১৯ জুলাই, ২০১৬

জাকির নায়েকের ‘কোরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান’ এবং তার যুক্তিখণ্ডন - পর্ব ৩

লিখেছেন Enigmatic Jihad


এর পরের বিষয়টি খুব আলোচিত এবং এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের শেষ এ পর্যন্ত হয়েছে কি না, তা নিয়েও বিতর্ক আছে। আসুন, একটু ব্যাখ্যা করে দেখি। বিষয়টি হলো - পৃথিবী গোলাকার কি না?

জাকির নায়েক তাঁর বইতে বলেন, ১৫৯৭ সালে “স্যার ফ্রান্সিস ডেইকই” প্রথম পৃথিবীর চারপাশে ভ্রমণের পর প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী গোলাকার। আমি ফ্রান্সিস ডেইকই বলে কাউকে খুঁজে পাইনি। তবে যিনি এই ইতিহাসখ্যাত নৌকাভ্রমণটি সম্পন্ন করেন, তিনি “ফ্রান্সিস ড্রেক”; সেটিও আবার ১৫৯৭ সালে নয়, ১৫৫৭ সালে। অনেকে ভাবতে পারেন, এটা ছোটখাটো ভুল। না, যে-ব্যক্তি কোরআন, গীতা, বাইবেলের কোথায় কোন কথা লেখা আছে, গরগর করে বলে দিতে পারে, তার পক্ষে এই ভুল কোনো ছোট ভুল নয়। যাই হোক, এখানে তিনি এই আয়াতটি তুলে ধরেন:
তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন? তিনি চন্দ্র ও সূর্যকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে। তুমি কি আরও দেখ না যে, তোমরা যা কর, আল্লাহ তার খবর রাখেন? (কোরআন ৩১:২৯)
‘আল্লাহ রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন’ - এ থেকে বোঝা গেলো পৃথিবী গোলাকার। বড়োই হাস্যকর! ঠিক যেমন, ব্রাজিলে এক প্রজাপতি পাখা ঝাপটালো আর টর্নেডো তৈরি হল টেক্সাসে। জাকির নায়েক এখানে যে-যুক্তিটি তুলে ধরেন, তা হলো - রাত ধীরে ধীরে এবং ক্রমশ দিনে রূপান্তরিত হয়। এ ঘটনা কেবল পৃথিবী গোলাকার হলেই সম্ভব। পৃথিবী চ্যাপ্টা হলে নাকি রাত দিনের এই পরিবর্তন আকস্মিক হয়ে যেত। জিনিসটা ক্লিয়ারলি বোঝা গেলো না। পৃথিবী চ্যাপ্টা হলে এই পরিবর্তন কেন আকস্মিক ঘটতো, তার ব্যাখ্যা জাকির নায়েকের কাছে জানতে চাই। তিনি এর পর এই আয়াতটি তুলে ধরেন:
তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সুর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত। জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল। (কোরআন ৩৯:৫)
এখানেও সেই একই যুক্তি, পৃথিবী গোলাকার না হলে নাকি রাতকে দিন দ্বারা ও দিনকে রাত দ্বারা আচ্ছাদিত করা সম্ভব নয়। আমি জাকির নায়েককে Gods of Egypt মুভিটা দেখার অনুরোধ জানাবো। যেখানো পৃথিবী চ্যাপ্টা হওয়া সত্ত্বেও দিন রাতের পরিবর্তন সুষমভাবে (যেমনটা এখন হয়) হয়। এবং সম্পূর্ণ যৌক্তিক পদ্ধতিতেই। এখানে সেই কল্পিত দেবতা আর কোরআনের আয়াতের মধ্যে পার্থক্য নেই। এর পরের যে-আয়াত জাকির নায়েক উল্লেখ করেন, সেটি হলো:
পৃথিবীকে এর পরে বিস্তৃত করেছেন। (কোরআন ৭৯:৩০)
জাকির নায়েক এখানে বলেছেন, এই আয়াতে ব্যবহৃত আরবি শব্দ "দাহাহা" (دَحَاهَا) অর্থ উটপাখির ডিম, যা দ্বারা কোরআনে পৃথিবীর আকার বোঝানো হয়েছে। অর্থটি এমন হলে ঠিকই ছিলো, কিন্তু দাহাহা নিয়ে ডাহা মিথ্যাচার করেছেন তিনি। দাহাহা অর্থ উটপাখির ডিম নয়। দাহাহা অর্থ হলো বিস্তৃত করা বা ছড়িয়ে দেয়া। বাংলা অনুবাদে তো বটেই, কোরানের ছ'টি স্বীকৃত ইংরেজি অনুবাদেও উটপাখির ডিমের কথা উল্লেখ নেই, সব অনুবাদেই বিস্তৃত করার কথা বলা হয়েছে। সব ইহুদি-নাছারাদের ষড়যন্ত্র!

PICKTHALL: And after that He spread the earth,
MUHSIN KHAN: And after that He spread the earth;
YUSUF ALI: And the earth, moreover, hath He extended (to a wide expanse);
DR. GHALI: And the earth, after that He flattened it (for life).
SHAKIR: And the earth, He expanded it after that.
SAHIH INTERNATIONAL: And after that He spread the earth.