৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

শুভ্র বচন - ৩

লিখেছেন শুভ্র আহমেদ

৭.
চেনা বামুনের পৈতা লাগে না। কোন ধর্মের লোকেরই কইতে হয় না: I am not a terrorist.
কিন্তু একখান বিশেষ ধর্মের লোকদের জপমালা নিয়ে জপতে হয়: I'm not a terrorist

৮.
ইসলামি নৈতিকতা:
১. ডাকাতি করা হালাল (বদর যুদ্ধের ইতিহাস দ্রষ্টব্য), কিন্তু ব্যাংকে টাকা রেখে বৈধ ইন্টারেস্ট খাওয়া হারাম।
২. ৬ বছরের মেয়েশিশুকে বিয়ে করা হালাল, কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের ভালোবেসে চুমু খাওয়া হারাম।
৩. দাসীর সাথে সেক্স করা হালাল, কিন্তু হস্তমৈথুন করা হারাম।
৪. চার বিয়ে হালাল, কিন্তু প্রেম করা হারাম।
৫. বিধর্মী নারী বিয়ে করা হারাম, কিন্তু বিধর্মী নারীদের যৌনদাসী বানানো হালাল।
৬. যুদ্ধ করা হালাল, কিন্তু সংস্কৃতিচর্চা (নাচ-গান, অভিনয়) হারাম।
৭. বাল্যবিয়ে হালাল, কিন্তু সমকামিতা হারাম।
৮. মিথ্যাচার ও প্রতারণা (ইহুদি কবি কা'ব ইবনে আশরাফ এর হত্যাকাহিনী দ্রষ্টব্য) হালাল, কিন্তু ইসলামের কোনো ব্যাপারে প্রশ্ন তোলা হারাম।
৯. দলবেঁধে হৈ-হুল্লোড় করে রক্ত প্রবাহিত করা (কোরবানির ঈদ) হালাল, কিন্তু নববর্ষ পালন হারাম।
১০. ইহুদি-নাসারাদের সাথে বন্ধুত্ব হারাম, কিন্তু আগবাড়িয়ে তাদের দেশে হামলা করা হালাল।
৯.
লেখার জবাব মুসলিমরা কেন লেখা দিয়ে দেবে? কিংবা কীভাবে দেবে?

মুসলিম দেশগুলাতে শিক্ষার হার সবচে কম। এই অশিক্ষিত ধর্মীয় গোষ্ঠীটি লেখার জবাব লেখা দিয়ে দিবে সেই আশা বাতুলতা। এই আশা ছেড়ে দিয়েই লিখে যেতে হবে।

লেখার জবাবে চাপাতিই আসবে - এইটা মেনে নিয়েই, এই আশংকা সামনে রেখেই পথ চলতে হবে।

অশিক্ষিত মুসলিমদের কাছে কলমের জবাবে কলম আশা করা আর মরুভুমিতে পানির ঝর্ণা আশা করা একই কথা।

দ্বীনবানের দীন বাণী - ৪৭

ভিডিওসূত্র: https://youtu.be/-e34y6O45Bc

ন্যাংটা নবী

বা দিগম্বর পয়গম্বর


আমার বোরখা-ফেটিশ – ১৯৫


২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

পুতুলের হক কথা - ২২

লিখেছেন পুতুল হক

৮৬.
বেশ কয়েকবছর আগে বাংলায় কোরআন পড়েছিলাম। কেমন খাপছাড়া কথা, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই কথা বারবার করে বলা, এই ধমকাচ্ছে, এই ভয় দেখাচ্ছে, এই অভিশাপ দিচ্ছে, এই লোভ দেখাচ্ছে, এই আবার নিজের মহিমার কথা নিজেই বলছে, কখনো ফার্স্ট পারসন কখনো বা থার্ড পারসন, মাথামুণ্ডু ধরতে পারি না। ছন্দ বা সুর কোথায়, সেটাও খুঁজে পাইনি। হয়তো অনুবাদের কারণে, হয়তো আমার মোটামাথার কারণে, কে জানে বাপু!

৮৭.
ইহুদিরা ষড়যন্ত্র করে আল-কোরআন নামের একটা বই লেখে। সেই বইয়ের প্রচারের জন্য তারা মোহাম্মদ নামের এক জঙ্গি তৈরি করে।
সব দোষ ইহুদি-নাসারার।

৮৮.
অনেক মুসলিমকে বলতে শুনেছি, তারা ভূত বিশ্বাস করে না। তাদের ভাষায় - ভুত বলে পৃথিবীতে কিছু নেই, এসবই মানুষের কল্পনা, কুসংস্কার। কিন্তু তারা জ্বীন আর ফেরেস্তা আছে বিশ্বাস করে। দু'দুটো ফেরেস্তা মানুষের কাঁধে খাতা-কলম নিয়ে বসে আছে। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার সময়, ভালোবাসার সময়, চুরি-ডাকাতি করার সময়, প্রতিটি মুহূর্তে তারা মানুষের কাঁধে বসে থেকে শুধু লিখতে থাকে। আর জ্বীনদের নাকি আলাদা দেশ আছে, তারা ঘর-সংসার করে, তাদের বাচ্চা হয়। 
ভূত দেখেনি বলে ভূত বিশ্বাস করে না, কিন্তু না দেখেও জ্বীন আর ফেরেস্তার কথা প্রবলভাবে বিশ্বাস করে।

৮৯.
কল্পনার স্বর্গ-নরক না থাকলে দুনিয়াতে অনেক লোক বেকার হয়ে পড়বে।

৯০.
নানুমণি বুরখা পরতেন না। বাইরে যাবার সময় একটা ওড়না জড়িয়ে নিতেন। অনেক বাল্কি ছিলেন, তার ওপর অসুস্থ। খুব কষ্ট হত তাঁর। ঘেমে অস্থির হয়ে বলেছিলেন, "মেয়েদেরকে ঢেকে রাখার জন্য ছেলেদের কেন যে এতো ইচ্ছা?" আমি বলেছিলাম, "আল্লাহর ইচ্ছা।" নানুমণি বলেছিলেন, "রাখো তোমার আল্লাহর ইচ্ছা, সব পুরুষের বুদ্ধি!"

গরুজাতির মোল্লা-পুরুতবিদ্বেষ

উপমহাদেশের গরুগুলো, খুব সম্ভব, জানে, মুছলিম মোল্লা ও হিন্দু পুরুত তাদের বড়ো শত্রু, যেহেতু কোরবানি ও বলির কাজটি তারাই করে থাকে। আর সে কারণেই এই প্রজাতির ওপরে নিরীহ গরুজাতির এতো রাগ বলে মনে হয়! নিচের ছোট্ট ভিডিও দুটোয় প্রমাণ দেখুন:



প্লেবয়ে মুছলিম জেনানাদের ছবি

প্লেবয়ের অক্টোবর সংখ্যার জন্য মডেল হয়েছে এক মুছলিম জেনানা। শুনে পুরুষদের উৎফুল্ল হবার কোনও কারণ নেই। কারণ ছবিগুলো অতি বেশরিয়তী নয়। মোটামুটিভাবে ছহীহ লেবাছ তার পরনে। এবং হিজাবসহ। একটি নমুনা:


তবে আশাহতদের জন্য সান্ত্বনা পুরস্কার: জার্মানিবাসী তুরস্কীয় বংশোদ্ভুত মুছলিম অভিনেত্রী সিলা সাহিন প্লেবয়ের জার্মান সংস্করণের জন্য দুঃসাহসী ফটো-সেশনে অংশ নিয়েছিলেন সেই ২০১১ সালে!


সেই সময়ের নয়টি ছবির লিংক (ছবিগুলো বড়োদের। অতএব ইমোটা খিয়াল কৈরা!  )
একদুইতিনচারপাঁচছয়সাতআটনয় (প্রথমটি ছাড়া প্রতিটি ছবিই অতিকায় আকারের বলে লিংকে যাবার পর ছবিগুলোর ওপরে আবার ক্লিক করতে হতে পারে)

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৫৫

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

শেখ'স শপ - ১৩

লিখেছেন শেখ মিলন

৩৭.
আদালতে আসামীকে প্রশ্ন করা হচ্ছে:
- তুমি মিছিলের ওপর চাপাতি হামলা করেছিলে কেন? 
- ওরা চিল্লাপাল্লা করে অশান্তি সৃষ্টি করছিলো, তাই আমি ওদের কল্লা ফালায়ে দিছি... ইসলাম শান্তির ধর্ম, অশান্তি পছন্দ করে না।

৩৮.
বহু জন্ম আগে,
আমি আদম, তুমি ইভ...
জন্মান্তরে,
তুমি পার্বতী, আমি শিব...

৩৯.
কেউ উপাসনালয়ের ভেতরে বসে ভিক্ষা করে পরকালে সুখে থাকার জন্য,
আবার কেউ উপাসনালয়ের সম্মুখে বসে ভিক্ষা করে দিনে দু'বেলা দু'মুঠো খাবারের জন্য।
আমি উপাসনালয়ের বাইরের ঐ ভিক্ষুকগুলোর কথা বলি...
কারণ তারাই বাস্তববাদী, আর ভেতরের ভিক্ষুকেরা তো কল্পনাবিলাসী।

দুর্বিষহ দুর্গন্ধযুক্ত দু'টি কিতাবের তুলনা

সূরা ৮.১৭ মিনিট

(জিব্রাইল পর্ন-মশগুল থাকায়) বিলম্বে নাজিল হয়েছে এক পর্ন লেখক উগ্র নাস্তেক ইত্তিলা ইতু-র ওপরে

সূরা ৮ মিনিট, 
আয়াত ১৭ সেকেন্ড
স্লোভাকিয়ায় অবতীর্ণ

১. তোমরা যাহারা ৮ মিনিট ১৭ সেকেন্ড লইয়া উত্তেজিত হইয়াছ ও হইতেছ, তাহারা কেহই পর্ন জগৎ সম্পর্কে অজ্ঞাত নহো, তা আমি জানি আমার অসীম ক্ষমতার গুণে।

كنت متحمس، خائفا في أولئك الذين أخذوا 8 دقائق و 17 ثانية، وأيا منهم لا يدركون العالم الاباحية، لكني أعول أمي قوة لانهائية.

২. প্রতি রাতে তোমরা কে কত মিনিট উম্মে সানির পেছনে ব্যয় কর, তাহাও আমার নজরের বাহিরে নহে।

وقالت المبلغ الذي تنفقه كل ليلة دقائق مشمس، ولا حتى لي للخروج من الطريق.

৩. তোমরা কি বেহেশতের ৭২ হুরীর জন্য অপেক্ষা করিতে রাজি নহো, যাহার প্রতিশ্রুতি আমি তোমাদের দিয়াছি? নিশ্চয়ই আমি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করি না।

ما أنت على استعداد لانتظار السماء النعيم القابضة للاستثمارات سبعين هور، الذي قد أعطيت لك الالتزام؟ أنا لا نعد استثناء.

৪. আর তাহারাই নিক্ষিপ্ত হইবে জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুনে, যাহারা বিশ্বাস রাখে না আমার প্রতিশ্রুতিতে।

وسوف يلقى في نار جهنم، وأنا لا أعتقد أن تلك الوعود.

৫. এবং নিয়মিত উপভোগ করে ৮ মিনিট জাতীয় উত্তেজক ভিডিও, যাহা আমি সম্পূর্ণ হারাম করিয়াছি তোমাদিগের জন্য।

وتتمتع بانتظام مثيرة الفيديو ثماني دقائق، وهو ما حرم لاستكمال لكم.

৬. এবং এ সম্পর্কে স্পষ্ট বিধান রাখিয়াছি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে।

وضعت في نص واضح في الكتب السابقة.

৭. নিশ্চয়ই আমি মহান, করুণাময়, অসীম দয়ালু।

أنا بالتأكيد عظيم، الرحيم، الرحمن الرحيم.

সত্যাসত্য ভগবানেশ্বরাল্যারা

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

সাইমুম (উপন্যাস: পর্ব - ৫)

লিখেছেন উজান কৌরাগ


সংগ্রামে ভরা জীবন শাশ্বতীদির। সত্য এবং নিজের বিশ্বাসে অটল থেকে সমাজ আর পরিবারের সঙ্গে ক্রমাগত লড়াই ক’রে মাথা তুলে দাঁড়ানোর এক আদর্শ চরিত্র। ঘুম যেহেতু আসছেই না, লেখাটা পড়েই ফেলি। ক্লিক ক’রে ওর ব্লগে ঢুকে পড়তে শুরু করলাম।

জন্মান্তর (পর্ব - এক)

রতিক্লান্ত দেহে আমার বর এখন বেঘোরে ঘুমোচ্ছে তার ভাঁজ করা ডান হাত আমার বুকের ওপর দিয়ে বাঁ-কাঁধের কাছে আর দ আকৃতির ডান পা দুই ঊরুর ওপর রেখে; তার নিশ্বাস পড়ছে আমার গলার ডানদিকে, গালেও। আমরা দু’জনই নগ্ন! এই যে আমার বর নগ্ন হ’য়ে তার ডান হাত আর ডান পায়ের ভর রেখেছে আমার শরীরের ওপর, আমার শরীরের সাথে লেপটে সে দিব্যি ঘুমোচ্ছে, এই অভিজ্ঞতা আমার আজই প্রথম নয়; অনেক রাত আমরা এভাবে পার করেছি। তবু আমার মনে হচ্ছে আজই প্রথম, আজই প্রথম আমি বরের স্পর্শ সুখ পেলাম; আজই প্রথম আমার জীবন পূর্ণতা পেল, নারীজীবন! কী যে সুখ অনুভূত হচ্ছে, কী যে ভাল লাগছে, কী যে আনন্দের হড়কা বান বইছে আমার হৃদ চরাচরে, সেই অনুভূতি কখনোই আমি শব্দে শব্দে লিখে বা মুখে ব’লে পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করতে পারবো না কারো কাছে; এমনকি আমার বরের কাছেও নয়। এই সুখ, ভাললাগা, আনন্দের অনুভূতি অব্যক্ত; সকলের সঙ্গে ভাগ ক’রে নেবার পরও হৃদয়ের কোটরে কিছু গোপন থেকেই যায়, যা কারো কাছে ব্যক্ত করা যায় না, এই অনুভূতির কোনো শরিক হয় না। কোনো শব্দেই গাঁথা যায় না এই সুখানুভূতির মালা, কোনো উপমায়ই স্পর্শ করা যায় না এই সুখানুভূতির নিগূঢ় নিগদ, কোনো ভাষায়ই অনুবাদ করা যায় না এই সুখানুভূতির পংক্তিমালা; এ এক অপার সুখের অলিখিত বিমূর্ত মহাকাব্য, যার রসাস্বাদন কেবল নিজেই করা যায়, তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করা যায়! এই অতুল আনন্দে, বিপুল সুখে ঘুম আসছে না আমার! এখন রাত কতো? দুটো তো হবেই। ঝমঝম ক’রে বৃষ্টি নামছে, আষাঢ়ে বৃষ্টি। মহল্লায় কোনো সাড়াশব্দ নেই, সারা মহল্লার মানুষ এখন ঘুমোচ্ছে; আমিই কেবল জেগে জেগে হাবুডুবু খাচ্ছি সুখের ভাবালুতায়। মনে হচ্ছে রাত দীর্ঘ হোক, এমনি ক’রে অঝোর ধারায় কামুক বৃষ্টি নেমে ভেজাক মাটির জরায়ু, যাতে আমি দীর্ঘ সময়ব্যাপী একা একা এই সুখ উদযাপন করতে পারি!

ক্যাপশন কী হতে পারে?

পাঠিয়েছেন অর্নব আহমেদ

নিমো হুজুরের খুতবা - ১

লিখেছেন নীল নিমো

(কোরবানিরই রেশ নিয়ে যাই চলে...)

১.
আজকে এক মুরিদ প্রশ্ন করিল, "হুজুর, নবী ইব্রাহীমের পর এতগুলো নবী-রাসুল আসল, কেউই কুপাকুপি কইরা ঈদ বা আনন্দ পাইলো না। স্বয়ং ইব্রাহিমও কোনোদিন ঈদুল আজহা পালন করে নাই। তাহলে নবী মুহাম্মদ নিরীহ পুশুপাখি কুপাকুপি করে আনন্দ উল্লাস করতে আদেশ দিল কেন? এই লন লিস্ট: Adam, Idris (Enoch), Nuh (Noah), Hud (Heber), Salih (Methusaleh), Lut (Lot), Ibrahim (Abraham), Ismail (Ishmael), Ishaq (Isaac), Yaqub (Jacob), Yusuf (Joseph), Shu’aib (Jethro), Ayyub (Job), Dhulkifl (Ezekiel), Musa (Moses), Harun (Aaron), Dawud (David), Sulayman (Solomon), Ilias (Elias), Alyasa (Elisha), Yunus (Jonah), Zakariya (Zachariah), Yahya (John the Baptist), Isa (Jesus), Muhammad"

আমি উত্তর দিলাম, "ধুর বোকা, আমাদের প্রীয় নবী মুহাম্মদ কুপাকুপি শিক্ষা না দিলে কি নবী আসা বন্দ হইত? মুহাম্মদ হলেন শেষ নবী, এরপরে অন্য কোনো নবী আসলেই তার ঘাড়ে কোপ পড়বে। নবী মুহাম্মদ ও তার উম্মতদের ভয়ে আল্লাপাক পৃথিবীতে আর কোনো নবী পাঠাচ্ছে না। আল্লাপাক যখন কোনো নবী পাঠাচ্ছেন না, তখন আর কী করা? আসুন, পশুপাখির উপর কুপাকুপি প্যাক্টিস করে আনন্দ করি।"

২.
আমার কিছু পাকিস্থানি ঈমানদ্বার মুরিদ ভেজিটেরিয়ান হয়ে গেছে। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা ঈদুল আজহাতে পশুপাখি কুপাকুপির পরিবর্তে গাছ কুপাকুপি করে আল্লাহর রাস্তায় ত্যাগ স্বীকার করবে।


হে মুমিন, তুমি ভেজেটেরিয়ান হইছো তো কী হয়েছে? তুমি ভুলে যেও না তুমি মুসলমান... কুপাকুপি তোমাকে করতেই হবে। এইটাই আল্লাহর হুকুম। সব ধরনের কুপাকুপিই আল্লাহপাক পছন্দ করে।

৩.
একটি দুঃসংবাদ। ফ্রি গরুর মাংশ খাইয়া আজকে দুপর থেকেই আমার কোষ্টকাঠিন্য শুরু হইয়াছে। কোষ্টকাঠিন্য মানেই হল টয়লেটে গিয়া জিহাদ করা। আজকে বিকালে টয়লেটে গিয়ে জিহাদ করার সময় "আল্লাহু আকবর" বলে জোরে জোরে তাকবির দিচ্ছিলাম। আমার চিৎকার শুনে আমার ড্যানিশ প্রতিবেশি টেরোরিষ্ট হামলা মনে করে ভয় পাইয়া পুলিশ ডাকছে। আমি এখন ড্যানিশ পুলিশের হেফাজতে আছি। আমার জন্য দোয়া করবেন।

শান্তিকামী (peace fucker) ইছলাম

লিখেছেন জুলিয়াস সিজার

জর্ডানের লেখক নাহেদ সাত্তার; ফেসবুকে একটি ছবি শেয়ার দিয়েছিলেন, যেখানে দেখানো হচ্ছিলো, এক দাড়িওয়ালা লোক কল্পিত বেহেশতে বিছানায় নারীদের নিয়ে শুয়ে খোদাকে মদ ও বাদাম পাঠাতে বলছেন।

অনুবাদ করেছেন মাওলানা দূরের পাখি

এই ছবি দেখে জর্ডানের মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে। তারা ইসলাম অবমাননার দায়ে ওই লেখকের বিরুদ্ধে মামলা করে। আজ ওই মামলার জন্য আদালতে হাজিরা দিতে গেলে লেখক নাহেদ সাত্তারকে এক ইসলামী জিহাদি গুলি করে হত্যা করে।

বাংলাদেশে ধর্মানুভূতির কারণে একের পর এক ব্লগার হত্যা, প্রকাশক হত্যা, সমকামীদের নিয়ে ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা হত্যা, এমনকি ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেবার ছুঁতোয় নিরীহ দর্জিকে পর্যন্ত কুপিয়ে হত্যা।

প্যারিসে কার্টুন দেখে হত্যা, ডেনমার্কে মুভির পরিচালককে হত্যা, পাকিস্তানে সেক্যুলার ব্লগারকে গুলি করে হত্যা, আমেরিকাতে সমকামীদের ক্লাবে হত্যা - পৃথিবীর সবখানেই শান্তির ধর্মের অনুসারীরা রক্তের ফিনকি ছুটিয়ে চলছে।

এমনকি খোদ ভারতে, যেখানে শান্তির নেক বান্দারা সংখ্যালঘু, সেখানেও এক মৌলবাদী তৃণমূল মুসলিম নেতার অভিযোগে তারক বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারক বিশ্বাস হিন্দুধর্মের সমালোচনা করেছেন অনেকবার, তাতে কারও ধর্মানুভূতিতে লাগেনি। ভারতে 'পিকে', 'ওহ মাই গড' নির্মাণ করে কাউকে খুন হতে হয়নি। 'হেরা ফেরি' মুভিতে "রামলাল গলি কা কুত্তা" বলার পরেও পরিচালক কিংবা অভিনেতা কেউই জেলেও যাননি, খুনও হননি।

কিন্তু ইসলাম নিয়ে একটা লেখা লিখাতে তারক বিশ্বাসকে জেলে যেতে হয়েছে। জেল থেকে বের হবার পর হয়তো কুপিয়ে খুনও করা হবে জর্ডানের লেখক নাহেদ সাত্তারের মতো।

বাংলাদেশ থেকে ভারত, পাকিস্তান, জর্ডান, ইউরোপ, আমেরিকা - কোথাও থেকে নেই শান্তির (!) ধর্মের অনুসারীদের শান্তি প্রতিষ্ঠার দাপটে। এই শান্তি এমনই শান্তি! শান্তির ধর্মের অনুসারীদের 'ধর্মানুভূতি' ইউনিভার্সাল। কোথাও একটুও পার্থক্য নেই।

এমন এক অসাধারণ শান্তির বীজ পৃথিবীতে রোপনের জন্য মোহাম্মদকে শান্তিতে মরণোত্তর নোবেল দেওয়া উচিত।

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

খায়বার যুদ্ধ - ১২: কিনানা বিন আল-রাবিকে নির্যাতন ও খুন!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৪১): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত পনের

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।" 

মানব ইতিহাসের সবচেয়ে করুণ ও দুঃখজনক ইতিহাসের একটি হলো ক্রীতদাস-দাসী প্রথার প্রচলন ও প্রসার! এই প্রথায় একজন মুক্ত মানুষ বংশ বংশানুক্রমে পরিণত হতেন অন্য একজন মানুষের "ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে", অন্যান্য গৃহপালিত গবাদি পশুর মতোই। একবার এই অবস্থায় রূপান্তরিত হওয়ার পর, সেই মানুষটির স্বাধীন সত্তা হতো পুরোপুরি রহিত। তিনি তখন মুক্ত মানুষ থেকে রূপান্তরিত হতেন তাঁর মালিকের ইচ্ছার বাহন। যে প্রক্রিয়ায় একজন মানুষ এই দুঃসহ অবস্থার শিকার হতেন, তার আদি উৎস “মাত্র একটি!" আর তা হলো, আদি-তে এই মানুষগুলো কিংবা তাঁদের পূর্বপুরুষদের কোনো এক বা একাধিক মুক্ত মানুষকে কোনো এক 'শক্তিধর মানুষ' তার উন্মুক্ত শক্তি প্রয়োগে জোরপূর্বক বন্দী করে অথবা তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি, অর্থবল বা প্রতারণার মাধ্যমে (পর্ব: ৭৯) রূপান্তরিত করেছেন এই দুঃসহ জীবনে। অতঃপর তারা তাঁদেরকে রেখেছেন নিজেদের সম্পত্তিরূপে, অথবা তাঁদের বিক্রি বা দান করেছেন অন্যের কাছে। অতঃপর, তাঁদের আমৃত্যু পরিণতি এক মনিব থেকে অন্য মনিবের কাছে একই প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর ও দুঃসহ জীবন! বংশ বংশানুক্রমে! আদি উৎসে মুলতঃ এই শক্তিধর মানুষরাই ছিলেন 'ক্রীতদাস-দাসী" প্রথার মূল জোগানদার (Supplier) ও চালিকাশক্তি। মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা ছিলেন এই দলেরই প্রতিনিধিত্বকারী! উন্মুক্ত শক্তিবলে অমানুষিক নৃশংসতায় স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীরা কীভাবে মুক্ত মানুষদের বন্দী করে তাঁদেরকে এই দুঃসহ জীবনের অন্তর্ভুক্ত ও বাজারজাত (Marketing) করে দাসপ্রথার প্রসার ঘটিয়েছিলেন, তা আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় অত্যন্ত স্পষ্ট - যার আলোচনা গত পর্বে করা হয়েছে। “দাসপ্রথার” ওপর মুহাম্মদ ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইসলামের অবদানকে যদি এক বাক্যে প্রকাশ করা হয়, তবে তা হবে এই:

"অবিশ্বাসী জনপদের মুক্ত মানুষদের জোরপূর্বক বন্দী করে ধরে নিয়ে এসে তাঁদেরকে দাস-দাসী রূপে রূপান্তর, সরবরাহ ও বাজারজাত করার মাধ্যমে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ দাসপ্রথার উন্নতি ও প্রসারে অভূতপূর্ব অবদান রেখেছিলেন।"

মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খ্রিষ্টাব্দ), আল-তাবারী (৮৩৯ -৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ), আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ) প্রমুখ আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকরা 'খায়বার যুদ্ধ' উপাখ্যানের পরবর্তী ঘটনা প্রবাহের যে প্রাণবন্ত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন, তা মুহাম্মদের মদিনা জীবনের অসংখ্য নৃশংসতার আর একটি উদাহরণ হিসাবে ইসলামের ইতিহাসেই পাতায় সাক্ষ্য হয়ে আছে। এই অমানুষিক নৃশংস ঘটনার সবচেয়ে বিস্তারিত বর্ণনা (পর্ব-১৩৪) লিপিবদ্ধ করছেন আল-ওয়াকিদি, তাঁর “কিতাব আল-মাগাজি' গ্রন্থে।

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ) অব্যাহত বর্ণনার পুনরারম্ভ: [1] [2] [3]
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ১৪০) পর:

'কিনানা ইহুদিদের মধ্যে থেকে শামাখ নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে আল্লাহর নবীর কাছে যে-বার্তা পাঠায়, তা হলো, "আমি কি তোমার কাছে আসতে পারি ও কথা বলতে পারি?" যখন শামাখ আসে, মুসলমানরা তাকে আল্লাহর নবীর কাছে নিয়ে আসে ও সে তাঁকে অভিবাদন জানায় ও তাঁকে কিনানার বার্তাটি শোনায়, তিনি তার প্রতি ছিলেন সদয়। একদল ইহুদির সঙ্গে কিনানা আসে ও আল্লাহর নবীর সঙ্গে তাঁর চুক্তি মোতাবেক ও তাঁর শর্ত অনুযায়ী শান্তি স্থাপন করে। ইবরাহিম যা বলেছে, তা হলো, ধনুক ও যুদ্ধাস্ত্রগুলোর মালিক ছিল আবু আল-হুকায়েকের পরিবারের ও তারা এগুলো বাইরের আরবদের কাছে ভাড়া দিয়েছিলো। তারা তাদের অলংকারগুলোও বাইরে আরবদের কাছে ভাড়া দিয়েছিলো। তারা ছিলো মদিনার সবচেয়ে খারাপ ইহুদি।----- ইবনে আবি আল-হুকায়েক সেখানে আসে ও আল্লাহর নবীর সাথে যে-চুক্তিটি করে তা হলো,

আমাদের আত্মীয়েরা – ৯৯

আমরা বানরেরই বংশধর, হাওয়ার পোলা নই।


ইছলাম ত্যাগের কারণসমূহ - ৪১

ব্রিটেনের কাউন্সিল অভ এক্স-মুসলিম নামের সংগঠনের উদ্যোগে #ExMuslimBecause নামে টুইটারে একটি প্রচারণা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাক্তন মুছলিমরা উপস্থাপন করছে ইছলাম ত্যাগের বিবিধ কারণ। অতি দীর্ঘ ও ক্রমবর্ধমান এই কারণ-তালিকা থেকে কিছু সরস ও সিরিয়াস কারণ অনুবাদ করে প্রকাশ করা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। এতে যুক্ত করা হচ্ছে/হবে ধর্মকারীর ঠিকানায় পাঠানো লেখা/ছবি/ভিডিওও।

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ > পর্ব ৪০

Ahmed Shoueiry: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ লিঙ্গভিত্তিক পৃথকীকরণ (sex segregation) ব্যাপারটা অপ্রাকৃতিক ও অস্বাস্থ্যকর। এর ফলে পুরুষেরা তাদের কৌমার্য হারায় যৌনকর্মীদের কাছে, আর নারীরা তাদের সতিচ্ছদ পর্দা অটুট রাখতে আশ্রয় নেয় পায়ুকামের।

Soulaymane Elmiri: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ রমজান মাসে যখনই আমি খেতে বের হই, আমার জীবন পড়ে বিপদের ঝুঁকিতে। এছাড়া আমার ছয় মাসের জেল ও জরিমানাও হতে পারে।

AgnosticAlias: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ কোরান-ভর্তি অসঙ্গতি আর যৌনবৈষম্য, তবু এটা নাকি "নিখুঁত কিতাব"! যতো দ্রুত সম্ভব কোরানের হালনাগাদ করুন।

Rehana Harrison: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমাকে সব সময় আতঙ্কের ভেতরে বাস করতে হতো - না জানি কখন নিজের অজান্তে গুনাহ্ করে ফেলি!

Arsheen Rabbani: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমার প্রয়োজন নেই ১৫০০ বছরের পুরনো এক কিতাবের (যেটার প্রামাণ্য সম্পর্কে আমি রীতিমতো সন্দিহান), যেটা আমাকে বলে দেবে - গান শোনা আমার উচিত কি না।

Siguchi: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ অগণিত বৈজ্ঞানিক ভ্রান্তি!

Sarah imanuel: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে বলে আল্লাহকে এবং তার পরে মুছলিম উম্মাহকে। এভাবে মর্যাদাহানি করা হয় বাকি মানবজাতির।

F. Jeffery (F.J.): আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম দাসপ্রথা বিলোপ করেনি। কাফেররা করেছে। বেশ কয়েকটি মুছলিমপ্রধান দেশে আজও দাসপ্রথার প্রচলন আছে।

Ahmed Shoueiry: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম সৃজনশীলতার বিরোধী। যে এ কথা মানে না, তাকে দমন (হত্যা/পঙ্গু/কুপিয়ে আহত) করা হবে।

Reda Alouani: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ এমন কোনও উড়ন্ত ঘোড়া নেই, যা পৃথিবীর বাইরে গিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারে এবং উড়তে পারে আলোর চেয়ে দ্রুততর গতিতে।

মুছলিমদের সুখ-অসুখ

পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

কোরআন যেভাবে অবতীর্ণ মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছর (পর্ব ১৩)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


{নবী মুহাম্মদ চরিত্রের অন্ধকার দিক হচ্ছে, তিনি সমালোচনা মেনে নিতে পারতেন না; মক্কার কুরাইশগন যখন তাকে পাগল/কবি/পুরাণ-কথক/গণক/জাদুকর বলে সমালোচনা করতে থাকলো; একই সাথে মৃত্যু-পরবর্তী জীবন, শেষ-বিচার/দোযখ/বেহেস্ত আর আল্লাহর একত্বের ধারণাকে উপহাস করেতে থাকলো; মুহাম্মদ এবং তার অবচেতনের আল্লাহ-জ্রিবাইলও ক্রমশ ক্ষেপে উঠলো; শুরু হলো কুরাইশদের সমালোচনা, উপহাস, শাস্তি প্রদানের আয়াত প্রকাশ; আর নবাগত মুসলিমদের উৎসাহিত করার জন্য মদ/নারী/দাসীর লোভ তো থাকছেই; একটু সচেতনভাবে আজকের পর্বের ৬ টি প্রকাশ পড়লে বুঝতে বাকি থাকে না, কীভাবে মুহাম্মদের আল্লাহ আর জ্রিবাইল মহাবিশ্বের অসীম চিন্তা বাদ দিয়ে মক্কার গুটিকয়েক (১৫০০-২০০০) মানুষের কথায় পুতুল নাচের বাঘের মত ক্ষেপে উঠতো!

একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, মুহাম্মদ যখন মানসিকভাবে বেশি চাপে থাকতেন, তখন সূরায় আয়াতের সংখ্যা লম্বা হয়ে যেত; আর ক্রমশ ভয় ও লোভ প্রদর্শনের মাত্রা বাড়ত! আমি একটি হিসাব করে দেখেছি, তিন-চার মাস পর পর মুহাম্মদ হঠাৎ হঠাৎ ক্ষেপে উঠতেন, এবং মনের সকল রাগ-ক্ষোভ লম্বা সূরায় প্রকাশ করতেন! আগামী পর্বে তার নমুনা আবার দেখা যাবে!

এই পর্বের ৬ টি প্রকাশে একটি বিষয় হয়ত পাঠকের চোখে পড়বে - মুহাম্মদ তার নারী সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গির সমসাময়িক অবস্থার কিছুটা প্রকাশ করেছেন; আজ এটুকুই থাক, আরবের নারী নিয়ে আগামী পর্বে আরও জেনে নেওয়া যাবে! চলুন, আপনাকে আজ মক্কার পতিতালয় থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসি! 

মক্কা, সহজ কথায় একাধিক দেশের বাণিজ্য-যাত্রার মধ্যপথের সরাইখানা, বেদুঈন আর আরব গোত্রের বিনোদন আর মূর্তিপূজার কেন্দ্র। মোটামুটি ৪ ধরনের পতিতালয় ছিল মক্কায়, (ক) বাড়ির সামনে সাদা পতাকা ওড়ানো গণ-পতিতালয়, (খ) স্বাধীন নারী নিজ বাসায় শরীর বিক্রি করতেন, (গ) কোনো কোনো কুরাইশ তাদের দাসীদের দিয়ে বছরের নির্দিষ্ট সময় পতিতাবৃত্তি করাতেন, (ঘ) সামান্য কিছু কুরাইশ তার একাধিক স্ত্রী কতৃক দেহব্যবসা করাতেন!

বিস্তারিত ক্রমশ প্রকাশ্য। শুধু একটা প্রশ্ন রেখে যাই, যেহেতু হিজাজের (মক্কা, মদিনা, তায়েফ) কোনো সরকার ব্যবস্থা ছিলো না, তবে তাদের কোনো মুদ্রা থাকারও কথা নয়; তাহলে হিজাজের জনগণ, ইথিওপিয়া, ইয়েমেন, তায়েফ, মক্কা, ইয়াসরিব, সিরিয়া, মিশর এবং ইরানে কেনাকাটা করতো কী দিয়ে? আর মক্কার পতিতালয়ে শরীর ক্রয়-বিক্রয় হত কি ঘোড়ার ডিম দিয়ে! ভাবতে থাকুন, উত্তর পেলে জানাতে পারেন; না পেলে অপেক্ষা করতে থাকুন।

কোরআন অবতীর্ণ হবার ধারাবাহিকতা অনুসারে প্রকাশের আজ ১৩ তম পর্ব; এই পর্বে থাকছে মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছরের ৬ষ্ঠ ছয় অংশঅনুবাদের ভাষা একাধিক বাংলা/ইংরেজি অনুবাদ অনুসারে নিজস্ব।}

আকালের কালে

জান্নাত ও জাহান্নাম: একটি হিসেব

লিখেছেন কেপলার টুটুবি

জান্নাত আর জাহান্নাম লাভের একটা ক্যালকুলেশন করি, চলুন। হিসাব মেলাই।

স্টেপ১:

বর্তমান পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা ৭০০ কোটি। এর মধ্যে মুসলিম আছে ২৩% অর্থাৎ ১৬০কোটি; আর বাকি ধর্মাবলম্বী মানুষ আছে ৭৭% অর্থাৎ ৫৪০ কোটি মানুষ। আল্লার কথা মতো - এখান থেকে জান্নাতে যাবে ১৬০ কোটি মানুষ। বাকি ৭৭% মানুষ জাহান্নামে।

স্টেপ ২:

১৬০ কোটি মুসলিমের মধ্যে নামেমাত্র মুসলিম (সুদখোর, ঘুষখোর, টিভি-সিনেমা-নাচ-গান-বাজনামগ্ন , চোর, প্রতারক, বিধর্মী চাল চলনে অভ্যস্ত) আছে ৯০% অর্থাৎ ১৪৪কোটি। আর সহিহ মুমিন নামাযী, আল্লার খাস বান্দা পাওয়া যাবে মাত্র ১০% মানে ১৬ কোটি। শুধু এরাই জান্নাতে যাবে। 

স্টেপ ৩:

এখন আসি এই ১৬ কোটি সহিহ মুমিন মুসলিমদের নিয়ে, যাদের মধ্য আবার গ্রুপিং আছে। ১. শিয়া মুসলিম, ২. সুন্নী মুসলিম, ৩. ওহাবি বা মওদুদি মুসলিম। এরা সবাই একে অপরকে গালাগাল দেয়। যেমন - শিয়ারা বলে, সুন্নীরা হইলো বেদাতী, মাজার পূজারী, মুশরিক। সুন্নীরা বলে, শিয়া আর ওহাবিদের আকীদা (মানে গোড়াতেই) ভুল। এরা জান্নাত পাবে না। ওহাবীরা আরো ইন্টারেস্টিং। ওরা বলে, আমরাই একমাত্র আল্লাভক্ত। নবী-টবী কিছু না। অনলি আল্লাহ। তোরা জাহান্নামী।

এই তিন গ্রুপেই আছে নবী নিয়ে টানাটানি। এরপর মারামারি, বোমা ফাটানো, শিয়ার মুসজিদ সুন্নিরা উড়ায় দেয়। সুন্নীরা ওহাবিদের। হা হা হা। আবার এরদে ভেতরেও ছোট ছোট গ্রুপিং আছে, যা বর্ণনা করতে গেলে উপন্যাস লিখতে হবে। তাই বাদ দিলাম। 

এখন এদের মধ্যে যে কোনো এক গ্রুপকে আমি সহিহ ধরে নিলাম, যাদের আকিদা সঠিক। যারা আল্লারে খুশি করবে। যারা জান্নাতে যাবে। তাইলে ১৬ কোটিকে তিনভাগ দিলে হয় ৫ কোটি ৩০ লাখ।

স্টেপ ৪:

এবার আসি ৫ কোটি ৩০ লাখদের নিয়ে। এরা সহিহ মুসলিম হলেও এদের মধ্যেও রয়েছে কিছু সমস্যা। যেমন, জীবনে ১ ওয়াক্ত নামায কাযা কেউ করেনি, এরকম কেউ বলতে পারবে না। আর ১ ওয়াক্ত নামায কাযা করার শাস্তি হলো ২ হাজার কোটি বছর জাহান্নামের আগুনে পোড়া। আরো আছে। যেমন: নামায ভুল, আযান না শোনা, মিথ্যা বলা, হারাম জিনিস খেয়ে ফেলা, কবিরা গুনা (যে গুনা ক্ষমা করা হয় নাহ) করে ফেলা ইত্যাদি ইত্যাদি। 

অর্থাৎ সহিহ মুসলিম হলেও এদের মধ্যে থেকে সবাই জান্নাতে যাবে না। ফিল্টার হয়ে এদের থেকে জান্নাতে যাবে ৫ কোটি ৩০ লাখের ১% মানে ৫ লাখ ৩০ হাজার মানুষ।

সুতরাং পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মধ্যে জান্নাতে যাচ্ছে মাত্র ০.০০৭% অর্থাৎ ৫ লক্ষ ৩০ হাজার জন। আর জাহান্নামে যাবে ৯৯.৯৯৩% অর্থাৎ ৬৯৯ কোটি ৯৪ লক্ষ মানুষ। 

আমার মন্তব্য: আল্লাহ পরম করুণাময় আর অসীম দয়ালু, যিনি পৃথিবীর ৯৯% মানুষকে জাহান্নামে ফেলে ভাজি করবেন অনন্তকাল ধরে।

হায়াত-মউত

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

দু'টি ইছলামী বিনুদুন


ইরানে মানবাকৃতির রোবট তৈরি করা হয়েছে। তার নাম রাখা হয়েছে প্রাচীন এক যোদ্ধার নামে: Surena 2. রোবটটির উদ্বোধন করেছেন প্রেসিডেন্ট স্বয়ং।

আশা করেছিলাম, ইরানের রোবট হবে সাচ্চা মুসলিম চেহারার: দাড়িওয়ালা, টুপি পরা! দেখে হতাশ হলাম।

এই রোবট তৈরির লক্ষ্য কী, তা এখনও জানানো হয়নি। তবে আসুন, আমরা কল্পনা করি, এই রোবটটি ইরানে কী কী কাজে আসতে পারে:

১. আত্মঘাতী বোমা হামলায় (কিন্তু সুরেনা পরকালে ৭২টি কুমারী পাবে কি?),

২. মেয়েদের পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার কাজটি "মানবিক" (বা রোবটিক) করার লক্ষ্যে,

৩. তসবিহ গণনা স্বয়ংক্রিয়করণে,

৪. ...

#


একটি ক্ষেত্রে তোতাপাখির সঙ্গে অধিকাংশ মুসলিমের কোনও তফাত নেই। তোতা যা বলে, না বুঝেই বলে। নামাজ পড়ার সময় সুরা উচ্চারণ করা বা কোরান মুখস্থ বলা মুসলিমরাও কাজটি করে কিন্তু না বুঝেই।

সে-কারণেই কি না, জানি না, তবে আরব দেশে কোরানের আয়াত জানা ও মোনাজাত করতে পারা তোতাপাখির বিপুল চাহিদা! একটি মাওলানা-তোতাপাখির মূল্য সর্বোচ্চ সাড়ে দশ হাজার ডলারেরও বেশি হতে পারে!

লতা মুঙ্গেশকর মুসলিম হলে এবং হামদ-নাত গেয়ে অভ্যস্ত হলে তাঁর গাওয়া একটি গানের কলির একটি শব্দ বদলে দিয়ে গাইতে পারতেন: "হতাম যদি তোতাপাখি, তোমায় কোরান শোনাতাম..."

(ধর্মকারীর আর্কাইভ থেকে)

জাদু ও পশুকাম

ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৮৪

২৬৪.
- খুচরা ও পাইকারির ভেতরে তফাত কী?
- কয়েকজন যৌনকর্মীর প্রলোভন দেখায় যে-ব্যক্তি, তাকে বলা হয় যৌনকর্মীর দালাল। আর একসাথে ৭২ জন যৌনকর্মীর প্রলোভন দেখায় যে-ব্যক্তি, তাকে নবী বলা হয়।

২৬৫.
এক ধর্মগুরু আর এক পুলিশ গল্প করতে করতে এগিয়ে চলেছে। হঠাৎ তারা দেখলো, অদূরে দুই ব্যক্তি হিংস্রভাবে মারামারি করছে। পুলিশটি সেদিকে ছুটে যাচ্ছিলো, কিন্তু ধর্মগুরু তাকে থামালো। বললো:
- এখনও সময় হয়নি।
খানিক বাদে একজন আরেকজনকে পেটাতে পেটাতে মেরেই ফেললো। তখন ধর্মগুরু বললো:
- চলো, এখন সময় হয়েছে। ওই দু'জনের একজন তোমার, অন্যজন আমার।

২৬৬.
- মুছলিমরা আরবি ভাষায় প্রার্থনা করে কেন?
- যাতে আল্যা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে। অন্য ভাষার প্রার্থনাগুলো তাকে গুগল ট্র্যান্সলেটরের মাধ্যমে অনুবাদ করিয়ে নিতে হয়। সময়ের ব্যাপার।

২৬৭.
- ক্যাথলিক চার্চে নারীরা ধর্মযাজক হতে পারে না কেন?
- কারণ কোনও নারীকে 'ফাদার' বলে ডাকা সম্ভব নয়।

২৬৮.
মোল্লা বলছে এক চিত্রকরকে:
- এটা আপনি কী এঁকেছেন? ফেরেশতার পায়ে জুতো পরিয়েছেন কেন? আপনি কি জুতো-পরা ফেরেশতা দেখেছেন কখনও?
- আপনি কি জুতোহীন ফেরেশতা দেখেছেন কখনও?

দেবী দুর্গার ব্লাউস - একটি একবিংশ শতকীয় বেদাত

লেখা ও ছবি: তুয়াম লুকিলাম

পৌরাণিক দেবী দুর্গার গায়ে তো ব্লাউস ছিল না। নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের দেবীর ব্লাউস কী দরকার? যিনি শক্তির দেবী, যিনি অস্ত্র সজ্জিত হয়ে মহিষাসুর বধ করতে পারেন, তার বুকের দিকে কেউ তাকিয়ে থাকলেই কী এসে যায়? মহিষমর্দিনীকে ধর্ষণ করবে এমন সাহস কার আছে? অতএব পৌরাণিক উন্মুক্তবক্ষা সহী দূর্গামূর্তিতে পুজা দেওয়া হোক। যারা দূর্গার বুকে ব্লাউস চাপিয়েছে, যে দর্জি সেই ব্লাউস সেলাই করেছে এবং যে কারিগর বুকের মাপ নিয়েছে, তাদের উপর লানত! শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে গরুভক্তদের জন্য এ নাদানের সামান্য উপহার:

(সর্বমোট ন'টি naughty ছবি। প্রক্সি ব্যবহারকারীদের জন্য - http://imgur.com/a/N1PD2)

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

ধর্মের চিড়িয়াখানায় - ১৩

লিখেছেন ধর্মহীন জিরাফ

৬১.
মায়ের প্রতি শ্রদ্ধার জন্য বা মানুষকে বিপদে সাহায্য করার জন্যও যদি কোরান-পুরাণের আদেশের প্রয়োজন হয়, তবে আর মানুষ হয়ে জন্মানোর সার্থকতা কী?

আরও পাঁচ-সাতশো বছর পর রোবট হয়ে জন্মালেই পারতেন।

৬২.
সত্য সব সময় কোকিলের কুহু-কুহু ডাকের মতো মধুর হবে, এমন কোনো কথা নেই। এটা মাঝে মাঝে কাকের কা-কা ডাকের মতো কর্কশও হতে পারে।

৬৩.
সৌদি আরবের মেয়েরা যদি আজ বস্তা না পরে আর পুরুষ-অভিভাবক সঙ্গে নিয়ে না বেরোয়, তবে কাল থেকেই ধর্ষণ সেখাকার প্রধান সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হয়ে দাড়াবে। সেখানে প্রত্যেকটা মেয়ে তাই ধর্ষকের শিশ্নের বিষাক্ত রেডিয়েশন থেকে বাঁচতে কালো বস্তা দিয়ে নিজেকে মুড়িয়ে রাখে।

৬৪.
ধর্ম এবং কুসংস্কার হল একে অপরের জমজ ভাই। এদের মায়ের নাম হল অন্ধবিশ্বাস।

৬৫.
রবীন্দ্রনাথ, আইনস্টাইন, গ্যালিলিও কিংবা নিউটন দোযখের আগুনে জ্বলছেন, তাঁদেরকে মেরে রক্তাক্ত করা হচ্ছে শুধু তারা মুসলিম নন বলে - ভাবতে পারেন?

আমি পারি না।

ইছলাম গ্রহণ: জেনে-শুনে বিষ

পাঠিয়েছেন জেসমিন জুঁই

একজন সফল তালেবান জঙ্গি

লিখেছেন আক্কাস আলী

আপনি একজন সফল তালেবান জঙ্গি, যদি:

✔ আপনি বাড়ির আঙিনায় পপি ফুলের বাণিজ্যিক চাষ করেন, কিন্তু বিয়ার পান করাকে অনৈতিক বলে মনে করেন।

✔ আপনি কমপক্ষে একবার হলেও প্রতিবেশীর ছাগলটির ওপর ক্রাশ খেয়েছেন।

✔ আপনি হস্তমৈথুনকে জঘন্য কুকর্ম বলে মনে করেন, কিন্তু বউ পেটানোর ক্ষেত্রে আপনার কোনো আপত্তি নেই।

✔ আপনি নিজের সাথে করে আড়াই লাখ টাকা দামের মেশিনগান আর পাঁচ লাখ টাকা দামের রকেট লঞ্চার নিয়ে ঘোরাঘুরি করেন সবসময়, কিন্তু আপনার পকেটে একজোড়া জুতো কেনার টাকা নেই।

✔ আপনি পাজামার ভেতর হাত ঢুকিয়ে খালি হাতে পুটু চুলকান, কিন্তু শুকরের মাংস আপনার কাছে বড়ই অশুচি।

✔ আপনি টেলিভিশনকে বিপদজনক বস্তু বলে মনে করেন, কিন্তু নিয়মিত পকেটে বোমা বহন করে থাকেন।

✔ আর্থিক অবস্থা যতই খারাপ হোক না কেন, প্রত্যেকের কমপক্ষে চারটা করে বউয়ের মালিক হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন।

✔ রাস্তায় পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো ছাড়াও মোবাইল ফোনের অন্য কোনো ব্যবহার থাকতে পারে, এটা জেনে আপনি খুবই আশ্চর্য হয়েছিলেন।

✔ আপনি যাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন, তাদের ছাড়া আর কোনো বিষয়ে আপনি ভাবতেই পারেন না।

✔ আপনার দাঁতের থেকেও স্ত্রীর সংখ্যা বেশী।

✔ “মোহাম্মদ” নামে আপনার কমপক্ষে চারটি ভাই আছে।

✔ আপনি নিজের মেয়েদের প্রতি উদাসীন হলেও উটগুলোর প্রতি খুবই যত্নবান।

✔ সুন্দর কচি বালকদের প্রতি আপনার একটা বাড়তি দূর্বলতা কাজ করে।

✔ আপনার মতে, পোষাক দুই প্রকার। যথা - বুলেটপ্রুফ পোষাক এবং আত্মঘাতী পোষাক।

✔ প্রয়োজন হোক বা না হোক, আপনি মাসে অন্তুত একবার গোসল করেন।

✔ আপনি স্ত্রীদের বয়স ১৩ বছর হওয়ার আগে তাদের সাথে সেক্স করেন না।

✔ মৃত্যুবরণ করাই আপনার আমৃত্যু লক্ষ্য।

বুরকা অ্যান্ড দ্য বিচ – ২৯

বিকিনিবহুল সমুদ্রতীর বা অন্যান্য রৌদ্রস্নানস্থলে বোরখাপরিহিতাদের অবস্থান বড়োই বেমানান, দৃষ্টিকটু, অশোভন এবং অশালীনও বটে। সেখানে তোলা কিছু ছবির সংকলন "বুরকা অ্যান্ড দ্য বিচ" ("বিচ" বানান কিন্তু beach. খিয়াল কৈরা!)।


২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকৃত মূত্রমনারা - ০৫

অবাস্তব, ভিত্তিহীন ও যুক্তিরহিত কথা বলায় মমিনদের জুড়ি নেই। এই যেমন 'মুক্তমনা' শব্দটিকে তারা ব্যঙ্গ করে 'মূত্রমনা' বলে থাকে, যদিও বিন্দুমাত্র কারণ নেই এর পেছনে। মুক্তমনাদের মূত্রপ্রীতির কথা কখনও শোনা যায় না। তাই বলে মূত্রমনা বলে কেউ নেই, তা কিন্তু নয়।

বর্তমান সিরিজে হাতে-কলমে প্রমাণ করা হবে, প্রকৃত মূত্রমনা কারা। এই যেমন, ইছলামের নবী উটের প্রস্রাব মমিনদের জন্য হালাল করে দিয়ে তা পান করার নির্দেশনাও দিয়েছে। ইছলামী স্কলাররাও স্বীকার করে এ কথা। তাইলে কী খাড়াইল? কারা আসলে মূত্রমনা?

শুভ্র বচন - ২

লিখেছেন শুভ্র আহমেদ

৪.
একজন নবীর কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস হওয়া উচিত হইল তার প্রভু। বাচ্চা-কাচ্চা, সম্পত্তি এইগুলা তো আমজনতা কাছে প্রিয় হবে। নবীর বিশেষত্ব হইল - তার কাছে দুনিয়ার কিছু প্রিয় না হইয়া স্বয়ং আল্লাহই প্রিয় হওয়া। 

তাই আল্লা যখন ইবরাহিমরে কইল, তোমার প্রিয় জিনিস কুরবানি দাও, ইবরাহিমের উচিত আছিল এইটা বলা: "ওগো আল্লা তুমিই আমার সবচেয়ে প্রিয়। তুমি ধরায় নামিয়া আসো। আমি তোমারেই কুরবানি দিব।"

আমি নবী হলে তা-ই করতাম।

৫.
নাস্তিকরা কেন খালি ইসলামের পিছে খোঁচায়? - এই প্রশ্ন দেখতে দেখতে চোখ ঝালাপালা। উত্তর দিই একটা। 

হাদিসে আছে, তিন ধরনের লোককে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যায়: খুনি, ব্যাভিচারি আর মুরতাদ। মুরতাদ অর্থ হল ইসলামত্যাগী। 

তো, ভাই, আপনার ধর্ম আমাকে খুনির কাতারে নামিয়ে আনবে, মৃত্যুদণ্ড দিতে চাইবে, আপনার পবিত্র কিতাব আমাকে চতুষ্পদ জন্তুর সাথে তুলনা করবে, আর আমি চুপ করে থাকব সেটা কীভাবে আশা করেন? 

হ্যাঁ, আমি ইসলামকে খোঁচাব না, আপনি আপনার ধর্মগ্রন্থ সংশোধন করুন। অমুসলিমকে খোঁচা-হুমকি-অবজ্ঞা করা আয়াত বাদ দিন, সত্যি বলছি, আমিও সহীহ নাস্তিক হয়ে যাব।

৬.
সব কাজে মোল্লারা মাথা ঢুকায় কেন? সব জিনিস নিয়ে ইসলামের চুলকানি কেন? 
"ইসলামি চুলকানি প্রতিষেধক" কিছু কি আবিষ্কার করা যায় না?

নিত্য নবীরে স্মরি – ২৫৪

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

মডারেটদের দৃষ্টিতে "নিরীহ" কারা

লিখেছেন সাঈদুর রহমান

প্রিয় মডারেটগণ, ইসলাম "নিরীহ" মানুষ হত্যা সমর্থন করে না, এই লেবুখানা আর কত কচলাইবেন? আপনাদের চোখে "নিরীহ " মানেটা কী?
✔ অপ্রাপ্তবয়স্ক?
✔ প্রাপ্তবয়স্ক কিন্তু নিরস্ত্র?

প্রথমটা না হয় বাদই দিলাম। দ্বিতীয়টা নিয়ে আলোচনা করি, আসুন। এখানে দু'টি বিষয় আছে।
✔ প্রাপ্তবয়স্ক।
✔ নিরস্ত্র।

প্রাপ্ত বয়ষ্ককে আবার দু'টি ভাগে বিভক্ত করি।
✔ মুসলিম প্রাপ্তবয়স্ক।
✔ অমুসলিম প্রাপ্তবয়স্ক।

এবার একটি উদাহরণ দেয়া যাক। কিছুদিন আগে গুলশানের হোলি আর্টিসানে অতর্কিত হামলাটির প্রেক্ষিতে আসুন আপনাদের দাবিটুকু খতিয়ে দেখি। প্রথমেই আপনাদের জন্য সুখবর হল - জঙ্গিরা সেদিন কিছু অপ্রাপ্তবয়স্ক বাচ্চাদের সাথে কিছু প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে নিরাপদে ছেড়ে দিয়েছিল, মনে আছে? কারণটাও নিশ্চয়ই মনে আছে?... জ্বী হাঁ, তারা কোরান থেকে সূরা বলতে সক্ষম হয়েছিল। এবং তারা নিরস্ত্রও ছিল। সুতরাং ইসলাম নিরীহ মানুষ হত্যা সমর্থন করে না বলে যে লেবু আপনারা প্রতিনিয়ত কচলান, তা জঙ্গিরাও প্রমাণ করে দিয়েছে। তবে তিনটি শর্ত রেখে: ১. প্রাপ্তবয়স্ক, ২. প্র্যাক্টিসিং মুসলিম এবং ৩. আগের দুটি সহ নিরস্ত্র। এই তিনটি শর্ত থাকলেই জঙ্গিদের চোখে তারা নিরীহ।

এবার আসুন পরের অংশটিতে: প্রাপ্তবয়স্ক অমুসলিম। অমুসলিম বলতে আমি বুঝিয়েছি ইসলাম ছাড়া অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের এবং নাস্তিকদের। এদেরকেও আসুন দুটি ভাগে ভাগ করি:
✔ যারা সারাদিন নিজের কাজে ব্যস্ত থাকেন।
✔ যারা সারাদিন ইসলাম নিয়ে ব্যস্ত থাকেন (ব্লগ বা এ জাতীয় লেখা লেখেন)।

প্রিয় মডারেটগণ, আপনারা নিশ্চয়ই কোনোদিন কোরান খুলে পড়েননি। পড়লেও বাংলা অর্থ জানা নেই। তাই আপনাদের সুবিধার্থে কিছু কথা কোরান থেকে তুলে ধরি।

বিধর্মী যে কেউ, সে ইসলাম নিয়ে লিখুক বা না লিখুক, মুখে কিছু বলুক বা না বলুক, তারা ১. আল্লার কাছে তারা নিকৃষ্ট জীব (কোরান ৮:৫৫); ২. তাদের সাথে বন্ধুত্ব হারাম (কোরান ৪:১৪৪; কোরান ৫:৫১), ৩. কাফির অবস্থায় মারা গেলেও তাদের উপর আল্লার ধিক্কার (কোরান ২:১৬১)।

আপনাদের কাছে প্রথম প্রশ্ন: হোলি আর্টিসানের নিহত মানুষগুলো বেশিরভাগই বিদেশী ছিলেন। অনুমান করা যায়, তারা বিধর্মী ছিলেন। সুতরাং কোরান মতে, তারা নিকৃষ্ট জীব ছিল। তাদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণের কোনো প্রয়োজন নেই। তারা মরে গিয়েও আল্লার ধিক্কার পেয়েছে। এমতাবস্থায় তাদের আপনারা "নিরীহ" বলে গণ্য করেন?

অপরদিকে, যারা সারাদিন ইসলাম নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, ব্লগ লেখেন, আপনাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করেন, তাদের কেউ যদি "নিরস্ত্র" অবস্থায় সেদিন হোলি আর্টিসানে থাকতেন, তাহলে তাদের হত্যা করা হলে আপনারা কি তাদের "নিরীহ" আখ্যায়িত করতেন?

যদি প্রথম প্রশ্নটিতে "হ্যাঁ" উত্তর দেন এবং বলেন তারা বিধর্মী হলেও "নিরস্ত্র" ছিল, সে অনুযায়ী তারা নিরীহ, তাহলে এবার এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিন:

১. কা'ব বিন আল আশরাফ একজন কবি ছিলেন। কিছু একটা লিখে সামান্য মনে আঘাত দেবার দায়ে মোহাম্মদ তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন কেন? হত্যা করার আগ পর্যন্ত সেও তো নিরস্ত্র ছিল!

২. মোহাম্মদ যখন বনী মোস্তালিকের উপর আক্রমন করেন, তখন তারাও তো এই হামলার ব্যাপারে জ্ঞাত ছিল না! পূর্ব থেকে তাদের না জানিয়ে মোহাম্মদ কেন তাদের উপর অতর্কিত হামলা করেছিল? (৩:৪৬:৭১৭)

মোহাম্মদ কি তবে মুসলমান ছিল না? নাকি মুসলমান হলেও সে সহিহ মুসলিম ছিল না?

এগুলোর কিছুই না হলে আপনারা তবে কোন মুখ নিয়ে বলেন "ইসলাম নিরীহ মানুষ হত্যা সমর্থন করে না?" আপনাদের কি লজ্জা নেই?

নিজেরে যখনই আবাল মনে হবে - ১২

শেখ'স শপ - ১২

লিখেছেন শেখ মিলন

৩৪.
- এই কোরবানিতে আমার এক হিন্দু বন্ধু আমার সাথে গরুর মাংস খেয়েছে।
- আহা, কী অসাম্প্রদায়িক।
- গতবার বড়দিনে আমি আমার এক খ্রিষ্টান বন্ধুর সাথে শূকরের মাংস খেয়েছিলাম।
- তওবা! তওবা! দূর হ, শালা মুরতাদ-নাস্তিক...

৩৫.
- আমি ভূত বিশ্বাস করি না।
- হুম, আধুনিক।
- আমি জ্বীন বিশ্বাস করি না।
- শালা নাস্তিক...

৩৬.
নিশ্চয়ই ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।
★হিন্দুরা গোমাতাকে লালন-পালন ও পূজা করে, এটা হিন্দুদের ধর্ম, উৎসব। মুসলমানরা সেই গরু কোরবানি করে, এটা মুসলমানদের ধর্ম, উৎসব।
★হিন্দুরা মূর্তি গড়ে, পূজা করে, এটা হিন্দুদের ধর্ম, উৎসব। মুসলমানরা সেই মূর্তি ভেঙে উল্লাস করে, এটা মুসলমানদের ধর্ম, উৎসব।

ধ্যান-ধারণা

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

সাইমুম (উপন্যাস: পর্ব - ৪)

লিখেছেন উজান কৌরাগ


কোনো মানুষের বাল্য-কৈশোরের মানসিক বিকাশকালে তাকে ভুল সূত্র দ্বারা পরিচালিত করলে কিংবা যে কোনোভাবেই হোক তার মস্তিষ্কের ঊর্বর জমিনে ভুল বীজমন্ত্র প্রোথিত হ’লে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তার ভেতরের বিদ্বেষ ক্রমান্বয়ে বিস্তৃত হতে থাকে, এমনকি তার মানসিকতা বর্বরতা-হিংস্রতার পথেও ধাবিত হয়। কবির স্যারের মতো শিক্ষক পেয়েছিলাম বলেই হয়তো আমি রক্ষা পেয়েছি, আমার ভেতরে সাম্প্রদায়িকতা বা বিদ্বেষের বিষবৃক্ষ শাখা-প্রশাখা মেলে বিস্তার লাভ করতে পারেনি। এর পেছনে কবির স্যারের যেমনি ভূমিকা রয়েছে, তেমনি রয়েছে আমার নিজের দৃঢ় প্রচেষ্টাও। কবির স্যার আমাকে ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সুবর্ণখনির পথ দেখিয়েছিলেন, আমি তাঁর দেখানো পথ ধ’রে এগোতে এগোতে একসময় সন্ধান পেয়ে যাই সেই সুবর্ণখনির। আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে আমি সেই সুবর্ণখনির মূল্য সঠিকভাবে অনুধাবন করেছিলাম বলেই দমন করতে পেরেছিলাম বিদ্বেষের বিষবৃক্ষকে। উপলব্ধি করেছিলাম যে, মানুষের জীবনে পারিবারিক পরিবেশ এবং বন্ধুমহল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি হয়তো সঠিক পথের সন্ধান পেয়ে নিজের এবং পরিবারের সঙ্গে লড়াই ক’রে আমার মানসিক অন্ধত্ব দূর করেছি, কিন্তু সবার পক্ষে তা সম্ভব হ’য়ে ওঠে না। 

ওপরোল্লিখিত সূত্রগুলোর সঙ্গে কয়েক বছর আগে আরো দুটি নতুন সূত্র যোগ হয়েছে:

মতভেদ

সম্মানিত আরবি ভাষায়

আরবি লেখা এমন একটি কাগজের টুকরো পায়ের নিচে পড়ে থাকলে যে কোনও মমিন কী করবে? বিনম্র শ্রদ্ধায় সেটা তুলে নিয়ে চুমু খেয়ে সরিয়ে রাখবে পদদলিত হবার সম্ভাবনাহীন নিরাপদ স্থানে। কারণ আরবি মহাপবিত্র ভাষা। যে ভাষায় স্বয়ং আল্যা যোগাযোগ করতো নবীজির সঙ্গে, যে ভাষা উদগীরিত হতো নবীজির মুখ মোবারক থেকে, যে ভাষায় রচিত হয়েছে কোরান, সে ভাষার কি প্রাপ্য নয় এই সম্মানটুকু? সুরা-আয়াত-দোয়া-দরুদ ছাড়া আর কিছু কি রচিত হতে পারে আল্লাহ-নবীর প্রিয় ভাষায়!

এই যেমন ওপরের ছবিটিতে আরবিতে যা লেখা রয়েছে, তার একটি অংশ এমন:

” بدأ كيم ولعق مص ديك بلدي ، انها لا تستطيع الحصول على كل شيء تماما أسفل حلقها ، ولكن كان يفعل تماما على وظيفة ، الرجيج بالتسجيل لأسفل مع يدها اليمنى كما انها امتص. أنا سحبت ركبتيها على جانبي رأسي ، انزلق سراويل من روعها ، ويبحث حتى في أجمل كس رأيته من أي وقت مضى. أنا انتشار شفتيها فتح وامسحي صعودا وهبوطا لها فتحة ،

পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ভাষায় কী লেখা আছে এখানে? নিশ্চয়ই সুরা-আয়াত-দোয়া-দরুদ বা পবিত্র কোনও বাণী। 

গুগল অনুবাদ করে দিলো:

"Kim began licking and sucking my dick, she can not get everything completely down her throat, but he did quite a job, jerking up down with her right hand as she sucked. I pulled her knees on either side of my head, slid her down panties, and looking up in the most beautiful pussy I've seen ever. I spread her lips open and licked up and down her slot...

* নবী-কোরান-হাদিসের ভাষায় রচিত চটি-সংকলনের সাইট থেকে সংগৃহীত

মমিনীয় কর্তব্য

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

ইছলাম ত্যাগের কারণসমূহ - ৪০

ব্রিটেনের কাউন্সিল অভ এক্স-মুসলিম নামের সংগঠনের উদ্যোগে #ExMuslimBecause নামে টুইটারে একটি প্রচারণা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাক্তন মুছলিমরা উপস্থাপন করছে ইছলাম ত্যাগের বিবিধ কারণ। অতি দীর্ঘ ও ক্রমবর্ধমান এই কারণ-তালিকা থেকে কিছু সরস ও সিরিয়াস কারণ অনুবাদ করে প্রকাশ করা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। এতে যুক্ত করা হচ্ছে/হবে ধর্মকারীর ঠিকানায় পাঠানো লেখা/ছবি/ভিডিওও।

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯

Ahmed: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ মুছলিমদেরকে মক্কামুখী হয়ে নামাজ পড়ার নির্দেশ দেয়ার সময় মহাকাশচারীদের কথা হিসেবে আনেনি।

Aziz: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ যুদ্ধবিজয়ের পরে মেয়েদেরকে যৌনদাসী বানানো একটি নিয়মিত ব্যাপার ছিলো মুহাম্মদ ও তার অনুসারীদের মধ্যে।

Maryam Razzaq: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ গান আমাকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে। গান শোনার অপরাধে অনন্তকাল ধরে দোজখে পোড়ার ভীতি আমার আর নেই।

সৈকত আমিন: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি... এবং আমি স্বাধীন।

Captain Caustic: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ অবশেষে আমি অনুধাবন করতে পেরেছি যে, ইছলাম আসলে ধর্মের মোড়কে নোংরা রাজনীতি, যেটার লক্ষ্য মানুষের মাথা গুলিয়ে দিয়ে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা...

Huma Qureshi: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ যখনই আমি প্রশ্ন তুলি, মুছলিম দেশগুলো পশ্চাদপদ কেন, উত্তর একটাই - "সেখানে ছহীহ ইছলাম মেনে চলা হচ্ছে না।"

Halima B: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ এগিয়ে যাবার সময় এসেছে।

Sufi: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ এই ধারণাটা কিছুতেই আমার মাথায় ঢোকে না - আজও অপরিবর্তিত রাখতে হবে সপ্তম শতাব্দীর নৈতিকতা, তা যতো বর্বরই হোক! 

Razmatron IX: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ যে-আল্যার অস্তিত্বই নেই, আমি তার দাস হতে পারি না।

Sultana: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি যুক্তি অনুসরণ করি, অন্ধবিশ্বাস নয়; অলৌকিক ঘটনার চেয়ে তথ্যকে বেশি গুরুত্ব দিই; কোনওকিছুতে বিশ্বাস করার আগে বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করি।

ক্রুশের ছবি – ২১

নেহাতই ক্রুশের ছবি। অন্য কোনওদিকে নজর গেলে তার দায় ধর্মপচারকের নহে।


মুছলিম মানসপট

লিখেছেন পুতুল হক

যখনই কোনো মুসলমান শুনতে পায়, কোনো অমুসলিম দেশে মুসলমান অধিবাসীর জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আগামী দশ, বিশ বা ত্রিশ বছরের মধ্যে তারাই হয়ে যাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ, তখন তাদের চেহারায় একটা নূরানি খুশি খেলে যায়। যেন, "এইবার তোমরা যাইবা কৈ?" সংখ্যা দিয়ে এরা বিশ্বজয়ের কথা ভাবে। 

কতটা গেঁয়ো, গোঁয়ার আর বিকৃত মানসিকতা হলে এমনটা ভাবা সম্ভব! আরো অদ্ভুত কথা হল, এই মানুষগুলো পৃথিবী দখল করে পৃথিবীকে কোনো সুন্দর স্থান হিসেবে গড়ে তোলার কথা ভাবে না। এরা পৃথিবীকে নিয়ে যেতে চায় ১৪০০ বছর আগের আরবের সমাজপ্রথায়। যেখানে -
নারী মানে মেধাহীন যোগ্যতাহীন বস্তাবন্দী ও বাচ্চা পয়দা করার মেশিন, 
ক্ষুধার জন্য কোনো শিশু খাবার চুরি করলে তার হাত কেটে ফেলা হয়, 
শুধুমাত্র "লা ইলাহা ইল্লাললাহু" না বলার কারণে যে কোনো মানুষকে মেরে ফেলা সওয়াবের কাজ... 

পৃথিবী যাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, তারা পৃথিবীকে সুন্দর করবে না। মুসলমানের কাছে ক্ষণস্থায়ী জীবনের কোনো মূল্য নাই, মানুষের কোনো মূল্য নেই। তারাই মানুষের জন্য কাজ করে, যারা মানুষ নিয়ে ভাবে। তারাই পৃথিবীর উন্নয়নে অবদান রাখে যারা পৃথিবীকে ভালোবাসে। মুসলমান পৃথিবীতে আসে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার জন্য আর আল্লাহর সাম্রাজ্য বিস্তারে অবদান রাখার জন্য। তাদের জীবনের মূল লক্ষ্য - আখেরাত। 

এখানে আমার হিসেব মেলে না। যাদের কাছে পৃথিবীর জীবন অর্থহীন, তারা পৃথিবীর ওপর দখল প্রতিষ্ঠার জন্য এতো মরিয়া কেন? ঘরে বসে যার যার মত করে আল্লাহর ইবাদত করলে আল্লাহ কেনই সন্তুষ্ট হতে পারেন না? 

আল্লাহ-নবীকে ভালবেসে কাছে পাওয়া যদি ইহকাল এবং পরকালের সব সুখের চাবিকাঠি হয়, তবে অন্যের জীবনাচার নিয়ে এতো মাথাব্যথার কারণ থাকার কথা তো নয়।

হালাল পতিতাবৃত্তি

মুতা বিবাহের কথা অনেকেরই জানা, মিসিয়ার বিবাহের কথা পড়ুন এখানে। "মিসিয়ার বিবাহ এখন ব্যাপকভাবে প্রচলিত ও একটি সামাজিক বাস্তবতা" - জানাচ্ছে আরব নিউজ

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

ধর্মকারীর ঈদ উপহার: কুফরী কিতাব "ইসলামের অজানা অধ্যায়" (তৃতীয় খণ্ড)

ইছলামের প্রকৃত ও বিশদ ইতিহাস এবং নবী মুহাম্মদের জীবনী, চরিত্র ও মনস্তত্ব সম্পর্কে জানতে হলে পরিশ্রমী গবেষক ও সুলেখক গোলাপ মাহমুদ রচিত এই ইবুক-সিরিজটি আপনাকে পড়তেই হবে। দীর্ঘ এই রচনাটি সম্পূর্ণভাবে আদি ও মূল ইছলামী তথ্যসূত্রনির্ভর। এতে উল্লেখিত প্রতিটি ঘটনা ও তথ্য সম্পূর্ণভাবে নির্ভরযোগ্য এবং স্বীকৃত ইছলামী দলিলের মাধ্যমে সমর্থিত - একটি তথ্যও মনগড়া, অমূলক ও ভিত্তিহীন নয়। নবীচরিতের এমন নিখুঁত, গভীর ও এতো বিস্তারিত বিশ্লেষণ বাংলা ভাষায় আগে কখনও করা হয়েছে বলে মনে হয় না।

"ইসলামের অজানা অধ্যায়"-এর তৃতীয় খণ্ড আজ প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে "মুহাম্মদের ব্যক্তিমানস জীবনী"-র প্রথম পর্ব "মদিনায় মুহাম্মদ - দুই" অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

এই ইবুকের বিপুল শ্রমসাপেক্ষ নির্মাণকর্মের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব নরসুন্দর মানুষ-এর। নামে মানুষ হলেও তিনি, প্রকৃতপক্ষে, অমানুষ। স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে অবিশ্বাস্য উৎসাহের সঙ্গে নিরলসভাবে করা এই কাজগুলো তাঁর চরিত্রের অমানুষিক দিকটিই প্রকট করে তোলে।

আর হ্যাঁ, ধর্মকারী ব্লগে গোলাপের গবেষণা-সিরিজটির ধারাবাহিক প্রকাশ অব্যাহত থাকছে এবং পাশাপাশি বর্তমান ইবুকের চতুর্থ, পঞ্চম... খণ্ডও একে একে আলোর মুখ দেখবে অচিরকালেই। অনন্যসাধারণ এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছে বলে ধর্মকারী অহংকার করতেই পারে।

----------

ফরম্যাট: পিডিএফ (সম্পূর্ণভাবে মোবাইলবান্ধব)
সাইজ: ৪.৮ মেগাবাইট
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): http://goo.gl/KI9vs7
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): http://goo.gl/881AJq

ইবুকটির অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শন নিচে এমবেড করা হলো।

কোরবানির রক্ত - ফটোশপের সৃষ্টি

ধার্মিক - ৩

লিখেছেন যুক্তিবাদী পীর

বরাবরের মতই এবারও আমাদের ঈদের দিনের রাতের খানাপিনা দ্বীপের বাসাতেই হলো। অবশ্য এই বাসায় রাতের খানা-খাওয়ার অন্যতম কারণ হলো - এখানে মাল থুক্কু শরাবুন-তাহুরা পানের সুব্যবস্থা আছে। যাই হোক, ভোজন শেষ করে রাত আনুমানিক ১ ঘটিকায় আমি, দ্বীপ, শাওন, আরিফ এবং মৌলানা কাদের বাসের ছাদে বোতল খুলে বসে গেলাম। এমনিতে আমরা সবাই প্রায়ই বিভিন্ন কারণে কিংবা অকারণে শরাবুন-তাহুরার শরণাপন্ন হয়ে থাকি, তবে মৌলানা সাহেব এ ব্যাপারে পুরো আনাড়ি, সে স্রেফ ঈদের খুশিতে আমাদের মত কাফের/মুশরিকদের সাথে যোগ দিয়েছে, যে কারণে সে তৃতীয় পেগেই একেবারে বোল্ড আউট হয়ে মাঠের বাইরে চলে গেল এবং নানা রকমের উৎপাত শুরু করলো, যাকে সহজ ভাষায় মাতলামি বলে। 

রাত আনুমানিক ৩ ঘটিকা।

মৌলানা: দোস্ত, টয়লেট করমু। 
আমি: ছোট না বড়?
মৌলানা: ছোট। 
আমি: তাইলে ছাদের ঐ কোণায় চলে যা, চুপচাপ কাম সাইরা আয়। 
মৌলানা: না, ওইদিকে না। 
আমি: কেন? 
মৌলানা: ওইটা পশ্চিম দিক। 
আমি: তাইলে নিচে যা। 

কিছুক্ষণ পরে মৌলানা কাদের তার ঈমানদণ্ড চুলকাতে চুলকাতে ফিরে এলো। 

মৌলানা: দেখ তো, দোস্ত, আমার এইখানে চুলকায় কেন! 
আমি: কোথায় গেছিলি তুই? 
মৌলানা: নিচে গেটের পাশে। 
আমি: টয়লেট রেখে ঐ খানে কেন গেছিস? 
মৌলানা: অন্ধকারে খুঁজে পাইনি। 
আমি: টয়লেট করে পানি নিছোস? 
মৌলানা: না, পাতা দিয়া কুলুখ করছি। 

বি. দ্র. দ্বীপের বাসার গেটের কাছে যেসব পাতা পাওয়া যায়, তার মধ্যে চুতরা পাতা অন্যতম এবং মৌলানা হযরত আব্দুল কাদের জিলানী সেটাই নেশার ঝোকে কুলুখ হিসেবে ব্যবহার করেছে। 

মনের পশুকে কুরবানি দেয়ার কিছু নমুনা - ২


১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

কোরআন যেভাবে অবতীর্ণ: মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছর (পর্ব ১২)


{প্রিয় পাঠক, হাতে কাগজ কলম নিয়ে নিন! আজ আমরা একটি কুইজ মেলাতে চেষ্টা করবো; আমরা খুঁজে দেখবো - ইসলাম প্রচারের পাঁচ বছরের মাথায় এসে, মুহাম্মদ মক্কার পারিবারিক বন্ধনে ফাটল ধরাতে কতটা সফল হয়েছিলেন, আর কেন চাচা আবু তালিব মুহাম্মদ-এর একমাত্র টিকে থাকার শক্তি ছিলেন না! আমি কম সংখ্যক নাম উল্লেখ করে বলবো, আপনি কাগজ কলমে মেলাতে থাকুন!

নিচের সাত জন, মুহাম্মদ বিরোধী কুরাইশদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ছিলেন (বয়সের ক্রমানুসারে);
আরও বেশী সংখ্যায় নাম উল্লেখ করা যায়, তবে তাতে জ্ঞান হারানোর সম্ভবনা আছে!

ক. ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা
(আবু জেহেলের আপন চাচা, রবীন্দ্রনাথ মাপের কবি, বানু মাখযুম গোত্রের প্রতিনিধি;
নবুয়্যতের পঞ্চম বর্ষে মারা যান; ওনার মৃত্যুর পর ‘আবু জেহেল’ মাখযুম গোত্রের প্রধান প্রতিনিধি হন।)

খ. আবু লাহাব
(আসল নাম ‘আব্দুল উজ্জা’, মুহাম্মদের আপন চাচা, আবু সুফিয়ানের বোন জামাই;
আবু তালিবের মৃত্যুর পর বানু হাশীমের প্রধান)

গ. উৎবা ইবনে রাবিয়া
(আবু সুফিয়ানের শশুর, হিন্দা’র পিতা; ঠাণ্ডা এবং বিচক্ষণ মানুষ ‍ছিলেন,
মুহাম্মদ সম্পর্কে সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল তাঁরই, সুহাইল ইবনে আমরের মেয়ের সাথে,
বড় ছেলের বিবাহ দেন; বানু শামসের প্রতিনিধি)

ঘ. সুহাইল ইবনে আমর
(কুরাইশদের সবচেয়ে ভাল বক্তা; প্রচার, মীমাংসা ও চুক্তি প্রতিনিধি,
উৎবা ইবনে রাবিয়ার বড় ছেলের সাথে মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন)

ঙ. আবু জেহেল
(আসল নাম ‘উমার ইবনে হিশাম/আবু হাকাম’, মুহাম্মদ থেকে ৪/৫ বছর বয়সে বড়
এবং দূর সম্পর্কের চাচা, জেদী এবং জ্ঞানী মানুষ ছিলেন)

চ. আবু সুফিয়ান
(আসল নাম ‘সাকার ইবনে হারেস’, মুহাম্মদ থেকে ২ বছর বয়সে বড়, বাল্য বন্ধু, হালিমা সূত্রে দুধ ভাই,
এবং সবচেয়ে বড় আপন চাচার ছেলে! ‘সাকার ইবনে হারেস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব’; এই সেই হারেস, যাকে সাথে নিয়ে আব্দুল মুত্তালিব জমজম খনন করেছিলেন!)

ছ. ওমর ইবনে খাত্তাব
(পিতার অপারগতার কারনে, অল্প বয়সেই বানু আদী থেকে ‘দারুন নাদওয়া’ প্রতিনিধি হন,
আবু জেহেল তার দুর সম্পর্কের মামা হতেন)

পাঠক এবার আর নতুন নাম উল্লেখ না করে কুইজটা বলি; আপনি হিসাব মেলাতে থাকুন।

চোরের সাক্ষী গাঁটকাটা

ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৮৩

২৫৯.
বেহেশতের দায়িত্বে থাকা ফেরেশতা-প্রধানকে ডেকে পাঠালো আল্যা, বললো:
- বেহেশতে বেশ কিছু গুনাহগারকে দেখতে পাচ্ছি। ঘটনা কী?
- অবৈধ অভিবাসী, হুজুর।

২৬০.
- আচ্ছা, যিশু, তুমি সত্যি সত্যিই পানির ওপর দিয়ে হেঁটেছিলে?
- আচ্ছা, মা, তোমাকে কি সত্যিই ঈশ্বর গর্ভবতী বানিয়েছিল?
- ১:১।

২৬১.
- ইছলামে পশু-অধিকার নেই - কথাটা কি সত্য?
- একদমই নয়। বস্তুত ইছলামে পশু-অধিকার নারী-অধিকারের চেয়ে বেশি। যেমন, কোরবানি দেয়ার উপযুক্ত পশুর নিম্নতম একটি বয়স আছে - পশুটির অন্তত দু'টি দাঁত না থাকলে তাকে কোরবানি দেয়া যায় না। পক্ষান্তরে, ইছলামে মেয়েদের বিয়ের ক্ষেত্রে 'নিম্নতম বয়স' বলে কিছু নেই।

২৬২.
- ধর্মব্যবসার সবচেয়ে সুবিধাজনক দিক কোনটি?
- বসের অনুপস্থিতি।

২৬৩.
- কোনও মানুষকে হঠাৎ গাড়ি চাপা দিয়ে ফেললে হিন্দু-গাড়িচালক কী বলে?
- "ভগবানের অশেষ কৃপা, ভাগ্যিস গরুকে চাপা দিইনি।"

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৬৫

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

খায়বার যুদ্ধ - ১১: দাস মালিকানা বনাম দাস স্রষ্টা!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব-১৪০): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত চৌদ্দ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।" 

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীরা খায়বারের নিরপরাধ (পর্ব: ১৩০) মুক্ত জনপদবাসীর ওপর অতর্কিত আগ্রাসী আক্রমণ চালিয়ে খায়বারের আল-নাটা ও আল-শিইক স্থানের দুর্গগুলোর মধ্যে অবস্থিত প্রাণভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত মানুষদের কী অমানুষিক নৃশংসতায় পরাস্ত ও বন্দী করে তাদের সমস্ত সম্পত্তি হস্তগত করেছিলেন তার আলোচনা গত দশটি পর্বে (পর্ব: ১৩০-১৩৯) পর্বে করা হয়েছে।

আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা আল-নাটা ও আল-শিইক দুর্গগুলো থেকে পুরুষদের বন্দী করেছিলেন, কিন্তু তারা এই দুর্গগুলো থেকে কোনো নারী ও শিশুদের বন্দী করতে পারেননি; ব্যতিক্রম শুধু আল-শিইকে অবস্থিত আল-নিযার দুর্গ। মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা কীভাবে এই আল-নিযার দুর্গটি দখল করে সেখান থেকে অন্যান্য যুবতী মেয়েদের সাথে সাফিয়া বিনতে হুয়েই বিন আখতাব (পর্ব: ১২৪) ও তাঁর কাজিন-কে বন্দী করেছিলেন, তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ) অব্যাহত বর্ণনার পুনরারম্ভ: [1]
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ১৩৯) পর:

আবদ আল-রাহমান বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন:
'আমি জাফর বিন মাহমুদ-কে প্রশ্ন করেছিলাম, "যেখানে আবু আল-হুকায়েক পরিবারের দুর্গটি ছিলো সুলালিম নামক স্থানে, সেখানে সাফিয়া কীভাবে আল-শিইক এর আল নিযার দুর্গে এসে উপস্থিত হয়েছিলো? আল-নাটা ও আল-শিইক এর দুর্গগুলো থেকে কেউই নারী ও শিশুদের বন্দী করেনি। কেবল মাত্র আল-নিযার দুর্গ থেকে তা করা হয়েছিলো। সত্যিই কি তার ভিতরে নারী ও শিশুরা উপস্থিত ছিলো?"

সে জবাবে যা বলেছিলো, তা হলো:
খায়বারের ইহুদিরা যুদ্ধের কারণে আল-নাটার দুর্গগুলো খালি করে তাদের নারী ও শিশুদের আল-কাতিবা নামক স্থানে পাঠিয়ে দিয়েছিলো। আল-নিযার দুর্গটির মধ্যে যারা অবস্থান করছিলো, তারা ছাড়া সেখান থেকে কোনো নারীকেই বন্দী করা হয়নি। তারা হলো সাফিয়া, তার কাজিন ও আরও অনেক তরুণী (young girls); কিনানা ভেবেছিলো, সেখানে যে দুর্গগুলো ছিলো তার মধ্যে আল-নিযার দুর্গটি হলো সবচেয়ে শক্তিশালী, তাই যেদিন সকালে আল্লাহর নবী আল-শিইক এ স্থানান্তরিত হয়েছিলো, সেই রাত্রিতে সে তাকে সেখানে নিয়ে এসেছিলো; যে কারণে সে তার কাজিন ও অন্যান্য ইহুদি সন্তানদের সাথে বন্দীত্ব বরণ করেছিলো।

আল-কাতিবায় ছিলো দুই হাজারের ও বেশি ইহুদি, তাদের মহিলা ও সন্তানরা। যখন আল্লাহর নবী আল-কাতিবার জনগণদের সাথে শান্তি স্থাপন করেছিলেন, তিনি সেখানকার পুরুষ ও শিশুদের নিরাপত্তার অনুমোদন দিয়েছিলেন এই শর্তে যে, এর বিনিময়ে তারা তাদের পরিধেয় গহনা ও বস্ত্র-সামগ্রী ছাড়া তাদের সমস্ত সম্পদ, রূপা, সোনা, অস্ত্রশস্ত্র ও বস্ত্র-সামগ্রী তাঁকে দিয়ে দেবে। সত্যিই আল্লাহর নবী যে ইহুদিদেরকে নিরাপত্তার (protection) অনুমোদন দিয়েছিলেন, তারা উপস্থিত হয়েছিলো ও প্রস্থান করেছিলো এবং বিক্রি করা হয়েছিলো ও খরিদ করা হয়েছিলো। প্রকৃতপক্ষেই, লোকেরা সম্পদ ও গার্মেন্টস পণ্যের বদৌলতে লাভবান হয়েছিলো, কিন্তু তারা তাদের নগদ অর্থ ও সম্পদ লাভের উৎসটি গোপন রেখেছিলো।

তারা বলেছে: অতঃপর আল্লাহর নবী আল-কাতিবা, আল-ওয়াতিহ, সুলালিম ও ইবনে আবি আল-হুকায়েক এর দুর্গে গমন করেন, যেখানে ইহুদিরা রীতিমত নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করে। আল-নাটা ও আল-শিইক এর সকল পরাজিত ও পালিয়ে আসা ইহুদিরা তাদের কাছে এসে জমা হয় ও তারা তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আল-ওয়াতিহ, আল-সুলালিম ও আল-কাতিবার আল-কামুস দুর্গটি শক্তিশালী করে, যে দুর্গটি ছিল ভীষণদর্শন। তারা এই দুর্গগুলোর ভেতর থেকে বের হয়ে আসেনি, কেবলমাত্র তারা নিজেদেরকে ভিতরে তালাবন্ধ করে রাখে।

আল্লাহর নবী যখন দেখেন যে, যারা ভেতরে নিজেদের তালাবন্ধ করে রেখেছিলো, তারা বাইরে বের হয়ে এসে তাঁদেরকে চ্যালেঞ্জ জানাবে না, তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি ম্যাংগোনেল-টি [পর্ব-১৩৭:] ব্যবহার করবেন। যখন তারা তাদের ধ্বংস উপলব্ধি করে, এই কারণে যে আল্লাহর নবী তাদেরকে চৌদ্দ দিন যাবত ঘেরাও করে রেখেছিলেন, তারা আল্লাহর নবীর কাছে শান্তি প্রস্তাব উত্থাপন করে। ----- তাদের একজনও বের হয়ে আসে না, যতক্ষণে না এই আক্রমণ তাদেরকে পরিশ্রান্ত করে ও আল্লাহ তাদের অন্তরে গভীর আতংকের সৃষ্টি করে।---'

মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খ্রিষ্টাব্দ) এর বর্ণনা:

'যখন আল্লাহর নবী তাদের কিছু দুর্গ দখল করে নেন ও তাদের কিছু সম্পদ হস্তগত করেন, তিনি তাদের দুই দুর্গ আল-ওয়াতিহ ও আল-সুলালিমে আগমন করেন, সর্বশেষ দুর্গ যা দখল করা বাকি ছিলো; অতঃপর আল্লাহর নবী তা প্রায় দশ রাত যাবত অবরোধ করে রাখেন।--'

ইবনে হিশামের (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ) নোট: [3]

'খায়বারে আল্লাহর নবীর অনুসারীদের সিংহনাদ ছিলো,
 "হে বিজয়ীরা, হত্যা করো হত্যা করো!"'

- অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ - লেখক।

>>> আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, আক্রান্ত খায়বারবাসী তাঁদের স্ত্রী, কন্যা, মা, বোন সহ সকল নারী সদস্য ও ছোট ছোট সন্তানদের আল-নাটা ও আল-শিইকের দুর্গগুলো থেকে সরিয়ে নেয়া আল-কাতিবা নামক স্থানে প্রেরণ করেছিলেন, আর প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষরা সেখানকার দুর্গগুলো থেকে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। সে কারণেই মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা আল-শিইকের আল-নিযার দুর্গটি ছাড়া আল-নাটা ও আল-শিইকের অন্যান্য দুর্গগুলো থেকে নারী ও শিশুদের বন্দী করতে পারেননি। কী কারণে সাফিয়া, তাঁর কাজিন ও অন্যান্য কিছু নারী সদস্যকে আল-নিযার দুর্গে স্থানান্তরিত করা হয়েছিলো, সে বিষয়টিও আমরা জানতে পারি আল-ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত বর্ণনায়। 

আল-নিযার দুর্গটি দখল ও সেখানে অবস্থিত ইহুদি পুরুষ, সাফিয়া ও তাঁর কাজিন ও অন্যান্য কিছু মহিলাদের বন্দী করার পর মুহাম্মদ আল-কাতিবা, আল-ওয়াতিহ, আল-সুলালিম নামক স্থানের লোকদের ওপর আক্রমণ চালান। আল-কাতিবায় অবস্থিত আল-কামুস দুর্গটি থেকে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা অন্যান্য নারী ও শিশুদের বন্দী করেন। আল-কাতিবার আক্রান্ত জনপদবাসী যখন উপলব্ধি করেন যে, যদি তাঁরা আত্মসমর্পণ না করেন, তবে মুহাম্মদ তাঁর যুদ্ধাস্ত্র ম্যাংগোনেল-টি ব্যবহার করে তাঁদেরকে ধ্বংস করে ফেলবেন, তখন তাঁরা মুহাম্মদের কাছে তাঁদের নিরাপত্তার (প্রাণ ভিক্ষার) আবেদন করেন। মুহাম্মদ তাঁদের প্রাণভিক্ষার আবেদন মঞ্জুর করেন এই শর্তে যে, তাঁরা তাঁদের পরিধেয় বস্ত্র-সামগ্রী ও পরিহিত গহনাগুলো ছাড়া তাঁদের স্থাবর ও অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি মুহাম্মদের কাছে হস্তান্তর করবেন। এমত পরিস্থিতিতে, নিজেদের প্রাণ রক্ষার আকুতিতে তাঁরা এই  প্রস্তাবে রাজি হন।

আদি উৎসের সকল মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট তা হলো:

উন্মুক্ত শক্তি প্রয়োগে অবিশ্বাসী জনপদের ওপর “বিভিন্ন অজুহাতে” আগ্রাসী আক্রমণ চালিয়ে তাঁদের পরাস্ত ও বন্দী করে মুক্ত-মানুষদের মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা চিরকালের জন্য ক্রীতদাস ও ক্রীতদাসী রূপে রূপান্তরিত করেছিলেন। অতঃপর তারা এই লোকগুলোকে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন, যেখানে মুহাম্মদের হিস্যা ছিলো কমপক্ষে এক-পঞ্চমাংশ (২০%), বাকি চার-পঞ্চমাংশ হামলায় অংশগ্রহণকারী তাঁর অনুসারীদের। মুক্ত এই মানুষদের দাস ও দাসীতে রূপান্তরিত ও ভাগাভাগি করে নেয়ার পর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা এই লোকদেরকে ইচ্ছেমত নিজ কর্মে ব্যবহার করতেন, অন্যকে উপহার স্বরূপ দান করতেন ও অর্থ-প্রাপ্তির বিনিময়ে বিক্রি করে সম্পদের মালিক হতেন।

বানু কুরাইজা গোত্রের নিরপরাধ সকল প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্যদের এক এক করে গলা কেটে হত্যা করার পর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা কীভাবে এই গোত্রের নারী ও শিশুদের নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন ও বিক্রি করেছিলেন [বিস্তারিত: "তাঁদের মা-বোন-স্ত্রী-কন্যাদের ভাগাভাগি ও বিক্রি(পর্ব- ৯৩)!”]"; বানু আল-মুসতালিক হামলা সমাপ্ত করার পর মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা কীভাবে এই গোত্রের লোকদের বন্দী করে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন [বিস্তারিত: “বন্দী ভাগাভাগি ও বন্দিনীর সাথে যৌনসঙ্গম (পর্ব-১০১)!”]; উম্মে কিরফা নামের এক অতিবৃদ্ধা মহিলার দু'পা আলাদা আলাদা করে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে ও সেই দড়িগুলো দুইটি উটের সাথে বেঁধে দিয়ে সেই উট দুটোকে বিপরীত দিকে পরিচালনা করে উম্মে কিরফা শরীরটি দু'ভাগে বিভক্ত করে অমানুষিক নৃশংসতায় হত্যা করার পর মুহাম্মদ অনুসারীরা কীভাবে তাঁর কন্যা ও অন্যান্য মহিলাদের ভাগাভাগি করে নিয়েছিলেন, সালামাহ বিন আমর বিন আল আকওয়া নামের এক অনুসারীর ভাগে পড়া উম্মে কিরফার সুন্দরী কন্যাটি কে কীভাবে হস্তগত করে মুহাম্মদ এই সুন্দরী রমণীটিকে তাঁর মামা হাযেন বিন আবি ওয়াহব-কে দান করেছিলেন [বিস্তারিত: “উম্মে কিরফা হত্যাকাণ্ড (পর্ব- ১১০)!”]”; ইত্যাদি বিষয়ের বিষদ আলোচনা ইতিপূর্বেই করা হয়েছে।

এক মুক্ত মানুষের অবস্থান থেকে নিমিষেই ক্রীতদাস ও ক্রীতদাসী রূপে রূপান্তরিত হওয়ার পর এই মানুষগুলো বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বংশপরম্পরায় পরিণত হতেন মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের 'সম্পত্তিতে'। যদিও নাম তাঁদের ক্রীত (কেনা) দাস-দাসী, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা তাঁদেরকে কারও কাছ থেকে কিনে নিয়ে আসেননি, কিংবা কেউ তাঁদের তাদেরকে দান ও করেননি। "তারা তাঁদের সৃষ্টি করেছেন", মুক্ত মানুষদের অবস্থান থেকে ক্রীতদাস ও ক্রীতদাসী রূপে, উন্মুক্ত ক্ষমতাবলে! যেভাবে এই মানুষগুলো আবার মুক্ত মানুষে পরিণত হতে পারতেন তা হলো, "মুহাম্মদের বশ্যতা স্বীকার করে তাঁর মতবাদে দীক্ষা লাভ করা!" অথবা, কোন নব্য মালিকের দয়া পরবশে বা অর্থের বিনিময়ে মুক্তিলাভ করা!

ইসলাম বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা দাবী করে থাকেন যে, ইসলাম ধর্ম "ক্রীতদাস ও দাসীদের" প্রতি ছিলো সহনশীল। কারণ, মুহাম্মদ ক্রীতদাস-দাসীদের সাথে সদয় হওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন, একজন ক্রীতদাস বা ক্রীতদাসীকে মুক্ত করলে কী পরিমাণ পুণ্য পাওয়া যায় তা ঘোষণা করেছেন ও সর্বোপরি সে যদি 'মুসলমানিত্ব বরণ' করে তবে তাকে আবশ্যিকভাবে মুক্ত করে দেয়ার বিধান জারি করেছেন। কী অদ্ভুত তাঁদের যুক্তি! ক্রীতদাসের সৃষ্টিকর্তা পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁর সৃষ্ট দাস-দাসীদের সাথে সদয় ব্যবহার করতে, গুরুত্ব আরোপ করছেন তাঁর সৃষ্ট দাস-দাসীদের মুক্ত করার! একই সাথে উন্মুক্ত শক্তি প্রয়োগে "তাঁকে অবিশ্বাসী" জনগণের ওপর আগ্রাসী আক্রমণ চালিয়ে মুক্ত মানুষদের রূপান্তরিত করছেন দাস ও যৌনদাসী রূপে!

"The honesty has a limit, hypocrisy has none (সততার সীমা আছে, ভণ্ডামোর নেই)!"

ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল-ওয়াকিদির মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি। ইবনে ইশাকের মূল ইংরেজি অনুবাদ ইন্টারনেটে বিনামূল্যে ডাউনলোড লিঙ্ক: তথ্যসূত্র [2]