২৪ অক্টোবর, ২০১৬

ধর্মবিশ্বাস - বংশগত রোগ

লিখেছেন পুতুল হক

এ প্রজন্মের কোনো ছেলে বা মেয়েকে খুব ধার্মিক দেখতে পেয়ে যদি তাঁর বাবা-মাকে বলি, "আপনাদের সন্তান খুব ধার্মিক হয়েছে এবং এর অনেকখানি কৃতিত্ব আপনাদের পাওনা", নিশ্চয়ই তাঁরা খুব খুশি হবেন। 

সাথে সাথে যদি এভাবে আলাপ চালিয়ে যাওয়া যায় যে, "আপনারা যা শিখিয়েছেন, আপনাদের সন্তান সেটাই শিখেছে, আজকে আপনারা যদি হিন্দু হতেন, তবে আপনাদের সন্তান হত ধার্মিক হিন্দু", তখন কিন্তু তাঁরা আর খুশি থাকবেন না আমার ওপরে। 

জন্মের পর থেকে যুক্তির অতীত, প্রশ্নের অতীত কিছু বিষয়ের প্রতি আমাদের বিশ্বাস রাখতে বলা হয়েছে। যদি এই বিশ্বাস না থাকে, তাহলে জীবন ও পৃথিবী রসাতলে যাবে আর বিশ্বাস পাকা থাকলে মৃত্যুর পর আমরা আয়েশে-বিলাসে অনন্তকাল টিকে থাকবো। এটাকেই ধর্মবিশ্বাস বলে। 

যে ব্যক্তি আল্লাহ বিশ্বাস করে কিংবা যে ব্যক্তি ভগবান বিশ্বাস করে, তার সামনে আল্লাহ বা ভগবান নিজে এসে বা দুত মারফৎ তাদের অস্তিত্বের জানান দেননি। ছোটবেলায় বাবা-মা বা তার নিকটজন কেউ তাকে যা বিশ্বাস করতে বলেছে, সে তাই-ই বিশ্বাস করেছে। আমি মুসলিম. সেটার কৃতিত্ব আমার বা আল্লাহ নবীর নয়, আমার বাবা-মায়ের। আমি হিন্দু হলেও একই কথা খাটে। 

ধর্মবিশ্বাস অনেকটা বংশগত রোগের মত। বংশপরম্পরায় এই রোগ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়াতে থাকে। আমরা এর সত্যাসত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলি না। যে সমস্ত আচার, অনুষ্ঠান বা প্রথার প্রচলন আছে, সেসব ন্যায় কি অন্যায়, সেটাও ভেবে দেখি না। আমার বিশ্বাস টিকে থাকে অন্যের বিশ্বাসকে অবিশ্বাস করে। কিংবা, অন্যের বিশ্বাস টিকে থাকে আমার বিশ্বাসকে অবিশ্বাস করে। আমি যদি ভগবানে বিশ্বাস করি তবে ঈশ্বরকে আমার অবিশ্বাস করতে হবে। কোনো বাবা-মা একসাথে আল্লাহ-ভগবান-ঈশ্বরে বিশ্বাস রাখার কথা শেখান না। তাঁরা তাঁদের বিশ্বাসকে সন্তানদের মধ্যে প্রবাহিত করেন। 

মুসলমানদের কাছে এই বিশ্বাসের নাম ঈমান। যার বিশ্বাস যত শক্ত, তার ঈমান তত পাকা। ঈমানকে তঁরা আগলে রাখেন সব কিছুর বিনিময়ে। কোনো আঁচড় লাগতে দেন না। ঈমানের বাইরে কী আছে, তা দেখতে গেলে বেঈমান হবার সম্ভাবনা আছে। কাজেই সেই ঝুঁকি তাঁরা নেন না। ইসলামের জন্ম এবং বিস্তারকে যখন ইতিহাস বর্ণনার ভাষায় কোনো বিশ্বাসী মুসলমানকে বলার চেষ্টা করা হয়, তখন ঈমান নষ্ট হবার ভয়ে তাঁরা তা শুনতে নারাজ। 

ধার্মিকের কাছে - সবার উপর ধর্ম সত্য তাহার উপর নাই। এর জন্য যদি জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারতে হয়, সেটাও সই। বিশ্বাসের গায়ে আঁচড় লাগতে দেবে না বলে তারা নাস্তিক ব্লগারের কল্লা রাখে না। অথচ তারা এটা ভেবে দেখে না, একজন লেখকের লেখায় যদি ১৪০০ বছরের পুরনো বিশ্বাস টলে যায়, তাহলে সমস্যা লেখাতে নয় বিশ্বাসে।