১২ জুন, ২০১৬

সন্তান অপেক্ষা ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ

লিখেছেন শুভ্র আহমেদ

আমার প্রত্যেকটা লেখা অত্যন্ত আগ্রাসী হয়। লেখার মধ্যে থাকে ইসলামের প্রতি একরাশ আক্রোশ। এই তীব্রতা দেখে অনেক মুমিন আমাকে যেমন ছুপা হিন্দু ভাবেন, তেমনি অনেক হিন্দু মুমিন আমাকে পেয়ারের হিন্দু ভাই ভেবে আহ্লাদিতও হন।

ইসলামের প্রতি আমার এই তীব্র ঘৃণার উৎস কী?

আমি ১০ বছর বয়সে মাদ্রাসায় ভর্তি হই। ২০ বছর বয়সে মাদ্রাসা ত্যাগ করি ও চূড়ান্ত নাস্তিক হই। এই ১০ বছর ছিল আমার জীবনের নরক, যে নরকের বীজ ছিল ইসলাম। আমি যখন বাথরুমে যেতাম, খেতে বসতাম, আমার বাবা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকত। দেখত, আমার ঠোঁট নড়ে কি না। ঠোঁট নড়লে বুঝত, দোয়া পড়ছি, না নড়লে অত্যন্ত কঠিন কঠিন কথা শোনাত। আমি টিভি দেখতাম পারতাম না। অবশ্য দেখতামও না। শুধু খেলা দেখতাম। তাও সহ্য করত না। বলত, তুই মোল্লা হয়ে টিভি দেখস ক্যান?

আমি খেলতে পারতাম না মাঠে, কম্পিউটার চালাতে পারতাম না। ঐ একই কথা শোনাত। 'তুই মোল্লা হয়ে এসব করবি ক্যান' (যদিও আমার বাসায় টিভি, কম্পিউটার, রেডিও এসব শয়তানের যন্ত্র ছিল না, আমি এগুলো দেখতাম আমার চাচার ঘরে গিয়ে)।

টিনেজ বয়সে মানুষের জীবন থাকে কত আনন্দময়, আমার জীবন ছিল এক কথায় ছ্যাড়াব্যাড়া। কুৎসিত ইসলামের কুৎসিত আগ্রাসন ছাড়া আর কিছু ছিল না।

গল্প বইয়ের ভয়ংকর নেশা ছিল। পড়ার অনুমতি ছিল না। মোল্লা হয়ে এসব নাজায়েজ প্রেমের উপন্যাস পড়ব ক্যান!

২০ বছর বয়সে যখন নাস্তিকতার ঘোষণা দিলাম, সোজা বের করে দিল। একটা বছর খুব কষ্টে ছিলাম। একে তো মাদ্রাসা পড়ুয়া, কোনো জেনারেল পড়াশুনা না থাকায় একটা চাকরি করার সুযোগ নেই, তার ওপর ধনীর দুলাল। কোনো কাজকর্ম করারও অভ্যাস নেই। কোনোদিন এমেও গেছে যে, না খেয়ে কাটিয়ে দিয়েছি। অসুখ হলে কষ্টে কেঁদেছি একাকী, তবু চিকিৎসার পয়সা পাইনি। এতকিছুর পরও আমার বাবার এক কথা, "এই শয়তানকে বাড়িতে জায়গা দেব না।"

আমি পড়াশুনায় ছিলাম অসম্ভব ভাল। আজ যদি মাদ্রাসায় না পড়ে এই ১০ বছর স্কুলে পড়তাম, তাহলে কি আমি অনেক ভাল একটা জায়গায় থাকতাম না? আমার টিনেজ বয়সের বেশির ভাগ সময় আমি কান্না করে কাটিয়েছি। ইসলাম আমার সব স্বপ্ন, সময়কে একেবারে কামড়ে কামড়ে ক্ষত-বিক্ষত করেছে। আমি এখন আবার বাড়িতে আছি বটে, তবে আমার বাবার সাথে আমার কথা বন্ধ। নিজের সন্তানের প্রতি এই নিষ্ঠুরতার উৎস হল ইসলাম।

বিশ্বাস করেন মুমিন ও সুশীল ভাইরা, ইসলামের প্রতি যে আমার এই প্রবল ঘৃণা বলুন কিংবা আক্রোশ বলুন বা জিঘাংসা বলুন, সেটার ওপর আমার নিজের হাত নেই। এগুলো আমার ভেতরে অটোম্যাটিকালি তৈরি হয়ে গেছে। আমি চাইলেও এইটা দূর করতে পারি না।

হ্যাঁ, এটা দূর হবে, যদি আমি আমার সেই ১০ টা স্বপ্নীল বছর ফেরত পাই। কোনো মুমিন ভাই কি আছেন, আমার ধ্বংস হওয়া ১০ বছর ফিরিয়ে দিতে পারবেন? কথা দিচ্ছি, আমার টিনেজ ফিরে পেলে আমি ইসলামবিরোধী লেখা বন্ধ করে দেব।