১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

উপাসনালয় বনাম শৌচালয়

লিখেছেন মৌলবাদী Big জ্ঞানী

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্ৰয়োজনীয়তার নিরিখে ধর্মীয় উপাসনালয়ের তুলনায় শৌচালয় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ:

১. শৌচালয়ের অভাবে পরিবেশ বিভিন্নভাবে দূষিত হয়ে থাকে। অথচ ধর্মীয় উপাসনালয়গুলির কোনো বাস্তব গুরুত্ব নেই।

২. ভারতবর্ষে, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে, প্রতিদিন ব্যাঙের ছাতার থেকেও বেশি হারে গজিয়ে উঠছে শনিমন্দির। অথচ এর চেয়ে পাবলিক টয়লেট অনেক বেশি প্ৰয়োজনীয়; কিন্তু এর নির্মাণ সংখ্যায় যথেষ্ট কম। কারণ একটাই - ধর্মান্ধতা। একটি বাজার এলাকায় বা রাস্তার মোড়ে পাবলিক টয়লেটের তুলনায় কোনো মন্দির কখনোই বেশি প্রয়োজনীয় হতে পারে না। যদিও মন্দিরের গুরুত্ব স্থানভেদে কোনোদিন কোথাও ছিল না, আর নেইও।

৩. শৌচালয়ের অভাব সাধারণত প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে দেখা যায়, যদিও শহরও মুক্ত নয় এই 'অভাব' থেকে। গ্রামাঞ্চলের অধিবাসীরা মাঠেঘাটে মলত্যাগ করে থাকে। আর শহরে, বিশেষত কোলকাতায় বস্তিবাসী, ফুটপাতবাসী এবং তথাকথিত পুণ্যার্থীরা গঙ্গানদীকে বেছে নিয়েছে। অথচ সেখানে মন্দির-মসজিদের কোনো ঘাটতি নেই। এভাবেই সমাজে অপ্রয়োজনীয় মন্দির-মসজিদগুলি টিকে রয়েছে। একে কি কোনোভাবেই সামাজিক সুস্থতা বলা যায়?

৪. দেখা যায়, সাধারণত যারা বেশিশী ধর্মপ্রিয়, তাদের মধ্যেই স্বাস্থ্যচেতনার অভাব বেশি, যে কারণে যার বাড়িতে শৌচালয় নেই, তার ঘরেও সিংহাসন; বা যেই এলাকায় ভালো শৌচ ও নিষ্কাশন ব্যাবস্থা নেই, সেখানেও মন্দির-মসজিদ বহাল তবিয়তে আছে। অশিক্ষা যে মানুষ এবং সমাজকে কত নিচে নিয়ে যেতে পারে, তার প্রমাণ তো এগুলোই। 

৫. মন্দির-মসজিদ তৈরিতে টাকা-পয়সা দান না করে তার চেয়ে ভালো হয় বেশি করে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কাজে সকলকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসা ও সহযোগিতা করা। তবেই একমাত্র সুস্থ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা যাবে। কাল্পনিক ঈশ্বর-আল্লাহর তুলনায় বাস্তবের ঝাড়ুদার (sweeper) অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 

পরিশেষে: সকল সচেতন পাঠকদের প্রতি অনুরোধ রইল, এবার থেকে সকল মন্দির-মসজিদগুলিকে রূপান্তর করুন পাবলিক টয়লেট এবং শৌচাগারে। আর নিয়মিত তার রক্ষণাবেক্ষণের কাজে টাকা-পয়সা দান করুন।