৩১ অক্টোবর, ২০১৬

ছওয়াব আদায়ের মওকা

মদিনা সনদের দেশে নবীর সুন্নত যথাযথভাবে পালিত হবারই কথা।

যে-ধর্মের নবী তার বাপ-দাদার ধর্ম ও তার অঞ্চলের তৎকালীন সমস্ত ধর্মের দেব-দেবীকে ব্যঙ্গ করেছে, অপমান করেছে, অবমাননা করেছে, নিজের হাতে ভেঙেছে তাদের পূজার সাড়ে তিন শতাধিক মূর্তি, সেই ধর্মের অনুসারীরা নবীর সেই সুন্নত পালন করে ছওয়াব কামানোর মওকা ছাড়বে কেন?... গতকালকের খবর:

ফটোফপে বানানো ছবির মাধ্যমে ইছলাম অবমাননার কথিত অভিযোগের জের ধরেতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অন্তত তিনশটি বসত ঘর ও দশটি মন্দিরে ভাংচুর ও লুটপাট করে ছওয়াব অর্জন উৎসব পালন করা হয়েছে। 

একই অভিযোগে মাধবপুরেও দুটি মন্দিরে ভাঙচুর চালিয়ে অশেষ ছওয়াব হাছিল করেছে মুছলিমেরা।


লক্ষণীয়, রাজনৈতিক মতাদর্শে যতো ভিন্নতাই থাকুক, অমুছলিমদের ওপরে হামলা বা অত্যাচারের সময় বাঙালি মুছলিমদের (নাকি মুছলিম বাঙালিদের?) ঐক্য কিন্তু রীতিমতো ঈর্ষা-জাগানিয়া। কারণ রাজনৈতিক ভেদাভেদ মুছে দিয়ে ইছলাম সবাইকে নিয়ে আসে এক কাতারে। 

আর তাছাড়া সংখ্যালঘু হত্যা ও ধর্ষণ এবং তাদের পূজার মূর্তি ভাঙা, জমি বা বাড়ি-দখল, ভাঙচুর, লুটপাট ও ইত্যাকার কোনও অপরাধের (উল্লেখিত সমস্ত কর্মই অবশ্য ইছলামসম্মত ও সুন্নত) সুষ্ঠু বিচার হয়েছে এবং অপরাধী পেয়েছে যথাযথ শাস্তি, এমন অন্তত একটি নমুনা বাংলাদেশের ইতিহাসে আছে কি না, নিশ্চিত নই।  

তবে এই জাতীয় ঘটনায় অংশ নেয়া মুছলিমদের আচরণ থেকে একটি সত্য প্রকট হয়ে ওঠে: স্রেফ সম্যক সাহস, সঙ্গী, সমর্থন ও সুযোগ পেলে অনেক মডারেট মুছলিমই জঙ্গি বনে যাবে।