২১ মে, ২০১৬

বাংলাদেশী হিন্দু

লিখেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

'নওদাবস' গ্রামের সীমান্তে আমাদের বাড়ি। বাড়ির দক্ষিণ দিকে বিশাল দোলা। উত্তরে লোকালয়, যেখানে মানুষ থাকে। যখন আমার ১৩ বছর, তখন পুরো গ্রাম তো দূর, আমাদের পাড়াটিও ঘুরেফিরে দেখিনি। সুবাসদা', রবীন্দ্র কাকা, রাধামোহন দাদু, রমনী কাকা, হরিবোলা কাকা, মন্টু দাদু, কার্তিকের বাপ জেঠু, দুলালের বাপ জেঠু প্রমুুখ কতকজনের বাড়িতে যাওয়া আসা ছিলো আমার। মস্ত বড় পৃথিবীর এই অতি ক্ষুদ্র অংশটুকুই ছিলো আমার দেশ। তবুও বাড়ির লোকজন ছাড়া আমি কারো সাথে স্বচ্ছন্দে কথা বলতে পারতাম না। ওরাই আমার সাথে একটা সূক্ষ্ম বিভাজন রেখে দিতো। 

আমি বড় হতে থাকি ফসলের মাঠে, মেঠো রাস্তায়, বাড়িতে, উঠোনে, স্কুলে। সুবিস্তৃত দোলা'র মধ্যদিয়ে প্রতিদিন স্কুল যাওয়া-আসা করে। আমার আপন মনে হতো স্কুলগামী রাস্তাটাকে; মাঠের মেরুদণ্ড হয়ে যে'টি চলে গেছে পার্শ্ববর্তী গ্রামের পথে, যে-স্কুলটির সহকারী-শিক্ষক আমার বাবা। আর আমার মা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী। গ্রামে চাকুরীজীবী এমন পরিবার নেই বললেই চলে। এ গ্রাম জুড়ে কেবল বাবার বন্ধু সিরাজ আর তার বউ মাদ্রাসায় চাকরি করে। স্বভাবতই এমন পরিবারের সদস্য হিসেবে নিজের মধ্যে একটা দম্ভ থাকতো। এ কারণেই গ্রামের আর-সবার সাথে আমার একটা দূরত্ব থেকেই যেতো। 

কিন্তু মাঝেমাঝে গ্রামের গরীব মানুষদের জীবনযাপন দেখে অপরাধবোধ হতো। শৈশবে আমার খেলার সাথী মিলন যখন ক্ষুধার্ত পেটে আমার সাথে খেলত, তখন লুকিয়ে তাকে এক বাটি মুড়ি এনে দিতাম। লুকিয়ে লুকিয়ে রমনী কাকার মা'কে একমুঠো পান দিয়ে আসতাম। বন্যার সময় মাছ ধরতাম, বেশি মাছ পেলে বৃদ্ধ প্রিয়নাথ পিসে মশাই'র খলুইয়ে কিছু ঢেলে দিতাম। এইসব সাধারণ শিক্ষা আমি বাবার কাছেই শিখেছি। শৈশব থেকে বাবার কাছে যতকিছু শিখেছি, ততটুকু মানুষ হবার জন্য যথেষ্ট। বাবার রক্ত যে আমার শরীরে বইছে, এটাও একটা কারণ।

কিন্তু আমার বয়সের সাথে আমাদের পিতা-পুত্রের সম্পর্ক ধীরেধীরে স্কুলগামী মেঠো রাস্তাটার মত ফাঁকা হয়ে গেলো। ১৪ বছর বয়সে এসে বাবাকে "বাবা" ডাকতেও সংকোচবোধ হতো। আমার মনে হচ্ছিলো, আমি বাবাকে পছন্দ করি না। আমার জীবনে বাবার কোনো দরকার নেই। তবুও কেউ যেচে বাবার প্রসংশা করলে প্রচণ্ড ভালো লাগত, আবার কেউ নিন্দা করে সামান্য কিছু বললেও প্রচণ্ড মন খারাপ হতো। 

একবার আমাদের স্কুলের পার্শ্বস্থ মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট স্যারের দ্বিতীয় বিয়ে উপলক্ষে রং খেলায় মেতেছিলো স্কুল আর মাদ্রাসার ছাত্ররা মিলে। সেদিন বাবা স্কুলে আসতে দেরি করছিলো। ছাত্ররাও প্ল্যান করে রেখেছিলো, রুদ্র স্যার আসবার সাথেই রং ছুঁড়ে দেবে। আমি তাদের পরিকল্পনা শুনে ফেলি, এবং স্কুলের রাস্তায় অপেক্ষা করি, যেন বাবা আসবার আগেই সবকিছু বলে দিতে পারি এবং তাঁর গায়ে কেউ রং দিতে না পারে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। আমি সেদিন বাবাকে রং থেকে বাঁচাতে পারিনি। পরে অবশ্য তাঁর পরিপাটি শার্টের বেহাল দশা দেখে হেসেছিলাম।

সেবার আমার বাবা রুদ্র মাস্টার আমাদের হেডস্যারের প্ররোচনায় পড়ে রাজনীতিতে যোগ দিলো। হেডস্যার প্রায়দিনই তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক কারবারে নিয়ে যেতে লাগলেন। আমি তখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নামও জানতাম না। মা আমাকে টিপ্পনি করে বলত, "তোর বাপ তো নেতা!" আমি চুপচাপ থাকতাম, ভাবতাম, সত্যি বোধহয় আমার বাবা ক্ষমতাবান নেতা। মনে খুব প্রশান্তি নিয়ে নানান চিন্তা করতাম। বাবা আমার নায়ক।

এভাবেই যাচ্ছিলো দিনকাল।

একরাতে আমার ঘুম আসছিলো না। চুপচাপ শুয়ে আবোল-তাবোল ভাবছিলাম। বাবা রাত ১১ টা'র দিকে বাড়ি এলো। এসে সোজা বিছানায় শুয়ে রইলো। আমাদের বিশ-হাত লম্বা একটা টিনের ঘর ছিলো। মাঝখানে পার্টিশন। বাবা-মা একটা ঘরে থাকত, আমি আরেকটা ঘরে। ও ঘরের কথা স্পষ্ট শোনা যায়। আমি চুপচাপ শুয়ে থেকে শুনছি:

মা জিজ্ঞেস করছে, "কী হয়েছে তোমার?"

বাবা কথা বলছে না।

মায়ের জোরাজুরিতে বাবা এবার মুখ খুললো। বলল, "সিরাজ এতো খারাপ মানুষ, আগে বুঝতে পারিনি! ছোটোবেলা থেকে একসাথে চলাচল করে আসছি, অথচ ছোট্ট একটা কারণে সে আমাকে এতো বড় ভেজালে ফেলবে, তা স্বপ্নেও আসেনি। সিরাজ এতো জঘন্য কাজ করতে পারলো!"

মা বললো, "কী হয়েছে, বলবে তো!"

বাবা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, "আমার ঐ পার্টিতে যোগ দেয়া তার সহ্য হয়নি। সে আমাকে ফাঁসাচ্ছে, জঘন্যভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। ও আমাকে তার দলে ডেকেছিলো, আমি যাইনি। এটা আমার অপরাধ!"

আমি সে রাতে ঘুমিয়ে গেছি। সকালে উঠে দেখি, বাবা বাজারে যায়নি। বাবার সকাল-সন্ধ্যা বাজার যাবার অভ্যেস। অথচ আজ ঘরের ভেতরে পায়চারি করছে। হঠাৎ আমার গতরাতের কথা মনে হলো। আমি কিছুটা অনুমান করলাম, আর কান খাড়া করে রাখলাম বাকিটুকুর জন্য। সেদিন স্কুল বন্ধ ছিলো। বাবা কোথাও গেল না, সারাদিন বিছানায় শুয়ে রইল। বিকেলে মা আমাকে মুদি দোকান থেকে তেল-লবন আনতে পাঠালো। আমি সাইকেলটা নিয়ে দোকানের দিকে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ কে যেনো বলল. "কালীর মাথা ভাঙছে।" 

কিন্তু কথাটা আমার খুব মনোযোগ পেলো না। মুদি দোকানে গিয়ে দেখলাম, ছোটো একটা জলসা বেধেছে। উপস্থিত সকলেই আমার দিকে দেখছে। আমি বুঝতে পারলাম, গতরাতে বাবার কিছু একটা হয়েছে। এজন্যই লোকজন আমাকে দেখছে। মনে মনে এমন কাউকে খুঁজছিলাম, যার কাছে এ ব্যপারে কিছু খবর পাবো। সুবাসদা'র দেখা পেলাম ওর বাড়ির বাইরে। সাইকেলের ওপর দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "দাদা, কাইল্কা কি হৈছে? কোন কালীর মাথা ভাঙছে?"

সুবাসদা' বললো, "ভাইরে, রুদ্র মামাই নাকি ঠাকুরের মাথা ভাঙছে। ঐ মোড়ের কালী। কাল রাতে সিরাজুলসহ তোর বাপের ক্যাচাল হৈছে। সিরাজ কৈছে, বাজারে যাইলে তোর বাপের ডাং হইবে।"

আমি তখন সাইকেল থেকে টলে পড়ে যাচ্ছিলাম। কথাটা কানে আসার সাথেই প্রচণ্ড ক্রোধে জ্বলে যাচ্ছিলাম আমি। আমার বাবা কালীর মাথা ভাঙছে, এটা কখনোই সত্য হতে পারে না। স্পষ্ট বুঝে গেলাম সবকিছু। কালীর মাথা ভেঙে আমার বাবাকে ফাঁসানো হচ্ছে। বাবা নিরুপায়, অসহায়ের মত মূক আর্তনাদ করছে ঘরবন্দী হয়ে। এতো জঘন্যভাবে কাউকে ফাঁসানো যায়, সেটা আমি প্রথম বুঝতে পারি। এবারও আমি আমার বাবাকে বাঁচাতে পারব না। এবার বাবার চরিত্রে ওরা রং দেবে। শার্টে যখন রং দিয়েছিলো, তখন হেসেছিলাম; এবার চরিত্রে রং দেবে, এবারও বাঁচাতে পারব না।

বুঝতে পারি, এ লোকালয়ের সবাই মানুষ নয়। লোকালয়ে জানোয়ারও থাকে। মাদ্রাসা শিক্ষক, বাবার সহপাঠী সিরাজ একজন জানোয়ার। 

সুবাস দা'র কাছে ওসব শুনে বাড়ি এলাম। বাড়িতে থমথমে পরিবেশ। কাউকে কিছু বলবার সাহস পেলাম না। সন্ধ্যে হয়েছে, তবু ঘরে হ্যারিকেন জ্বলেনি এখনো। অন্ধকার ঘরে বাবা ইতস্তত পায়চারি করছে। বাড়িটা আস্ত শ্মশানের হয়ে গেছে। মা এলোমেলো চুল নিয়ে বসে আছে মাটিতে। গ্রামে সিরাজ প্রচার করেছে, "রুদ্র ঠাকুর কালীর মাথা ভাঙছে, ওর বিচার হবে।" 

গ্রামের মানুষ সিরাজের কথা বিনাপ্রশ্নেই মেনে নিয়েছে। আমার বাবার বিচার হবে! ভাবতে ভাবতে আমি কাঁন্না করি। আমার ভাবা এতোদিনের "হিরো" আজকে অসহায় একজন হিন্দু মানুষ। হ্যারিকেন জ্বালিয়ে বাবার ঘরে দিয়ে আসছিলাম। বাবার মুখটা দেখার সাহস পেলাম না। আমার প্রচণ্ড ইচ্ছে হলো, বাবাকে সান্তনা দেবার।

সেদিন এভাবেই পার হয়ে গেলো। সেরাত বাবা ঘুমোতে পারেনি। পরদিন খুব সকালে বাবা বেরোলেন। আশপাশের হিন্দুদের বাড়িবাড়ি গিয়ে হাতে-পায়ে ধরে অনুরোধ করলেন, "আজ বিকেলে থানার এস আই আসবে। আপনারা কষ্ট করে উপস্থিত থাকবেন একটু।" 

বিকেল হলো। পুলিশ এলো। বাবার পার্টির কিছু স্থানীয় নেতা এসেছিলো বাবার পক্ষ নিয়ে। গ্রামের সাধারণ মুসলমানরা সিরাজুলের পক্ষে। কিন্তু হিন্দুরা কেউ আসেনি। রবীন্দ্র কাকা বাবার পক্ষ নিয়েছিলো বলে সিরাজুল ধমকি দিয়েছিলো। সুবাসদা' এসেছিলো আমাকে নিয়ে। শচীন কাকা, সন্তোষ কাকা সিরাজুলের খাস লোক। তারাও বাবার বিরুদ্ধেই কলকাঠি নাড়ছে। গ্রামের সবাইকে তারা মিটিংয়ে যেতে নিষেধ করেছে। অথচ, আমাদের সবার উঠোন একটাই! কী আশ্চর্য রকমের হিন্দু এরা! বাংলাদেশী হিন্দু! 

সেদিন ঘটনা শোনার পর সিআই বিষয়টা মীমাংসা করে দিয়ে চলে গেলেন। বরঞ্চ বাবার পক্ষ নিয়ে সিরাজকে বেশ শুনিয়ে দিলেন। এসআই জানতেন, রুদ্র মাস্টার এ কাজ করতে পারেন না। এ কাজে তার কোনো ফায়দাও নেই। 

তিনি যখন বাবার পক্ষে কথা বললেন, তখন কী যে প্রশান্তি পেলাম, সেটা প্রকাশ করবার ভাষা নেই আমার! সেদিন বাবা সালিশ শেষে পার্টির নেতাদের সাথে বাজারে গেলো। আমি সুবাসদা' সহ বাড়ি এলাম। মা তখন লাল চোখ নিয়ে অসহায়ের মত বসে আছে মাটিতে। আমি ভয়ে ছিলাম, বাজারে বাবাকে যদি মেরে ফেলে সিরাজুল! আমার চোখে ভাসছিলো বাবার ভয়ার্ত চেহারা, রক্তাক্ত শার্ট ছিঁড়ে আছে, শরীরটা বিকৃতভাবে রাস্তায় পড়ে! - এইসব ভয়ংকর চিত্র। ভীতিকর সব কল্পনা। দুঃসহ সময় পেরিয়ে রাত ১১ টায় বাবা বাড়ি এলো। আমি ঘুমোতে পারিনি সেদিনও। বাবা আসার পর একটু হালকা লাগছিলো। 

তখন থেকে বাবা বাজারে যেতো মাথা নিচু করে। বাবার মুখ ফ্যাকাসে থাকত। ভীষণ লজ্জা নিয়ে স্কুলে যেতো। অনেকদিন আমি মন খুলে কাউকে আমাদের সাথে কথা বলতে দেখিনি। সবাই এড়িয়ে চলত। একদিন পাশের বাড়ির মুজিবরের বউ আমাদের বাগানে ঢুকে খড়ি কুড়োচ্ছিলো। বাবা ভীষণ রাগ হয়ে বের করে দিয়েছিলো ঐ মহিলাকে। 

আমি বুঝতে পারি, বাবার ভেতরকার ক্ষোভ একটুও কমেনি। বাবা এখন কাউকে সহযোগিতা তো দূর, গ্রামের ভালো-মন্দ খোঁজটুকুও নিতে চায় না। আগে হিন্দু-মুসলিম সবার সমস্যায় সাহায্য করতে দেখেছি বাবাকে। আমার বোধজ্ঞান হবার পর থেকে গ্রামের যত সংকট এসেছে, সে-সব উৎরাতে বাবাকে দেখেছি বড় ভূমিকায়। গরীর মানুষের বিয়ে হলে সেখানে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে দেখেছি এবং এ কারণে তার বেশ কয়েকটি ধর্ম-সন্তান লাভ হয়েছে। লুৎফা, ব্রজবালা, সন্ধ্যা, মজিরন, মালেকা এরা সবাই আমার বাবাকে বাপ-দায় দিয়েছে।

আমার মা ইয়ারকি করে বলত, "তোর বাপের যত মেয়ে রে, আমার তো সব জামাই-বাড়ি যাবার গেলে বছর ঘুরবে।" অথচ আমাদের বিপদের সময় লুৎফা আর তার স্বামী ছাড়া কেউ এগিয়ে আসেনি। সে কারণে কেবল লুৎফার ওপর বাবা সন্তুষ্ট। লুৎফাই আমাদের ভিটেয় আসতে পারে, থাকতে পারে।

সেবার দূর্গাপূজায় পার্টির বড় বড় নেতারা এলেন। পুলিশের এস আই, ওসি এলেন। আমাদের বাড়ি লোকে ভরে গেলো। আমি আবার আমার বাবাকে "হিরো" ভাবতে শুরু করলাম। প্রতিবার দূগাপূজায় দেখেছি, গ্রামের সব হিন্দু-মুসলমান আসত আমাদের বাড়ি। যাহোক দু'মুঠো চিড়ে খেয়ে যেতো। কিন্তু এবারে গ্রামের কেউ আসতে পারল না। কিন্তু আমি সবকিছু ভুলে সবার বাড়িবাড়ি খেয়ে বেড়ালাম। সেই বয়েসে ক্ষোভ পুষে রাখার মতো মানসিকতা ছিলো না আমার। 

এর পরের বছর আমার বাবা বাইরের গ্রাম থেকে লোক এনে আবাদ-কৃষি করতে লাগল। আগে যারা আমাদের জমাজমি বর্গা-চাষ করত, তারা জমি পায়নি সে বছর; অন্য গ্রামের মানুষ এসে আবাদ করতো। কিন্তু তার পরের বছরই গ্রামের লোকেরা একপ্রকার জোর করে আমাদের জমি বর্গা চাইল। তারা বাবার সামনে পরাজিতের মত দাঁড়ালো। আমার বাবা রুদ্র মাস্টার বিজয়ীর মত তাদের সামনে দাঁড়ালো!

তখন আমি আলাদাভাবে হিন্দু লোকগুলোর কাছে জানতে চাইলাম, "সেদিন কি আমার বাবাই কালীর মাথা ভাঙছে?"

তারা মিনমিনিয়ে উত্তর দিলো, "মুই জানং এ'কামাই তোর বাপের নোয়ায়। সিরাজে এই কাম কর্ছে।"

একথা শোনার পর আমার উচিত ছিলো ওদের মুখে থুথু দেওয়া। কিন্তু ততদিনে আমি মোটামুটি পরিণত। সেসব দুঃসহ বেদনা সয়ে গেছে আমার। আমিও মাথা নিচু করতে শিখে গেছি। জেনে গেছি, আমার বাবা বাংলাদেশী হিন্দু; তার হিরো হবার যোগ্যতা নেই। এই লোকগুলোও বাংলাদেশী হিন্দু।

বুঝতে পারলাম, এই লোকগুলো আবার আমার বাবার বিপদ দেখলে আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে। মুসলমানের 'বান্ধব' সাজবে। বাংলাদেশী হিন্দুরা লজ্জা পায় না। এরা নির্লজ্জ। মুসলমানের জঘন্য অন্যায়ও এদের কাছে সহনীয়। অথচ মৃতের স্বজন নিমন্ত্রণে ত্রুটি করলে এরা চিতায় এক টুকরা খড়ি ছুঁড়তেও যায় না। এতটাই ধর্ম এদের ভেতর!