৫ মে, ২০১৬

ছহীহ্ ইছলামী পর্নসমগ্র - ২


গোপনাঙ্গ চোষন অধিকাংশ দেশেই বৈধ। ইসলাম ধর্মে শুধুমাত্র নারীদের মাসিকের সময় যৌনমিলনে নিষেধ আছে। কিন্তু কিছু কিছু ইসলামি চিন্তাবিদের মতে এটা মাকরূহ, কারণ গোপনাঙ্গ চোষন এর মাধ্যমে স্বামীর লিঙ্গ থেকে স্ত্রীর মুখে বা স্ত্রীর যোনি থেকে স্বামীর মুখে নাপাক তরল যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয় । অন্যান্য ইসলামি চিন্তাবিদরা জোর দিয়ে বলেছেন গোপনাঙ্গ চোষন নিষিদ্ধ বলা যায় এমন দলিল কোথাও পাওয়া যায়নি। স্বামী অথবা স্ত্রীর গোপনাঙ্গ মানব দেহের অন্য অঙ্গের মতই বিবেচনা করা হয় (যেমন স্তন অথবা ঠোট)। অন্যদিকে মুখ হচ্ছে শরীরের সর্বাপেক্ষা পবিত্র অঙ্গ। তাই ইসলামিক চিন্তাবিদগন সতর্ক করে দিয়েছেন কোন ভাবেই মনি অথবা মজি (প্রাক-মিলন-তরল অথবা বীর্য) যেন মুখের ভিতর না যায়। এ তরল মুখে যাবার সম্ভাবনা প্রচুর। তাই এই চোষন ক্রিয়াকে মাকরুহ্ বলেছেন অনেকে। 

তাছাড়া বর্তমান বিশ্বে যে সব ব্যক্তিবর্গ ওরাল সেক্স এ আসক্ত ছিল এবং নিয়মিত এটা করত, তারা অধিকাংশই মুখের বিভিন্ন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে এটা তাদের নিজেদের মুখেই স্বীকার করেছে। তাই স্বাস্থ্য গত দিক দিয়েও এর আ আপনারা মরা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখতে পাই। এবার যার যার বুদ্ধি বিবেচনা দিয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।
#


উত্তরঃ আলহামদুলিল্লাহ। এ ব্যাপারে সকল আলেম একমত যে, সহবাসের ফলে গোসল ওয়াযিব হয়।

আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়াহ : (৩১/১৯৮)
স্বামী তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করলে, মনি নির্গত না হলেও গোসল ওয়াযিব হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ সিদ্ধান্ত আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহুর হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন :
قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ( لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْتِيَ أَهْلَهُ قَالَ بِاسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبْ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا ، فَإِنَّهُ إِنْ يُقَدَّرْ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ فِي ذَلِكَ لَمْ يَضُرَّهُ شَيْطَانٌ أَبَدًا ).

“যদি পুরুষ তার চার শাখার (হাত-পার) উপর বসে যায়, অতঃপর তাতে সে মিহনত করে, তবেই তার উপর গোসল ওয়াযিব হল।” বুখারি : (২৯১), 

মুসলিমের বর্ণনা অতিরিক্ত রয়েছে, ( وَإِنْ لَمْ يُنْزِلْ )  “যদিও মনি নির্গত না হয়।” মুসলিম : (৫২৫)

ইমাম নববি রহ. মুসলিমের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন :
“হাদিসের অর্থ : মনি নির্গত হওয়া বা না হওয়ার উপর গোসল ওয়াযিব মওকুফ নয়। বরং যখনই পুরুষের সুপারি নারীর যৌনাঙ্গে প্রবেশ করে, তখনই নারী-পুরুষ উভয়ের উপর গোসল ওয়াযিব হয়। বর্তমান যুগে এতে কোন মতবিরোধ নেই, তবে এক সময় কতক সাহাবা ও তাদের অনুসারীদের মধ্যে ইখতিলাফ ছিল, অতঃপর আমাদের উল্লেখিত সিদ্ধান্তের উপর তাদের মাঝেও মতৈক্য সৃষ্টি হয়।”

শায়খ ইবেন উসাইমিন রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন :
“গোসল ওয়াযিব হওযার ব্যাপারে এ দলিল স্পষ্ট, যদিও মনি নির্গত না হয়। এ বিষয়টি অনেকের কাছে অস্পষ্ট, তুমি অনেক স্বামী-স্ত্রীকে দেখবে, তাদের থেকে সহবাস কর্ম সম্পাদন হওয়ার পরও তারা গোসল করে না। বিশেষ করে, যদি তারা ছোট হয় এবং এর শিক্ষা না পেয়ে থাকে। তাদের এ ভ্রান্তি এ ধারণা থেকে সৃষ্ট যে, মনি নির্গত ব্যতীত গোসল ওয়াযিব হয় না, অথচ এটা ভুল।” আশ-শারহুল মুমতি : (১/২২৩)

ফতোয়া লাজনায়ে দায়েমাতে রয়েছে :
“মুসলিমের উপর যেসব কারণে গোসল ওয়াযিব হয় : ঘুমন্ত অবস্থায় মনি বের হওয়া। স্বামীর সুপারি স্ত্রীর যৌনাঙ্গে প্রবেশ করা, যদিও তাতে মনি নির্গত না হয়। সহবাস ব্যতীত জাগ্রত অবস্থায় উত্তেজনাসহ মনি নির্গত হওয়া। এবং নারীর হায়েস ও নিফাস, যখন তাদের রক্ত বন্ধ হয়ে যাবে, তখন তাদের উপর গোসল হবে।” ফতোয়া লাজনায়ে দায়েমা : (৫/৩১৪)