৩১ আগস্ট, ২০১৬

শুভ্র বচন

লিখেছেন শুভ্র আহমেদ

১.
কনকনে শীতে বাবা ডেকে তুলত ফজরের নামাজের জন্য। নতুন কৈশোর। প্রায় রাতেই স্বপ্নদোষ হত। নামাজের জন্য এই শীতে কে গোসল করবে? ঐ শরীরেই মসজিদে যেতাম। ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে এক অপার্থিব আতঙ্কে ভুগতাম। মনে হত, এখুনি না খোদার গজবে পাথর হয়ে যাই! 

মাদ্রাসায় যখন এলাম, সেখানে সব ছাত্রের অবস্থা দেখে চোখ কপালে উঠল। অনেকেরই স্বপ্নদোষ হয়। তারা অপবিত্র দেহে কোরান ছোঁয়। কী করবে তারা? কী করতে পারবে? ঠাণ্ডায় ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করবে? এর চেয়ে গোসল ছাড়াই কোরান ছোঁয়া ভাল।

আল্লাহর ভয়ের চেয়ে হুজুরের ভয় বেশি বাস্তব।

২.
অন্য ধর্মের লোক, হোক সে বৌদ্ধ, হিন্দু বা খ্রিষ্টান - হাজার ভাল কাজ করার পরও দোযখে যাবে, কারণ তার ঈমান নেই। এটা আল্লাহর বিধান। এখন প্রশ্ন:
- মানুষ কোন ধর্মের পরিবারে জন্ম নেবে, তার ওপর তো তার নিজের হাত নেই। এটার জন্য কেন সে দায়ী হবে?
- মানুষের ভাল কাজের চেয়ে যার কাছে বিশ্বাসের মুল্য বেশি, তিনি আবার কেমন আল্লাহ?
- যদি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হবার কারণে কাউকে দোযখে দিতে হয়, তবে কি সবার আগে আল্লাহর বিচার করা উচিত না যে, তিনি কেন কাউকে মুসলিম আর কাউরে অমুসলিম ঘরে পাঠালেন?
৩.
ইসলামের প্রথম চার খলিফার শেষোক্ত তিনজনের মৃত্যুই অত্যন্ত নির্মম। ওমর, ওসমান আর আলী তিনজনকেই তলোয়ারের কোপে মরতে হয়েছে। 

এদের মাঝে ওমর বাদে বাকি দু'জন - আলী আর ওসমান - নিজের জাত ভাইদের হাতেই মারা যান। ওসমান হন্তকদের একজন ছিল মুহম্মদের জিগরি দোস্ত আবু বকরের ছেলে। ওমরের মৃত্যুর পর থেকেই শান্তির অনুসারীদের যে অশান্তি শুরু হয়েছে, সেটা আর থামার নাম নেই। 

আজ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে তাকালেই আতঙ্ক লাগে। ওঝা যায়, "মুসলিম-মুসলিম ভাই-ভাই" কথাটা কত অসার! মুসলিমরা নিজেরা নেই শান্তিতে, অন্য ধর্মের লোকদেরও শান্তিতে রাখতে দেয় না। অন্য কোথাও কারো সাথে কারো ধর্মবিরোধ নেই, মারামারি নেই, হানাহানি নেই, কিন্তু মুসলিম যেখানে, সেখানেই ধর্মীয় দাঙ্গা। 

এজন্যই বলা হয়, মুসলিম আর অমুসলিম একসাথে থাকলে হয় problem, আর মুসলিম আর মুসলিম একসাথে থাকলে হয় big problem.