহেজগার আপাকে তার হাবি সুরা নিসা আয়াত পড়ে শোনায়। আপা পাল্টা আয়াত তন্নতন্ন করে খোঁজে কোরানে। আছে কি এমন কোনো আয়াত, যেটা আপার উপকারে আসবে?

৯৯.
দিকে দিকে মুমিনারা শরিয়া আইনের জয়গান গাইছে শুনি। এতো সম্মান তারা রাখবে কই? এই আইনের প্রয়োজনীয় কিছু দিক তুলে ধরি:

১) স্ত্রীর ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের জন্য দরকারি বস্তুসমূহ: স্ত্রী তার কেশবিন্যাসের জন্য তেল, শ্যাম্পু, সাবান, চিরুনি পাবে। (যা সেই শহরে সচরাচর ব্যবহার হয়) স্বামীকে তার স্ত্রীর বগলের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য যে সুগন্ধির প্রয়োজন, তা দিতে হবে। যৌনসঙ্গমের পূর্বে ও পরে স্ত্রীর গোসলের যে পানি দরকার, তা স্বামীকে দিতে হবে। সন্তানপ্রসবের পরে রক্ত ধৌত করার জন্য যে পানির প্রয়োজন, তাও স্বামীকে দিতে হবে। এই দু'টি কারণ ছাড়া স্বামী তার স্ত্রীকে সাধারণ গোসল অথবা ধৌতের জন্যে যে পানির প্রয়োজন, তার খরচ দিতে বাধ্য থাকবে না।

২) স্বামী তার স্ত্রীর প্রসাধন সামগ্রী, চিকিৎসকের খরচ, ঔষধের খরচ অথবা এই ধরনের অন্যান্য খরচ বহন করতে বাধ্য থাকবে না, যদিও স্বামী চাইলে তা করতে পারে। এটা শুধু সুপারিশ, বাধ্যবাধকতা নয়। কিন্তু শিশু জন্মের সাথে জড়িত খরচ স্বামীকে বহন করতে হবে।

৩) দৈনিক ভাতা শুরু হবে দিনের শুরুতে। স্বামী তার স্ত্রীকে দিনের প্রথমে স্ত্রীর দৈনিক ভাতা দিতে বাধ্য থাকবে। মরশুমের শুরুতেই স্বামী তার স্ত্রীকে পোশাকের কাপড় দিয়ে দেবে।

৪) স্ত্রীর ভরণপোষণ স্বামী সে পর্যন্তই বহন করবে, যে পর্যন্ত চাহিবার মাত্র স্ত্রী তার স্বামীকে দেহদান করে অথবা দেহদানের প্রস্তুতি দেখায়। এর অর্থ হচ্ছে স্ত্রী স্বামীকে পূর্ণ যৌন-উপভোগ করতে দিবে এবং কোনো অবস্থাতেই স্বামীর যৌন চাহিদার প্রত্যাখ্যান করবে না। স্বামীর ভরণপোষণ স্ত্রী পাবেনা যখন:
- স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য হবে, তার মানে যখন স্ত্রী স্বামীর আদেশ অমান্য করবে এক মুহূর্তের জন্যে হলেও।
- স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে ভ্রমণে যায় অথবা স্বামীর অনুমতি নেয়, কিন্তু ভ্রমণ করে নিজের প্রয়োজনে।
- স্ত্রী হজ্জ অথবা ওমরা করার উদ্দেশ্যে এহরাম করে।
- স্ত্রী যদি স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে নফল রোজা রাখে।

কোলাজ-লজ্জাহীন

২৭ নভেম্বর, ২০১৬

খেলছো যারে লইয়া

শিশুশিকারী ধর্মগুলো

ঘোর শৈশবেই শিশুদের ওপরে ধর্ম চাপিয়ে না দিয়ে এবং তাদের মগজধোলাই না করে তাদেরকে ধর্মসংশ্লেষমুক্ত শৈশব-কৈশোর পার করার সুযোগ দিয়ে কেবল প্রাপ্তমনস্ক হবার পর সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় কোনও ধর্ম বা ধর্মে-অবিশ্বাস বেছে নিতে বলার মুরোদ কোনও ধর্মেরই নেই। কারণ ধর্মগুলো খুব ভালো করেই জানে, এর ফলে তাদের আশু বিলুপ্তি অনিবার্য হয়ে উঠবে। 

বিশ্বাসের দরজায় করাঘাত!: পর্ব ০৮ – (গ-তে গান, ব-তে বাজনা!)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


বছর তিনেক আগের ঘটনা। এক লালন-ভক্তের সাথে আড্ডা হচ্ছিলো; দারুণ তাঁর গানের কন্ঠ, ‘মিলন হবে কত দিনে’- বলে যখন গলায় টান দিচ্ছিলেন, বুকের ভেতরটা হু-হু করে উঠেছিলো! আর যখন শুনি ‘জাত গেলো, জাত গেলো বলে এ কি আজব কারখানা’, তখন লালনের প্রশংসা করতে ইচ্ছে করে। চা-সিঙ্গারা-একতারা আর গানে যখন আসর সরগরম, তখনই মাগরিবের আজান দিয়ে দিলো। 

লালন-ভক্ত বলে উঠলেন, ‘ভাই ২০ মিনিটের একটা ব্রেক নিয়ে নামাজটা পড়ে আসি!’ 
আমি বেদ্বীন-কাফের মানুষ বলে উঠলাম, ‘এতক্ষণ হারামের চর্চা করে নামাজ পড়লে সেটা কি কবুল হবে?’ 

লালন-ভক্তের ক্ষোভের কারণ হয়ে গেলাম সাথে সাথেই। আমার ইসলামী জ্ঞান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বললেন, ‘কে বলছে গান-বাজনা হারাম! আপনাকে তো যথেষ্ট বুঝদার বলেই জানতাম। কী প্রমাণ দিতে পারবেন হাদিস-কোরআন থেকে?’ 

আমি বললাম: ‘দেখুন, যেহেতু এই গবেষণা নিয়েই সময় কাটে বেশির ভাগ, পকেটেই সকল বিষয়ের সকল প্রমাণ থাকে সবসময়; আপনি নামাজ পড়ে আসুন!’

তারপরের ঘটনা সংক্ষিপ্ত: মোবাইলে হাদিস-কোরআন-তাফসীর সহ প্রয়োজনীয় তথ্যসূত্রের সংগ্রহ থাকে সবসময়ই, সেখান থেকে তাঁকে যা দেখিয়েছিলাম, তাই আজ আপনাদের দেখাবো।

কোরআনে আছে: ‘মানুষের মাঝে কেউ কেউ এমন আছে, যে আল্লাহর রাস্তা (ইসলাম) হতে বিচ্যুত করার জন্য অসার কথাবার্তা (গান-বাজনা) খরিদ/সংগ্রহ করে’ (সূরা লোকমান, আয়াত ৬): সাহাবী ইবনে মাসঊদ, আল্লাহর কসম করে বলেছেন, উক্ত আয়াতে ‘অসার কথাবার্তা’ বলতে গানকে বুঝানো হয়েছে। [১]

নবী মুহাম্মদ বলেছেন,
‘অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে এমন অনেক গোষ্ঠী হবে,
যারা স্বাধীন মানুষের কেনা-বেচা, রেশম ব্যবহার, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল গণ্য করবে’। [২]

নবী মুহাম্মদ আরও বলেছেন,
‘অবশ্যই এই উম্মতের মধ্যে ভূমিধ্বস, আসমান থেকে নিক্ষিপ্ত গযব 
ও দৈহিক রূপান্তরের শাস্তির প্রাদুর্ভাব দেখা দিবে। 
এসব তখনই ঘটবে যখন তারা মদ্যপান শুরু করবে, গায়িকা রাখবে ও বাদ্যযন্ত্র বাজাবে’। [৩]

নবী মুহাম্মদ ঢোল-তবলা বাজাতে নিষেধ করেছেন। [৪]
এবং বাঁশিকে দুষ্ট লোক ও বোকার কণ্ঠস্বর নামে আখ্যায়িত করেছেন। [৫]

ইসলাম অনুসারে অসার ক্রীড়া-কৌতুক, গান-বাজনা এবং তাতে ব্যবহৃত যন্ত্রাদি হারাম; যেমন- তানপুরা, সারেঙ্গি, মন্দিরা, বাঁশি, তবলা, বেহালা, একতারা, দোতারা, হার্প, পিয়ানো, গিটার, ম্যান্ডোলিন ইত্যাদি।

এমনকি কোরআন-হাদীসে নিষিদ্ধ তৎকালীন বাদ্যযন্ত্র থেকে বর্তমানের যন্ত্রগুলো বেশি মোহ ও তন্ময়তা সৃষ্টি করে। এমনকি বাদ্যযন্ত্রের নেশা মদের নেশা থেকেও অনেক বড় হয়ে দাঁড়ায়। আর যদি বাদ্যযন্ত্রের সাথে গান ও সুর সংযোজিত হয় তাহলে পাপের পরিধি বেড়ে যায়, হারামও কঠিন হয়। সেই সাথে গানের কথাগুলি যদি প্রেম-ভালবাসা, রূপচর্চা, যৌন-উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী বিষয়ে হয়, তাহলে তো কথাই নেই।

তবে আপনার মত সুবিধাবাদীরা বলেন: গান দ্বারা যদি আল্লাহ ও রাসূলের প্রশংসা করা হয়, জিহাদের প্রতি অনুপ্রাণিত করা হয়, ইসলামের অনুশাসন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা হয়, চরিত্র গঠনের চেষ্টা করা হয়, পাপ-পঙ্কিলতা থেকে নিরুৎসাহিত করা হয়, তাহলে বাদ্যযন্ত্রবিহীন এ জাতীয় গান বৈধ। যদিও এটা মেনে নেওয়া মানে পানিতে নেমে না ভিজেই গোসল সেরে উঠতে পারা! 

আমি আমার প্রমাণ দিলাম, এবার আপনি প্রমাণ করুন, কোরআন-হাদীস অনুসারে - গ-তে গান, ব-তে বাজনা হালাল।

তাঁর সাথে আমার দেখা হয়নি আর, তবে গান-বাজনাপ্রিয় মুমিন-মুসলিম ভাই-বোনদের কাছে প্রশ্নটা করার লোভ সংবরণ করতে পারছি না আজ! 

প্রমাণ দেখান, গান-বাজনা হালাল; কারণ আপনার মত গান-বাজনা আমারও প্রিয়!

তথ্যসূত্র:
[১]. তাফসীরে ইবনু কাছীর ৬/৩৩৩ পৃষ্ঠা।
[২]. বুখারী; মিশকাত হাদীস/৫৩৪৩।
[৩]. তিরমিযী হাদীস /২১৮৫; সিলসিলা ছহীহাহ হাদীস /২২০৩।
[৪]. বায়হাক্বী, মিশকাত হাদীস /৪৫০৩; ছহীহুল জামে হাদীস/১৭৪৭-৪৮।
[৫]. তিরমিযী হাদীস /১০০৫; ছহীহুল জামে হাদীস /৫১৯৪। 

(চলবে)

ইছলামী বিগ্যান: ভ্রূণতত্ত্ব

২৬ নভেম্বর, ২০১৬

দোয়াবাজি

সাইমুম (উপন্যাস: পর্ব ১৪)


ব্যথা ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আমি উড়ছি, অতিক্রম করছি ব্র‏হ্মপুত্র, পদ্মা, ভাগীরথী, গঙ্গা, যমুনা আরও কতো শত নদ-নদী ও জনপদ; উড়ে যাচ্ছি আরো অতীতের দিকে, নিগূঢ় শেকড়ের সন্ধানে। পাহাড়, সমভূমি, মরুভূমির ওপর দিয়ে অনবরত উড়ে চলেছি আমি এক মুক্ত হলদে পাখি, দু'ডানায় ক্লান্তি ভর করলে জিরিয়ে নিচ্ছি কোনো পাহাড়ি ঝিরির পাশের তেঁতুল কি হরিতকী কিংবা নাম-না-জানা কোনো বৃক্ষশাখায় বসে, ঝিরির জল পান ক’রে তৃষ্ণা মিটাচ্ছি; কখনো বা বসছি কোনো নদীর পারের বটবৃক্ষের ডালে, নিচে নেমে ঠোঁট ডুবিয়ে আকন্ঠ পান করছি নদীর জল; রাজস্থানের তপ্ত মরুভূমির কোনো কিনারের পাথর চুইয়ে পড়া ফোঁটা ফোঁটা জলে দূর করছি বুকের খরা। তারপর আবার উড়ছি, কেবলই উড়ছি অতীতের দিকে। উড়তে উড়তে সিন্ধু নদী পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম ৭১৩ খ্রিষ্টাব্দের বসন্তে সিন্ধু রাজ্যের দেবল বন্দরে। বন্দর সংলগ্ন এলাকায় এক পাক উড়ে এসে বসলাম বন্দরের কাছের এক পুরাতন উঁচু অশ্বত্থের মগডালে, এখনো কোথাও কোথাও রয়েছে ধ্বংসের চি‎‎হ্ন; গত বছর জুন মাসে ব্রাহ্মণ রাজা দাহিরকে পরাজিত ক’রে দেবল নগরী দখল করেছে মোহাম্মদ বিন কাশিম। আমি উড়াল দিলাম নগরীর ভেতরের দিকে; কোথাও ঘরবাড়ির পোড়া কাঠামো, কোথাও বড় বড় প্রসাদ কিংবা মন্দিরের ধ্বংসস্তুপ চোখে পড়লো; কোথাও পুরাতন প্রাসাদের জায়গায় তৈরি করা হচ্ছে নতুন নতুন ইমারত, মন্দিরের জায়গায় নির্মাণ করা হচ্ছে মসজিদ এবং উঁচু মিনার। আমি একটি পিপুলগাছে বসে দেখলাম, এক জায়গায় বিশাল একটি মন্দির ধ্বংস করার পর সেই মন্দিরের পাথর এবং অন্যান্য মাল-মসলা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিশাল মসজিদ। ভারতীয় নব্য মুসলমান ক্রীতদাস কারিগররা ত্রস্ত হয়ে ব্যস্ত হাতে মসজিদ নির্মাণের কাজ করছে; নিকট অতীতে এদের কাউকে অজিত থেকে আজিজ, কাউকে নকুল থেকে কবিরুল করা হয়েছে। আজিজ-কবিরুলদের বিশ্রামের কোনো সুযোগ নেই, যেন বা নেই ক্ষুধা-তৃষ্ণাও! কেবল কাজ করার জন্যই তাদের জন্ম হয়েছে, এক মনে তারা কাজ করছে। অপেক্ষাকৃত উচ্চ মর্যাদার আরব ক্রীতদাসরা চাবুক হাতে তাদের ওপর নরজদারি করছে। তারপরও সামান্য কোনো ভুল-ত্রুটি হলেই আরব ক্রীতদাসদের চাবুক আছড়ে পড়ছে তাদের পিঠে, তাদের মাথা ঠুকে দিচ্ছে দেয়ালে। মাটিতে ফেলে কাউকে কাউকে পা দিয়ে পিষছে তাদের কওমের ভাইয়েরা!

আমি নগরীর রাস্তায় নেমে নব্য মুসলমানের বেশে গায়ে আলখাল্লা-মাথায় পাগড়ি প’রে হাঁটতে লাগলাম। কিছুক্ষণ হাঁটার পর আমার সামনে পড়লো একটি ক্রীতদাসের বহর; আমি পথ ছেড়ে দাঁড়ালাম একটা গাছের আড়ালে। চামড়ার ফিতা দিয়ে ক্রীতদাসদের হাত পিছমোড়া ক’রে বাঁধা, আবার কারো কারো হাতে-পায়ে লোহার বেড়ি ও শেকল পরানো! তাদের মধ্যে নারী এবং পুরুষ উভয়ই আছে, আছে অল্পবয়সী বালক-বালিকা ও শিশু। শরীরে জীর্ণ-শীর্ণ পোশাক; শরীরের অনাবৃত অংশে চাবুকের লালচে লম্বা দাগ। সকলেই ক্লান্ত, ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর; অপেক্ষাকৃত দুর্বলরা খুব কষ্টে দলের অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাঁটছে চাবুকের ঘা খেতে খেতে, অশ্রুশূন্য শুষ্ক তাদের চোখ, গালে ময়লা কাটা শুকনো অশ্রুরেখা। চাবুক হাতে তাদেরকে তাড়িয়ে নিয়ে চলেছে কয়েকজন অশ্বারোহী আরব মুসলমান; তাদের কথায় কান পেতে বুঝলাম, যাত্রাপথে এই বহরটির সাথে আরো কয়েকটি বহর যোগ হবে। তারপর একত্রিত বিশাল বহরটিকে নিয়ে যাওয়া হবে প্রথমে বাগদাদে, কিছু বিক্রি করা হবে বাগদাদের দাসবাজারে; অবশিষ্ট দাসদের পাঠানো হবে দামেস্কে।

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৬৩

অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি: আক্কাস আলী

২৫ নভেম্বর, ২০১৬

অপচয়িত মোনাজাত

পৃথিবী যদি একেবারে সমতল হতো, তবেই না কেবলামুখী হয়ে করা মোনাজাত সত্যিকার অর্থেই কেবলামুখী হতো।

উপাসনালয় - ধর্মবাজদের ঐশী গাভী

বিনা ব্যয়ে বক্ষবর্ধন

বক্ষাকার পরিবর্ধনের জন্য মেয়েদের আর দৌড়তে হবে না প্লাস্টিক সার্জনের কাছে। ঈশ্বরে বিশ্বাস স্থাপন করে চার্চে গিয়ে পবিত্র পানিতে হাত চুবিয়ে বৃহত্তর বক্ষ চেয়ে প্রার্থনা করলেই কাজ হয়ে যাবে। ঈশ্বর পুরুষ, নিশ্চয়ই তিনি নারীবক্ষের অনুরাগী। নইলে তিনি হলিউড তারকা সালমা হায়েকের প্রার্থনায় সাড়া দিতেন? (প্রশ্ন জাগে, দীর্ঘতর পুরুষাঙ্গপ্রত্যাশী পুরুষদের প্রার্থনা সফল হবে কি?... ঈশ্বর সমকামী হলে অবশ্য হতেও পারে)  


সালমা হায়েকের মুখেই শোনা যাক তাঁর ইতিহাস।


ভিডিও লিংক: https://youtu.be/TkF3rdasuBg

২৪ নভেম্বর, ২০১৬

কুফরী কিতাব: কোরানে বৈপরীত্য

কোরানে পরস্পরবিরোধী বা সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্যের আয়াত আছে অজস্র, সেটা নাস্তিকেরা তো বটেই, মমিনকুলও জানে। তফাত শুধু এই যে, নাস্তিকেরা এ নিয়ে হাসাহাসি করে, আর মমিনরা এই সাংঘর্ষিক আয়াতগুলো জায়েযtify করতে তাদের মগজের ভেতরে সক্রিয় করে তোলে এমন এক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, যে-ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত একমাত্র পণ্যের নাম - ত্যানা।

কোরান-হাদিস ও ইছলামের ইতিহাস সম্পর্কে অপরিমেয় জ্ঞানের অধিকারী নরসুন্দর মানুষ রীতিমতো গবেষণা করে এই জাতীয় আয়াতের একটি সংকলন প্রস্তুত করেছেন। এবং শুধু তা-ই নয়, নিজেই নির্মাণ করেছেন একখানা ইবুকও। বইটির ভূমিকায় তিনি লিখেছেন:
যদি আপনি মনুষ্য প্রজাতির একজন হন, তবে জেনে রাখুন, আমি আপনার থেকে কোনো না কোনো দিক দিয়ে আলাদা, মানে আমরা দু'জন পরস্পর বিপরীত; প্রকৃতিগত ভাবে বৈপরীত্য লালন করে মানুষ এবং এটা স্বাভাবিক। কোরান দাবি করে, সে বিপরীত তথ্য ধারণ করে না, কারণ সে এক এবং অদ্বিতীয় সৃষ্টিকর্তা (!) কর্তৃক প্রেরিত এবং তাতে কোনো বৈপরীত্য নেই! (সূরা ৪, আয়াত ৮২)
কোরান গবেষকরা জানেন, কোরানে শতাধিক গাণিতিক, বৈজ্ঞানিক, তথ্যগত বৈপরীত্য আছে; কিন্তু, যেখানে অন্ধ বিশ্বাসের মহাপ্লাবনে হিমালয় পর্যন্ত ডুবে যায়, সেখানে মুমিনীয় মস্তিস্ক ডুবে যাওয়া কঠিন কিছু নয়। নিরপেক্ষতার স্বার্থে তাই আমি গাণিতিক ও বৈজ্ঞানিক বৈপরীত্য নিয়ে এই সংকলন সাজানোর চেষ্টা করিনি।
কোরান সংকলনের পর থেকেই ‘সাহাবী’, ‘তাবেঈন’ এবং ‘তাবে-তাবেঈন’-দের মধ্যে কোরানের কিছু কিছু আয়াতে চরম বৈপরীত্য চোখে পড়তে থাকে; প্রচণ্ড ধর্মভীরু কোরান ব্যাখ্যাকারীগণ ‘তাফসীর’ এবং ‘শানে-নুযুল’ গ্রন্থে প্রায় তিন শতাধিক বৈপরীত্য লিপিবদ্ধ করেন। ছিদ্রযুক্ত পাত্রে পানি জমা রাখা যায় না জেনেও এসব বৈপরীত্য উপেক্ষা করে এসবের নতুন নাম রাখা হয় নাসিখ এবং মানসুখ আয়াত (An-Nasikh-wal-Mansukh) - কোনো একটি আয়াত দ্বারা অন্য একটি আয়াতকে বাতিল ঘোষণা করা; যে আয়াতটি বাতিল হচ্ছে, তাকে বলা হয় ‘মানসুখ’ আয়াত; আর যে আয়াতটি দ্বারা বাতিল হচ্ছে, তাকে বলা হচ্ছে ‘নাসিখ’ আয়াত। 
ভেবে দেখুন, কোরান এমন একজন সৃষ্টিকর্তা (!) কর্তৃক বিশেষ যত্নে প্রেরিত, যেখানে শত-শত বাতিল আয়াত বিদ্যমান! তাও আবার একে অন্যের বিপরীত। তার পরেও বুক ফুলিয়ে বলতে শোনা যায়, “ইহা ঐ গ্রন্থ, যার মধ্যে কোন সন্দেহ-সংশয়ের অবকাশ নেই” (সূরা ২, আয়াত ২)।
এই ইবুকটি তৈরিতে আমি কোরানের একাধিক অনুবাদ, ‘তাফসীর’, এবং ‘শানে-নূযুল’ গ্রন্থের সহায়তা নিয়েছি, এই সংকলনের সকল বৈপরীত্য-এর আবিষ্কারক প্রবলভাবে ধর্মভীরু কোরানের তাফসীর সংকলকগণ; বিশেষত: ‘তাফসীর ইবনে আব্বাস’, ‘তাফসীর ইবনে কাসীর’ ‘তাফসীর জালালাইন’ এর বাংলা অনুবাদ এবং কোরানের প্রথম পূর্ণাঙ্গ শানে-নূযুল গ্রন্থ Asbab al-Nuzul-এর ইংরেজি সংস্করণ আমাকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে।
ফরম্যাট: পিডিএফ
সাইজ: ১.৫ মেগাবাইট
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/Q8CZy3
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/uK1Xe1

অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শনও এমবেড করা হলো নিচে:

আমাদের আত্মীয়েরা – ১০১

নিমো হুজুরের খুতবা - ৯

লিখেছেন নীল নিমো

পত্রিকায় খবরটি পড়ে বেশ খুশি লাগল। বাংলাদেশে হিন্দু, সাঁওতাল, আদিবাসী, সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, মন্দির ভাঙা হচ্ছে। কিন্তু এই খুশি প্রকাশ করিলে বিপদে হতে পারে। তাই মনের আনন্দ চাপা রেখে মুরিদদেরকে বলিলাম:
- ভুয়া খবর। প্রকৃতপক্ষে হিন্দুরা নিজেদের ঘরে আগুন দিয়ে মুসলমানদেরকে দোষ দিচ্ছে। ইন্ডিয়ার ষড়যন্ত্র।

আমার কথা শুনে এক নাস্তিক ইউটিউবের ভিডিও দেখিয়ে বলিল:
- হুজুর, আপনার কথা সঠিক নহে। এই ভিডিওটি দেখুন। মাদ্রাসার ছাত্ররা দল বেধে "আল্লাহু আকবর" বলে হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে, মন্দিরের মুর্তি ভাঙছে। তাহলে কি বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলি ইন্ডিয়ার হিন্দুদের অর্থায়নে চলে?

আমি বলিলাম:
- আস্তাগফিরুল্লাহ। হিন্দুরা কেন মাদ্রাসায় অর্থ দিবে? যাই হোক, অন্যধর্মের লোকদের উপর অত্যাচার করা ঠিক না। কোরান মজিদে আল্লাহপাক বলেছেন, 'লাকুম দিনুকুম ওয়ালিয়াদিন' অর্থাৎ 'তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য আর আমাদের ধর্ম আমাদের জন্য।' তাই হিন্দুদের মন্দির ভাঙা ইসলাম সমার্থন করে না।"

নাস্তিক আমাকে বলিল:
- হুজুর, নবী মুহাম্মদ যখন মক্কা বিজয় করেন, তখনও কিন্তু ইসলাম পরিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই নবী মহাম্মদ কাবার (যেটা আসলে হিন্দুদের মন্দির) ভিতরে রাখা ৩৬০ টা মূর্তি ভেঙে ফেলেন। এতে করে মক্কাতে ইসলাম পরিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। কাবার ভিতর হিন্দুরা মুর্তি রেখেছিল। নবীজি সত্যই যদি 'লাকুম দিনুকুম ওয়ালিয়াদিন'-এ বিশ্বাস করতেন, তাহলে তিনি হিন্দুদের মুর্তি ভাঙতেন না, তিনি মূর্তিগুলোকে অন্যত্রে সরিয়ে নিতে বলতেন। তাই কেউ যদি বলে, ইসলাম হিন্দুদের মূর্তিভাঙ্গা সমর্থন করে না, তাহলে সে ভণ্ড মুনাফিক মুসলমান।

নাস্তিকের কথা শুনে আমি মনের ভুলে সত্যি কথা বলে দিলাম:
- হিন্দুদের মুর্তি ভাঙা হচ্ছে দেখে আমার বেশ ভালই লাগছে। বাংলাদেশের হিন্দুরা দুর্বল। এরা কিছুই করতে পারবে না। কারণ আল্লহপাক মুসলমানদের সাথে আছে... হে হে হে হে...

নাস্তিক বলিল:
- ইসরাইল যখন ফিলিস্তিনিদেরকে ন্যাংটা করে ধোলাই দেয়, তখন অমুসলিমদের ঠিক একই রকম অনুভূতি হয়। আফসুস... তখন আবার মুসলমানরা ফিলিস্তিনিদেরকে রক্ষা করার জন্য আল্লাহর পরিবর্তে হিউম্যান রাইটের আশ্রয় খুঁজে। হে হে হে...

নাস্তিকের কথা শুনে আমার ঈমানে হালকা একটা ঝাঁকুনি লাগল। ঈমানে ঝাঁকুনি লাগলে ওযু করতে হয়। আমি ওযু করতে টয়লেটের দৌড় দিলাম।

বোগে না সে বোগে না

২৩ নভেম্বর, ২০১৬

খায়বার যুদ্ধ - ১৯: লুটের মাল ভাগাভাগি - নাটা ও শিইখ অঞ্চল!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৪৮): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত বাইশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) খায়বারের জনপদবাসীদের তিলে তিলে সঞ্চিত গচ্ছিত স্থাবর ও অস্থাবর সমস্ত সম্পদ অমানুষিক নৃশংসতায় জোরপূর্বক লুণ্ঠন করার পর তা কীভাবে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছিলেন নিজে হস্তগত করেছিলেন, তার প্রাণবন্ত বর্ণনা ইসলামে নিবেদিতপ্রাণ মুসলিম ঐতিহাসিকরাই লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন; যা সর্বপ্রথম লেখা হয়েছে আজ থেকে ১২০০-১২৫০ বছরের ও অধিক পূর্বে, মুহাম্মদের মৃত্যু-পরবর্তী সবচেয়ে নিকটবর্তী সময়ে (পর্ব: ৪৪)! তাঁদের লেখা এই ইতিহাসগুলো মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর মনস্তত্ত্ব ও কর্মকাণ্ডের ঐতিহাসিক দলিল।

ইসলামে নিবেদিতপ্রাণ সেই সব বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই প্রাণবন্ত বর্ণনার আলোকে খায়বারের নিরীহ জনপদবাসীদের খুন, জখম ও বন্দী করার পর কী প্রক্রিয়ায় মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের মধ্যে সেই লুটের মালের হিস্যা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন (পর্ব: ১৪৬); কোন অনুসারীদের তিনি সেই মালের হিস্যা থেকে বঞ্চিত করে তা থেকে তাদেরকে তিনি শুধু উপহার সামগ্রী প্রদান করেছিলেন(পর্ব: ১৪৭); তার আলোচনা গত দু'টি পর্বে করা হয়েছে। অতঃপর মুহাম্মদ সেই লুণ্ঠিত সম্পদগুলো নিজে গ্রহণ করেন ও তাঁর অন্যান্য অনুসারীদের মধ্যে  বিলি-বণ্টনের ব্যবস্থা করেন।

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ) অব্যাহত বিস্তারিত বর্ণনা: [1] [2]

'তারা যা বলেছেন: খায়বারের দিনটিতে আল্লাহর নবী ফারওয়া বিন আমর বিন আল-বায়েদা-কে লুটের মাল এর বিষয়ে নিযুক্ত করেন। তিনি আল-নাটা, আল-শিইখ ও আল-কাতিবা দুর্গ থেকে মুসলমানদের লুট করা সম্পদগুলো সংগ্রহ করেন। তিনি আল-কাতিবার জনপদবাসী পুরুষ, মহিলা ও শিশুদের একজনকেও অব্যাহতি দেননি, যাদের গায়ে শুধুমাত্র তাদের পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া অন্য কিছু সঙ্গে ছিল [পর্ব-১৪০]

তারা প্রচুর পরিমাণ আসবাবপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ, মখমল, বহু অস্ত্রশস্ত্র, ভেড়া, গবাদিপশু, খাদ্যদ্রব্য ও বহু সংখ্যক উট জড়ো করে। খাদ্যদ্রব্য, উট ও গবাদিপশুর খাবারগুলো পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়নি। সেখান থেকে লোকেরা যার যার প্রয়োজনমত তা গ্রহণ করে। যুদ্ধ করার জন্য যার অস্ত্র দরকার ছিল, সেই লুটের মাল যাদের কাছে ছিল, তা থেকে সে সেটা গ্রহণ করে, যতক্ষণে না আল্লাহ তাদের জন্য খায়বার বিজয় ঘটান; অতঃপর সেগুলো সে লুটের মাল হিসাবে ফেরত দেয়। যখন সমস্ত সম্পদই সংগ্রহ করা হয়, তখন আল্লাহর নবী আদেশ করেন যে, তা যেন পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়। একটি অংশ লিখা ছিল আল্লাহর  নামে, আর বাকি অংশগুলো রাখা হয়েছিল বেনামী।

প্রথমেই যে-অংশটি গ্রহণ করা হয়, তা হলো - আল্লাহর নবীর ভাগ, তিনি তাঁর ঐ এক-পঞ্চমাংশ পছন্দ করে গ্রহণ করেননি। অতঃপর আল্লাহর নবী ঘোষণা করেন যে, কেউ যদি তার চার-পঞ্চমাংশের অংশ, যারা তা কিনতে চায়, তাদেরকে তারা তা বিক্রয় করতে পারে; ফারওয়া তা ক্রেতাদের কাছে বিক্রয় করা শুরু করে। আল্লাহর নবী সে কারণে আশীর্বাদ কামনা করেন এই বলে, "হে আল্লাহ, এর সমস্তই যেন বিক্রি হয়, সেই ব্যবস্থা তুমি করো।"

ফারওয়া বিন আমর যা বলেছে: বিলক্ষণ আমি যা দেখেছি, তা হলো - লোকেরা আমাকে পেছনে ফেলে সেখানে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয় যতক্ষণে না দু'দিনে তা বিক্রি হয়ে যায়, যেখানে আমি ভেবেছিলাম যে, তা আমরা সম্পূর্ণ করতে পারবো না, এই কারণে যে এর পরিমাণ ছিল এতটাই বেশি।

এক-পঞ্চমাংশ, যা আল্লাহর নবীর ভাগে আসে, তা ছিল লুটের মালের সম্পদ থেকে। তিনি এই অস্ত্রশস্ত্র ও পোশাক-পরিচ্ছদ থেকে আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী দান করেন। তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের দান করেন পোশাক-পরিচ্ছদ, জপমালা ও বাসনকোসন। তিনি আবদুল মুত্তালিবের পরিবারের পুরুষ ও মহিলা সদস্যদের তা প্রদান করেন, আর তিনি তা দান করেন এতিম ও ভিক্ষুকদের। লুটের মালের সাথে তৌরাতের পাণ্ডুলিপিগুলোও জড়ো করা হয়। ইহুদিরা তা নেবার জন্য আসে ও তারা আল্লাহর নবীর সাথে এই বিষয়ে কথা বলে সনির্বন্ধ মিনতি জানায়, যেন সেগুলো তাদেরকে ফেরত দেয়া হয়। আল্লাহর নবীর ঘোষক উচ্চস্বরে ঘোষণা করেন: সুঁই-সুতা পর্যন্ত যেন ফেরত দেয়া হয়, কারণ অবশ্যই অতিরিক্ত গ্রহণকারীদের বিচারের দিনে লজ্জা,  কলঙ্ক ও আগুনের সম্মুখীন করা হবে। -----

বেদ্বীনবাণী - ৭৮


আল্লার ন্যায় বিচার - ২

লিখেছেন সাঈদুর রহমান

একদা এক তরুণ ছেলে চুরির মতলব নিয়ে একটা দোকানে প্রবেশ করল। চারদিকে তাকিয়ে চুরি করে যেই দৌড়ে পালাবে, তখনই দোকানের মালিক তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলল। তাকে দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধল। তারপর শুরু হল জিজ্ঞাসাবাদ...
- নাম কি তোর?
- আব্দুল কুদ্দুস গো, চাচা। আমারে ছাইড়া দেন। আমি আর জীবনে চুরি করুম না!
- তুই চুরি কবে থেকে করিস? তোর বাবা-মা নাই?
- বিশ্বাস করেন গো, চাচা, আমার জীবনে আমি চুরি করি নাই। তয় আজকে পর্থম চুরি করতে আইছি। বাপে মারে ছাইড়া চইলা গেছে। মায় বাসা বাড়িতে কাম কাইজ করে। কয়দিন ধইরা অসুখে মরা-মরা হইয়া গেছে। বাপ মদ-জুয়া খেইল্লা সব টাকা উড়াই ফেলে। ঘরে খাওন নাই। চাইর ভাই-বোন আমরা। আমারে যাইতে দেন গো, চাচা। আর জীবনে চুরি করুম না।
- হুম। সকালে কিছু খাইছছ?
- না গো, চাচা। সারাদিন কিছু খাই নাই। ঘরে কেউ কিছু খায় নাই।
- ঠিক আছে। যা বলছিস, সব সত্যি তো?
- আল্লার কসম, চাচা। মিছা কইলে আমার মায়ের মরা মুখ দেখুম, আমি আগুনে পইড়া মারা যাইমু।

তিনি বাধঁনটা খুলে দিলেন এবং দোকান থেকে কিছু খাবার তাকে খেতে দিয়ে বললেন:
- এই নে। খেয়ে নে। আর জীবনে চুরি করবি না। তর মায়ের চিকিৎসার টাকাও আমি দিব। পারলে পরে ফিরায়ে দিস। না পারলে নাই।
- (পায়ে ধরে) চাচা গো! আল্লায় আফনের ভালা করুক।
- এই পা ছাড়!
- যা এবার। কোনোদিন টাকা পয়সা লাগলে আমার কাছ থেকে নিয়ে যাস। তবু চুরি করতে যাস না।
- আইচ্ছা গো, চাচা। আমার লাগি দুয়া করবেন।

আশেপাশে যারা দাঁড়িয়ে ঘটনাটি দেখছিলেন, তারা সবাই হাতে তালি দিলেন। পরের দিন এটা নিয়ে পত্রিকায় খবর হল। ওমুকে তমুক চোরকে শাস্তির বদলে টাকা হাতে দিলেন। ইউটিউবে ভিডিও ফুটেজও আপলোড করা হল। টাইটেল দেয়া হল, "এই ভিডিও দেখার পর নিজেকে মুসলিম হিসেবে গর্ব করবেন।" রেডিও মুন্না, ফেইসবুকে শেয়ার দেয়া হল: "দেখুন আসল মুসলিমের পরিচয়।" পোস্টটি ভাইরাল হয়ে গেল।

তারপর পেরিয়ে গেল লাখো বছর। একদিন দুনিয়ায় কেয়ামত হয়ে গেল। হাশরের ময়দানে সবাইকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হল, সবার বিচার হবে। এক সময় ওই লোকটির ডাক পড়লো। আল্লা প্রশ্ন করলেন:
- নাম?
- আল্লা হুজুর, হাজ্বী মোহাম্মদ আক্কাস আলী।
- হুম। ফেরেশতা, প্রোফাইল খুলো।
- আল্লা হুজুর, প্রোফাইল ভাল। তয়...
- তয় কী?
- একটা খারাপ কাজ আছে।
- কী সেটা?
- আপনের আইন মানে নাই? আব্দুল কুদ্দুস নামের এক ছেলেরে চুরির অপরাধে ধইরাও তার হাত কাটে নাই, উল্টা ওরে খাওয়াইছে। টাকাও দিছে।
- কী? এত্ত বড় সাহস! আমি যেখানে নিজে বইলা দিছি - চুরির শাস্তি হাত কাটা (কোরান, সুরা ৫:৩৮), সেখানে সে মানবতা চোদাইছে! শাস্তি দাও। কঠোর শাস্তি দাও।... আর ওই চোর পোলাটা কই?
- আল্লা হুজুর, পোলারও প্রোফাইল ভাল। ওই ঘটনার পর আর চুরি করে নাই।
- তা বুজলাম, তয় চুরির শাস্তি তারে পাইতেই হইব। ওর হাত কাটো। ইহকালে কাটা হয় নাই তো কী হইছে, এখন হইব। আমি আল্লা। আমি ন্যায় বিচারক। আমি দয়ালু।

আল্যার "নিখুঁত" সৃষ্টি

২২ নভেম্বর, ২০১৬

কোরআন যেভাবে অবতীর্ণ: মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছর (পর্ব ১৯)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


{হচ্ছেটা কী? কোনো উপায়েই মক্কা ছেড়ে যাবার সুযোগ পাচ্ছি না! মাঠে যখন আবু জেহেল, তখন মদিনার জন্য সময় বের করা প্রায় অসম্ভব; বিগত ১৮ টি পর্বে যেসব বিষয়ে কথা দিয়ে রেখেছি, তার তালিকা মোটেও ভুলে যাইনি, সময়-সুযোগমত সব বিষয়ের অবতারণা করবো অবশ্যই!

আবু জেহেলের নেতৃত্বে কুরাইশরা নবী মুহাম্মদকে কতটা চাপে ফেলে দিয়েছিলেন, তার প্রমাণ পাওয়া শুরু হবে এ পর্বেই। মুহাম্মদকে পাগল, গণক, কবি, জাদুকর, মিথ্যাবাদী বলা হতে থাকলো মক্কায়, কুরাইশরা বুঝতে শুরু করলেন, মুহাম্মদ এসব নিজে নিজে রচনা করছেন; ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা লোকগাথা আর ইহুদি-খ্রিষ্টান-জরাথ্রুষ্ট ধর্মের গল্পগুলোর সংমিশ্রণ করে নিজের মনের আল্লাহর নামে চালানোই হচ্ছে মুহাম্মদের কোরআন!

মুহাম্মদ মানসিকভাবে কুরাইশদের এই ধারণায় কষ্ট পেতে থাকেন, এবং এর বিরোধিতা করে ৮১/৮২/৮৪ তম প্রকাশ নিয়ে আসেন; সাথে চ্যালেঞ্জ দেন, পারলে কুরাইশদের এরকম রচনা উপস্থিত করার! এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা হয়; সে গল্প অন্য কোনো সিরিজের জন্য জমা করে রাখলাম! তবে কুরাইশরাও মুহাম্মদকে একটি চ্যালেঞ্জ দেবেন চ্যালেঞ্জের জবাবে, সেটা নিয়ে কোরআনে আয়াত থাকায় দ্রুতই সে বিষয়ে কথা বলতেই হবে!

মজার বিষয় হচ্ছে, আজ প্রায় ১৫০০ বছর পর এত-এত গবেষণা করে যে সত্য আমরা (সকল মুক্তচিন্তার মানুষেরা) বলে বোঝাতে চাচ্ছি, তা মুহাম্মদের ইসলাম প্রচারের খুব প্রাথমিক অবস্থাতেই মক্কার মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে ধরা পড়ে। মুহাম্মদ কিসের জোরে ক্রমশ এক প্রবল শক্তিশালী ধর্মপ্রচারক হয়ে উঠলেন, তার পরিচয় আগামী কয়েক পর্বেই পরিষ্কার হতে শুরু করবে। একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে; যারা ১৯৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে রাজাকারের ভূমিকায় দেখেছেন, তাদের পক্ষে সাঈদীকে রাজাকার প্রমাণ করা যতটা সহজ, আমাদের পক্ষে তা ততটাই কঠিন!

সাঈদী যেমন কোটি-কোটি বাংলাদেশী মুসলিমের কাছে একজন ভালো মানুষ, কিন্তু সত্যটা জানে, তার সময়কালীন প্রত্যক্ষদর্শী গুটিকয়েক মানুষেরা; ঠিক তেমনটা হয়েছে নবী মুহাম্মদের বেলায়, ১৩০ কোটি মুসলমানের চোখের মণি ভালো মানুষটি আদতে ছিলেন; একজন বুদ্ধিমান, সুপ্ত প্রতিভাধর কবি, মানসিক রোগী, মরু ডাকাত দলের প্রধান, দাস ও নারীবন্দী ব্যবসায়ী, প্রবলভাবে একপেশে পুরুষ এবং সময় সময়ে প্রচণ্ড নৃশংস একজন বিকৃত মানুষ! ইসলামের ইতিহাসে, হাদিসের পাতায় পাতায়, আর কোরআনের কাব্যময়তার আড়ালে এখনও তার ছাপ খুঁজে পাওয়া যায়; তবে তা তাঁর সমসাময়িক সময়ে আবু জেহেল যেভাবে সহজে বুঝতে পেরেছিলেন, আমাদের জন্য ততটা সহজ নয়!

যথাযথ নিয়মে মুহাম্মদ তার নবীন সাহাবীদের বেহেস্তের লোভ আর দোযখের ভয় দেখিয়ে আয়াত প্রকাশ করতে থাকেন। আবু জেহেল নবীন মুসলিমদের মক্কায় স্বাভাবিক চলাচলে বাধা দিতে থাকেন, নব্য মুসলিমগণ তাদের নিজ নিজ পরিবার থেকে প্রবল বিরোধিতার সম্মুখীন হতে শুরু করেন। কুরাইশ প্রতিনিধি দল পাঠানো হয় হাবাশা/ইথিউপিয়া থেকে দেশত্যাগী মুসলিমদের ফিরিয়ে আনার জন্য। মুহাম্মদও আয়াতের মাধ্যমে ঘুরেফিরে একই গান গাইতে থাকেন! এরপর —

আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের সূত্র পাবেন না, যতক্ষণ না পোষ্টের শেষে উল্লেখিত "আয়াত প্রকাশের মনোজগত" পড়বেন! 

কোরআন অবতীর্ণ হবার ধারাবাহিকতা অনুসারে প্রকাশের আজ ১৯ তম পর্ব; এই পর্বে থাকছে মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছরের ১২ তম চার অংশ। অনুবাদের ভাষা একাধিক বাংলা/ইংরেজি অনুবাদ অনুসারে নিজস্ব।}

নিজেরে যখনই আবাল মনে হবে - ১৩

ইসলামী পাটিগণিত - ৭

লিখেছেন আবুল কাশেম


ইসলামিক উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টনের হিসাব

[দ্রষ্টব্য: এই রচনায় উদ্ধৃত কোরানের অধিকাংশ আয়াত নেওয়া হয়েছে তফসীর মাআরেফুল কোরআন (বাংলা অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত তফসীর), হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ শাফী’ (রহঃ), অনুবাদ মাওলানা মুহিউদ্দীন খান হতে।]

বাংলাদেশ সহ বিশ্বের সমস্ত ইসলামিক দেশগুলোতে উত্তরাধিকার আইন ইসলামসম্মত কায়দা-কানুনে তৈরি। আমরা অনেকেই জানি যে, এই আইন অনুযায়ী এক নারীর প্রাপ্য এক পুরুষের অর্ধেক। বলা হয় যে, এই আইন নাকি আল্লাহ পাক দিয়েছেন—স্বর্গ হতে। অর্থাৎ কোরানের বিধান অনুযায়ী। তাহলে আমরা প্রত্যাশা করি যে, কোরানে লিখিত আল্লাহ্‌র আইন একেবারে নিখুঁত, পূর্ণাঙ্গ এবং যথাযথ। আল্লার হিসাবে কোনো গরমিল থাকা অসম্ভব। এখন দেখা যাক, আল্লাহ্‌র যোগ-বিয়োগ, গুণ, ভাগের দৌড় কতটুকু।

প্রথমেই আমরা কোরান থেকে পড়ে নিই কয়েকটি আয়াত, যেখানে আল্লাহ্‌ পাক উত্তরাধিকার আইন দিয়েছেন।
৪:১১ আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেন: একজন পুরুষের অংশ দু’জন নারীর অংশের সমান। অতঃপর যদি শুধু নারীই হয় দু‑এর অধিক, তবে তাদের জন্যে ঐ মালের তিন ভাগের দুই ভাগ যা ত্যাগ করে মরে এবং যদি একজনই হয়, তবে তার জন্য অর্ধেক। মৃতের পিতা‑মাতার মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্যে ত্যাজ্য সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ, যদি মৃতের পুত্র থাকে। যদি পুত্র না থাকে এবং পিতা‑মাতাই ওয়ারীস হয়, তবে মাতা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ। অতঃপর যদি মৃতের কয়েকজন ভাই থাকে, তবে তার মাতা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ ওছিয়্যতের পর, যা করে মরেছে কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে তোমাদের জন্যে অধিক উপকারী তোমরা জান না। এটা আল্লাহ্ কর্তৃক নির্ধারিত অংশ নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ, রহস্যবিদ।
৪:১২ আর তোমাদের হবে অর্ধেক সম্পত্তি, যা ছেড়ে যায় তোমাদের স্ত্রীরা যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের হবে এক‑চতুর্থাংশ ঐ সম্পত্তির, যা তারা ছেড়ে যায়, ওছিয়্যতের পর, যা তারা করে এবং ঋণ পরিশোধের পর। স্ত্রীদের জন্যে এক‑চতুর্থাংশ হবে ঐ সম্পত্তির, যা তোমরা ছেড়ে যাও যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের জন্যে হবে ঐ সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ, যা তোমরা ছেড়ে যাও ওছিয়্যতের পর, যা তোমরা কর এবং ঋণ পরিশোধের পর। যে পুরুষের, ত্যাজ্য সম্পত্তি, তার যদি পিতা‑পুত্র কিংবা স্ত্রী না থাকে এবং এই মৃতের এক ভাই কিংবা এক বোন থেকে, তবে উভয়ের প্রত্যেকে ছয়‑ভাগের এক পাবে। আর যদি ততোধিক থাকে, তবে তারা এক তৃতীয়াংশ অংশীদার হবে ওছিয়্যতের পর, যা করা হয় অথবা ঋণের পর এমতাবস্থায় যে, ক্ষতি না করে, এ বিধান আল্লাহ্‌র। আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।
৪:১৭৬ তারা তোমার নিকট ফতোয়া প্রার্থনা করছে, তুমি বলঃ আল্লাহ তোমাদের পিতা-পুত্রহীন (ব্যক্তির অর্থ বণ্টন সম্বন্ধে ফতোয়া দান করেছেন, যদি কোন ব্যক্তি নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যায় এবং তার ভগ্নী থাকে তবে সে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি হতে অর্ধাংশ পাবে; এবং যদি কোন নারীর সন্তান ন থাকে তবে তার ভ্রাতাই তদীয় উত্তরাধিকারী হবে; কিন্তু যদি দুভগ্নি থাকে তবে তাদের উভয়ের জন্যে পরিত্যাক্ত বিষয়ের দুই তৃতীয়াংশ এবং যদি তার ভ্রাতা-ভগ্নি পুরুষ ও নারীগণ থাকে, তবে পুরুষ দু’নারীর তুল্য অংশ পাবে, আল্লাহ তোমাদের জন্যে বর্ণনা করেছেন যেন তোমরা বিভ্রান্ত না হও এবং আল্লাহ সর্ববিষয়ে মহাজ্ঞানী। [দ্রষ্টব্য: মারেফুল কোরআনের বাংলা অনুবাদে এই আয়াতের অনুবাদ দূর্বোধ্য মনে হয়েছে আমার। তাই আমি বাংলা তাফসীর কুর’আনুল কারীম; অনুবাদ প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ মুজীবুর রহমান ব্যাবহার করেছি। প্রকাশকঃ দারুস সালাম, রিয়াদ সৌদি আরব, তৃতীয় সংস্করণ, জানুয়ারি ২০০৭।]
মূলতঃ এই তিনটি আয়াতের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি উদাহরণ দেখা যাক।

একজন পুরুষ মারা গেল। উত্তরাধিকারী হিসেবে সে রেখে গেল এক স্ত্রী, কয়েক কন্যা, মাতা এবং পিতা। এখন ওপরে উদ্ধৃত আয়াত অনুযায়ী সম্পত্তির বণ্টন হবে এই রকম:

আমার বোরখা-ফেটিশ – ২০১

২১ নভেম্বর, ২০১৬

সাইমুম (উপন্যাস: পর্ব ১৩)

লিখেছেন উজান কৌরাগ


বুকে ব্যথার ভারে দুজনেই মৌন, অনেকক্ষণ পর আমার পূর্বপুরুষ কানাই মণ্ডল অথবা কলিমুদ্দি বললেন, ‘শাহজালাল সাতশ অনুসারী নিয়ে ভারতে এসেছিল ইসলামী জিহাদের উদ্দেশে। কোনো সাধু উদ্দেশ্য তার ছিল না। তারও অনেক বছর আগে মহম্মদ ঘোরীর বাহিনীর সাথে এসেছিল সুফিসাধক খাজা মইনুদ্দিন চিশতী। উদ্দেশ্য ছিল বিধর্মীদের বিরুদ্ধে জিহাদ। দিল্লী এবং আজমীরের শাসক তখন পৃথ্বীরাজ চৌহান। ঘোরী দিল্লী আক্রমণ করলে পৃথ্বীরাজ চৌহানের রাজপুত বাহিনীর সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ হয় তরাইন নামক স্থানে। তরাইনের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে পৃথ্বীরাজের হাতে বন্দী হয় ঘোরী। কিন্তু ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি এবং প্রাণহানি সত্ত্বেও দয়ালু পৃথ্বীরাজ ঘোরীকে সসম্মানে মুক্তি দেন। বিশ্বাসঘাতক ঘোরী সংগঠিত হয়ে পরের বছর পুনরায় দিল্লী এবং আজমীর আক্রমণ করে। তরাইনের এই দ্বিতীয় যুদ্ধে ঘোরীর কাছে পরাজিত হয়ে বন্দী হন পৃথ্বীরাজ। বেঈমান ঘোরী পৃথ্বীরাজের চোখ উপড়ে ফেলে তাকে হত্যা করে। খাজা মইনুদ্দিন চিশ্তী অস্ত্রহাতে ঘোরীর পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন। এরপর তিনি আজমীরের আনাসাগর লেকের কাছে আস্তানা গাড়েন, আশপাশের প্রচুর হিন্দুদের ইসলামে দীক্ষিত আর তাদের মন্দির ধ্বংস করেন। হিন্দুদের বিখ্যাত এক মন্দিরের সামনে তিনি প্রতিদিন একটি ক’রে গরু জবাই করতেন হিন্দুদেরকে অপমান এবং ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য। 

শাহজালালের অনেক আগে বখতিয়ার খিলজীর বিজয়ের পর বঙ্গে এসেছিলেন আরেক সুফি শেখ জালালুদ্দিন তাবরিজী, পান্দুয়ার (মালদাহ) দেবতলায় তিনি একটি মন্দির ধ্বংসের পর সেখানে খানকাহ্ নির্মাণ ক’রে প্রচুর হিন্দু এবং বৌদ্ধকে ইসলামে দীক্ষিত করেছিলেন।

সুফিরা কোথাও অস্ত্র হাতে সরাসরি জিহাদে অংশ নিতেন, আবার কোথাও পেছনে থেকে মুসলিম শাসকদের ইন্ধন জোগাতেন বিধর্মীদের মন্দির-উপসনালয় ধ্বংস ক’রে তাদেরকে ইসলামে দীক্ষিত অথবা হত্যা করার জন্য। কোথাও ইসলামের বিজয়ের খবর পেলে তারা উল্লাসিত হয়ে মুসলিম শাসকদের প্রশংসা করতেন আর বিধর্মীদের ওপর আরো জোরালো হামলা চালানোর জন্য উৎসাহিত করতেন। বিধর্মীদের রাজ্য থেকে লুণ্ঠিত সম্পদ আল্লাহ্’র উপহার হিসেবে তারা গ্রহণ করতেন। দিল্লী, কাশ্মীর, গুজরাট, বঙ্গসহ ভারতবর্ষের মুসলিম শাসিত সকল অঞ্চলের চিত্র একইরকম ছিল।’ 

আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, ‘অথচ সকলে বলে উচ্চবর্ণের হিন্দুদের হাতে অত্যাচারিত হয়ে নিম্নবর্ণের হিন্দুরা ইসলামের সাম্যবাদে মুগ্ধ হয়ে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছে।’

হরর হাদিস – ১৬

Narrated By 'Aisha: The Prophet said, "The hand should be cut off for stealing something that is worth a quarter of a Dinar or more."

মিল নেই কোনও আইসিসে-মুছলিমে

২০ নভেম্বর, ২০১৬

রাষ্ট্রধর্ম: সাম্প্রদায়িকতার প্রত্যক্ষ প্রভাবক

লিখেছেন বিজ্ঞানী দহাজি

প্রথমেই বলে রাখি, আমাকে অনেকেই ইসলাম বিদ্বেষী বলে ইতোমধ্যেই আখ্যা দিয়েছেন। যদি বলেন যে, ধর্মের প্রতি আক্রমণাত্মক ধারণা পোষণ করা মানে ধর্মবিদ্বেষী হওয়া, তাহলে দুঃখিত, আমি ধর্ম বা ইসলামবিদ্বেষী নই। আর যদি আপনার মনে হয় যে, একটা ধর্মের বর্বর, অমানবিক দিকগুলো তুলে ধরা এবং তা সময়ক্রমে প্রকাশ করাটাই ধর্মবিদ্বেষ, তাহলে আমি ধর্মবিদ্বেষী, এবং মূলত ইসলামবিদ্বেষী।

১. আমার ইসলামবিদ্বেষী হওয়ার কারণ:
আমার জন্ম একটি মুসলিম পরিবারে। পরিবারের সবাই ধার্মিক। শুধু ধার্মিক বললে ভুল হবে, গোঁড়া ধার্মিক। ইসলামকে তাই খুব কাছে থেকে জানার সুযোগ হয়েছে। নিজেও আপন ধর্মটাকে ভালোবাসতাম। একটা অহংকার কাজ করতো মনের ভেতর যে, আমি মুসলিম। একটা ধর্মের সম্পর্কে মোটা মোটা বই পড়া আর সেই ধর্মটাকে পালন করা দুটোর মাঝে একটা ছোট কিন্তু গভীর পার্থক্য রয়েছে। অনেকটাই জীববিজ্ঞান প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের মত। যাই হোক, শৈশবেই কোরআন শিক্ষার সুযোগ হয় পরিবারের সুবাদে। তবে এটাকে শিক্ষা বলাটা আসলে শুধু ভুল নয়, বড় রকমের ভুল হবে। কয়েক দফা কোরআন খতমের পর নিজের তোতাপাখি রূপটা সামনে আসে। অর্থহীন শব্দগুচ্ছকে যেহেতু বাক্য বলা যায় না, ঠিক সেরকমই কোরআন আমার কাছে একটা অর্থহীন বই ছিলো, কারণ আমি তার অর্থ বুঝতাম না। তোতাপাখির মত আওড়িয়ে চলতাম বার বার। মনে তখনই খেয়াল জন্মালো, এটা আমার অহংকারের ধর্মের প্রতি অবিচার। ধর্মকে আরো কাছ থেকে জানার ইচ্ছা হলো। পরের চিত্রটা ভিন্ন, কোরআনের অর্থ বোঝার পর অনেকগুলো হাদিস পড়ে নিজস্ব ধার্মিক গভীরতা বাড়িয়ে তোলার প্রচেষ্টার ফল স্বরূপ দেখলাম, আমি যে শুধু তোতাপাখি থেকে মানুষ হতে পেরেছি তা নয়, আমি মুসলিম থেকে মানুষ হতে পেরেছি। আমার প্রাক্তন পরিচয় - আমি মুসলিম। তাই ইসলামই হয়ে ওঠে আমার লেখার মূল বিষয়। ইসলামের ইতিহাসকেই অত্যন্ত সঙ্গত কারণে বেছে নিই বিশ্লেষণের জন্য। আর সেই সূত্র ধরেই আজ আমার পরিচয় - ইসলামবিদ্বেষী।

২. খবরের পাতায়:
কিছুদিন আগে একটা খবর শুনলাম, হাইকোর্ট রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখলো এবং কামাল উদ্দিন, সুফিয়া কামালসহ দেশের বিশিষ্ট ১৫ নাগরিকের করা রিট খারিজ করে দিলো।

এটা অবাক করার মত কিছু নয়। কারণ, ৯০ ভাগ মুসলিমের দেশ বলে মুসলিম সম্প্রদায় গর্ববোধ করে, সে দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ১৪০০ বছরের পুরোনো একটা অনুভূতি যখন তীব্র হয়ে ওঠে, তখন সম্ভবত ২০০৪ সাল (বাংলা ভাইয়ের সময়ের জঙ্গি ততপরতা আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়); তখন আমার প্রিয় একজন লেখক হুমায়ুন আজাদকে (শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি স্যারকে) হত্যা করার চেষ্টায় তাঁর ওপরে চালানো হয় বর্বর হামলা। এর জের হিসেবে কয়েক মাস পরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তারপর এই অনুভূতির তীব্রতা প্রকট হয় ২০১৩ ও ২০১৫ সালে। একটি রুটিনের মত করে অভিজিৎ রায় (আমার নবম শ্রেণীর জীবনে যার 'অসম্ভবের বিজ্ঞান' লেখাটি আমাকে মুগ্ধ করেছিলো), ওয়াশিকুর রহমান বাবু, রাজীব হায়দার, অনন্ত বিজয় রায় ইত্যাদি লেখক, ব্লগার হত্যা হতে থাকে। এখানেই শেষ নয়। লেখক, ব্লগারের গণ্ডি পেরিয়ে এবার মন্দিরের পুরোহিত, খ্রিষ্টান দোকানী, বৌদ্ধ ভিক্ষু সবার হত্যার খবরে ভরপুর থাকত খবরের কাগজগুলো। "আল্লাহু আকবার" বলে শিরচ্ছেদের খবর শুনি প্রতিদিনই। তারপর... এবার আর খুন নয় হামলা। হলি আর্টিজানের ঘটনাটি হয়ত একটু স্তিমিত করে দেশকে। কিন্তু ৯০ ভাগ মুসলিম এখনও গর্বিত। হয় অনেক আন্দোলন, প্রতিবাদ। কিন্তু শেষমেশ, হাত শূন্য। তার মাঝেই তনু ধর্ষণ, রিশা খুন ইত্যাদি বিষয়গুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। হয় সমভাবে প্রতিবাদ। ফলাফল একই। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া আর নাসিরনগরের ঘটনাই মুখ্য আলোচনার বিষয় হিসেবে আছে। এর মাঝেই কেউ কেউ সাঁওতালদের নিয়ে অনলাইনে নিজ নিজ প্রতিবাদ ব্যক্ত করেছেন। এত সব বিচিত্রতা আর নিত্যনতুন ইস্যু অনেকটাই সয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম থেকে বাতিল করা হতে পারে বলে নতুন ইস্যু তৈরি হয়েছে, তা সত্যি আমার নিস্তরঙ্গ জীবনে আরেকবার শিহরণ জাগিয়েছে।

বস্তুত, রাষ্ট্রধর্ম বাতিলই হতে পারে সাম্প্রদায়িকতা থেকে দেশকে মুক্ত করার একমাত্র উপায়। এবার যারা আমাকে ইসলাম বিদ্বেষী বলে আখ্যায়িত করেছেন, তারা নিশ্চয়ই বলে উঠবেন আমার এই বক্তব্য ইসলাম এর প্রতি আক্রমণাত্মক। আপনাদের প্রতি আমার বক্তব্য, রাষ্ট্রধর্ম বলে একটা ধর্ম কেন প্রয়োজন, যখন দেশে সকল ধর্মের মানুষই বাস করে। আর দেশের নাগরিক হিসেবে সকলের সমান অধিকার। এখন আপনি নিশ্চয়ই সংখ্যার অনুপাত বিশ্লেষণ করার দাবি জানাবেন? আপনি মুসলিম নাকি সাম্প্রদায়িক নন? আর ধর্ম যদি সাম্প্রদায়িকতার পক্ষে হয়, সে ধর্ম কখনও রাষ্ট্রধর্ম হতে পারে না।

চেরাগ ও ধর্মবিশ্বাসীরা

পুতুলের হক কথা - ২৪

লিখেছেন পুতুল হক

৯৪.
মুসলমান জন্মাবার পর থেকেই একমাত্র ইসলাম ধর্মকে সত্য বলে জানে। বাকি সব ধর্মকে একবাক্যে অস্বীকার করেছে ইসলাম। ইহুদি এবং খ্রিষ্টধর্মকে স্বীকার করা হলেও ইসলামকে এই ধর্মগুলোর ওপরে স্থান দেয়া হয়েছে। মুসলমান মনে করে, অন্য যে কোনো ধর্মের মানুষের ওপর তাঁর স্থান। সে শুধু মনে করেই থামে না, অন্য সব ধর্মের মানুষকে ঘৃণা করতে শেখে। ঘৃণা করা তার জন্য বাধ্যতামূলক। যেহেতু মুসলমান আল্লা এবং মোহাম্মদকে বিশ্বাস করে, তাই সে যত খারাপ কাজ করুক আর যত অন্যায় করুক, একদিন না একদিন সে বেহেস্তে যাবে। আর যারা কাফের, তারা যতই মহৎ কাজ করুক না কেন, তারা কোনোদিন পারবে না বেহেস্তে যেতে। তারা দোজগী, তারা পাপী। কাফেরদের সব সময় ঘৃণা করতে হবে, তাদের কখনো মুসলমানের সমান মর্যাদার মানুষ ভাবা যাবে না। কাফেরকে অপমান করতে হবে, লাঞ্ছিত করতে হবে, কারণ তারা আল্লা আর তাঁর নবীকে বিশ্বাস করে না। মুসলমান হওয়া মাত্রই আল্লা যে কাউকে অসীম ক্ষমতা দিয়ে দেয়। সারা পৃথিবী মুসলমানের, পৃথিবীর সব সম্পদ মুসলমানের সুখের জন্য, সব নারী মুসলমানের ভোগের জন্য। শুধু পৃথিবীই নয়, মৃত্যুর পর যে জগৎ আছে, তারও অধিকর্তা মুসলমান। কিছুদিন শাস্তি পেয়ে হোক কিংবা না পেয়ে হোক, প্রত্যেকটি মুসলমান সেখানে এক একজন সম্পদশালী আর ভোগী বাদশাহ। বিলাসে, ভূষণে আর ভোগে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাদশাহের চাইতেও শ্রেষ্ঠতর অনন্ত জীবন মুসলমান সেখানে পাবে। আর কাফের অনন্তকাল জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে, কারণ সে কাফের। মুসলমানকে ধর্মবাণী শুধুমাত্র দিনে একবার বা সপ্তাহান্তে একবার পাঠ করে পুণ্য কামাবার জন্য দেয়া হয়নি। জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে, প্রতি পদে সে ধর্মবাণীকে বাস্তবায়িত করতে বলা হয়েছে।

এই পৃথিবী আমার, অনন্ত স্বর্গ আমার। কাফেররা সব আমার পায়ের নিচে থাকো। আমি তোমাদের অনন্তকাল ধরে ঘৃণা করবো। তুমি কখনো আমার মত মর্যাদাশীল নও। আমি বিশ্বাস করি আল্লাকে, আমি বিশ্বাস করি নবীকে। আমি বিশ্বাস করি, আল্লা ওয়াদা খেলাপকারী নয়। আমি বিশ্বাস করি, নবী মিথ্যা বলেন না। আমি মুসলমান, আর কাফের মাত্রই মুসলমানের দাস হবার উপযুক্ত। আমি মুসলমান তাই বাদ বাকি সবাইকে আমি ঘৃণা করি।

৯৫.
কিছুদিন পরপর জিহাদি বই এবং অস্ত্রসস্ত্রসহ জঙ্গি ধরা পড়ছে। এদের অধিকাংশের কোনো কাজকর্ম নেই। পেশা হচ্ছে জিহাদ করা। কেয়ামত পর্যন্ত মুসলমানদের সামনে একটা হালাল পেশার পথ খোলা আছে। যখন আর কিছু করতে পারবে না, তখন জিহাদ করবে। এভাবেই তারা নিজেদের ভরণপোষণ এবং যৌনতার প্রয়োজন মেটাবে।

৯৬.
ইসলামে এতো বিধি, নিষেধ, আদশ, নির্দেশ কেন? খাওয়া, ঘুম, শোয়া, কথা বলা, হাঁটা, চলা, বিয়ে করা, না করা, শ্রদ্ধা করা, না করা, ভালোবাসা, না ভালবাসা, কাজ করা, না-করা, খুন করা, না-করা ইত্যাদি সব কিছুতে ইসলাম তার লম্বা নাকটি গলিয়ে দেয়। আদর করে হোক আর জোর করে হোক, মহানবীর ইসলামের দরজা সব সময় খোলা। কিন্তু তা শুধু প্রবেশের জন্য। ইসলাম থেকে বের হবার জন্য একটি দরজাও রাখা হয়নি। ইসলাম ত্যাগ করা মানেই জীবনের হুমকি সেই নবীর আমল থেকে। মোহাম্মদ কি জানতো যে, তার প্রচার করা ধর্ম বেশিদিন মানুষকে ভুলিয়ে রাখতে পারবে না? মোহাম্মদ এমন একটি ধর্ম প্রচার করে, যেটিতে সবাইকে ইসলামের নামে খুনি হতে বলা হয়, ধর্ষক হবার পথ খুলে দেয়া হয়, লুট করার বৈধতা দেয়া হয়। যতই লোভ আর ভয় দেখানো হোক না কেন, মানুষের স্বাভাবিক বোধে এসব কখনো সমর্থন পাবে না। এই স্বাভাবিক বোধ যাতে করে না জেগে ওঠে, সেজন্য অ-ইসলামীদের সাথে সংশ্রব পরিহার করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে কঠোরভাবে। এই পরিহারের বদলে আবার মুসলমানকে দেয়া হয়েছে মর্যাদাবানের সম্মান। আমি ভালো কি মন্দ, তা বলবে আমার চারপাশের মানুষ। ১৪০০ বছর আগে মরে ভূত হয়ে যাওয়া কেউ কি এখন আমাকে বিচার করতে পারে? আর তাকে আমি মানবো কি মানবো না, সেটা আমার পরিবেশ ও পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। কিন্তু তিনি যেভাবে আমার জীবনের প্রতিটি অংশ তার নির্দেশনা অনুসারে কাটাতে হবে বলেছেন, তার জন্য আমি তাকে আমৃত্যু ঘৃণা করে যাবো অবিরাম।

কার meccaনিক

১৯ নভেম্বর, ২০১৬

আল্যার দান বনাম বিজ্ঞানের অবদান

সত্যিকারের ডাইনিদের গল্প - ২

লিখেছেন সরকার আশেক মাহমুদ

(ছোটবেলার রূপকথার বইতে জঙ্গলে হারিয়ে যাওয়া ভাই-বোনদের ডাইনি বুড়ির খপ্পরে পড়ার কাহিনী আপনারা সবাই হয়ত পড়েছেন। অথবা শুনেছেন হয়ত, ঝাড়ুতে ভর করে কীভাবে কীভাবে জাদুকরী উড়ে যেতে পারে আকাশে। আধুনিক রূপকথার হ্যারি পটারের কাহিনীতেও আমরা জাদুর বলে ঝাড়ুতে ভর করে উড়ে যাবার দৃশ্য দেখতে পেয়েছি। এই গল্পগুলো আমাদের জন্য যতই বিনোদনদায়ক হোক না কেন, এই জাতীয় গল্পের ঐতিহাসিক উৎসস্থলে ফিরে গেলে আমাদের নৃশংসতা আর বর্বরতা দেখে আঁতকে উঠতে হবে। মানুষের অজ্ঞতার যুগে ধর্মান্ধতার বাড়াবাড়ি পশ্চিমা বিশ্বের মানুষকেও কীভাবে ভয়ানক বর্বরতার দিকে ঠেলে দিয়েছিল, তা থেকে উঠে আসা পশ্চিমা বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে তুলনা করতে গেলে যা কিনা অভাবনীয় মনে হবে। সেই সাথে আমাদের ভাবতে সাহায্য করে - আমাদের অজ্ঞতা, অন্ধবিশ্বাস এবং অযৌক্তিক ভীতি কীভাবে আমাদের ঠেলে দিতে পারে সহিংসতার দিকে।)

ডাইনি গল্প দুই: জার্মানী 

কোনো ডাইনিকে বাঁচতে দিয়ো না। (বাইবেল, যাত্রাপুস্তক ২২:১৮)

১৫৯৫ সালে এক বৃদ্ধা বাস করতেন কন্সট্যান্স (জার্মান উচ্চারণে - কন্সটাঞ্জ) নামক গ্রামের পাশে। গ্রামের আনন্দ-উৎসবে তাঁকে আমন্ত্রণ না করার কারণে তিনি বিড়বিড় করে ক্ষোভ প্রকাশ করতে করতে পাহাড়ের উপর দিয়ে সে সবার দৃষ্টির আড়ালে চলে গেলেন। কিন্তু দুই ঘন্টা পর দেখা গেল ভয়ংকর বজ্র-বৃষ্টি ওখানে আঘাত হানল, যা কিনা নৃত্যশিল্পীদের ভিজিয়ে দিল এবং এলাকার ফসলের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি করলো। আর তাই গ্রামবাসী বৃদ্ধার বিরুদ্ধে ডাইনি হিসাবে জাদু করার অভিযোগ - সে একটা গর্তে মদ ঢেলে তাতে কাঠি দিয়ে ঘুটা দিতে দিতে ঝড় সৃষ্টি করেছে । আর তাই তাকে ধরে এনে উপর্যপুরি নির্যাতন করা হলো যতক্ষণ না সে স্বীকার করে যে সে ডাইনি এবং সে ঝড় সৃষ্টি করেছে। এবং বলা বাহুল্য, পরদিন তাকে জীবন্ত আগুনে জ্বালিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো। 

এখানে বিশ্লেষণ করা দরকার, কী ঘটেছিল?

বহুকাল ধরে মানবসমাজে ঝড়, বৃষ্টি, রোগ-বালাইয়ের কোনো বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা মানুষের ছিল না। আবহাওয়ার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া কীভাবে চলে কিংবা মানুষের স্বাভাবিক চোখে অদৃশ্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবাণু যে মানুষের রোগের জন্য দায়ী, তা জানা ছিল না, আর তাই রোগ-বালাইয়ের কারণ উদ্ধার করতে পারতো না। তাই তারা সব অমঙ্গলের জন্য ধর্মীয় কুসংস্কারভিত্তিক ব্যাখ্যা খুঁজতো। কারো ফসল নষ্ট হয়ে গেল কিংবা গবাদি পশু মারা গেল সে তার প্রতিবেশী বৃদ্ধার বিরুদ্ধে হয়তো ডাইনি হয়ে জাদু করার অভিযোগ আনতো। বৃদ্ধা ডাইনিদের সম্পর্কে মনে করা হতো যে,

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৬২

অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি: আক্কাস আলী

১৮ নভেম্বর, ২০১৬

পরিহাস্য পরিকল্পনা

পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে

নিমো হুজুরের খুতবা - ৮

লিখেছেন নীল নিমো

আজকে সকালবেলা ডেনমার্কের আমার বাসায় মুরিদদের উদ্দেশে বয়ান দিচ্ছিলাম, "ইহুদি, খ্রিষ্টান, নাস্তিকরা বিজ্ঞান নিয়ে যতই লাফালাফি করুক না কেন, এরা তাদের নারীদেরকে নিরাপত্তা দিতে পারে নাই। গুগলে সার্চ দিয়ে দেখুন, পরিসংখ্যানে অনুসারে ইউরোপ-আমেরিকাতে নারীধর্ষণ সবচেয়ে বেশি হয়। আর সৌদি আরবে নারী ধর্ষণের কোনো রেকর্ডই নাই। নিশ্চয়ই ইসলাম নারীকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়েছে।"

মুরিদের ভিতরে এক নোয়াখাইল্লা নাস্তিক ছিল। সে আমাকে থামিয়ে দিয়ে প্রশ্ন করিল, "কিন্তু, হুজুর, ইসলামের ধর্ষণের সংজ্ঞা আর ইউরোপিয়ানদের ধর্ষণের সংজ্ঞা তো এক রকম নয়। তাই ইউরোপে যেটা ধর্ষণ বলে গণ্য হবে, সেটা সৌদি আরবে ধর্ষণ বলে গণ্য হবে না। ধর্ষণ ঈ জিনিস, এইটাই তো সৌদিরা বুঝে না। তাই সৌদি আরবে কোনো ধর্ষণ হয় না।"

আমি রেগে গিয়ে বলিলাম, "ওরে জাহান্নামি নাস্তিক, নমরুদের বংশধর। তুই কী বুঝাইতে চাস?"

নাস্তিক বলিল, "হুজুর, অমুসলিমদের ধর্ষণের সংজ্ঞা হইল: Unlawful sexual intercourse or any other sexual penetration of the vagina, anus, or mouth of another person, with or without force, by a sex organ, other body part, or foreign object, without the consent of the victim... মোট কথা হইলো - কোনো পুরুষ মানুষ যদি কোনো নারীকে তার অনুমতি ব্যতিত জোর করে যৌনকার্য করে, তাকে ধর্ষণ বলে।

"অমুসলিমদের এই সংজ্ঞা অনুসারে যে কোনো বিবাহিত নারী, তার স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করতে পারে। এরজন্য তার কোনো সাক্ষী লাগবে না। মেডিকেল রিপোর্টই যথেষ্ট।

"হত্যা করা এবং ধর্ষণ করা হল সবচেয়ে বড় অপরাধ। কিন্তু সবচেয়ে মজার ব্যাপর হল, কোরান শরীফে ধর্ষণ বা রেপ শব্দটির কোনো উল্লেখ নাই। বরং কোরান শরীফে আল্লাহপাক মুমিনদেরকে নিজ নিজ স্ত্রীকে ধর্ষণ করার জন্য উৎসাহ দিয়ে এরশাদ করেন:
তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শষ্যক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর। (সুরা বাকারা ২:২২৩)
"এই আয়াতটি দিয়ে প্রমাণিত হয় যে, নিজ স্ত্রীর ক্ষেত্রে অমুলিমদের ধর্ষণের সংজ্ঞাটি কার্যকর হবে না। আপনার স্ত্রী যদি সেক্স করার মুডে না থাকে, কিংবা সে যদি অন্য কাজে ব্যস্ত থাকে, তারপরেও কোরান অনুসারে আপনি আপনার স্ত্র‍ীকে জোর করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করতে পারেন।

"শুধু নিজ স্ত্রী কেন? ইসলাম অনুসারে, আপনি অন্য কোনো লোকের স্ত্রীকেও স্বামীর সামনে ধর্ষণ করতে পারেন। সেটাও ধর্ষণ বলে গন্য হবে না, যদি ৪ জন্য পুরুষ মানুষ সাক্ষী না থাকে। কারন ইসলামিক শরিয়া বলে যে, জিনা বা ধর্ষনের অপরাধ প্রমাণের জন্য ৪ জন ভাল চরিত্রের চাক্ষুষ পুরুষ সাক্ষী ছাড়া অন্য কোনো প্রমাণ গ্রহণযোগ্য নয়।

"হুজুর, সৌদিরা এত বড় বোকা না যে, যে চারজন সাক্ষী রেখে কোনো নারীকে ধর্ষণ করবে। আর ইউরোপের ৮০% ধর্ষণের মামলা স্ত্রী কৃর্তক স্বামীর বিরুদ্ধে হয়ে থাকে। যেখানে কোনো পুরুষ মানুষের সাক্ষী লাগে না। ইউরোপ-আমেরিকা যদি কোরানকে অনুসরন করে ধর্ষণ শব্দটা তাদের আইন থেকে মুছে দেয়, তাহলে ইউরোপ-আমেরিকাতেও ধর্ষণের সংখ্যা শূন্য হয়ে যাবে।"

আমি উত্তর দিলাম, "আস্তাগফিরুল্লাহ। কোরানে বেহেস্তের হুরীদের স্তনের বর্ননা থাকলেও ধর্ষণ শব্দটা উল্লেখ নাই। আল্লাহপাকের কাছে ধর্ষণের চেয়েও নারীর স্তন বেশি গুরুত্বপুর্ন। এইটা কোরান শরিফের একটা মুজেজা। সোবাহান আল্লাহ।"

ইতরের দেশে

১৭ নভেম্বর, ২০১৬

মাটির মানুষ

বানিয়েছেন সাঈদুর রহমান

বিশ্বাসের দরজায় করাঘাত!: পর্ব ০৭ – (হাতের সহবাস!)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


বয়েজ স্কুলের ছাত্র হিসেবে নারীসঙ্গ পাওয়া হয়নি; সেই সাথে হাজী বাড়ির ছেলে হওয়ায় এলাকার মেয়েরা ১০০ হাত দূরে থাকতো; আমি মানুষ, নাকি ‘সমগ্র বাংলাদেশ পাঁচ টন ট্রাক’, চিন্তায় পড়ে যেতাম মাঝে-মাঝেই! কলেজে ভর্তি হবার পর কুয়োর ব্যাঙ হয়ে সমুদ্রে পড়লাম। আজকের গল্প আমার প্রথম সহবাসের!

প্রথম বর্ষ ষ্টাডি-ট্যুরের সময়ের ঘটনা। পুরো ক্লাসের সবাই মিলে আনন্দভ্রমণের আয়োজন; ছয়টি বাসের দায়িত্বে ছিলেন ছয়জন অধ্যাপক; আমি বেচারা যে বাসে ছিলাম, তার দায়িত্বে ছিলেন আমাদের উদ্ভিদবিদ্যার অধ্যাপিকা। তিনি বাসে উঠেই সবাইকে সবার সাথে করমর্দন/হ্যান্ডশেক করতে বললেন! কিন্তু হাজী বাড়ির ছেলে হয়ে কীভাবে এত বড় পাপকাজ করি, ভেবে কূল পাচ্ছিলাম না। বলে উঠলাম, ‘ম্যাডাম, জেনে-বুঝে মেয়েদের সাথে সহবাস বা যিনা করার সমান পাপ আমি করতে পারবো না!’

ম্যাডাম বলে উঠলেন: 
- এত বড় কথা তুমি বলো কোন সাহসে; করমর্দন/হ্যান্ডশেক কারার সাথে সহবাস বা যিনা করার সম্পর্ক আসে কীভাবে?

আমি উত্তর দিলাম: 
- আপনি আমাকে যতই প্রতিক্রিয়াশীল, মোহাচ্ছন্ন, নিম্নশ্রেণীর ভাবুন না কেন, জেনে রাখুন, বিবাহ বৈধ এমন মহিলার সাথে করমর্দন/হ্যান্ডশেক করা হারাম! তা সে আমার শিক্ষিকা, সহপাঠী, ছাত্রী, বান্ধবী, চাচাত বোন, ফুফাত বোন, মামাত বোন, খালাত বোন, ভাবী, চাচী, মামী, মায়ের বান্ধবী, যে-ই হোক না কেনো; তাদের সাথে করমর্দন/হ্যান্ডশেক করা ইসলামের দৃষ্টিতে ভয়াবহ পাপ! আপনি যদি নবী মুহাম্মদের অনুসারী হন, তবে কখনই এ কাজ করবেন না।

ম্যাডাম মানলেন না, আমিও নিরুপায় হয়ে, জীবনের প্রথম গ্রুপ সেক্স (বহুজনের সাথে সহবাস) করতে বাধ্য হলাম করমর্দন/হ্যান্ডশেক করে! 

কিন্তু আপনি মনে রাখবেন, এ বিষয়ে ইসলাম আপনার মনের সৎ চিন্তার ধার ধারে না, আপনি যতই নিজেকে আধুনিক ভাবুন মুসলিম হিসেবে; বিবাহ বৈধ এমন মহিলার সাথে করমর্দন/হ্যান্ডশেক করা আপনার জন্য নিষিদ্ধ! চলুন, সামান্য প্রমাণ দেখে নিই।

নবী মুহাম্মদ বলেছেন,
‘নিশ্চয়ই তোমাদের কারো মাথায় লোহার পেরেক ঠুকে দেয়া ঐ মহিলাকে স্পর্শ করা থেকে অনেক শ্রেয়, যে তার জন্য হালাল নয়’[১]

নবী মুহাম্মদ আরও বলেছেন,
‘দু’চোখ যিনা করে, দু’হাত যিনা করে, দু’পা যিনা করে এবং লজ্জাস্থানও যিনা করে’। [২]

নবী মুহাম্মদ বলেছেন, 
‘আমি নারীদের সাথে মুছাফাহা/ করমর্দন/হ্যান্ডশেক করি না। [৩]

তিনি আরও বলেছেন, 
‘আমি নারীদের হাত স্পর্শ করি না। [৪]

নবীপত্নী আয়েশা বলেছেন,
‘আল্লাহর শপথ, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর হাত কখনই কোন বেগানা নারীর হাত স্পর্শ করেনি। তিনি মৌখিক বাক্যের মাধ্যমে তাদের বায়'আত নিতেন’। [৫]

সুতরাং মুমিন মুসলিম ভাই-ব্রাদার, নিজের হাতে নিজে করমর্দন/হ্যান্ডশেক করুন, কিন্তু ভুলেও আধুনিক সাজতে গিয়ে বিবাহ বৈধ এমন মহিলার সাথে করমর্দন/হ্যান্ডশেক করবেন না; তা কোনো আবরণের সাহায্যে হোক বা আবরণ ছাড়া হোক উভয় অবস্থাতেই তা আপনার ধর্মে নিষিদ্ধ। আপনার স্থান মরুভূমির বর্বর মানুষের কাতারে, সভ্যতা আপনার জন্য সত্যিই নিষিদ্ধ!

এবার বেছে নেবার দায়িত্ব আপনার।

তথ্যসূত্র:
[১]. তাবারাণী, সিলসিলা ছহীহাহ হাদিস/২২৬।
[২]. আহমাদ হাদিস/৩৯১২; ছহীহুল জামে হাদিস/৪১২৬।
[৩]. আহমাদ হাদিস /২৭৫৩; ছহীহাহ হাদিস /২৫০৯।
[৪]. তাবারাণী কাবীর, ২৪/৩৪২; ছহীহুল জামে হাদিস /৭১৭৭।
[৫]. মুসলিম হাদিস/১৮৬৬।

(চলবে)