২৯ ফেব, ২০১৬

ইছলাম ত্যাগের কারণসমূহ - ২৩

ব্রিটেনের কাউন্সিল অভ এক্স-মুসলিম নামের সংগঠনের উদ্যোগে #ExMuslimBecause নামে টুইটারে একটি প্রচারণা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাক্তন মুছলিমরা উপস্থাপন করছে ইছলাম ত্যাগের বিবিধ কারণ। অতি দীর্ঘ ও ক্রমবর্ধমান এই কারণ-তালিকা থেকে কিছু সরস ও সিরিয়াস কারণ অনুবাদ করে প্রকাশ করা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। এতে যুক্ত করা হচ্ছে/হবে ধর্মকারীর ঠিকানায় পাঠানো লেখা/ছবি/ভিডিওও।

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২

Osman: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমার ধর্মশিক্ষক আমাদের শিখিয়েছিল, ইছলামে ছবি তোলা হারাম। এখন সে ইছলাম-প্রচারের জন্য ভিডিও ব্যবহার করে।

shameless: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ সবচেয়ে প্রথম কথা: আমি নিজে থেকে মুছলিম হতে চাইনি। 

Khaled Elmawardy: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ এমন আল্যায় আমি বিশ্বাস করি না, যে তার অনুসারীদের আদেশ দেয় অবিশ্বাসীদের হত্যা করতে।

Sam Wad: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ সৌরজগতের প্রান্ত থেকে আমাদের পৃথিবীটা একটি ক্ষুদ্র ধূলিকণার মতো। অথচ আল্যার মাথাব্যথা মেয়েদের চুল নিয়ে!

Sarah imanuel: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি অনুধাবন করেছি, অধিকাংশ সময়েই যখন আমি কোরানের অপূর্ব আয়াত পাঠ করতাম, আমি আসলে দোজখে যাবার অভিশাপ দিতাম অন্য মানুষদের।

রাফাত সিরাজ নির্ঝর: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম হচ্ছে সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের একটি রূপ, হিজাব - নারীবিদ্বেষের প্রতীক, কোরান - স্ব-আরোপিত নিরন্তর দাসপ্রথার রেসিপি।

Faiz: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ নিজের কাজকর্মের দায় মানুষকেই নিতে হবে এবং ধর্মীয় বইয়ের ছুতো ধরে নিজের অপকর্মের ন্যায্যতা দান করা বন্ধ করতে হবে। 

bad baby: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি মনে করি না, আকাশে বসে আছে এক অদৃশ্য সত্তা, যার একমাত্র লক্ষ্য আমাকে অবলোকন করা, যদিও সে নাকি সবকিছুই জানে!

Ahura Mazda: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ "সেই যুগে উত্তপ্ত জলবায়ুর কারণে ৯ বছর বয়সেই আরববাসী বালিকাদের শরীর পরিপক্কতা লাভ করতো" - এটা শিশুকামিতার সপক্ষে একটি অপযুক্তি।

Egyptian Atheist: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ বান্ধবী রাখার অধিকার আমার নেই, তবে যৌনদাসী রাখার ও তাকে ধর্ষণ করার অধিকার আমার আছে।

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১৭১


ধর্মাতুল কৌতুকিম – ৭৩

আজকের কৌতুকগুলো ইউরোপে মুছলিম অভিবাসী সংক্রান্ত।

২১৩.
যেই সূর্য ওঠে পূবে, মুছলিমরা ছোটে পশ্চিমে।

২১৪. 
বার্লিনে আগুন লেগে পুড়ে গেল একটি চারতলা দালান।

মারা পড়লো একতলায় বসবাসকারী লিবীয় পরিবার, দোতলায় বসবাসকারী সোমালীয় পরিবার ও তিনতলায় বসবাসকারী সিরীয় পরিবার। বেঁচে গেল শুধু চারতলার জার্মান বাসিন্দারা।

স্থানীয় বামাতিরা (রিগ্রেসিভ লেফট) সমস্ত গণমাধ্যমে শোরগোল তুলে ফেললো: "এই বৈষম্য আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, এর পেছনে রয়েছে পুঁজিবাদী ষড়যন্ত্র, বর্ণবাদ, ইসলামোফোবিয়া, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন..." ও ইত্যাকার হেনতেন।

তদন্ত করে জানা গেল, আগুন লাগার সময় জার্মান পরিবারের সকলেই ছিলো নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে।

২১৫.
ক্যাম্নে কী! রাশিয়া সহায়তা করছে সিরীয়দের, অথচ সিরীয়রা ছুটছে ইউরোপে!

২১৬.
ক্রসওয়ার্ড। "একটি মুছলিম দেশের রাজধানী - ৬ অক্ষর।"
- Berlin?
- না, মিলছে না।
- London?
- মিলেছে!

২১৭.
গজগজ করতে করতে এক অভিবাসী বললো:
- চারপাশটা ভরে গেছে স্থানীয় লোকে!

প্রকৃত মূত্রমনারা - ০৩

অবাস্তব, ভিত্তিহীন ও যুক্তিরহিত কথা বলায় মমিনদের জুড়ি নেই। এই যেমন 'মুক্তমনা' শব্দটিকে তারা ব্যঙ্গ করে 'মূত্রমনা' বলে থাকে, যদিও বিন্দুমাত্র কারণ নেই এর পেছনে। মুক্তমনাদের মূত্রপ্রীতির কথা কখনও শোনা যায় না। তাই বলে মূত্রমনা বলে কেউ নেই, তা কিন্তু নয়।

বর্তমান সিরিজে হাতে-কলমে প্রমাণ করা হবে, প্রকৃত মূত্রমনা কারা। এই যেমন, ইছলামের নবী উটের প্রস্রাব মমিনদের জন্য হালাল করে দিয়ে তা পান করার নির্দেশনাও দিয়েছে। নিচের ভিডিওতে ইছলামী স্কলাররাও স্বীকার করছে এ কথা। তাইলে কী খাড়াইল? কারা আসলে মূত্রমনা?

ভিডিও লিংক: https://youtu.be/18i_SqmTBnQ

২৮ ফেব, ২০১৬

লওহে মাহফুজের সন্ধানে: ক্যাটম্যান সিরিজ - ১৪

লিখেছেন ক্যাটম্যান

মুক্তচিন্তা চর্চা, প্রচার ও প্রসারের কারণে ধর্মান্ধ মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠীর নৃশংস হামলার শিকার হুমায়ুন আজাদ, রাজিব হায়দার, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাশ, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় ও ফয়সল আরেফিন দীপন সহ নিহত ও আহত সকল মুক্তচিন্তকের স্মরণে এই লেখাটি অপরিমেয় ভালোবাসার স্মারক স্বরূপ নিবেদন করছি।


এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, মূসা তার পরিকল্পিত পরমেশ্বরের আজ্ঞাবহ দাস নন; বরং মূসার পরিকল্পিত পরমেশ্বর স্বয়ং মূসার আজ্ঞাবহ দাস। তাই মূসার আজ্ঞাবহ দাসসুলভ পরমেশ্বর দশ আজ্ঞাবিশিষ্ট প্রস্তরফলক ভেঙে ফেলার অপরাধে মূসাকে জবাবদিহির সম্মুখীন না করে বরং মূসার উদ্দেশ্যের অনুকূলে ভেঙে ফেলা দশ আজ্ঞাবিশিষ্ট প্রথম প্রস্তরফলক দু'টির অনুরূপ আরও দু'টি প্রস্তরফলক প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। কারণ সেই প্রতিশ্রুতি স্বয়ং মূসা তার পরিকল্পিত পরমেশ্বরের জবানিতে আরোপ করেছেন। আর স্বীয় পরমেশ্বরের প্রতিশ্রুতির প্রেক্ষিতে মূসা পর্বতচূড়ায় আরোহণ করে দশ আজ্ঞা বিশিষ্ট প্রস্তরফলক দু'টির দ্বিতীয় সংস্করণ প্রণয়নকালে একেশ্বরবাদের গুরুত্ব এবং মূর্তিপূজার কুফল বিবেচনায় যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় আজ্ঞা প্রণয়ন করেন। যা নিম্নরূপ:
প্রথম আজ্ঞা: “তখন পরমেশ্বর এই সমস্ত কথা বললেন, 'আমি তোমার পরমেশ্বর প্রভু, যিনি মিশর দেশ থেকে, দাসত্ব-অবস্থা থেকে তোমাকে বের করে এনেছেন: আমার প্রতিপক্ষ কোন দেবতা যেন তোমার না থাকে!" [যাত্রাপুস্তক ২০:১-৩]
দ্বিতীয় আজ্ঞা: “তুমি তোমার জন্য খোদাই করা কোন প্রতিমূর্তি তৈরি করবে না; উপরে সেই আকাশে, নিচে এই পৃথিবীতে ও পৃথিবীর নিচে জলরাশির মধ্যে যা কিছু রয়েছে, তার সাদৃশ্যেও কোন কিছুই তৈরি করবে না। তুমি তেমন বস্তুগুলির উদ্দেশে প্রণিপাত করবে না, সেগুলির সেবাও করবে না; কেননা আমি, তোমার পরমেশ্বর প্রভু যিনি, আমি এমন ঈশ্বর, যিনি কোন প্রতিপক্ষকে সহ্য করেন না; যারা আমাকে ঘৃণা করে, তাদের বেলায় আমি পিতার শঠতার দন্ড সন্তানদের উপরে ডেকে আনি - তাদের তৃতীয় ও চতুর্থ পুরুষ পর্যন্ত; কিন্তু যারা আমাকে ভালবাসে ও আমার আজ্ঞাগুলি পালন করে, আমি সহস্র পুরুষ পর্যন্তই তাদের প্রতি কৃপা দেখাই।" [যাত্রাপুস্তক ২০:৪-৬]
ওপরোক্ত আজ্ঞা দু'টি মূসার পরিকল্পিত পরমেশ্বরের পক্ষে রক্ষাকবচের ভূমিকা পালন করবে, এই বিবেচনায় মূসা তা প্রণয়ন করেন।

মূসার নেতৃত্বে মিশর থেকে বের হয়ে আসার পরে সিনাই প্রান্তরে মূসার দীর্ঘকালব্যাপী অনুপস্থিতি ইস্রায়েলের জনগণের মাঝে নেতৃত্বশূন্যতার সৃষ্টি করে। তারা ভেবেছিল, পরমেশ্বরের সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে মূসা হয়ত মারা গিয়েছেন। যে-কারণে মরুভূমির প্রতিকূল পরিবেশে নেতৃত্বশূন্যতা ও হতাশাবোধ থেকে ইস্রায়েলের জনগণ নিজেদের নেতৃত্বশূন্যতা পূরণ ও হতাশা দূরীকরণের লক্ষ্যে মূসা ও তার পরিকল্পিত পরমেশ্বরের বিকল্প হিসাবে একটি বাছুরের মূর্তি নির্মাণ করে। এই ঘটনা দৃষ্টে মূসা উপলব্ধি করেন, মিশরে অতি চর্চিত পৌত্তলিক সংস্কৃতির মাঝে দীর্ঘকাল অবস্থান করায় পৌত্তলিক সংস্কৃতির প্রতি আবিষ্ট ইস্রায়েলের জনগণ মিশর থেকে বেরিয়ে আসার সময় মিশরীয়দের সাংস্কৃতিক দূষণ ও দুর্বলতাসমূহও বহন করে এনেছে বিধায় তাদের পক্ষে যখন-তখন পৌত্তলিকতার প্রতি ধাবিত হওয়া কোনও অস্বাভাবিক বিষয় নয়। স্বভাবতই তারা যখন বাস্তবিক কোনও সমস্যায় নিপতিত হয়, তখন তা থেকে উদ্ধার পেতে তারা অতিপ্রাকৃত কোনও সত্তার শরণাপন্ন হতে চায়। আর সেই চাহিদা পূরণে মূসা তার কল্পিত পরমেশ্বরকে পুঁজি করে ইস্রায়েলের জনগণকে যে-অতিপ্রাকৃত সত্তার যোগান দিয়েছেন, হয়ত তা তাদের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট ছিল না। 

কারণ মূসার যোগানকৃত পরমেশ্বরকে ইস্রায়েলের জনগণ কখনও চাক্ষুষরূপে দেখেননি। তবে পরমেশ্বরকে চাক্ষুষরূপে দেখার সুযোগ তাদের যেন মেলে, সে-লক্ষ্যে মূসা একাধিকবার ঈশ্বর প্রদর্শনের বিভ্রান্তিকর নাটক মঞ্চস্থ করেছিলেন; যা ইতিপূর্বে আমরা জেনেছি।

মূসা তার পরিকল্পিত পরমেশ্বরকে প্রদর্শনের জন্য যে-সব উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, তার সেই প্রতিটি উদ্যোগ ছিল সহজসাধ্য, তবে একইসাথে চরম কৌশলপূর্ণ। কারণ বাস্তবিক পরমেশ্বরকে প্রদর্শনের জন্য কোনোরকম কৌশলের আবশ্যকতা না থাকলেও পরিকল্পিত পরমেশ্বরকে বাস্তব আঙ্গিকে প্রদর্শনের জন্য নানাবিধ কৌশল অবলম্বনের আবশ্যকতা রয়েছে। সেই আবশ্যকতা থেকেই মূসা যেমন কৌশল প্রয়োগ করেছেন মঞ্চসজ্জায়, তেমনি কৌশল প্রয়োগ করেছেন দর্শক নির্বাচন ও দর্শক বিন্যাসে। আর তাই মূসার প্রয়োগকৃত সেই কৌশলসমূহ গভীরভাবে বোঝার জন্য সে-বিষয়ে আরও একটু চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক।

(চলবে)

হা-হা-হাদিস – ১৬৭

কতো রসময় কথা গুপ্ত আছে হাদিসে!

Narrated By Abu Huraira : The Prophet forbade the wearing of a gold ring.

কোরান, নাকি বাইবেল - কোনটি বেশি সহিংস

কোরান বাইবেলের চেয়ে কম সহিংস বলে একটি প্রচারণা শুরু হয়েছে অনলাইনে। মুছলিমরা উৎফুল্ল ও পুলকিত চিত্তে ভাবছে: "আমাদের ধর্মীয় কিতাব ওদেরটার চেয়ে কম খারাপ।" কিন্তু কোনও পবিত্র কিতাবে সহিংস কিংবা কুৎসিত বাণী থাকবে কেন - সেই সরল স্বাভাবিক প্রশ্নটি উদয় হচ্ছে না নির্বোধদের মাথায়।

এবং একটি কথা। ধরা যাক, একটি আধঘণ্টার মুভিতে তিনটি ধর্ষণদৃশ্য আছে, অন্য একটি মুভিতে আছে পাঁচটি, তবে সেই মুভিটি দেড় ঘণ্টার। সেক্ষেত্রে আধঘণ্টার মুভিটিকে দেড় ঘণ্টার মুভিটির চেয়ে কম খারাপ বলার দাবি কতোটা গ্রহণযোগ্য? অতএব খিয়াল কৈরা: বাইবেলের আয়তন কোরানের চেয়ে অনেক বেশি।

প্রাসঙ্গিক বিধায় গত ২৭ ডিসেম্বরে ধর্মকারীতে প্রকাশিত একটি পোস্ট আবার প্রকাশ করা হচ্ছে।
#
পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে সহিংস গ্রন্থ কোনটি, এ নিয়ে কোনও প্রতিযোগিতা হলে তাতে প্রথম দু'টি স্থান দখল করবে কোরান ও বাইবেল। সহিংসতার বিচারে আর কোনও পুস্তকই এদের নখের যোগ্যও নয়। ফলে তৃতীয় স্থান অধিকারী বইটি থাকবে এদের অ-নে-ক পেছনে।

কিন্তু কোরান ও বাইবেলের ভেতরে কোনটি স‌হিংসতর? প্রথম স্থান দখল করবে কোন কিতাব? নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। এমনও সম্ভব, দুটোকেই যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করতে হতে পারে। 

এবার কিছু হিসেব দেখা যাক।

কোরানে সহিংস আয়াতের সংখ্যা ৫৩২ টি। বাইবেলে - ১৩২১ টি। তার মানে কি বাইবেল জিতে গেল? না। এখন দেখতে হবে শতকরা হিসেব। কারণ কোরানের চেয়ে বাইবেল ঢের বেশি ঢাউস।

কোরানে সর্বমোট আয়াত আছে ৬২৩৬ টি, আর বাইবেলে - ৩১,১০২ টি। অর্থাৎ কোরানে সহিংস আয়াতের সংখ্যা ৮.৫৩ শতাংশ এবং বাইবেলে - ৪.২৫ শতাংশ। দেখা যাচ্ছে, শতকরা হিসেবে কোরানে সহিংস আয়াতের সংখ্যা বাইবেলের দ্বিগুণ।

তার মানে কি কোরান জিতে গেল? সেটাও ঠিক বলা যাচ্ছে না। কারণ আলোচ্য পরিসংখ্যানে হিসেবে আনা হয়নি সহি‌ংসতার মাত্রা। এবং সেই মাত্রা নির্দিষ্টভাবে নিরূপণ করাও দুরূহ। যেমন, বাইবেল ও কোরানের নিচের দু'টি আয়াতের মধ্যে কোনটি বেশি সহিংস, তা নির্ধারণ করা কি সহজ?
[বাইবেল, গণনা পুস্তক ৩১:১৪-১৮] মোশি ১,০০০ সৈন্যের সেনাপতি এবং ১০০ সৈন্যের সেনাপতি, যারা যুদ্ধ থেকে ফিরে এসেছিল তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। মোশি তাদের বললেন, “তোমরা কেন স্ত্রীলোকদের বেঁচে থাকতে দিয়েছো? পিযোরের বিলিয়মের ঘটনার সময় এই সব স্ত্রীলোকরাই প্রভুর কাছ থেকে ইস্রায়েলীয় পুরুষদের দূরে সরিয়ে দিয়েছিল এবং সেই জন্যই প্রভুর লোকদের মধ্যে মহামারী হয়েছিল। এখন সমস্ত মিদিয়নীয় ছেলেদের হত্যা করো। সমস্ত মিদিয়নীয় স্ত্রীলোকদের হত্যা করো যাদের কোনো না কোনো পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ছিল। তুমি সমস্ত যুবতী মেয়েদের বাঁচতে দিতে পারো। কিন্তু কেবল তখনই যদি তাদের সঙ্গে কোনো পুরুষের যৌন সম্পর্ক না থেকে থাকে। 
[কোরান ৫:৩৩] যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি। 
সহিংসতার প্রতিযোগিতায় যে-কিতাবটিই এগিয়ে থাকুক না কেন, সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার এই যে, প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী এই দুই সহিংস কিতাবে আস্থা রাখে ও বিশ্বাস করে এ জগতের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ। 

এই নিবন্ধ অবলম্বনে  

দু'টি ইছলামী কার্টুন


২৭ ফেব, ২০১৬

যাহা হুবাল তাহাই আবাল

লিখেছেন শহীদুজ্জামান সরকার

আল্লার রহমত ছাড়া কারো ঈমানদার হওয়ার ক্ষমতা নেই - সে মুহাম্মদ হোক অথবা আবু জাহেল অথবা মুরগিব। কুরানে অসংখ্য আয়াত আছে যেগুলোতে আল্লা নিজেই বলেছে, "আমার রহমত ছাড়া কারো আমার ঈমানদার হওয়া সম্ভব নয়।" সুরা ফাতেহার এই আয়াতটা দেখলেই বুঝতে অনেক সুবিধা হবে:
সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাজিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। (সুরা ফাতিহা, আয়াত ৭)
কুরানের এই সামান্য আয়াতটা বিশ্লেষণ করলে অনেক কিছুই আমরা বুঝতে পারবো। এই যেমন মুসলিমদের দাবি - কুরান লেখক হুবাল তথা আল্লাহ। আরবের আগের ঈশ্বরের নাম হুবাল ছিল। আরববাসীরা হুবালে বিশ্বাসী ছিল। মুহাম্মদ যে-ধর্ম প্রবর্তন করে, সেই ধর্মের ঈশ্বরও হুবাল, কিন্তু নাম বদল হয়ে আল্লা হয়ে গেছে। তবে যাহাই হুবাল, তাহাই আল্লা।

এই আয়াতে আল্লা কাকে কী বলতেছে? নাকি আয়াত পাঠকারী আল্লাকে বলতেছে, আমাদের উপর রহমত দান করো?

আসল সত্য - মুহাম্মদ নিজেই এই কুরানের রচয়িতা, নিজে নিজেই কাল্লনিক হুবালের কাছে নিজে রহমত চাচ্ছে, যে-হুবালের কোনো অস্তিত্বই নেই কোনো।

আবার কুরানের কোনো কোনো পড়লে মনে হয়, আল্লা নিজেই কিছু সরাসরি কিছু বলতেছে। এই যেমন:
আমি মুসাকে কিতাব দিয়েছি এবং সেটিকে বনী ইসরাঈলের জন্য হেদায়েতে পরিণত করেছি যে, তোমরা আমাকে ছাড়া কাউকে কার্যনির্বাহী স্থির করবে না। (সুরা বনী-ইসরাঈল, আয়াত ২)
তবে এই আয়াতটাতে এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, কুরান-লেখক মুহাম্মদ মাঝে মাঝে নিজেকেই হুবাল দেবতা ভাবতে শুরু করে কখনো কখনো। আমরা আরও জানি যে, মুহাম্মদ কোনো লেখাপড়া জানতো না, কিন্তু সে কীভাবে এই কুরান লিখতে পারলো? এই কাজটাও খুব সহজ একটা বিষয়।

মানুষ যখন বিপদে পড়ে, সেই সময় কিছু মানুষ তাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে আসে কেউ আসে কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে। কেউ বা মানবিক কারণে। কিন্তু মুহাম্মদ এগিয়ে গিয়েছিল কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে। সে লোকদের বিপদ থেকে উদ্ধার করতে লাগলো। সেই লোকগুলো মুহাম্মদকে নবী মেনে নিল এবং পথ প্রদর্শক মনে করলো।

লিখতে-পড়তে জানা কিছু যুবকও যোগ দেয় তার সাথে। এই যুবকরাই মূলত মুহাম্মদের মুখের কথাকেই লিপিবন্ধ করতো মূলত খেজুর গাছের পাতায়। লেখার জন্য তারা বেছে নিতো ছোট গাছগুলোকেই, যে-গাছগুলোর পাতা নিচ থেকেই ছোঁয়া যায়।

তবে একটা মজার বিষয় হলো, এই গাছগুলোর পাতা বিভিন্ন পশু খেয়ে শেষ করে দিত। এভাবে অনেক আয়াত হারিয়ে যায়। আর পাখিরা এই আয়াতগুলোতে বিষ্ঠা ত্যাগ করতো। আর এই কারণেই কবুতর এবং অন্যান্য পাখি কুরানে বিষ্ঠা ত্যাগ করলে কুরানের পবিত্রতা নষ্ট হয় না।

কী হাস্যকর, তাই না? এরকম একটি গ্রন্থ নাকি মানবজাতির সকল সমস্যার সমাধান!

ডানপাশে বামাতি

ধর্মকারীর নাম লেখা থাকলেও অনুবাদ ও ফটোমাস্তানি করেছেন কৌস্তুভ

এসো, কোরান তিলাওয়াত করি - ০১

লিখেছেন ফাতেমা দেবী (সাঃ)

১.
আর তার নিকট গুপ্ত তত্ত্বের চাবি, তা তিনি ছাড়া আর কেউই জানে না। যা কিছু জলে ও স্থলে আছে তিনি তার সবই জানেন এবং গাছের একটি পাতাও তার অজান্তে পড়ে না, এবং ভূগর্ভস্থ অন্ধকারের মধ্যে এমন কিছু নাই, সরস ও নীরস কোনো কিছু নাই যা এই কেতাবে নাই। - সুরা আনয়াম, আয়াত ৫৯ (৬:৫৯)

কিন্তু ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ডাইনোসর, কম্পিউটার, টিভি, মোবাইল, এক্সরে মেশিন, এরোপ্লেন ইত্যাদি জিনিসের নাম-গন্ধও এই কেতাবে পেলাম না। আল্লা কি এই কেতাবে মিথ্যা বলেছেন? মমিনরা আওয়াজ দেন।

২.
হে মমিনগণ, যদি প্রকৃত মমিন হয়ে থাকো তবে আল্লাকে ভয় করো এবং সুদী কারবার ত্যাগ করো। - সুরা বাকারা, আয়াত ২৭৮ (২:২৭৮)

আল্লা বলেছেন, যে-মমিন সুদী কারবারের সাথে জড়িত থাকবে, সে প্রকৃত মমিন নয়। কিন্তু হায়! আজকাল মমিনরা কেউই আল্লাকে পাত্তাটাত্তা দেয় না। মমিনরা ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করে। সুদ নেয় ও দেয়। ব্যাংক হলো সুদের কারবার। ব্যাংক থেকে সুদে ঋণ নিয়ে বাড়ি বানিয়ে সে-বাড়িতে বাস করে বা ভাড়া দিয়ে টাকা রোজগার ক'রে তাতে জীবিকা নির্বাহ করে। মমিন আপাদমস্তক সুদের ভেতর নিমজ্জিত থাকে সুদের বাড়িতে। মমিন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে। ক্রেডিট কার্ডের ব্যবসা হলো পুরাই সুদের ব্যবসা। মমিন ক্রেডিট কার্ড ও ব্যাংক থেকে সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য ক'রে জীবিকা নির্বাহ করে। মমিন পুরাই আপাদমস্তক সুদে নিমজ্জিত। আল্লাপাকরে মমিনরা এক্কেরে গোনার মধ্যেই ধরে না। পাত্তাই দেয় না। আল্লা কী কইলেন, না কইলেন, তাতে তাদের কিছুই যায় আসে না। অথচ নবীজি ও তার আমলের মমিনরা, মানে নবীজির ছাহাবীরা কেউ কি এইরকম নকল মমিন আছিলেন? তারা কি সুদের কারবার করতেন? তারা কি ক্রেডিট কার্ড দিয়া খেজুর, দাসী, তলোয়ার, মেছওয়াক ইত্যাকার বস্তু ও ব্যক্তি ক্রয় করতেন? তার কি ব্যাংক থেকে সুদে ঋণ নিয়ে খেজুরপাতা নিয়ে দালান বানায়ে বাস করতেন? ক্রেডিট কার্ডের সুদের টাকায় উট, দুম্বা, মেষ ইত্যাদি ক্রয় করতেন? আজকালকার মমিনরা কেন আল্লাকে এত অপমান করে? কেন আল্লাকে ভয় করে না, তিনি ভয় পেতে বলার পরেও? তাদের উদ্দেশ্য কী?

৩.
বস্তুত যারা কাফের, তুমি ওদেরকে ভয় দেখাও বা না দেখাও, একই কথা ওরা ঈমান আনবে না। আল্লা ওদের হৃদয়, চোখ ও কানে সীল মোহর মেরে দিয়েছেন। ওদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি। - সুরা বাকারা, আয়াত ৬-৭ (২:৬-৭)

এই আয়াতে আল্লা নিজে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, কাফেরদের হৃদয়, চোখ ও কানে আল্লা নিজেই সীল মোহর মেরে দিয়েছেন। আর এ জন্যই কাফেররা ঈমান আনবে না। এবং এজন্যই কাফেরদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।

আল্লা সর্বশক্তিমান। সর্বশক্তিমান আল্লার মেরে দেওয়া সীল মোহর তো তার সৃষ্টি কাফেরদের পক্ষে সরানো অসম্ভব। তাহলে ঈমান না আনার দোষটা কার? কঠিন শাস্তি কার প্রাপ্য?

ভয় দেখালেও কাফেররা ঈমান আনবে না জেনেও আল্লা পুরো কোরান শরীফ জুড়ে কাফেরদের ভয় ভীতি দেখিয়ে গেলেন কেন?

যিশুর ভালোবাসা

২৬ ফেব, ২০১৬

ইছলামকবলিত দেশে অভিজিৎ হত্যার সুবিচার অসম্ভব

লিখেছেন পুতুল হক

অভিজিৎ রায় হত্যার বিচার এই দেশে হবে - এতো বড় আশা আমি করি না। এটা হচ্ছে সেই বাংলাদেশ, যেখানে রাজাকাররা, যারা আমাদেরই মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ মানুষ মেরেছে, তিন লক্ষ নারীর সম্ভ্রমহানী করেছে, জাতীয় নেতা হয়। 

যে-জাতি ইসলামের কারণে বাবার মুক্তিযুদ্ধবিরোধী খুনিকে, মায়ের রাজাকার ধর্ষককে ক্ষমাই শুধু করে না, পরম আত্মীয়ও মনে করে, সে-জাতি অভিজিৎ রায়ের মত কোনো নাস্তিক, যে কিনা ধর্মহীন এক মুক্তবিশ্বের স্বপ্ন দেখতো আর দেখাতো, সেই অভিজিৎ হত্যার সুবিচার চাইবে, এরকম আশা করার মত জড়বুদ্ধি আমি নই।

এখানকার মানুষ মুক্তমনাদের কতল করে আর যারা মা-বোনদের ধর্ষণ করে, ভাইকে-বাবাকে বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে মারে, তাদের শ্রদ্ধার আসনে বসায়। ধর্ষক আর খুনিরাই এই দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে। এখানকার মানুষের মনন, চিন্তা গড়ে ওঠে এদেরই হাতে। এর বাইরে তারা ভাববেই বা কীভাবে? মুসলমান বাবা তাঁর ছেলেকে খুন হতে দিতে পারে, ছেলে তাঁর বাবাকে খুন করতে পারে, যদি তারা ইসলামের বাইরে যায়। এখানে সবার আগে ইসলাম। তাই মুক্তমনাদের খুন হতে হয়। এটাই ইসলামের আদেশ। 

মুসলমান আর যা-ই করুক, কখনো ইসলামের বাইরে যেতে পারবে না। পারবে না তাঁদের নবী আর আল্লাহ্‌র আদেশ এড়িয়ে চলতে। ইসলামী মনীষীদের লেখা ইতিহাস বলে, মোহাম্মদ তার সমালোচনাকারীদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। তার উম্মতরা হুমায়ুন আজাদ, অভিজিৎদের হত্যা করে শুধুমাত্র সে নির্দেশের বাস্তবায়ন করে। যে-মুখে ইসলামকে স্বীকার করা হয়, সে-মুখে অভিজিৎ হত্যার বিচার চাওয়া একেবারেই অসম্ভব। 

একজন মুসলমান, যে এক আল্লাহ আর মোহাম্মদকে আল্লাহ্‌র প্রেরিত পুরুষ বলে বিশ্বাস করে, তার মহানবীকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মনে করে, যাকে নির্ভুল, নিষ্পাপ, নিখুঁত মনে করে, নবীপ্রেম যার অন্তরে সদাসর্বদা ১০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডে টগবগ করে, সে কীভাবে অভিজিৎ হত্যার বিপক্ষে অবস্থান নেবে? 

আল্লাহ এবং রাসুলে বিশ্বাস স্থাপনের সাথে সাথে মুসলমান আরও বিশ্বাস করে, সমগ্র পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, তাই এক আল্লাহ্‌র আইন ছাড়া অন্য কোনো আইন মেনে নেয়া যাবে না। আল্লাহ্‌র আইন প্রতিষ্ঠার জন্য কাফেরদের বিরুদ্ধে কেয়ামত পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব। কোরআন বা হাদিসে কাফের হত্যার নির্দেশ আছে, কোনো কাফের হত্যার জন্য বিচার চাওয়ার নির্দেশ নেই।

মুসলমান কট্টর হোক বা মডারেট হোক, কোরআনের যে-সমস্ত আয়াতে বা যে-সমস্ত হাদিসে কাফের হত্যার নির্দেশ আছে, সেসবকে ভুল বলতে পারবে না। ধর্মকে গুটি কয়েক পুস্তকের মধ্যে আবদ্ধ করে নিজেদের ভিন্ন পথে এগিয়ে নেবার সুযোগ মুসলমানদের নেই। কারণ ইসলাম তাদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি জীবনাচারে, প্রতিটি ক্ষেত্রে বিস্তৃত। 

ইসলাম থেকে বের হয়ে যখনই কেউ শ্বাস নেবার চেষ্টা করবে, সেই কতলযোগ্য। আর ইসলামের মধ্যে থাকলে অভিজিৎ হত্যার বিচার চাওয়া যায় না। অভিজিৎকে যে হত্যা করেছে, মুসলমানের কাছে তার বেহেস্তপ্রাপ্তি হয়ে গেছে। মহান আল্লাহ তাঁকে পুরস্কৃত করার জন্য শেষ বিচার পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না। অভিজিতের খুনির জন্য তার কবর আলোকিত, সুরভিত আর হুরদের দ্বারা সুসজ্জিত হয়ে গেছে।

অভিজিৎহীন, তবু অভিজিৎময়

'মুক্তমনা' ব্লগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অনলাইনে বাংলায় মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রকৃত পথিকৃৎ অভিজিৎ রায়ের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। গত বছর ঠিক এই দিনে মোল্লা একাডেমী কর্তৃক আয়োজিত সিসি ক্যামেরাময় কিতাব মাহফিলের ঠিক বাইরে নির্লিপ্ত পুলিশের উপস্থিতিতে ও অজস্র মানুষের সামনে তাঁকে হত্যা করে শিক্ষাবিদ্বেষী, সভ্যতাবিমুখ ও বর্বর ইছলামের মহানবীর মহান বীর অনুসারীরা।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অনলাইনে কটু মন্তব্য করলে দক্ষ ও তৎপর গোয়েন্দা বাহিনী তাকে ধরে ফেলে ঠিক পরদিনই, কিন্তু অগণ্য প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও কেউ ধরা পড়ে না এক বছরেও। 

ধর্মবাজদের ঘাঁটানোর সাহস আসলে নেই কোনও প্রশাসনেরই। বরং প্রশাসন এদেরই আজ্ঞাবহ। নইলে ইছলামীরা নিজেদের খোমা মোবারক প্রদর্শন করে বছরের পর বছর প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েও কীভাবে থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে? 

অভিজিৎ রায় বিজ্ঞান, যুক্তিবাদ, দর্শন ও বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে লেখালেখি করলেও তাঁর প্রধান অপরাধ ছিলো - যুক্তি-তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে ইছলামের আরোপিত মাহাত্ম্যকে ধুলিস্যাৎ করা। ইছলামীরা তাই তাদের নবীর পথ অনুসরণ করে সমালোচনার জবাব দিয়েছে সুন্নতী উপায়ে - সমালোচক-হত্যার মাধ্যমে। এবং এ কথা মানতেই হবে, এই হত্যাকাণ্ড বিপুলভাবে জননন্দিত ও সমর্থিত, যেহেতু বাংলাদেশে হত্যা-ধর্ষণ-ডাকাতি-দুর্নীতিসহ যে-কোনও ভয়াবহ অপরাধের চেয়ে ইছলাম-সমালোচনার অপরাধ অনেক অনেক বেশি গুরুতর। 

অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুতে অপরিমেয় ক্ষতি হয়েছে মুক্তচিন্তা চর্চা আন্দোলনের। মৃত্যুর পরে কারুর স্থান শূন্য থাকে না বলে যে-কথাটির প্রচলন আছে, সেটি আসলে ভ্রান্ত বাণী। অভিজিৎ রায়ের মতো সুশিক্ষিত, প্রজ্ঞাবান, বিদগ্ধ, মানবতাবাদী, যুক্তিমনস্ক, সংস্কৃতিমনা, প্রতিভাধর, সুলেখক ও আপাদমস্তক ভদ্রজনের স্থান পূরণ হয় না।

(নিচের ছোট ছোট ছবিতে একের পর এক ক্লিক করে ১৬ টি পোস্টার দেখতে হবে।)


পোস্টারগুলো বানানোর কৃতিত্ব সামিনা চৌধুরী এ্যানি-র

২৪ ফেব, ২০১৬

"ইসলামে নারী এবং যৌনতা": ব-দ্বীপ প্রকাশন থেকে যে-বইটি বের হবার কথা ছিলো এই বইমেলায়

আবুল কাশেম। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও কিংবদন্তিতুল্য ইছলাম-গবেষক। কোরান, হাদিস ও ইছলামের ইতিহাস সম্পর্কে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী। বর্তমান শতাব্দীর শুরু থেকে ইংরেজি ও বাংলায় রচনা করেছেন অসংখ্য নিবন্ধ ও গবেষণাপত্র। দুটো তালিকা: ১. ইসলাম ওয়াচ, ২. ফেইথ ফ্রিডম। খ্যাতনামা সাইট উইকিইসলাম-ও তাঁর লেখা প্রকাশ করেছে। একটা সময়ে তিনি মুক্তমনায় অনেক লেখা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বেশ কিছু লেখা প্রকাশের অনুমতি দিয়ে তিনি ধর্মকারীকে কৃতজ্ঞ করেছিলেন। "ইসলামে কাম ও কামকেলি" নামে তাঁর রচিত একটি কুফরী কিতাব ধর্মকারী প্রকাশ করেছে।

গতকাল ধর্মকারীর ইমেইলে নিচের তাঁর একটা মেইল পেলাম একটা অ্যাটাচমেন্টসহ:
জনাব সম্পাদক সাহেব;
মানিক ভাই-এর জেল হাজতে যাবার সংবাদে আমি অতিশয় কাতর অবস্থায় আছি। মানিক ভাই আমার অনেক দিনের বন্ধু।
উনার আমন্ত্রণে আমি "ইসলামে নারী এবং যৌনতা" বইটি সম্পূর্ণ নতুনভাবে লিখি এক খণ্ডে অনেক নতুন তথ্য যোগান দিয়ে। উনি এবারকার বইমেলায় বইটা আনবেন বলে প্রত্যাশা করেছিলেন।
যাই হোক, সব খবরই আপনার জানা।
বইটি যদি ই-বুক হিসেবে আপনাদের বহুপঠিত ওয়েবসাইটে রাখেন তবে খুশি হবো।
বইটি ভালোমতো সম্পাদনা করা হয়নি। আশা করি, সর্বগুণে সব দোষ ক্ষমা করবেন।
ইতি;
আবুল কাশেম
তাঁর মেইল থেকে জানা গেল, ব-দ্বীপ প্রকাশন থেকে এই বইমেলায় তাঁর লেখা একটি বই প্রকাশ করার কথা ছিলো। তিনি সেই বইটির ড্রাফট পিডিএফ আকারে ধর্মকারীতে রাখার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। এ কারণে ধর্মকারী তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।

সাইজ: ২.২ মেগাবাইট
ডাউনলোড লিংক (গুগল ড্রাইভ): https://goo.gl/qmlDu3
ডাউনলোড লিংক (ড্রপবক্স): https://goo.gl/fe3ipq

অনলাইনে পাঠযোগ্য ভার্শনও এমবেড করা হলো নিচে।

হুদাইবিয়া সন্ধি - ৫: অশ্রাব্য-গালি ও অসহিষ্ণুতা বনাম সহিষ্ণুতা: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ১১৫): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – ঊননব্বই

লিখেছেন গোলাপ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১ > পর্ব ২২ > পর্ব ২৩ > পর্ব ২৪ > পর্ব ২৫ > পর্ব ২৬ > পর্ব ২৭ > পর্ব ২৮ > পর্ব ২৯ > পর্ব ৩০ > পর্ব ৩১ > পর্ব ৩২ > পর্ব ৩৩ > পর্ব ৩৪ > পর্ব ৩৫ > পর্ব ৩৬ > পর্ব ৩৭ > পর্ব ৩৮ > পর্ব ৩৯ পর্ব ৪০ > পর্ব ৪১ পর্ব ৪২ > পর্ব ৪৩ > পর্ব ৪৪ > পর্ব ৪৫ > পর্ব ৪৬ > পর্ব ৪৭ > পর্ব ৪৮ > পর্ব ৪৯ > পর্ব ৫০ > পর্ব ৫১ > পর্ব ৫২ > পর্ব ৫৩ > পর্ব ৫৪ > পর্ব ৫৫ > পর্ব ৫৬ > পর্ব ৫৭ > পর্ব ৫৮ > পর্ব ৫৯ > পর্ব ৬০ > পর্ব ৬১ > পর্ব ৬২ > পর্ব ৬৩ > পর্ব ৬৪ > পর্ব ৬৫ > পর্ব ৬৬ > পর্ব ৬৭ > পর্ব ৬৮ > পর্ব ৬৯ > পর্ব ৭০ > পর্ব ৭১ > পর্ব ৭২ > পর্ব ৭৩ > পর্ব ৭৪ > পর্ব ৭৫ > পর্ব ৭৬ > পর্ব ৭৭ > পর্ব ৭৮ > পর্ব ৭৯ > পর্ব ৮০ > পর্ব ৮১ > পর্ব ৮২ > পর্ব ৮৩ > পর্ব ৮৪ > পর্ব ৮৫ > পর্ব ৮৬ > পর্ব ৮৭ > পর্ব ৮৮ > পর্ব ৮৯ > পর্ব ৯০ > পর্ব ৯১ > পর্ব ৯২ > পর্ব ৯৩ > পর্ব ৯৪ > পর্ব ৯৫ > পর্ব ৯৬ > পর্ব ৯৭ > পর্ব ৯৮ > পর্ব ৯৯ > পর্ব ১০০ > পর্ব ১০১ > পর্ব ১০২ > পর্ব ১০৩ > পর্ব ১০৪ > পর্ব ১০৫ > পর্ব ১০৬ > পর্ব ১০৭ > পর্ব ১০৮ > পর্ব ১০৯ > পর্ব ১১০ > পর্ব ১১১ > পর্ব ১১২ > পর্ব ১১৩ > পর্ব ১১৪

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীদেরকে কুরাইশরা কী রূপে মক্কা শহর প্রবেশে বাধা প্রদান করেছিলেন, মুহাম্মদ তাঁদের সেই বাধাকে অতিক্রম করার উদ্দেশ্যে কী পন্থা অবলম্বন করেছিলেন, বিশর বিন সুফিয়ান আল-কাবি নামের এক লোক যখন মুহাম্মদের সাথে দেখা করতে এসেছিলেন, তখন মুহাম্মদ তাঁকে কী জবাব দিয়েছিলেন - তার আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) বর্ণনার পুনরারম্ভ: [1] [2] [3] [4]

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব:১১৪) পর:

আল-যুহরী তাঁর বর্ণনায় বলেছেন: 'যখন আল্লাহর নবী বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, বুদায়েল বিন ওয়ারকা আল-খুযায়ি (Budayl b. Warqa' al-Khuza'i) নামের এক লোক খুযাআ গোত্রের কিছু লোকদের নিয়ে তাঁর কাছে আসে ও তাঁকে জিজ্ঞাসা করে জানতে চায়, কী জন্য তিনি এসেছেন। তিনি তাদের বলেন যে, তিনি যুদ্ধের জন্য আসেননি, তিনি এসেছেন তীর্থ করতে ও পবিত্র স্থানটিতে শ্রদ্ধা জানাতে। তারপর তিনি বিশর বিন সুফিয়ান (Bishr b. Sufyan)-কে যা বলেছিলেন (পর্ব: ১১৪), তাদেরকেও তা-ই বলেন।

অতঃপর তারা কুরাইশদের কাছে গমন করে ও তারা যা শুনেছে, তা কুরাইশদের অবহিত করায়; কিন্তু তারা তদেরকে সন্দেহ করে ও তাদের সাথে রুক্ষ ভাষায় যে-কথাগুলো বলে, তা হলো, "সে হয়তো যুদ্ধের অভিপ্রায় নিয়ে আসেনি, কিন্তু আল্লাহর কসম আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সে এখানে কিছুতেই ঢুকতে পারবে না, যেন আরবরা কখনো বলতে পারে যে, আমরা তাকে তা করার অনুমতি দিয়েছিলাম।" খুযাআ গোত্রের মুসলমান ও মুশরিক উভয় দলের লোকেরই মুহাম্মদের সাথে জোটবদ্ধ ছিলেন। মক্কার যা কিছু ঘটনা, তার সমস্ত খবরই মুহাম্মদের কাছে তারা সরবরাহ করে আসছিলেন।

অতঃপর কুরাইশরা বানু আমির বিন লুয়ভি গোত্রের মিকরায বিন হাফস বিন আল- আখিয়াফ (Mikraz b. Hafs b. al-Akhyaf) নামের এক ভাইকে তাঁর কাছে পাঠায়। যখন আল্লাহর নবী তাকে আসতে দেখেন, তখন তিনি বলেন, "এ হলো এক বিশ্বাসঘাতক ব্যক্তি!" যখন তিনি সেখানে আসেন ও তাঁর সাথে কথা বলেন, আল্লাহর নবী তাকে একই জবাব দেন, যা তিনি বুদায়েল ও তার সঙ্গীদের দিয়েছিলেন; অতঃপর তিনি কুরাইশদের কাছে ফিরে আসেন ও আল্লাহর নবী তাকে যা বলেছিলেন, তা তিনি তাদেরকে অবহিত করান।

তারপর তারা আল-হুলায়েস বিন আলকামা বা ইবনে যাববান (al-Hulays b. 'Alqama or Ibn Zabban)-কে তাঁর কাছে পাঠায়, তিনি ছিলেন বানু আল-হারিথ বিন আবদু মানাত বিন কিনানা গোত্রের এক লোক ও সেই সময়ের কালো সেনাদলের (black troops) প্রধান। যখন আল্লাহর নবী তাকে দেখেন, তখন বলেন, "এ হলো ধর্মপ্রাণ লোকদের একজন, সুতরাং কুরবানির পশুগুলোকে তার কাছে পাঠাও, যেন সে সেগুলো দেখতে পায়!" যখন তিনি দেখতে পান যে, সেই পশুগুলো উপত্যকার আশেপাশে ও তার পাশ দিয়ে বিচরণ করছে, যাদের গলায় আছে উৎসবের গলাবন্ধ (festive collars) ও চুলগুলো ছিল খাওয়া খাওয়া - এ কারণে যে তাদেরকে কুরবানি স্থানে না নিয়ে ধরে রাখা হয়েছে বহুদিন; এই দৃশ্যগুলো দেখে তিনি এতই প্রভাবিত হন যে, তিনি আল্লাহর নবীর কাছে না গিয়ে কুরাইশদের কাছে ফিরে আসেন। তিনি যখন তাদের এইসব ঘটনা বলেন, তারা বলে, "বসে পড়! তুমি শুধুই এক বেদুইন, একদম অজ্ঞ।"

আবদুল্লাহ বিন আবু বকর আমাকে বলেছেন যে, এই বিষয়টি আল-হুলায়েসকে করে ক্রুদ্ধ; তিনি বলেন, "হে কুরাইশরা, আমরা এ জন্য তোমাদের সাথে জোট ও চুক্তিবদ্ধ হইনি, আল্লাহর ঘরে যে মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে আসে, তাকে কী বাধা দেয়া যায়? যার হাতে আমার জীবন তার কসম, মুহাম্মদ যা করতে এসেছে, তা হয় তাকে তোমরা করতে দেবে, নতুবা আমি আমার সমস্ত কালো সৈন্যদের নিয়ে প্রস্থান করবো।" তারা বলে, "শান্ত হও হুলায়েস, যে পর্যন্ত না আমরা আমাদের নিজেদের জন্য গ্রহণযোগ্য শর্ত অর্জন করতে পারি!"

আল-যুহরি তাঁর বর্ণনায় যা বলেছেন: 'অতঃপর তারা উরওয়া বিন মাসুদ আল-থাকাফি (Urwa b. Mas'ud al-Thaqafi)-কে আল্লাহর নবীর কাছে প্রেরণ করে, তিনি বলেন, "হে কুরাইশরা, যাদেরকে তোমরা মুহাম্মদের কাছে পাঠিয়েছিলে, তাদের ফিরে আসার পর তাদের সাথে কঠোরতা ও কটুবাক্য আমি প্রত্যক্ষ করেছি। তোমরা জানো যে, তোমারাই হলে আমার পিতৃ সমতুল্য ও আমি তোমাদের সন্তান সমতুল্য”- এটি এই জন্য যে, উরওয়া ছিলেন সুবায়া বিনতে আবদু সামস (Subay'a d. 'Abdu Shams)-এর পুত্র- “তোমাদের ওপর যা ঘটেছে, তা আমি শুনেছি ও আমার যে-লোকেরা আমাকে মান্য করে, তাদেরকে আমি সংগ্রহ করেছি; অতঃপর আমি তোমাদেরকে সাহায্যের জন্য এসেছি।" তারা তার সাথে একমত হয় ও বলে যে তারা তাকে সন্দেহ করেনি। অতঃপর তিনি আল্লাহর নবীর নিকট আসেন, তাঁর সামনে বসে পড়েন ও বলেন: "মুহাম্মদ, তুমি কি বিভিন্ন ধরনের মানুষদের সংগ্রহ ও একত্রিত করেছো এবং তারপর তদেরকে নিয়ে এসেছ তোমার নিজের লোকদের ধ্বংস করার জন্য? কুরাইশরা তাদের মহিলা ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে চিতাবাঘের চামড়া পরিধান করে বাহির হয়ে এসেছে ও প্রতিজ্ঞা করেছে যে, তোমার জোরপূর্বক মক্কায় প্রবেশ তারা কখনোই হতে দেবে না। আল্লাহর কসম, আমি মনে করি যে, আগামীকাল এই লোকগুলো (এখানে) তোমাকে পরিত্যক্ত করবে।" [পর্ব- ৬৯]

তখন আবু বকর আল্লাহর নবীর পিছনে বসে ছিলেন, তিনি বলেন, "'আল-লাত এর দুধ চোষ! আমাদের কি তাঁকে পরিত্যক্ত করা উচিত?" তিনি জিজ্ঞাসা করে জানতে চান, কে এই কথাগুলো তাকে বলেছে। যখন তিনি জানতে পারেন, সে ছিল ইবনে আবু কুহাফা, তিনি বলেন, "আল্লাহর কসম, আমি তোমার আনুকূল্যের জন্য যদি আমি ঋণী না থাকতাম, তবে আমি এর সমুচিত জবাব দিতাম, কিন্তু এখন তা শোধবোধ হয়ে গেলো।" [5]

অতঃপর যখন তিনি আল্লাহর নবীর সাথে কথা বলছিলেন, তখন তিনি তাঁর দাড়ি ধরা শুরু করেন। আল-মুঘিরা বিন শুবা বর্ম-আবরণ পরিহিত অবস্থায় আল্লাহর নবীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। যখন তিনি [উরওয়া] আল্লাহর নবীর দাড়ি ধরে ছিলেন, তখন তিনি তার হাতে আঘাত করা শুরু করেন ও বলেন,"হাতটা খোয়ানোর আগেই আল্লাহর নবীর দাড়ি থেকে তোমার হাতটা সরাও।"

উরওয়া বলেন, "তুমি আমাকে হতবুদ্ধি করলে, কী রুক্ষ ও অভদ্র তুমি!" আল্লাহর নবী মুচকি হাসেন; যখন উরওয়া জানতে চান, লোকটি কে ছিল, তখন তিনি বলেন, সে ছিল তার নিজেরই ভাইয়ের ছেলে আল-মুঘিরা বিন শুবা; তা শুনে তিনি বলেন, "এই নরাধম, এই তো সেদিনও না আমি তোর নাপাক শরীর ছাপ করে দিয়েছি!" [6]

আল্লাহর নবী তাকে সেই কথাগুলোই বলেন যা তিনি অন্যদের বলেছিলেন; যেমন, তিনি যুদ্ধ করার জন্য আসেননি। আল্লাহর নবীর অনুসারীরা তাঁর সাথে কীরূপ আচরণ করছে, তা প্রত্যক্ষ করে তিনি তাঁর কাছ থেকে উঠে আসেন। যখনই তিনি অজু করা সম্পন্ন করছিলেন, তারা দৌড়ে তাঁর সেই ব্যবহৃত পানি নেয়ার জন্য যাচ্ছিল; যখন তিনি থুতু ফেলছিলেন, তারা সেটার দিকে দৌড়ে যাচ্ছিলো; যদি তাঁর একটা মাথার চুলও পড়ে, তারা তা কুড়িয়ে নেয়ার জন্য দৌড়চ্ছিল।

অতঃপর তিনি কুরাইশদের কাছে ফিরে আসেন ও বলেন,

বেদ্বীনবাণী - ৬২

কোরান কুইজ – ৯৩

নিশ্চয়ই মোমিন মুসলমানগণ কোরান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। বেয়াড়া নাস্তিকগনও নিজেদেরকে কোরান-অজ্ঞ বলেন না কখনও। তাই মুসলিম-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই অংশ নিতে পারেন কোরানের আয়াতভিত্তিক এই ধাঁধা প্রতিযোগিতায়। এই সিরিজের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের কোরান-জ্ঞান যাচাই করে নিতে পারবেন। 

প্রশ্ন ১০৩: নবী ইব্রাহিম কি পৌত্তলিক ছিলো?

১) হ্যাঁ
২) না

উত্তর বেছে নিয়েছেন? এবারে মিলিয়ে দেখুন।
.
.

আরব দেশে নারীর দশা - ১২


ডান থেকে বামে লেখা: ৭ মার্চ, ৮ মার্চ, ৯ মার্চ

২৩ ফেব, ২০১৬

সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গল্প

লিখেছেন জুলিয়াস সিজার

খাগড়াছড়ির রিচাং ঝর্ণায় এক বাঙালির লাশ পাওয়া গেছে।

এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত যা হয়, এবারও তা-ই হয়েছে। যথারীতি দলবল মিলে সেখানকার সেটলার মুসলমান বাঙালিরা আদিবাসীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। ব্যাক-আপ দেবার জন্য অবশ্যই সেনাবাহিনী আর রাষ্ট্রীর প্রশাসন আছেই। আদিবাসী বন্ধুদের শেয়ার করা নানা পোস্ট থেকে যেটা জানতে পারলাম: নানা স্থানে বিচ্ছিন্ন বিচ্ছিন্নভাবে আদিবাসীদের ওপর হামলাও হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের একটা পত্রিকাও এ ব্যাপারে কোনো রিপোর্ট করেনি এখন পর্যন্ত।

সমতলে সংখ্যালঘু অমুসলিমদের ওপরে নির্যাতনের খবরগুলোও এদেশে ঢেকে রাখা হয়। এতে নাকি সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে পড়বে! কিন্তু আদিবাসীদের ওপর এই নির্যাতনের খবর এই দেশের ঈমানদার মিডিয়া কোন কারণে চেপে যাচ্ছে? আদিবাসীরা তো আর সারাদেশে উল্লেখযোগ্য হারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নেই যে, আমাদের দেশের গৃহপালিত বুদ্ধিজীবীদের মতে মিডিয়াতে খবর এলেই সাম্প্রদায়িকতা আরও ছড়িয়ে পড়বে। কোন কারণে তাহলে মিডিয়া এবং রাষ্ট্রের সত্যকে এভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা?

উত্তর খুবই সহজ: নির্যাতন হবে, নির্যাতন চলছে, নির্যাতন চলবে। কিন্তু সেটা কাক-পক্ষীকেও জানতে দেওয়া হবে না। সংসদে সরস্বতী পূজার খবর ফলাও করে প্রচার করে হবে। বিশেষ বিশেষ দিবসে পত্রিকার প্রথম পাতায় সুন্দর সুন্দর আদিবাসী মেয়েদের নৃত্যরত ছবি আসবে:
উত্তন পেগে মেগে মেগে,
মেগুলো দেবা তলে,
মর পরানান জে'দ মাগে,
তারা ল'গে ল'গে....

'সাংরাই' উৎসবে আদিবাসী মেয়েদের জল ছিটানোর ছবি আসবে। সমতলের বাঙালিরা বসে বসে আদিবাসী মেয়েদের ছবি দেখবে। বহির্বিশ্বের মিডিয়াতেও এই খবরগুলো আসবে। পৃথিবী জানবে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা কতো ভালো আছে। সে-দেশের সংসদেও তাদের পূজা হয়। বাংলাদেশের আদিবাসীরা কতো ভালো আছে। তাদের কী সুন্দর সুন্দর নৃত্যরত মেয়েদের ছবি আসে। এমপি, মন্ত্রী আর আর্মি অফিসারেরা বসে বসে দেখে। সে-দেশে শুধু সম্প্রীতি আর সম্প্রীতি... শুধুই সম্প্রীতি... সম্প্রীতি... সম্প্রীতি।

আর আড়ালে থেকে যাবে ৩০% (প্রায়) সংখ্যালঘু থেকে ৮%-এ নেমে আসার বাস্তবতা। আড়ালে থেকে যাবে আদিবাসীদের সীমান্ত দিয়ে দেশত্যাগের, নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে যাওয়ার গল্প। কোনো রূপকথা নয়, নিখাদ সত্যি গল্প।

ওদিকে পাহাড়ের পরে সমতলে পঞ্চগড়ে মন্দিরের পুরোহিতকে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা (!)। ভারতে কোনো মুসলিম নির্যাতিত হলে তা কিন্তু উগ্র হিন্দুরা করে, মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন উগ্র বৌদ্ধরা করে, তবে বাংলাদেশে অমুসলিমদের ওপর, আদিবাসীদের ওপর নির্যাতন চালায় এলিয়েন দুর্বৃত্তরা।

এতক্ষণ রাশিরাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গল্প শোনালাম! এবার ভাষা দিবসে বাংলা অভিধানে যোগ হওয়া পুরনো শব্দের নতুন অর্থ জানাই।

দুর্বৃত্ত: দেশের অমুসলিমদের ওপর হামলা করে, নির্যাতন চালায় যে-সব মুসলিম।
জঙ্গি মুসলমান: যেসব মুসলমান লেখা সহ্য করতে না পেরে কোপায়।
সহী মুসলমান: যারা কোপায় না, তবে জঙ্গিরা কোপানোর পর ঈদের চাঁদ দেখার আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে।
মডারেট মুসলমান: আমি মদ খাই, গাঁজা খাই, মাথার ওপরে কাপড় মানে হিজাব দিনদিন বাড়লেও পোশাকের নিচের দিকে কাপড় দিনদিন কমে, আমরা প্রেম করি, টুকটাক হাম্মিটাম্মিও খাই বিয়ের আগে, তবে, প্লিজ, আপনি লিখুন, তবে আমার অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে নয়।

গরুপূজারি গাধাগুলো - ১৪২


পঠিত ও উপেক্ষিত

২২ ফেব, ২০১৬

নাস্তিকতা অপরাধ নয়

পশুসঙ্গমকারীদের বলা হয় পশুকামী, শিশুধর্ষকরা - শিশুকামী। ঠিকই একইভাবে মুছলিমরা শান্তিকামী। এরা শান্তিরে োদে।

টুইটারে আরবি ভাষায় 'নাস্তিকতা অপরাধ নয়' হ্যাশট্যাগে আহত মুছলিমদের শান্তিকামী কিছু মন্তব্য:
- অপরাধ নয়? কোনও নাস্তিককে খুঁজে পেলে আমার ফল-কাটার ছুরি দিয়ে তাকে ধীরে ধীরে হত্যা করতাম, যাতে মৃত্যু পর্যন্ত সে যন্ত্রণা ভোগ করে।
- হত্যাকারী, চোর ও ব্যভিচারীদের আল্যা ক্ষমা করতে পারেন, তবে তাঁকে অবিশ্বাসকারীদের - কক্ষনও না! এর চেয়ে নিকৃষ্ট অপরাধ আর নেই।
- আমি এক ও অদ্বিতীয় আল্যার কাছে শপথ করছি, আমার ভাই নাস্তিক বনে গেলে তাকে আমি হত্যা করবো।
- তুই নাস্তিক? আমি তোর নোংরা মুখে থুতু দিই।
- সে যদি নাস্তিকই হয়, তাহলে এখনও কীভাবে বেঁচে আছে সে? তার জীবনের লক্ষ্য কী? ইয়া মাবুদ, তুমি এদের জীবন হরণ করো।
- এটা নিকৃষ্টতম অপরাধ এবং প্রমাণ করে তারা কতোটা বিপজ্জনক। আমাদের মুছলিম দেশগুলো থেকে তাদের বের করে দেয়া উচিত। আল্যা তাদের অভিশাপ দিক।
- তোমরা, মুছলিমরা, যারা নাস্তিক বনে গেছো এবং তোমাদের ধর্মে অবিশ্বাস এনেছো, তোমাদেরকে হত্যা করা প্রয়োজন। "হত্যা করো তাকে, যে তার ধর্ম পরিবর্তন করে।"
আরবি ভাষায় রচিত এই টুইটারগুলো ও সেসবের ইংরেজি অনুবাদ এখানে

নিত্য নবীরে স্মরি – ২২৭


সন্ধ্যায় দ্বীনের আলো

লিখেছেন জর্জ মিয়া

আমার পাশের ফ্ল্যাটের মালিকের মেয়ের বিয়ে, আজকে গায়ে হলুদ। এ বাড়ির গেট সব সময়ই আটকানো থাকে। এ বাড়ির তৃতীয় তলা এবং চতুর্থ তলায় দু'টি হিন্দু পরিবার বাস করে। বিয়ে উপলক্ষে এই বাড়ির গেট আজকে সারাদিন খোলা দেখলাম। আমার এক আত্মীয় এই ফ্ল্যাটের দোতলার বাসিন্দা। কোনো কারণ ছাড়াই শুধুমাত্র বাসার গেট খোলা, এই কারণেই অনেকবার গেলাম। বাধাহীন যাতায়াত, স্বাধীনতা যাকে বলে আর কী! জাঁকজমক করেই বিয়ে হচ্ছে। তাও আবার এমন ধুমধাম করে, যা শরিয়ত বিরোধী এবং হিন্দুদেরকে বাড়ি ভাড়া দেয়া হচ্ছে আর এক অন্যায়। আমিরে মোজাদ্দেদিয়া আল ইসলামের শাখা অফিস এই মহল্লায় থাকার কারণে তাদের কানে খবরটা যেতে খুব বেশি দেরি হয়নি। ব্যান্ড পার্টির আওয়াজেই তাদের কাছে খবর পৌঁছে গেছে। এতদিন তারা জানতো না, এই বাড়িতে কোনো বিধর্মী ভাড়া থাকে। আমিরে মোজাদ্দেদিয়া আল ইসলাম-এর সদস্যরা সন্ধ্যার দিকে মাগরিবের নামাজের কিছুক্ষণ পরেই চলে এসেছেন। বাড়িতে সুনসান নিরবতা। ছোট ছেলে-মেয়েগুলো শুধু "আল্লা আল্লা" করছে। আমিরে মোজাদ্দেদিয়া আল ইসলামের নাম এ দেশের সবাই কমবেশি শুনেছে। তাদের কাজই হচ্ছে দেশকে ইছলামী দেশে রূপান্তর করা। গতকালও এক হিন্দুর বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। লক্ষ্মী নামের আমার এক বান্ধবীকে তুলে নিয়ে গেছে, এখনো খোঁজ মেলেনি তার। মোহাম্মদ রফিক নামের আমার বাল্যবন্ধু এই সংগঠনটির এই অঞ্চলের প্রধানের দায়িত্বে আছে। সে-ই অপারেশনের নেতৃত্বে থাকবে আজ। অন্তত ভাবসাব দেখে তাই মনে হচ্ছে আমার। 

"যে যেখানে ছিলেন, সেখানে দাঁড়িয়ে থাকুন," হুংকার ছাড়লো মোহাম্মদ রফিক। "মেয়ের বাবা কে? যার সাথে বিয়ে হচ্ছে, সে ছেলের বাবা কি এখানে উপস্থিত আছেন?"
"আসসালামু আলাইকুম, হুজুর," উত্তর দিলো জনৈক। "জ্বি, মেয়ের বাবা আছেন, উনি মূর্ছা গেছেন আপনাদের আসার সংবাদ শুনে। এখনো জ্ঞান ফেরেনি।"
"ছেলের বাবা কোথায়? এখানে নেই নাকি?"
"আসসালামু আলাইকুম, হুজুর" উত্তর দিলো বর। "আব্বা আসেননি এখনো। চলে আসবেন, পথেই আছেন।"
"তুমি আমাকে সালাম দিলে; তুমি কি মুছলিম?"
"জ্বি, হুজুর, আমি মুছলিম সুন্নী।"
"তোমার পোশাক কি তাই বলে?" বলে সবাইকে উদ্দেশ্য করে একই কথা আবারও বললো রফিক। "এই ছেলের পোশাকে বোঝা যায় কি, এ মুছলিম নাকি অন্য ধর্মের?"
"জ্বী না, হুজুর, একে দেখে বোঝা যাচ্ছে না, এই ছেলে মুছলিম কি না!" তার সঙ্গের লোকগুলো জবাব দিলো।
"তাহলে এই ছেলের দাবি ভিত্তিহীন!"

এদিকে মেয়ের বাবার জ্ঞান ফিরেছে। ভদ্রলোক সরকারী আমলা ছিলেন। এখন অবসরপ্রাপ্ত। সালাম দিয়ে সদর কক্ষে প্রবেশ করলেন।

রফিক জানতে চাইলো, "আপনি কে?"
"আসসালামু আলাইকুম হুজুর। আমি মুনার বাবা।"
"আপনার মেয়ের আজকে বিয়ে দিচ্ছেন এই ছেলের সাথে?"
"জ্বি হুজুর। আল্লার ইচ্ছেতে আজকে বিয়ে হচ্ছে তাদের। আপনাদের দাওয়াত দিতে যেতে পারিনি বলে দুঃখিত। তবুও আপনারা এসেছেন, আমার খুবই ভালো লাগছে। আপনারা আমার মেয়েকে দোয়া করে যাবেন। আমার মেয়ে যেন সুখে থাকে।"
"অবশ্যই আমরা দোয়া করবো। আল্লাহ যদি চান, তবে আপনার মেয়ে সুখে থাকবে। কিন্তু কথা হচ্ছে, এ বিয়ে ইছলাম মতে হচ্ছে না। রসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, যতটা সম্ভব অনাড়ম্বরভাবে বিবাহ সম্পন্ন করতে এবং তিনি এ-ও বলেছেন, প্রত্যেক মুমিনার জন্য একজন মুমিন নির্ধারিত। কিন্তু আপনার মেয়েকে যার সাথে বিয়ে দিচ্ছেন, সে ছেলে বেশরিয়তি মনোভাবাপন্ন এবং পশ্চিমা ইহুদি সংস্কৃতি থেকে প্রভাবিত। এ রকম ছেলের সাথে আপনার মেয়ের বিয়ে হতে পারে না। আপনি যেহেতু একজন মুছলিম, সেহেতু আপনার মেয়ে হবেন পর্দানশীল এবং দ্বীন ইলম প্রাপ্ত পুরুষের স্ত্রী। কিন্তু আপনার মেয়েকে যে-ছেলের সাথে বিয়ে দিচ্ছেন, সে মোনাফেক। একজন দ্বীনি মুমিনার কোনো মোনাফেকের সাথে বিয়ে হতে পারে না। কাজেই এ বিয়ে হতে পারে না।"
"হুজুর তাহলে উপায় কী? কে করবে আমার মেয়েকে বিয়ে? তাছাড়া ওদের সাথে আমাদের সবকিছু পাকাপাকি করেই এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। সবাইকে নিমন্ত্রণও দেয়া হয়ে গিয়েছে। এখন যদি এ বিয়ে না হয়, তাহলে আমার মুখ দেখবো কী করে সমাজে? আর সব চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, মুনা আসলামকে ভালোবাসে। দীর্ঘদিন ধরেই ওদের মধ্যে সম্পর্ক!"
"নাউজুবিল্লাহে মিন জালেক! ছিঃ ছিঃ! এত অধঃপতন! আমার আল্লার রাসুল বলেন, প্রেম-ভালোবাসা এসব বিবাহের আগে সম্পুর্ণ নিষেধ। প্রেম করতে চাইলে সেটা হতে পারে আমার আল্লা আর তার পেয়ারা হাবিব রসুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে। এ ব্যতীত অন্য প্রেম হতে পারে না। আপনার ছেলেমেয়েকে ইসলামী শিক্ষাদানে ত্রুটি ছিলো, এটা এখন স্পষ্ট হয়েছে। আপনারও সাজা হতে পারে।"

সংগঠনের মধ্য থেকে একজন চিৎকার করে বলছে, 'নারায়ে তাকবীর', বাকিরা বলছে, 'আল্লাহু আকবর'! মুহুর্মুহু ধ্বনিতে বাড়িটা কেঁপে উঠছে মনে হচ্ছে। রফিক হাত ইশারা দিয়ে থামতে বললো সবাইকে। থেমে গেছে সবাই।

রফিক আবারো বলতে শুরু করলো, "এই ছেলে মুছলিম হয়েও এখন অন্য ধর্মের সংস্কৃতি ধরে রেখেছে তার পোশাক-আশাকে। প্যান্ট-শার্ট স্যুট-বুট কোনো সুন্নতি পোশাক নয়। এ ছেলেকে আমাদের সংগঠনের খেদমতে লাগিয়ে দেবার ব্যবস্থা করা হোক। আর এই মেয়ের যেহেতু আজকেই বিয়ে, সেহেতু এমন শুভ কাজকে পণ্ড করলে আল্লাহ নারাজ হবেন। সুতরাং এ মেয়েরও বিয়ে অন্য কারো সাথে দিয়ে দেয়া হোক, যিনি কোরান-সুন্নাহর আলোকে আমাদের চোখে একজন দ্বীনি বান্দা। এ মেয়েকে বিয়ে দেবার আগে এর নাম রাখা হোক মোসাম্মত খাদিজা বিবি। আজ থেকে এ নামই এই মেয়ের নাম। ভুলেও যেন কেউ অন্য নামে না ডাকে।"

মাথা নিচু করে ভাবছে কিছু একটা মোহাম্মদ রফিক। তারপর মাথা তুলে একজন সদস্যর দিকে তাকিয়ে বললো, "এখানে আমি অনেক পাত্রই দেখছি আমাদের সংগঠনের, কিন্তু যোগ্য বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে না কাউকেই। তাছাড়া সামর্থ্যের দিক থেকেও অনেকেই অনেকের থেকে আগে-পিছে আছে। কী করা যায়?"

সেই ব্যক্তি বললো, "হুজুর, বেয়াদবি না নিলে আপনাকে আমি একটা উপদেশ দিতে পারি। আপনি যদি মোসাম্মত খাদিজা বিবিকে আপনার বিবি করে নেন, আমার মনে হয় না এখানে কারো দ্বিমত থাকবে। তাছাড়া এই বিপথগামী মেয়েটিকে আল্লাহর রাস্তায় পরিচালনার জন্য হলেও আপনার মত একজন আল্লাহর সৈনিকের তাকে বিয়ে করাটা জরুরি বলেই আমি মনে করি।"

রফিক এবার সবার দিকে তাকালো। তাকানোর ভঙ্গিতেই বোঝা যাচ্ছে, সবার মতামত জানতে চাইছে সে। সবাই মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। রফিক বুঝে নিলো, নীরবতাই সম্মতির লক্ষণ। তখন সে বললো, "তবে তাই হোক। আমি মোসাম্মত খাদিজা বিবিকে নিকাহ করে আমার চতুর্থ বিবির মর্যাদা দিতে চাই। কাজী সাহেবকে ডাকা হোক। আর সমস্ত আলো নিভিয়ে দেয়া হোক। শুধু ঘরেরগুলো ছাড়া। কারণ এগুলা অপচয়। অপচয়কারী শয়তানের ভাই।"

কাজী সাহেব এলেন, ৩ বার কবুল বলে রফিক তাকে বিয়ে করে ফেললো। এদিকে এশার আযান পড়ে গেছে, নামাজে যেতে হবে। মেয়ের বাবা আবারো মূর্ছা গেলেন। আসলামকে ধরে নিয়ে গেছে আমিরে মোজাদ্দেদিয়া আল ইসলাম এর টর্চার সেলে। আগে তাকে পিটিয়ে ইহুদিদের ভূত তাড়াতে হবে মাথা থেকে।

রফিক তখন বললো, "এশার আজান পড়ে গেছে। সালাতে যেতে হবে মসজিদে। এখানে, শুনেছি, দুটো হিন্দু পরিবার আছে। তাদেরকে বলে দেয়া হোক, নামাজের পরে আমি আসছি। তাদেরকেও এক আল্লাহ ও এক নবীর তরিকায় চলতে হবে। মুসলমান হতে হবে। এ মহা সওয়াবের কাজ আমিই করবো ইনশাল্লাহ। আমার আল্লাহ যদি চান, তবে অবশ্যই আমাকে এ কাজে সাহায্য করবেন। আল্লাহ ছাড়া আর কোন সাহায্যকারী নেই। থাকতে পারে না। আর যদি হিন্দু পরিবার দু'টি চায়, তবে তাদেরকে একটি সুযোগ দেয়া হোক। আমাদের ফিরে আসার আগেই তাদেরকে এ স্থান ত্যাগ করতে। কেননা, আমার আল্লাহ বলেছেন, লা ইক রাহা ফিদ্দিন - ধর্মে কোনো জবরদস্তি নেই। সবাই মসজিদের পানে চলো - ফি আমানিল্লাহ।"

(কাল্পনিক গল্প)

মঙ্গলে যাক অমঙ্গল


অতএব ধর্মগুলারে...

২০ ফেব, ২০১৬

'সংখ্যালঘু উগ্রবাদী মুছলিম' বিষয়ক মিথ

অনেক সময়ই মিথ ও মিথ্যের মধ্যে কোনও তফাত থাকে না। পৃথিবীর অধিকাংশ মুছলিম উগ্রবাদী নয় - প্রচলিত এই আপ্তবাক্যটি বাস্তবে একটি মিথ। অর্থাৎ মিথ্যে। 

শুরুতেই বলে রাখা উচিত: 'জঙ্গি' ও 'উগ্রবাদী' - এই শব্দদু'টি গুলিয়ে ফেলা চলবে না। মনে রাখতে হবে, প্রত্যেক জঙ্গিই উগ্রবাদী, তবে প্রত্যেক উগ্রবাদী ব্যক্তি জঙ্গি নয়। কারণ জঙ্গি হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে উগ্রবাদী তো বটেই এবং সহিংসতায়ও সক্রিয় অংশ নেয়। আর উগ্রবাদী বলা হয় তাকে, যে উগ্রপন্থার প্রকাশ্য/পরোক্ষ/নীরব সমর্থক, কিন্তু নিজে সহিংসতায় অংশ নেয় না, তা যে-কারণেই হোক না কেন।

চোরের শাস্তি - হাত কেটে ফেলা, ব্যভিচারের শাস্তি - পাথর ছুঁড়ে হত্যা, ইছলামত্যাগের শাস্তি - মৃত্যুদণ্ড... এসব যারা সমর্থন করে, তারা জঙ্গি নয় বটে, তবে নিশ্চিতভাবেই উগ্রবাদী। একশোবার উগ্রবাদী!

এ কথা অবশ্যই সত্যি যে, মুছলিমদের ভেতরে জঙ্গিরা সংখ্যালঘু। এ নিয়ে বিতর্কের কোনও অবকাশও নেই। তবে মনে জিহাদ-পুষে-রাখা, সন্ত্রাস-সহিংসতার প্রতি সমর্থন-পোষণ-করা বা বর্বর শরিয়া আইন কায়েমের-স্বপ্ন-দেখা মুছলিম উগ্রবাদীরা কিন্তু বিপুলভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ। কীভাবে? একেবারে হিসেব কষে হাতে-কলমে প্রমাণ করে দেয়া হয়েছে এই ভিডিওতে। নাম এসেছে বাংলাদেশেরও।

ভিডিও লিংক: https://youtu.be/g7TAAw3oQvg

আমার বোরখা-ফেটিশ – ১৭০


বৃত্তের বচন - ০২

লিখেছেন সমকোণী বৃত্ত

৪.
দুনিয়াতে আল্লাহ আট প্রকার চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন (সূরা যুমার: আয়াত ৬)

অতএব এর বাইরে যে-সকল চতুষ্পদ বিশিষ্ট জন্তু আছে, সেগুলো আল্লাহ সৃষ্টি করে নাই।
ওইগুলান সব ইসলামবিদ্বেষী মিডিয়ার সৃষ্টি।
ওইগুলান সব নাস্তিক-জন্তু।
ওইগুলান সব ঈহুদি, নাছারাদের ষড়যন্ত্রের ফল।

৫.
- কুরান রাখে আল্লায়, খায় কে?
- ছাগলে।

৬.
কাউকে হত্যা করলে আপনি নিষ্ঠুর, আপনিই হত্যাকারী।
আর আপনি কাউকে বাঁচালে ঈশ্বর দয়ালু, ঈশ্বরই বাঁচানোর মালিক। 
এক্ষেত্রে আপনার কোনো ভূমিকাই ছিলো না। অতএব আপনি উধাও।

কিতাবের কথা বাসি হলেই পচে

১৯ ফেব, ২০১৬

ইছলাম ত্যাগের কারণসমূহ - ২২

ব্রিটেনের কাউন্সিল অভ এক্স-মুসলিম নামের সংগঠনের উদ্যোগে #ExMuslimBecause নামে টুইটারে একটি প্রচারণা অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাক্তন মুছলিমরা উপস্থাপন করছে ইছলাম ত্যাগের বিবিধ কারণ। অতি দীর্ঘ ও ক্রমবর্ধমান এই কারণ-তালিকা থেকে কিছু সরস ও সিরিয়াস কারণ অনুবাদ করে প্রকাশ করা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে। এতে যুক্ত করা হচ্ছে/হবে ধর্মকারীর ঠিকানায় পাঠানো লেখা/ছবি/ভিডিওও।

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭ > পর্ব ১৮ > পর্ব ১৯ > পর্ব ২০ > পর্ব ২১

Michael A. Sherlock: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ মধ্যযুগীয় অনৈতিকতাকে আমার নৈতিকতা নিয়ন্ত্রণ করার অনুমতি দিতে আমি অস্বীকৃতি জানাই।

ExMuslim Reveals: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম একটি ভয়ংকর ধর্ম, যা হত্যা ও ত্রাসের মাধ্যমে সারা বিশ্বে কর্তৃত্ব করার স্বপ্ন দেখে।

dafatness: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি বুঝতাম না, কেন মাত্র ১০ বছর বয়সে আমার পুরো শরীর পর্দাবৃত করতে হতো, যাতে পুরুষদের যৌন-উত্তেজনা জেগে না ওঠে?

Egyptian Atheist: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আল্যা কেন চাইবে, যেন আমি প্রতি বছর একটি করে পশু তার উদ্দেশে উৎসর্গ করি? আমরা গুহা ছেড়ে বেরিয়ে এসেছি হাজার-হাজার বছর আগে।

শোয়েব: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ গোঁফহীন দাড়িওয়ালা মানুষের দিকে তাকালে আমার মনে যে-ঘৃণাবোধ জেগে ওঠে, তার পেছনে ইছলামই দায়ী।

Yosra Arsoy: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ স্বামীর সঙ্গে সহবাসের মুড না থাকার কারণে স্ত্রীদেরকে অভিশাপদানে ব্যস্ত ফেরেশতারা (বুখারি ৭:১২২) আমাকে সঠিক পথ দেখানোর সময় পায়নি।

Eiynah: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ চার স্বামী রাখার অধিকার নারীর নেই কেন? কেন এই স্থায়ী বৈষম্য?

SentientSelf: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ আমি ঠিক নিশ্চিত নই, সর্বশক্তিমান হওয়া সত্ত্বেও গনিমতের মালের (যৌনদাসীসহ) ২০ শতাংশের প্রয়োজন কেন আল্যার।

qwerty: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ চোখ খুলে আমি দেখতে পেয়েছি, ইছলাম একটা ঠকবাজি। কোরান পবিত্র নয়। মোহাম্মদ ছিলো এক ধূর্ত লোক।

Jimi: আমি প্রাক্তন মুছলিম, কারণ ইছলাম দাবি করে, তার কাছে আছে সঠিক উত্তরসমূহ। কিন্তু তার উত্তরে ভুল পাওয়া গেলে তা হুমকি দেয়, যদি ভিন্ন কোনও উত্তর খোঁজার উদ্যোগ নেয় কেউ।

প্রকৃত মূত্রমনারা - ০২

অবাস্তব, ভিত্তিহীন ও যুক্তিরহিত কথা বলায় মমিনদের জুড়ি নেই। এই যেমন 'মুক্তমনা' শব্দটিকে তারা ব্যঙ্গ করে 'মূত্রমনা' বলে থাকে, যদিও বিন্দুমাত্র কারণ নেই এর পেছনে। মুক্তমনাদের মূত্রপ্রীতির কথা কখনও শোনা যায় না। তাই বলে মূত্রমনা বলে কেউ নেই, তা কিন্তু নয়।

বর্তমান সিরিজে হাতে-কলমে প্রমাণ করা হবে, প্রকৃত মূত্রমনা কারা। এই যেমন, ইছলামের নবী উটের প্রস্রাব মমিনদের জন্য হালাল করে দিয়ে তা পান করার নির্দেশনাও দিয়েছে। তাইলে কী খাড়াইল? কারা আসলে মূত্রমনা?


ডাস্টবিন থেকে কুড়আনো চিন্তা - ১৭

লিখেছেন ধর্মব্যবসায়ী

৬৬. 
দাড়িওয়ালা মমিন বলল, "আই লাভ মুহম্মদ, বাট আই এম নট আ গে।"

৬৭.
পাকা দাড়িওয়ালা খুনখুনে বুড়ো কনকনে শীতের ভোরে মসজিদে যাচ্ছে নামাজ পড়তে।
মমিনেরা ভাবছে, "বুড়োটা কতই না আল্লাওয়ালা!"
বুড়াকে দেখেই মর্নিংওয়াকরত বেতমিজ নাস্তিক ভাবলো, "এই বয়সেও বড়োর হুরসঙ্গমাকাঙ্ক্ষা অটুট।"

৬৮.
প্রতিবার খাবার আগে অবশ্যই bitch-মোল্লা বলে খাবেন।

৬৯.
একজন লোক নিজের ঘর বানানোর উদ্দেশ্যে তার প্রতিনিধিকে ভিক্ষা করতে পাঠাল। এমনকি তার ঘর বানাতে শতভাগ টাকা ভিক্ষালব্ধ অর্থ থেকেই জোগাড় করতে হল। একেবারে শেষ পর্যায়ে গিয়ে মাত্র কিছু টাকার জন্যে তার ঘরের মেরামত কর্ম আটকে গেলে প্রতিনিধিকে আবারো ভিক্ষা করতে পাঠাইল সে।

টাকার জন্যে প্রতিনিধি পঙ্গু অসহায় ফকিরের কাছেও হাত পাততে বাদ রাখল না। এইভাবে কয়েক বছর ধরে খয়রাতি করে সে নিজের ঘর নির্মান করল।

সে হইলো গিয়া মুসলিমদের আদরের আল্যা।

৭০.
হাদিসে বয়ানকৃত রোগনিরাময় পদ্ধতিকে ছিঃকিৎসা বলা হয়।

আগে জানলে নুহর ফুটা নৌকায় চড়তাম না

১৮ ফেব, ২০১৬

লওহে মাহফুজের সন্ধানে: ক্যাটম্যান সিরিজ - ১৩

লিখেছেন ক্যাটম্যান

মুক্তচিন্তা চর্চা, প্রচার ও প্রসারের কারণে ধর্মান্ধ মৌলবাদী জঙ্গীগোষ্ঠীর নৃশংস হামলার শিকার হুমায়ুন আজাদ, রাজিব হায়দার, অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাশ, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় ও ফয়সল আরেফিন দীপন সহ নিহত ও আহত সকল মুক্তচিন্তকের স্মরণে এই লেখাটি অপরিমেয় ভালোবাসার স্মারক স্বরূপ নিবেদন করছি।


তাছাড়া উল্লিখিত শ্লোকে বর্ণনাকারী পরমেশ্বরের সাথে মূসার সাক্ষাৎকারের বিষয়টি প্রমাণ করতে একটি অতিরিক্ত বর্ণনা যুক্ত করেছেন, তা হলো:
তিনি পর্বত থেকে নেমে আসার সময়ে তাঁর হাতে সেই দু'টো সাক্ষ্যপ্রস্তর ছিল - তখন প্রভুর সঙ্গে কথা বলেছিলেন বিধায় তাঁর মুখের চামড়া যে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল, এ বিষয়ে তিনি সচেতন ছিলেন না।
প্রভুর সাথে কথা বলার কারণে মূসার মুখমণ্ডল বর্ণনাকারীর নিকট উজ্জ্বল বলে প্রতিভাত হয়েছিল, অথচ সে বিষয়ে স্বয়ং মূসাই সচেতন ছিলেন না। এর দ্বারা প্রমাণিত হয়, উক্ত বর্ণনাটি মূসা বা তার পরমেশ্বরের নয়। মূসার প্রতারণার অনুকূলে এমন বর্ণনা মূসার একান্ত অনুগত কোনো বর্ণনাকারী দিয়ে থাকবেন। কারণ লিখিত প্রস্তরফলক আনার লক্ষ্যে পর্বতচূড়ায় আরোহণের সময় মূসা যাকে পর্বতারোহণের পথ পাহারায় নিযুক্ত করে রেখে গিয়েছিলেন, লিখিত প্রস্তরফলক দু'টি নিয়ে পর্বতচূড়া থেকে নেমে আসার সময়ে মূসার ওই বিশ্বস্ত পাহারাদার মূসার প্রতারণার অনুকূলে উক্ত বর্ণনাটি প্রদান করেছেন, সম্ভবত। যদিও তিনি মূসাকে প্রভুর সাথে কথা বলতে দেখেননি, তবুও তিনি মূসার মুখের চামড়া উজ্জ্বল হয়ে ওঠার পেছনে প্রভুর সাথে কথা বলার কারণ নিহিত আছে বলে কল্পনা করেছিলেন। সম্ভবত, দীর্ঘকালব্যাপী প্রস্তর খোদাই কাজে পরিশ্রান্ত মূসার স্বেদসিক্ত মুখমণ্ডল তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল বলে প্রতিভাত হয়েছিল বর্ণনাকারীর নিকট। অথচ আবেগের আতিশয্যে বর্ণনাকারী সেই বিষয়টিকে পরমেশ্বরের সাথে মূসার সাক্ষাতের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তাছাড়া প্রস্তরফলক দু'টির দ্বিতীয় সংস্করণে যে-দশ আজ্ঞা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, তা প্রস্তরফলক দুটির প্রথম সংস্করণে লিপিবদ্ধ দশ আজ্ঞার অনুরূপ কি না, সে বিষয়ে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ বিদ্যমান। বিশেষত প্রথম দু'টি আজ্ঞাকে ঘিরে অনুসন্ধিৎসু গবেষকের সন্দেহ যথেষ্ট মাত্রায় ঘনীভূত হওয়ার অবকাশ রয়েছে। কারণ প্রস্তরফলক দু'টির প্রথম সংস্করণে মূলত কী কী আজ্ঞা লিপিবদ্ধ ছিল, বাইবেল অনুযায়ী তা জানার সুযোগ আমাদের নেই। কারণ মূসা যখন প্রস্তরফলক দু'টির প্রথম সংস্করণ নিয়ে পর্বতচূড়া থেকে নেমে ইস্রায়েলের জনগণের নিকট উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলেন, তার দীর্ঘ অনুপস্থিতির সুযোগে ইস্রায়েলের জনগণ বাছুরের মূর্তি নির্মাণ করে তার পূজায় লিপ্ত হয়েছে। তখন মূসা প্রচণ্ড ক্রোধে জ্বলে উঠে নিজ হাতে বহনকৃত প্রস্তরফলক দুটোকে পর্বতের পাদতলে নিক্ষেপ করে ভেঙে ফেলেন। এ বিষয়ে বাইবেলে বর্ণিত হয়েছে:
যোশুয়া লোকদের হইচই শুনে মোশীকে বললেন, ‘শিবিরে কেমন যেন যুদ্ধের শব্দ হচ্ছে।’ কিন্তু তিনি উত্তরে বললেন,
'এ তো জয়ধ্বনির শব্দ নয়,
এ তো পরাজয়ধ্বনির শব্দ নয়;
গান-বাজনারই শব্দ আমি শুনতে পাচ্ছি!'
শিবিরের কাছাকাছি হয়ে যেই দেখলেন সেই বাছুর ও সেই নাচ, ক্রোধে জ্বলে উঠে মোশী নিজের হাত থেকে সেই প্রস্তরফলক দুটোকে নিক্ষেপ করে পর্বতের পাদতলে টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেললেন। [যাত্রাপুস্তক ৩২:১৭-১৯]
এর মাধ্যমে মূসা তার আনীত প্রস্তরফলক দুটোর প্রথম সংস্করণ ইস্রায়েলের জনগণকে দেখানোর পূর্বেই ধ্বংস করে ফেলেন। সেই কারণে মূসার আনীত প্রস্তরফলক দু'টির প্রথম সংস্করণে কী কী আজ্ঞা লিপিবদ্ধ ছিল, ইস্রায়েলের জনগণ তা দেখা ও জানার সুযোগ পাননি। এতে করে এমন ধারণা যৌক্তিক ভিত্তি পায় যে, মূসার আনীত প্রস্তরফলক দু'টির দ্বিতীয় সংস্করণে যে-দশ আজ্ঞা লিপিবদ্ধ ছিল, হয়ত তা প্রস্তরফলক দু'টির প্রথম সংস্করণে হুবহু লিপিবদ্ধ ছিল না। কারণ ইস্রায়েলের জনগণ যখন মূসার পরিকল্পিত পরমেশ্বরের প্রতি আস্থা হারিয়ে বিকল্প ঈশ্বর হিসাবে নিজেদের নির্মিত বাছুরের মূর্তি পূজায় লিপ্ত হয়েছিল, তখন সেই বিদ্রোহাত্মক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মূসা তার পরমেশ্বরের প্রতি ইস্রায়েলের জনগণের আনুগত্য নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন। বিধায় নিজের পরিকল্পিত পরমেশ্বরকে অপ্রতিদ্বন্দ্বীসুলভ মর্যাদা আরোপ এবং ইস্রায়েলের জনগণকে মূর্তিপূজা থেকে বিরত রাখার মানসে মূসা তার প্রণীত দশ আজ্ঞায় মৌলিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন, সম্ভবত। কারণ প্রস্তরফলক দু'টির প্রথম সংস্করণে লিপিবদ্ধ দশ আজ্ঞায় একেশ্বরবাদ প্রতিষ্ঠা ও মূর্তিপূজা প্রতিরোধে স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল না হয়ত। তাই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে আশু গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হওয়ায় ইস্রায়েলের জনগণের ধর্মীয় অধঃপতনের স্থায়ী প্রতিবিধানকল্পে মূসা তার আনীত দশ আজ্ঞায় একেশ্বরবাদের গুরুত্ব এবং মূর্তিপূজার কুফল বর্ণনা করে প্রাসঙ্গিক আজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনবোধ করেন। আর তা নির্বিঘ্নে করার জন্য মূসার আনীত প্রস্তরফলক দু'টির প্রথম সংস্করণের ধ্বংসসাধন ছিল অনিবার্য। কারণ দুই রকমের দশ আজ্ঞাবিশিষ্ট প্রস্তরফলকের অস্তিত্ব ইস্রায়েলের জনগণকে ঐশ্বরিক আজ্ঞার প্রতি সন্দিহান করে তুলতো। তাই নানাবিধ বিড়ম্বনা এড়াতে এবং প্রস্তরফলক দু'টির দ্বিতীয় সংস্করণ তৈরির পথ সুগম করতে মূসা তার আনীত প্রস্তরফলক দুটির প্রথম সংস্করণ সচেতনভাবে ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলেন, যেন উক্ত প্রস্তরফলকে লিপিবদ্ধ দশ আজ্ঞা সম্পর্কে ইস্রায়েলের জনগণ কিছু জানতে না পারে।

সেই সুবাদে পরমেশ্বর উপযাচক হয়ে মূসাকে পুনরায় দশ আজ্ঞাবিশিষ্ট দু'টি প্রস্তরফলক প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। অথচ ঐশী আজ্ঞার ফলক ক্রোধবশত ভাঙার অপরাধে মূসাকে তার পরমেশ্বর একবারও জবাবদিহির সম্মুখীন করেননি। এতে করে অনুমিত হয় যে, যদি সত্যিই কোনো পরমেশ্বর মূসার থাকতো এবং সেই পরমেশ্বর মূসাকে উক্ত দশ আজ্ঞাবিশিষ্ট প্রস্তরফলক সত্যিকার অর্থেই যদি প্রদান করতেন, সেক্ষেত্রে মূসা তার জনগণের নৈতিক অধঃপতন দৃষ্টে যতই ক্রুদ্ধ হন না কেন, ক্রোধের বশবর্তী হয়ে পরমেশ্বর প্রদত্ত ঐশী আজ্ঞাবিশিষ্ট প্রস্তরফলক কিছুতেই ভাঙার ধৃষ্টতা দেখাতেন না। এমন ধৃষ্টতা প্রদর্শনের মূল কারণ এই হতে পারে যে, মূসা ভালোভাবেই জানতেন, যে-পরমেশ্বরের দোহাই তিনি ইস্রায়েলের জনগণকে প্রতিনিয়ত দিয়ে চলেছেন, প্রকৃতপক্ষে সেই পরমেশ্বরের আদৌ অস্তিত্ব নেই। ইস্রায়েলের জনগণের সম্মুখে তিনি মূলত পরমেশ্বর নামের এক মূলা ঝুলিয়ে রেখেছেন। তাই নিজের পরিকল্পিত পরমেশ্বরের নামে যে-দশ আজ্ঞাবিশিষ্ট প্রস্তরফলক তিনি নিজ হাতে তৈরি করে এনেছেন, ক্রোধের বশবর্তী হয়ে তা ভেঙে ফেললেও কোনো সমস্যা হবে না। প্রয়োজনে পুনরায় তা নির্মাণ করবেন বিধায় তা ভেঙে ফেলতে সামান্যতম দ্বিধাবোধ করেননি তিনি।