১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

সুরা বাকারার ২৩ নং আয়াতের ফাঁকি

লিখেছেন শুভ্র আহমেদ

কুরানের মত করে কেন সুরা লেখা যায় না? সুরা বাকারার দ্বিতীয় রুকুতে একটা চ্যালেঞ্জ দেয়া হইছে: "যদি তোমরা কুরানের ব্যাপারে সন্দিহান হও তবে এরকম একটি সুরা বানিয়ে আনো।" প্রায়ই মুমিন ভাইয়েরা তোতা পাখির মত এই চ্যালেঞ্জের কথা মনে করিয়ে দেন: কুরান যদি মিথ্যাই হয় তাহলে কেন এর মত করে সুরা বানানো যায় না?

মূলত এই চ্যালেঞ্জের মধ্যেই আছে শুভংকরের ফাঁকি। যখন আপনি একটা জিনিসকে অন্য একটা জিনিসের মত বানাতে চাইবেন, তখন অবশ্যই একটা কাঠামো আপনার সামনে থাকতে হবে। মজার ব্যাপার হইল, আপনি যে একটা নতুন সুরা লিখবেন, সেটার কাঠামোটা কী হবে, সেটা কিন্তু কোন মুমিন বা মোল্লাই ক্লিয়ারলি বলে না। এমনকি স্বয়ং কুরানেও বলা নাই - কোন বৈশিষ্ট্য থাকলে সেটা কুরানের মত হবে, আর কোনটা না থাকলে হবে না। মূলত কোনো নির্দিষ্ট মূলনীতি না থাকায় আপনি যা-ই লিখুন না কেন, সেইটাকে অস্বীকার করার সুযোগ থেকে যায়। যেমন ধরেন, আমি সুরা বানালাম এইটা: 
তোমরা কি দেখোনি, হেফাজত বাহিনীর সাথে আমি কী করেছিলাম? আমি কি তাদের অভ্যুত্থান ব্যর্থ করে দিইনি? আমি তাদের প্রতি র‍্যাব আর পুলিশ পাঠিয়েছিলাম...
এরপর আমি দাবি করলাম, আমি কুরানের মত করে সুরা লিখছি। এটাই সেই সুরা। তখন মুমিনরা কিসের ভিত্তিতে সেইটা অস্বীকার করবে? তখন তারা এটাই বলবে, "তুমি তো কোরানের সাথে ভেজাল করেছ। ছন্দটা ধরে রেখে শুধু শব্দ বদলেছ। তাই তোমারটা হয় নাই।" এখন ধরেন আমি এই কথা মেনে নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছন্দে লিখলাম:
'কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক কে বলে তা বহুদুর
মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরাসুর'

এখন মুমিনরা এটাও অস্বীকার করবে এই বলবে যে, এইটাও কুরানের মত হয় নাই। কারণ কুরানে এইরকম ছন্দের কোনো আয়াত নাই। - এই ফাঁকিটাই হল মুহম্মদ ও তার অনুসারীদের সম্বল। আপনি যতভাবেই বানিয়ে আনেন, তারা আপনার সৃষ্টিকে বাতিল করে দিয়ে বলবে, এইটা কুরানের মত হয় নাই। কুরানের শব্দ ব্যবহার করলে বলবে, নিজের মাথা খাটিয়ে শব্দ বের করো। কুরানের ওজন অনুসরণ করলে বলবে, নিজে একটা ছন্দ দাঁড় করায় লিখো। আর নিজে মাথা খাটায় লিখে আনলে বলবে, হয় নাই, হয় নাই। কুরানের মত হয় নাই। তুমি পারো নাই।

আসলে কুরানের আলাদা কোন বিশেষত্বই নাই। কুরান সংকলনের ইতিহাসই তার প্রমান। ইতিহাসে দেখা যায়, জাবির যখন কুরান সংকলনের দায়িত্ব নিছেন, তখন অনেক আয়াত এমন আসলো যেগুলোর লিখিত রূপ নাই, তখন জাবির এসব সংকলন থেকে বিরত থাকলেন। জাবির নিজেই বলেছেন, "আমি যে আয়াতের লিখিত রূপ পাইনি, সেগুলো সংকলন করিনি।"

জাবির যদি বলতেন, "আয়াত শুনেই আমি বুঝে নিয়েছি, এগুলা কুরানের আয়াত হতে পারে না, কুরানের আয়াতে যে অপার্থিব সৃজনশীলতা থাকে, সেটা এসব আয়াতে নেই", তখন হয়ত বলা যেত, "হ্যাঁ, কুরানের মধ্যে আলাদা কিছু একটা আছে।" কিন্তু আমরা দেখি, জাবির এই কথা না বলে বলছেন একেবারে বাস্তবিক একটা কথা: "এমন কিছু সংকলিত করিনি যেগুলোর লিখিত রূপ নেই।" এবং এই কথাটুকুতেই প্রমাণিত হয়ে যায়, ঐ সময়টাতেই কুরানের মত করে আয়াত তৈরি হয়েছিল।

এছাড়া খলিফা উসমানের আমলেও এমন অনেক কুরান বাজারে ছিল, যেগুলাতে ভিন্ন রকম আয়াত ছিল, যেগুলা পরে খলিফা উসমানের সৈন্যরা সংগ্রহ করে জ্বালিয়ে দেয়। খলিফা উসমানকে হত্যার পেছনে যে-অভিযোগ ছিল, তার একটা হল - ভিন্ন সংকলনগুলো জ্বালিয়ে দেয়া। এসবই প্রমাণ করে, কুরানের মত করে সুরা তখনই তৈরি হইছিল।

আপনি যদি ত্রিপিটক, বাইবেল আর গীতা থেকে দু'-একটা বাক্য আরবিতে অনুবাদ করে কোনো আলেমের সামনে ধরে বলেন, এখানে কোরানের আয়াত কোনটা? অবশ্যই সে পৃথক করতে পারবে না। কারণ? কারণ হল, কুরানের মধ্যে আলাদা কিছুই নাই পৃথক করার মত।

তারপরেও যদি মুমিন ভাইরা মানতে না চান, তাইলে আপনাদের জন্য চ্যালেঞ্জ, আমি যে লেখাগুলো লিখি, সেগুলা আল্লাহর কালাম। যদি সন্দেহ হয়, তাইলে আমার মত করে একটা লেখা লিখে আনেন। চ্যালেঞ্জ... দেখি. পারেন কি না!