১৩ অক্টোবর, ২০১৬

কোরআন যেভাবে অবতীর্ণ: মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছর (পর্ব ১৫)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


{মুহাম্মদ-পূর্ব আরবে, বেদুঈন নারীরা সবচেয়ে বেশি নারী-স্বাধীনতা ভোগ করতেন; যৌন-দৃষ্টিভঙ্গিতে বেদুঈন নারীরা বর্তমানের আধুনিক নারী-দৃষ্টিভঙ্গির সমপর্যায়ে ছিলেন! তবে মক্কা, তায়েফ, মদিনা আর ঈহুদি নারীদের গল্প ছিলো অনেকটাই বিপরীত! আজকের পর্বে আমরা মরুভূমির (হিজাজ অঞ্চলের বাইরের) বেদুঈন নারী নিয়ে আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখবো।

মরুভুমি এতটাই রুক্ষ আর কঠিন জীবনের পরীক্ষা নেয় মানুষের, যেখানে বেঁচে থাকাটাই প্রথম কঠিন শর্ত, সেখানে যৌনতা শুধুমাত্র শরীরের সুখের বিষয় হিসাবে গণ্য হয় না; তা বাণিজ্যের উপকরণও হয়ে দাঁড়ায়! এমন সমাজের কথা বলছি, যেখানে পানির জন্য গোত্রে-গোত্রে লড়াই হওয়া স্বাভাবিক, যাদের নিজস্ব কোনো সরকার ও মুদ্রা নেই, যেখানে আগামীকালের খাবারের নিশ্চয়তা থাকে না; সেই মরুভূমির বেদুঈন গোত্রের নারী-পুরুষেরা যৌনতা নিয়ে রক্ষণশীল হয় কীভাবে?

আরবের বেদুঈন নারীরা ছিলেন স্বাধীনচেতা, তারা ইসলাম-পরবর্তী সময়ের শরীরের সংস্কার নিয়ে ভুগতেন না; বেঁচে থাকার প্রয়োজনে, একটু খাদ্য, একটা চাদর অথবা বিক্রিযোগ্য তথ্যের বিনিময়ে স্ব-ইচ্ছায় যৌনসঙ্গী নির্বাচন করতেন তারা! প্রভাবশালী মানুষের বিছানাসঙ্গী হতেও দ্বিধা কাজ করতো না মোটেই।

বেদুঈন নারীদের আত্মসম্মানবোধ ছিল প্রবল, ইচ্ছার বিরুদ্ধে শরীর দেওয়ার বদলে, দাসী জীবন বেছে নিতে বেশি পছন্দ করতেন তাঁরা! তাঁবুর প্রবেশ দিক বদল/বন্ধ করে, অথবা স্বামী-সঙ্গ ত্যাগ করে, তারা বিবাহবিচ্ছেদ করতে পারতেন; সন্তান পালনের ক্ষেত্রে পুরুষের উপার্জনের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতেন না! বেদুঈন নারীরা সন্তান পালনে এতটাই দক্ষ ছিলেন যে, নিজ সন্তানের বাইরেও দুধ-মাতা হিসেবে সন্তান পালন করতেন। বর্তমানের বাংলাদেশী মুসলিম নারীরা ১৪০০ বছর আগের ইসলাম-পূর্ব বেদুঈন নারীদের থেকেও অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছেন!

কিন্তু মক্কার নারীদের গল্পটা অন্যরকম!

সচেতন পাঠক এ প্রশ্ন করতেই পারেন: জীবন্ত কন্যাশিশু কবর দেবার গল্পের উদ্ভব কোথা থেকে হয়েছে? এ উত্তর খোঁজার জন্য আমরা (পর্ব ০৬) এ সংযুক্ত ছবিটি পুনরায় দেখে আসবো, যেখানে জীবন্ত কন্যাশিশু কবর দেবার গল্পের সন্ধান পাওয়া যাবে!

পূর্ণাকারে দেখতে ছবির ওপরে ক্লিক করতে হবে

(পর্ব ০৬) এর সংযুক্ত ছবির বৃত্তাকার দাগ দেওয়া ১ নং অংশটুকু একটি পরিত্যক্ত কবরস্থান। বলা হয়, এখানে ইসলাম-পূর্ব আরবে কন্যাশিশুদের জীবন্ত কবর দেওয়া হতো! ৬১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এটিকে পরিত্যক্ত আইয়্যমে জাহিলিয়াতের কবরস্থান হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতো; বর্তমানে এখানে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে! যদি কবরস্থানটির এই পরিচয় সত্যি হয়, এবং গত পর্বে উল্লেখ করা মুহাম্মদের শিক্ষাগুরুর কথা সত্যি হয়; তবে এ গল্পের ভিত্তি নিশ্চয়ই কিছুটা সত্য! কিন্তু তা কোন প্রেক্ষিতে সত্য, তাই খুঁজবো আমরা!

তার আগে উত্তর দিন, এই ২০১৬ সালে এসেও:

ক. বাংলাদেশের কোন শহরে সবচেয়ে বেশি গর্ভপাত ঘটানো হয়? ঢাকায় তো!

খ. যদি জন্মনিয়ন্ত্রনের সুযোগ না থাকতো, তবে কি সদ্যজাত সন্তান হত্যার পরিমান বাড়ত মনে হয়? হ্যাঁ তো!

গ. সন্তান পালনে অক্ষম দরিদ্র পিতা-মাতার সদ্যজাত সন্তানকে বিক্রির খবর শুনেছেন কখনও? শুনেছেন তো!

ঘ. সদ্যজাত সন্তানকে ড্রেনে/রাস্তায়/ডাস্টবিনে ফেলে দিতে শুনেছেন কখনও? শুনেছেন তো!

ঙ. কোনো দেহজীবী মহিলা গর্ভের পরিচয়হীন কন্যাকে যদি নিজের জায়গায় কল্পনা না করতে চান; তবে তিনি কী করবেন এই ২০১৬ সালে? হত্যা, বিক্রি অথবা দান তো!

যদি আপনি সত্যি সচেতন হন; তবে জীবন্ত কন্যাশিশু কবর দেবার উত্তর পেয়ে গেছেন; আর যদি তা না পেয়ে থাকেন, তবে অপেক্ষায় থাকুন; কারণ এ প্রশ্নের উত্তর না পেলে মক্কার নারীদের বোঝা যাবে না মোটেই। আগামী পর্বে আমরা তো মক্কাতেই যেতে চাইছি!

কোরআন অবতীর্ণ হবার ধারাবাহিকতা অনুসারে প্রকাশের আজ ১৫ তম পর্ব; এই পর্বে থাকছে মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছরের ৮ম চার অংশঅনুবাদের ভাষা একাধিক বাংলা/ইংরেজি অনুবাদ অনুসারে নিজস্ব।}

নবী মুহাম্মদ দ্বারা ৬৩ তম প্রকাশ; সূরা আল ক্বলম (৬৮) (কলম), ৩৪-৪৭ এবং ৫১-৫২ আয়াত:

৩৪. মুত্তাকীদের জন্য অবশ্যই রয়েছে ভোগ বিলাসপূর্ণ জান্নাত, তাদের রবের নিকট।
৩৫. আমি কি আত্মসমর্পণকারীদেরকে অপরাধীদের মত গণ্য করব?
৩৬. তোমাদের কী হল? তোমরা কেমন সিদ্ধান্ত দিচ্ছো?
৩৭. তোমাদের নিকট কি কোনো কিতাব আছে, যা তোমরা অধ্যয়ন কর
৩৮. তাতে তোমরা যা পছন্দ কর, তাই পাও?
৩৯. অথবা তোমাদের জন্য আমার উপর কি ক্বিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ কোনো দায়বদ্ধতা আছে যে, তোমরা যা দাবি করবে তাই পাবে?
৪০. তুমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, কে এ ব্যাপারে তাদের বিষয়ে দায়িত্বশীল?
৪১. তাদের কি কোনো শরীক আছে? থাকলে তারা তাদের শরীকদের উপস্থিত করুক, যদি তারা সত্যবাদী হয়।
৪২. স্মরণ কর, গোছা পর্যন্ত পা খোলার দিনের (ক্বিয়ামতের) কথা, সেদিন তাদেরকে আহবান করা হবে সাজদাহ করার জন্য, কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হবে না।
৪৩. তাদের দৃষ্টি অবনত, হীনতা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে, অথচ যখন তারা নিরাপদ ছিল তখনতো তাদেরকে আহবান করা হয়েছিল সাজদাহ করতে।
৪৪. অতএব ছেড়ে দাও আমাকে এবং যারা এ বাণী প্রত্যাখ্যান করে তাদেরকে। আমি তাদেরকে ধীরে ধীরে এমনভাবে পাকড়াও করব যে, তারা জানতে পারবে না।
৪৫. আর আমি তাদেরকে সময় দিয়ে থাকি, আমার কৌশল অত্যন্ত বলিষ্ঠ।
৪৬. তুমি কি তাদের কাছে পারিশ্রমিক চাচ্ছ? ফলে তারা ঋণের কারণে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ছে।
৪৭. না তাদের কাছে গায়বের খবর আছে? অতঃপর তারা তা লিপিবদ্ধ করে।
৫১. কাফিরেরা যখন কুরআন শ্রবণ করে, তখন তারা যেন উহাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দ্বারা তোমাকে আছড়ে ফেলে দেবে এবং বলবে ‘‘এ তো এক পাগল”।
৫২. অথচ এই কোরআন তো বিশ্বজগতের জন্যে উপদেশ বৈ নয়।

নবী মুহাম্মদ দ্বারা ৬৪ তম প্রকাশ; সূরা আদ-দোখান (৪৪) (ধোঁয়া), ১ থেকে ৪২ আয়াত:

১. হা মীম।
২. শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের।
৩. নিশ্চয় আমি এটি নাযিল করেছি বরকতময় রাতে; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী।
৪. এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়
৫. আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে, আমিই প্রেরণকারী।
৬. তোমার রবের অনুগ্রহ স্বরূপ, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ
৭. যিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং ওগুলির মধ্যস্থিত সব কিছুর পালনকর্তা - যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও।
৮. তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু দেন। তিনি তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃ-পুরুষদেরও পালনকর্তা।
৯. তারা বরং সন্দেহের বশবর্তী হয়ে খেলতামাশা করছে।
১০. অতএব তুমি অপেক্ষা কর সেই দিনের, যেদিন স্পষ্ট ধুম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ।
১১. যা মানুষকে ঘিরে ফেলবে। এটা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
১২. হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের ওপর থেকে শাস্তি প্রত্যাহার করুন, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করছি।
১৩. তারা কি করে উপদেশ গ্রহণ করবে? তাদের নিকট তো এসেছে স্পষ্ট ব্যাখ্যাকারী এক রাসূল;
১৪. অতঃপর তারা তাকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে এবং বলে, সে তো উম্মাদ-শেখানো কথা বলে।
১৫. আমি তোমাদের শাস্তি কিছু কালের জন্য রহিত করছি, তোমরা তো তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে।
১৬. যেদিন আমি প্রবলভাবে পাকড়াও করব, সেদিন পুরোপুরি প্রতিশোধ গ্রহণ করবই।
১৭. তাদের পূর্বে আমি ফেরাউন জাতিকে পরীক্ষা করেছিলাম। তাদের কাছে এসেছিল এক সম্মানিত রসূল।
১৮. এই মর্মে যে, আল্লাহর বান্দাদেরকে আমার কাছে অর্পণ কর। আমি তোমাদের জন্য প্রেরিত বিশ্বস্ত রসূল।
১৯. এবং তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে উদ্ধত হয়ো না, আমি তোমাদের নিকট উপস্থিত করছি স্পষ্ট প্রমাণ।
২০. তোমরা যাতে আমাকে প্রস্তরবর্ষণে হত্যা না কর, তজ্জন্যে আমি আমার পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তার শরণাপন্ন হয়েছি।
২১. যদি তোমরা আমার কথায় বিশ্বাস স্থাপন না কর, তাহলে তোমরা আমার কাছ থেকে দূরে থাক।
২২. অতঃপর সে তার পালনকর্তার কাছে দোয়া করল যে, এরা অপরাধী সম্প্রদায়।
২৩. তুমি আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাতে বের হয়ে পড়, তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।
২৪. সমুদ্রকে স্থির থাকতে দাও, তারা এমন এক বাহিনী যারা নিমজ্জিত হবে।
২৫. তারা পেছনে ফেলে এসেছে কত যে বাগান ও ঝর্ণা,
২৬. কত শস্য ক্ষেত ও সুরম্য প্রাসাদ,
২৭. আর ভোগসামগ্রী যাতে তারা অবস্থান করত।
২৮. এমনিই হয়েছিল এবং আমি ওগুলোর মালিক করেছিলাম ভিন্ন সম্প্রদায়কে।
২৯. আকাশ এবং পৃথিবীর কেউই তাদের জন্য অশ্রুপাত করেনি এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হয়নি।
৩০. আমি উদ্ধার করেছিলাম বানী ইসরাঈলকে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি হতে
৩১. ফির'আউনের থেকে। নিঃসন্দেহ সে ছিল মহাউদ্ধত, সীমালংঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
৩২. আমি জেনেশুনে তাদেরকে বিশ্ববাসীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম।
৩৩. এবং তাদেরকে দিয়েছিলাম নির্দেশনাবলী, যাতে ছিল সুস্পষ্ট পরীক্ষা।
৩৪. তারা বলেই থাকে
৩৫. আমাদের প্রথম মৃত্যু ব্যতীত আর কিছুই নেই এবং আমরা আর পুনরুত্থিত হব না।
৩৬. তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে নিয়ে এস।
৩৭. শ্রেষ্ঠ কি তারা না তুব্বা সম্প্রদায় ও তাদের পূর্ববর্তীরা? আমি তাদেরকে ধ্বংস করেছিলাম, অবশ্যই তারা ছিল অপরাধী।
৩৮. আমি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মধ্যস্থিত কোনো কিছুই ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।
৩৯. আমি এ দু'টি অযথা সৃষ্টি করিনি, কিন্তু তাদের অধিকাংশই এটা জানে না।
৪০. নিশ্চয় ফয়সালার দিন তাদের সবারই নির্ধারিত সময়।
৪১. যেদিন এক বন্ধু অপর বন্ধুর কোনো কাজে আসবে না এবং তারা সাহায্যও পাবে না।
৪২. তবে আল্লাহ যার প্রতি দয়া করেন, তার কথা ভিন্ন। নিশ্চয় তিনি পরাক্রমশালী দয়াময়।

নবী মুহাম্মদ দ্বারা ৬৫ তম প্রকাশ; সূরা আল মাআরিজ (৭০) (উন্নয়নের সোপান), ১-৪ এবং ৩৬-৪৪ আয়াত

১. এক ব্যক্তি চাইল সংঘটিত হোক শাস্তি যা অবধারিত
২. কাফেরদের জন্যে, যার প্রতিরোধকারী কেউ নেই।
৩. ইহা আসবে আল্লাহর নিকট হতে যিনি সমুচ্চ মর্যাদার অধিকারী।
৪. ফেরেশতাগণ এবং রূহ আল্লাহ তা'আলার দিকে ঊর্ধ্বগামী হয় এমন একদিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর।
৩৬. কাফিরদের হল কী যে, ওরা তোমার দিকে ছুটে আসছে
৩৭. ডান ও বামদিক থেকে দলে দলে।
৩৮. তাদের প্রত্যেকে কি এই প্রত্যাশা করে যে, তাকে দাখিল করা হবে প্রাচুর্যময় জান্নাতে?
৩৯. না তা হবে না, আমি তাদেরকে যা হতে সৃষ্টি করেছি তা তারা জানে।
৪০. আমি শপথ করছি উদয়াচল ও অস্তাচলসমূহের পালনকর্তার, নিশ্চয়ই আমি সক্ষম!
৪১. তাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর মানবগোষ্ঠী তাদের স্থলবর্তী করতে; এবং আমি অক্ষম নই।
৪২. অতএব, আপনি তাদেরকে ছেড়ে দিন, তারা বাকবিতণ্ডা ও ক্রীড়া-কৌতুক করুক সেই দিবসের সম্মুখীন হওয়া পর্যন্ত, যে দিবসের ওয়াদা তাদের সাথে করা হচ্ছে।
৪৩. সেদিন তারা কাবর হতে বের হবে দ্রুত বেগে। মনে হবে তারা কোন একটি লক্ষ্যস্থলের দিকে ধাবিত হচ্ছে
৪৪. তাদের দৃষ্টি থাকবে অবনমিত; তারা হবে হীনতাগ্রস্ত। এটাই সেইদিন, যার ওয়াদা তাদেরকে দেয়া হত।

নবী মুহাম্মদ দ্বারা ৬৬ তম প্রকাশ; সূরা আত্ব তূর (৫২) (পাহাড়) ৯-২৮ আয়াত:

৯. সেদিন আকাশ প্রকম্পিত হবে প্রবলভাবে।
১০. এবং পর্বত চলবে দ্রুত।
১১. সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে,
১২. যারা ক্রীড়াচ্ছলে অসার কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে।
১৩. সেইদিন তাদের ধাক্কা দিয়ে নেওয়া হবে জাহান্নামের আগুনের দিকে ধাক্কা দিতে দিতে।
১৪. ‘এটি সেই জাহান্নাম যা তোমরা অস্বীকার করতে।’
১৫. এটা কি জাদু, না তোমরা চোখে দেখছ না?
১৬. তোমরা এতে প্রবেশ কর, অতঃপর তোমরা ধৈর্য ধারণ কর অথবা না কর - উভয়ই তোমাদের জন্য সমান। তোমরা যা করতে তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেয়া হচ্ছে।
১৭. নিশ্চয় খোদাভীরুরা থাকবে জান্নাতে ও নেয়ামতে।
১৮. তারা উপভোগ করবে যা তাদের পালনকর্তা তাদের দেবেন এবং তিনি জাহান্নামের আযাব থেকে তাদেরকে রক্ষা করবেন।
১৯. তোমরা যা করতে তার প্রতিফল স্বরূপ তোমরা তৃপ্তির সাথে পানাহার করতে থাক।
২০. তারা বসবে শ্রেণীবদ্ধভাবে সজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে; আমি তাদের মিলন ঘটাব আয়তলোচনা হুরের সঙ্গে।
২১. যারা ঈমানদার এবং যাদের সন্তানরা ঈমানে তাদের অনুগামী, আমি তাদেরকে তাদের পিতৃপুরুষদের সাথে মিলিত করে দেব এবং তাদের আমল বিন্দুমাত্রও হ্রাস করব না। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী।
২২. আমি তাদেরকে অতিরিক্ত দেব ফলমূল ও গোশত যা তারা কামনা করবে।
২৩. সেখানে তারা একে অপরের নিকট হতে গ্রহণ করবে পান পাত্র, যা হতে পান করলে কেহ অসার কথা বলবে না এবং অসৎ কাজেও লিপ্ত হবে না।
২৪. সুরক্ষিত মোতিসদৃশ কিশোররা তাদের সেবায় ঘোরাফেরা করবে।
২৫. তারা একে অপরের দিকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করবে
২৬. তারা বলবে: আমরা ইতিপূর্বে নিজেদের বাসগৃহে ভীত-কম্পিত ছিলাম।
২৭. অতঃপর আল্লাহ আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন।
২৮. আমরা পূর্বেও আল্লাহকে ডাকতাম। তিনি সৌজন্যশীল, পরম দয়ালু।

আয়াত প্রকাশের মনোজগত: মক্কার ৭ বছরের দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রথম দুই বছরে মুহাম্মদ সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় আয়াত প্রকাশ করেছেন। আমরা এই সময়কালের ফাঁদে এখন। এই সংখ্যা কমতে শুরু করছে নবী জীবনের পঞ্চম বছরের সময়কালে সাহাবীদের হাবাশায় (ইথিউপিয়া) হিজরত এর পর থেকে; এবং প্রায় এই সময় থেকেই মুহাম্মদ কিছুটা আপোষকামী হতে শুরু করেছিলেন; যার প্রভাব প্রকাশিত আয়াতে লক্ষ্য করা যাবে! মুহাম্মদ সত্যিই মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন! দু'টি ঘটনা মুহাম্মদকে আবার তার রাস্তায় দাঁড়াতে সাহায্য করে, ঠিক তেমন করেই, যেভাবে দু'টি ঘটনা তার পায়ের নিচের মাটি কাঁপিয়ে দিয়েছিলো!

(চলবে)