৪ অক্টোবর, ২০১৬

নিমো হুজুরের খুতবা - ২

লিখেছেন নীল নিমো

৪.
সুচনা: বিসমিল্লাহির রাহমানের রাহিম।
বিষয়: টয়লেট/কমোড ব্যবহার করা হারাম হারাম হারাম।
বিস্তারিত: আমাদের মহানবী রাসুলেপাক হজরত মোঃ কখনো টয়লেট ব্যবহার করতেন না। তিনি খোলা আকাশের নিচে, রাস্তার পাশে মলমূত্র ত্যাগ করতেন। এমনকি রাতের বেলাতে তিনি খাবারের প্লেট, গ্লাস কিংবা ভাতের পাতিলের ভিতরে মুত্রত্যাগ করতেন। সুবাহান আল্লাহ।

রেফারেন্স ১. উম্মে আয়ামান বারাকাহ নামে প্রিয় নবীর একজন দাসী ছিলেন। একদিন ঘরে কাজ করতে গিয়ে খাটের নীচে একটি পেয়ালায় কিছু পানি দেখতে পেয়ে পিপাসার্ত অবস্থায় তা খেয়ে ফেললেন। পরদিন নবীজী উম্মে আয়ামানকে পেয়ালায় যা আছে তা বাহিরে ফেলে দেয়ার জন্য বললে উম্মে আয়ামান বলেন হুযুর আমি তো তা পান করে নিয়েছি। একথা শুনে নবীজি হাসলেন এবং এরশাদ করলেন, উম্মে আয়ামান, এর বরকতে তোমার পেটে আর কোনোদিন রোগ ব্যাধি হবে না এবং তোমার পেট কোনোদিন দোযখের আগুনে স্পর্শ করবে না । (দালায়েলেলুন নবুয়ত, ২য় খন্ড-৪৪৪পৃঃ, আল মাওয়াহেব, ২য় খন্ড-৩১৭ পৃঃ, সিরাতে হালভীয়া, ২য় খন্ড-২৮ পৃঃ, যুরকানী ৪র্থ খন্ড-২৩১ পৃঃ, আল মুস্তাদরাক, ৪র্থ খন্ড-৬৪ পৃঃ, আনওয়ারে মোহাম্মদিয়া, ২১৯ পৃঃ)

রেফারেন্স ২. "অনেক বিজ্ঞ হাদিস বিশারদ উলামায়ে কেরাম, রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস শরীফ ও শামাঈল শরীফ (আখলাক-চরিত্র) বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর হাবীবের শান ছিল এই, যখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা মোবারক করার ইচ্ছা করতেন, তখন মাটি বিদীর্ণ হয়ে যেতো এবং পায়খানা মোবারক ও পেশাব মোবারক গিলে ফেলতো এবং সে স্থান উৎকৃষ্ট ও পবিত্র সুঘ্রাণে মুখরিত হয়ে যেতো।" (শিফা শরীফ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬৩)

উপসংহার: বাংলাদেশে রাস্তার পাশে কোনো দাড়িআলা মুসলমানকে মলমূত্র ত্যাগ করতে দেখলেই নবীজির কথা মনে পড়ে যায়।

৫.
এক মুরিদ আজকে প্রশ্ন করল, "হুজুর, একটি জাতি কীভাবে টোকাই, ভিক্ষুক বা মিসকিন জাতিতে পরিণত হয়?"

আমি উত্তর দিলাম, "যে জাতি নিজ দেশের টোকাই, মিসকিন, ভিক্ষুকের খাদ্য-বাসস্থানের ব্যবস্থা না করে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে হজ্ব করতে যায়, সে জাতি বিশ্বের মানচিত্রে মিসকিন হিসাবে পরিচিতি পায়।"

মুরিদ উত্তর দিল, "ঠিক বলছেন, হুজুর, তাই তো বাংলাদেশীদেরকে সৌদিরা মিসকিন বলে সম্মোধন করে।"

৬.
কেউ যদি ইসলামকে অপমান করে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়, তাহলে আমার মেজাজ প্রচণ্ড খারাপ হয়ে যায়। তবে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার সময় অন্য ধর্মকে অপমান করে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিতে আমার বড্ড ভাল লাগে। নাস্তিক এবং হিন্দুরা হচ্ছে আমার মূল টার্গেট। এদের নিয়ে ঠাট্টা করে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছিলাম নিম্নরুপ:

"...দেবী দুর্গার এতোগুলো হাত, কিন্তু দেবীর গায়ে একটা মাছি বসলে, সেই মাছিটি তাড়ানোর ক্ষমতা দেবীর নাই। হিন্দুরা কেন এই অক্ষম দেবীগুলোকে পূজা করে, তা আমি ভেবে পাই না। হিন্দুদের উচিত এই অক্ষম দেবীগুলাকে ছেড়ে দিয়ে ইসলাম গ্রহণ করা এবং আল্লাহর ইবাদত করা..."

যথারীতি এক নাস্তিক আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করল, "হুজুর, ইসরাইল তো ফিলিস্তিনিদেরকে ন্যাংটা করে ধোলাই দিচ্ছে, ইসলামিক সক্ষম আল্লাহ কেন তাদের সাহায্য করছে না? ইরাক, সিরিয়াতে তো অবস্থা আরো খারাপ।"

নাস্তিকের প্রশ্ন শুনে কিংকর্তব্যবিমুড় হয়ে বলিলাম, "আস্তাগফিরুল্লাহ! এগুলো আপনি বুঝবেন না। এইগুলি হল আল্লাহপাকের পরীক্ষা। আল্লাপাক সিরিয়ান মুসলমানদের পরীক্ষা নিচ্ছেন।"

নাস্তিক উত্তর দিল, "হুজুর, ভগবান মশামাছি দিয়া হিন্দুদের পরীক্ষা নিচ্ছেন। আর আল্লাহপাক বোমা দিয়ে মুসলমানদের পরীক্ষা নিচ্ছেন। মশামাছির থেকে বোমা বারুদ তো অনেক বেশি ভয়ংকর।"

নাস্তিকের কথা শুনে আমার ওযু নষ্ট হয়ে গেল... আমি ওযু করতে দৌড় দিলাম।