৪ আগস্ট, ২০১৬

কোরআন যেভাবে অবতীর্ণ: মক্কা দ্বিতীয় অধ্যায়:- দেড় কিলোমিটারে সাত বছর- (পর্ব ০৭)

লিখেছেন নরসুন্দর মানুষ


{মুহাম্মদের সংগ্রহীত ও কিছুটা পরিবর্তিত নতুন একত্ববাদী ধর্মমত প্রচারের তিন বছরে অনুসারীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৭০ জনের কাছাকাছি; যদিও ইসলামী সূত্রানুসারে এ সংখ্যা ৪০ থেকে ৪৫ এর মধ্যে বলা হয়, যা একটি অন্ধ একপেশে গণনা। মজার বিষয় লক্ষণীয়, মুহাম্মদের গোপন প্রচারের সময়কালীন তার অনুসারী হবার অনুপাত, মক্কায় প্রকাশ্য প্রচারের ৭ বছর সময়কাল থেকে দ্বিগুণ বেশী!

নতুন মতামত আর নেতৃত্বের ধরন হচ্ছে জনসমক্ষে আসার তীব্র বাসনা পুষে রাখা; মুহাম্মদ নিজেও তা অতিক্রম করতে পারেননি; আর সাহাবীদের চাপ তাকে শেষতক বাধ্য করে জনসমক্ষে আসতে। নতুন ধর্মমত নিয়ে মক্কায় কানকথা শুরু হয় প্রায় ১ বছর আগ থেকেই, কিন্তু এটা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা ছিল না মক্কার গোত্র-প্রধানদের! একইসাথে মুহাম্মদ কিছুটা ভীতুও হয়ে পড়েন; আর তার ফলস্বরুপ মুহাম্মদের দ্বিতীয় সত্তা (আল্লাহ ও জিব্রাইল) পূর্ববর্তী নবীদের (মুসা, ইব্রাহীম, নূহ, সালেহ, শো’আয়ব, লূত) উদাহরণ টেনে মুহাম্মদকে বলে:

২১৪. আপনি নিকটতম আত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দিন।
২১৫. এবং আপনার অনুসারী মুমিনদের প্রতি সদয় হোন।

এই মনস্তত্ত্ব নিয়ে পরপর দু'বার মুহাম্মদ তার হাশিম গোত্রের আত্মীয়দের জন্য ভোজের নিমন্ত্রণ করেন; আর এই নিমন্ত্রণের অনুষ্ঠান থেকেই প্রথম বিরোধিতা উঠে আসে তার নিজের চাচা আবু লাহাব-এর (আব্দুল উজ্জা) কাছ থেকে; চাচার প্রতি একটা চাপা ক্ষোভ নিয়ে মুহাম্মদ সাফা পাহাড়ে উঠবেন আগামী পর্বে; এবং প্রকাশ করবেন তার বিখ্যাত ৩৯ তম প্রকাশ, সূরা লাহাব(আল মাসাদ)!

কোরআন অবতীর্ণ হবার ধারাবাহিকতা অনুসারে প্রকাশের আজ ৭ম পর্ব; এই পর্বে থাকছে মক্কা দ্বিতীয় অধ্যায়:- দেড় কিলোমিটারে সাত বছরের প্রথম তিন অংশঅনুবাদের ভাষা ৫০ টির বেশি বাংলা/ইংরেজি অনুবাদ অনুসারে নিজস্ব।}

নবী মুহাম্মদ দ্বারা ৩৬ তম প্রকাশ; সূরা আশ শুআরা (২৬) (কবিগণ) ৫২ থেকে ১১০ নং আয়াত:

৫২. আমি মূসাকে আদেশ করলাম যে, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিযোগে বের হয়ে যাও, নিশ্চয় তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।
৫৩. অতঃপর ফেরাউন শহরে শহরে সংগ্রাহকদেরকে প্রেরণ করল,
৫৪. নিশ্চয় এরা (বনী-ইসরাঈলরা) ক্ষুদ্র একটি দল।
৫৫. এবং তারা আমাদের ক্রোধের উদ্রেক করেছে।
৫৬. এবং আমরা সবাই সদা শংকিত।
৫৭. অতঃপর আমি ফেরআউনের দলকে তাদের বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণাসমূহ থেকে বহিষ্কার করলাম।
৫৮. এবং ধন-ভাণ্ডার ও মনোরম স্থানসমূহ থেকে।
৫৯. এরূপই হয়েছিল এবং বনী-ইসলাঈলকে করে দিলাম এসবের মালিক।
৬০. অতঃপর সুর্যোদয়ের সময় তারা তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল।
৬১. যখন উভয় দল পরস্পরকে দেখল, তখন মূসার সঙ্গীরা বলল, আমরা যে ধরা পড়ে গেলাম।
৬২. মূসা বলল, কখনই নয়, আমার সাথে আছেন আমার পালনকর্তা। তিনি আমাকে পথ বলে দেবেন।
৬৩. অতঃপর আমি মূসাকে আদেশ করলাম, তোমার লাঠি দ্বারা সমূদ্রকে আঘাত কর। ফলে, তা বিদীর্ণ হয়ে গেল এবং প্রত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতসদৃশ হয়ে গেল।
৬৪. আমি সেথায় অপর দলকে পৌঁছিয়ে দিলাম।
৬৫. এবং মূসা ও তাঁর সঙ্গীদের সবাইকে বাঁচিয়ে দিলাম।
৬৬. অতঃপর অপর দলটিকে নিমজ্জিত করলাম।
৬৭. নিশ্চয় এতে একটি নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী ছিল না।
৬৮. আপনার পালনকর্তা অবশ্যই পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
৬৯. আর তাদেরকে ইব্রাহীমের বৃত্তান্ত শুনিয়ে দিন।
৭০. যখন তাঁর পিতাকে এবং তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা কিসের এবাদত কর?
৭১. তারা বলল, আমরা প্রতিমার পূজা করি এবং সারাদিন এদেরকেই নিষ্ঠার সাথে আঁকড়ে থাকি।
৭২. ইব্রাহীম বললেন, তোমরা যখন আহবান কর, তখন তারা শোনে কি?
৭৩. অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে?
৭৪. তারা বলল: না, তবে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি, তারা এরূপই করত।
৭৫. ইব্রাহীম বললেন, তোমরা কি তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ, যাদের পূজা করে আসছ।
৭৬. তোমরা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষেরা?
৭৭. বিশ্বপালনকর্তা ব্যতীত তারা সবাই আমার শত্রু।
৭৮. যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনিই আমাকে পথপ্রদর্শন করেন,
৭৯. যিনি আমাকে আহার এবং পানীয় দান করেন,
৮০. যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন।
৮১. যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, অতঃপর পুনর্জীবন দান করবেন।
৮২. আমি আশা করি, তিনিই বিচারের দিনে আমার ক্রটি-বিচ্যুতি মাফ করবেন।
৮৩. হে আমার পালনকর্তা, আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত কর
৮৪. এবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী কর।
৮৫. এবং আমাকে নেয়ামত উদ্যানের অধিকারীদের অন্তর্ভূক্ত কর।
৮৬. এবং আমার পিতাকে ক্ষমা কর। সে তো পথভ্রষ্টদের অন্যতম।
৮৭. এবং পুনরুত্থান দিবসে আমাকে লাঞ্ছিত করো না,
৮৮. যে দিবসে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না;
৮৯. কিন্তু যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে।
৯০. জান্নাত আল্লাহভীরুদের নিকটবর্তী করা হবে।
৯১. এবং বিপথগামীদের সামনে উন্মোচিত করা হবে জাহান্নাম।
৯২. তাদেরকে বলা হবে: তারা কোথায়, তোমরা যাদের পূজা করতে।
৯৩. আল্লাহর পরিবর্তে? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে, অথবা তারা প্রতিশোধ নিতে পারে?
৯৪. অতঃপর তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টদেরকে আধোমুখি করে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে।
৯৫. এবং ইবলীস বাহিনীর সকলকে।
৯৬. তারা তথায় কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয়ে বলবে:
৯৭. আল্লাহর কসম, আমরা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিলাম।
৯৮. যখন আমরা তোমাদেরকে বিশ্বপালনকর্তার সমতুল্য গণ্য করতাম।
৯৯. আমাদেরকে দুষ্টকর্মীরাই গোমরাহ করেছিল।
১০০. অতএব আমাদের কোনো সুপারিশকারী নেই।
১০১. এবং কোনো সহৃদয় বন্ধুও নেই।
১০২. হায়, যদি কোনোরূপে আমরা পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পেতাম, তবে আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়ে যেতাম।
১০৩. নিশ্চয়, এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।
১০৪. আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
১০৫. নূহের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যারোপ করেছে।
১০৬. যখন তাদের ভ্রাতা নূহ তাদেরকে বললেন, তোমাদের কি ভয় নেই?
১০৭. আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত বার্তাবাহক।
১০৮. অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
১০৯. আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোনো প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো বিশ্বপালনকর্তাই দেবেন।
১১০. অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।

নবী মুহাম্মদ দ্বারা ৩৭ তম প্রকাশ; সূরা আশ শুআরা (২৬) (কবিগণ) ১৯৭ বাদে ১১১ থেকে ১৮০ নং আয়াত:

১১১. তারা বলল, আমরা কি তোমাকে মেনে নেব, যখন তোমার অনুসরণ করছে ইতরজনেরা?
১১২. নূহ বললেন, তারা কী কাজ করছে, তা জানা আমার কী দরকার?
১১৩. তাদের হিসাব নেয়া আমার পালনকর্তারই কাজ; যদি তোমরা বুঝতে!
১১৪. আমি মুমিনগণকে তাড়িয়ে দেয়ার লোক নই।
১১৫. আমি তো শুধু একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
১১৬. তারা বলল, হে নূহ, যদি তুমি বিরত না হও, তবে তুমি নিশ্চিতই প্রস্তরাঘাতে নিহত হবে।
১১৭. নূহ বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় তো আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে।
১১৮. অতএব, আমার ও তাদের মধ্যে কোনো ফয়সালা করে দিন এবং আমাকে ও আমার সঙ্গী মুমিনগণকে রক্ষা করুন।
১১৯. অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর সঙ্গীগণকে বোঝাই করা নৌকায় রক্ষা করলাম।
১২০. এরপর অবশিষ্ট সবাইকে নিমজ্জিত করলাম।
১২১. নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।
১২২. নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
১২৩. আদ সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
১২৪. তখন তাদের ভাই হুদ তাদেরকে বললেন: তোমাদের কি ভয় নেই?
১২৫. আমি তোমাদের বিশ্বস্ত রসূল।
১২৬. অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
১২৭. আমি তোমাদের কাছে এর জন্যে প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো পালনকর্তা দেবেন।
১২৮. তোমরা কি প্রতিটি উচ্চস্থানে অযথা নিদর্শন নির্মান করছ?
১২৯. এবং বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করছ, যেন তোমরা চিরকাল থাকবে?
১৩০. যখন তোমরা আঘাত হান, তখন জালেম ও নিষ্ঠুরের মত আঘাত হান।
১৩১. অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
১৩২. ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে সেসব বস্তু দিয়েছেন, যা তোমরা জান।
১৩৩. তোমাদেরকে দিয়েছেন চতুষ্পদ জন্তু ও পুত্রসন্তান,
১৩৪. এবং উদ্যান ও ঝরণা।
১৩৫. আমি তোমাদের জন্যে মহাদিবসের শাস্তি আশংকা করি।
১৩৬. তারা বলল, তুমি উপদেশ দাও অথবা উপদেশ না-ই দাও, উভয়ই আমাদের জন্যে সমান।
১৩৭. এসব কথাবার্তা পূর্ববর্তী লোকদের অভ্যাস বৈ নয়।
১৩৮. আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হব না।
১৩৯. অতএব, তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলতে লাগল এবং আমি তাদেরকে নিপাত করে দিলাম। এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।
১৪০. এবং আপনার পালনকর্তা, তিনি তো প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
১৪১. সামুদ সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
১৪২. যখন তাদের ভাই সালেহ, তাদেরকে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না?
১৪৩. আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।
১৪৪. অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
১৪৫. আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্বপালনকর্তাই দেবেন।
১৪৬. তোমাদেরকে কি এ জগতের ভোগবিলাসের মধ্যে নিরাপদে রেখে দেয়া হবে?
১৪৭. উদ্যানসমূহের মধ্যে এবং ঝরণাসমূহের মধ্যে?
১৪৮. শস্যক্ষেত্রের মধ্যে এবং মঞ্জুরিত খেজুর বাগানের মধ্যে?
১৪৯. তোমরা পাহাড় কেটে জাঁকজমকের গৃহ নির্মাণ করছ।
১৫০. সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর।
১৫১. এবং সীমালংঘনকারীদের আদেশ মান্য কর না;
১৫২. যারা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না;
১৫৩. তারা বলল, তুমি তো জাদুগ্রস্তদের একজন।
১৫৪. তুমি তো আমাদের মতই একজন মানুষ বৈ নও। সুতরাং যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে কোনো নিদর্শন উপস্থিত কর।
১৫৫. সালেহ বললেন এই উষ্ট্রী, এর জন্যে আছে পানি পানের পালা এবং তোমাদের জন্যে আছে পানি পানের পালা নির্দিষ্ট এক-এক দিনের।
১৫৬. তোমরা একে কোনো কষ্ট দিও না। তাহলে তোমাদেরকে মহাদিবসের আযাব পাকড়াও করবে।
১৫৭. তারা তাকে বধ করল ফলে, তারা অনুতপ্ত হয়ে গেল।
১৫৮. এরপর আযাব তাদেরকে পাকড়াও করল। নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।
১৫৯. আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
১৬০. লূতের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
১৬১. যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না?
১৬২. আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।
১৬৩. অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
১৬৪. আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব-পালনকর্তা দেবেন।
১৬৫. সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই কি পুরুষদের সাথে কুকর্ম কর?
১৬৬. এবং তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে বর্জন কর? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।
১৬৭. তারা বলল, হে লূত, তুমি যদি বিরত না হও, তবে অবশ্যই তোমাকে বহিষ্কৃত করা হবে।
১৬৮. লূত বললেন, আমি তোমাদের এই কাজকে ঘৃণা করি।
১৬৯. হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এবং আমার পরিবারবর্গকে তারা যা করে, তা থেকে রক্ষা কর।
১৭০. অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে রক্ষা করলাম।
১৭১. এক বৃদ্ধা ব্যতীত, সে ছিল ধ্বংস প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।
১৭২. এরপর অন্যদেরকে নিপাত করলাম।
১৭৩. তাদের ওপর এক বিশেষ বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। ভীতি-প্রদর্শিতদের জন্যে এই বৃষ্টি ছিল কত নিকৃষ্ট।
১৭৪. নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।
১৭৫. নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
১৭৬. বনের অধিবাসীরা পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
১৭৭. যখন শো’আয়ব তাদেরকে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না?
১৭৮. আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।
১৭৯. অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
১৮০. আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোনো প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্বপালনকর্তাই দেবেন।

নবী মুহাম্মদ দ্বারা ৩৮ তম প্রকাশ; সূরা আশ শুআরা (২৬) (কবিগণ) ১৯৭ বাদে ১৮১ থেকে ২২৩ নং আয়াত:

১৮১. মাপ পূর্ণ কর এবং যারা পরিমাপে কম দেয়, তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
১৮২. সোজা দাঁড়িপাল্লায় ওজন কর।
১৮৩. মানুষকে তাদের বস্তু কম দিয়ো না এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে ফিরো না।
১৮৪. ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তী লোক-সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করেছেন।
১৮৫. তারা বলল, তুমি তো জাদুগ্রস্তদের অন্যতম।
১৮৬. তুমি আমাদের মত মানুষ বৈ তো নও। আমাদের ধারণা - তুমি মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।
১৮৭. অতএব, যদি সত্যবাদী হও, তবে আকাশের কোনো টুকরো আমাদের ওপর ফেলে দাও।
১৮৮. শো’আয়ব বললেন, তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আমার পালনকর্তা ভালরূপে অবহিত।
১৮৯ অতঃপর তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলে দিল। ফলে তাদেরকে মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব পাকড়াও করল। নিশ্চয় সেটা ছিল এক মহাদিবসের আযাব।
১৯০. নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
১৯১. নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
১৯২. এই কোরআন তো বিশ্ব-জাহানের পালনকর্তার নিকট থেকে অবতীর্ণ।
১৯৩. বিশ্বস্ত ফেরেশতা একে নিয়ে অবতরণ করেছে।
১৯৪. আপনার অন্তরে, যাতে আপনি ভীতি প্রদর্শনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন,
১৯৫. সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।
১৯৬. নিশ্চয় এর উল্লেখ আছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে।
১৯৮. যদি আমি একে কোনো ভিন্নভাষীর প্রতি অবতীর্ণ করতাম,
১৯৯. অতঃপর তিনি তা তাদের কাছে পাঠ করতেন, তবে তারা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করত না।
২০০. এমনিভাবে আমি গোনাহগারদের অন্তরে অবিশ্বাস সঞ্চার করেছি।
২০১. তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে না, যে পর্যন্ত প্রত্যক্ষ না করে মর্মন্তুদ আযাব।
২০২. অতঃপর তা আকস্মিকভাবে তাদের কাছে এসে পড়বে, তারা তা বুঝতেও পারবে না।
২০৩. তখন তারা বলবে, আমরা কি অবকাশ পাব না?
২০৪. তারা কি আমার শাস্তি দ্রুত কামনা করে?
২০৫. আপনি ভেবে দেখুন তো, যদি আমি তাদেরকে বছরের পর বছর ভোগ-বিলাস করতে দিই,
২০৬. অতঃপর যে-বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা দেয়া হত, তা তাদের কাছে এসে পড়ে।
২০৭. তখন তাদের ভোগবিলাস তা তাদের কি কোনো উপকারে আসবে?
২০৮. আমি কোনো জনপদ ধ্বংস করিনি; কিন্তু এমতাবস্থায় যে, তারা সতর্ককারী ছিল।
২০৯. স্মরণ করানোর জন্যে, এবং আমার কাজ অন্যায়াচরণ নয়।
২১০. এই কোরআন শয়তানরা অবতীর্ণ করেনি।
২১১. তারা এ কাজের উপযুক্ত নয় এবং তারা এর সামর্থ্য রাখে না।
২১২. তাদেরকে তো শ্রবণের জায়গা থেকে দূরে রাখা রয়েছে।
২১৩. অতএব, আপনি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে আহবান করবেন না। করলে শাস্তিতে পতিত হবেন।
২১৪. আপনি নিকটতম আত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দিন।
২১৫. এবং আপনার অনুসারী মুমিনদের প্রতি সদয় হোন।
২১৬. যদি তারা আপনার অবাধ্য করে, তবে বলে দিন, তোমরা যা কর, তা থেকে আমি মুক্ত।
২১৭. আপনি ভরসা করুন পরাক্রমশালী, পরম দয়ালুর উপর,
২১৮. যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি নামাযে দণ্ডায়মান হন,
২১৯. এবং নামাযীদের সাথে ওঠাবসা করেন।
২২০. নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
২২১. আমি আপনাকে বলব কি কার নিকট শয়তানরা অবতরণ করে?
২২২. তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক মিথ্যাবাদী, গোনাহগারের উপর।
২২৩. তারা শ্রুত কথা এনে দেয় এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
২২৪. বিভ্রান্ত লোকেরাই কবিদের অনুসরণ করে।
২২৫. তুমি কি দেখ না যে, তারা প্রতি ময়দানেই উদভ্রান্ত হয়ে ফেরে?
২২৬. এবং এমন কথা বলে, যা তারা করে না।
২২৭. তবে তাদের কথা ভিন্ন, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং আল্লাহ কে খুব স্মরণ করে এবং নিপীড়িত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে। নিপীড়নকারীরা শীঘ্রই জানতে পারবে তাদের গন্তব্যস্থল কীরূপ।

আয়াত প্রকাশের মনোজগত: একটা প্রশ্ন মনে আসে অনেকের: এটা প্রমাণিত যে, হিজাজের জনগণ কবিতাপ্রেমী ছিল; তাহলে মুহাম্মদের প্রকাশিত সূরার সাথে কী এমন মৌলিক পার্থক্য ছিল সেই সব কবিতার? এ প্রশ্নের উত্তর পেলেই মুহাম্মদের মনোজগতের খবর মিলবে অনেকটাই; আগামী পর্বে আমরা খোঁজ করবো, কী এমন আলাদা ছিলো মুহাম্মদের বাণীতে, যা তাকে কবির বদলে নবী করেছে। অপেক্ষায় থাকুন!

(চলবে)