৫ জুলাই, ২০১৬

খায়বার যুদ্ধ - ২: “হত্যা করো! হত্যা করো!”: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ১৩১): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত পাঁচ

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী: এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর হুদাইবিয়া যাত্রায় অংশগ্রহণকারী অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে খায়বারে অবস্থিত ইহুদি জনপদবাসীদের ওপর আক্রমণের উদ্দেশ্যে কীভাবে মদিনা থেকে রওনা হয়েছিলেন; পথিমধ্যে কোথায় তিনি সাময়িক যাত্রা বিরতি দিয়েছিলেন; দিনের কোন সময়ে তিনি অবিশ্বাসী জনপদের ওপর হামলা চালাতেন; যখন তিনি তাদেরকে আক্রমণ করেছিলেন, তখন তাঁরা কী অবস্থায় ছিলেন; "মুহাম্মদ ও তার বাহিনী" বলে চিৎকার করতে করতে নিজেদের প্রাণ রক্ষা  ও অন্যান্য লোকদের সাবধান করার জন্য যখন লোকেরা দৌড়ে পালাচ্ছিলেন, তখন "আল্লাহু আকবর! খায়বার ধ্বংস হয়েছে" ঘোষণা দিয়ে মুহাম্মদ তাদেরকে কীভাবে আক্রমণ করেছিলেন - ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে। আমরা জেনেছি যে, ঘাতাফান গোত্রের লোকেরা খায়বারের ইহুদিদের সাহায্যের জন্য রওনা হয়ে এক দিনের রাস্তা অগ্রসর হওয়ার পর যে-খবরটি শুনতে পেয়ে ফিরে গিয়েছিলো, তা হলো, তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের লোকদের আক্রমণ করা হয়েছে।

আল-ওয়াকিদির বিস্তারিত বর্ণনায় আমরা জানতে পরি যে, ঘাতাফান গোত্রের ঐ লোকেরা যখন তাদের আবাসস্থল হেইফা (Hayfa)-তে ফিরে যায় ও জানতে পারে যে, এই খবরটি মিথ্যা-গুজব, তখন তাদের দলনেতা ইউয়েনা বিন হিসন (পর্ব: ৭৭) অভিযোগ করে যে, এই প্রতারণাটি করেছিলেন মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা, উদ্দেশ্য তাদেরকে বিভ্রান্ত করা ('Uyana said to his companions, "This, by God, is one of the tricks of Muhammad and his companions. He misled us, by God."')। [1]

আদি উৎসের নিবেদিতপ্রাণ মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই বর্ণনায় যে-বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো - মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের এই হামলাটি ছিল "অতর্কিত!" খায়বারের জনপদবাসীর অতি প্রত্যূষের ঘুমের আমেজ যখন তখনও কাটেনি, কোদাল ও ঝুড়ি নিয়ে কিছু কিছু শ্রমিক যখন সবেমাত্র কাজে বের হয়েছেন, তখন মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা অতর্কিতে তাঁদের ওপর এই নৃশংস আক্রমণটি চালান। তাঁরা এই হামলাকারীদের দেখতে পেয়ে "মুহাম্মদ ও তার বাহিনী" বলে চিৎকার করে লোকদের সতর্ক করতে করতে দৌড়ে পালিয়ে এসে তাঁদের দুর্গ মধ্যে আশ্রয় নেয়। আর মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের নিয়ে "আল্লাহু আকবর! খায়বার ধ্বংস হয়েছে!" বলে তাঁদের ওপর আক্রমণ চালায় (পর্ব:১৩০);  মুহাম্মদ সর্বপ্রথম তাঁদের যে-দুর্গটি আক্রমণ করেন তা হলো, খায়বারের আল-নাটা (al-Nata) নামক স্থানের "নাইম দুর্গ।"

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ) বর্ণনা: [2]

'পরদিন সকালে আল্লাহর নবী মুসলমানদের সঙ্গে নিয়ে তাদের ব্যানার সহ বাইরে বের হন। তাদের শ্লোগান ছিল, "ইয়া মানসুর, হত্যা করো!" আল-হুবাব বিন আল-মুনধির তাঁকে বলেন, "এটি সুনিশ্চিত যে, ইহুদিরা তাদের খেজুর গাছগুলোকে তাদের প্রথম সন্তানের চেয়েও বেশি মূল্যবান বলে বিবেচনা করে। সুতরাং তাদের খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলো।"

আল্লাহর নবী খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলার নির্দেশ জারি করেন। মুসলমানরা ত্বরা করে সেগুলো কেটে ফেলা শুরু করে। আবু বকর তাঁর কাছে আসেন ও বলেন, "হে আল্লাহর নবী, নিশ্চয়ই সর্বশক্তিমান আল্লাহ আপনাকে খায়বার বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আপনাকে দেয়া তার সেই প্রতিশ্রুতি সে নিশ্চয়ই পূরণ করবে। সুতরাং খেজুর গাছগুলো কাটবেন না।" আল্লাহর নবী তাঁর এক ঘোষককে ঘোষণা করতে বলেন যে, তারা যেন খেজুর গাছগুলো আর না কাটে ও তা কাটায় বাধা প্রদান করে। মুহাম্মদ বিন ইয়াহিয়া তার দাদা হইতে > তার পিতার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমাকে বলেছেন, তিনি বলেছিলেন, "আমি খায়বারের নাটা নামক স্থানে খেজুর গাছগুলো টুকরা অবস্থায় দেখেছি, তা ছিলো এই কারণে যে, আল্লাহর নবীর অনুসারীরা তা কেটে ফেলেছিলেন।"
           
জাফর বিন মাহমুদ বিন মুহাম্মাদ বিন মাসলামার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ওসামা বিন যায়েদ আল-লেইথি আমাকে বলেছেন, "মুসলমানরা নাটার ইদিকে (Idhq) ৪০০ টি খেজুর গাছ কেটে ফেলেছিলো। তা কাটা হয়েছিল শুধু নাটাতেই।"  

মুহাম্মদ বিন মাসলামা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আচারের মধ্যে খেজুর দেখে বলেছিলেন, "আমি নিজের হাতে খেজুরগুলো কেটেছিলাম যতক্ষণে না আমি শুনতে পাই যে বেলাল আল্লাহর নবীর সিদ্ধান্ত চিৎকার করে ঘোষণা করছে, "খেজুর গাছগুলো কেটো না!", অতঃপর আমরা তা কাটা বন্ধ করি।"

তিনি বলেছেন, "মাহমুদ বিন মাসলামা সেই সময়ে মুসলমানদের পক্ষে যুদ্ধ করছিলো, সেটি ছিল গ্রীষ্মকালের খুবই গরম একটি দিন। নাটার লোকদের বিরুদ্ধে আল্লাহর নবীর যুদ্ধের সেটিই ছিল প্রথম দিন। অত্যধিক সূর্যতাপ যখন মাহমুদের ওপর পড়েছিল, স্বভাবের বশবর্তী হয়ে আচ্ছাদিত পোশাকে ছায়া পাবার আশায় সে নাইম দুর্গের শেডের নীচে বসেছিল। এটিই ছিলো প্রথম দুর্গ, আল্লাহর নবী যেখান থেকে শুরু করেছিলেন। মাহমুদ চিন্তাও করেনি যে, তার ভেতরে কোনো যোদ্ধা আছে। সে সত্যিই ভেবেছিল যে, এর ভেতরে আছে আসবাবপত্র অথবা পণ্য; কারণ নাইম নামের এই ইহুদি ব্যক্তিটির বেশ কয়েকটি দুর্গ ছিলো, এটি ছিলো তারই একটি। মারহাব ওপর থেকে এক জাঁতা নিক্ষেপ করে, যা মাহমুদের মাথায় আঘাত করে। এটি তার মাথার হেলমেটে লাগে ও তাতে তার কপালের চামড়া খুলে মুখের ওপর এসে পড়ে। তাকে আল্লাহর নবীর কাছে নিয়ে আসা হয়, তিনি চামড়াটি এমনভাবে ঠেলা দেন যে, তা ঠিক ফের আগের জায়গায় চলে যায়। আল্লাহর নবী কাপড় দিয়ে তা ব্যান্ডেজ করেন। যখন সন্ধ্যা হয়, আল্লাহর নবী আল-রাজী-তে প্রত্যাবর্তন করেন; কারণ তিনি আশংকা করছিলেন যে, তাঁর অনুসারীরা আক্রান্ত হতে পারে।

সেখানে তিনি তাঁবু নির্মাণ করেন ও তার ভেতরে রাত্রিযাপন করেন। তিনি আল-রাজী-তে সাত দিন অবস্থান করেছিলেন। উসমান ইবনে আফফান-কে আল-রাজীর ক্যাম্পের দায়িত্বে নিয়োজিত রেখে, ব্যানার ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় তিনি তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন হামলা চালাতেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি নাটার লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন। যখন সন্ধ্যা হতো, তিনি প্রত্যাবর্তন করতেন আল-রাজী-তে। প্রথম দিন তিনি আল-নাটার নিচের দিক থেকে যুদ্ধ করেন। অতঃপর পরে ফিরে এসে তিনি দুর্গের ওপর দিক থেকে যুদ্ধ করেন, যতক্ষণে না আল্লাহ তা বশীভূত করে।'

ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ সাল): [3]

'খায়বারে অনুসারীদের সিংহনাদ ছিল, "হে বিজয়ীরা, হত্যা করো হত্যা করো! (The war cry of the companions at Khaybar was “O victorious one, slay slay!")।

- অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ - লেখক।

>>> আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, এই আক্রমণকালে তাদের সিংহনাদ ছিল "হত্যা করো হত্যা করো!" দুর্গ মধ্যের আক্রান্ত লোকদের উত্তেজিত করতে আল-হুবাব বিন আল-মুনধির নামের এক অনুসারী মুহাম্মদকে এই বলে পরামর্শ দেন যে, খায়বারের লোকেরা যেহেতু তাদের খেজুর গাছগুলোকে তাদের প্রথম সন্তানের চেয়েও বেশি মূল্যবান বলে মনে করে, তাই মুহাম্মদের উচিত তিনি যেন তাঁদের অত্যন্ত প্রিয় এই খেজুর গাছগুলো ধ্বংস করেন। তার পরামর্শ মুহাম্মদের মনঃপুত হয়! তাই তিনি তাঁর অনুসারীদের এই গাছগুলো কেটে ফেলার আদেশ জারি করেন। অতি দ্রুততায় তারা ৪০০ টি খেজুর গাছ কেটে ফেলে। মুহাম্মদের এই কর্মে আবুবকর মুহাম্মদকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, তিনি আল্লাহর রেফারেন্স ঘোষণা করেছিলেন যে, আল্লাহ তাঁকে ওয়াদা করেছেন যে তাদের জন্য আছে "আসন্ন বিজয় (পর্ব: ১২৩)" এবং তা আবুবকর মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন। তাই মুহাম্মদের কাছে তাঁর অনুরোধ এই যে, মুহাম্মদ যেন এই খেজুর গাছগুলো ধ্বংস না করেন। আবু বকরের এই অনুরোধে মুহাম্মদ এই খেজুর গাছগুলো কাটা বন্ধ ঘোষণা করেন।

প্রশ্ন হলো,
"আল্লাহর প্রতিশ্রুতির প্রতি যদি আবু বকরের মত মুহাম্মদও পূর্ণ বিশ্বাসী হতেন, তবে কি তিনি তাঁর অনুসারীদের খায়বারের লোকদের খেজুর গাছগুলো কাটার অনুমতি দিতেন? নাকি মুহাম্মদ একদা আল্লাহর রেফারেন্সে তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশ্যে যা ঘোষণা করেছিলেন, তা তিনি ভুলে গিয়েছিলেন ও আবু বকর তা স্মরণ করিয়ে দেয়ার পর তা তাঁর মনে পড়েছিলো? কোনটি সত্য?"

স্বঘোষিত আখেরি নবী মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ 'বনি নাদির গোত্রের’ লোকদের আক্রমণকালে এই একই কাজটি করেছিলেন। ভীত-সন্ত্রস্ত বনি নাদির গোত্রের লোকেরা যখন তাদের দুর্গ মধ্যে আশ্রয় নিয়েছিলেন, মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের তাঁদের পাম-গাছ কেটে ফেলার ও পুড়িয়ে ফেলার হুকুম জারি করেছিলেন; যার সাক্ষ্য হয়ে আছে আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই রচিত 'সিরাত (মুহাম্মদের জীবনী) ও হাদিস গ্রন্থের বর্ণনা ও মুহাম্মদের স্বরচিত ব্যক্তিমানস জীবনীগ্রন্থ কুরান:

৫৯:৫ - তোমরা যে কিছু কিছু খর্জুর বৃক্ষ কেটে দিয়েছ এবং কতক না কেটে ছেড়ে দিয়েছ, তা তো আল্লাহরই আদেশ এবং যাতে তিনি অবাধ্যদেরকে লাঞ্ছিত করেন। [4]

দুর্গ মধ্য থেকে তখন বনি নাদির গোত্রের লোকেরা চিৎকার করে বলেছিলেন, "হে মুহাম্মদ, তুমি না কারও সম্পত্তি ধ্বংস করাকে ভীষণ অন্যায় বলে প্রচার করো এবং এই অপকর্মকারীদের তুমি অপরাধী বলে রায় দাও। সেই তুমিই কেন আমাদের পাম-গাছগুলো ধ্বংস করছো ও পুড়িয়ে দিচ্ছ?" - যার বিস্তারিত আলোচনা "বনি নাদির গোত্রকে উচ্ছেদ ও তাদের সম্পত্তি লুট (পর্ব: ৫২)!" পর্বে করা হয়েছে। 

ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা আরও জানতে পারি যে, অতর্কিত আক্রমণের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পর নিজেদের জীবন ও সম্পদ বাঁচানোর চেষ্টায় খায়বার অধিবাসীরা তাঁদের দুর্গ মধ্য থেকে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের আগ্রাসী হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। মাহমুদ বিন মাসলামা নামের এক মুহাম্মদ অনুসারী যখন তার যুদ্ধ পোশাক ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ("অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন হামলা চালাতেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত") নাইম দুর্গের ছায়ার নীচে বসেছিলেন, তখন সেই দুর্গ মধ্য থেকে মারহাব নামের এক ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে জাঁতা নিক্ষেপ করেন, যার আঘাতে মাহমুদ গুরুতর আহত হোন ও পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেন।

কে এই মাহমুদ বিন মাসলামা?

মাহমুদ বিন মাসলামা ছিলেন মুহাম্মদ বিন মাসলামার ছোট ভাই। এই সেই মুহাম্মদ বিন মাসলামা, যিনি মুহাম্মদের আদেশে প্রতারণার আশ্রয়ে ইহুদি কবি কাব বিন আল-আশরাফ-কে নৃশংসভাবে খুন করেছিলেন। এই কবির অপরাধ ছিলো এই যে, তিনি বদর যুদ্ধে মুহাম্মদের অমানুষিক নৃশংস কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কবিতার মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছিলেন ও শোকার্ত ক্ষতিগ্রস্ত কুরাইশদের সমবেদনা প্রকাশ ও সান্ত্বনা দেয়ার অভিপ্রায়ে মক্কায় গমন করেছিলেন। তাঁকে খুন করার পর খুনিরা তাঁর কাটা মুণ্ডটা প্রত্যূষের নামাজের সময় মুহাম্মদের কাছে নিয়ে আসেন (পর্ব: ৪৮), অত:পর:

"--তারা সেই কাটা মুণ্ডুটি তাঁর সামনে নিক্ষেপ করে। তিনি (আল্লাহর নবী) তাকে খুন করার জন্য আল্লাহর প্রশংসা আদায় করেন।"

কাব বিন আল-আশরাফ-কে খুন করার পর মুহাম্মদ আর একটি ঘাতক দল প্রেরণ করেছিলেন, যারা এই খায়বারেই এসে সাললাম ইবনে আবুল হুকায়েক (আবু রাফি) নামের এক ব্যক্তিকে প্রতারণার আশ্রয়ে নৃশংসভাবে খুন করে - যার বিস্তারিত আলোচনা "আবু রাফিকে খুন (পর্ব: ৫০)!" পর্বে করা হয়েছে। 

মাহমুদ বিন মাসলামার ওপর মারহাবের এই আক্রমণটি ছিলো নিঃসন্দেহে আত্মরক্ষামূলক। একদল বহিরাগত লোক তাঁদের এলাকায় এসে সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়েছে। এই আক্রমণকারী দলের একজন সদস্য তাঁদের দুর্গের নিচে বসে আছে, এমত পরিস্থিতিতে এই দুর্বৃত্তদের প্রতি আক্রান্ত লোকজনদের সম্ভাব্য আচরণ যেমনটি হতে পারে, মারহাবের আচরণটি ছিলো ঠিক তেমন। মারহাব কোনো অপরাধ করেননি। তা সত্ত্বেও মুহাম্মদের আদেশে মুহাম্মদ বিন মাসলামা এই মারহাবকে কীরূপ অমানুষিক নৃশংসতায় খুন করেছিলেন, তার আলোচনা পরবর্তীতে করা হবে।

ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল-ওয়াকিদির মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি। ইবনে ইশাকের মূল ইংরেজি অনুবাদ ইন্টারনেটে বিনামূল্যে ডাউনলোড লিঙ্ক: তথ্যসূত্র [3]

The Narratives of Al-Waqidi: [2]
‘The next morning the Messenger of God moved out with the Muslims under their banners. Their slogan was: Ya Mansur kill! Al-Hubab b al-Mundhir said to him, “Surely the Jews consider their date palms to be more precious than their first born children. So cut down their date palms.” The Messenger of God ordered the cutting down of the date palms. The Muslims began to cut them down in haste. Abu Bakr came to him and said, “O Messenger of God, surely God most high has promised you Khaybar, and He will fulfill what he has promised you. So do not cut down the date palms.” The Messenger of God commanded a herald to call out and prevent them from cutting the date palms. Muhammad b Yahya related to me from his father from his grand father, who said, “I saw the date palms of Khaybar, in Nata, in pieces, and that was from what the companions of the Messenger of God cut down.” Usama b Zayd al-Laythi related to me from Jafar b Mahmud b Muhammad b Maslama, who said: The Muslims cut down four hundred date palms of Idhq in al-Nata. They were cut only in Nata.’

Muhammad b Maslama observing the date in the pickle said: I cut this date with my own hands until I heard Bilal call out with resolution from the Messenger of God, “Do not cut the date palm!” and we stopped. He said: Mahmud b Maslama was fighting with the Muslims at that time, and it was a very hot summer’s day. It was the first day the Messenger of God fought with the people of Nata. When the heat was strongest over Mahmud, it was his custom, in all his attire, to sit under the fortress of Naim desiring its shade. It was the first fortress the Messenger of God began with. Mahmud did not think that there were any worriors in it. Indeed he thought that there was furniture or goods in it, for Naim was a Jew who possessed a number of fortresses, including this one.  Marhab threw down a millstone and it struck Mahmud’s head. It struck the helmet of his head until the skin of his forehead fell on his face. He was brought to the Messenger of God and he pushed the skin until it returned just as it was. The Messenger of God bandaged it with a cloth.  When it was evening, the Messenger of God moved to Al-Raji for he feared his companions would be attacked. He struck up his tent there and he stayed up the night in it.  He stayed in Al-Raji for seven days. He raided every day with the Muslims under their banner, in armor, leaving the camp site in al-Raji, appointing Uthman b Affan to take his place. He fought the people of Nata from day to night. When it was evening he returned to Al-Raji. The first day he fought from below al-Nata. Then he returned later and fought them from above the fortress, until God conquered it.’

(চলবে)

[কুরানের উদ্ধৃতি সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (হারাম শরীফের খাদেম) কর্তৃক বিতরণকৃত বাংলা তরজমা  থেকে নেয়া, অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি বিভিন্ন ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ এখানে]

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ), ed. Marsden Jones, লন্ডন ১৯৬৬; ভলুম ২, পৃষ্ঠা ৬৫২; ইংরেজি অনুবাদ: Rizwi Faizer, Amal Ismail and Abdul Kader Tayob; ISBN: 978-0-415-86485-5 (pbk); পৃষ্ঠা ৩২১

[2] Ibid “কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ), ed. Marsden Jones, লন্ডন ১৯৬৬; ভলুম ২, পৃষ্ঠা ৬৪৪-৬৪৬; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৩১৭-৩১৮

 [3] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ: A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, ইবনে হিশামের নোট নম্বর ৭৬০, পৃষ্ঠা ৭৭০

[4] ইমাম বুখারীর (৮১০-৮৭০ সাল) বর্ণনা: http://www.hadithcollection.com/sahihbukhari/92--sp-608/5690-sahih-bukhari-volume-005-book-059-hadith-number-365.html