৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

খায়বার যুদ্ধ - ২১: খায়বারের ইহুদীদের পরিণতি!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব - ১৫০): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত চব্বিশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) খায়বারের আল-কাতিবা অঞ্চলের সমস্ত লুণ্ঠিত সম্পদ কী কারণে একাই হস্তগত করেছিলেন; সেই সম্পদের পরিমাণ কী ছিল, এই লুটের মালের অংশ থেকে তিনি তাঁর কোন কোন পরিবার সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের দান করেছিলেন, সেই দানের পরিমাণ কেমন ছিল (আল-ওয়াকিদির বর্ণনা [পৃষ্ঠা ৬৯৪-৬৯৫] ইবনে ইশাকের বর্ণনারই অনুরূপ) ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (৭০৪-৭৬৮ সাল) অব্যাহত বর্ণনা: [1] [2]

‘আল্লাহর নবী খায়বারের আল-ওয়াতি ও আল-সুলালিম নামের দুই দুর্গের লোকদের ঘেরাও করে রাখেন, অবশেষে যখন তারা আর সহ্য করতে পারে না, তখন তারা তাঁর কাছে এই আবেদন করে যে, তিনি যেন তাদের প্রাণে না মেরে বিতাড়িত হবার সুযোগ দান করেন, অতঃপর তিনি তাই করেন। তখন আল্লাহর নবী তাদের সমস্ত সম্পদ হস্তগত করেছিলেন - আল-শিইখ, আল-নাটা ও আল-কাতিবা অঞ্চল ও তাদের সমস্ত দুর্গগুলোর, ব্যতিক্রম এই দু'টি দুর্গের অন্তর্ভুক্ত সম্পদগুলো। খায়বারের জনপদবাসী সেই শর্তে আত্মসমর্পণ করে ও তারা আল্লাহর নবীর কাছে ঐ  জমিগুলোতে কাজ করার অনুমতি প্রার্থনা করে, যেন তারা তা থেকে উৎপন্ন কৃষিজাত দ্রব্যের অর্ধেক পেতে পারে; তারা বলে, "আমরা এ সম্বন্ধে তোমাদের চেয়ে বেশি জ্ঞানসম্পন্ন ও আরও ভালো কৃষক।" আল্লাহর নবী এই ব্যবস্থায় রাজি হন এই শর্তে যে, "যদি আমরা তোমাদের বিতাড়িত করতে চাই, তোমাদের বিতাড়িত করবো।"

তিনি ফাদাক-এর জনপদবাসীদের ও অনুরূপ হাল করেন [বিস্তারিত আলোচনা 'ফাদাক' অধ্যায়ে করা হবে]। তাই খায়বার মুসলমানদের শিকারে পরিণত হয়, আর ফাদাক হয় আল্লাহর নবীর ব্যক্তিগত সম্পত্তিরূপে - এই কারণে যে, তারা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ঘোড়া ও উট পরিচালনা করেননি (অর্থাৎ তা অস্ত্র বলে দখল করা হয়নি)।‘ ---- [3]

‘উবায়েদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবা বিন মাসুদ হইতে > ইবনে শিহাব আল যুহরী হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে > সালিহ বিন কাসান আমাকে বলেছেন:

আল্লাহর নবী তাঁর মৃত্যুকালে মাত্র যে তিনটি ব্যবস্থা নির্ধারণ করে যান, তা হলো:

[১] তিনি রাহায়িস-দের (Rahawis) জন্য খায়বারে এক জমি উইল করে দেন যা থেকে ১০০ লোড ফসল উৎপন্ন হতো; দারিয়িস (Dariyis), সাবায়িস (Sabai’s) ও আশারিস-দের (Asharis) জন্যও তিনি একই ধরনের ব্যবস্থা করেন।
[২] তিনি আরও নির্দেশ দেন, উসামা বিন যায়েদ বিন হারিথার [মুহাম্মদের পালিত পুত্র যায়েদ বিন হারিথার (পর্ব-৩৯) পুত্র] মিশন যেন অবশ্যই কার্যকর করা হয়; এবং
[৩] আরব উপদ্বীপে যেন দু'টি ধর্মের উপস্থিতি মেনে না নেয়া হয়।’ 

দারিয়ুনদের নাম:
‘তারা ছিলেন বানু আল-দার বিন হানি বিন হাবিব বিন নুমারা বিন লাখম গোত্রের লোক, যারা সিরিয়া থেকে আল্লাহর নবীর কাছে আগমন করেছিলেন, নামগুলো হলো: তামিম বিন আউস ও তার ভাই নুইয়াম, ইয়াযিদ বিন কায়েস, ও আরাফা বিন মালিক যাকে আল্লাহর নবী নাম দিয়েছিলেন আবদ আল-রহমান ও তার ভাই মুররান বিন মালিক, ও ফাকিহ বিন নুমান, জাবালা বিন মালিক, ও আবু হিন্দ বিন বার ও তার ভাই আল-তাইয়িব যাকে আল্লাহর নবী নাম দিয়েছিলেন আবদুল্লাহ।

আবদুল্লাহ বিন আবু বকর আমাকে যা বলেছেন, তা হলো, আল্লাহর নবী আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহ-কে মুসলমান ও ইহুদিদের মধ্যে প্রতিনিধিত্বকারী কর-আদায়কারী হিসেবে (Assessor) খায়বারে প্রেরণ করতেন। যখন তিনি তার ভাগের পরিমাপ নির্ধারণ করতেন, তখন যদি তারা বলতেন, "তুমি আমাদের প্রতি অন্যায় করছো", তিনি বলতেন, "যদি তোমরা চাও, তবে এই ভাগটি হলো তোমাদের, আর তোমাদের ঐ ভাগটি হলো আমাদের"; অতঃপর ইহুদিরা বলতেন, "এর ওপর (ভিত্তি করে) স্বর্গ ও পৃথিবী টিকে আছে (এটি ইহুদিদের গুণগত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অভিব্যক্তি: তিনটি জিনিসের ওপর পৃথিবী টিকে থাকে: ন্যায়বিচার, সত্য ও শান্তি); কিন্তু আবদুল্লাহ কর আদায়কারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন মাত্র এক বছর, মুতা অভিযানে তার নিহত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। তার মৃত্যুর পর বানু সালিমা গোত্রের জব্বার বিন সাকহার বিন উমাইয়া বিন খানসা নামের এক ভাই (আল-ওয়াকিদি: 'আবু আল-হেয়থাম বিন তায়িহাম - কিছু লোক বলে জব্বার বিন সাকহার, কিছু লোক বলে ফারওয়া বিন আমর') এই কাজের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সবকিছু ভালই চলছিল ও মুসলমানরা তাদের স্বভাবের কোনো ত্রুটি খুঁজে পায়নি যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর নবীর সাথে আবদ্ধ চুক্তিটি ভঙ্গ করে বানু হারিথা গোত্রের আবদুল্লাহ বিন সাহল' নামের এক ভাইয়ের ওপর আক্রমণ চালায় ও তাকে হত্যা করে; আর সে কারণে আল্লাহর নবী ও মুসলমানরা তাদেরকে সন্দেহ করা শুরু করে।

সাহল বিন আবু হাতমা-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আল-যুহরি ও বুশায়ের বিন ইয়াসার আমাকে বলেছেন: আবদুল্লাহ বিন সাহল খায়বারে খুন হন। তিনি তার বন্ধুদের সাথে সেখান গিয়েছিলেন ঐখান থেকে খেজুর নিয়ে আসার জন্য; ঘাড় মটকানো অবস্থায় এক পুলের মধ্যে তাকে পাওয়া যায়, যেখানে তাকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তাই তারা তাকে নিয়ে আসে ও অতঃপর আল্লাহর নবীর কাছে এসে সেই ঘটনাটি জানায়। হুয়ায়েসা বিন মাসুদ ও মুহায়েসা বিন মাসুদ নামের দুই  কাজিন-কে সঙ্গে নিয়ে তার ভাই আবদ আল-রাহমান তাঁর কাছে আসে। সেখানে আবদ আল-রাহমান ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট, রক্তের প্রতিশোধ-প্রার্থী ও তার লোকদের মধ্যে বিশিষ্ট দুই কাজিনের সম্মুখে  যখন আল্লাহর নবীর সাথে কথা বলে, আল্লাহর নবী বলেন, "বয়োজ্যেষ্ঠরা প্রথমে, বয়োজ্যেষ্ঠরা প্রথমে!", তখন সে চুপ হয়ে যায়। ঐ দুই কাজিন তখন কথা বলে ও তারপর কথা বলে সে। তারা আল্লাহর নবীকে তাদের আত্মীয়টির খুন হবার ঘটনাটি জানায়, তিনি বলেন, "তোমরা কি খুনির নাম বলতে পারো, ও তারপর পঞ্চাশ বার তার বিরুদ্ধে শপথ করে বলতে পারো, যাতে তাকে আমরা তোমাদের কাছে সমর্পণ করতে পারি?" তারা বলে যে, যে বিষয়ে তারা জানে না, সে বিষয়ে তারা শপথ করতে পারবে না। তিনি বলেন, "যদি তারা পঞ্চাশ বার শপথ করে বলে যে, তারা তাকে খুন করেনি ও কে খুনি, তা তারা জানে না, তাহলে কি তারা তার রক্ত-মূল্য প্রদানের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হতে পারবে?" তারা জবাবে বলে, "আমরা ইহুদিদের শপথ গ্রহণ করতে পারি না। তাদের বিশ্বাসঘাতকতা এত বেশি যে, তারা মিথ্যা শপথ করতে পারে।" আল্লাহর নবী রক্ত-মূল্য বাবদ তাঁর নিজের সম্পদ থেকে ১০০টি মাদি উট প্রদান করেন। সাহল যা বলেছে (সাহল ছিলেন এই উপাখ্যানের বর্ণনাকারী। রক্ত-মূল্যের দাবীদার ছিলেন আবদ আল-রাহমান বিন সাহল), "আল্লাহর কসম, আমি ঐ লাল ছোট উটটির ঘটনা ভুলবো না, যাকে আমি যখন পরিচালনা করছিলাম, তখন যে আমাকে লাথি মেরেছিল।"

বানু হারিথা গোত্রের আবদুল-রাহমান বিন বুজায়েদ বিন কেইযি-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আল-হারিথ আল-তেইমি আমাকে বলেছেন। মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আমাকে যা বলেছেন তা হলো: 'আল্লাহর কসম, তার চেয়ে বেশি সাহল জানতো না, সে ছিল বয়সে বড়। সে তাকে যা বলেছে তা হলো, "আল্লাহর কসম, ঘটনাটি ঐ রকম ছিল না, বরং সাহল ভুল বুঝেছে। আল্লাহর নবী বলেননি, "এমন কোনো বিষয়ে তুমি শপথ করো, যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই," বরং আনসাররা যখন তাঁর সাথে কথা বলে, তখন তিনি খায়বারের ইহুদিদের কাছে চিঠি লিখেন এই বলে: "একজন মৃত মানুষ তোমাদের বাসভূমিতে পাওয়া গেছে। তোমরা তার রক্ত-মূল্য পরিশোধ করো।" জবাবে ইহুদিরা আল্লাহর কসম খেয়ে যা লিখে জানায়, তা হলো এই যে, তারা তাকে হত্যা করেনি ও কে এই কাজটি করেছে তা তারা জানে না; তাই ঐ রক্ত-মূল্য পরিশোধ করেছিলেন আল্লাহর নবী।" আমর বিন শুয়ায়েব আমাকে এই একই ঘটনাটি বলেছে যা আবদুল রাহমান বলেছিল, পার্থক্য এই যে, সে বলেছে, "রক্ত-মূল্য পরিশোধ করো, নতুবা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকো।"---

'আল্লাহ যখন নবীকে উঠিয়ে নেন, আবু বকর তার মৃত্যুকাল পর্যন্ত এই ব্যবস্থা জারি রাখেন, আর উমর তার শাসন আমলের শুরুতে তা-ই করেন। অতঃপর তিনি শুনতে পান  যে, আল্লাহর নবী তাঁর সর্বশেষ অসুখের সময় বলেছিলেন, "আরব উপদ্বীপে দু'টি ধর্মের একত্র উপস্থিতি যেন অবশ্যই না থাকে"; তিনি এই ব্যাপারে অনুসন্ধান চালান যতক্ষণে না তিনি এ বিষয়ে নিশ্চিত হন। অতঃপর তিনি ইহুদিদের কাছে খবর পাঠান এই বলে, "'আল্লাহ তোমাদের দেশান্তরিত করার অনুমতি দিয়েছে", তিনি আল্লাহর নবীর উদ্ধৃতি প্রয়োগ করেন। "যদি আল্লাহর নবীর সাথে কারও কোনো চুক্তি থাকে ,তবে সে যেন আমার কাছে তা নিয়ে আসে, আমি তা অনুসরণ করবো; যার এ ধরনের কোনো চুক্তি নেই, সে যেন দেশান্তরিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়।" যাদের কোনো চুক্তি ছিল না, তাদেরকে উমর এভাবেই বিতাড়িত করেছিলেন।

আবদুল্লাহ বিন উমর এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নাফি নামের আবদুল্লাহ বিন উমরের এক মক্কেল আমাকে বলেছেন: আমি আল-যুবায়ের ও আল-মিকদাদ এর সঙ্গে আমাদের খায়বারের জমি পরিদর্শন জন্য সেই জমিতে যাই। সেখানে পৌঁছার পর আমরা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়গুলো দেখার জন্য আলাদা হয়ে পড়ি। রাত্রিতে, যখন আমি আমার বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলাম, তখন আমি আক্রমণের শিকার হই ও আমার দুটি বাহু কনুইতে সন্ধি-চ্যুত (dislocated) হয়। পরদিন সকালে, আমাকে সাহায্য করার জন্য আমি আমার সঙ্গীদের ডাকি; যখন তারা সেখানে আসে ও আমাকে জিজ্ঞাসা করে যে, কে এই কাজটি করেছে, আমাকে বলতে হয় যে, আমি তা জানি না। তারা আমার বাহু দুটি পুনঃস্থাপন করে ও অতঃপর আমাকে উমরের কাছে নিয়ে আসে, যে বলে, "এটি ইহুদিদের কাজ।" তারপর তিনি উঠে দাঁড়ান ও যারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, আল্লাহর নবী খায়বারের ইহুদিদের সাথে যে ব্যবস্থা করেছে, তা হলো এই যে, যদি আমরা ইচ্ছা করি, তবে আমরা তাদের বিতাড়িত করতে পারি; তারা আবদুল্লাহ বিন উমর-কে আক্রমণ করেছে ও তার দুই বাহু সন্ধিচ্যুত করেছে, যা তারা শুনেছে; এ ছাড়াও তারা অতীতে এক আনসারি-কে আক্রমণ করেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তারাই হলো এই জুলুমগুলোর জন্য দায়ী, কারণ সেই জায়গায় অন্য কোনো শত্রু ছিল না। সুতরাং যদি কারও খায়বারে জমি থাকে, তবে সে যেন সেখানে যায়, কারণ তিনি ইহুদিদের বিতাড়িত করতে যাচ্ছেন। এবং তিনি তাদের বিতাড়িত করেন।

বানু হারিথা গোত্রের আবদুল্লাহ বিন মাখনাফ-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আবদুল্লাহ বিন আবু বকর আমাকে বলেছেন: উমর যখন ইহুদিদের খায়বার থেকে বিতাড়িত করে, তখন মুহাজির, আনসার, বানু সালিমা গোত্রের জব্বার বিন সাকহার বিন উমাইয়া বিন খানসা - যিনি ছিলেন কর আদায়কারী ও ইয়াজিদ বিন থাবিত-এর সঙ্গে তিনি সেখানে গমন করেছিলেন; এবং এই দুই ব্যক্তি মূল চুক্তি অনুযায়ী তার মালিকদের মধ্যে খায়বারের জমিগুলো বণ্টন করে দিয়েছিলেন।'---

ইমাম বুখারীর (৮১০-৮৭০ সাল) বর্ণনা: [4]


‘ইবনে উমর হইতে বর্ণিত: উমর ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের হিজায থেকে বিতাড়িত করেছিলেন। আল্লাহর নবী যখন খায়বার বিজয় করেছিলেন, তিনি সেখান থেকে ইহুদিদের বিতাড়িত করতে চেয়েছিলেন, কারণ সেখানের ভূমিগুলো পরিণত হয়েছিল আল্লাহর, আল্লাহর নবীর ও মুসলমানদের সম্পত্তিতে আল্লাহর নবীর অভিপ্রায় ছিল এই যে, তিনি ইহুদিদের বিতাড়িত করবেন, কিন্তু তারা তাঁর কাছে আবেদন করে যে, তাদেরকে যেন সেখানে থাকতে দেয়া হয় এই শর্তে যে, তারা শ্রমিকের কাজ করবে ও উৎপন্ন ফলের অর্ধেক পাবে। আল্লাহর নবী তাদেরকে বলেন, "আমরা এমত শর্তে তোমাদের থাকতে দিব, যতদিন আমাদের ইচ্ছা।" তাই, তারা (অর্থাৎ, ইহুদিরা) সেখানে থাকা শুরু করে যতক্ষণে না উমর তাদেরকে জোরপূর্বক বিতাড়িত করে তাইমা ও আরিহার দিকে পাঠিয়ে দেয়।'

- অনুবাদ, টাইটেল, [**] ও নম্বর যোগ - লেখক।

>>> আদি উৎসে মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল-ওয়াকিদি, ইমাম বুখারীর ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, অল্প সময় আগে খায়বারের যে-জমিগুলোর মালিক ছিলেন এই জনপদের মানুষরা, উন্মুক্ত শক্তি প্রয়োগে তাঁদের নির্বিচারে খুন ও জখম করার পর তাঁদের মা-বোন-স্ত্রী-কন্যাদের যৌনদাসী রূপে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয়ার পর তাঁদের সমস্ত অস্থাবর সম্পদ ও স্থাবর জমিগুলো নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয়ার পর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ এই মানুষগুলোকে "তাঁদেরই জমিতে" শ্রমিক রূপে কাজ করার শর্ত সাপেক্ষে তাঁদের পৈত্রিক ভিটে মাটিতে থাকার অনুমতি প্রদান করেছিলেন!

এত কিছুর পরেও তাঁদের শেষ রক্ষা হয়নি। মুহাম্মদের আদর্শ ও শিক্ষায় অনুপ্রাণিত তাঁর প্রিয় অনুসারীরা তাঁদেরকে বিতাড়িত করেই ছেড়েছিলেন!

ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে ইবনে ইশাকের মূল ইংরেজি অনুবাদের প্রাসঙ্গিক অংশ সংযুক্ত করছি।

The continued narrative of Muhammad Ibn Ishaq (704-768 AD):
‘The apostle besieged the people of Khaybar in their two forts al-Watih and al-Sulalim until when they could hold out no longer they asked him to let them go, and spare their lives, and he did so. Now the apostle had taken possession of all their property – Al-Shaqq, Nata, and al-Katiba and all their forts – except what appertained to these two. When the people of Khaybar surrendered on these conditions they asked the apostle to employ them on the property with half share in the produce, saying, 'We know more about it than you and we are better farmers.' The apostle agreed to this arrangement on the condition that 'if we wish to expel you we will expel you.' He made a similar arrangement with the men of Fadak. So Khaybar became the prey of the Muslims, while Fadak was the personal property of the apostle because they had not driven horses or camels against it.’-----

‘Salih b Kasan told me from Ibne Shihab al-Zuhri from Ubaydullah b Abdullah b Utba b Masud: The only dispositions that the apostle made at his death were three: He bequeathed to the Rahawis land which produced a hundred loads in Khaybar, to the Dariyis, the Sabai’s, and the Asharis the same. He also gave instructions that the mission of Usama b. Zayd b. Haritha should be carried through and that two religions should not be allowed to remain in the peninsula of the Arabs.’ -------

According to what 'Abdullah b. Abu Bakr told me the apostle used to send to Khaybar 'Abdullah b. Rawaha to act as assessor between the Muslims and the Jews. When he made his assessment, they would say, 'You have wronged us,' and he would say, 'If you wish it is yours and if you like it is ours,' and the Jews would say, 'On this (foundation) Heaven and earth stand. But 'Abdullah acted as assessor for one year only before he was killed at Mu'ta. After him Jabbar b. Sakhr b. Umayya b. Khansa' brother of B. Salima took over the work. All went well and the Muslims found no fault in their behaviour until they attacked 'Abdullah b. Sahl brother of B. Haritha and killed him in violation of their agreement with the apostle, and the apostle and the Muslims suspected them on that account.’-----

 ‘---When God took away His prophet, Abu Bakr continued the arrangement until his death, and so did 'Umar for the beginning of his amirate. Then he heard that the apostle had said in his last illness, 'Two religions shall not remain together in the peninsula of the Arabs' and he made inquiries until he got confirmation. Then he sent to the Jews saying, 'God has given permission for you to emigrate,' quoting the apostle's words. 'If anyone has an agreement with the apostle let him bring it to me and I will carry it out; he who has no such agreement let him get ready to emigrate.' Thus 'Umar expelled those who had no agreement with the apostle.---------

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ: A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৫১৫-৫১৬ ৫২৩-৫২৫; বিনামূল্যে ডাউনলোড লিঙ্ক:

[2] আল-ওয়াকিদির বিস্তারিত বর্ণনা: “কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ), ed. Marsden Jones, লন্ডন ১৯৬৬; ভলুম ২, পৃষ্ঠা ৬৯০-৬৯৬ ৭১৩-৭১৫; ইংরেজি অনুবাদ: Rizwi Faizer, Amal Ismail and Abdul Kader Tayob; ISBN: 978-0-415-86485-5 (pbk); পৃষ্ঠা ৩৪০-৩৪২ ৩৫১-৩৫২

[3] অনুরূপ বর্ণনা: “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৮, ইংরেজী অনুবাদ: Michael Fishbein, University of California, Los Angeles, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-7914-3150—9 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৫৮২-১৫৮৩

Narated By Ibn 'Umar: Umar expelled the Jews and the Christians from Hijaz. When Allah's Apostle had conquered Khaibar, he wanted to expel the Jews from it as its land became the property of Allah, His Apostle, and the Muslims. Allah's Apostle intended to expel the Jews but they requested him to let them stay there on the condition that they would do the labor and get half of the fruits. Allah's Apostle told them, "We will let you stay on thus condition, as long as we wish." So, they (i.e. Jews) kept on living there until 'Umar forced them to go towards Taima' and Ariha'.