১১ আগস্ট, ২০১৬

কোরান একটি অপূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান - ১

নাস্তিক বাংলাদেশ নামের ফেসবুক পেজ-এর সৌজন্যে

কোরান নবী মুহাম্মদ ও তার কতক সহকারী সাহাবী কর্তৃক লিখিত বলেই কুরানে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নবী মুহাম্মদ ও আরবের সমসাময়িক লোকজন যা জানতো না, মুহাম্মদের আল্লাহও তা জানতো না। কুরানে অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখিত হয়নি, অথচ তুলনামুলক কম গুরুত্বপূর্ণ বা তুচ্ছ বিষয় আলোচিত হয়েছে বেশি; অনেক বিষয় একাধিক আয়াতে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। কুরানের অধিকাংশটাই ব্যয় করা হয়েছে নবীর ব্যক্তিগত জীবন, যুদ্ধবিগ্রহ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কিচ্ছা-কাহিনী আলোচনা করে। নবীর জীবদ্দশার সময়কাল ও আরব অঞ্চলটাই প্রাধান্য পেয়েছে; তাই কোরান সর্বকালের জন্যে নয়, সকল মানবজাতির জন্যে নয়। নবী মুহাম্মদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা যতটুকু জানতো, কোরানে ততটুকুই রয়েছে। তো চলুন, কিছু উদাহরণ দেখে আসি।

✔ Global Warming বা বিশ্ব উষ্ণায়ন বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দিন দিন বাড়ছেই; ইতোমধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে ঢাকা, কলকাতা, মালে, সিডনি, লন্ডন, নিউইয়র্কসহ বিশ্বের বড় বড় সব শহর। এক সময় হয়ত মানুষের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, কোরানে বিশ্ব উষ্ণায়নের মতো একটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে কিছুই বলা নেই। তবে বিশ্ব উষ্ণায়নের কথা না থাকলেও দোজখের উষ্ণতার কথা উল্লেখ করতে ভুল হয়নি।

✔ কোরানে মেরু অঞ্চলের কোনো উল্লেখ নেই! কানাডা, নরওয়ে, রাশিয়ার বেশ কিছু শহরে একটানা কয়েক মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হয় দিন রাত। ওসব অঞ্চলে নামাজ রোযার নিয়ম কী? তবে কোরানে মেরু অঞ্চলের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ না থাকলেও আরবের মরুভুমির কথা উল্লেখ আছে বহু আয়াতে।

✔ কুরান লিখিত হয়েছে আরবি ভাষায়। পৃথিবীর মাত্র ৪ শতাংশ মানুষের ভাষা আরবি। বাকি ৯৬ শতাংশ মানুষ আরবি বোঝে না; সুতরাং এই ৯৬ শতাংশ মানুষ কুরান থেকে সরাসরি উপদেশ নিতে পারছে না। নির্ভর করতে হচ্ছে অনুবাদের ওপর। অথচ কুরান আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ও ব্যবহৃত ভাষা ইংরেজিতে লিখিত হলে তা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের বোধগম্য হতো। কিংবা, আল্লাহ আরবিকেই আন্তর্জাতিক অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে দিতে পারতো। অর্থাৎ কুরান সবজান্তা আল্লাহর থেকে প্রেরিত হলে সে কুরানকে আন্তর্জাতিক ভাষা অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি মানুষের বোধগম্য ভাষায় লিখিত করার ব্যবস্থা করতো।

✔ পৃথিবী ও জীবজগতের ইতিহাসে ডাইনোসর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এখন যেমন মানুষ পুরো পৃথিবীতে রাজত্ব করছে, তেমনি একসময় ডাইনোসররা পৃথিবীজুড়ে রাজত্ব করতো। অথচ কুরানে ডাইনোসর সম্পর্কে কিছুই বলা নেই। জীবাশ্ম পরীক্ষা করে অতীতে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া কোন প্রাণীর সম্পর্কে ধারণা লাভ করা সম্ভব ছিল না মুহাম্মদের পক্ষে। তাই ডাইনোসর সম্পর্কে কোরানে উল্লেখ থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক। তবে কোরানে একটি আয়াতেও ডাইনোসরের কথা বলা হয়নি বটে, কিন্তু উটের কথা বলা হয়েছে ১৯ টি আয়াতে! সুবহানাল্লাহ!

✔ অনির্ধারিত লিঙ্গের প্রতিনিধিদের (Transgender) সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ নেই কোরান নামক পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধানে! উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বন্টনের ক্ষেত্রে কারও ছেলে-সন্তান পাবে মেয়ে-সন্তানের দ্বিগুণ! আবার কোনো ঘটনার সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে পুরুষ হলে একজন আর নারী হলে দু'জন সাক্ষী লাগবে। তো, এসব ক্ষেত্রে অনির্ধারিত লিঙ্গের প্রতিনিধিদের কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে? উত্তরাধিকার হিসেবে সম্পত্তির কতটুকু পাবে তারা? তাদের কয়জন সাক্ষ্য দিলে তা সহিহ হবে?

✔ আল্লাহ পৃথিবীতে প্রায় লক্ষাধিক নবী-রাসুল প্রেরণ করেছে। কোরানে ২৫ জন নবী-রাসুলের কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে এই যে, তারা সবাই মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের। যদিও আল্লাহ কোরানে বলেছে যে, সে সকল জাতির জন্যেই নবী পাঠিয়েছে, কিন্তু এটি একটি দায়সারা বাণী। কোরানে উল্লেখিত সব-নবী রাসুলই কেন মধ্যপ্রাচ্যের হবে? আল্লাহ কেন পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের একটি নবীর নামও উল্লেখ করলো না? আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, চীন, জাপান ও ভারতীয় অঞ্চলের কুখ্যাত সব কাফের-ইহুদি-নাসারাদের মানুষ করার জন্যে কি কোনো নবীর দরকার ছিল না?

(চলবে)