৩১ অক্টোবর, ২০১৬

খায়বার যুদ্ধ - ১৬: মুহাম্মদকে হত্যা চেষ্টা! কারণ?: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৪৫): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত উনিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।" 

সাফিয়া বিনতে হুয়েই বিন আখতাব নামের এক অসামান্য সুন্দরী সপ্তদশী ইহুদি তরুণীর পিতা, স্বামী, ভাই ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজনদের হত্যা করার পর যখন স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এই হতভাগ্য স্বজনহারা তরুণীটিকে তাঁর তাঁবুতে নিয়ে গিয়ে 'বিবাহ বাসর' উদযাপন করছিলেন, তখন আবু আইয়ুব আল-আনসারী নামের মুহাম্মদের এক আদি মদিনাবাসী বিশিষ্ট অনুসারী কী কারণে মুহাম্মদের জীবন আশংকায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন; মুহাম্মদকে রক্ষার চেষ্টায় তিনি কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন - তার বিস্তারিত আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খ্রিষ্টাব্দ), আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ), মুহাম্মদ ইবনে সা'দ (৭৮৪-৮৪৫ খৃষ্টাব্দ), ইমাম বুখারী (৮১০-৮৭০ খ্রিষ্টাব্দ), ইমাম আবু দাউদ (৮১৭-৮৮৯ খৃষ্টাব্দ) প্রমুখ ইসলামে নিবেদিতপ্রাণ আদি ও বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, আবু আউব আল-আনসারীর এই আশংকা ও আতঙ্ক তাঁর কল্পনাপ্রসূত মনের অবাস্তব চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ ছিল না। তা ছিল বাস্তবতা! খায়বার জনপদবাসীদের ওপর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা যে-সীমাহীন নৃশংসতা প্রদর্শন করেছিলেন, তারই প্রতিক্রিয়ায় মুহাম্মদকে হত্যা চেষ্টার সম্ভাবনা ছিল প্রত্যাশিত! খায়বারে মুহাম্মদকে সত্যিই হত্যা-চেষ্টা করা হয়েছিলো! আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকরা সেই ঘটনার বর্ণনা বিভিন্নভাবে তাঁদের নিজ নিজ গ্রন্থে লিখে রেখেছেন; সবচেয়ে বেশি প্রাণবন্ত ও বিস্তারিত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন আল-ওয়াকিদি, তাঁর 'কিতাব আল-মাগাজি' গ্রন্থে।

"কে এই অসীম সাহসী ব্যক্তি, যে 'স্বয়ং মুহাম্মদকে' হত্যার চেষ্টা করেছিলেন?”

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ) অব্যাহত বিস্তারিত বর্ণনা: [1] [2] [3]
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব-১৪৪) পর:

(আবু আল-কেইন আল-মুযাননির কন্যা হইতে > আবু হারমালার বোন উম্মে আবদুল্লাহ হইতে > আবু হারমালা হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইবনে আবি সাবরা আমাকে বলেছেন [পর্ব- ১৪৩]---)

'--- তারা যা বলেছেন তা হলো: যখন মুহাম্মদ খায়বার বিজয় করেন ও ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, যয়নাব বিনতে আল-হারিথ (‘সাললাম বিন মিশকাম এর স্ত্রী’- [ইবনে ইশাক/তাবারী]) জিজ্ঞাসা করা শুরু করে, "ভেড়ার কোন অংশের মাংসটি মুহাম্মদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ?" তারা জানায়, "সামনের পায়ের উপরি ভাগ (Forearm) ও গর্দানের।" সে তার এক ভেড়াকে ধরে নিয়ে আসে ও তা জবেহ করে। অতঃপর সে ক্ষমতাসম্পন্ন কিছু বিষ নেয় - সে অন্যান্য ইহুদিদের সাথে এই বিষ সম্বন্ধে পরামর্শ করেছিলো ও তারা এই বিষের ব্যাপারে বিশেষভাবে রাজি হয়েছিলো। সে ভেড়ার মাংসে বিষ মিশ্রিত করে, সামনের পা ও গর্দানের অংশে বেশি করে।

যখন সূর্য অস্তমিত যায়, আল্লাহর নবী মাগরিবের নামাজ আদায় করে তাঁর আস্তানায় প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি দেখতে পান যে, যয়নাব তাঁর বসার আসনটিতে বসে আছে। তিনি এ ব্যাপারে যখন খোঁজ-খবর নেন, তখন সে বলে, "আবুল কাসেম, এটি একটি উপহার, যা আমি আপনার জন্য এনেছি।"

দোষ নারীর ও পোশাকের

ধর্মের প্রকৃত সংজ্ঞা

ছওয়াব আদায়ের মওকা

মদিনা সনদের দেশে নবীর সুন্নত যথাযথভাবে পালিত হবারই কথা।

যে-ধর্মের নবী তার বাপ-দাদার ধর্ম ও তার অঞ্চলের তৎকালীন সমস্ত ধর্মের দেব-দেবীকে ব্যঙ্গ করেছে, অপমান করেছে, অবমাননা করেছে, নিজের হাতে ভেঙেছে তাদের পূজার সাড়ে তিন শতাধিক মূর্তি, সেই ধর্মের অনুসারীরা নবীর সেই সুন্নত পালন করে ছওয়াব কামানোর মওকা ছাড়বে কেন?... গতকালকের খবর:

ফটোফপে বানানো ছবির মাধ্যমে ইছলাম অবমাননার কথিত অভিযোগের জের ধরেতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অন্তত তিনশটি বসত ঘর ও দশটি মন্দিরে ভাংচুর ও লুটপাট করে ছওয়াব অর্জন উৎসব পালন করা হয়েছে। 

একই অভিযোগে মাধবপুরেও দুটি মন্দিরে ভাঙচুর চালিয়ে অশেষ ছওয়াব হাছিল করেছে মুছলিমেরা।


লক্ষণীয়, রাজনৈতিক মতাদর্শে যতো ভিন্নতাই থাকুক, অমুছলিমদের ওপরে হামলা বা অত্যাচারের সময় বাঙালি মুছলিমদের (নাকি মুছলিম বাঙালিদের?) ঐক্য কিন্তু রীতিমতো ঈর্ষা-জাগানিয়া। কারণ রাজনৈতিক ভেদাভেদ মুছে দিয়ে ইছলাম সবাইকে নিয়ে আসে এক কাতারে। 

আর তাছাড়া সংখ্যালঘু হত্যা ও ধর্ষণ এবং তাদের পূজার মূর্তি ভাঙা, জমি বা বাড়ি-দখল, ভাঙচুর, লুটপাট ও ইত্যাকার কোনও অপরাধের (উল্লেখিত সমস্ত কর্মই অবশ্য ইছলামসম্মত ও সুন্নত) সুষ্ঠু বিচার হয়েছে এবং অপরাধী পেয়েছে যথাযথ শাস্তি, এমন অন্তত একটি নমুনা বাংলাদেশের ইতিহাসে আছে কি না, নিশ্চিত নই।  

তবে এই জাতীয় ঘটনায় অংশ নেয়া মুছলিমদের আচরণ থেকে একটি সত্য প্রকট হয়ে ওঠে: স্রেফ সম্যক সাহস, সঙ্গী, সমর্থন ও সুযোগ পেলে অনেক মডারেট মুছলিমই জঙ্গি বনে যাবে।

৩০ অক্টোবর, ২০১৬

কোরআন যেভাবে অবতীর্ণ: মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছর (পর্ব ১৭)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


{ইসলাম প্রচারের পঞ্চম বর্ষে আবু জেহেলের চাচা, বানু মাখযুম গোত্রের প্রতিনিধি ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা মারা যান; মুহাম্মদের দাদা আব্দুল মুত্তালিবের পর মক্কার প্রধান প্রাণপুরুষ ছিলেন তিনিই। মুহাম্মদের চাচা আবু-তালিব হাশিম গোত্রের প্রধান হলেও মক্কায় তার আর্থিক প্রভাব ছিলো না; অপর দিকে ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা ছিলেন সবদিক দিয়েই প্রবল পরাক্রমশালী মানুষ! তিনি মনে করতেন; কুরাইশ বংশে যদি কারও নবী হবার যোগ্যতা থাকে, তবে তা তারই আছে!

মুহাম্মদের ৩৫ বছর বয়সের সময় কাবা-ঘর সংস্কার হয়, সে-সময়ে কাবা-ঘর ভেঙে ফেলতে সাহস পাচ্ছিলেন না কেউ; ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা এগিয়ে এসে কাবার ওপরে উঠে ভাঙতে শুরু করেন। যে আবু জেহেলকে ইসলামের প্রধান শত্রু হিসাবে দেখা হয়; তিনি এখনও মুহাম্মদের জীবনের (কোরআন-এর) দৃশ্যপটে আসেননি, কারণ চাচা ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা’র মৃত্যুর পরেই আবু জেহেল বানু মাখযুম গোত্রের প্রতিনিধি হিসেবে ‘দারুন নাদওয়া’-তে কর্তৃত্ব করতে শুরু করেন।

এ পর্বের ৭১ নং প্রকাশের প্রায় পুরোটাই ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা-কে নিয়ে; তিনিই প্রথম মুহাম্মদকে জাদুকর হিসাবে মন্তব্য করেছিলেন। গত কয়েক পর্বে মুহাম্মদের নারী-দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তনের যে ঘটনার কথা বলছিলাম, তা এই ৭৫ নং প্রকাশ থেকেই শুরু হতে থাকে!

অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটো মৃ্ত্যুর ঘটনা ঘটে মক্কায়, ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা'র মৃত্যু মুহাম্মদকে উল্লসিত করে; অপরটি মুহাম্মদকে এতটাই কষ্ট দিতে থাকে যে, সূরায় আয়াতের সংখ্যা ৭০ থেকে এক ধাপে নেমে দাঁড়ায় মাত্র ৩-এ; মুহাম্মদ আপোষকামী হয়ে পড়েন এবং কাবার দেব-দেবীদের মেনে নিতে বাধ্য হন! 

গত তিন পর্বে আরবের নারী-দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে কথা বলছিলাম আমরা; আজ মদিনা/ইয়াসরিব ও তায়েফের নারীদের নিয়ে কথা বলার কথা, কিন্তু নবী মুহাম্মদের জীবনের এই মুহূর্তের ঘটনা বর্ণনা করা জরুরি হওয়ায়, এ পর্বে মক্কা ছেড়ে যাওয়া হচ্ছে না!

কয়েক মাস রোগে ভুগে মুহাম্মদের দুগ্ধপোষ্য শিশু আবদুল্লা মারা যান; মুহাম্মদকে বংশহীন বা লেজকাটা নামে ডাকা হতে থাকে মক্কায়; আবদুল্লা মারা যাবার দেড়-দুই মাস পর সূরা আল কাওসার প্রকাশ করেন মুহাম্মদ। এ প্রকাশের আগ পর্যন্ত মুহাম্মদের মুখে হাসি ছিলো না, এবং এ সময়ে কোনো নতুন আয়াত প্রকাশ করেননি তিনি। সূরা আল কাওসার প্রকাশের পর থেকেই মুহাম্মদের লক্ষণীয় পরিবর্তন ঘটতে থাকে; আগামী কয়েক পর্বে তা অবশ্যই চোখ এড়াবে না আমাদের!

সংযুক্ত ছবিটি পর্ব ৬ এ দেওয়া ১১ নং অংশের জান্নাতুল মালা কবরস্থানের খাদিজার কবর; এখানে মোট তিনটি কবর আছে, সবচেয়ে ছোট বর্গাকার অংশটি মুহাম্মদের প্রথম সন্তান কাশেম/কাশিম-এর কবর; মাঝারি'টি খাদিজার কবর; আর দুটো কবরকে একসাথে রেখে বড় বর্গাকার অংশের কোনো এক জায়গায় আছে মুহাম্মদের দুগ্ধপোষ্য শিশু আবদুল্লা'র কবর। কবরটির নির্দিষ্ট স্থান সনাক্ত করা যায়নি, তাই পুরো জায়গাটিকে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে।

পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে

কোরআন অবতীর্ণ হবার ধারাবাহিকতা অনুসারে প্রকাশের আজ ১৭ তম পর্ব; এই পর্বে থাকছে মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছরের ১০ম পাঁচ অংশঅনুবাদে ভাষা একাধিক বাংলা/ইংরেজি অনুবাদ অনুসারে নিজস্ব।}

দ্বীনবানের দীন বাণী - ৪৮

ভিডিওসূত্র: https://youtu.be/7mXbp5sTiM0

মাথা ঢেকে নিয়ে হিজাবে > খেলতে ইরানে কি যাবে?

ইরানে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব প্রমীলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারিণীদের হিজাব পরা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করায় অনেকে তারকা-দাবাড়ু এই প্রতিযোগিতা বয়কট করছেন।

বাধ্যতামূলকভাবে হিজাব পরার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভারতীয় মহিলা শুটার হীনা সিধু ইরানে অনুষ্ঠেয় এশিয়া এয়ারগান শুটিং প্রতিযোগিতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে রাশিয়ার জাতীয় প্রমীলা মিনি-ফুটবল (ফুটসাল) দল ইরানে গিয়ে দুটো ম্যাচ খেলে এসেছে। দলের প্রত্যেকের মাথায় ছিলো হিজাব ও পা ছিলো সম্পূর্ণভাবে আবৃত। "এটা ছিলো ইছলাম ধর্মের প্রতি আমাদের সম্মান প্রদর্শন।"

হজ্ব - একটি পৌত্তলিক ভ্রমণ

আল্যার উপার্জনের অর্থ নিয়ে অনর্থ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মসজিদের আদায়কৃত টাকার ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার চরাঞ্চল চরবাগডাঙ্গায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে গড়াইপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চরবাগডাঙ্গার একটি মসজিদের আদায়কৃত টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ রানা টিপুর লোক বলে পরিচিত শহীদুল ডিলারের সাথে আনেসুরের বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে শুক্রবার দুপুরে গড়াইপাড়া গ্রামে দুই গ্রুপের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। 
এসময় উভয়পক্ষ শতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে অন্তত ৫জন আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে আফতাব ও সোহরাব নামক দু'ব্যক্তির বাড়ি ভাঙ্গচুরসহ লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
সদর মডেল থানার ওসি মাজহুরুল ইসলাম জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
ওপরের খবর থেকে আহরিত কয়েকটি শব্দ ও শব্দবন্ধ:

১. আদায়কৃত টাকা

২. টাকার ভাগবাটোয়ারা

৩. সংঘর্ষ

৪. শতাধিক বোমা

৫. বিস্ফোরণ

৬. ৫ জন আহত

৭. বিরোধ

৮. বাড়ি ভাংচুর

অনুসিদ্ধান্ত: ইছলাম শান্তির ধর্ম।

২৯ অক্টোবর, ২০১৬

ভিডিও লিংকিন পার্ক

১.
"আমি আপনার জন্য দোয়া করবো" বা "My thoughts are with you" জাতীয় শূন্যগর্ভ ও নিরর্থক বাক্য ব্যবহার করে যারা মনে করে, একটা বিশেষ দায়িত্ব পালন করা হলো, তাদের জন্য বাজারে এসেছে Thoughts & Prayers App. অচিরেই ইনস্টল করে নিন।
লিংক: https://youtu.be/UXrB7Y6gVN8

২.
বৌদ্ধদের অনুভূতি তো বটেই, এমনকি বুদ্ধভক্ত কিছু বুদ্ধুর অনুভূতিও ব্যথা পেয়ে কঁকিয়ে উঠবে Rude Buddha নামের অতীব মজাদার ভিডিওটি দেখে। 
লিংক: https://youtu.be/dMbnfxwus0s

৩.
যেসব আবাল মনে করে, নাস্তিকতাও একটি ধর্ম, তাদের জন্য বিল মারের বিদ্রূপমাখা যুক্তি-চপেটাঘাত
লিংক: https://youtu.be/BTL-P2V8xKk

৪.
কেনীয় র‍্যাপ-গায়িকা Xtatic অকপটে জানাচ্ছেন, কেন তিনি নাস্তিকতার পথে এসেছেন। তাঁর সরল যুক্তি ও হাসি আমাকে মুগ্ধ করেছে।
লিংক: https://youtu.be/jOPiD1-24TY

৫.
হামলা, হত্যা বা ধর্ষণের সময় যারা "আল্যাহু আকবার" বলে চিৎকার করে, তারা নাকি ছহীহ মুছলিম নহে! তাহলে কে প্রথম "আল্যাহু আকবার" প্রথম প্রয়োগ করেছিল সহিংসতার সময়ে? ভিডিও দেখে জেনে নিন।
লিংক: https://youtu.be/vztQhvF00JY

ষড়যন্ত্র

বানিয়েছেন সাঈদুর রহমান

পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে

যখন i-তে ইছলাম

বুরকা অ্যান্ড দ্য বিচ – ২৯

বিকিনিবহুল সমুদ্রতীর বা অন্যান্য রৌদ্রস্নানস্থলে বোরখাপরিহিতাদের অবস্থান বড়োই বেমানান, দৃষ্টিকটু, অশোভন এবং অশালীনও বটে। সেখানে তোলা কিছু ছবির সংকলন "বুরকা অ্যান্ড দ্য বিচ" ("বিচ" বানান কিন্তু beach. খিয়াল কৈরা!)।


২৮ অক্টোবর, ২০১৬

ইসলামী পাটিগণিত - ৪

লিখেছেন আবুল কাশেম


নামায এবং পাপের গণনা

প্রতিদিন (২৪ ঘণ্টায়) পাঁচবার নামায পড়া ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে এক অন্যতম স্তম্ভ। নিয়মিত সঠিকভাবে নামায না পড়া শুধুমাত্র পাপই নয়, অনেক ইসলামী স্বর্গ, যেমন ইরান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সৌদি আরব, ইত্যাদি দেশগুলোতে এ এক দণ্ডনীয় অপরাধ। নবী নিজেই ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যে, যারা রীতিমত নামায আদায় করে না, উনি তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিতে চান। এখানে একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দেওয়া হল। এই ধরনের অনেক হাদিস আছে।
ইসলামীক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, বুখারী শরীফ, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃঃ ৬১, হাদীস ৬২৪। উমর ইব্‌নে হাফ্‌স (র.)...আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে নবী (সা.) বলেছেনঃ মুনাফিকদের উপর ফজর ও ইশার সালাতের চাইতে অধিক ভারী সালাত আর নেই। এ দু’ সালাতের কী ফযীলত, তা যদি তারা জানত, তা হলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তারা উপস্থিত হত। (রাসূলুল্লাহ্‌ (সা.) বলেন), আমি সংকল্প করে ছিলাম যে মুআয্‌যিনকে ইকামত দিতে বলি এবং কাউকে লোকদের ইমামতি করতে বলি, আর আমি নিজে একটি আগুনের মশাল নিয়ে গিয়ে এরপরও যারা সালাতে আসেনি, তাদের উপর আগুন ধরিয়ে দেই। 
এক মুমিন তার জীবিতকালে ন্যূনতম কতবার নামায আদায় করবেন, তার একটু হিসাব করা যাক। 

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, নামায শিক্ষা শুরু হয় একজন শিশু যখন সাত বছর বয়সী হয়। আর দশ বছরে উপনীত হলে নামায ফরজ বা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। নিয়মিত নামায না পড়লে দশ বছর থেকে মারধোরও করা যেতে পারে। ধরা যাক, এক মুমিনের আয়ুষ্কাল পঁচাশি (৮৫) বছর। অর্থাৎ পঁচাশি বছর পর্যন্ত একাধারে দৈনিক পাঁচবার তাকে নামায আদায় করতে হবে।

সুতরাং জীবিত থাকাকালীন নামায আদায়ের সময় হবে ৮৫-১০ = ৭৫ বছর। এক বছরে ৩৬৫ দিন হিসাবে ধরা যাক।

সর্বমোট নামায আদায় করতে হবে ৭৫ গুণ ৫ গুণ ৩৬৫ = ১৩৬ ৮৭৫ বার বা ১ লক্ষ ছত্রিশ হাজার আটশত পঁচাত্তর বার।

এই হিসাব ধরা হয়েছে—শুধুমাত্র ঘরে, একাকী নামায আদায়ের ওপর।

এই হিসাবে প্রতি শুক্রবার অর্থাৎ জুমার নামায ও অত্যধিক নফল নামায বাদ দেওয়া হয়েছে।

এক বছরে ৫২ জুমা নামায হবে।

তাহলে সারা জীবনে জুমার নামাজ পড়তে হবে ৭৫ গুণ ৫২ = ৩ ৯০০ বার। এই সংখ্যাটি ওপরে নির্ণীত সংখ্যার সাথে যোগ করা যেতে পারে। জুমার নামায বাধ্যতামূলক—এবং এই নামায গৃহে পড়া যাবে না। জুমার নামায মসজিদে পড়া বাধ্যতামূলক।

কিন্তু হাদিস পড়ে বোঝা যায়, এক মুমিনকে এত বার নামায আদায় করার প্রয়োজন নেই। 
ইসলামীক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, বুখারী শরীফ, দ্বিতীয় খণ্ড, পৃঃ ৫৮, হাদীস ৬১৭। আবদুল্লাহ্‌ ইবন ইউসুফ (র.)...আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌ন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ জামা’আতে সালাতের ফযীলত একাকী আদায়কৃত সালাতের সাতাশ’ গুন বেশী। 
এখন ওপরে হিসাবকৃত ১৩৬ ৮৭৫ কে ২৭ দিয়ে ভাগ করলে প্রায় ৫ ০৬৯ বার নামায হয়।

এই ৫ ০৬৯ বার কে ৫ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যায় ১০১৩.৮ দিন।

১০১৩.৮ দিনকে ৩৬৫ দিয়া ভাগ করলে পাওয়া যায় প্রায় ২.৮ বছর বা দুই বছর নয় মাসের মতো।

এর এর অর্থ হচ্ছে: একজন মুমিন প্রতিদিন ধরে ২ বছর ৯ মাস তার নিকটস্থ মসজিদে যাতায়াত করে পাঁচটি বাধ্যতামূলক নামায আদায় করলেই তার জীবনের সব নামায আদায় হয়ে যাবে। এরপর তার আর নামায পড়ার দরকার নেই; শুধুমাত্র শুক্রবারের জুমার নামায পড়া ছাড়া। অর্থাৎ, তেরো বছরে উপনীত হবার পূর্বেই তা’র নামাযের পালা শেষ হয়ে যাবে। অন্তত ওপরের হাদিস অনুযায়ী গণনা করলে তাইই পাওয়া যায়।

মজার ব্যাপারই বটে!

অন্য এক হাদিসে ২৭ গুণের স্থলে ২৫ গুণ বলা হয়েছে, যেমন উক্ত হাদিস বই-এর ৬১৮ নম্বর হাদীস।

এখন আরও একটি হাদিস পড়া যাক:

যিশুশিক্ষা

ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৮৮

২৮৫.
- মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও বাস্তবোপযোগী করার উপায় কী?
- মাদ্রাসায় বিবিএ চালু করতে হবে। কারণ ধর্মের চেয়ে চাল্লু ব্যবসা তো আর কিছু নেই।

(কৌতুকটি বানিয়েছেন রসিয়া বন্ধু)

২৮৬.
পরিবারের কর্তাকে প্রশ্ন:
- আপনার প্রতি আপনার পরিবারের সদস্যদের আচরণ কেমন?
- আল্যার প্রতি যেমন।
- মানে?
- আমার কথা কেউই শোনে না, আমার অনুরোধ রাখার গরজও কারো নেই। তাদের ভাবসাব দেখে মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমার অস্তিত্বই যেন নেই। তবে আমাকে ডাকতে শুরু করে কোনওকিছুর প্রয়োজন হলেই।

২৮৭.
গভীর রাতে ডাক্তারের বাসায় ফোন বেজে উঠলো। ফোন তুলে ডাক্তার শুনলেন:
- ডাক্তার সাহেব, আমার বিবির পেটে ভীষণ ব্যথা। মনে হচ্ছে, অ্যাপেনডিক্স।
- কী সব আবোলতাবোল বকছেন! আপনার স্ত্রীর অ্যাপেনডিক্স গত বছর অপারেশন করে ফেলে দিয়েছি, মনে নেই? ঘুমোতে যান।

পাঁচ মিনিট পরে আবার ফোন।
- ডাক্তার সাহেব, সমস্যা অ্যাপেনডিক্সেরই। আমি নিশ্চিত।
- কোনও ব্যক্তির দুটো অ্যাপেনডিক্স আছে, এমন শুনেছেন কখনও?
- তা শুনিনি, ডাক্তার সাহেব, তবে আপনি নিশ্চয়ই শুনেছেন, মুছলিমদের একাধিক স্ত্রী থাকতে পারে?

২৮৮.
- আমি কিছু টাকা কুড়িয়ে পেয়েছি গতকাল।
- পেয়ে কী করলে?
- যিশু যা করতো, তা-ই করেছি। টাকাগুলোকে মদ বানিয়ে ফেলেছি।

২৮৯.
- কোরানে বলা আছে, বীর্য উৎপন্ন হয় হাড় (bone) থেকে। কথাটা কি ভুল?
- ঠিক ভুল বলা যায় না। ছাপার ভুল আসলে। একটা অক্ষর বাদ পড়েছে - শব্দটা  bone না, boner.

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৫৯

২৭ অক্টোবর, ২০১৬

নিমো হুজুরের খুতবা - ৬

লিখেছেন নীল নিমো

১৬.
আস্তাগফিরুল্লাহ। এইটা কিছু হইলো?

ফিনল্যান্ডের খ্রিষ্টানরা, দেখি, আস্তে আস্তে নাস্তিক হয়ে যাচ্ছে। সিরিয়াতে অ্যান্টি-ক্রাইষ্ট মুসলমানরা মারা যাচ্ছে, আর ফিনল্যান্ডের খ্রিষ্টানরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছে! কেমনে কী!

আমার মনে আছে, ৯/১১-এ ওসামা বিন লাদেন সাহেব যখন টুইন টাওয়ারের হামলা করে প্রায় ৩০০০ খ্রিষ্টানকে মেরেছিল, তখন বাংলাদেশে আমাদের পাড়ার মসজিদের ইমাম সাহেব শুকরানা নামাজ পড়েছিলেন। এরপর জুম্মার নামাজের পর এলাকায় আনন্দ মিছিল হয়েছিল। জিলাপি বিতরণ করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, কেউ যদি ইসলামিক হিরো লাদেনের ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তাহলে তার হাত ভেঙে দেওয়া হবে, গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

আফসুস, খ্রিষ্টানরা মুসলমানদের থেকে কিছুই শিখতে পারল না। খ্রিষ্টানরা এখন নাস্তিকদের ফলো করছে। 

১৭.
হে জাহান্নামী নাস্তিকরা, শুনে রাখ:
"মহান আল্লাহপাকের মনের ভিতর রাগ আছে, আনন্দ আছে, খুশি আছে, ভালবাসা আছে। 
আল্লাহপাকের এই সব আবেগ-অনুভুতি থাকা সত্ত্বেও আল্লাহপাকের কোনো যৌনানুভুতি নাই।"

১৮.
আমার ভাতিজা গণিত পরিক্ষায় ফেল করেছে। আমি ফেল করার কারণ জিজ্ঞাস করলাম। ভাতিজা উত্তর দিল:
- আমি তো ইচ্ছা কইরাই ফেল করছি। আমার সব উত্তর জানা ছিল, তবুও ইচ্ছা কইরাই ফেল করছি।

উত্তর শুনে আমার মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। আমি জিজ্ঞাস করলাম:
- আমার সাথে ফাইজলামী করছ?

ভাতিজার উত্তর দিল:
- আস্তাগফিরুল্লাহ, এইটা কী কইলেন? আল্লাহ চাইলে কি পৃথিবীর সবাইকে মুসলমান বানাইতে পারত না? নিশ্চয়ই পারত। আল্লাহ কি আমাদের সাথে ফাইজলামি করছে? নাউজুবিল্লাহ। আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন। আমিও আপনার ঈমান পরীক্ষা করার জন্য ইচ্ছা কইরাই ফেল করছি।"

ভাতিজার উত্তর শুনে আমি তব্দা খাইয়া ওযু করতে বদনা হাতে দৌড় দিলাম।

কোলাজ-লজ্জাহীন

ধূর্ত, ধড়িবাজ, ধুরন্ধর ধর্মধ্বজাধারীরা

১. নিজের দুই সন্তানকে হত্যা করে মা বলেছে, "তারা এখন আছে শ্রেয়তর স্থানে, স্বর্গে। তাদের আর কোনও উদ্বেগ নেই।" আরেক মা হত্যা করেছে তার অটিস্টিক পুত্রকে এবং সে নিশ্চিত, এখন ঈশ্বর তার দেখাশোনা করবে।

২. বীভৎস উপায়ে পশুহত্যার 'উৎসব' কোরবানিকে cheerful বলে ঘোষণা দিয়েছেন পুতিন।

৩. খ্রিষ্টান পুরুষকে বিয়ে করেছে বলে বোনকে হত্যা করাটা ছিলো তার ঈমানী দায়িত্ব - খাছ মুছলিম বান্দা জানিয়েছে এ কথা।

৪. ক্লিওপ্যাট্রার মতো সুন্দরী হতে চাইলে নারীদের উচিত হবে গোবর ও গোমূত্র ব্যবহার করা। এছাড়া ক্যান্সার, এইডস, অ্যাজমাসহ সর্বমোট ১০৮ টি রোগের নিরাময় দিতে পারে গোমূত্র। শুধু তা-ই নয়, গোমূত্র-গোবর নিয়ে গবেষণার লক্ষ্যে ভারতে গো-বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।

৫. ১৭ আর ১৯ বছরের দুই মুছলিমা কিশোরী ফ্রান্সে ইছলামী কায়দায় সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল।

৬. ইহুদিবিদ্বেষ যে-ধর্মের অন্যতম প্রধান নীতি, সেই ইছলাম ধর্মের হেড-কোয়ার্টার মক্কায় হজ্বের সময় হজ্বযাত্রীদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছিল ইহুদি প্রতিষ্ঠানকে।

৭. মেয়ে পশ্চিমা ধাঁচের জীবনযাপন করে বলে তার মুছলিম পিতা তাকে ইছলামী ধাঁচে ধর্ষণ করেছে।

৮. খ্রিষ্টধর্মানুসারী লেসবিয়ান যাজিকারা (nun) বিয়ে করছে বলে দুক্কু পেয়েছে বিশ্বে শিশুকামীদের বৃহত্তম সংগঠন ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ। তবে এই শালাই শিশুধর্ষক ধর্মযাজকদের বিরুদ্ধে বাস্তব কোনও পদক্ষেপ না দিয়ে ধর্ষিত শিশুদের জন্য প্রার্থনা দিবসের আয়োজন করেছে। এদিকে শিশুধর্ষক ক্যাথলিক ধর্মযাজকদের জন্য দক্ষিণ আমেরিকা স্বর্গে পরিণত হয়ে গেছে, এ বিষয়ে সে নীরব।

৯. মমিন ভাই-বোনেরা, উলামায়ে হিন্দ ভারতের এক নেতা মুফতি ইলিয়াস বলেছে, "দেবতা শিব আমাদের প্রথম পয়গম্বর। আমরা শিব ও পার্বতীর সন্তান।"

১০. ইছলামে জোরজবরদস্তি বলে কিছু নেই। তাই ইছলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয় খ্রিষ্টান ভাইয়ের সামনে বোনকে ধর্ষণ করা মুছলিমদের জন্য নিশ্চয়ই যায়েজ। আর তাছাড়া খ্রিষ্টান মেয়েদের আল্যা সৃষ্টি করেছে শুধু মুছলিম পুরুষদের দেহ- ও মনোরঞ্জনের জন্য

১১. ইসরায়েলের শিক্ষামন্ত্রী বলেছে, অংক ও বিজ্ঞানের চেয়ে ইহুদি ধর্ম অধ্যয়ন করা বেশি জরুরি।... হ, এখন ইহুদিরাও নূরের পথে আসতেসে।

১২. কন্যাকে অনাহারে রাখলে পিতার ব্যবসাবৃদ্ধি হবে - এই আশায় সবচেয়ে শান্তির ধর্ম হিসেবে দাবি করা জৈন ধর্মের অনুসারী পিতা-মাতা তাদের ১৩ বছরের কন্যাকে জোর করে অনাহারে থাকতে বাধ্য করেছিল। অনাহারের ৬৮ দিনে মেয়েটি মারা যায়। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় তার পরিবার তাকে child saint বলে ঘোষণা দেয়। অবশ্য ২০১৫ সালে বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ বলে কথিত ভারতের সুপ্রিমকোর্ট জৈনদের না খেয়ে মৃত্যুবরণ বৈধ বলে রায় দিয়েছে।

১৩. একেই বলে ধর্মীয় যুক্তি: "আমি সহিংসতার সমর্থক নই, তবে সমকামীদের হত্যা করা আবশ্যক" - বলেছে খ্রিষ্টান ধর্মযাজক।

১৪. ইছলামে যেমন ধর্ষণের দায় ধর্ষিতার, তেমনি এক খ্রিষ্টান চার্চ ধর্ষিতাকে বাধ্য করেছে ধর্ষক-ধর্মযাজকের স্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে

১৫. এক নারীর ভেতরে অবস্থান করা অশুভ আত্মাকে দূর করতে তার যৌনাঙ্গে জলপাইয়ের তেল মাখাচ্ছিল এক ধর্মযাজক।

১৬. ধর্ম যেহেতু নৈতিকতার উৎস, তাই ধর্মগুরুরাই নিশ্চয়ই সবচেয়ে বেশি নৈতিক। আর সে কারণেই শুধু দক্ষিণ কোরিয়াতেই ধর্মীয় নেতারা গড়ে মাত্র পাঁচ হাজার (দিনে প্রায় চোদ্দটি) অপরাধ ঘটিয়ে থাকে

১৭. হল্যান্ডে গাড়ি চালানোর সময় টেলিফোন ব্যবহার করার অপরাধে ধরা-পড়া মুছলিমা দাবি করেছে, সে ফোনে কোরান তেলওয়াত শুনছিল দাঁতের ব্যথা কমাতে

১৮. বুরকিনির সপক্ষে গলা-ফাটানো ব্যক্তিদের মতামত জানতে মঞ্চায়: মেয়েদের ছবি তোলা হারাম বলে ফতোয়া জারি হওয়ায় চৌদি আজবের তিরিশ লাখ নারীর আইডি-কার্ড নেই। ওদিকে আইসিস-ও বোরখা নিষিদ্ধ করেছে। অথচ বোরখা নিয়ে ঠাট্টা করায় এক মহিলা সাংবাদিক মমিন মুছলিমদের কাছে থেকে পাচ্ছে তাদের স্বভাবসিদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি।

১৯. ফেসবুকের ইনবক্সে মেসেজ পাঠানোর মাধ্যমে মৃতকে জীবিত করে তুলেছে বলে দাবি করেছে এক ধর্মযাজক। এই ধরনের খবর বিশ্বাস করার মতো আবাল পৃথিবীতে আছে কোটি কোটি!

"ঈশ্বর আমাদের সহায় হোন"

২৬ অক্টোবর, ২০১৬

সাইমুম (উপন্যাস: পর্ব ৯)

লিখেছেন উজান কৌরাগ


আজ আবার এক কাণ্ড ঘটে গেল বাসায়। না, আমাকে নিয়ে নয়। পাঁচতলার একটা বাসা খালি হবে আগামী মাস থেকে, টু-লেট টাঙানো হয়েছে। টু-লেট দেখে সকালের দিকে বছর চল্লিশের এক ভদ্রলোক এসেছিলেন বাসা দেখতে। বাবা তাকে পাঁচতলায় নিয়ে গিয়ে বাসা দেখালেন। বাসা দেখে পছন্দ হওয়ায় ভাড়া নিয়ে কথা বলার জন্য বাবা ভদ্রলোককে আমাদের ড্রয়িংরুমে এনে বসালেন আলাপ করার জন্য। ভদ্রলোকের নাম ইমন, একটা প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করেন। ভাড়াটিয়া হিসেবে বাবা ইমনকে পছন্দ করেছেন। পরিবারও ছোট; স্বামী-স্ত্রী আর তাদের এক পুত্রসন্তান। তাঁর অফিস এবং অন্যান্য বিষয়ে কিছুক্ষণ জমানো আলাপও করেছেন দু’জন। চায়ের অফার করলেও ইমন বিনয়ের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, তাঁর একটু তাড়া আছে, তবে বাসায় যখন উঠছেন, তখন অন্য সময় নিশ্চয় চা খাবেন। প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন যে, বিকেলেই তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে আসবেন বাসাটা দেখানোর জন্য আর তখনই অ্যাডভান্স ক’রে যাবেন। ইমন চ’লে গেলে বাবা তাঁর প্রশংসা করলেন এই ব’লে যে, ছেলেটা খুবই ভদ্র, বিনয়ী, সজ্জন; ভাল পরিবারের সন্তান, বাবা হাইস্কুলের শিক্ষক ছিলেন ইত্যাদি। 

বিকেলে আমি ড্রয়িংরুমে বসে ডিসকাভারি দেখছি। কলিংবেল বাজতেই আমি উঠে পা বাড়ালাম, কিন্তু আমার আগেই দরজার কাছে পৌঁছে গেলেন মা। বোধহয়, তিনি নিজের ঘর থেকে ড্রয়িং কিংবা ডাইনিংয়ের দিকে আসছিলেন। দরজা খুলেই থমকে দাঁড়ালেন মা, মায়ের সামনে দাঁড়ানো ইমন আর পিছনে তার স্ত্রী। ইমন বললেন, ‘সকালে বাসা দেখে গেছি, অ্যাডভান্স করতে এসেছি।’

সম্ভবত, মা কিছুটা ইতস্তত, তাই বেশ কয়েক মুহূর্ত পর বললেন, ‘আসেন।’ 

মা ঘুরে দাঁড়াতেই তার মুখাবয়বের অসন্তুষ্টির ভাষা পড়তে আমার একটুও দেরি হলো না। আমি টেলিভিশন বন্ধ ক’রে নিজের ঘরে প্রবেশ করলাম। ইমন এবং তার স্ত্রীকে ড্রয়িংরুমে বসতে দিয়ে মা গেলেন নিজের ঘরে, সেখানে বাবা আছেন। স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি সময় পর বাবা এলেন ড্রয়িংরুমে, কেন তার এই সময়ক্ষেপণ, তা আমার কাছে পরিষ্কার। বাবা কিছুটা বিব্রত, বাবার এই বিব্রত ভাবের কারণ আগেই আঁচ করতে পেরে আমি আমার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে কান সজাগ রাখলাম।

করুণার করুণ দশা

ধর্মের চিড়িয়াখানায় - ১৭

লিখেছেন ধর্মহীন জিরাফ

৮১.
ধর্মগ্রন্থে পরকালের কথা আসবেই। কিন্তু পরকাল মানেই মৃত্যুচিন্তা। আর মৃত্যুচিন্তা আপনাকে করে তুলবে মনমরা।

তাই বেশি বেশি ধর্মগ্রন্থ পড়ুন, বেশি বেশি মনমরা হউন!

৮২.
গ্যালিলিও ছিলেন চরম অমানবিক। "সূর্যের চারপাশে পৃথিবী ঘুরছে" - এরকম একটা সত্যি কথা বলে পৃথিবীব্যাপী কোটি কোটি খ্রিষ্টানের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কষ্ট দেয়া কী রকম মানবিকতা?

৮৩.
ঈশ্বর বলে যদি কেউ থাকত, তবে তাকে যারা ভীষণভাবে বিশ্বাস করত, আমি, সম্ভবত, সেই দলে একেবারে প্রথম দিকেই থাকতাম। কিন্তু বিজ্ঞান, সাহিত্য, দর্শন, জীবন, মস্তিষ্কের বিলিওন বিলিওন নিউরন, ট্রিলিওন ট্রিলিওন সিনাপ্স আমাকে বুঝিয়েছে - ঈশ্বর বলে কিছু নেই।

তাই মাফ কর, বাপ।

৮৪.
আল্লাকে নিয়ে কিছু লিখলে মুসলিমরা যতটুকু না প্রতিক্রিয়া দেখায়, তার থেকে অনেক বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায় মুহম্মদকে নিয়ে কিছু লিখলে। তারা সম্ভবত নিজেদের অজান্তেই আল্লার থেকে মুহম্মদের প্রতি বেশি অনুরক্ত হয়ে পড়েছে।

৮৫.
"কোরান-হাদিসের যে কথাগুলো সেকেলে, বাজে, অমানবিক, অবৈজ্ঞানিক ও ভুল, সেগুলো ইসলাম থেকে বাদ দেয়া উচিত" - কোন মুসলিম এই কথাটা মানবে?

যে ধর্মে সংশোধনের, সংস্কারের এতটুকু জায়গা রাখা হয়নি, সেটাকে পুরোপুরি ফেলে দেয়া ছাড়া আর কী করা যেতে পারে?

মুসার মূত্রত্যাগ

২৫ অক্টোবর, ২০১৬

বিশ্বাসের দরজায় করাঘাত!: পর্ব ০৪ - (সুন্নত পালনের দলিল)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


আমার শ্বশুর সাহেব হজ্জ থেকে ফিরেই নতুন নতুন সুন্নত পালন শুরু করলেন! সকাল-বিকাল ১০/১৫ মিনিট করে মেসওয়াক দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা সেসবের মধ্যে একটি। একদিন প্রশ্ন করলাম: ‘বাবা, এটা নিয়মিত কেন করছেন?’ 

তিনি হাসতে হাসতে উত্তর দিলেন: ‘এটা আল্লার রসূল নিয়মিত করতেন; এটা সুন্নত এবং সওয়াবের কাজ!’ 

আমি বললাম: ‘বাবা, দাঁত পরিষ্কার করা সুন্নত; তখনকার দিনে ব্রাশ না থাকায় আল্লার রসূল মেসওয়াক দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করতেন, এখনকার মত ব্রাশ-পেষ্ট থাকলে হয়ত তিনি তা-ই ব্যবহার করতেন! অথচ এমন অনেক কাজ আপনি নিয়মিত করেন, যা সুযোগ থাকার পরেও আল্লার রসূল করতেন না; এবং করতে পছন্দ করতেন না!’

শ্বশুর সাহেব প্রশ্ন করলেন: ‘যেমন?’

আমার কাছে সুন্নত পালনের দলিল শোনার পর থেকে শ্বশুর সাহেব মেসওয়াক করা বাদ দিয়েছেন; আজ সেই গল্পই শোনাবো আপনাদের!

প্রাচীন আরবে প্রাকৃতিক কার্য সমাধা করার জন্য বাড়িতে অথবা বাড়ির সীমানার মধ্যে টয়লেট নামে কিছু ছিল না; আরবের জনগণ সকাল এবং রাতে প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে মাঠে-ঘাটে-ঝোপ-ঝাড়ে যেতেন! সিরিয়ায় বাণিজ্য যাত্রায় মুহাম্মদ দেখতে পান, ইহুদি-খ্রিষ্টান জনগণ প্রাকৃতিক কার্য সমাধা করার জন্য টয়লেট নামক অদ্ভুত এক ঘর ব্যবহার করেন! কিন্তু সকল আরববাসীর মতই মুহাম্মদের কাছে টয়লেট করার জন্য বদ্ধ ঘরকে অপছন্দনীয় মনে হওয়ায় তিনি সেটার ধারে কাছে যেতেন না।

আরবের ছেলে-মেয়ে-বুড়ো-বুড়ি এবং মহিলারাও খুব ভোরে ও রাতের বেলায় মাঠে-ঘাটে-ঝোপ-ঝাড়ে যেতেন ইনকাম ট্যাক্স দিতে! আরও মজার বিষয় হচ্ছে জরুরি প্রয়োজনে ঘরের ভেতর একটি পাত্রে প্রস্রাব করে রাখতেন তারা, যা আবার খেয়ে ফেলার ইতিহাসও আছে (অন্য কোনো পর্বে বিস্তারিত)। 

মক্কার নব্য মুসলিমগন মদিনায় আসার পর ইহুদি গোত্রদের টয়লেট ঘরের বিষয়টি জানতে পারেন এবং স্বভাবতই তা অপছন্দ এবং কষ্টকর মনে করতে থাকেন; খোলা মাঠে পায়খানা-প্রস্রাব করা আসলেই সুখের! ভাবুন, আপনি বসে আছেন আর নিচ দিয়ে ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে! 


নবী মুহাম্মদ নিজে কখনই টয়লেটে প্রাকৃতিক কার্য সমাধা করা পছন্দ করতেন না, আর তাই তিনি টয়লেট নির্মাণ করেননি এবং মদিনার সকল ইহুদি বাসস্থান দখল করার পরেও মুসলিমগন তাদের ছেড়ে যাওয়া টয়লেটগুলো ব্যবহার করতেন না! সুযোগ থাকবার পরেও মুহাম্মদ প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারবার জন্য মাঠে-ঘাটে-ঝোপ-ঝাড়ে যেতেন!


শেষ পর্যন্ত বিষয় এটাই দাঁড়াচ্ছে যে, প্রতিটি মমিন মুসলমানের উচিত, প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারবার জন্য টয়লেট ব্যবহার না করে মাঠে-ঘাটে-ঝোপ-ঝাড়ে যাওয়া। টয়েলেট ব্যবহার করা নবী মুহাম্মদের সুন্নত-বিরোধী একটি কাজ হতে বাধ্য, কারণ নবী মুহাম্মদ এবং কোনো সাহাবীই এটা পছন্দ করতেন না!

‘অতএব, বাবা, যদি আপনি মেসওয়াক করা সুন্নত মনে করেন, তবে টয়লেট ব্যবহার বাদ দেওয়া উচিত আপনার আজ থেকেই; কারণ নবী মুহাম্মদের সুন্নত হচ্ছে, টয়লেট ব্যবহারের সুযোগ থাকার পরেও প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারবার জন্য মাঠে-ঘাটে-ঝোপ-ঝাড়ে যাওয়া! তাহলে চলুন বাবা, আগামীকাল থেকে দু'জনেই সকাল সকাল নদীর পাড়ে গিয়ে সুন্নত পালন শুরু করি!’ 

আর এটাই আজকের পর্বের সুন্নত পালনের দলিল! প্রিয় পাঠক, নিজেকে সত্যি সত্যি নবী মুহাম্মদের অনুসারী মনে করলে আগামীকাল থেকে মুহাম্মদের নামে মাঠে-ঘাটে-ঝোপ-ঝাড়ে সুন্নত পালন শুরু করুন! এবং নিজেকে প্রশ্ন করুন, নবী মুহাম্মদের অপছন্দের কাজ করে পাপী হবেন, না'কি সুন্নত পালন করবেন; সিদ্ধান্ত আজ থেকে আপনার। 

(চলবে)

সিরাতুল মোস্তাকিম

ওঠা-নামার দোয়া ও একটি পুরনো কৌতুক

ঢাকা এয়ারপোর্টের লিফটে ডমেস্টিক থেকে ইন্টারন্যাশনালে আসার সময় সুকান্ত বিশ্বাস-এর চোখে পড়েছে এই ছবিটি।


দেখে মনে পড়লো অনেক আগে শোনা একটি কৌতুক:
যুবক-হুজুরের বাসরঘরে একটি অডিও রেকর্ডিং ডিভাইস লুকিয়ে রেখেছিল তার বন্ধুরা। পরদিন সেটা উদ্ধার করে তারা শুনলো শুধু দুটো শব্দ:
- ... (কিছুক্ষণ নীরবতা) ... বিসমিল্যাহ‌... (এবং বেশ কিছুটা সময় পরে) ... আলহামদুলিল্যাহ্!"

শিশুধর্ষণ বিষয়ে ছহীহ বচন ও বেদ্বীনবাণী


২৪ অক্টোবর, ২০১৬

খায়বার যুদ্ধ - ১৫: মুহাম্মদকে হত্যা-চেষ্টার আশঙ্কা ও তার কারণ!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৪৪): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত আঠার

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।" 

সাফিয়া বিনতে হুয়েই বিন আখতাব নামের এক অসামান্য সুন্দরী ইহুদি তরুণী ও তাঁর পরিবার ও গোত্রের সমস্ত মানুষকে বছর তিনেক আগে প্রায় এক বস্ত্রে মদিনা থেকে বিতাড়িত (পর্ব: ৫২ ও ৭৫) করে, তাঁর পিতা হুয়েই বিন আখতাব-কে বছর খানেক আগে গলা কেটে হত্যা (পর্ব: ৯১-৯২) করে, তাঁর স্বামী কিনানা বিন আল-রাবি বিন আবি আল-হুকয়েক (পর্ব: ১৪১) ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনদের অল্প কিছু সময় আগে অমানুষিক নৃশংসতায় হত্যা করার পর স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কীভাবে তাঁর অন্য একজন অনুসারীর কাছ থেকে এই তরুণীটিকে হস্তগত করে নিজের ভাগের গনিমতের অংশ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত ও বিবাহ করেছিলেন - তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে। এই হতভাগ্য তরুণীটির একান্ত পরিবার সদস্যদের খুন করার পর মুহাম্মদ তাঁকে তাঁর তাঁবুতে নিয়ে আসেন ও বিবাহ বাসর উদযাপন করেন।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনা: [1]
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব-১৪৩) পর:

'আল্লাহর নবী খায়বার অবস্থানকালে কিংবা পথিমধ্যে যখন সাফিয়া-কে বিবাহ করে ও আনাস বিন মালিক এর মাতা উম্মে সুলালিম বিনতে মিলহান তার চুলে চিরুনি দান করে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে তাকে আল্লাহর নবীর জন্য উপযুক্ত করে; আল্লাহর নবী তাঁকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর তাঁবুতে রাত্রি যাপন করেনআবু আইয়ুব, বানু আল-নাজির গোত্রের খালিদ বিন যায়েদ নামের এক ভাই তার কোমরে তরবারি সমেত সারা রাত ধরে তাঁবুটি প্রদক্ষিণ করে আল্লাহর নবীকে প্রহরা দেয়, যতক্ষণে না সকাল হয়; আল্লাহর নবী তাকে সেখানে দেখতে পায় ও তাকে জিজ্ঞাসা করে জানতে চায়, সে কী উদ্দেশ্যে এই কাজটি করেছে। সে জবাবে বলে, "এই মহিলাটি আপনার সঙ্গে থাকায় আমি ছিলাম আশংকাগ্রস্ত, এই কারণে যে আপনি তার পিতা, তার স্বামী ও তার লোকজনদের হত্যা করেছেন ও অতি সাম্প্রতিক কালেও  সে ছিলো অবিশ্বাসী, তাই তার ব্যাপারে আমি আপনার জন্য ছিলাম শঙ্কিত।"

তারা যা বলেছে তা হলো, আল্লাহর নবী বলেন, "হে আল্লাহ, আবু আইয়ুব-কে নিরাপদে রাখো, যেমন ভাবে সে রাত্রি যাপন করে আমাকে নিরাপদে রেখেছিলো।"--'

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ) বর্ণনা: [2]

'-----তারা যা বলেছেন তা হলো: আবু আইয়ুব আল্লাহর নবীর তাঁবুর নিকট দাঁড়িয়ে সারা রাত্রি যাবত তরবারি হাতে অবস্থান করে, যতক্ষণে না সকাল হয়। পরদিন সকালে যখন আল্লাহর নবী বের হয়ে আসেন, আবু আইয়ুব 'তাকবীর' ঘোষণা করে; আল্লাহর নবী তাকে জিজ্ঞাসা করেন, "আবু আইয়ুব, কী ব্যাপার?" সে জবাবে বলে, "হে আল্লাহর নবী, আপনি এই তরুণীটিকে নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করেছেন; যার পিতা, ভাই, চাচা-মামা-ফুপা, স্বামী ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজনদের আপনি হত্যা করেছেন; আমি এই ভেবে ভীত ছিলাম যে, সে আপনাকে হত্যা করতে পারে।" আল্লাহর নবী হেসে ফেলেন ও তার সাথে সদয় কথাবার্তা বলেন।---'

(------They said: Abu Ayyub stayed up the night close to the Prophet’s tent, standing with the sword until morning. When the Messenger of God set out next morning Abu Ayyub pronounced ‘takbir’ and the Prophet said, “What is the matter, O Abu Ayyub?” He replied, “O Messenger of God, you entered with this girl, and you had killed her father, brothers, uncle and husband and generally her relatives, and I feared that she would kill you.” The Messenger of God laughed and spoke kind words to him. ---’)

- অনুবাদ, টাইটেল, [**] ও নম্বর যোগ - লেখক।

>>> আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত প্রাণবন্ত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, সাফিয়া বিনতে হুয়েই বিন আখতাব নামের এই হতভাগ্য তরুণীটির পিতা, স্বামী, ভাই ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজনদের হত্যা করার অল্প সময় পর মুহাম্মদ এই তরুণীটিকে তাঁর তাঁবুতে নিয়ে আসেন ও বিবাহ বাসর উদযাপন করেন। ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো - মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহর এই কর্মটি এত বেশি নৃশংস, হৃদয়বিদারক ও অমানবিক ছিল যে, আবু আইয়ুব আল-আনসারী (Abu Ayyub al-Ansari) নামের মুহাম্মদের এক বিশিষ্ট অনুসারী ৫৮ বছর বয়স্ক মুহাম্মদের জীবন আশংকায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন এই ভেবে যে, সপ্তদশী সাফিয়া প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে মুহাম্মদকে হত্যা করতে পারে। এই ভাবনায় আবু আইয়ুব এত বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন যে, তিনি উন্মুক্ত তলোয়ার হাতে মুহাম্মদকে রক্ষার চেষ্টায় তাঁর তাঁবুর  চারপাশে সারা রাত জেগে প্রহরায় নিযুক্ত ছিলেন।

আবু আইয়ুব আল-আনসারী (মৃত্যু ৬৭৪ খ্রিষ্টাব্দ) ছিলেন মদিনার বানু আল-নাজির (Banu al-Najir) গোত্রের এক বিশিষ্ট মুহাম্মদ অনুসারী। মদিনায় হিজরতের পর (পর্ব: ২৮) দুই সপ্তাহ বানু আমর বিন আউফ (Banu 'Amr b 'Auf) গোত্রের লোকদের সাথে অবস্থান করার পর মুহাম্মদ যার গৃহে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। [3]

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

হরর হাদিস – ১৫

Narrated By Abu Huraira : Abul Qasim said, "If any person peeps at you without your permission and you poke him with a stick and injure his eye, you will not be blamed."

ধর্মবিশ্বাস - বংশগত রোগ

লিখেছেন পুতুল হক

এ প্রজন্মের কোনো ছেলে বা মেয়েকে খুব ধার্মিক দেখতে পেয়ে যদি তাঁর বাবা-মাকে বলি, "আপনাদের সন্তান খুব ধার্মিক হয়েছে এবং এর অনেকখানি কৃতিত্ব আপনাদের পাওনা", নিশ্চয়ই তাঁরা খুব খুশি হবেন। 

সাথে সাথে যদি এভাবে আলাপ চালিয়ে যাওয়া যায় যে, "আপনারা যা শিখিয়েছেন, আপনাদের সন্তান সেটাই শিখেছে, আজকে আপনারা যদি হিন্দু হতেন, তবে আপনাদের সন্তান হত ধার্মিক হিন্দু", তখন কিন্তু তাঁরা আর খুশি থাকবেন না আমার ওপরে। 

জন্মের পর থেকে যুক্তির অতীত, প্রশ্নের অতীত কিছু বিষয়ের প্রতি আমাদের বিশ্বাস রাখতে বলা হয়েছে। যদি এই বিশ্বাস না থাকে, তাহলে জীবন ও পৃথিবী রসাতলে যাবে আর বিশ্বাস পাকা থাকলে মৃত্যুর পর আমরা আয়েশে-বিলাসে অনন্তকাল টিকে থাকবো। এটাকেই ধর্মবিশ্বাস বলে। 

যে ব্যক্তি আল্লাহ বিশ্বাস করে কিংবা যে ব্যক্তি ভগবান বিশ্বাস করে, তার সামনে আল্লাহ বা ভগবান নিজে এসে বা দুত মারফৎ তাদের অস্তিত্বের জানান দেননি। ছোটবেলায় বাবা-মা বা তার নিকটজন কেউ তাকে যা বিশ্বাস করতে বলেছে, সে তাই-ই বিশ্বাস করেছে। আমি মুসলিম. সেটার কৃতিত্ব আমার বা আল্লাহ নবীর নয়, আমার বাবা-মায়ের। আমি হিন্দু হলেও একই কথা খাটে। 

ধর্মবিশ্বাস অনেকটা বংশগত রোগের মত। বংশপরম্পরায় এই রোগ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়াতে থাকে। আমরা এর সত্যাসত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলি না। যে সমস্ত আচার, অনুষ্ঠান বা প্রথার প্রচলন আছে, সেসব ন্যায় কি অন্যায়, সেটাও ভেবে দেখি না। আমার বিশ্বাস টিকে থাকে অন্যের বিশ্বাসকে অবিশ্বাস করে। কিংবা, অন্যের বিশ্বাস টিকে থাকে আমার বিশ্বাসকে অবিশ্বাস করে। আমি যদি ভগবানে বিশ্বাস করি তবে ঈশ্বরকে আমার অবিশ্বাস করতে হবে। কোনো বাবা-মা একসাথে আল্লাহ-ভগবান-ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখার কথা শেখান না। তাঁরা তাঁদের বিশ্বাসকে সন্তানদের মধ্যে প্রবাহিত করেন। 

মুসলমানদের কাছে এই বিশ্বাসের নাম ঈমান। যার বিশ্বাস যত শক্ত, তার ঈমান তত পাকা। ঈমানকে তঁরা আগলে রাখেন সব কিছুর বিনিময়ে। কোনো আঁচড় লাগতে দেন না। ঈমানের বাইরে কী আছে, তা দেখতে গেলে বেঈমান হবার সম্ভাবনা আছে। কাজেই সেই ঝুঁকি তাঁরা নেন না। ইসলামের জন্ম এবং বিস্তারকে যখন ইতিহাস বর্ণনার ভাষায় কোনো বিশ্বাসী মুসলমানকে বলার চেষ্টা করা হয়, তখন ঈমান নষ্ট হবার ভয়ে তাঁরা তা শুনতে নারাজ। 

ধার্মিকের কাছে - সবার উপর ধর্ম সত্য তাহার উপর নাই। এর জন্য যদি জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারতে হয়, সেটাও সই। বিশ্বাসের গায়ে আঁচড় লাগতে দেবে না বলে তারা নাস্তিক ব্লগারের কল্লা রাখে না। অথচ তারা এটা ভেবে দেখে না, একজন লেখকের লেখায় যদি ১৪০০ বছরের পুরনো বিশ্বাস টলে যায়, তাহলে সমস্যা লেখাতে নয় বিশ্বাসে।

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৬৯

২৩ অক্টোবর, ২০১৬

জঙ্গিনামা - ২: ধর্মকারীর কুফরী কিতাব

"জঙ্গিনামা" সিরিজের আগের খণ্ড প্রকাশের সময় লেখা হয়েছিল, "অন্য সব ধর্মের জঙ্গিবাদের তুলনায় ইছলামী জঙ্গিবাদ এতো প্রবল, পরাক্রমশালী ও সর্বগ্রাসী কেন? কেন এখন জঙ্গি শব্দটির শুনলে অবধারিতভাবে মুছলিম জঙ্গির কথাই মাথায় আসে শুধু? মুছলিম জঙ্গিরা এতো সংখ্যাবহুল কেন? সাধারণ মুছলিমদেরকে কোন পদ্ধতিতে এবং নবীর জীবনের কোন কোন বীভৎস ও অমানবিক ঘটনার উদাহরণ দিয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয় জঙ্গিবাদের পথে আসতে, এবং জঙ্গি হওয়া প্রতিটি মুছলিমের একটি ঈমানী দায়িত্ব কেন, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া যাবে এই ইবুক-এ।"

আর বর্তমান খণ্ডকে আগের খণ্ডের তাফসীর বা ব্যাখ্যা হিসেবে ধরে নিতে হবে - এ কথা বলেছেন বইটির সংকলক, অনুবাদক ও নির্মাণকারী নরসুন্দর মানুষ

ফরম্যাট: পিডিএফ (সম্পূর্ণভাবে মোবাইলবান্ধব)
সাইজ: ৬৩০ কিলোবাইট মাত্র
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/jRksr6
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/NZA5oP

নিচে অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শন:

শেখ'স শপ - ১৫

লিখেছেন শেখ মিলন

৪৩.
মুমিন: ধর্মের মর্ম আপনারা বুঝবেন কীভাবে? আল্লাহ তো আপনাদের হেদায়তই দেননি।
নাস্তিক: দিতেনই বা কীভাবে? আল্লার ভাণ্ডার ফুরিয়ে গেছিলো যে!

৪৪.
বিশ্বাসীরাও অবিশ্বাসী। প্রমাণ দেখুন:

ক)
- আপনি ভাগ্যে বিশ্বাস করেন?
- হ্যাঁ।
- তবে লাভ/ক্ষতি বা ভাল/মন্দের জন্য ভাগ্যকে দোষ না দিয়ে অন্যকে দোষ দেন কেন?

খ)
- আপনি পরকালের বিচারে বিশ্বাস করেন?
- হ্যাঁ।
- তাহলে ইহকালে ঘটে যাওয়া কোনো দুর্ঘটনার জন্য কেন আদালতে শাস্তি দাবি করেন?

৪৫.
কোনো ঈশ্বর মানুষকে তার দাস রূপে সৃষ্টি করেনি, বরং মানুষ তার কল্পনায় ঈশ্বরকে সৃষ্টি করেছে নিজের প্রভু রূপে।

পষ্ট কইরা লেখা - ৩৬

নিমো হুজুরের খুতবা - ৫

লিখেছেন নীল নিমো

১৩.
মাঝে মাঝে আমার মুরিদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন, প্রেম-ভালবাসা দেখলে আমার বেশ ভাল লাগে। মনে শান্তি খুঁজে পাই। পীর হিসাবে আমার জীবনটা সার্থক মনে হয়। যেমন আজকে দেখলাম, আমার দুই মুরিদ, উটের মূত্র এবং গরুর মূত্র ভাগাভাগি করে খাচ্ছে। আহ্... কী সুন্দর ভ্রাতৃপ্রেমের দৃশ্য। একেই বলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।

যাই হোক, পশুর মুত্র একটি পবিত্র জিনিস। হিন্দু ভাইদের জন্য গরু একটি পবিত্র প্রাণী। তাই তাঁরা বেশ ভক্তি সহকারে ক্ষতিকর কোল্ড ড্রিংসের পরিবর্তে উপকারী গরুর মূত্র পান করেন। গরুর মূত্রের ভিতর অনেক উপকার আছে। গরুর মূত্র পান করলে ডায়াবেটিক্স, ক্যানসার, এইডস, ইবুলা ভাইরাস, জিকো ভাইরাস, জন্ডিসসহ সকল রোগ সেরে যায়।

মাশাল্লাহ, মুসলমান ভাইরাও পশুর মূত্র সেবনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েন নাই। উটের মূত্র সম্পর্কে খুব সুন্দর একটি বুখারি শরিফের হাদিস আছে:
....আবু কিলাবা বর্ণনা করেছেনঃ আনাস বলেছেন, “উকল ও উরাইনা গোত্রের কিছু লোক মেদিনাতে আসে এবং মদিনার আবহাওয়া তাদের খাপ খায় নি। সুতরাং নবী(সঃ) তাদের উটের পাল থেকে দুধ ও মুত্র খেতে হুকুম করেন। সুতরাং তারা হুকুম মত কাজ করে, এবং তারা সুস্থ হয়ে যায়..." (সাহিহ বুখারি, ভলিউম ১, বুক ৪, হাদিস ২৩৪)
আমি, নিমো হুজুর, ঠিক করেছি, এখন থেকে আমার মুরিদেরকে পানি-পড়ার বদলে মূত্র-পড়া দিব। এক গ্লাস মূত্র-পড়া খেয়ে মুরিদের সব অসুখ সেরে যাবে।

১৪.
আজকাল পোলাপানরা বেশি পাকনা হয়ে গেছে। কী সব আজেবাজে প্রশ্ন করে, কোনো ঠিকঠিকানা নাই। ঘটনাটা একটু খুলে বলি। ডেনমার্কে একটি বাসায় সুন্নতে খতনার দাওয়াত খেতে গিয়েছিলাম। যে ছেলের মুসলমানি, মানে সুন্নতে খতনা হয়েছে, সে আমাকে প্রশ্ন করে বসল, "হুজুর আংকেল, নবুয়াত পাওয়ার পর আমাদের নবীজির কি মুসলমানি হয়েছিল? ওনার বয়স তো ৪০ বছর ছিল। আমার আব্বা বলেছে, বেশি বয়সে মুসলমানি করলে ব্যথা বেশি লাগে, তাই আমার মুসলমানি তাড়াতাড়ি করা হয়েছে। বয়স বেশি হবার কারণে আমাদের নবীজি মনে হয় ভীষণ ব্যথা পেয়েছিলেন। নবীজির জন্য কান্না পাচ্ছে।"

আমি উত্তর দিলাম, "আস্তাগফিরুল্লাহ, জন্মগতভাবে নবীজির ঐখানে কোন চামডাড়া ছিল না, তাই মুসলমানির দরকার হয় নাই।"

ইঁচড়েপাকা ছেলেটা পাল্টা প্রশ্ন করল, "বলেন কী, হুজুর? নবীজির দেহের ঐ জায়গার একটা অংশ মিসিং ছিল? আমাদের নবী তো তাহলে প্রতিবন্ধী ছিলেন? সাহাবীরা জিনিসটা ভাল করে পরীক্ষা করে দেখেছিলেন? আমার আব্বা বলেছে, নবীজি এতই লজ্জাশীল ছিলেন যে, নিজের ঐ জায়গাতে কোনোদিন তাকাতেন না। এখন ভুলবশত ঐ জায়গাতে কিছুটা চামড়া থেকে গেলে তো উনার মুসলমানী জরুরি ছিল। আর ঠিকমত মুসলমানী না করা হলে মানুষ তো হিন্দু থেকে যায়।"

আমি ছেলেটার বাবাকে ডাক দিয়ে বললাম, "বাচ্চা ছেলেমেয়েদের সামনে কোরান হাদিস নিয়ে বেশি ঘাটাঘাটি করবেন না, আলোচনা করবেন না। এতে ছেলেমেয়েদের চরিত্র খারাপ হয়ে যায় এবং বেয়াদব হয়ে পড়ে। আপনার ছেলের কথা শুনে আমার ওযু নষ্ট হয়ে গেছে, আমি বাসায় চলে গেলাম।"

১৫.
গত শুক্রবার আমি একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলাম। যাই হোক ঘটনাটা খুলে বলি। যথারীতি শুক্রবারে মসজিদে আমি বয়ান দিচ্ছিলাম:
- মুরিদ ভাইরা আমার, দুই দিনের এই দুনিয়া হল ইহকাল। ইহকাল হল আমাদের জন্য হল একটি পরীক্ষা। এই ইহকালে একটি নেক কাজ করবেন, তো আখিরাতে তার একশ হাজার গুণ ফলাফল পাবেন। ইহুদি-নাসারারা এই দুনিয়াতে আরাম-আয়েশ করে সময় নষ্ট করছে। তারা আখেরাতে কিছুই পাবে না। তাই আমাদের উচিত এই দুনিয়ার মায়া, টাকাপয়সা, লোভ-লালসা, আরাম-আয়য়েশের জন্য আফসুস না করে আখিরাতের অনন্ত সুখ শান্তির জন্য অপেক্ষা করা। এই দুনিয়াতে এক টাকা খরচ করবেন, আখিরাতে তার একশ হাজার গুণ প্রতিদান পাবেন...

আমি খেয়াল করি নি যে, একটি নাস্তিক মসজিদের সামনের কাতারে বসে চুপচাপ আমার বয়ান শুনছিল। নামাজ শেষে আমি যখন মসজিদ থেকে বের হলাম, নাস্তিক আমাকে বলে উঠল, "হুজুর আমাকে দশ হাজার ড্যানিশ ক্রোনা (১ লক্ষ বিশ হাজার টাকার মতন) ধার দিতে পারবেন? আমি দরিদ্র মানুষ, তাই ইহকালের পরিবর্তে আখিরাতে আপনার টাকা শোধ করে দিবো।"

নাস্তিকের কথা শুনে আমার ওযু নষ্ট হয়ে গেল। আমি 'আস্তাগফিরুল্লা' বলে ওযু করতে দৌড় দিলাম।

নাস্তিকদের গোঁড়ামি

২২ অক্টোবর, ২০১৬

কোরআন যেভাবে অবতীর্ণ: মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছর (পর্ব ১৬)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


{মক্কা একটি মিশ্র নারীদের শহর; ইথিউপিয়া (হাবাশা) থেকে কালো চামড়ার দাসী, ইয়েমেন থেকে সাদা চামড়ার খ্রিষ্টান দাসী, মরুভুমির গোত্রে-গোত্রে হওয়া যুদ্ধবন্দী দাসীরাও আসতেন মক্কায়, কেনাবেচা হতো তাদের; কারও স্থান হতো পতিতালয়ে, কেউবা একান্তই পারিবারিক কাজ করতেন কুরাইশদের। আমরা কন্যাশিশু হত্যার যে রটনা শুনতে পাই, তার প্রায় সবটাই দরিদ্র মক্কাবাসী দাসী, মক্কার চারপাশের ভবঘুরে বসতি আর পতিতাদের কন্যাসন্তান থেকে মুক্তি চেষ্টার ফসল! সামর্থ্যবান কুরাইশ মক্কাবাসীরা প্রয়োজনে নিজের কন্যাকে অল্প বয়সে বিবাহ দিতেন, কিন্তু হত্যা করতেন না কখনই! এই ২০১৬ সালে এসেও এ চিত্র পাল্টায়নি বাংলাদেশেও। যারা বলেন, জীবিত কন্যাদের কবর দেবার ঘটনা ঘটতো না মক্কাতে; তারা আসলে মূল সত্যটা বুঝে উঠতে পারেন না মোটেই; তবে এটা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, বিষয়টিকে অতিমাত্রায় রং-চং দিয়েছে মুসলিম ইতিহাসবিদগণ।

মক্কা একটি ট্রানজিট শহর মরুভূমির; পানি, মদ, খাদ্য, শরীর ও ভোগের উপাদান ছাড়া যা গড়ে উঠতে পারে না কখনই; এর সাথে যুক্ত হয়েছিলো মূর্তিপূজারীদের ধর্ম পালনের স্থান হিসেবে কাবার জনপ্রিয়তা। তুলনামূলক ভাবে মক্কার নারীদের অবস্থা আরবের হিজাজ/হেযায অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে নিচু স্তরে ছিলো; দ্বিতীয় স্তরে মদিনা এবং তায়েফ-এর নারীরা অবস্থান করতেন। আরবের প্রথম শ্রেণীর নারী স্বাধীনতা ভোগ করতেন বেদুঈন নারীরা। মক্কার নারীরা যৌনতার ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছার মূল্য দিতে পারতেন না; এর একটি বড় কারণ, মক্কায় পুরুষের তুলনায় নারীর অনুপাত ছিলো বেশি; পুরুষদের একাধিক বিবাহ ছিলো খুব স্বাভাবিক ঘটনা। নারীর সংখ্যা বেশি হবার কারণ ছিলো, বেঁচে থাকার সহজ সমাধান খুঁজতে এখানে আসতো নারীরা আর শহরকেন্দ্রিক দাস-দাসী বাণিজ্যের লাসভেগাস/সোনাগাছি/টানবাজার এটিকে বলা যেতেই পারতো।

অনেকেই মুহাম্মদের প্রথম স্ত্রী খাদিজা, আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দার প্রসঙ্গ টানেন, কিন্তু এটা বলেন না, ‘ব্যতিক্রম কখনোই উদাহরণ হয় না।’ ‘ঝড়ে বক মরে, হুজুরের কেরামতি বাড়ে’ সুত্রে সম্পদশালী খাদিজা, আর ফাঁকা মাঠের মক্কা প্রধান আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দার এখরোখা জেদী স্বভাব দিয়ে মক্কার নারী স্বাধীনতার হিসাব মেলানো বুদ্ধিমানের কাজ নয় মোটেই (তথ্যসূত্র সহ ভবিষ্যতে বিস্তারিত লেখার আশা রাখি)।

যদি একবার ভাবেন, কেন মুহাম্মদের জন্মের পরের ৫ বছরে মাতা আমিনা বিবাহযোগ্য বর পেলেন না, কেন মুহাম্মদের পিতার কেনা দাসীকে মুহাম্মদ বিবাহ দিলেন তার দাসপুত্র জায়েদের সাথে, কেন মুহাম্মদ, আবু সুফিয়ান, হামজা’র মতো শিশুরা দুধমাতার কাছে দু'বছর করে সময় কাটাতে বাধ্য হতেন; আর কেনইবা মক্কায় নবী মুহাম্মদের বেশিরভাগ অনুসারী ছিলেন মক্কার দাস-দাসীদের থেকে! কী এমন রহস্য আছে মক্কার মাত্র ১৫০০ থেকে ২০০০ বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে; যা মুহাম্মদকে এতটাই একরোখা আর জেদি করেছিলো, যার কারণে মুহাম্মদ হয়ে উঠেছিলেন একজন সফল ধর্মপ্রচারক!

মুহাম্মদ দ্রুতই নারী স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলতে শুরু করতে বাধ্য হবেন, কারণ ক'দিন পরেই নারী ছাড়া তার কোনো উত্তরাধিকারী থাকবে না! মুহাম্মদ যতটুকু নারী স্বাধীনতা দেবেন মক্কার নারীদের, ঠিক ততটাই পিছিয়ে পড়বে মরুভূমির বেদুঈন আর মদিনার নারীরা; এটা তেমনই, যখন বাংলাদেশে দিন হবে, তখন আমেরিকায় রাত আপনা-আপনি চলে আসবে। মুহাম্মদ যতটা উন্নয়ন ঘটাবেন মক্কার নারীদের, ততটাই পিছিয়ে পড়বে বেদুঈন আর মদিনার নারীরা।

তবে এখন পার্থক্য এমনটাই; 
মক্কার নারীরা যখন নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে শরীর দিতে বাধ্য হতেন, ঠিক তখনই মদিনার নারীরা বলতে পারতেন, ‘আমি পাশ ফিরে শুয়ে থাকবো, পাশ থেকেই আদর করতে চাইলে করো; নাহলে আমার বিছানা থেকে যেতে পারো!’

এই পর্বের ৬৯ নং প্রকাশে, প্রথম বারের মত মুহাম্মদকে নিজের সমালোচনা করতে দেখা যাবে, গত পর্বে মুহাম্মদের মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার যে আভাস দেওয়া হয়েছিলো, এটা তারই সুত্রপাত বলা চলে। মুহাম্মদ ক্রমশ নিজের অসফলতা নিয়ে অস্থিরতা প্রকাশ করতে শুরু করছেন, এটা দ্রুতই বিষবৃক্ষের আকার নেবে; যা আগামী কিছু পর্বে প্রকাশিত হত বাধ্য। 

কোরআন অবতীর্ণ হবার ধারাবাহিকতা অনুসারে প্রকাশের আজ ১৬ তম পর্ব; এই পর্বে থাকছে মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছরের ৯ম চার অংশঅনুবাদের ভাষা একাধিক বাংলা/ইংরেজি অনুবাদ অনুসারে নিজস্ব।}

মগজ কখন নিষ্ক্রিয়

বানিয়েছেন সাঈদুর রহমান

"হিন্দু-মুছলিম ভাই-ভাই, নাস্তিকদের ফাঁসি চাই"

লিখেছেন অরূপ রত্নাকর

গত সপ্তাহে ভারতের মথুরায় একটি "নাস্তিক সম্মেলন"-এর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে পুলিশের অগ্রিম অনুমতি থাকা সত্ত্বেও পুরুত-মোল্লা উভয় বাহিনীর লোকেরা একত্রে গিয়ে যেভাবে সেই সভা বানচাল করে দিয়েছে, তার প্রেক্ষিতে একটা স্লোগান মাথায় এলো, যদিও এটা আপনাদের অতিপরিচিত অন্য একটা স্লোগান থেকেই বানানো হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত এখানেএখানে

আপনারা সবাই জানেন যে, "ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব সবার"। 

অথচ উগ্র নাস্তিকের দল সব ধর্মের ব্যাপারে তাদের নোংরা নাক গলায়। কাজেই এমতাবস্থায় হিন্দু ও মুছলিমদের মধ্যে সাময়িক ও সুবিধাবাদী ঐক্য স্থাপন করে সম্মিলিতভাবে "অসাম্প্রদায়িক" কায়দায় নাস্তিকদের দমন করা ছাড়া আর কোনো উপায় কি আছে?

সুতরাং - "ধর্ম যার যার, কিন্তু নাসতেখ দমনের অধিকার সবার।"

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১৯৮


২১ অক্টোবর, ২০১৬

ইসলামী পাটিগণিত - ৩

লিখেছেন আবুল কাশেম


ইসলামী বর্ষপঞ্জী বা ক্যালেণ্ডার 

প্রতি বৎসর ইসলামী বিশ্বে এক দারুণ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, যখন দেখা যায় যে, বিভিন্ন দেশে ঈদ পালিত হচ্ছে বিভিন্ন দিনে। যেদিন সৌদি আরবে ঈদ পালিত হয়, হয়তো তার এক বা দুই দিন পরে বাংলাদেশে ঈদ পালিত হয়। অনেক সময় এই সময়ের তারতম্য দুইদিনেরও বেশি হতে পারে। রমজান বা রোজা রাখা নিয়েও এই পরিস্থিতি। আমার জানা মতে, বর্ষপঞ্জী নিয়ে ইসলাম ছাড়া এই ধরণের বিদঘুটে পরিস্থিতি অন্য কোনো ধর্ম বা সমাজব্যবস্থায় নেই। এই বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির কোনো সমাধান আজ পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ব করেনি বা করতে রাজি নয়। তার কারণ কী? আল্লাহ পাক কি এই ধরণের বিভ্রান্তি চান? 

আমরা দেখব, কেন এই সমস্যা কেয়ামত অবধি বিদ্যমান থাকবে। ইসলামী পাটিগণিত যে কেমন অনির্ভরযোগ্য, তা এই ইসলামী বর্ষপঞ্জীর হাল থেকেই বোঝা যাবে।

ইসলামী বর্ষপঞ্জী শুরু হয় খ্রিঃ ৬২২ সালে (উইকিপিডিয়া); এই বর্ষপঞ্জী শুরু হয় নবী মুহাম্মদের মদিনায় হিজরির দিন থেকে। এই দিন, যথা ১৭ই জুলাই ৬২২ থেকে এই হিজরি বর্ষপঞ্জী শুরু। অর্থাৎ, ১৭ই জুলাই ৬২২ হচ্ছে ইসলামী হিজরি পহেলা (১) মুহররম হিজরি ১ সন। হিজরি বর্ষপঞ্জীতে বারোটি মাস নির্ধারিত হয়েছে: যথা—মুহররম, সফর, রবিউল-আওয়াল, রবিউল-আখির, জামাদউল-আওয়াল, জামাদিউল-আখির, রজব, শাবান, রমজান, জ্বেল-ক্বদ, জ্বেল-হজ্ব।

ইসলামের আগমনের অনেক আগে থেকেই আরব বেদুইনরা ঠিক করেছিল যে, তারা সারা বছর রক্তপাত করবে না। তাই তারা বৎসরের চারটি মাসকে ‘নিষিদ্ধ’ বা পবিত্র মাস হিসেবে স্বীকৃতি জানিয়েছিল। এই চারটি মাস হচ্ছে—জ্বেল-ক্বদ, জ্বেল-হজ্ব, মুহররম এবং রজব। মুহাম্মদের আগমনের পূর্বে কোনো আরব গোষ্ঠী কখনই এই নিয়ম ভঙ্গ করেনি, যতই শত্রুতা থাকুক না কেন বিভিন্ন গোত্রের মাঝে। যতটুকু জানা যায়, একমাত্র নবী মুহাম্মদই একতরফাভাবে অনেক সময় এই নিয়ম ভঙ্গ করেছেন—এই সব নিষিদ্ধ মাসগুলিতে যুদ্ধ চালিয়েছেন এবং রক্তপাত ঘটিয়েছেন।

আল্লাহ পাক নিজেই পৌত্তলিক আরবদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই সব সম্মানের মাসগুলিকে সম্মানের মাস হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছেন।
৯:৩৬ নিশ্চয় আল্লাহ্‌র বিধান ও গণনায় মাস বারটি, আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সূপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না। আর মুশরিকদের সাথে তোমরা যুদ্ধ কর সমবেতভাবে, যেমন তারাও তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে সমবেতভাবে। আর মনে রেখো, আল্লাহ্‌ মুত্তাকীনদের সাথে রয়েছেন।
কিন্তু আল্লাহ্‌ পাক কোরানের কোথায়ও পরিষ্কারভাবে জানাননি এই সম্মানিত মাসগুলি কোন কোন মাস।

এখন আমরা দেখব কী বিচিত্র এই ইসলামী বর্ষপঞ্জী।

আল্যার অস্তিত্বের প্যাঁচহীন প্রমাণ

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৫৮

২০ অক্টোবর, ২০১৬

"গোঁড়া" নাস্তিক

বাস্তবতার সঙ্গে সংশ্লেষহীন অলীক একটি শব্দবন্ধের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় প্রায়ই। শব্দবন্ধটি হলো - "গোঁড়া নাস্তিক"।

ব্যবহারকারীরা, অনুমান করতে পারি, 'নাস্তিক' শব্দটির সংজ্ঞা সঠিকভাবে জানেন না। জানলে তাঁরা বুঝতে পারতেন, "গোঁড়া" শব্দটির সঙ্গে "নাস্তিক"-এর সহাবস্থান অর্থগতভাবে সম্ভব নয় কোনওভাবেই।

বুঝিয়ে বলা যাক।

তাকেই নাস্তিক বলা হয়, যে-ব্যক্তি একেবারে কোনও ধরনের তথ্য-প্রমাণ না থাকার কারণে ঈশ্বরের অস্তিত্বের সপক্ষীয় দাবিতে অনাস্থা জ্ঞাপন করে। এর বেশি কিছু নয়। হ্যাঁ, নাস্তিকতা মানে প্রমাণহীনতার কারণে ঈশ্বরের অস্তিত্বের দাবিতে অবিশ্বাস। ব্যস।

এখন কেউ কি আমাকে বুঝিয়ে বলবেন, যুক্তি-তথ্য-প্রমাণহীন দাবিতে অবিশ্বাস প্রকাশের ভেতরে গোঁড়ামির স্থানটি কোথায়?

গোঁড়ামি কাকে বলে? প্রকট প্রমাণ, জুতসই যুক্তি, তর্কাতীত তথ্য উপেক্ষা করে ("বুঝি, কিন্তু মানি না" ধরনের) ভিত্তিহীন বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে থাকাটাই কিন্তু গোঁড়ামি।

অতএব ভুয়া দাবিকে দৃঢ়ভাবে অবিশ্বাস করার ভেতরে গোঁড়ামির গ-ও নেই।

তবে হ্যাঁ, যদি কখনও ঈশ্বরের অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়, এবং তারপরেও যদি এই ধরাধামে থেকে থাকে এমন কোনও নাস্তিক, যে তার মত পরিবর্তনে ঘোর অনীহ, শুধু তখনই তাকে "গোঁড়া নাস্তিক" বলা যাবে, তার আগে নয়। কোনওমতেই।

ধর্মবিরোধিতা কেন যুক্তিযুক্ত

ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৮৭

২৭৯.
- ঈশ্বর করতে পারে না, এমন কোনও কাজ কি আছে?
- আছে। জনসমক্ষে হাজির হওয়া।

২৮০.
ভবিষ্যতের পৃথিবী। ব্রেইন ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট তখন বাস্তব। নিউরোসার্জন জানালেন রোগীকে:
- সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে এক নাস্তিক ও এক ধর্মবিশ্বাসী। আপনি এদের কোনও একজনের ব্রেইন নিতে পারেন।
- কোনও তফাত আছে?
- নাস্তিকের ব্রেইনের দাম ১৫০০ ডলার, আর ধর্মবিশ্বাসীর মগজের দাম পড়বে ৫০০০ ডলার।
- নাস্তিকের মগজের দাম এতো কম কেন? তাদের বুদ্ধিশুদ্ধি কি কম?
- না, তা নয়। নাস্তিকের মগজটা ব্যবহৃত।

২৮১.
অবাধ্য হলেই হাওয়াকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে আদম বলতো:
- আমার দিকে তাকিয়ে দেখো, পাঁজরের হাড় এখনও অনেকগুলো বাকি আছে কিন্তু!

২৮৩.
এক মাতাল চার্চে ঢুকে ফুঁ দিয়ে নেভাতে শুরু করলো একের পর এক মোমবাতি। ধর্মযাজক ছুটে এতে বললো:
- করছেন কী!
এক গাল হেসে মাতালটি বললো:
- আজ আমার জন্মদিন কিনা!

২৮৪.
- ভালোবাসা প্রকাশের কয়েকটি ধরনের উদাহরণ দাও।
- ভালোবাসা প্রকাশের জন্য প্রেমিক-প্রেমিকারা ব্লেড দিয়ে হাত কাটে, আর মুছলিমরা কাটে লিঙ্গাগ্রের ত্বক।

(কৌতুকটি বানিয়েছেন রসিয়া বন্ধু)

টাইট-আন-নিকাহ্

১৯ অক্টোবর, ২০১৬

সাইমুম (উপন্যাস: পর্ব ৮)

লিখেছেন উজান কৌরাগ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭

নাস্তা খেয়ে চা বানিয়ে নিয়ে আমি নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ ক’রে কম্পিউটার চালু করলাম। ইউটিউবে রাকেশ চৌরাশিয়ার বাঁশি ছেড়ে হারিয়ে গেলাম নিজের ভাবরাজ্যের গহীনে। ক্লাস না থাকলে দিনটা আমি নিজের মতো ক’রে উপভোগ করি; সারাদিন সুরের মধ্যে ডুবে থেকে পড়ি কিংবা ব্লগে লিখি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাঁচে ফেলা লেখাপড়ার প্রতি আমার বিতৃষ্ণা চরম মাত্রায় পৌঁছে গেছে, তাই পরীক্ষার তোড়জোর না থাকলে ছুটির দিনে ক্লাসের পাঠ্যবই ছুঁয়েও দেখি না। আজকাল বাংলা সাহিত্যের বেশিরভাগ ফিকশন পড়ে আনন্দ পাচ্ছি না। পড়তে পড়তে মনে হয় পাঠককে খুশি করার জন্য, জনপ্রিয়তা পাবার জন্য এসব লেখা হচ্ছে। সবাই জনবহুল তৈরি পথে হাঁটছে; কিন্তু যে পথটা জনবিরল, খানাখন্দ আর লতাগুল্মে ভরা, সেই পথে কেউই পা বাড়াতে চাইছে না; অথচ সেটা একটা নতুন সম্ভাবনাময় পথ। ওই যে বিতর্ক এড়িয়ে সবার কাছে ভাল থাকার যে সুবিধাবাদী চরিত্র, সেটাই মাটি করছে নতুন সম্ভাবনাকে। বেশিরভাগ লেখক মিথ্যাটাকে মিথ্যা জেনেও তা উন্মোচন করতে চায় না, বরং জনপ্রিয়তার জন্য মিথ্যার ওপর একটা আরোপিত চটকদার প্রলেপ লাগায় এরা। অন্ধকার দেখেও সুচিন্তার আলো ফেলে না, বরং না দেখার ভান ক’রে পাশ কাটিয়ে যায়; প্রগতির পথে কোনো কালো পাথর থাকলেও এরা তাতে আঘাত না ক’রে বা সরানোর চিন্তা না ক’রে খাদে নেমে কোনোরকমে পাশ কাটিয়ে চ’লে যায়! এইসব বৃত্তবন্দী হৃদয়ের লেখা মুক্ত হৃদয়ের খোরাক মেটাতে পারে না। এই সময়ের হাতে গোনা কয়েকজন লেখকের ফিকশন পড়ছি, আজকাল ফিকশনের চেয়ে নন-ফিকশনের দিকে বেশি ঝুঁকেছি। 

সঙ্গীতের ক্ষেত্রেও তাই, কথা যেন মন ভরাতে পারছে না। মনের কথাটা কেউ বলছে না, বলছে কেবল আরোপিত কথা। ফলে হয় পুরনো দিনের গান কিংবা লোকগান শুনছি, নয়তো শুনছি ক্লাসিক। আজকাল যন্ত্রসঙ্গীতই বেশি শুনছি। মনটাকে সুরের সঙ্গে উড়িয়ে দিয়ে নিজের মতো ক’রে শব্দ বসিয়ে ভাবতে বেশ ভাল লাগে। 

এই যা, আমার অর্ধেকটা চা আজকেও প্রায় ঠাণ্ডা হয়ে গেল! এরকম প্রায়ই হয় কল্পনার গভীর সমুদ্রে নিমজ্জিত হ’লে। যদিও বাসায় থাকলে আমি বেশ সময় নিয়েই চা পান করি, কেননা আমি কাপে চা পান করি না, পান করি মগে। সকাল-সন্ধ্যায় এককাপ আদা চা নিয়ে আমি আমার রুমের দরজা বন্ধ ক’রে নিজের জগতে ডুবে থাকি। অবশ্য এটা শুধু ছুটির দিনে, সকালে ক্লাস থাকলে চা পানের সময় কোথায়! তখন তো ঘুম থেকে উঠেই পড়িমরি ক’রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ধরি, তারপর চা পান করি ক্যাম্পাসে গিয়ে। 

চায়ে চুমুক দিতে দিতেই বাবার উচ্চকন্ঠ কানে এলো। আবার কার ওপর চোটপাট করছেন, মা নাকি ছোটো আপু? নাকি খানিক বিরতি দিয়ে পুনরায় ব্যবসায়ীদের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করছে? আমি বন্ধ দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই শুনতে পেলাম, ‘এগুলো মানুষ না, হিংস্র পশু! ইসলামের দুশমন, ইসলামের শত্রু! ইসলাম সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই, কতোগুলো মূর্খ কোরান বিকৃত ক’রে মানুষ হত্যায় নেমেছে।’

নামাজ বনাম স্বাধীনতা