৯ অক্টোবর, ২০১৬

নিমো হুজুরের খুতবা - ৩

লিখেছেন নীল নিমো

৭.
এই মুহুর্তে আমি একটু পেরেশানির মধ্যে আছি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। পেরেশানির ঘটনাটা খুলে বলছি। আজকে একটি মজলিসে বয়ান দিচ্ছিলাম ঠিক এইভাবে:
"... ঈমানদ্বার ভাইয়েরা আমার, আমরা লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে হজ্জ করি। সময় নষ্ট করে নামাজ পড়ি। হাজার হাজার টাকা খরচ করে কোরবানি দেই। কিন্তু কেন? আসলে আমরা নিজেদের স্বার্থের জন্যই হজ্জ, নামাজ এবং কোরবানি করি। এখানে আল্লাহর কোনো স্বার্থ নাই। হজ্জ, নামাজ, কোরবানির মাধ্যমে আমরা আল্লাহকে খুশি করে জান্নাতুল ফেরদৌসে যেতে পারব। জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার আশায় আমরা নিজ স্বার্থে নামাজ, হজ্জ, যাকাত, কোরবানি দিই। এখানে আল্লাহর কোনো স্বার্থ নাই।..."

মজলিস শেষে বাসায় ফিরছিলাম। গলির ভেতর এক মুসলমান ভাই আমাকে ছুরি দেখিয়ে বলল:
"নিমো হুজুর, যা কিছু আছে সব কিছু বের করে দেন। না দিলে পেটের ভিতরে ছুরি হান্দায়া দিবো।" 
এই বলে মুসলিম ভাইটি আমার মানিব্যাগ, জামা-কাপড় সবখুলে নিয়ে নিল। যাবার সময় মুসলিম ভাইটি বলে গেল:
"হুজুর, আপনি আপনার মানিব্যাগ, জামা-কাপড় সব দিয়ে দিলেন নিজের স্বর্থে। এখানে আমার কোনো স্বার্থ নাই। আপনি নিজের প্রাণ বাচানোর জন্যই সবকিছু স্বেচ্ছায় দিয়ে দিলেন। ছুরির আঘাত থেকে বাঁচার আশায় আপনি নগ্ন হয়ে গেলেন। হা হা হা হা..."

আমি এখন রাস্তায় ঠাণ্ডার ভিতরে নিজ স্বার্থে নগ্ন হয়ে দাড়িয়ে আছি। এখানে ছিনতাইকারির কোনো স্বার্থ নাই। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

৮.
আতর-সুগন্ধি পাঞ্জাবিতে লাগিয়ে ঈদের নামাজ পড়তে ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ কোথা থেকে এক কাউয়া উড়াল দিয়ে এসে আমার পাঞ্জাবিতে মলত্যাগ করে চলে গেল। আমি পরিষ্কার বুঝতে পারলাম, ইহা ভারত কিংবা ইসরায়েলের ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই নহে। কাকটি "মোসাদ" কিংবা "র" এর গুপ্তচর ছিল।

হে আল্লাহ, তুমি মুসলিম উম্মাকে ভারত এবং ইসরায়েলের ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা কর।

৯.
গত বছর বাংলাদেশের একটি মাদ্রাসাতে ভিজিটে গিয়েছিলাম। সেখানে উপস্থিত ছাত্রদেরকে বলেছিলাম:
"একজন পুরুষমানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ সম্পদ হচ্ছে আখলাক বা চরিত্র। ইসলামে আখলাকের গুরুত্ব অপরিসীম। লম্পট এবং সন্ত্রাসীদেরকে চরিত্রহীন বলা হয়ে থাকে। আমাদের বাংলাদেশী সমাজে যেসব পুরুষ মানুষ একাধিক নারীর প্রতি আসক্ত থাকে, তাদেরকে বহুগামী চরিত্রহীন লম্পট বলা হয়। এইসব পুরুষমানুষ ইনিয়ে-বিনিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে একাধিক বিবাহ করে। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সঃ) এর জীবনি পড়িলে জিনিষটা সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

আমাদের বাংলাদেশী সমাজে যেসব পুরুষমানুষ আতংক সৃষ্টি করে অন্য পুরুষদের হত্যা করে তাদেরকে সন্ত্রাসী বলে। এরা অন্য পুরুষমানুষের মতামতকে গ্রাহ্য না করে নিজের ধর্ম বা মত অনুসারে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়। এটা যদি আপনি মেনে না নেন, তাহলে আপনাকে ধর্মের শত্রু আখ্যা দিয়ে হত্যা করা হবে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরীহ সাধারণ মানুষ আতংকিত হয়ে সন্ত্রাসীদেরকে মেনে নেয় এবং এতে করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সঃ) এর জীবনীর মক্কা বিজয়ের অংশটুকু পড়লে জিনিষটা সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।"

আমার বক্তব্য শোনার পর মাদ্রাসার ছাত্ররা বলল:
"আমাদের আদর্শ পুরুষ হল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মোহাম্মদ (সঃ)।"

এরপর আমি বললাম:
"মনে রাখবেন, সন্ত্রাসী দুই প্রকার। কাপুরুষ সন্ত্রাসী এবং সাহসী সন্ত্রাসী। কাপুরুষ সন্ত্রাসীরা গালিগালাজের মাধ্যমে এবং সাহসী সন্ত্রাসীরা চাপাতির মাধ্যমে জিহাদ করে থাকে।"

মাদ্রাসার ছাত্ররা বলল:
"আস্তাগফিরুল্লাহ।"