২৬ জুন, ২০১৬

জাকির নায়েকের ‘কোরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান’ এবং তার যুক্তিখণ্ডন - পর্ব ১

লিখেছেন Enigmatic Jihad

বর্তমানে ইসলামের জগতে জাকির নায়েক এক অন্যতম নাম। ‘কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান’ নামে তার একটি বই আছে, যা মুসলিমদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ও তাদের গুরুত্বপূর্ণ একটি হাতিয়ার। বইটি প্রথমবার পড়েই বুঝে গিয়েছিলাম বইয়ে বর্ণিত নিগূঢ় জ্ঞান সম্পর্কে। অনেকদিন থেকেই ইচ্ছা ছিলো বইটি সম্পর্কে কিছু লেখার। তবে সময় ও সুযোগ কোনোটিই হয়ে উঠে নি। 

জাকির নায়েক যে একজন ভণ্ড ও ধাপ্পাবাজ লোক, তার প্রমাণ নেটে অসংখ্য ছড়িয়ে আছে। আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলো বিবর্তন সম্পর্কিত তার ৫ মিনিটের একটি লেকচারে ২৫ টি ভুল (ভিডিওটি বাংলায়) বের করা একটি ভিডিও। যদিও সেটা অনেক দিন আগের ঘটনা। তবে জাকির নায়েকের এই আধুনিক বিজ্ঞান সম্পর্কিত বিশেষ কোনো লেখা আমি খুঁজে পাইনি। আসুন, জানি কোরান ও জাকির নায়েক কী বলে, আর আধুনিক বিজ্ঞান কী বলে।

তার 'কোরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান' বইটির অনুবাদ প্রকাশ হয় ২০০৯ সালে, ঢাকা পিস পাবলিকেশন থেকে। অনুবাদ করেছেন মোঃ আব্দুল কুদ্দূস। ২০১৫ সালে যার নতুন সংস্করণ করা হয়। এছাড়া 'জাকির নায়েকের লেকচার সমগ্র' নামে আরেকটি বই রয়েছে, যেখানেও কোরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান বিষয়টি উঠে এসেছে। বইটির প্রথমেই অনুবাদক ও প্রকাশক তাদের নিজ নিজ মতামত সহ কিছু কথা লেখেন। এরপর জাকির নায়েকের জীবনী নিয়ে ৬ পৃষ্ঠার একটি প্রবন্ধ আছে। এবার আসি বইটির মূল প্রসঙ্গে। বইটির সূচিপত্রের প্রথম বিষয়টি হচ্ছে ‘কোরআনের চ্যালেঞ্জ’। 

১. কোরআনের চ্যালেঞ্জ: প্রথমেই জাকির নায়েক কোরআনকে পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট আরবি সাহিত্য বলে অভিহিত করেছেন। সে যাই হোক, তর্কে না গিয়ে মুখ্য আলোচনায় ফিরে আসি। কোরআনের যে-চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, তা হলো সূরা বাক্বারার ২৩-২৪ নং আয়াত।
এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো। আর যদি তা না পার-অবশ্য তা তোমরা কখনও পারবে না, তাহলে সে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য। (সূরা বাক্কারা, ২৩-২৪)
ঠিক আছে, আপনারা Origin of Species by means of Natural Selection-এর মত একটি বই লিখে দেখাতে পারবেন? পারবেন না, কারণ ক ও খ কখনই এক হয় না। বই কেন, একটা চ্যাপ্টারও লিখতে পারবেন না। আর আমি একটা বই লিখলে তাতে কোনো ভুল ভ্রান্তি আছে কি না, তা পাঠকই বিচার করবেন। আমি যদি বইয়ের শুরুতে লিখে দিই যে, এতে কোনো ভুল নেই, এটি সকল ভুলের ঊর্ধ্বে, তাহলেই তো আর বইটি ভুল-ভ্রান্তির ঊর্ধ্বে হয়ে যায় না। আর কোরআনের বিপক্ষেও সারা দুনিয়ায় হাজার হাজার মানুষ চ্যালেঞ্জ করেছে। তাদের চ্যালেঞ্জের জবাবও ইসলাম বা জাকির নায়েক কেউ দিচ্ছেন না। একটি জলজ্যান্ত উধাহরণ দেয়া যাক। টিম মিনচিন নামের একজন কমেডিয়ান, যিনি কিনা একাধারে গায়ক, পিয়ানোবাদক, গিটারবাদক, তিনি তার এক গানের মাধ্যমে সারা পৃথিবীর ধর্মবিশ্বাসীদের কাছে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে। এমনকি তিনি তার পক্ষে বাজি ধরেছেন তাঁর পিয়ানো, তাঁর একটি পা এবং তাঁর স্ত্রী। (এই পোস্টে গিয়ে অপূর্ব লিরিকসসহ সেই গানটি শুনে নেয়া যাবে। - ধর্মপচারক)

কোথায়, তার চ্যালেঞ্জের জবাব কি জাকির নায়েক দিয়েছেন? উক্ত বাক্কারা অর্থাৎ The Cow সূরার মাধ্যমে মানুষকে যে সত্যিকারের Cow বানানো হয়েছে, তা মানুষ এখনও বুঝতে পারে না।