৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

বিশ্বাসের দরজায় করাঘাত!: পর্ব ০৯ – (ভাবীর গায়ের আতর-সুগন্ধি!)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


আমার মামাতো ভাই আমেরিকায় থাকেন, সহজ ভাষায় ডি-ভি লটারী পাবলিক। বছর দশেক আগে বিয়ে করার জন্য দেশে এসেছিলেন; এসেই ১৫ দিনের ক্রাশ-কোর্সে যথারীতি এক হাজী সাহেবের কন্যাকে বিবাহ করে ফেললেন!

মূল গল্পে আসি, প্রতিটি মানুষের শরীরে আলাদা আলাদা গন্ধ আছে; বেশিরভাগ পুরুষের গন্ধ মহিষের মত হলেও নারীদেরটা তেমনটা নয়, নারী দেহের গন্ধ সর্বদাই মাদকতাময়; বিশ্বাস না হলে, সাবান-শ্যাম্পু ছাড়া গোসলের ১৫ মিনিট পর, নাভী আর বুকের পাঁজরের মাঝখানটা শুঁকে দেখবেন! মাতাল হবার মত সুগন্ধ থাকে প্রতিটি নারী শরীরে; এটা নারীর প্রকৃতিগত প্রাপ্তি! তবে আজকের গল্পটি পরকীয়া প্রেমের নয়, আমেরিকা থেকে আনা সুগন্ধি হাত করবার। 

একদিন ভাবীর ঘরে গিয়ে দেখি, টেবিলের ওপর দামী দামী পারফিউমের ৬/৭ টা প্যাকেট রাখা আছে। ভাইকে প্রশ্ন করে জানলাম, সবগুলো ভাবীর জন্য নিয়ে এসেছেন তিনি!... হায়রে ভাইরে! ৩০ বছরের একটানা ভাই হয়ে একটা পেলাম না, ১ মাসের কম বয়সী বউয়ের জন্য এতগুলো! আমি ধান্দাবাজ ঠিক করলাম, ২ টা না নিয়ে আজ বাসায় ফিরবো না, কোদালের কসম!

ভাইরে কইলাম, “ভাই, তুমি তো ভাবীরে এখনই আমেরিকা নিতে পারবা না, ভাবীরে এত পারফিউম দিয়া ব্যভিচারিণী বানাইতে চাওয়াটা কি তোমার ঠিক হবে?!”

আমার প্যাঁচ প্রায় সর্বদাই কাজে লাগে, তাই সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন: “তুই কী বলতে চাস?”

তারপর গল্প সংক্ষিপ্ত:

নবী মুহাম্মদ কঠোর সাবধান বাণী উচ্চারণ করে বলেছেন:
‘পুরুষরা গন্ধ পাবে এমন উদ্দেশ্যে আতর-সুগন্ধি মেখে কোন মহিলা যদি পুরুষদের মাঝে গমন করে
তাহলে সে একজন ব্যভিচারিণী বলে গণ্য হবে’। [১]

নবী মুহাম্মদ আরও বলেছেন:
‘যে মহিলা গায়ে সুগন্ধি মেখে মসজিদের দিকে বের হয় এজন্য যে, তার সুবাস পাওয়া যাবে,
তাহলে তার নামাজ তদবধি গৃহীত হবে না, যে পর্যন্ত না সে নাপাকীর নিমিত্ত 
ফরজ গোসলের ন্যায় গোসল করে’। [২]

এরপর, আমার আস্তিক ভাইয়ের বলার মত কিছু থাকলো না; ভাবীকে বলার সুযোগ দেবার প্রশ্নই আসে না। বেছে বেছে ২ টা নিয়ে বাসায় চলে আসলাম!

তো মুমিন ভাই-বোনেরা; আজকাল আতর, পারফিউম ও নানা প্রকার সুগন্ধি মেখে নারীরা ঘরে-বাইরে পুরুষদের মাঝে চলাফেলা করে। অনেকে সুগন্ধি মেখে গাড়ীতে উঠছে, দোকানে যাচ্ছে, স্কুল-কলেজে যাচ্ছে, কিন্তু নবী মুহাম্মদের সাবধান বাণীর দিকে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ করছে না। ইসলাম এক্ষেত্রে এমন কঠোরতা আরোপ করেছে যে, নারীরা সুগন্ধি মেখে থাকলে অপবিত্রতা হেতু ফরজ গোসলের ন্যায় গোসল করতে হবে; এমনকি যদি মসজিদে যায় তবুও! 

অতএব, 
‘ইসলামের নারীকে দিয়েছে সুমহান মর্যাদা’ বলে যতই চিল্লান, আপনার পরিবারের সকল নারীর জন্য নবী মুহাম্মদের সাবধান বাণী মেনে চলার পরামর্শ দেবেন কি দেবেন না, তা আবার ভেবে দেখুন!

তথ্যসূত্র:
[১]. আহমাদ হাদীস, নাসাঈ হাদীস; মিশকাত হাদীস /১০৬৫।
[২]. আহমাদ হাদীস ২/৪৪৪; ছহীহুল জামে হাদীস/২৭০৩।

(চলবে)