১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

কোরআন যেভাবে অবতীর্ণ: মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছর (পর্ব ১২)


{প্রিয় পাঠক, হাতে কাগজ কলম নিয়ে নিন! আজ আমরা একটি কুইজ মেলাতে চেষ্টা করবো; আমরা খুঁজে দেখবো - ইসলাম প্রচারের পাঁচ বছরের মাথায় এসে, মুহাম্মদ মক্কার পারিবারিক বন্ধনে ফাটল ধরাতে কতটা সফল হয়েছিলেন, আর কেন চাচা আবু তালিব মুহাম্মদ-এর একমাত্র টিকে থাকার শক্তি ছিলেন না! আমি কম সংখ্যক নাম উল্লেখ করে বলবো, আপনি কাগজ কলমে মেলাতে থাকুন!

নিচের সাত জন, মুহাম্মদ বিরোধী কুরাইশদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ছিলেন (বয়সের ক্রমানুসারে);
আরও বেশী সংখ্যায় নাম উল্লেখ করা যায়, তবে তাতে জ্ঞান হারানোর সম্ভবনা আছে!

ক. ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা
(আবু জেহেলের আপন চাচা, রবীন্দ্রনাথ মাপের কবি, বানু মাখযুম গোত্রের প্রতিনিধি;
নবুয়্যতের পঞ্চম বর্ষে মারা যান; ওনার মৃত্যুর পর ‘আবু জেহেল’ মাখযুম গোত্রের প্রধান প্রতিনিধি হন।)

খ. আবু লাহাব
(আসল নাম ‘আব্দুল উজ্জা’, মুহাম্মদের আপন চাচা, আবু সুফিয়ানের বোন জামাই;
আবু তালিবের মৃত্যুর পর বানু হাশীমের প্রধান)

গ. উৎবা ইবনে রাবিয়া
(আবু সুফিয়ানের শশুর, হিন্দা’র পিতা; ঠাণ্ডা এবং বিচক্ষণ মানুষ ‍ছিলেন,
মুহাম্মদ সম্পর্কে সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল তাঁরই, সুহাইল ইবনে আমরের মেয়ের সাথে,
বড় ছেলের বিবাহ দেন; বানু শামসের প্রতিনিধি)

ঘ. সুহাইল ইবনে আমর
(কুরাইশদের সবচেয়ে ভাল বক্তা; প্রচার, মীমাংসা ও চুক্তি প্রতিনিধি,
উৎবা ইবনে রাবিয়ার বড় ছেলের সাথে মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন)

ঙ. আবু জেহেল
(আসল নাম ‘উমার ইবনে হিশাম/আবু হাকাম’, মুহাম্মদ থেকে ৪/৫ বছর বয়সে বড়
এবং দূর সম্পর্কের চাচা, জেদী এবং জ্ঞানী মানুষ ছিলেন)

চ. আবু সুফিয়ান
(আসল নাম ‘সাকার ইবনে হারেস’, মুহাম্মদ থেকে ২ বছর বয়সে বড়, বাল্য বন্ধু, হালিমা সূত্রে দুধ ভাই,
এবং সবচেয়ে বড় আপন চাচার ছেলে! ‘সাকার ইবনে হারেস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব’; এই সেই হারেস, যাকে সাথে নিয়ে আব্দুল মুত্তালিব জমজম খনন করেছিলেন!)

ছ. ওমর ইবনে খাত্তাব
(পিতার অপারগতার কারনে, অল্প বয়সেই বানু আদী থেকে ‘দারুন নাদওয়া’ প্রতিনিধি হন,
আবু জেহেল তার দুর সম্পর্কের মামা হতেন)

পাঠক এবার আর নতুন নাম উল্লেখ না করে কুইজটা বলি; আপনি হিসাব মেলাতে থাকুন।

A মুসলিম: তিনি এর ছেলে, এর ভাতিজা; এর কী হয় বলুন?
B মুসলিম: তিনি এর ছেলে, এর মেয়ে জামাই, এর শ্যালক; এর কী হয় বলুন?
C মুসলিম: তিনি এর মেয়ে, এর ছেলের বউ; D এর কী হয় বলুন?
D মুসলিম: তিনি এর ছেলে, এর ছেলের শ্যালক; এর কী হয় বলুন?
E মুসলিম: তিনি এর বড় ভাই, H এর কী হয় বলুন?
F মুসলিম: তিনি এর মেয়ে, এর কী হয় বলুন?
G মুসলিম: তিনি এর মেয়ে জামাই, এর কী হয় বলুন?
H মুসলিম: তিনি এর বোনের জামাই, E এর কী হয় বলুন?

আজ এটকুই থাক।

আপনাদের উৎসাহের জন্য বলে রাখি, বছর দুয়েক আগে প্রায় ৪০০ জন সাহাবীর পারিবারিক যোগসূত্র বের করেছিলাম ২ মাস একটানা রাত জেগে; তারপর আমার পাবনা যাবার অবস্থা হয়েছিল!  

শুধু এটুকু বুঝে নিতে মাথা ঘামাতে থাকুন; মুহাম্মদ মক্কার পারিবারিক ব্যবস্থাকে কতটা ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছিলেন; মক্কার কুরাইশ প্রধানদের জন্য মুহাম্মদ ঝুঁকির সাথে সাথে ভীতিরও কারণ হয়ে দাড়িয়েছিলেন, আর এ কারণেই চাচা আবু তালিবের জন্য মুহাম্মদকে রক্ষা করা খুব একটা কঠিন কাজ ছিল না। একটা উদাহরন দিই; আপনার সন্তান যে জঙ্গি গ্রুপের সদস্য, তার প্রধান আপনার প্রতিবেশী হলেও তার খুব একটা ক্ষতি আপনি করতে পারবেন না; কারণ বিরোধিতা আর সন্তান হারানোর ভীতি পরস্পরবিরোধী। তো কুইজ মেলাতে শুরু করুন, আমি আবু বকরের বাসায় গোপন বৈঠক করে আসি!

মুহাম্মদ, আবু-বকরকে তার প্রতিনিধি দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড করলেন; প্রতিদিন ভোরে এবং সন্ধ্যায় আবু-বকরের বাসায় বসতে থাকলেন; সাথে রাখলেন খুব বিশ্বস্ত ৫/৭ জন সাহাবীকে; আর ‘আরকাম এর বাসাকে’ নবীন ও সাধারণ মুসলিমদের ট্রেনিং সেন্টার হিসাবে গড়ে তুললেন।

মক্কার কুরাইশ প্রতিনিধি সভা ‘দারুন নাদওয়া’ থেকে মুহাম্মদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবার সিদ্ধান্তে এলো; হজ্জের সময় সুহাইল ইবনে আমর এর সরাসরি অংশগ্রহণে, চাচা আবু লাহাব সহ সবাই ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা-এর পরামর্শ মোতাবেক মুহাম্মদকে জাদুকর হিসাবে পরিচিত করার চেষ্টা করতে থাকলেন। আর মুহাম্মদ সাহাবীদের প্রশ্নবাণে এই প্রথমবার তার সকল ধর্মজ্ঞান একসাথে করে প্রকাশ করলেন ১৮২ লাইনের ৫৩ তম প্রকাশ। মনযোগ দিয়ে পড়ে দেখুন; ইসলাম ধর্মের বেশিরভাগ মিথের দেখা পাবেন এই সূরায়; আমি এই সূরাটি কমপক্ষে ১০০ বার পড়েছি, মুহাম্মদ কীভাবে সব প্রচলিত গল্পগুলোকে এক প্লেটে পরিবেশন করেছেন, ভাবলে সত্যিই অবাক হতে হয়! বুদ্ধিমান বা ধূর্ত হবার জন্য অক্ষরজ্ঞান জরুরি নয়, এটা তারই প্রমাণ। 

কোরআন অবতীর্ণ হবার ধারাবাহিকতা অনুসারে প্রকাশের আজ ১২ তম পর্ব; এই পর্বে থাকছে মক্কা - দ্বিতীয় অধ্যায়: দেড় কিলোমিটারে সাত বছরের ৫ম দুই অংশঅনুবাদের ভাষা ৫০ টির বেশি বাংলা/ইংরেজি অনুবাদ অনুসারে নিজস্ব।}

নবী মুহাম্মদ দ্বারা ৫২ তম প্রকাশ; সূরা আল ক্বারিয়াহ (১০১) (মহাসংকট), ১১ আয়াত:

১. মহাসংকট!
২. কী সেই মহাবিপদ?
৩. মহাবিপদ সম্পর্কে তুমি কী জান?
৪. সেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মত।
৫. আর পর্বতরাজি হবে ধুনা রঙিন পশমের মত।
৬. অতঃপর যার পাল্লা ভারী হবে,
৭. সে সুখী জীবন যাপন করবে।
৮. এবং যার পাল্লা হালকা হবে
৯. তার আবাস হবে হাবিয়া।
১০. ওটা কী, তা কি তুমি জান?
১১. জ্বলন্ত আগুন।

নবী মুহাম্মদ দ্বারা ৫৩ তম প্রকাশ; সূরা আস ছাফফাত (৩৭) (শ্রেণীবন্ধন কারীগণ), ১৮২ আয়াত:

১. শপথ তাদের, যারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানো,
২. অতঃপর ধমকিয়ে ভীতি প্রদর্শনকারীদের,
৩. অতঃপর মুখস্থ আবৃত্তিকারীদের-
৪. নিঃসন্দেহ তোমাদের উপাস্য মাত্র একজন,
৫. যিনি মহাকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর এবং এদের উভয়ের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্রভু, আর যিনি উদয়স্থল সমূহেরও প্রভু,
৬. নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজির দ্বারা সুশোভিত করেছি।
৭. এবং তাকে সংরক্ষিত করেছি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে।
৮. ওরা উর্ধ্ব জগতের কোনোকিছু শ্রবণ করতে পারে না এবং চার দিক থেকে তাদের প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হয়।
৯. ওদেরকে বিতাড়নের উদ্দেশ্যে। ওদের জন্যে রয়েছে বিরামহীন শাস্তি।
১০. তবে কেউ ছোঁ মেরে কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।
১১. আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, তাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আমি অন্য যা সৃষ্টি করেছি? আমিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এঁটেল মাটি থেকে।
১২. বরং তুমি বিস্মিত হচ্ছো আর ওরা বিদ্রূপ করছে।
১৩. এবং যখন তাদেরকে উপদেশ দেয়া হয়, তখন তারা তা গ্রহণ করে না।
১৪. তারা যখন কোনো নিদর্শন দেখে, তখন বিদ্রূপ করে।
১৫. এবং বলে: এটাতো এক সুস্পষ্ট জাদু ব্যতীত আর কিছুই নয়।
১৬. আমরা যখন মরে যাব, এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হয়ে যাব, তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব?
১৭. ‘আর আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষগণও’?
১৮. বল, ‘হ্যাঁ, আর তোমরা অপমানিত-লাঞ্ছিত হবে।’
১৯. বস্তুত সে উত্থান হবে একটি বিকট শব্দ মাত্র - যখন তারা প্রত্যক্ষ করতে থাকবে।
২০. এবং তারা বলবে: হায়! দুর্ভোগ আমাদের! এটাই তো কর্মফল দিন।
২১. বলা হবে, এটাই ফয়সালার দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে।
২২. (ফেরেশতাদেরকে বলা হবে) ‘একত্র কর যালিম ও তাদের সঙ্গী-সাথীদেরকে এবং যাদের ইবাদাত তারা করত তাদেরকে।
২৩. আল্লাহ ব্যতীত। অতঃপর তাদেরকে পরিচালিত কর জাহান্নামের পথে,
২৪. অতঃপর তাদেরকে থামাও, কারণ তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে;
২৫. তোমাদের কি হল যে, তোমরা একে অপরকে সাহায্য করছ না?
২৬. বস্তুত সেদিন তারা আত্মসমর্পন করবে।
২৭. এবং তারা একে অপরের সামনাসামনি হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
২৮. তারা বলবে, তোমরা তো আমাদের কাছে ডান দিক থেকে আসতে।
২৯. তারা বলবে: তোমরা তো বিশ্বাসীই ছিলে না।
৩০. এবং তোমাদের উপর আমাদের কোন কতৃত্ব ছিল না, বরং তোমরাই ছিলে সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।
৩১. আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের রবের কথা সত্য হয়েছে; আমাদেরকে অবশ্যই শাস্তি আস্বাদন করতে হবে।
৩২. আমরা তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম। কারণ আমরা নিজেরাই পথভ্রষ্ট ছিলাম।
৩৩. সুতরাং সেইদিন তারা নিশ্চয়ই শাস্তিতে একে অন্যের শরিক হবে।
৩৪. অপরাধীদের সাথে আমি এমনি ব্যবহার করে থাকি।
৩৫. তাদের যখন বলা হত, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই, তখন তারা ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করত।
৩৬. আর বলত, ‘আমরা কি এক পাগল কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের ছেড়ে দেব? 
৩৭.বরং সে তো সত্য নিয়ে এসেছে এবং সে সমস্ত রাসূলকে সত্য বলে স্বীকার করেছে।
৩৮. তোমরা অবশ্যই বেদনাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করবে।
৩৯. এবং তোমরা যা করতে তারই প্রতিফল পাবে।
৪০. তবে তারা নয়, যারা আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা।
৪১. তাদের জন্যে রয়েছে নির্ধারিত রুযি।
৪২. ফল-মূল এবং তারা হবে সম্মানিত।
৪৩. নেয়ামতের উদ্যানসমূহ।
৪৪. তারা মুখোমুখি আসনে আসীন হবে।
৪৫. তাদেরকে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ সূরাপূর্ণ পাত্র
৪৬. শুভ্র উজ্জ্বল, যা হবে পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।
৪৭. তাতে ক্ষতিকর কিছুই থাকবে না এবং তারা তাতে মাতালও হবে না।
৪৮. আর তাদের সঙ্গে থাকবে আনত নয়না আয়তলোচনা হুরবৃন্দ।
৪৯. তারা যেন সযত্নে ঢেকে রাখা ডিম।
৫০. অতঃপর তারা পরস্পরের মুখোমুখী হয়ে একে ‘অপরের খবর জিজ্ঞেস করবে।
৫১. তাদের একজন বলবে, (‘পৃথিবীতে) আমার এক সঙ্গী ছিল’,
৫২. সে বলত, ‘তুমি কি সে লোকদের অন্তর্ভুক্ত যারা বিশ্বাস করে’।
৫৩. আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব, তখনও কি আমরা প্রতিফল প্রাপ্ত হব?
৫৪. আল্লাহ বলবেন - ‘তোমরা কি তাকে উঁকি দিয়ে দেখতে চাও?
৫৫. অতঃপর সে ঝুঁকে দেখবে এবং তাকে দেখতে পাবে জাহান্নামের মধ্যস্থলে।
৫৬. সে বলবে, আল্লাহর কসম, তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংসই করে দিয়েছিলে।
৫৭. আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ না হলে আমিও যে গ্রেফতারকৃতদের সাথেই উপস্থিত হতাম।
৫৮. (জান্নাতবাসী ব্যক্তি বলবে) ‘তাহলে আমরা কি আর মরব না’?
৫৯. আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া এবং আমরা শাস্তিপ্রাপ্তও হব না।
৬০. ‘নিশ্চয় এটি মহাসাফল্য!’
৬১. এমন সাফল্যের জন্যে পরিশ্রমীদের পরিশ্রম করা উচিত।
৬২. আপ্যায়ন হিসেবে এটা উত্তম, না, (জাহান্নামের) জাক্কুম গাছ?
৬৩. যালিমদের জন্য আমি ওটা সৃষ্টি করেছি পরীক্ষা স্বরূপ।
৬৪. এই বৃক্ষ উদ্গত হয় জাহান্নামের তলদেশ হতে।
৬৫. এর ফল যেন শয়তানের মাথা;
৬৬. নিশ্চয় তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে।
৬৭. তদুপরি তাদের জন্য থাকবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ।
৬৮. তারপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে জাহান্নামের আগুনে।
৬৯. নিশ্চয় এরা নিজদের পিতৃপুরুষদেরকে পথভ্রষ্ট পেয়েছিল;
৭০. ফলে তারাও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে দ্রুত ছুটেছে।
৭১. আর নিশ্চয় এদের পূর্বে প্রাথমিক যুগের মানুষের বেশিরভাগই পথভ্রষ্ট হয়েছিল।
৭২. আর অবশ্যই তাদের কাছে আমি সতর্ককারীদেরকে পাঠিয়েছিলাম;
৭৩. সুতরাং লক্ষ্য কর, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল তাদের পরিণাম কী হয়েছিল!
৭৪. তবে আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাদের কথা স্বতন্ত্র।
৭৫. আর নিশ্চয় নূহ আমাকে ডেকেছিল, আর আমি কতই না উত্তম সাড়াদানকারী!
৭৬. তাকে ও তার পরিবারবর্গকে আমি উদ্ধার করেছিলাম মহা সংকট হতে।
৭৭. তার বংশধরদেরকেই আমি বিদ্যমান রেখেছি বংশ পরম্পরায়।
৭৮. আমি এটা পরবর্তীদের স্মরণে রেখেছি।
৭৯. সমগ্র বিশ্বের মধ্যে নূহের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।
৮০. নিশ্চয় এভাবে আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।
৮১. সে ছিল আমার ঈমানদার বান্দাদের অন্যতম।
৮২. অবশিষ্ট সকলকে আমি নিমজ্জিত করেছিলাম।
৮৩. ইবরাহীম তার অনুগামীদের অন্তর্ভুক্ত।
৮৪. স্মরণ কর, সে তার প্রতিপালকের নিকট উপস্থিত হয়েছিল বিশুদ্ধ চিত্তে।
৮৫. যখন সে তার পিতা ও তার সম্প্রদায়কে জিজ্ঞেস করেছিল: তোমরা কিসের পূজা করছ?
৮৬. ''তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে কি এক মিথ্যা উপাস্যকেই কামনা কর?
৮৭. বিশ্বজগতের পালনকর্তা সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কী?
৮৮. অতঃপর সে একবার তারকারাজির দিকে একবার তাকালো।
৮৯. এবং বলল: আমি অসুস্থ।
৯০. অতঃপর তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে তার কাছ থেকে চলে গেল।
৯১. পরে সে সন্তর্পণে তাদের দেবতাগুলির নিকট গেল এবং বললঃ তোমরা খাদ্য গ্রহণ করছ না কেন?
৯২. তোমাদের কি হয়েছে যে, তোমরা কথা বলনা?
৯৩. অতঃপর সে প্রবল আঘাতে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
৯৪. তখন তারা তাঁর দিকে ছুটে এল হতবুদ্ধি হয়ে।
৯৫. সে বললঃ তোমরা নিজেরা যাদেরকে খোদাই করে নির্মাণ কর, তোমরা কি তাদেরই পূজা কর?
৯৬. অথচ আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমরা যা নির্মাণ করছ সবাইকে সৃষ্টি করেছেন।
৯৭. তারা বলল, ‘তার জন্য একটি স্থাপনা তৈরী কর, তারপর তাকে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ কর’।
৯৮. তারপর তারা তার বিরুদ্ধে মহা ষড়যন্ত্র আঁটতে চাইল, কিন্তু আমি তাদেরকেই পরাভূত করে দিলাম।
৯৯. এবং সে বলল: আমি আমার রবের দিকে চললাম, তিনি অবশ্যই আমাকে সৎ পথে পরিচালিত করবেন।
১০০. ‘হে আমার রব, আমাকে সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন’।
১০১. সুতরাং আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দান করলাম।
১০২. অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইব্রাহীম তাকে বলল: বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কী, দেখ। সে বলল: পিতাঃ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন।
১০৩. যখন পিতা-পুত্র উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহীম তাকে যবেহ করার জন্যে শায়িত করল।
১০৪. তখন আমি তাকে ডেকে বললাম: হে ইব্রাহীম,
১০৫. ‘তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। নিশ্চয় আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি’।
১০৬. নিশ্চয়ই এটা ছিল এক স্পষ্ট পরীক্ষা।
১০৭. আমি তার পরিবর্তে দিলাম যবেহ করার জন্যে এক মহান জন্তু।
১০৮. আর আমি তাকে পরবর্তীদের মাঝে স্মরণীয় করে রাখলাম।
১০৯. ইবরাহীমের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক!
১১০. সৎকর্মশীলদেরকে আমি এভাবেই প্রতিদান দিয়ে থাকি।
১১১. সে ছিল আমার বিশ্বাসী বান্দাদের অন্যতম।
১১২. আমি তাকে সুসংবাদ দিয়েছি ইসহাকের, সে সৎকর্মীদের মধ্য থেকে একজন নবী।
১১৩. তাকে এবং ইসহাককে আমি বরকত দান করেছি। তাদের বংশধরদের মধ্যে কতক সৎকর্মী এবং কতক নিজেদের ওপর স্পষ্ট জুলুমকারী।
১১৪. আমি অনুগ্রহ করেছিলাম মূসা ও হারূনের উপর।
১১৫. এবং তাদেরকে ও তাদের সম্প্রদায়কে আমি উদ্ধার করেছিলাম মহা সংকট হতে।
১১৬. আমি সাহায্য করেছিলাম তাদেরকে, ফলে তারা হয়েছিল বিজয়ী।
১১৭. আমি উভয়কে দিয়েছিলাম সুস্পষ্ট কিতাব।
১১৮. এবং তাদেরকে আমি পরিচালিত করেছিলাম সরল পথে।
১১৯. আমি তাদের উভয়কে পরবর্তীদের জন্য স্মরণীয় করে রাখলাম।
১২০. মূসা ও হারূনের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
১২১. এভাবে আমি সৎকর্মশীলদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি।
১২২. তারা উভয়েই ছিল আমার বিশ্বাসী বান্দাদের অন্যতম।
১২৩. ইলিয়াসও ছিল রাসূলদের একজন।
১২৪. যখন সে তার কওমকে বলেছিল ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না’?
১২৫. তোমরা কি বা'আল দেবতার এবাদত করবে এবং সর্বোত্তম স্রষ্টাকে পরিত্যাগ করবে।
১২৬. যিনি আল্লাহ তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদের পালনকর্তা?
১২৭. কিন্তু তারা তাকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, অতএব তাদেরকে অবশ্যই শাস্তির জন্য উপস্থিত করা হবে।
১২৮. তবে আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাদের কথা স্বতন্ত্র।
১২৯. আমি তাকে পরবর্তীদের মাঝে স্মরণীয় করে রাখলাম।
১৩০. ইলিয়াসের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
১৩১. এভাবে আমি সৎকর্মশীলদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি।
১৩২. সে ছিল আমার বিশ্বাসী বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত।
১৩৩. আর নিশ্চয় লূতও ছিল রাসূলদেরই একজন।
১৩৪. আমি তাকে ও তার পরিবারের সবাইকে উদ্ধার করেছিলাম।
১৩৫. কিন্তু এক বৃদ্ধাকে ছাড়া; সে অন্যান্যদের সঙ্গে থেকে গিয়েছিল।
১৩৬. অতঃপর অবশিষ্টদেরকে আমি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছিলাম।
১৩৭. তোমরা তো তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত বসতিগুলোর ওপর দিয়ে অবশ্যই চলাচল কর সকালে
১৩৮. এবং সন্ধ্যায়। তবুও কি তোমরা অনুধাবন করবে না?
১৩৯. ইউনুসও ছিল রাসূলদের একজন।
১৪০. স্মরণ কর, যখন সে পালিয়ে বোঝাই নৌকায় পৌঁছেছিল।
১৪১. অতঃপর সে লটারিতে অংশগ্রহণ করল এবং তাতে সে হেরে গেল।
১৪২. তারপর বড় মাছ তাকে গিলে ফেলল। আর সে (নিজেকে) ধিক্কার দিচ্ছিল।
১৪৩. সে যদি আল্লাহর মহিমা ঘোষণা না করত
১৪৪. তবে তাঁকে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত মাছের পেটেই থাকতে হত।
১৪৫. অতঃপর তাকে আমি নিক্ষেপ করলাম এক তৃণহীন প্রান্তরে এবং সে ছিল রুগ্ন।
১৪৬. অতঃপর আমি তার ওপর লাউ-কুমড়া জাতীয় লতা-পাতাযুক্ত একটা গাছ বের করে দিলাম।
১৪৭. তাকে আমি লক্ষ বা ততোধিক লোকের প্রতি প্রেরণ করেছিলাম।
১৪৮. এবং তারা ঈমান এনেছিল; ফলে আমি তাদেরকে কিছু কালের জন্য জীবনোপভোগ করতে দিলাম।
১৪৯. এখন তাদেরকে জিজ্ঞেস কর: তোমার রবের জন্য কি রয়েছে কন্যাসন্তান এবং তাদের জন্য পুত্রসন্তান?
১৫০. নাকি আমি তাদের উপস্থিতিতে ফেরেশতাগণকে নারীরূপে সৃষ্টি করেছি?
১৫১. জেনে রাখ, তারা অবশ্যই তাদের মনগড়া কথা বলে যে,
১৫২. ‘আল্লাহ সন্তান জন্ম দিয়েছেন’ আর তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।
১৫৩. তিনি কি পুত্রসন্তানদের ওপর কন্যাসন্তানদের বেছে নিয়েছেন?
১৫৪. তোমাদের কী হল? তোমরা কেমন ফয়সালা করছ!
১৫৫. তাহলে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
১৫৬. নাকি তোমাদের কোন সুস্পষ্ট দলিল- প্রমাণ আছে?
১৫৭. অতএব তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের কিতাব নিয়ে আস।
১৫৮. আর তারা আল্লাহ ও জিন জাতির মধ্যে একটা বংশসম্পর্ক সাব্যস্ত করেছে, অথচ জিন জাতি জানে যে, নিশ্চয় তাদেরকেও উপস্থিত করা হবে।
১৫৯. তারা যা বলে তা হতে আল্লাহ পবিত্র, মহান
১৬০. আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দারা ব্যতীত।
১৬১. অতএব তোমরা এবং তোমরা যাদের উপাসনা কর,
১৬২. তাদের কাউকেই তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
১৬৩. শুধুমাত্র তাদের ছাড়া যারা জাহান্নামে পৌছাবে।
১৬৪. আমাদের (ফেরেশতাদের) প্রত্যেকের জন্য একটা নির্দিষ্ট স্থান আছে।
১৬৫. আমরাতো সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান,
১৬৬. এবং আমরা অবশ্যই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণাকারী।
১৬৭. তারাই তো বলে এসেছে
১৬৮. পূর্ববর্তীদের কিতাবের মত যদি আমাদের কোনো কিতাব থাকত
১৬৯. তাহলে অবশ্যই আমরা আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা হতাম।
১৭০. অতঃপর তারা তা অস্বীকার করল অতএব শীঘ্রই তারা জানতে পারবে (এর পরিণাম)।
১৭১. আর নিশ্চয় আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা পূর্ব নির্ধারিত হয়েছে যে,
১৭২. ‘অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে’।
১৭৩. আর নিশ্চয় আমার বাহিনীই বিজয়ী হবে।
১৭৪. অতএব আপনি কিছুকালের জন্যে তাদেরকে উপেক্ষা করুন।
১৭৫. এবং তাদেরকে দেখতে থাকুন। শীঘ্রই তারাও এর পরিণাম দেখে নেবে।
১৭৬. তারা কি তাহলে আমার শাস্তি ত্বরান্বিত করতে চায়?
১৭৭. তাদের আঙ্গিনায় যখন শাস্তি নেমে আসবে তখন সতর্কীকৃতদের প্রভাত হবে কত মন্দ!
১৭৮. অতএব কিছুকালের জন্য তুমি তাদেরকে উপেক্ষা কর।
১৭৯. এবং দেখতে থাকুন, শীঘ্রই তারাও এর পরিণাম দেখে নেবে।
১৮০. তারা যা ব্যক্ত করে তোমার রব তা থেকে পবিত্র মহান, সম্মানের মালিক।
১৮১. শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের প্রতি।
১৮২. প্রশংসা জগতসমূহের রাব্ব আল্লাহরই প্রাপ্য।

আয়াত প্রকাশের মনোজগত: উন্মাদ/পাগল-এর বদলে মুহাম্মদের নতুন পরিচয় পেলাম আমরা জাদুকর হিসাবে, কিন্তু সেটা কি মুহাম্মদকে ভাবাতে পেরেছিলো; যদি পারে, তবে আয়াত প্রকাশ পাবে এ বিষয়ে, আর তার জন্য আগামী পর্ব পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে আমাদের; তবে এটুকু জেনে রাখুন, মুহাম্মদ তার জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখোমুখি হবেন দ্রুত; আর যা বদলে দেবে তার নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি! অপেক্ষায় থাকুন।

(চলবে)