২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

শান্তিকামী (peace fucker) ইছলাম

লিখেছেন জুলিয়াস সিজার

জর্ডানের লেখক নাহেদ সাত্তার; ফেসবুকে একটি ছবি শেয়ার দিয়েছিলেন, যেখানে দেখানো হচ্ছিলো, এক দাড়িওয়ালা লোক কল্পিত বেহেশতে বিছানায় নারীদের নিয়ে শুয়ে খোদাকে মদ ও বাদাম পাঠাতে বলছেন।

অনুবাদ করেছেন মাওলানা দূরের পাখি

এই ছবি দেখে জর্ডানের মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে। তারা ইসলাম অবমাননার দায়ে ওই লেখকের বিরুদ্ধে মামলা করে। আজ ওই মামলার জন্য আদালতে হাজিরা দিতে গেলে লেখক নাহেদ সাত্তারকে এক ইসলামী জিহাদি গুলি করে হত্যা করে।

বাংলাদেশে ধর্মানুভূতির কারণে একের পর এক ব্লগার হত্যা, প্রকাশক হত্যা, সমকামীদের নিয়ে ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা হত্যা, এমনকি ধর্মানুভূতিতে আঘাত দেবার ছুঁতোয় নিরীহ দর্জিকে পর্যন্ত কুপিয়ে হত্যা।

প্যারিসে কার্টুন দেখে হত্যা, ডেনমার্কে মুভির পরিচালককে হত্যা, পাকিস্তানে সেক্যুলার ব্লগারকে গুলি করে হত্যা, আমেরিকাতে সমকামীদের ক্লাবে হত্যা - পৃথিবীর সবখানেই শান্তির ধর্মের অনুসারীরা রক্তের ফিনকি ছুটিয়ে চলছে।

এমনকি খোদ ভারতে, যেখানে শান্তির নেক বান্দারা সংখ্যালঘু, সেখানেও এক মৌলবাদী তৃণমূল মুসলিম নেতার অভিযোগে তারক বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারক বিশ্বাস হিন্দুধর্মের সমালোচনা করেছেন অনেকবার, তাতে কারও ধর্মানুভূতিতে লাগেনি। ভারতে 'পিকে', 'ওহ মাই গড' নির্মাণ করে কাউকে খুন হতে হয়নি। 'হেরা ফেরি' মুভিতে "রামলাল গলি কা কুত্তা" বলার পরেও পরিচালক কিংবা অভিনেতা কেউই জেলেও যাননি, খুনও হননি।

কিন্তু ইসলাম নিয়ে একটা লেখা লিখাতে তারক বিশ্বাসকে জেলে যেতে হয়েছে। জেল থেকে বের হবার পর হয়তো কুপিয়ে খুনও করা হবে জর্ডানের লেখক নাহেদ সাত্তারের মতো।

বাংলাদেশ থেকে ভারত, পাকিস্তান, জর্ডান, ইউরোপ, আমেরিকা - কোথাও থেকে নেই শান্তির (!) ধর্মের অনুসারীদের শান্তি প্রতিষ্ঠার দাপটে। এই শান্তি এমনই শান্তি! শান্তির ধর্মের অনুসারীদের 'ধর্মানুভূতি' ইউনিভার্সাল। কোথাও একটুও পার্থক্য নেই।

এমন এক অসাধারণ শান্তির বীজ পৃথিবীতে রোপনের জন্য মোহাম্মদকে শান্তিতে মরণোত্তর নোবেল দেওয়া উচিত।