১৮ মে, ২০১৬

মুছলিমদের ইহুদিবিদ্বেষের গোপন কারণমূহ

লিখেছেন নাস্তিক ফিনিক্স

পৃথিবীর অনেক সমীক্ষার রিপোর্টে একটা বিষয় বারে বারে উঠে এসেছে - ইহুদি/ইসরাইল বিদ্বেষ, যার কেন্দ্রবিন্দু হলো আরবীয় মুছলিম জাহান। মূল প্রসঙ্গে যাবার আগে একটা জলজ্যান্ত উদাহরণ দিই। যারা পশ্চিমবঙ্গ (ভারত) সম্পর্কে সচেতন, তারা ঘটি-বাঙালের ঠাণ্ডা যুদ্ধ বিষয়ে জানেন। বাঙাল অর্থাৎ বাংলাদেশি বাঙালি হিন্দুরা, যারা ভারতে শরণার্থী হয়ে এসেছেন, তাঁরাই এখন ঘটি অর্থাৎ ভারতীয় বাঙালি হিন্দুদের টেক্কা শুধু নয়, কয়েকশো যোজন দূরে ফেলে দিয়েছেন। এতে দোষের কিছু নেই, কারণ ঘটিদের ঘটিবাটিতে কোনওদিন টান পড়েনি, তাই তাঁরা ডারউইন সাহেবের 'Struggle for Existence' মতবাদটা বুঝতে পারেননি, যেটা সর্বস্ব খোয়ানো বাঙালরা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পেরেছিলেন।

আরব মরু আর ইসরাইলের ছবিটা এই ঘটি-বাঙালের সাথে দারুণ মিল খায়। ইসরাইলও মরু, আরবও মরু, তবুও ৬৭ বছরে ইসরাইল নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যে উন্নতি করেছে, তা আরবীয় মুছলিম জাহানের কাবা-পূজারিরা দীর্ঘ চোদ্দোশো বছর ধরে তার আশোপাশেও পৌঁছাতে পারেনি। তেল ছাড়া এদের ভাঁড়ার শূন্য, তাই শীর্ষ ১০ তেল উৎপাদকের তালিকায় মাত্র একটি দেশ আরব মরুর হওয়া সত্ত্বেও লোকে তেল বলতে আরবই বোঝে।

জিহাদি হোক বা মডারেট, খাদ্য সবার প্রয়োজন। ইসরাইল নিজেরাই নিজেদের ৯৫% খাদ্য উৎপাদন করে, যেখানে আরব ব্যর্থ। নতুন করে আবার ৯৮ লক্ষ সিরিয়ান খাদ্যের অভাবে ভুগছে। ফল উৎপাদনে ইসরাইল মরু বিশ্বের দরবারে জায়গা করে নিয়েছে, যেটা আরব মরু ভাবতেই পারে না। Drip Irrigation আবিষ্কার করে ইসরাইল মেরু আজ শস্য উৎপাদনে অনেক এগিয়ে। আরব মরুতে তেমন কিছুই নেই।

আল্লাহ কার পক্ষে, সেটাও বোঝা বেশ মুশকিল, কারণ ইসরাইল একমাত্র দেশ, যেখানে গাছপালার সংখ্যা বা 'Trees per capita' কমেনি, বেড়েছে। আরব মরুর সব থেকে উর্বর ভূমি নীল নদের তীর আজ বিপর্যস্ত।

অন্নের পরে মানুষের জীবনে সাম্যের খুব প্রয়োজন, যার প্রধান হলো নারীর অধিকার। আরবীয় মুছলিম জাহানে নারীর দশার কথা আর কী বা বলবো! ইসরাইল - বিশ্বের সব থেকে উন্নত গণতন্ত্র (নারী অধিকারের দিক দিয়ে) এবং নারীর শ্লীলতাহানি ও কটূক্তির বিরুদ্ধে বিশ্বের সবচেয়ে কড়া আইন এখানে। ইসরাইলি নারীরাই বাকি সব দেশের তুলনায় বেশি বাণিজ্য করে এবং নতুন করে ব্যবসা গড়ে তোলে। 

আরব জাহানে প্রতি দুইজন নারী পিছু একজন পুরোপুরি অশিক্ষিত। ইসরাইলে প্রতি ১০০০ জন নারী প্রতি ৯৭৬ জনই শিক্ষিত অর্থাৎ ৯৭.৫% শতাংশ। আরো মজার ব্যাপার হলো, ইসরাইলে যে ২৪ জন নারী শিক্ষিত নয়, তারা ইসরাইলে বসবাসকারী আরবি মুসলিম, কারণ ইসরাইলে ইহুদি নারীদের শিক্ষিতের হার ১০০%।

খুন-জখমের দিক দিয়ে দেখলে ইসরাইল বিশ্বের প্রথম ৫টি সবথেকে নিরাপদ দেশের মধ্যে একটা - স্লোভেনিয়া, সুইডেন, সুইটজারল্যান্ড এবং অস্ট্রিয়ার পরেই। আর আরব মরুতে শান্তির দাপট নিয়ে কী বা বলবো! শান্তির কেন্দ্রবিন্দু মক্কা কাবাতেই ৩১-৭-১৯৮৭ সালে খুন হয়েছিলো ৪০০ জন। আরব মরুতে জঙ্গিদের শান্তির প্রচার নাহয় বাদই দিলাম।

আমেরিকা প্রথম, আর দ্বিতীয় হলো ইসরাইল, যেখান থেকে বিশ্বের সবথেকে বেশি টেকনোলজিক্যাল কম্পানি উঠে আসে। আরো স্পষ্ট করে বললে - এই বিষয়ে বিশ্বে Sillicon Valley, California, US প্রথম স্থানে, দ্বিতীয় - Silicon Wadi, Israel. আরবীয় মুছলিম জাহানের কোথাও আরবি টেকনোলজিক্যাল কম্পানি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

আরব মরু সবকিছুতেই ইসরাইলের থেকে অনেক পিছিয়ে। তাই ভারতীয়দের ভাষায়, আরব মরুর PNPC (পরনিন্দা পরচর্চা) তথা বিদ্বেষ প্রকাশ করা ছাড়া উপায় কী?

* এখানে উল্লেখিত তথ্যগুলোর সত্যতা নেটে লভ্য বিভিন্ন সূত্র থেকে নিশ্চিত করেছেন বর্তমান নিবন্ধের লেখক।