৩১ জুলাই, ২০১৬

ছহীহ ছওয়াল

সুকুমার রায়ের লেখা "জীবনের হিসাব" নামের ছড়ার প্যারোডি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

বিদ্যে-বোঝাই বিজ্ঞানীসব হুজুর দেখে থামে,
প্রশ্ন করে, "বলতে পারেন, বৃষ্টি কেন নামে?
পাহাড়গুলো কেমনে সৃজে, উল্কা কেন খসে?"
প্রশ্ন শুনে বৃদ্ধ হুজুর আরাম করে বসে।
হুজুর বলে, "এসব কি আর কঠিন প্রশ্ন? ধুরো!
আছে জানা এসব আমার, বুঝলে সকল খুড়ো?"

হিপক্রিটাস হঠাৎ বলে, "বলুন দেখি এটা,
ক্যামনে সৃজে বেটি, আবার ক্যামনেই বা ব্যাটা?
জাইগোট-টা কেমনে ঘটে? বীর্য কোথায় থাকে?"
হুজুর বলেন, "হাহ্-হাহ্-হাহ্, প্রশ্ন করেন কাকে!
জবাব জানে মাদ্রাসাতে পড়া সকল পোলা,
তারাই দেবে এসব বলে, থাকুক এসব তোলা।"

খানিক বাদে বলেন তাঁরা, "বলুন দেখি, হুজুর,
কেন এমন মিষ্টি খেতে আঙুর, কলা, খেজুর?
ক্যামনে আসে দিন থেকে রাত? ক্যামনে আসে দুধ?"
প্রশ্ন শুনে হুজুর সাহেব হলেন ধ্যানে বুঁদ।
এই না দেখে বিজ্ঞানীরা হকচকিয়ে থেমে
ভাবে: জবাবসহ ওহী আসছে নাকি নেমে!

হঠাৎ জেগে উঠে হুজুর মুচকি হেসে কয়,
"মুরতাদদের প্রশ্নে হবে আমার পরাজয়?
প্রশ্নবাণে ঠেকায় মোরে - সাধ্য এমন কার?
আমার আছে কোরান, হাদিস, মোহাম্মদ আল্লার।
মূর্খ তোরা, শোন তাহলে. ক্যামনে এসব হয়,
দোজাহানের মালিক খোদা যক্ষনই 'কুন' কয়।"