৩ নভেম্বর, ২০১৬

বিশ্বাসের দরজায় করাঘাত!: পর্ব ০৫ - (প্রথম প্রশ্নপত্র ফাঁস!)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


দশম শ্রেণীর প্রথম সাময়িক পরীক্ষার আগের ঘটনা, দশ বন্ধু ব্যাচ করে অংক শিক্ষকের বাসায় পড়তাম; স্যারের বাথরুমে যাবার সুযোগে তার ড্রয়ারের ফাইল থেকে অংক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চুরি করি আমি!

পরীক্ষায় যথারীতি দশজন ১০০-তে ১০০, তাও আবার সমন্তরালভাবে একই প্রশ্নের উত্তর লিখেছি সবাই! যা হয়, স্যারের সন্দেহ হলো, নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে! স্কুলে আলাদা ভাবে দশজনকে রিমান্ডে নেওয়া হলো, এবং আমার প্রশ্ন ফাঁসের কথা প্রকাশিত হয়ে গেলো!

অবস্থা এমনিতেই খারাপ, তারপরে আরও খারাপ হলো, রিমান্ডে যখন মুখ ফসকে বলে বসলাম, “প্রশ্ন ফাঁস করা ফরজ, আদম (আঃ) পাশ করেছেন ফাঁস করা প্রশ্নে; এবং আল্লাহ তা'আলা নিজে প্রশ্ন ফাঁস করেছেন!”

আগুন লেগে গেলো স্কুলে! হেডস্যারের রুমে বসলো আমার বিচারসভা, প্রশ্ন ফাঁসের জন্য শাস্তি তো আছেই, তদুপরি আমার উদ্ভট দাবি প্রমাণ করতে না পারলে স্কুল থেকে বহিষ্কার নিশ্চিত! হেডস্যার এক প্যাকেট বেতের লাঠি নিয়ে বসলেন, সাথে স্কুলের সকল শিক্ষক, বিশেষ করে ধর্মশিক্ষককে আনা হলো আমার দাবির বিষয়ে মতামত দিতে! মাঝখানে আমি অধম পড়িয়া রইলাম যাঁতাকলে!

হেডস্যারের নির্দেশে ধর্মশিক্ষক প্রশ্ন করলেন; ‘তোর দাবির সপক্ষে প্রমাণ কী?’

আমি বলিলাম, ‘আমি একটু ওজু করে আসতে চাই, আর আমাকে স্কুলের লাইব্রেরি থেকে একটা বাংলা অনুবাদসহ কোরআন শরীফ এনে দিন। আমি আরবি পড়তে পারি, কিন্তু মানেটা বাংলা দেখে দেখে বলতে হবে!’

তারপরের ঘটনা সংক্ষেপে নিম্নরূপ!

স্যার, আল্লাহ তা'আলা সিদ্ধান্ত নিলেন মানুষ তৈরি করবেন, কিন্তু ফেরেশতারা বিরূপ মতামত দিলেন! এ বিষয়ে বলা আছে, সূরা বাকারার ৩০ নং আয়াতে।
(সূরা বাকারা: ৩০) আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদিগকে বললেনঃ আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন ফেরেশতাগণ বলল, আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত আপনার গুণকীর্তন করছি এবং আপনার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না।
আল্লাহ তা'আলা আদমকে তৈরি করলেন, এবং ফেরেশতাদের সাথে পরীক্ষা নেবার আগেই সকল প্রশ্ন ও সেসবের উত্তর শিখিয়ে দিলেন, ফেরেশতারা পরীক্ষায় ডাঁহা ফেল করলেন; এ বিষয়ে বলা আছে, সূরা বাকারার ৩১/৩২ নং আয়াতে।
(সূরা বাকারা: ৩১) আর আল্লাহ তা'আলা শিখালেন আদমকে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীর নাম। তারপর সে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। অতঃপর বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক।
(সূরা বাকারা: ৩২) তারা বলল, ‘আপনি পবিত্র মহান। আপনি আমাদেরকে যা শিখিয়েছেন, তা ছাড়া আমাদের কোন জ্ঞান নেই। নিশ্চয় আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়’।
এরপর আল্লাহ তা'আলা আদমকে একই প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে বললেন; আদম আমাদের মতই ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে ১০০-তে ১০০ পেলেন; এ বিষয়ে বলা আছে, সূরা বাকারার ৩৩ নং আয়াতে।
(সূরা বাকারা: ৩৩) তিনি বললেন, হে আদম, ফেরেশতাদেরকে বলে দাও এসবের নাম। তারপর যখন তিনি বলে দিলেন সে সবের নাম, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আসমান ও যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল করেই অবগত রয়েছি? এবং সেসব বিষয়ও জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর!
স্যার, আল্লাহ তা'আলা যা করতে আদেশ করেন, তা যদি ফরজ হয়; তবে যে-কাজ আল্লাহ তা'আলা নিজে করেছেন, তা তো ফরজের চাইতে বড় কিছু হবার কথা; সে হিসাবে আল্লাহ তা'আলা প্রশ্ন ফাঁসের জনক, কারণ তিনি সবার আগে এটা করেছেন এবং আমাকে করতে উৎসাহিত করেছেন।

একই কাজ করার জন্য যদি আমার শাস্তি হয়, তবে আল্লাহ তা'আলাকে শাস্তি দেবে কে?

তারপরের ইতিহাস আর না-ই বলি, পুরো স্কুলের এমন হতভম্ব চেহারা আর কোনোদিন দেখিনি আমি; হেডস্যার কান ধরে রুম থেকে বের হয়ে যেতে বললেন। সাথে নির্দেশ ‍দিলেন দশজনকে নতুন করে পরীক্ষা নিতে।

আমার দেওয়া প্রমাণ অস্বীকার করতে পারলেন না কেউ, এবং আমার প্রশ্নের জবাবও দিলেন না কোনো ধর্মশিক্ষকই!

মুসলিম ভাইগণ, নিশ্চিন্তে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করুন এবং আল্লাহ তা'আলার করা কাজ করিয়া অসীম সওয়াবের ভাগী হউন!

(চলবে)