১৫ নভেম্বর, ২০১৬

খায়বার যুদ্ধ - ১৮: লুটের মাল - কারা ছিলেন হিস্যা বঞ্চিত? কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ১৪৭): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত একুশ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীরা উন্মুক্ত শক্তি প্রয়োগে খায়বারের নিরীহ জনপদবাসীর ওপর অতর্কিত নৃশংস আগ্রাসী আক্রমণের মাধ্যমে তাঁদেরকে খুন, জখম ও বন্দী করে তাঁদের সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি কী প্রক্রিয়ায় নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারার ব্যবস্থা করেছিলেন, তার বিস্তারিত আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

আদি উৎসের ইসলামে নিবেদিতপ্রাণ বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, খায়বারের ‘আল-নাটা ও আল-শিইখ’ অঞ্চলের সমস্ত লুণ্ঠিত সম্পদের চার-পঞ্চমাংশ মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে দেন, আর বাকি এক-পঞ্চমাংশ তিনি  নিজে হস্তগত করেন তাঁরই  উদ্ভাবিত এক বিশেষ ফর্মুলায়। কী সেই বিশেষ ফর্মুলা, তার আলোচনা "সন্ত্রাসী নবযাত্রা:নাখলা পূর্ববর্তী অভিযান (পর্ব: ২৮)" পর্বে করা হয়েছে। আর খায়বারের ‘আল-কাতিবা’ অঞ্চল থেকে যে সমস্ত সম্পদ তিনি লুণ্ঠন করেছিলেন, তার সমস্তই তিনি একাই হস্তগত করেন

আল-কাতিবার জনগণের সঞ্চিত সমস্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক লুণ্ঠন করার পর এই সম্পদগুলো মুহাম্মদ কীভাবে "আল্লাহর অংশ, নবীর অংশ, স্বজাতি ও অনাথ-দরিদ্র-মুসাফিরদের অংশ, নবীর পত্নীদের ভরণপোষণের অংশ এবং ‘ফাদাক’-এর লোকদের সাথে মধ্যস্থতাকারী-রূপে নিযুক্ত লোকদের রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ অংশ" নামের পাঁচটি ভাগে ভাগ করে ব্যয় করেছিলেন, তার আংশিক আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে। এ বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী পর্বগুলোতে করা হবে।

আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় আমরা আর যে বিষয়টি জানতে পারি, তা হলো, মুহাম্মদের সঙ্গে খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সব লোক এই লুটের মালের সমান 'হিস্যা' (Share) পাননি। এ বিষয়ে সবচেয়ে বিস্তারিত বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন আল-ওয়াকিদি।

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ) অব্যাহত বিস্তারিত বর্ণনা: [1] [2]
পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব-১৪৬) পর:

হিযাম বিন সা'দ বিন মুহায়েয়িসা হইতে > কুতায়ের আল-হারিথি হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইবনে আবি সাবরা আমাকে বলেছেন, যা তিনি বলেছেন:

আল্লাহর নবী মদিনা থেকে দশ জন ইহুদি সহকারে রওনা হন ও তিনি তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে খায়বার আক্রমণ করেন। তিনি মুসলমানদের মত তাদেরকে হিস্যা দেন। কেউ কেউ বলে: তিনি তাদেরকে যা দিয়েছিলেন, তা কোনো ভাগের হিস্যা ছিল না।। তাদের সঙ্গে ছিল ক্রীতদাসেরা, যাদের মধ্যে ছিল আবু লাহম (Abū Lam) এর কাছ থেকে মুক্তি প্রাপ্ত ('mawlā') দাস উমায়ের। উমায়ের বলেছেন: তিনি আমাকে কোনো হিস্যা দেননি, কিন্তু তিনি আমাকে আসবাবপত্র ও পণ্যসামগ্রী দিয়েছিলেন। আল্লাহর নবী তাদেরকে তা উপহার স্বরূপ দান করেছিলেন। আল্লাহর নবী মদিনা থেকে বিশ জন মহিলা সহকারে রওনা হন: উম্মে সালামা - তাঁর স্ত্রী; সাফিয়া বিনতে আবদুল মুত্তালেব [মুহাম্মদের ফুপু]; উম্মে আয়মান; সালমা (আবু রাফির স্ত্রী, যিনি ছিলেন আল্লাহর নবীর মুক্তি প্রাপ্ত দাস); আসিম বিন আদির সঙ্গের মহিলা, যিনি খায়বারে সাহলা বিনতে আসিম-কে প্রসব করেছিলেন; উম্মে উমারা; নুসায়েবা বিনতে কা'ব; ও উম্মে মা'নি - যিনি ছিলেন শুবাথ এর মা; কুয়ায়েবা বিনতে সা'দ আল-আসলামিয়া; উম্মে মুতা আল-আসলামিয়া; উম্মে সুলায়েম বিনতে মিলহান; উম্মে আল-দাহহাক বিনতে মাসুদ আল-হারিথা; হিন্দ বিনতে আমর বিন হিযাম; উম্মে আল-আলায়ি আল-আনসারিয়া; উম্মে আমির আল-আশহালিয়া; উম্মে আতিয়া আল-আনসারিয়া ও উম্মে সালিত।

উমাইয়া বিনতে কায়েস বিন আবি আল-সালত আল-গিফারিয়া > উম্মে আলী বিনতে আল-হাকাম > সুলায়েমান বিন সুহায়েম হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইবনে আবি সাবরা আমাকে বলেছেন, যা তিনি বলেছেন:

বানু গিফার গোত্রের এক মহিলার সঙ্গে আমি আল্লাহর নবীর কাছে গমন করি ও আমরা তাঁকে বলি, "হে আল্লাহর নবী, আপনি যেই দিকে যান, সেই দিকে আমরা আপনার সঙ্গে যাত্রা করার আশা প্রকাশ করেছি এবং আমরা যেভাবে পারবো সে ভাবেই আহত লোকজন ও মুসলমানদের সাহায্য করবো।" আল্লাহর নবী বলেন, "আল্লাহ তোমাদের মঙ্গল করুক!"

তিনি [উমাইয়া বিনতে কায়েস] যা বলেছেন: আমরা তাঁর সঙ্গে রওনা হই, তখন আমি ছিলাম অল্প বয়স্ক তরুণী; আল্লাহর নবী আমাকে তাঁর ঠিক পিছনেই তাঁর পশুর ওপর বসানো জিনে যে ব্যাগ আছে, তার ভেতরে আমাকে বসালেন। তিনি ভোরের দিকে উট থেকে নেমে আসেন ও তাকে শুইয়ে ফেলেন; অতঃপর যা হলো, ঐ জিনের ব্যাগে আমি আমার রক্ত দেখলাম। সেই সময়টিই ছিল সর্বপ্রথম, যখন আমার ঋতুস্রাব (মাসিক) হয়েছিল;  আমি উটটির ওপাশে গিয়ে তা ধরেছিলাম, কারণ আমি নিজেই নিজের ওপর ছিলাম লজ্জিত। যখন আল্লাহর নবী আমাকে দেখেন ও দেখেন সেই রক্তগুলো, তিনি বলেন, "সম্ভবত: তোমার কি মাসিক হয়েছে?" আমি বলি, "হ্যাঁ।" তিনি বলেন, "নিজেকে সামলে নাও। অতঃপর এক বদনা পানি নাও, ও তার মধ্যে কিছু লবণ মিশাও ও জিনের ব্যাগের রক্তগুলো পরিষ্কার করো; তারপর আমার কাছে ফিরে এসো।" আমি তাই করি।

যখন আল্লাহ খায়বার বিজয় ঘটান, আল্লাহর নবী লুটের মালগুলো থেকে আমাদেরকে পুরস্কার দেন, কিন্তু তিনি আমাদেরকে কোনো হিস্যা (apportion) প্রদান করেননি। তুমি আমার গলায় যেই হারটি দেখছ, তিনি তা নেন, আমাকে দান করেন ও তাঁর হাতে তিনি তা আমার গলায় পরিয়ে দেন; আল্লাহর কসম, আমি কখনোই তা খুলে রাখিনি। যখন তিনি মারা যান, তখন তা তাঁর গলাতেই ছিলো। তিনি যে 'উইল' করে যান, তা হলো এই যে, এটা সহকারেই যেন তাঁকে দাফন করা হয়। পরিষ্কার করার পানিতে লবণ মিশানো ছাড়া তিনি তা পরিষ্কার করেননি। তিনি তাঁর উইলে ইচ্ছা প্রকাশ করেন যে, তাঁকে দাফনের আগে গোসল করানোর জন্য যেন লবণগুলো ব্যবহার করা হয়।

আবদুল সালাম (Abd al-Sālam) বিন মুসা বিন জুবায়ের < তার পিতা হইতে < তার দাদা হইতে < আবদুল্লাহ বিন উনায়েস হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমাকে বলেছেন, যা তিনি বলেছেন:

আমি আল্লাহর নবীর সঙ্গে খায়বার অভিযানে গমন করি, আর আমার সঙ্গে ছিল আমার গর্ভবতী স্ত্রী। পথিমধ্যে তার প্রসব বেদনা শুরু হয় ও আমি তা আল্লাহর নবীকে অবহিত করি, তিনি বলেন: তার জন্য কিছু খেজুর পানিতে ভেজাও, যখন তা পুরোপুরি ভিজে যায়, তখন তা তাকে পান করাও।" আমি তাই করি ও তার প্রসব সহজ হয়।  যখন আমরা খায়বার বিজয় করি, তিনি মহিলাদের উপহার সামগ্রী প্রদান করেন। কিন্তু তিনি তাদেরকে কোন হিস্যা (apportion) প্রদান করেননি তিনি আমার স্ত্রী ও সদ্যপ্রসূত সন্তান উভয়কেই তা প্রদান করেন। আবদুল সালাম বলেছেন: সন্তানটি ছেলে নাকি মেয়ে ছিল, তা আমি জানি না। -----

উম্মে আলা আল-আনসারিয়া হইতে> উমর বিন আল-হাকাম হইতে> ইশাক বিন আবদুল্লাহ হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইবনে আবি সাবরা আমাকে বলেছেন, তিনি যা বলেছেন: আমি তিনটি জপমালা অর্জন করি, আর আমার সঙ্গের মহিলাটির অর্জনও একই রূপ। সেই সময় সোনার তৈরি কানের দুল নিয়ে আসা হয়। আল্লাহর নবী বলেন, "এগুলো হলো আমার ভাই সা'দ বিন যুরারার কন্যাদের জন্য।" তিনি সেই কানের দুলগুলো নিয়ে তাদের কাছে গমন করেন, আমি তাদেরকে সেই কানের দুলগুলো পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। খায়বার অভিযানে সেইগুলো ছিল তাঁর 'এক-পঞ্চমাংশ' অংশ থেকে।

থাবায়েতা বিনতে হানযালা আল-আসলামা এর মাতা উম্মে সিনান হইতে > থাবায়েতা বিনতে হানযালা আল-আসলামা হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আবদুল্লাহ বিন আবি ইয়াহিয়া আমাকে বলেছেন, তিনি যা বলেছেন:

যখন আল্লাহর নবী অভিযানে যাওয়া মনস্থ করেন, আমি তাঁর কাছে আসি ও তাঁকে বলি, "হে আল্লাহর নবী, আপনি যেদিকে যাবেন, আমি আপনার সঙ্গে সেই দিকে যাবো। আমি পানির পাত্রগুলো সাজিয়ে রাখবো, অসুস্থ ও আহত লোকদের সেবা করবো, আর যদি তারা আহত হয় - যা হবে না- আমি পশুর জিনগুলো (saddles) পাহারা দেবো।" আল্লাহর নবী বলেন, "তোমার ও তোমার সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত, যাত্রা করো। তোমার লোকেরা আমার সাথে কথা বলেছে, আমি তোমার লোকদের ও তাদের অবশিষ্ট লোকদের অনুমতি দিয়েছি। যদি তুমি চাও, তবে তুমি তোমার লোকদের সাথে যাও, আর যদি আমাদের সাথে যেতে চাও, তবে আমাদের সাথে চলো।" আমি বলি, "আপনার সঙ্গে!" তিনি বলেন, "তাহলে তুমি আমার স্ত্রী উম্মে সালামার সঙ্গে থাকো।"

সে বলেছে: আমি তাঁর [উম্মে সালামা] সঙ্গে থাকি। আল্লাহর নবী তাঁর বর্ম-আবরণ পরিহিত হয়ে প্রতিদিন সকালে আল-রাজী থেকে বের হয়ে গিয়ে আক্রমণ চালান [পর্ব-১৩১] । সন্ধ্যাবেলায় তিনি আমাদের কাছে ফিরে আসেন। এভাবে তিনি অবিরাম সাতদিন অতিবাহিত করেন যতক্ষণে না আল্লাহ তাঁর জন্য 'নাাটা' বিজয় সম্পন্ন করে। যখন তিনি তা বিজয় করেন, তিনি 'আল-শিইখ' এ স্থানান্তরিত হন, আর আমাদেরকে তিনি আল-মানযিলায় স্থানান্তর করেন। যখন তিনি খায়বার বিজয় করেন, তিনি লুটের মালের অংশ (fay’) থেকে আমাদেরকে উপহার প্রদান করেন। তিনি আমাকে দেন,

[] জপমালা ও রূপার তৈরি মালা, যা ছিল লুণ্ঠনের মাধ্যমে অর্জিত। তিনি আমাকে দিয়েছিলেন '
[২] ফাদাক' এর মখমল,
[] ইয়ামেন এর পোশাক-পরিচ্ছদ,
[৪] একটি মোটা জামা ও
[] একটি পিতলের পাত্র।

তাঁর অনুসারীদের মধ্যে যারা আহত হয়, আমি তাদের পরিচর্যা করি ঔষধের মাধ্যমে, যা আমার পরিবারের কাছ থেকে আনা; অতঃপর তারা আরোগ্য লাভ করে। আমি উম্মে সালামার সাথে প্রত্যাবর্তন করি; আর যখন আমরা ফিরে এসে মদিনায় প্রবেশ করি, আমি ছিলাম আল্লাহর নবীর উটগুলোর একটির পিঠের ওপরে, যা তিনি আমাকে দান করেছিলেন; তিনি [উম্মে সালামা] বলেছিলেন, "যে উটের ওপর তুমি সওয়ার হয়েছো, তা তোমার। আল্লাহর নবী তা তোমাকে দান করেছেন।" সে বলেছে: আমি আল্লাহর প্রশংসা আদায় করি ও উটটি সঙ্গে নিয়ে আগমন করি, অতঃপর আমি তাকে সাত দিরহাম মূল্যে বিক্রয় করি। সে বলেছে: আমার এই ভ্রমণে আল্লাহ আমাকে প্রসন্নতা প্রদান করেছিল।

তারা যা বলেছে: তিনি মহিলাদেরকে হিস্যা প্রদান করেছিলেন, আর তিনি হিস্যা প্রদান করেছিলেন সাহলা বিনতে আসিম এর জন্য, যে জন্ম গ্রহণ করেছিল খায়বারে। খায়বারে আবদুল্লাহ বিন উনায়েস-এরও এক সন্তানের জন্ম হয়। তিনি মহিলাদের ও ছেলে সন্তানদের হিস্যা প্রদান করেন। কিছু লোক বলেছে: তিনি মহিলা ও শিশুদের উপহার প্রদান করেছিলেন, কারণ তিনি তাদেরকে জিহাদের জন্য উপযুক্ত লোক হিসাবে বিবেচনা করেননি।

আল-হারিথ বিন আবদুল্লাহ বিন কাব হইতে > আবদুর রাহমান বিন আবদুল্লাহ বিন আবি সা'সা' হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াকুব বিন মুহাম্মদ আমাকে বলেছেন, তিনি যা বলেছেন:

আমি উম্মে উমারার গলায় কিছু লাল জপমালা দেখেছি, তাই আমি তাকে সেগুলো সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করি। সে যা বলেছিল, তা হলো, সাদ বিন মুয়াধ দুর্গের মাটির নিচে যে-জপমালাগুলো পুঁতে রাখা ছিল, মুসলমানরা তা হস্তগত করে। সেগুলো আল্লাহর নবীর কাছে নিয়ে আসা হয়, আর তিনি আদেশ করেন যে, সেগুলো যেন তাঁর সঙ্গের মহিলাদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়। সেগুলো গণনা করা হয়। আমরা ছিলাম বিশ জন মহিলা, তিনি ঐ জপমালাগুলো আমাদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। আর তিনি তাঁর লুটের মালের অংশ (fay) থেকে আমাদেরকে দেন উপহার, মখমল, ইয়ামেনের পোশাক পরিচ্ছদ ও দুইটি দিনার।

এভাবেই তিনি আমাকে ও আমার সঙ্গের মহিলাদের সেগুলো প্রদান করেন। আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম: পুরুষদের জন্য কয়টি অংশ ছিল? সে বলেছিল: আমার স্বামী ঘাযিয়া বিন আমর সাড়ে এগারো দিরহামের জিনিসপত্র বিক্রি করেছিলো ও সে আর কোনোকিছুর জন্য জিজ্ঞাসা করেনি। আমরা মনে করেছিলাম যে, এইগুলো ছিল অশ্বারোহীদের অংশ - সে ছিল অশ্বারোহী - আর সে আল-শিইখ' এর তিন অংশ ওসমানের শাসন আমলে 'ত্রিশ দিরহাম মূল্যে বিক্রয় করেছিলো।'----.’

- অনুবাদ, টাইটেল, [**] ও নম্বর যোগ - লেখক।

>>> আদি উৎসে মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও আল-ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, খায়বার যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকলকেই মুহাম্মদ তাঁর খায়বারের জনগণের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া লুণ্ঠিত সম্পদের মাধ্যমে পুরস্কৃত করলেও সকলেই সমান ভাবে লুটের মালের হিস্যা পাননি। অংশগ্রহণকারী মহিলা ও দাসেরা (ও সম্ভবতঃ ইহুদিরা) সমস্ত লুণ্ঠিত সামগ্রীর চার-পঞ্চমাংশের (কুরান: ৮:৪১) সমান হিস্যা পাননি।

ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল-ওয়াকিদির মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি। ইবনে ইশাকের মূল ইংরেজি অনুবাদ ইন্টারনেটে বিনামূল্যে ডাউনলোড লিঙ্ক: তথ্যসূত্র [2]

The detailed narrative of Al-Waqidi (continued): [1]

‘Ibn Abī Sabra related to me from Quayr al-Ḥārithī from izām b. Sad b. Muayyisa, who said: The Messenger of God set out with ten Jews from Medina, and he attacked Khaybar with them. He apportioned to them as he apportioned to the Muslims. Some said: He gave them but he did not apportion to them. There were slaves with them, including Umayr, the mawlā of Abū Lam. Umayr said: He did not apportion to me but he gave me furniture and goods. The Messenger of God had gifted it to them.

The Messenger of God set out from Medina with twenty women: Umm Salama his wife, afiyya bt. Abd al-Muṭṭalib, Umm Ayman, Salmā (the wife of Abū Rāfi, a mawlāof the Prophet), the woman of ‛Āsim b. Adī who delivered Sahla bt. ‛Āṣim in Khaybar, Umm Umāra, Nusayba bt. Kab, and Umm Manī‛, who was the mother of Shubāth, Kuayba bt. Sad al-Aslamiyya, Umm Mutā‛ al-Aslamiyya, Umm Sulaym bt. Milḥān, Umm al-Daḥḥāk bt. Mas‛ūd al-Ḥāritha, Hind bt. Amr b. izām, Umm al-Alāi al-Anṣāriyya, Umm Āmir al-Ashhaliyya, Umm ‛Āṭiyya al-Anṣāriyya, and Umm Salīṭ.

Ibn Abī Sabra related to me from Sulaymān b. Suaym from Umm Alī bt. al-akam, from Umayya bt. Qays b. Abī l-alt al-Ghifāriyya, who said: I went to the Messenger of God with women from the Banū Ghifār, and we said, “We desire, O Messenger of God, to set out with you in this direction of yours, and we will treat the wounded and help the Muslims in whatever way we can.” The Messenger of God said, “May God bless you!”
She said: We set out with him and I was a girl young in years, and the Messenger of God seated me right behind him on the saddle bag of his saddle. He alighted at dawn and made his camel lie down, and lo and behold I saw the blood from me on the saddlebag. It was the first time that I menstruated, and I grabbed at the camel for I was ashamed of myself. When the Messenger of God saw me and saw the blood he said, “Perhaps you are menstruating?” I said, “Yes.” He said: “Restore yourself. Then take a vessel of water, throw some salt in it and wash the blood on the saddlebag, and then return to me.” I did so.

When God conquered Khaybar, the Prophet gave us gifts from the booty but he did not apportion to us. He took this necklace that you see around my neck and gave it to me, and he hung it with his hand around my neck, and by God I have not removed it ever. It was around her neck when she died. She “willed” that she be buried with it. She did not cleanse except she placed salt in the cleansing water. She willed that salt be used in washing her, when she was washed for her burial.

Abd al-Salām b. Mūsā b. Jubayr related to me from his father, from his grand father, from Abdullah b. Unays, who said: I set out with the Prophet to Khaybar, and with me was my pregnant wife. She was in labour on the road and I informed the Messenger of God and he said, “Soak some dates for her, and when they are well soaked then let her drink it.” I did, and her labor was made easy. When we conquered Khaybar he gave the women gifts but he did not apportion to them. He gave both my wife, and my child who was just born. Abd al-Sālam said: I do not know if it was a boy or girl. -----------

Ibn Abī Sabra related to me from Isḥāq b. Abdullah from Umar b. al-akam from Umm Alā al-Anṣāriyya, who said: I acquired three beads, and my female companions acquired the same. Earrings of gold were brought at that time. The Messenger of God said, “These are for the daughters of my brother Sad b. Zurāra.” He brought the earrings to them, and I have seen them wearing the earrings. That was from his fifth, on the day of Khaybar.

Abdullah b. Abī Yahyā related to me from Thubayta bt. anala al-Aslamā from her mother Umm Sinān, who said: When the Messenger of God desired to set out I came to him and said, “O Messenger of God, I will set out with you in this direction of yours. I will string the waterbags, care for the sick and wounded, and if they are wounded—it will not be—I will watch the saddles.” The Messenger of God said, “Set out with God’s blessings on you and your companions. Your people have spoken to me, and I have permitted to those among your people and the rest of them. If you wish, go with your people and if you wish, with us.” I said, “With you!” He said, “Then stay with Umm Salama, my wife.” She said: And I was with her.

The Messenger of God raided from al-Rajī‛ every morning wearing his armor. In the evening, he returned to us. He continued thus for seven days until God conquered Naṭā for him. When he conquered, it he moved to al-Shiqq, and he moved us to al-Manzila. When he conquered Khaybar he gave us gifts from the booty (fay’). He gave me beads and jewelry of silver that was acquired in the plunder. He gave me velvet from Fadak, cloth from Yemen, a thick garment, and a pot of brass. Men from his companions were wounded and I tended to them with medicines that came from my family and they recovered. I returned with Umm Salama and when we returned and entered Medina, and I was on one of the camels of the Prophet that he had given me, she said, “The camel, on which you ride, is for you. The Prophet gives it to you.” She said: I praised God, and I arrived with the camel and sold it for seven dinars. She said: God granted me happiness in this journey of mine.

They said: He apportioned to the women, and he apportioned for Sahla bt. Aim, who was born in Khaybar. A child was born as well to Abdullah b. Unays, in Khaybar. He apportioned to the women and boys. Some said: He gifted to the women and children for he did not regard them as people of jihād.

Yaqūb b. Muammad related to me from Abd al-Ramān b. Abdullah b. Abī a‛ṣaa from al-Ḥārith b. Abdullah b. Kab, who said: I saw red beads on the neck of Umm Umāra, so I asked her about them. She said that the Muslims acquired beads that had been buried in the grounds of ab b. Mu‛ādh’s fortress. They were brought to the Messenger of God and he commanded that they be shared among the women who were with him. They were counted. We were twenty women and he apportioned those beads among us. And he gifted for us from the fay’, velvet, Yemenī cloth, and two dinars.

Thus did he give me and my female companions. I said: How many portions were for the men? She said: My husband Ghaziyya b. Amr sold goods worth eleven and a half dinars and he did not ask for anything. We thought that these were portions of the riders—he was a rider—And he sold three portions in al-Shiqq, during the time of Uthmān, for thirty dinars.’

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ), ed. Marsden Jones, লন্ডন ১৯৬৬; ভলুম ২, পৃষ্ঠা ৬৮৪-৬৮৮; ইংরেজি অনুবাদ: Rizwi Faizer, Amal Ismail and Abdul Kader Tayob; ISBN: 978-0-415-86485-5 (pbk); পৃষ্ঠা ৩৩৭-৩৩৮

[2] অনুরূপ বর্ণনা: “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ: A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৫১৮