১১ জুলাই, ২০১৬

কেউ যোদ্ধা, কেউ সমর্থক

লিখেছেন পুতুল হক

আইএস বা আল কায়েদা বা তালেবানের উত্থানে কোনো মুসলিম অখুশি বলে আমার মনে হয় না। সারা দুনিয়ায় একদিন ইসলামী শাসন কায়েম হবে। তারই আলামত আইএস, তালেবান। এগুলো কেবল মাদ্রাসা ছাত্রের আশাবাদ নয়। সমগ্র মুসলিম জাহানের মনের কথা।

অন্তত আমি যে কয়েকশ মুসলিমের সংসর্গে এসেছি ও আছি, তাদের সবার মনের কথা। তাদের কাছে বড়জোর মনে হয়: "জিহাদিরা অতিরিক্ত হিংস্র হচ্ছে। আরো শক্তি সঞ্চয়ের আগ পর্যন্ত জিহাদিদের রয়েসয়ে এগোনো উচিত।" কিন্তু জিহাদ বন্ধ হোক, তা তারা চায় না। চাইবেই বা কেন? আল্লাহর দেয়া প্রতিশ্রুতি কি মিথ্যে হতে পারে?

প্রতিটি ইসলামী জঙ্গির জন্য মুসলমানদের বুক ভরা মায়া। আজ পর্যন্ত কোনো জঙ্গি নিজের ব্যক্রিগত স্বার্থে সন্ত্রাস করেনি। তারা যা করেঝে ও করে যাচ্ছে, তা হলো - আল্লাহ-নবীর আদেশ পালন। অমুসলিমরা এখোনও শক্তিতে বেশি। তাই জিহাদকে জঙ্গিবাদ তকমা দিতে পারছে। প্রতিটি মুসলমানের মনের আশা - একদিন তারা দারুল ইসলামে এই বীরদের যোগ্য সম্মান দেবে।

ইসলামের জন্য জীবন দিতে পারলে নিজেদের ভাগ্যবান ভাববে, এমন মুসলিম নারী-পুরুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইহুদি-নাসারাদের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে তারা খুব দ্রুত সহি ইসলাম ছড়িয়ে দিচ্ছে। এখন আমরা জানি, ইসলাম কেবল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় কিংবা এক মাস না খেয়ে থাকা নয়। ইসলাম মানে পূর্ণ আত্মসমর্পণ - আল্লাহ ও রাসুলের পথে নিজেকে বলি দেয়া। এই বলিদান তাদের পরকালে দেবে সীমাহীন সম্মান ও আরাম-আয়েস।

আমাদের নানী-দাদীদের ইসলাম আর আমাদের সন্তানদের ইসলাম একই ইসলাম। আগের মুসলিমরা কম জানার কারনে ইসলামকে কেবল কিছু আচার-অনুষ্ঠান হিসেবে পালন করতো। ইসলাম জানার কারণে এখনকার প্রজন্ম ইসলামী দায়িত্ব পালন করার কথা ভাবে।

কোরান-হাদিসের বীভৎস আয়াত, কুৎসিত কাহিনী জানার পরও প্রায় কোনো মুসলমানকেই আমি লজ্জিত হতে দেখিনি, বরং উজ্জীবিত হতে দেখেছি। তারা উজ্জীবিত হয় মুসলমান হিসেবে, আল্লাহর সৈনিক হিসেবে। তারপর তারা প্রস্তুত হয় ইসলামী শাসন কায়েমের জন্য। কেউ হয় সরাসরি যোদ্ধা, কেউ হয় যুদ্ধের সমর্থক।