২ মে, ২০১৬

সৃষ্টি হওয়া দৃষ্টিকোণে

লিখেছেন সত্যের সন্ধানে

১.
ধরা যাক, আমি একটি কবিতা লিখলাম আর ঘোষণা করলাম, "পারলে এর চেয়ে বেটার কোয়ালিটি সম্পন্ন একটা কবিতা লিখে আনুন।"
আপনারা তখন প্রশ্ন করতে পারেন, "কোয়ালিটি চেকিং এর মানদণ্ড কী হবে, আর কবিতা better নাকি worse - এই সিদ্ধান্ত কে নেবে?"
উত্তরে বললাম, "আমিই সিদ্ধান্ত নেব।"

এখন আপনারাই বলুন, যেখানে কবিতার লেখক আমি, বিচারের মানদণ্ডও আমার তৈরি, বিচারকও আমি, এই ধরনের পরিস্থিতিতে কার বাপের সাধ্য আছে আমার চাইতে বেটার কবিতা লেখে?

পৃথিবীতে এই ধরনের দাবিকারী বুদ্ধিমানদের সংখ্যা এখন Fastest Growing. বোঝাই যাচ্ছে, কেন দিনে দিনে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

২.
হেফাজতে ইসলাম নামে একদল চটি-পাঠক, দেখলাম, মিছিল বের করেছে। তাদের দাবি - পাঠ্যপুস্তক থেকে হিন্দু লেখকদের লেখা সরিয়ে ফেলতে হবে। দেশের পরিস্থিতি যা বুঝলাম, তাতে সাহিত্যিকদের মূল্যায়ন তাদের নুনুর স্ট্যাটাসের ওপর নির্ভর করবে। বিবর্তন ভুল প্রমাণ করার জন্য এরাই যথেষ্ট কারণ। একমাত্র স্রষ্টার পক্ষেই এই ধরনের মস্তিষ্কবিহীন প্রাণী তৈরি করা সম্ভব।

৩.
আমি কোরআনকে আপনার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যাতে আপনি এর দ্বারা পরহেযগারদেরকে সুসংবাদ দেন এবং কলহকারী সম্প্রদায়কে সতর্ক করেন। (১৯:৯৭)

তাই যদি হয়, তাহলে হাদিসের প্রয়োজনীয়তা কী? হাদিস দ্বারা কোরানের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বিশিষ্ট তাফসিরকারীরা হাদিসের আলোকে কোরানের ব্যাখ্যা লেখেন। কোরানের কোথাও যদি “ফল” লেখা থাকে, তাহলে হাদিসের দ্বারা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, এখানে “ফল” বলতে “আম” নাকি “কাঁঠালের” কথা বলা হয়েছে।

সহজ ভাষায় লেখা কোরানকে ব্যাখ্যা করার জন্য হাদিস ব্যবহার করা হয়, কারণ সবার বোঝার ক্ষমতা এক রকম নয়, তাই কেউ যেন আমের জায়গায় কাঠাল না বোঝে। কিন্তু কিছু বুদ্ধিতে খাটো প্রাণী আছে, যাদের জন্য হাদিসেরও ব্যাখ্যা দরকার হয়। কিন্তু সেই হাদিসের ব্যাখ্যায় কিসের ব্যাখ্যা থাকে? আম কাঁচা হবে, নাকি পাকা হবে, সেটার ব্যাখ্যা? নাকি আম ডালে দিয়ে খাবো, নাকি আচার বানিয়ে খাবো, সেটার বর্ণনা?

মুমিন বান্দারা শুধু ত্যাঁনা প্যাঁচাতে থাকেন। আয়াত দিলে চান হাদিস, হাদিস দিলে চান হাদিসের ব্যাখ্যা... প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে এমন গিট্টু লাগে যে, মূল বিষয়ই গিট্টুর নিচে চাপা পড়ে মারা যায়।