১৫ জুন, ২০১৬

হুদাইবিয়া সন্ধি - ১৯: চুক্তি ভঙ্গ - পাঁচ!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ১২৯): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত তিন

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী: এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তি স্বাক্ষর করার পর মদিনায় প্রত্যাবর্তনের পরেই এই সন্ধিচুক্তির প্রায় প্রত্যেকটি শর্ত কীভাবে ভঙ্গ করেছিলেন, আদি উৎসে বর্ণিত 'আবু বসির উপাখ্যানের' অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও বিস্তারিত বর্ণনার আলোকে সে বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে।

ইসলামের ইতিহাসে 'মক্কা বিজয়' এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কুরাইশদের সঙ্গে মুহাম্মদ দশ বছর মেয়াদী হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তি সম্পন্ন করার পর দুই বছরের মধ্যে মুহাম্মদ অতর্কিতে মক্কা আক্রমণ করেন। অভিযোগ? বরাবরের মতই! "তাহারা চুক্তি ভঙ্গ করিয়াছিল!" আদি উৎসের সকল মুসলিম ঐতিহাসিক মুহাম্মদের এই মক্কা আক্রমণের যে-কারণ ও প্রেক্ষাপট লিপিবদ্ধ করেছেন, তা হলো, বহু আগে থেকেই বিবাদ ও খুন-জখমে লিপ্ত দুই বিবদমান আরব গোত্রের সংঘটিত হিংসা ও প্রতিহিংসার কালানুক্রমিক ঘটনাসমষ্টির সর্বশেষ অধ্যায়!  বিষয়টি খুব ভালভাবে বোঝার সুবিধার জন্য আমি এই পুরো ঘটনাটিকে কালানুক্রমিক পাঁচটি অনুচ্ছেদে ভাগ করেছি। মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল-তাবারী ও আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় ঘটনাটি ছিল নিম্নরূপ।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের বর্ণনা:  [1] [2] [3]
(আল-তাবারী, আল-ওয়াকিদির বর্ণনা ইবনে ইশাকের বর্ণনারই অনুরূপ) 
'মুতা অভিযানে সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করার পর আল্লাহর নবী জুমাদি-উস সানি ও রজব মাস মদিনায় অবস্থান করেন। সেই সময় বানু খোজা (খুযাআ) গোত্রের লোকেরা যখন মক্কার নিম্ন অঞ্চলে আল-ওয়াতির নামের তাদের এক কূপের কাছে ছিল, তখন বানু বকর বিন আবদ মানাত বিন কিনানা তাদের ওপর আক্রমণ করে। এই বিবাদের কারণ হলো এই:

[ঘটনার সূত্রপাত:]
বানু আল-হাদরামি গোত্রের মালিক বিন আববাদ নামের এক লোক, যারা ছিলেন আল-আসওয়াদ বিন রাজন এর মিত্র, যিনি ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে বাহিরে গিয়েছিলেন; বাণিজ্য থেকে ফেরার পথে যখন তিনি বানু খোজার এলাকার মাঝখানে এসে পৌঁছেন, তখন তারা তাঁকে আক্রমণ ও খুন করে ও তার যাবতীয় মালামাল লুণ্ঠন করে। [4]    
                                                                      
[অতঃপর]
সে কারণেই, বানু বকরের লোকেরা বানু খোজার এক লোককে আক্রমণ ও হত্যা করে। 

[অতঃপর:]
মুসলমানদের জড়িত হওয়ার ঠিক আগেই, বানু খোজা গোত্রের লোকেরা আল-আসওয়াদ বিন রাজন আল দিল এর সালমা, কুলথিম ও তৈয়ব নামের তিন পুত্রকে হত্যা করে, যারা ছিলেন বানু কিনানা গোত্রের বিশিষ্ট নেতা; তারা তাদেরকে আরাফার পবিত্র এলাকার পাথরের সীমানা পাশে হত্যা করে। বানু আল-দিলের এক লোক আমাকে বলেছেন যে, প্যাগান যুগে বানু আল-আসওয়াদ গোত্রের অবস্থার কারণে তাদেরকে দ্বিগুণ পরিমাণ রক্তমূল্য পরিশোধ করা হতো, কিন্তু তাদেরকে পরিশোধ করা হয়েছিল মাত্র একগুণ[5]

[অতঃপর:]
বানু বকর ও বানু খোজা গোত্রের এরূপ শত্রুভাবাপন্ন অবস্থায় ইসলামের আবির্ভাব হয় ও তা মানুষের মনে স্থান করে নেয়। এমতাবস্থায় মুহাম্মদ ও কুরাইশদের মধ্যে যে হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তিটি সম্পন্ন হয়, তার এক শর্ত ছিল এই, 'যদি কোনো ব্যক্তি তাদের যে কোনো একজনের সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে ইচ্ছা করে, তবে সে তা করতে পারবে - যা আল-মিসওয়ার বিন মুখরামা ও মারওয়ান বিন আল-হাকাম ও অন্যান্য মুহাদ্দিস হইতে উদ্ধৃত > উরওয়া বিন আল-যুবায়ের হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আল যুহরি আমাকে বলেছেন; বানু বকর যোগদান করে কুরাইশদের দলে ও বানু খোজা যোগদান করে মুহাম্মদের দলে [পর্ব: ১২২]।

[অতঃপর:]
এই সন্ধিচুক্তিটি সম্পন্ন হওয়ার পর বানু বকর গোত্রের অন্তর্ভুক্ত বানু আল-দিল গোত্র আসওয়াদ বিন রাজন এর সন্তানদের হত্যাকারী বানু খোজার বিরুদ্ধে সুযোগ নেয়, তাদের অভিপ্রায় ছিল ঐ খুনের প্রতিশোধ গ্রহণ। সে কারণে, তাদের সে সময়ের দলনেতা নওফল বিন মুয়াবিয়া আল দিলি তার গোত্রের লোকদের নিয়ে, বানু খোজা গোত্রের লোকেরা যখন তাদের আল-ওয়াতির কূপের নিকট অবস্থান করছিলো, তখন রাতের অন্ধকারে তাদের ওপর আক্রমণ চালায় ও তাদের একজন লোককে হত্যা করে, যদিও বানু বকর গোত্রের সকলেই তার পক্ষ অনুসরণ করেননি দু'দলই সংঘর্ষে লিপ্ত হয় ও লড়াই অব্যাহত রাখে। কুরাইশরা বনি বকর গোত্রকে অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে ও তাদের কিছু লোক রাতের অন্ধকারে গোপনে যুদ্ধ করে বনি খোজার লোকদের পবিত্র স্থানের দিকে তাড়িয়ে দেয়। যখন তারা সেখানে পৌঁছে, বানু বকর লোকেরা বলে, "এই নওফল, আমরা এখন পবিত্র স্থানে। তোমার আল্লাহকে স্মরণ করো, আল্লাহকে স্মরণ করো!" জবাবে ঐ দিন সে ধর্ম-অবমাননামূলক উক্তি করে বলে যে, তার কোনো আল্লাহ নেই, বলে "হে বানু বকরের সন্তানরা, তোমরা তোমাদের প্রতিশোধ গ্রহণ করো। আমার জানের কসম, পবিত্র এলাকায় যেখানে তোমরা চুরি করতে পারতে, সেখানে কি তোমরা প্রতিশোধ নিতে পারো না?" 

সেই রাতে আল-ওয়াতির স্থানটিতে তারা তাদের ওপর আক্রমণ চালায় ও মুনাব্বিহ নামের এক লোককে হত্যা করে, যে-লোকটি তামিম বিন আল-আসাদ নামের তার গোত্রের এক লোককে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। মুনাব্বিহর ছিলেন হার্টের দুর্বলতাজনিত সমস্যায়, তিনি তামিমকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন, কারণ তার হার্টের সংকটাপন্ন অবস্থায় তিনি ছিলেন মৃতবৎ তা তারা তাকে হত্যা করুক কিংবা ছেড়ে দিক। তাই তামিম পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, আর মুনাব্বিহকে তারা ধরে ফেলে ও হত্যা করে। বিপদকালে বানু খোজার লোকেরা মক্কার ভেতরে প্রবেশ করার পর বুদায়েল বিন ওয়ারাকা [পর্ব: ১১৫] ও রাফি নামের তাদের এক মুক্তিপ্রাপ্ত দাসের (Mawla) গৃহে আশ্রয় নেয়।

যেহেতু কুরাইশ ও বানু বকর গোত্র একত্রে বানু খোজার বিরুদ্ধে ছিল ও তাদের কিছু লোককে হত্যা করেছিল, সেহেতু তারা আল্লাহর নবীর সাথে কৃত সন্ধিচুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে এই বিবেচনায় যে বানু খোজা ছিল তাঁর সাথে জোটবদ্ধ; বানু কা'ব গোত্রের আমর বিন সালিম আল-খুজায়ি মদিনায় আল্লাহর নবীর কাছে আসে। (যা মক্কা বিজয়ের কারণ হয়)।' [6]  

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ) অতিরিক্ত বর্ণনা:
'মিহজান বিন ওয়াহাব-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আবদুল্লাহ বিন আমর বিন যুবায়ের আমাকে বলেছেন: “বানু খোজা ও বানু কিনানা গোত্রের মধ্যে শেষের যে-ঘটনাটি ছিল, তা হলো - আল্লাহর নবীর বিরুদ্ধে আনাস বিন যুনায়েম আল-দিলির এক অপমানজনক উক্তি। বানু খোজা গোত্রের এক তরুণ তার কথা শুনতে পায় ও তার ওপর আক্রমণ চালায় ও তাকে আঘাত করে। তিনি তার লোকদের কাছে গমন করেন ও তার মাথার জখমটি তাদেরকে দেখান, অতঃপর তাদের মধ্যে যে কলহ-বিবাদ ও বানু খোজা গোত্রের কাছ থেকে রক্তমূল্য বাবদ বানু বকর গোত্রের পাওনা বিবাদটি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

সেটি ছিল শাবান মাস [হিজরি ৮ সাল], হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তি সম্পন্ন হওয়ার প্রথম বাইশ মাস সময়ের মধ্যে, বানু বকর গোত্রের অন্তর্ভুক্ত বানু নুফাতা গোত্রের লোকেরা - বানু মুদলিজ গোত্রের লোকেরা তাদের সঙ্গে ছিল না ও তারা শর্ত ভঙ্গ করেনি - অভিজাত কুরাইশদের সাথে যে-বিষয়ে কথা বলে, তা হলো - তারা যেন তাদেরকে তাদের শত্রু বানু খোজার বিরুদ্ধে লোকবল ও অস্ত্রবল দিয়ে সাহায্য করে। তারা তাদের খুন হওয়া লোকদের বিষয়ে তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়, যাদেরকে খোজা গোত্রের লোকেরা খুন করেছিল।

তারা তাদের পরস্পরের সম্পর্ক ও মৈত্রী চুক্তির বিষয়টি তাদেরকে অবহিত করায়, আরও জানায় যে, বানু খোজা গোত্র মুহাম্মদের কাছে তাদের মৈত্রী চুক্তির বিষয়ে দেখা করতে যাচ্ছে। বানু বকর গোত্রের লোকেরা দেখতে পায় যে, লোকেরা (কুরাইশ) তাতে দ্রুত সাড়া দেয়, ব্যতিক্রম ছিল আবু সুফিয়ান। এ সম্পর্কে তাঁর পরামর্শ চাওয়া হয়নি ও তিনি এ সম্বন্ধে জানতেন না। কিছু লোক বলে: প্রকৃতপক্ষে তারা তাঁর সাথে আলোচনা করেছিলেন, কিন্তু তিনি তদেরকে প্রত্যাখ্যান করেন।

বানু নুফাতা ও বকর লোকেরা বলা শুরু করে: বরং আমরাই সই! তারা তাদেরকে অস্ত্র ও লোকবল দিয়ে সাহায্য করে, তারা এই চক্রান্তটি করে গোপনে, যেন বানু খোজার লোকেরা তা জানতে না পারে। তারা তাদের মৈত্রী চুক্তির বিষয়ে ছিল নিশ্চিন্ত ও অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী, যা ইসলামের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। অতঃপর যে-লোকেরা তাদের সাথে ছিল, কুরাইশরা তাদের সাথে আল-ওয়াতির নামক স্থানে সাক্ষাৎ করে। ছদ্মবেশ ও অবগুণ্ঠিত অবস্থায় বয়োবৃদ্ধ কুরাইশরা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন: সাফওয়ান বিন উমাইয়া, মিখরায বিন হাফস বিন আল-আখিপ ও হুয়ায়েতিব বিন আবদ আল-উজ্জা তাদের গোলামদের সাথে এনেছিলেন। বানু বকর গোত্রের নেতা ছিল নওফল বিন মুয়াবিয়া আল দিলি। খোজা গোত্রের লোকেরা সেখানে রাত্রিবাস করছিলো, তাদের উপলব্ধি ও আত্মবিশ্বাস ছিল এই যে, তারা শত্রুদের কাছ থেকে নিরাপদ। কারণ যদি তারা এ বিষয়ে ভীত হতো, তবে অবশ্যই তারা প্রহরা বসাতো ও প্রস্তুতি নিতো।

------আতা বিন আবি মারওয়ান-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আবদুল্লাহ বিন আমির আল-আসলামি আমাকে জানিয়েছেন যে, যখন বানু খোজার লোকেরা বুদায়েল ও রাফির গৃহে অবস্থান করছিলো তখন কুরাইশ ও বানু বকরের লোকেরা তাদের বিশজন লোককে হত্যা করেছিল। যখন সকাল হয় তখন বুদায়েল ও বানু খোজার আশ্রিত (mawla) রাফির গৃহের দরজার সামনে লাশগুলো পড়েছিল। কুরাইশরা ফিরে আসে ও তারা যা করেছে তার জন্য অনুশোচনা করে। তারা জানতো যে, যা তারা করেছে তা আল্লাহর নবী ও তাদের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের সন্ধিচুক্তি ভঙ্গ করেছে।

আবদুল্লাহ বিন ইকরিমা বিন আবদ আল-হারিথ বিন হিশামের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আবদুল্লাহ বিন আমর বিন যুহায়ের আমাকে জানিয়েছেন: আল-হারিথ বিন হিশাম ও ইবনে আবি রাবি'য়া আসে সাফওয়ান বিন উমাইয়া, সুহায়েল বিন আমর ও ইকরিমা বিন আবু জেহেলের কাছে ও তারা বানু বকর গোত্রের লোকদের সাহায্য করার জন্য তাদের কে দোষারোপ করে।”’

- অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ - লেখক।

মুহাম্মদ স্বরচিত জবানবন্দি (সুরা তওবা, আয়াত ১৩-১৪): 
[৯:১৩-১৪] – ‘তোমরা কি সেই দলের সাথে যুদ্ধ করবে না; যারা ভঙ্গ করেছে নিজেদের শপথ এবং সঙ্কল্প নিয়েছে রসূলকে বহিস্কারের? আর এরাই প্রথম তোমাদের সাথে বিবাদের সূত্রপাত করেছে। তোমরা কি তাদের ভয় কর? অথচ তোমাদের ভয়ের অধিকতর যোগ্য হলেন আল্লাহ, যদি তোমরা মুমিন হও। যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হস্তে তাদের শাস্তি দেবেন। তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের জয়ী করবেন এবং মুসলমানদের অন্তরসমূহ শান্ত করবেন’।  

>>> স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ৬২৮ সালের মার্চ-এপ্রিল মাসে কুরাইশদের সঙ্গে হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তি সম্পন্ন করার পরের বছর হিজরি ৭ সালের জিলকদ মাসে (মার্চ-এপ্রিল, ৬২৯ সাল) শুধু তাঁর হুদাইবিয়ায় অংশগ্রহণকারী অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় আগমন করেন। ওমরা পালন শেষে মদিনায় প্রত্যাবর্তন-কালে তিনি কীভাবে হুদাইবিয়া সন্ধি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছিলেন, তার বিস্তারিত আলোচনা 'চুক্তি ভঙ্গ দুই (পর্ব: ১২৬)!" পর্বে করা হয়েছে। সেখান থেকে তিনি মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেন জিলহজ মাসে। “অতঃপর তিনি জিলহজ মাসের শেষের দিনগুলো, মহরম, সফর, রবিউল আওয়াল ও রবিউস সানি মাস (জুন ২৯ -আগস্ট ২৬, ৬২৯ সাল) মদিনায় অবস্থান করেন। অতঃপর জুমাদি-উল আওয়াল মাসে (যার শুরু হয়েছিল আগস্ট ২৭, ৬২৯ সাল) তিনি তাঁর অনুসারীদের সিরিয়া অভিযানে পাঠান, মুতা নামক স্থানে এসে যারা চরম দুর্দশার সম্মুখীন হন।” [7]

আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি যে, মুহাম্মদ মুতা অভিযানে তাঁর অনুসারীদের প্রেরণ করার পরের দুই মাসও মদিনায় অবস্থান করেন। অতঃপর হিজরি ৮ সালের শাবান মাসে বানু বকর ও বানু খোজা গোত্রের বহুকাল যাবত বিদ্যমান হিংসা ও প্রতিহিংসার সর্বশেষ ঘটনাটি সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ, মুহাম্মদ যে-ঘটনাটিকে ইস্যু করে কুরাইশদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী মক্কা অভিযান সংঘটিত করেছিলেন, সেই ঘটনাটি ঘটেছিল হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তি সম্পন্ন হওয়ার একুশ মাস পরে। ইসলামে নিবেদিতপ্রাণ আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদেরই বর্ণনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে আমরা ইতিমধ্যেই জেনেছি যে, এই একুশ মাস সময়ে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ কমপক্ষে চারবার এই সন্ধিচুক্তির প্রায় প্রত্যেকটি শর্ত ভঙ্গ করেছিলেন, যার বিস্তারিত আলোচনা গত চারটি পর্বে করা হয়েছে (পর্ব: ১২৫-১২৮) ।

সুতরাং,
হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তি সম্পন্ন করার অব্যবহিত পর থেকে এই ঘটনাটির পূর্ব পর্যন্ত বিভিন্ন কলাকৌশলে কমপক্ষে চারবার নিজেই এই সন্ধিচুক্তির প্রায় প্রত্যেকটি শর্ত ভঙ্গ করার পর নিজের প্রত্যক্ষ সমর্থন ও পরোক্ষ (?প্রত্যক্ষ) আদেশে আবু বসিরের নেতৃত্বে নিজ অনুসারীদের দিয়ে কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলার ওপর উপর্যুপরি আগ্রাসীহামলা-খুন-লুণ্ঠন (পর্ব:১২৮) পুরোদমে চালু রাখার পর যখন সেই একই মানুষটি সংক্ষুব্ধ, নির্যাতিত, ক্ষতিগ্রস্ত কুরাইশদের বিরুদ্ধে 'চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ' এনে বিনা নোটিশে তাঁদেরকে আক্রমণ করেন, নিঃসন্দেহে তখন তা হয় প্রতারণার এক অনন্য দৃষ্টান্ত! "There are no ifs, ands, or buts about it!"

>>> মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল-তাবারী, আল-ওয়াকিদি তাঁদের নিজ নিজ গ্রন্থে এই উপাখ্যানের বর্ণনায় দাবি করেছেন যে, এই ঘটনার মাধ্যমে কুরাইশরা হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছিলেন, যা মূলত: মুহাম্মদের দাবি (৯:১৩-১৪); আর সেই অভিযোগে মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ও তাঁদেরকে নিজ হাতে শাস্তি দেয়া ও লাঞ্ছিত করার আদেশ করছেন!

কিন্তু প্রশ্ন হলো,
"এই ঘটনায় কুরাইশরা হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তির আদৌ কি কোনো শর্ত ভঙ্গ করেছিলেন?"

এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব আমরা প্রায় নিশ্চিতরূপেই জানতে পারি আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত উপাখ্যানের প্রতিটি ঘটনাপ্রবাহের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের মাধ্যমে। “The Devil is inthe Detail (পর্ব ১১৩)!"

আদি উৎসের ওপরে বর্ণিত ঘটনা প্রবাহের বর্ণনায় যে-বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো - হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আগে থেকেই বানু বকর ও বানু খোজা গোত্রের মধ্যে হিংসা-প্রতিহিংসা ও খুনোখুনির সম্পর্ক বিবদমান ছিলো। এই বর্ণনায় যা আমরা নিশ্চিতরূপে জানি, তা হলো - এই ঘটনার সূত্রপাত করেছিলেন বানু খোজা গোত্রের লোকেরা, বানু বকর গোত্রের অন্তর্ভুক্ত বানু আল-হাদরামি গোত্রের মালিক বিন আববাদ নামের এক নিরীহ বাণিজ্য ফেরত মানুষকে খুন ও মালামাল লুণ্ঠনের মাধ্যমে!  অতঃপর মুসলমানদের জড়িত হওয়ার ঠিক আগেই এই একই গোত্রের লোকেরা আবারও বানু বকর গোত্রের অন্তর্ভুক্ত আল-আসওয়াদ বিন রাজন আল দিল এর তিন পুত্রকে হত্যা করেছিলেন। শুধু তাইই নয়, এমনকী এই সর্বশেষ ঘটনারও সূত্রপাত করেছিলেন বানু খোজা গোত্রের লোকেরা, বানু বকর গোত্রের আনাস বিন যুনায়েম আল-দিলি নামের এক লোককে শারীরিক জখমের মাধ্যমে। সুতরাং নিঃসন্দেহে বিবদমান এই দুই গোত্রের আগ্রাসী ও আক্রমণকারী গোত্রটি ছিল বানু খোজা গোত্রের লোকেরা, আর আক্রান্ত ও সংক্ষুব্ধ গোত্রটি ছিল বানু বকর গোত্রের লোকেরা। অর্থাৎ আক্রমণকারী গোত্রটির পক্ষে ছিলেন মুহাম্মদ, আর আক্রান্ত গোত্রটির পক্ষে ছিলেন কুরাইশরা। যার সরল অর্থ হলো:

"মুহাম্মদ ছিলেন অন্যায়ের পক্ষে, আর কুরাইশরা ছিলেন ন্যায়ের পক্ষে।" 

হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর থেকে এই ঘটনার পূর্ব পর্যন্ত মুহাম্মদ কমপক্ষে যে চারবার হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তির প্রায় প্রত্যেকটি শর্ত ভঙ্গ করেছিলেন, তার প্রত্যেকটিতেই মুহাম্মদ প্রত্যক্ষভাবে নিজে জড়িত ছিলেন ও তাঁর সকল অনুসারী তাঁকে সমর্থন যুগিয়েছিলেন। অন্যদিকে ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যা স্পষ্ট তা হলো, কুরাইশ ও বনি বকর গোত্রের সমস্ত লোকেরা এই সংঘর্ষে জড়িত ছিলেন না। আল ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা আরও জানতে পারি যে, আবু সুফিয়ান সহ ও অন্যান্য কুরাইশ নেতৃবৃন্দ এই ঘটনাটি জানার পর ঘটনার সাথে জড়িত কুরাইশদের দোষারোপ করেছিলেন। শুধু তাইই নয়, পরবর্তীতে আবু সুফিয়ান নিজে মদিনায় মুহাম্মদের কাছে গিয়ে এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন (বিস্তারিত আলোচনা 'মক্কা বিজয়' অধ্যায়ে করা হবে।)

হুদাইবিয়া সন্ধি-চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছিল মুহাম্মদ ও কুরাইশদের মধ্যে। ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় হুদাইবিয়া সন্ধির গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিক শর্তগুলো হলো:

১) শর্ত ছিল, "তারা আগামী দশ বছর যুদ্ধ বন্ধ রাখবে যাতে জনগণ সহিংসতা পরিহার করে নিরাপদে থাকতে পারে--।" কুরাইশরা এই শর্তটি নিশ্চিতরূপেই ভঙ্গ করেননি! কারণ তাঁরা মুহাম্মদ বা তাঁর অনুসারীদের ওপর কোনোরূপ আক্রমণ করেননি।

২) শর্ত ছিল, "তারা একে অপরের প্রতি শত্রুতা প্রদর্শন করবেন না।" কুরাইশরা এই শর্তটি নিশ্চিতরূপেই ভঙ্গ করেননি! কারণ তাঁরা মুহাম্মদ বা তাঁর অনুসারীদের ওপর কোনোরূপ শত্রুতা প্রদর্শন করেননি।

৩) শর্ত ছিল, "তারা একে অপরের প্রতি কোনোরূপ গোপন অভিসন্ধি বা প্রতারণার আশ্রয় নেবেন না।” কুরাইশরা এই শর্তটি নিশ্চিতরূপেই ভঙ্গ করেননি! কারণ তাঁরা মুহাম্মদ বা তাঁর অনুসারীদের ওপর কোনোরূপ গোপন অভিসন্ধি বা প্রতারণার আশ্রয় নেননি।

৪) শর্ত ছিল, “যে কোন ব্যক্তি যদি মুহাম্মদের সঙ্গে সংযুক্ত ও চুক্তিবদ্ধ হতে ইচ্ছা করে তবে সে তা করতে পারবে এবং যে কোন ব্যক্তি যদি কুরাইশদের সঙ্গে সংযুক্ত ও চুক্তিবদ্ধ হতে ইচ্ছা করে তবে সে তা করতে পারবে। বানু খোজা গোত্র তৎক্ষণাৎ সেখানে ঘোষণা করে যে, 'আমরা মুহাম্মদের সাথে সংযুক্ত হলাম' এবং বানু বকর গোত্র একই ভাবে কুরাইশদের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেয়।"

>> অর্থাৎ, কুরাইশ ও মুহাম্মদের মধ্যে যেদিন হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তিটি সম্পন্ন হয়, সেই একই সময়ে মৈত্রী চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল বানু বকর গোত্র ও কুরাইশদের মধ্যে। মুহাম্মদ ইতিমধ্যেই বার বার হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তি শর্ত ভঙ্গ করার কারণে মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ আক্রান্ত বানু বকর গোত্রকে সাহায্য “না করার” বিষয়ে কুরাইশরা নৈতিকভাবে বাধ্য ছিলেন না। তাই তাদের কিছু লোক বানু বকর গোত্রের লোকদের সাহায্য করছিলেন আক্রমণকারী বানু খোজা গোত্রের বিরুদ্ধে, মুহাম্মদ বা তাঁর কোনো অনুসারীদের বিরুদ্ধে নয়। যেহেতু তাঁরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের আক্রমণ করেননি, সুতরাং তাঁরা হুদাইবিয়ার সন্ধিচুক্তির কোনো শর্ত ভঙ্গ করেননি! বানু বকরের সঙ্গে তাঁদের মৈত্রী চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তাঁরা আক্রান্ত বানু বকর গোত্রকে সাহায্য করতে নীতিগতভাবে বাধ্য, তাঁদের কিছু লোক সেই কাজটিই করেছিলেন।

একইভাবে হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তিটি সম্পন্ন হওয়ার সময়টিতে মৈত্রী চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল বানু খোজা গোত্র ও মুহাম্মদের মধ্যে। ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যা স্পষ্ট, তা হলো, বানু খোজা গোত্রের মুখ্য আক্রমণকারী গোত্রটি ছিল বানু বকর গোত্রের অন্তর্ভুক্ত আল-দিলি গোত্রের লোকেরা, সকল বানু বকর গোত্র এই হামলায় জড়িত ছিলেন না; সকল কুরাইশরা তো নয়ই। এই ঘটনায় কুরাইশদের ভূমিকাটি মুখ্য ছিল না, ছিল গৌণ। এমত পরিস্থিতিতে মৈত্রী চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মুহাম্মদের কর্তব্য মূলত: বানু খোজা গোত্রকে সাহায্য করা, সর্বোচ্চ তিনি বানু খোজার পক্ষ নিয়ে মুখ্য আক্রমণকারী বানু আল-দিলি লোকদের কিংবা বানু বকর গোত্রকে আক্রমণ করতে পারেন। এর বেশি কিছু নয়!

যে যুক্তির মাধ্যমে ইসলাম বিশ্বাসীরা কুরাইশদের কে হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তির শর্ত ভঙ্গকারী সাব্যস্ত করার চেষ্টা করেন তা হলো:
"যেহেতু বানু খোজা গোত্র মুহাম্মদের সাথে মৈত্রী চুক্তি বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন, সেহেতু বানু খোজা গোত্রকে (মুহাম্মদের পক্ষ) আক্রমণ করার অর্থ হলো - মুহাম্মদ কিংবা তাঁর অনুসারীদের আক্রমণ করা, তাই তা হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তির শর্ত ভঙ্গ। তর্কের খাতিরে ধরে নেয়া যাক যে, তাঁদের এই যুক্তি যৌক্তিক! সে ক্ষেত্রে এই একই যুক্তিতে বানু বকর গোত্রের বিরুদ্ধে (কুরাইশদের পক্ষ) বানু খোজা গোত্রের (মুহাম্মদের পক্ষ) আক্রমণের অর্থ হলো "কুরাইশদের" আক্রমণ করা, তাই তা হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তির শর্ত ভঙ্গ।

সে ক্ষেত্রেও আল-ওয়াকিদির বর্ণনায় যা আমরা নিশ্চিতরূপে জানি, তা হলো, হুদাইবিয়া সন্ধির পরের এই ঘটনায়, বানু খোজা গোত্রের লোকদের দ্বারা আল-আসওয়াদ বিন রাজন আল দিলের তিন পুত্রকে হত্যা করার বিষয়টি যদি আমরা উপেক্ষাও করি (এই বিবেচনায় যে সংঘটিত হয়েছিল সন্ধিচুক্তির পূর্বে) তথাপি, প্রথম আক্রমণকারী ব্যক্তিটি ছিলেন বানু খোজা গোত্রের (মুহাম্মদের পক্ষ) এক লোক; যে বানু বকর গোত্রের (কুরাইশদের পক্ষ) আনাস বিন যুনায়েম আল-দিলি নামের এক লোককে শারীরিক আক্রমণ করেছিলেন ও তাঁর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন। সুতরাং এই যুক্তিতেও হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তির শর্ত ভঙ্গকারী মুহাম্মদের পক্ষ (মুহাম্মদ), কুরাইশরা নয়।

সংক্ষেপে, হুদাইবিয়া সন্ধির শর্ত অনুযায়ী মুহাম্মদ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোনোভাবেই কুরাইশদেরকে আক্রমণ করতে পারেন না। এটি ছিল মুহাম্মদের পঞ্চম চুক্তি লঙ্ঘন!

মুহাম্মদের "মক্কা আক্রমণের বৈধতা” দিতে যুগে যুগে ইসলামী বিশ্বাসী পণ্ডিত ও অপণ্ডিতরা (অধিকাংশই না জেনে) বিভিন্ন কসরতের মাধ্যমে মুহাম্মদের এই “৯:১৩ -১৪” দাবীর বৈধতা দিয়ে এসেছেন। কেন তাঁরা এমনটি করেন, তার আলোচনা দশম পর্বে করা হয়েছে। তাই সত্যকে জানতে হলে আদি উৎসে বর্ণিত লিখাগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত আবশ্যক। নতুবা বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ! বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বহুল আলোচিত ও অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল-ওয়াকিদির অতিরিক্ত প্রাসঙ্গিক মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি। (ইবনে ইশাকের মূল ইংরেজি অনুবাদ ইন্টারনেটে বিনামূল্যে ডাউনলোড লিঙ্ক: তথ্যসূত্র [1])।

The additional narratives of Al-Waqidi:
‘Abdullah b Amr b Zuhayr related to me from Mihjan b Wahb, who said: It was the last of what was between Khuzaa and Kinana that Anas b Zunaym al-Dili insulted the Messenger of God. A lad from Khuzaa heard him and fell upon him and struck him. He went out to his people and showed them his wounded head and mischief was stirred up with what was among them, and with what the Banu Bakr required of their blood-wit from the Khuzaa. When it was Shaban, during the first twenty two months of the peace of al-Hudaybiyya, Banu Nufatha of the Banu Bakr spoke to the nobility of the Quraysh – the Banu Mudlij withdrew and did not break the agreement – to help with men and weapons against their enemy among the Khuzaa. They reminded them of the dead whom the Khuzaa had killed. They indicated to them their relationship and informed them about their entering with them in their contract and agreement, and of the khuzaa going to Muhammad with his contract and his agreement. The Banu Bakr found the people [Quraysh] hasten to that, except for Abu Sufyan. His advice was not sought about that and he did not know. Some said: indeed they conferred with him but he refused them. The Banu Nafatha and Bakr began to say: Rather it is us! They helped them with weapons and quivers and men, and they plotted in secret in order that the Khuzaa would not know. They were secure and over-confident about the agreement and with what Islam hindered between them. Then the Quraysh made an appointment at al-Watir with those who were with them. They appeared for the appointment with elders of the Quraysh disquised and veiled: Safwan b Umayya, Mikraz b Hafs b al- Akhif, and Huwaytib b Abd al-Uzza brought their slaves with them. The head of the Banu Bakr was Nawfal b Muawiya al-Dili. The Khuzaa stayed up the night, overconfident and feeling safe from their enemy. For if they were fearful of this, surely they would have been on guard and prepared. ----- Abdullah b Amir al-Aslami related to me from Ata b Abi Marwan, who said: The Quraysh and Banu Bakr had killed twenty men among them while the Khuzaa were present in the house of Budayl and Rafi. When it was morning the Khuzaa lay killed at the door of Budayl and Rafi, the mawla of Khuzaa. The Qurash went out, regretting what they did. They knew that what they did broke the agreement that was between them and the Messenger of God for the determined period of time. Abdullah b Amr b Zuhayr related to me from Abdullah b Ikrima b Abd al-Harith b Hisham, who said: Al-Harith b Hisham and Ibn Abi Rabi’a came to Safwan b Umayya, Suhayl b Amr, and Ikrima b Abi Jahl and blamed them for helping the Banu Bakr.----’

(চলবে)

[কুরানের উদ্ধৃতি সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (হারাম শরীফের খাদেম) কর্তৃক বিতরণকৃত বাংলা তরজমা  থেকে নেয়া, অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি বিভিন্ন ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ এখানে]

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৫৪০- ৫৪২ http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[2] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৮, ইংরেজী অনুবাদ: Michael Fishbein, University of California, Los Angeles, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-7914-3150—9 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৬১৯-১৬২১ http://books.google.com/books?id=sD8_ePcl1UoC&printsec=frontcover&source=gbs_ge_summary_r&cad=0#v=onepage&q&f=false

[3] অনুরূপ বর্ণনা “কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ), ed. Marsden Jones, লন্ডন ১৯৬৬; ভলুম ২, পৃষ্ঠা ৭৮০-৭৮৪
ইংরেজি অনুবাদ: Rizwi Faizer, Amal Ismail and Abdul Kader Tayob; ISBN: 978-0-415-86485-5 (pbk); পৃষ্ঠা ৩৮৪-৩৮৬

[4] Ibid তাবারী নোট: 'আল-আসওয়াদ বিন রাজন আল-দিলি ছিলেন বানু কিনানা গোত্রের নেতাদের একজন, বানু আল-দিলি গোত্রটি ছিল বানু বকর গোত্রেরই এক অংশ।'

[5] Ibid তাবারী নোট: ‘মক্কা শরীফ ও তার চতুর্দিক পবিত্র এলাকা (হারাম) দ্বারা পরিবেষ্টিত, যেখানে রক্তপাত ও হত্যাকাণ্ড নিষিদ্ধ। এই খুনিরা ঐ লোকগুলোকে খুন করে এই এলাকার ঠিক বাহিরেই’।

 [6] ‘বানু কাব বিন আমর গোত্রটি ছিল বানু খোজা গোত্রেরই একটি অংশ’। 

[7] Ibid সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক - পৃষ্ঠা ৫৩১-৫৩২; Ibid: আল-তাবারী পৃষ্ঠা (Leiden) ১৬১১