২২ মে, ২০১৬

বিগ ব্যাং সম্পর্কে জাকির নায়েকের মিথ্যাচার (নাকি অজ্ঞতা?) - ২

লিখেছেন মানবিক মানব


এবার কোরআনের সুরা ফসিলতের আরেকটি আয়াত (নম্বর ১২) পেশ করছি:
অতপর তিনি আকাশ মন্ডলীকে দু দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন।
এই আয়াতটি তিনি এই লেকচারে উল্লেখ করেননি। এর কারণ বিগ ব্যাং থিওরিতে এই ধরনের উদ্ভট কথা নেই। তা বিগ ব্যাং থিওরি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাহলে এখন জাকির নায়ের সম্পর্কে কী বলবো? তিনি কি বিগ ব্যাং সম্পর্কে ভালো ভাবে জানেননি? এবং তিনি না জেনেই তার অজ্ঞানতা থেকেই এই কথাগুলো বলেছেন? নাকি তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছেন?... আমার মনে হয় না, তিনি অজ্ঞতা থেকে এই কথা গুলো বলেছেন।

আবার মুসলমানদেরকে দেখে অবাক হই, যখন দেখি তারা না জেনে জাকির নায়েকের কথাগুলো অন্ধভাবে বিশ্বাস করছেন। আবার বিভিন্ন জায়গায় সেই কথাগুলি বারবার বলছেনও। আশ্চর্য হই তখন, যখন ভাবি এই মুসলমানদের কি একবারের জন্যও জাকির নায়েক ঠিক বলেছেন কি না, সে ব্যাপারে জানতে ইচ্ছা হয় না? জাকির নায়েকের মত লোকগুলো বারবার মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে আর সেই মানুষগুলোও সুন্দরভাবে বিভ্রান্ত হবে! একবারের জন্যও তারা সত্য-মিথ্যা যাচাই করে দেখবে না! আর এই অজ্ঞতার ওপরই মিথ্যা ধর্মগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করবো, শুধু অন্ধ বিশ্বাস নিয়ে নয়, আসুন, আমরা সত্য জানি। সত্যের সাথে জ্ঞানের আলোকে আমাদের জীবনকে আলোকিত করি!

আমার এই লেখাটি পড়ে যে সব মুসলমান ভাই প্রতিবাদ করতে আসবেন, তাদেরকে আমি বিনীত অনুরোধ করবো বিগ ব্যাং সম্পর্কে ভালো ভাবে জেনে নিতে অথবা স্টিফেন হকিংসের "কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস" ( A brief history of time) বইটি পড়ে নিতে। আর যাঁরা এইসব ঝামেলায় যেতে চান না, তাদের জন্য আমি আমার যথাসম্ভব সহজভাবে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করে বলছি যে, কেন বিগ ব্যাং-এর আগে গ্যাস থাকা সম্ভব নয় এবং গ্যাস থেকে কেন বিগ ব্যাং হওয়া সম্ভব নয়।

প্রত্যেকটা পদার্থের একটা নির্দিষ্ট পরিমান আয়তন এবং ভর আছে। গ্যাসীয় পদার্থেরও একটা নির্দিষ্ট আয়তন ও ভর থাকে। একটা গ্যাসীয় কণারও খুব ক্ষুদ্র কিন্তু নির্দিষ্ট পরিমাণ আয়তন এবং ভর আছে। এখন ধরি, বিগ ব্যাং-এর সময় মহাবিশ্বের সমস্ত বায়বীয় অর্থাৎ গ্যাসীয় পদার্থ এক সাথে মিলিত হবে, ফলে গ্যাসীয় কণাগুলোর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আয়তন মিলে এই মহাবিশ্বের মোট পদার্থের আয়তনের সমান আয়তন হবে। ফলে তারা ঠিক এক বিন্দুতে মিলিত হতে পারবে না। কারণ বাইরের পদার্থগুলো ভেতরের দিকে ঢুকতে পারবে না আগে জমা হওয়া গ্যাসের জন্য। এবং এই গ্যাসীয় পদার্থগুলোর আয়তন হবে অনেক অনেক অনেক বড় আয়তনের। ফলে বিগ ব্যাং-এর থিওরি অনুযায়ী মহাবিশ্বের সমস্ত উপাদান এক বিন্দুতে মিলিত হতে পারবে না।

আবার গ্যাস জাতীয় পদার্থগুলো যদি এক সাথে মিলিত হয়, তবে তাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভর মিলে হবে মহাবিশ্বের মোট ভরের সমান, যেটা হবে অকল্পনীয় ভর। এর ফলে এর মহাকর্ষীয় বল হবে অকল্পনীয় বেশি। যেটা কৃষ্ণ গহবরের মহাকর্ষীয় বলের তুলনায় অনেক অনেক অনেক বেশি। কারণ বস্তুর ভর বৃদ্ধির ফলে এর মহাকর্ষীয় বল বৃদ্ধি পায়। ফলে এই অবস্থায় এক বৃহৎ কৃষ্ণ গহবরের (ব্লাক হোল) সৃষ্টি হবে। ফলে বিগ ব্যাং আর সংঘটিত হবে না। আর হলেও সেই অকল্পনীয় মহাকর্ষীয় বল উপেক্ষা করে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়। সেই কৃষ্ণ গহবরের অকল্পনীয় মহাকর্ষীয় টানে মহাবিশ্বের সমস্ত উপাদান সেই বৃহৎ কৃষ্ণ গহবরের ভেতরেই থেকে যাবে। কিন্তু মহাবিশ্বের সমস্ত উপাদান শক্তি (এনার্জি) হিসেবে ছিল বলেই বিগ ব্যাং সংঘটিত হয়েছিল। সুতরাং বিগ ব্যাং-এর আগে মহাবিশ্বের সমস্ত উপাদান গ্যাসীয় অবস্থায় ছিল - কথাটা ডাহা মিথ্যা ও একেবারেই অসম্ভব।

বিভিন্ন মুসলমান ধর্মীয় বিশেষজ্ঞগণ বলে থাকে যে, কোরান আল্লাহর কাছ থেকে আবির্ভূত হয়েছে বলে এতে একটাও ভুল নেই এবং যদি এতে একটাও ভুল পাওয়া যায়, তবে এই কুরআন মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে। এখন দেখা যাচ্ছে, বিগ ব্যাং থিওরি কোরানে আছে বলে যে-দাবি তারা করেন, তা সম্পূর্ণ ভুল ও মিথ্যা। সুতরাং এই কুরআন আল্লাহর কাছ থেকে আসেনি। এটা মানুষের রচনা।