১২ নভেম্বর, ২০১৬

কোরআন যেভাবে অবতীর্ণ: মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছর (পর্ব ১৮)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ

পর্ব ১ > পর্ব ২ > পর্ব ৩ > পর্ব ৪ > পর্ব ৫ > পর্ব ৬ > পর্ব ৭ > পর্ব ৮ > পর্ব ৯ > পর্ব ১০ > পর্ব ১১ > পর্ব ১২ > পর্ব ১৩ > পর্ব ১৪ > পর্ব ১৫ > পর্ব ১৬ > পর্ব ১৭

{আজকের পর্ব উৎসর্গ করা যেতে পারে ‘শয়তান’-এর নামে! ইসলামী সূত্রানুসারে মুহাম্মদের যে নৈতিক পতনের সন্ধান পাওয়া যায়, তা ঘটবে এ পর্বেই; আব্দুল্লার মৃত্যু মুহাম্মদের এই মানসিক অধঃপতনের জন্য অর্ধেকাংশ দায়ী, বাকী অর্ধেকও ঘটেবে এ পর্বেই। এ যেন পর্ব-পর্বে-পরাক্রান্ত-পর্ব!

মুহাম্মদের চাচা আবু-তালিবের সাথে বিগত এক বছরে কুরাইশ প্রতিনিধি দল দু'বার কথা বলেছেন; তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিলো, মুহাম্মদের কারণে মক্কার বাণিজ্যিক ক্ষতি হবার সম্ভবনা রোধ করা, এবং মুহাম্মদ যেভাবে পারিবারিক বন্ধনে ফাঁটল ধরাচ্ছেন, তা থেকে তাকে বিরত করা। ৭৫ নং প্রকাশের পর মুহাম্মদের মনের যে স্থিরতা আসে, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে কোরআনের সবচেয়ে ছন্দময় সূরার একটি ‘আর রাহমান (৫৫) (পরম করুণাময়)’ প্রকাশের মধ্যে দিয়ে; এ যেন ৭৫ নং প্রকাশের উত্তরে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে মুহাম্মদের বন্দনাগীতি! যাতে ৩১ বার বলা হয়েছে সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে? 

কিন্তু এর পরপরই মুহাম্মদের সাহাবীরা মুহাম্মদকে এক জটিল অবস্থায় ফেলে দেন। তারা দাবি করেন, তাদের পক্ষে মক্কায় নিরাপদে চলাফেরা ও বসবাস করা সম্ভব নয়; কারণ কুরাইশগন পারিবারিকভাবে তাদের নব্য মুসলিম সদস্য ও দাস-দাসীদের মানসিকভাবে নিপীড়ণ করতে শুরু করেছেন। মুহাম্মদ তার ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থেকে তাদের হাবাশা (আবিসিনিয়া/ইথিউপিয়া) যাবার পরামর্শ দেন; এবং সাহাবীদের হাবাশা গমনের পরপরই মুহাম্মদের মধ্য এক তীব্র অসহায়বোধ এবং একাকিত্ব কাজ করতে থাকে; মুহাম্মদ আপোসকামী হয়ে পড়েন; এবং আন-নাজম (৫৩)-এর ২০ নং আয়াতে কুরাইশদের প্রধান তিন আরাধ্য দেবীকে মেনে নেন। যদিও বর্তমানের কোরআনে এই আয়াতের পুরোটা উল্লেখ নেই, তবে একাধিক ইসলামী সূত্রে তা খুঁজে পাওয়া যায়! 

অনুবাদ নিম্মরুপ:
১৯. “আফারাআইতুমুল্লা-তা ওয়াল উযযা” তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উযযা সম্বন্ধে?

২০. “ওয়া মানা-তাছছা-লিছাতল উখরা, এবং তৃতীয় আরেকটি ‘মানাত’ সম্বন্ধে? 
তিল্কাল গারানিকা তালাউলা ওয়া আন্না শাফাতুহুন্না লাতারজা।” 
তারা অত্যন্ত উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন দেবী/উড়ন্ত সারস, নিশ্চয়ই আমরা তাদের মধ্যস্থতা আশা করি।

লাত, মানাত, উজ্জা’ ইসলামপূর্ব আরবে অত্যন্ত সম্মানিত দেবী ছিলো; যারা ‘আল্লাহর কন্যা’ (বানাতাল্লাহ) হিসেবেই আরববাসীর কাছে অধিক পরিচিত ছিলো; মুহাম্মদ ‘লাত, মানাত, উজ্জা’-কে আল্লাহর কন্যার বদলে ফেরেশতার সমপর্যায়ে স্থান দেন এবং তাদের মধ্যস্থতা গ্রহণযোগ্য বলে মতামত দেন! 

বাসায় ফেরার পর আবু-বকরসহ গুটিকয়েক সাহাবীর আলোচনায় মুহাম্মদ তার ভুল বুঝতে পারেন ও ৭৮ নং প্রকাশের ২০ নং আয়াতের দ্বিতীয় অংশ, “তিল্কাল গারানিকা তালাউলা ওয়া আন্না শাফাতুহুন্না লাতারজা” “তারা অত্যন্ত উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন দেবী/উড়ন্ত সারস, নিশ্চয়ই আমরা তাদের মধ্যস্থতা আশা করি বাতিল ঘোষণা করেন, এবং এটি শয়তানের একটি চাল/ধোঁকা হিসাবে বর্ণনা করেন; সাথে নতুন করে সংযুক্ত করেন ২২ ও ২৩ নং আয়াত। ২২ ও ২৩ নং আয়াত বাদ দিয়ে এবং ২০ নং আয়াতের শেষ অংশ যুক্ত করে পড়লেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা যায়!

মুহাম্মদের এই ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন চোখে পড়ে কুরাইশদের; মুহাম্মদকে প্রস্তাব দেওয়া হয় উভয়পক্ষের ধর্মমত যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পালন করার; এ প্রস্তাবে দ্বিমত জানিয়ে মুহাম্মদ ৭৯ নং প্রকাশ নিয়ে আসেন। ফলাফলে কুরাইশ’রা মুহাম্মদের প্রবল বিরোধী হয়ে ওঠেন; এই সময় থেকেই মুহাম্মদ কাবার সামনে নিয়মিত নামাজ পড়া শুরু করেন। একদিন নামাজ পড়ার সময় আবু-জেহেলের সামনে পড়েন মুহাম্মদ; আবু-জেহেল মুহাম্মদকে নামাজ পড়তে বাধা দেবার উদ্দেশ্যে গালমন্দ করেন; এরই ফলশ্রুতিতে মুহাম্মদ প্রকাশ করেন সূরা আল আলাক (৯৬) (রক্তপিণ্ড)-এর শেষ অংশ।

কোরআন অবতীর্ণ হবার ধারাবাহিকতা অনুসারে প্রকাশের আজ ১৮ তম পর্ব; এই পর্বে থাকছে মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছরের ১১ তম পাঁচ অংশঅনুবাদে ভাষা একাধিক বাংলা/ইংরেজি অনুবাদ অনুসারে নিজস্ব।}

নবী মুহাম্মদ দ্বারা ৭৬ তম প্রকাশ; সূরা আর রাহমান (৫৫) (পরম করুণাময়), ৮ থেকে ৭৮ আয়াত:

৮. যাতে তোমরা দাঁড়িপাল্লায় সীমালঙ্ঘন না কর।
৯. তোমরা ন্যায্য ওজন প্রতিষ্ঠিত কর এবং ওজনে কম দিয়ো না।
১০. আর যমীনকে বিছিয়ে দিয়েছেন সৃষ্টজীবের জন্য।
১১. এতে রয়েছে ফল-মূল এবং খেজুর বৃক্ষ, যার ফল আবরণযুক্ত
১২. আর আছে খোসাযুক্ত দানা ও সুগন্ধিযুক্ত ফুল।
১৩. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
১৪. মানুষকে তিনি সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির মত শুষ্ক মৃত্তিকা হতে
১৫. আর জিনকে সৃষ্টি করেছেন নির্ধূম অগ্নিশিখা হতে।
১৬. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
১৭. তিনি দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের মালিক।
১৮. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
১৯. তিনি পাশাপাশি দুই দরিয়া প্রবাহিত করেছেন।
২০. কিন্তু ওদের মধ্যে রয়েছে এক অন্তরাল যা ওরা অতিক্রম করতে পারে না।
২১. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
২২. উভয় দরিয়া হতে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল।
২৩. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
২৪. সমুদ্রে বিচরণশীল পর্বত সদৃশ নৌযানসমূহ তাঁরই নিয়ন্ত্রণাধীন।
২৫. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
২৬. ভূপৃষ্ঠে যা আছে সবই ধ্বংসশীল
২৭. কিন্তু চিরস্থায়ী তোমার প্রতিপালকের সত্তা, যিনি মহিমাময়, মহানুভব।
২৮. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
২৯. আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা আছে সবাই তাঁর নিকট প্রার্থী, প্রতিনিয়ত তিনি অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজে রত।
৩০. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৩১. হে মানুষ ও জিন! আমি শীঘ্রই তোমাদের প্রতি মনোনিবেশ করব।
৩২. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৩৩. হে জিন ও মানুষ সম্প্রদায়! আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সীমা তোমরা যদি অতিক্রম করতে পার, অতিক্রম কর; কিন্তু তোমরা তা পারবে না আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত।
৩৪. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৩৫. তোমাদের প্রতি প্রেরিত হবে অগ্নিশিখা ও ধুম্রপুঞ্জ, তখন তোমরা তা প্রতিরোধ করতে পারবে না।
৩৬. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৩৭. যখন আকাশ দীর্ণ-বিদীর্ণ হবে আর লাল চামড়ার মত রক্তবর্ণ ধারণ করবে
৩৮. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৩৯. সেদিন মানুষকে তার অপরাধ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হবে না, আর না জিনকে।
৪০. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৪১. অপরাধীদের পরিচয় পাওয়া যাবে তাদের চেহারা হতে; তাদেরকে পাকড়াও করা হবে পা ও মাথার ঝুঁটি ধরে।
৪২. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৪৩. এটাই সেই জাহান্নাম, যা অপরাধীরা অবিশ্বাস করত।
৪৪. তারা জাহান্নামের আগুন ও ফুটন্ত পানির মধ্যে ছোটাছুটি করবে।
৪৫. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৪৬. আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দুটি উদ্যান।
৪৭. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৪৮. উভয়ই বহু শাখা-পল্লব বিশিষ্ট বৃক্ষে পূর্ণ।
৪৯. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৫০. উভয় উদ্যানে রয়েছে প্রবাহমান দুই প্রস্রবণ;
৫১. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৫২. উভয় উদ্যানে রয়েছে প্রত্যক ফল, জোড়ায় জোড়ায়।
৫৩. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৫৪. সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসবে পুরু রেশমের আস্তর বিশিষ্ট ফরাশে, দুই উদ্যানের ফল হবে তাদের নিকটবর্তী।
৫৫. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৫৬. সেই সবের মাঝে রয়েছে বহু আনতনয়না, যাদেরকে পূর্বে কোন মানুষ অথবা জিন স্পর্শ করেনি।
৫৭. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৫৮. তারা যেন প্রবাল ও পদ্মরাগ;
৫৯. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৬০. উত্তম কাজের জন্য উত্তম পুরস্কার ব্যতীত আর কি হতে পারে?
৬১. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৬২. এই উদ্যানদ্বয় ব্যতীত আরও দু'টি উদ্যান রয়েছে
৬৩. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৬৪. ঘন সবুজ এ উদ্যানটি দু'টি।
৬৫. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৬৬. উভয় উদ্যানে রয়েছে উচ্ছলিত দুই প্রস্রবন।
৬৭. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৬৮. তাতে আছে ফলমূল, আর খেজুর আর ডালিম,
৬৯. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৭০. সেই সকলের মাঝে রয়েছে সুশীলা, সুন্দরীগণ।
৭১. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৭২. তারা তাবুতে সুরক্ষিত হুর।
৭৩. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৭৪. তাদেরকে ইতোপূর্বে কোনো মানুষ অথবা জিন স্পর্শ করেনি।
৭৫. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৭৬. তারা হেলান দিয়ে বসবে সবুজ তাকিয়ায় ও সুন্দর গালিচার ওপর।
৭৭. সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?
৭৮. কত মহান তোমার রবের নাম যিনি মহিমাময় ও মহানুভব!

নবী মুহাম্মদ দ্বারা ৭৭ তম প্রকাশ; সূরা মারইয়াম (১৯) (মারইয়াম, ঈসা নবীর মা), ৭৫ থেকে ৯৮ আয়াত:

৭৫. বল: যারা বিভ্রান্তিতে আছে, দয়াময় তাদেরকে প্রচুর অবকাশ দেবেন, যতক্ষণ না তারা যে বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে তা প্রত্যক্ষ করবে, তা শাস্তি হোক অথবা কিয়ামাতই হোক; অতঃপর তারা জানতে পারবে কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট এবং কে দলবলে দুর্বল।
৭৬. যারা সৎপথে চলে আল্লাহ তাদের পথপ্রাপ্তি বৃদ্ধি করেন এবং স্থায়ী সৎকর্মসমূহ তোমার পালনকর্তার কাছে সওয়াবের দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ এবং প্রতিদান হিসেবেও শ্রেষ্ট।
৭৭. তুমি কি লক্ষ্য করেছ তাকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে: আমাকে ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবেই। 
৭৮. সে কি অদৃশ্য সম্বন্ধে অবহিত হয়েছে অথবা দয়াময়ের নিকট হতে প্রতিশ্রুতি লাভ করেছে?
৭৯. না, এটা ঠিক নয়। সে যা বলে, আমি তা লিখে রাখব এবং তার শাস্তি দীর্ঘায়িত করতে থাকব।
৮০. সে যে বিষয়ের কথা বলে, তা থাকবে আমার অধিকারে এবং সে আমার নিকট আসবে একা।
৮১. তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য ইলাহ গ্রহণ করেছে, যাতে তারা তাদের জন্যে সাহায্যকারী হয়।
৮২. কখনই নয়; তারা তাদের ইবাদাত অস্বীকার করবে এবং তাদের বিরোধী হয়ে যাবে।
৮৩. তুমি কি লক্ষ্য কর না যে, আমি কাফিরদের জন্য শয়তানকে ছেড়ে রেখেছি তাদেরকে মন্দ কর্ম করতে প্ররোচিত করার জন্য।
৮৪. সুতরাং তাদের বিষয়ে তাড়া কর না; আমিতো গণনা করছি তাদের নির্ধারিত কাল।
৮৫. সেদিন দয়াময়ের কাছে পরহেযগারদেরকে অতিথিরূপে সমবেত করব,
৮৬. এবং অপরাধীদেরকে পিপাসার্ত অবস্থায় জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাব।
৮৭. যে দয়াময়ের নিকট প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে, সে ব্যতীত অন্য কারও সুপারিশ করার ক্ষমতা থাকবে না।
৮৮. তারা বলে: দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।
৮৯. তোমরা তো এক ভয়ংকর কথার অবতারণা করেছ।
৯০. এতে যেন আকাশসমূহ বিদীর্ণ হয়ে যাবে, পৃথিবী খণ্ড-বিখণ্ড হবে এবং পর্বতসমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে আপতিত হবে
৯১. যেহেতু তারা দয়াময়ের উপর সন্তান আরোপ করে।
৯২. অথচ সন্তান গ্রহণ করা দয়াময়ের জন্য শোভন নয়।
৯৩. আকাশসমূহ ও পৃথিবীতে এমন কেহ নেই যে দয়াময়ের নিকট উপস্থিত হবেনা বান্দা রূপে।
৯৪. তিনি তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং তিনি তাদেরকে বিশেষভাবে গণনা করেছেন।
৯৫. এবং কিয়ামাত দিবসে তাদের সকলেই তাঁর নিকট আসবে একাকী অবস্থায়।
৯৬. যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে দয়াময় তাদের জন্য সৃষ্টি করবেন ভালবাসা।
৯৭. আমি তো তোমার ভাষায় কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি যাতে তুমি ওর দ্বারা মুত্তাকীদেরকে সুসংবাদ দিতে পার এবং বিতণ্ডপ্রবণ সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পার।
৯৮. তাদের পূর্বে আমি কত মানব গোষ্ঠীকে বিনাশ করেছি! তুমি কি তাদের কেহকেও দেখতে পাও অথবা ক্ষীণতম শব্দও শুনতে পাও? 

নবী মুহাম্মদ দ্বারা ৭৮ তম প্রকাশ; সূরা আন-নাজম (৫৩) (তারা), ১ থেকে ২০ আয়াত:

১. শপথ নক্ষত্রের, যখন ওটা হয় অস্তমিত
২. তোমাদের সঙ্গী বিভ্রান্ত নয়, বিপথগামীও নয়,
৩. আর সে মনগড়া কথাও বলে না।
৪. এটা তো অহী, যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়।
৫. তাকে শিক্ষা দেয় শক্তিশালী
৬. প্রজ্ঞা সম্পন্ন; সে নিজ আকৃতিতে স্থির হয়েছিল,
৭. তখন সে ঊর্ধ্ব দিগন্তে।
৮. অতঃপর সে তার নিকটবর্তী হল, অতি নিকটবর্তী।
৯. ফলে তাদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রইল, অথবা তারও কম।
১০. তখন আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি যা অহী করার তা অহী করলেন।
১১. যা সে দেখেছে, তার অন্তকরণ তা অস্বীকার করেনি।
১২. সে যা দেখেছে, তোমরা কি সে বিষয়ে তার সঙ্গে বিতর্ক করবে?
১৩. নিশ্চয়ই সে তাকে আরেকবার দেখেছিল।
১৪. সিদরাতুল মুনতাহার নিকট,
১৫. যার নিকট অবস্থিত বাসোদ্যান।
১৬. যখন বৃক্ষটি, যদ্বারা আচ্ছাদিত হবার তদ্বারা ছিল আচ্ছাদিত,
১৭. তার দৃষ্টি বিভ্রম হয়নি, দৃষ্টি লক্ষ্যচ্যূতও হয়নি।
১৮. সে তো তার প্রতিপালকের মহান নিদর্শনাবলী দেখেছিল।
১৯. তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উযযা সম্বন্ধে?
২০. এবং তৃতীয় আরেকটি ‘মানাত’ সম্বন্ধে?
২১. তাহলে কি পুত্র-সন্তান তোমাদের জন্য এবং কন্যা-সন্তান আল্লাহর জন্য?
২২. এ ধরণের বন্টন তো অসঙ্গত।
২৩. এগুলির কতক নামমাত্র যা তোমাদের পূর্ব-পুরুষরা ও তোমরা রেখেছ, যার সমর্থনে আল্লাহ কোন দলিল প্রেরণ করেননি। তারা তো অনুমান এবং নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে, অথচ তাদের নিকট তাদের রবের পথনির্দেশ এসেছে।
২৪. মানুষ যা চায়, তাই কি সে পায়?
২৫. বস্তুতঃ ইহকাল ও পরকাল আল্লাহরই।

নবী মুহাম্মদ দ্বারা ৭৯ তম প্রকাশ; সূরা আল কাফিরুন (১০৯) (অবিশ্বাসী গোষ্ঠী), ১ থেকে ৬ আয়াত:

১. বল: হে কাফিরেরা!
২. আমি তার ইবাদাত করি না, যার ইবাদাত তোমরা কর,
৩. এবং তোমরাও তাঁর ইবাদাতকারী নও, যাঁর ইবাদাত আমি করি,
৪. এবং আমি ইবাদাতকারী নই তার, যার ইবাদাত তোমরা করে আসছ, 
৫. এবং তোমরা তাঁর ইবাদাতকারী নও, যাঁর ইবাদাত আমি করি।
৬. তোমাদের জন্য তোমাদের কর্মফল/ধর্মমত এবং আমার জন্য আমার কর্মফল/ধর্মমত।

নবী মুহাম্মদ দ্বারা ৮০ তম প্রকাশ; সূরা আল আলাক (৯৬) (রক্তপিণ্ড), ৬ থেকে ১৯ আয়াত:

৬. বস্তুতঃ মানুষতো সীমালংঘন করেই থাকে,
৭. এ কারণে যে, সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে। 
৮. তোমার রবের নিকট প্রত্যাবর্তন সুনিশ্চিত।
৯. তুমি কি তাকে দেখেছো, যে বাধা দেয়
১০. এক বান্দাকে যখন সে সালাত আদায় করে?
১১. তুমি লক্ষ্য করেছ কি যদি সে সৎ পথে থাকে?
১২. অথবা ধর্মভীরুতা অবলন্বনের নির্দেশ দেয় কি না?
১৩. তুমি লক্ষ্য করেছ কি, যদি সে মিথ্যা আরোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়?
১৪. সে কি জানে না যে, নিঃসন্দেহে আল্লাহ দেখেন?
১৫. কখনই নয়, যদি সে বিরত না হয়, তবে আমি মস্তকের সামনের কেশগুচ্ছ ধরে হেঁচড়াবই
১৬. মিথ্যাবাদী, পাপিষ্ঠের কেশগুচ্ছ।
১৭. অতএব, সে তার সভাসদদেরকে আহবান করুক।
১৮. আমিও আহবান করব জাহান্নামের প্রহরীদেরকে।
১৯. সাবধান! তুমি তার অনুসরণ কর না। সাজদাহ কর ও আমার নিকটবর্তী হও।

আয়াত প্রকাশের মনোজগত: পাঠক ভেবে দেখুন, মুহাম্মদের প্রথম প্রকাশের ৫ আয়াতের সাথে যুক্ত হয়েছে ৮০ নং প্রকাশের ১৪ আয়াত; আর এই ঘোড়ার মাথার সাথে হাতির ঠ্যাং যুক্ত করে রাখা হয়েছে কোরআনের ৯৬ তম সূরা হিসেবে! যাক সে কথা, মাঠে নেমেছেন মুহাম্মদের থেকে ৪-৫ বছর বয়সে বড় এবং দূর সম্পর্কের চাচা ‘উমার ইবনে হিশাম/আবু হাকাম’, যাকে আমরা সবাই আবু-জেহেল নামে চিনি; নবী হিসেবে মুহাম্মদের পরবর্তী জীবনের সফলতার জন্য বেশিরভাগ দায় এই আবু-জেহেলের।

গ্রামীণ প্রবাদে যেমন বলা হয়, “না থাকলে বাঁশ, না থাকবে বাঁশী” তেমনিভাবে বলা যেতেই পারে, “না থাকলে আবু-জেহেল, না থাকতো নবী মুহাম্মদ!”

(চলবে)