২০ আগস্ট, ২০১৬

কোরান একটি অপূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান - ২

নাস্তিক বাংলাদেশ নামের ফেসবুক পেজ-এর সৌজন্যে

কোরান নবী মুহাম্মদ ও তার কতক সহকারী সাহাবী কর্তৃক লিখিত বলেই কুরানে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নবী মুহাম্মদ ও আরবের সমসাময়িক লোকজন যা জানতো না, মুহাম্মদের আল্লাহও তা জানতো না। কুরানে অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখিত হয়নি, অথচ তুলনামুলক কম গুরুত্বপূর্ণ বা তুচ্ছ বিষয় আলোচিত হয়েছে বেশি; অনেক বিষয় একাধিক আয়াতে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। কুরানের অধিকাংশটাই ব্যয় করা হয়েছে নবীর ব্যক্তিগত জীবন, যুদ্ধবিগ্রহ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কিচ্ছা-কাহিনী আলোচনা করে। নবীর জীবদ্দশার সময়কাল ও আরব অঞ্চলটাই প্রাধান্য পেয়েছে; তাই কোরান সর্বকালের জন্যে নয়, সকল মানবজাতির জন্যে নয়। নবী মুহাম্মদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা যতটুকু জানতো, কোরানে ততটুকুই রয়েছে। তো চলুন, কিছু উদাহরণ দেখে আসি।


✔ আমাদের মহাবিশ্ব ঠিক কতটা বড়, সে সম্পর্কে কি কোনো ধারণা আছে? বিশাল সমুদ্রের মধ্যে এক ফোঁটা পানি কিংবা তার চেয়ে ছোট আমাদের পৃথিবী! কোরানে এই বিশাল মহাবিশ্ব সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা দেয়া নেই কেন? বিশাল সমুদ্রের সৃষ্টিকর্তা এক ফোঁটা পানির মধ্যেই তার আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখলেন! বিলিয়ন বিলিয়ন গ্রহ-নক্ষত্রের কথা কিছুই বললেন না, বললেন শুধু পৃথিবী, চন্দ্র আর সুর্যের কথা! তাও পৃথিবীর পুরো অংশ নয়, প্রাধান্য পেয়েছে আরব অঞ্চলটাই।

✔ সর্বকালের সকল মানব জাতির জন্যে রচিত গ্রন্থ কোরানে পৃথিবীর বেশ কয়েকটি বৃহৎ ধর্ম সম্পর্কে কোনো কিছু বলা হয়নি। যেমন - হিন্দুধর্ম, চৈনিক ধর্ম, বৌদ্ধধর্ম ইত্যাদি সম্পর্কে কোরানের একটা আয়াতেও উল্লেখ নেই। অপরপক্ষে, আরবের এক বিলুপ্ত ধর্ম সাবিয়ান সম্পর্কে বলা হয়েছে ৩ টি আয়াতে। কেন এমনটি হলো? কারণ একটাই: নবীজির সময়ে আরবে যেসকল ধর্ম বিদ্যমান ছিল, সেগুলোই কোরানে উল্লেখ করেছেন। পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ কে কী ধর্ম পালন করছে, তা নবী মুহাম্মদের জানা ছিল না। জানলে নির্দিষ্টভাবে ধর্মের নাম উল্লেখ করে হিন্দু-বৌদ্ধদেরও জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে রাখতেন।

✔ কোরানে যতগুলো জাতিগোষ্ঠী/সম্প্রদায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে তার সবগুলোই আরব অঞ্চলের। পৃথিবীর অন্য সব জাতি সম্পর্কে কি আল্লাহ অবগত ছিলেন না? তাছাড়া, বর্তমান বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো সম্পর্কে কিছু বলা নেই কেন? কোরানে কেন বলা হলো না যে, ব্রিটিশরা পুরো পৃথিবী শাসন করবে? কেন বলা নেই যে, যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীজুড়ে মাতব্বরি করবে? তাহলে কি ভেবে নেবো যে, কোরান ১৪০০ বছর আগের জন্যেই, বর্তমানের জন্যে নয়?

✔ কোরানে কেন নেই বিশ্বযুদ্ধের কথা? এটা কি মানবজাতির জন্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নয়? বিশ্বযুদ্ধের কথা উল্লেখ না থাকলেও বদরের যুদ্ধ, কদরের যুদ্ধ... খন্দকের যুদ্ধ, গন্ধকের যুদ্ধের কথা তো ঠিকই আছে। কেন? ঐ যুদ্ধগুলো নবী মুহাম্মদের সাথে সম্পৃক্ত ছিল বলে? আর বিশ্বযুদ্ধগুলো ভবিষ্যতে হবে, তাই আল্লাহর এটা জানা ছিল না, তাই তো?

✔ আধুনিক প্রযুক্তি মানুষের জীবনটাই বদলে দিয়েছে। কোরানে কি কোনো আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে উল্লেখ আছে? কম্পিউটার, ইন্টারনেট, টেলিভিশন, রকেট, বিদ্যুৎ, নিউক্লিয়ার পাওয়ার, মোবাইল, টেস্টটিউব বেবি? তাহলে আমরা কীভাবে দাবি করবো যে, কোরান সর্বকালের? কোরানে রকেট সায়েন্স না থাকলেও উড়ন্ত গাধার কিচ্ছা কিন্তু ঠিকই আছে। আলহামদুলিল্লাহ...

✔ আজকের তালিবান জঙ্গীরা প্রত্যেকে সাথে করে আড়াই লাখ টাকা দামের মেশিনগান আর পাঁচ লাখ টাকা দামের রকেট লঞ্চার নিয়ে ঘোরে, অথচ পকেটে নেই একজোড়া জুতা কেনার টাকা! কিন্তু কোরানে কি উল্লেখ আছে এসব আধুনিক অস্ত্রের কথা? ফাইটার জেট, সাবমেরিন, নিউক্লিয়ার বোমা, মিসাইল, জীবাণু-অস্ত্র... এসব আধুনিক সব যুদ্ধাস্ত্র সম্পর্কে কেন কিছু বলা হয়নি? তলোয়ারের কথা বলতে তো ভুল করেননি আল্লাহ।

✔ আমাদের এই পৃথিবী গোলক আকৃতির। কোরানের এমন একটি আয়াতও কি দেখাতে পারবেন, যেটা বলে পৃথিবী গোল? এমন একটি আয়াতও কি দেখাতে পারবেন, যেটা বলে পৃথিবী ঘুরছে? পুরা কোরান তন্ন তন্ন করে খুঁজলেও পাবেন না, কেননা মুহাম্মদ জানতো না পৃথিবীর আকৃতি কিংবা গতি সম্পর্কে। বরং কোরান বলেছে, পৃথিবী সমতল এবং এর বেশি কিছু কোরান থেকে আশা করা উচিত নয়। 

✔ কোরানে পিপড়া, মৌমাছি, উট, গরু, কুকুর, সাপ, ঘোড়া, গাধাসহ সর্বমোট ৩৫ টি প্রাণীর কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, এদের সবাইকে আরব অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায় । আরব দেশে বাসস্থান নয়, এমন কোনো প্রাণীর উল্লেখ কোরানে নেই। থাকবেই বা কীভাবে? সাত সমুদ্র তের নদী পেরিয়ে অষ্ট্রেলিয়াতে গিয়ে ক্যাঙ্গারু, সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার কিংবা অ্যান্টার্কটিকাতে গিয়ে পেঙ্গুইন দেখে আসা তো সম্ভব ছিল না। আর হ্যাঁ, সমুদ্রের নিচে যে লক্ষ লক্ষ জীব প্রজাতি বাস করে, তাদের নাম কোরানে আশা করা নিশ্চয়ই বোকামি হবে?

কোরানের অপূর্ণাঙ্গতা লিখে শেষ করা যাবে না। আজকের আলোচনায় একটা জিনিসই বুঝাতে চেয়েছি। তা হলো: “No god knows more than the people who believe in it.”