৬ আগস্ট, ২০১৬

পুতুলের হক কথা - ১৮

লিখেছেন পুতুল হক

৬৬.
মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্যের নাকি কোনো পরিবর্তন হয় না। তবে আমার মনে হয়, ইসলাম মানুষের জিনে পরিবর্তন আনতে সক্ষম। নইলে যে মেয়ে মাথায় ক্লিপ লাগাতে পারে না, সে কীভাবে ২৪ ঘন্টা মাথায় হিজাব নামক কাপড় পেঁচিয়ে ঘোরে?
কিংবা যাদের শিকারের দৌড় বড়জোর নদী বা পুকুরের মাছের মধ্যে সীমাবদ্ধ, তারা কীভাবে প্রতি বছর কোরবানির নামে গরু-ছাগল হত্যা করে আঙিনা রাঙায়?
কিংবা আম-লিচুর দেশের মানুষ কেন খেজুর-খোরমা অমৃত ভেবে খায়?
কিংবা ঘামের দেশের মানুষ কেন জোব্বা বোরখা পরে থাকে?

৬৭.
মানুষ নিজেকে ধার্মিক হিসেবে দেখাতে পছন্দ করে। কারণ ধর্ম হচ্ছে নৈতিকতার আধার, যে আধার শুধু আঁধারে থাকলেই দেখা যায়। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধর্মের অনুসারী। তবুও পৃথিবীর মানুষ অ্যাত্তোগুলা খারাপ।

৬৮.
স্বাভাবিক ভদ্র মুসলিম পুরুষ একসাথে চার স্ত্রী রাখার কথা ভাবে না। একেবারে অশিক্ষিত হলেও না। একাধিক স্ত্রীর স্বামী যারা, তারা সাধারণত নোংরা রুচির। আধুনিক মুসলিম পুরুষের নবীকে অনুসরণ করতে মাঝে মাঝে রুচিতে বাধে। মুসলিম স্ত্রীরাও চায় যে, তাদের স্বামীরা মাঝে মাঝে নবীর সুন্নত না মানুক।

তো যে-মানুষকে সব সময় অনুসরণ করতে রুচিতে বাধে, তাকে আদর্শ মানুষ বলা নিশ্চয়ই যুক্তিযুক্ত নয়। আরব ভূখণ্ডে প্রায় পনেরশো বছর আগে মোহাম্মদ নামের যে চরিত্রের কথা আমরা জানতে পারি, যার হাতে আরব জাতীয়তার উন্মেষ ঘটেছিল। তিনি একজন সফল দলনেতা এবং শাসক। উচ্চাভিলাসী এই শাসক তাঁর পথের কাঁটা সরাতে যত নিষ্ঠুর হবার প্রয়োজন, তাঁর চাইতে বেশি নিষ্ঠুর ছিলেন। আরাম-আয়েসের প্রতি তাঁর আকর্ষণ না থাকলেও তিনি ছিলেন প্রচণ্ড নারীলোভী। একজন রাজাকে তার প্রজা ভক্তি করতে পারে, ভয় পেতে পারে, ভালোবাসতে পারে, ঘৃণা করতে পারে, পূজা করতে পারে। কিন্তু রাজার প্রতিটি কাজকে অনুসরণ করতে পারে না এবং তা সম্ভবও নয়। মুসলমানদের মধ্যে যে মানসিক সমস্যা থাকে এবং সে কারণে তারা যেসব জাগতিক সমস্যা তৈরি করে, তার কারণ - তারা তাদের রাজার মত হাসতে চায়, পরতে চায়, খেলতে চায়, কাঁদতে চায়, খেতে চায়।

বেশ বড় সমস্যা, স্বীকার করতেই হয়।

৬৯.
যত বড় আধুনিক মুসলমান হোক না কেন, সারা পৃথিবীর ওপর মুসলমানদের দাবির কথা তারা অস্বীকার করে না। এর চাইতে বরং গাঁওগেরামের মুসলমান ভালো, যারা দুনিয়ার শাসন নিয়ে মাথা ঘামায় না।

৭০.
কোনো মুসলমানের মৃত্যুসংবাদ পেলে মুসলমানদেরকে শব্দ করে একটি দোয়া পড়তে হয়। কোনো বিধর্মী কাফেরের মৃত্যুসংবাদেও মুসলমানদেরকে একটি দোয়া পড়তে হয়। বাঙালি কম মুসলমানের জাত, তাই এটার চল খুব একটা দেখা যায় না। দোয়ার অর্থ শুনে আমি আঁতকে উঠেছিলাম। মরার পরে তাদের জাহান্নামবাসী হয়ে অনন্তকাল জাহান্নামের আগুনে জ্বলার জন্য দোয়া করা হয়। মৃত্যুর পরেও কোনো বিধর্মী ইসলামের কোপ থেকে রক্ষা পায় না।