২২ মে, ২০১৬

হুদাইবিয়া সন্ধি - ১৬: চুক্তি ভঙ্গ - দুই!: কুরানে বিগ্যান (পর্ব- ১২৬): ত্রাস, হত্যা ও হামলার আদেশ – একশত

লিখেছেন গোলাপ

(আগের পর্বগুলোর সূচী: এখানে)

"যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।"

৬২৮ সালের মার্চ মাসে স্বঘোষিত আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হুদাইবিয়ায় কুরাইশদের সঙ্গে যে-লিখিত সন্ধিচুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন, সেই চুক্তির প্রতিটি শর্তের প্রতি মুহাম্মদ পূর্ণ বিশ্বস্ত ছিলেন - এই দাবিটি কী কারণে ইসলামের হাজারও মিথ্যাচারের একটি; মদিনায় প্রত্যাবর্তনের পর চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মক্কা থেকে পালিয়ে আসা উম্মে কুলসুম বিনতে উকবা নামের এক মহিলাকে তাঁর ভাইদের কাছে ফেরত না পাঠিয়ে মুহাম্মদ কীভাবে এই চুক্তির প্রায় প্রত্যেকটি শর্ত ভঙ্গ করেছিলেন; কী অজুহাতে তিনি তা করেছিলেন; তাঁর সেই অজুহাত কী কারণে অভিসন্ধিমূলক ও প্রতারণা; ইত্যাদি বিষয়ের আলোচনা আগের পর্বে করা হয়েছে। নিজ উদ্দেশ্য সাধনের প্রয়োজনে মুহাম্মদ তাঁর যে 'আল্লাহ' কে সৃষ্টি করেছিলেন (পর্ব: ১৪), তাঁর সেই আল্লাহকে মুহাম্মদ কী রূপে যথেচ্ছ ব্যবহার করতেন, তার উজ্জ্বল উদাহরণ হলো তাঁর রচিত এই ৬০:১০-১১ শ্লোক দু'টি।

হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তি স্বাক্ষর শেষে মদিনায় প্রত্যাবর্তনের দেড়-দুই মাস পর, হিজরি ৭ সালের মহরম মাসে (যার শুরু হয়েছিল মে ১১, ৬২৮ সাল) মুহাম্মদ "শুধু” তাঁর হুদাইবিয়ায় অংশগ্রহণকারী অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে কী উদ্দেশ্যে খায়বারের নিরীহ জনগণের ওপর আগ্রাসী হামলা চালিয়েছিলেন, তার আংশিক আলোচনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে (পর্ব: ১২৪), এ বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা ‘খায়বার যুদ্ধ’ অধ্যায়ে করা হবে। খায়বার থেকে মদিনায় ফিরে আসার পর মুহাম্মদ রবিউল আওয়াল, রবিউস সানি, জমাদিউল আওয়াল, জমাদিউস সানি, রজব, শাবান, রমজান ও শাওয়াল মাস (জুলাই ৯, ৬২৮ সাল - মার্চ ১, ৬২৯ সাল) পর্যন্ত মদিনায় অবস্থান করেন। এই সময়টিতে মুহাম্মদ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অবিশ্বাসী জনপদের ওপর খায়বার হামলা ছাড়াও কমপক্ষে আরও সাতটি হামলার আদেশ জারি করেন। অতঃপর হুদাইবিয়া সন্ধি-স্বাক্ষরের ঠিক এক বছর পর, হিজরি ৭ সালের জিলকদ মাসে (যার শুরু হয়েছিল মার্চ ২, ৬২৯ সাল) মুহাম্মদ তাঁর আগের বছরের হুদাইবিয়ায় অংশগ্রহণকারী অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় আগমন করেন। [1] [2]

সন্ধিচুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তিন দিনের এই ওমরা পালন শেষে মদিনায় ফিরে আসার প্রাক্কালে মুহাম্মদ হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তি আবারও ভঙ্গ করেন। আল-ওয়াকিদি ও ইমাম বুখারী সেই ঘটনার বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন।

আল-ওয়াকিদির (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ) বর্ণনা: [3] [4]

'ইবনে আব্বাস হইতে > ইকরিমা হইতে > দাউদ বিন আল-হুসায়েন-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে 'ইবনে আবি হাবিবা আমাকে বলেছেন:

বস্তুত যখন আল্লাহর নবী আগমন করেন, তখন উমারা বিনতে হামজা বিন আবদ আল-মুত্তালিব ও তাঁর মাতা সালমা বিনতে উমায়া ছিলেন মক্কায়। আলী নবীর সাথে কথাবার্তা কালে বলে, "কেন আমরা আমাদের চাচার এই এতিম মেয়েটিকে মুশরিকদের মাঝে রেখে যাব?" নবী আলীকে বারণ করেন না, ও তিনি তার কাছে গমন করেন।

যায়েদ বিন হারিথা ছিলেন হামজার সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক (trustee) এবং নবী সকল মুহাজিরদের - বাস্তুত্যাগীদের - ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করার কারণে তারা ছিলেন ভ্রাতৃতুল্য। তিনি বলেন, "তার ওপর আমার অধিকার বেশি, সে আমার ভাইয়ের কন্যা।"

যখন জাফর তা শুনতে পান, বলেন "খালা হলো মাতৃতুল্য, তার ওপর আমার অধিকারই বেশি এই কারণে যে, তার খালা আসমা বিনতে উমায়া আমার সাথেই থাকে।"

আলী বলেন, "আমার কাজিন-কে নিয়ে বিতর্ক করো না, কারণ মুশরিকদের মধ্য থেকে যে তাকে নিয়ে এসেছে, সে হলো আমি। আমি তা না করলে তোমরা ওর সাথে অন্তরঙ্গতার সুযোগ পেতে না। তাই আমার সাথে তার ঘনিষ্ঠতা তোমাদের চেয়ে বেশি।"

আল্লাহর নবী বলেন, "তোমাদের মধ্য আমি ফয়সালা করে দেবো! হে যায়েদ, তোমার ব্যাপারটি হলো, তুমি হলে আল্লাহ ও তার নবীর কাছ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ক্রীতদাস; হে আলী, তুমি হলে আমার ভাই ও সহচর। হে জাফর, তোমার ব্যাপারটি হলো, তোমার বাইরের চেহারা সাথে আমার মিল আছে ও তোমার স্বভাবের (ভেতরের চেহারার) সাথেও আমার আছে মিল। হে জাফর, তার ওপর তোমার অধিকারই বেশী। তার খালা হলো তোমার স্ত্রী [পর্ব-৩৮]।  একজন নারীর উচিত নয় যে, সে তার খালা বা ফুপুর স্বামীকে বিবাহ করে। অতঃপর আল্লাহর নবী জাফরের পক্ষে তার রায় দেন।

ইবনে ওয়াকিদ বলেছেন, যখন তিনি তার রায় জাফরের পক্ষে দেন, জাফর উঠে দাঁড়ান ও আল্লাহর নবীর চতুর্দিক ঘুরে লাফালাফি করেন। আল্লাহর নবী বলেন, "এটা কী জন্যে, জাফর?" তিনি জবাবে বলেন, "হে আল্লাহর নবী, যখন 'নিগাস' [আবিসিনিয়ার রাজার খেতাব] তাঁর রাজ্যের কোনো লোককে সন্তুষ্ট করে, সেই ব্যক্তিটি  দাঁড়িয়ে যায় ও 'নিগাস' এর চতুর্দিক ঘুরে লাফালাফি করে।" আল্লাহর নবীকে বলা হয়, "তাকে বিবাহ করুন।" তিনি বলেন, "সে হলো আমার পালিত ভাইয়ের (Foster brother) কন্যা, একই ধাই যাকে আমার সাথে লালন-পালান করেছে।"

আল্লাহর নবী সালামা ইবনে আবি সালামার সাথে তার বিবাহ দেন। আল্লাহর নবী প্রায়ই বলতেন, "আমি কি সালামা-কে পুরস্কৃত করেছি?"

- অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ - লেখক।


ইমাম বুখারীর (৮১০-৮৭০ সাল) বর্ণনা: [4]

এই প্রসঙ্গে ইমাম বুখারীর বর্ণনা (৫:৫৯:৫৫৩৩:৪৯:৮৬৩) আল-ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত বর্ণনারই অনুরূপ। আল-বারার (Al-Bara) উদ্ধৃতি সাপেক্ষে এই ঘটনার বর্ণনায় ইমাম বুখারী আবারও উল্লেখ করেছেন যে, হুদাইবিয়া সন্ধি-চুক্তির শর্ত ছিল, "---মুহাম্মদ অবশ্যই খাপের ভেতরে তরবারি ছাড়া অন্য কোনো অস্ত্র মক্কায় নিয়ে আসবেন না; মক্কার কোনো লোককে অবশ্যই তাঁর সাথে নিয়ে যাবেন না, এমনকি সেই লোকটি যদি তাঁর সাথে যেতেও চায়, তবুও; এবং তাঁর কোনো অনুসারী যদি মক্কায় থেকে যেতে চায়, তিনি তাকে বাধা দেবেন না।"

("----Muhammad should not bring arms into Mecca except sheathed swords, and should not take with him any person of the people of Mecca even if such a person wanted to follow him, and if any of his companions wants to stay in Mecca, he should not forbid him. ----")

>>> আগের বছর মুহাম্মদের যে-অনুসারীরা ওমরা পালনে ব্যর্থ হয়ে হুদাইবিয়া থেকে মদিনায় প্রত্যাবর্তন করেছিলেন, হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তি সম্পন্ন করার ঠিক এক বছর পর (মার্চ, ৬২৯ সাল) মুহাম্মদ তাঁর সেই অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে এই ওমরা পালনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আল ওয়াকিদি ও ইমাম বুখারীর ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে-বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট, তা হলো, ওমরা পালন শেষে মদিনায় প্রত্যাবর্তন কালে মুহাম্মদ তাঁর সমবয়সী চাচা হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিবের কন্যা উমারা বিনতে হামজাকে মক্কা থেকে তুলে নিয়ে এসেছিলেন, "যা ছিল হুদাইবিয়া সন্ধি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন! কারণ, সন্ধির শর্ত ছিল এই যে, মক্কার কোনো লোককে মুহাম্মদ অবশ্যই তাঁর সাথে নিয়ে যাবেন না, এমনকি সেই লোকটি যদি তার সাথে যেতেও চায়, তবুও না!"

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মক্কা থেকে মদিনায় পালিয়ে যাওয়া তাঁর অনুসারীকে শুধু যে তিনি কুরাইশদের কাছে ফেরত দেননি, তাইই নয় (পর্ব: ১২৫), চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে তিনি কুরাইশদের মধ্য থেকে তাঁদের চোখের সামনেই খোদ মক্কা থেকে তাঁদের একজনকে মদিনায় তুলে নিয়ে আসা সত্ত্বেও কুরাইশরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াতে চাননি। অন্যদিকে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের মানসিকতা ছিল তাঁদের এই মানসিকতার সম্পূর্ণ বিপরীত, যা গত নিরানব্বইটি পর্বে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হয়েছে। 

সত্য হলো:

কুরাইশরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুহাম্মদের সাথে শুধু একটাই যুদ্ধ করেছিলেন, সে যুদ্ধটি হলো "ওহুদ যুদ্ধ (পর্ব: ৫৪-৭১)!" তাঁরা তা কেন করেছিলেন ও সেই যুদ্ধে মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের কী হাল হয়েছিল, তার বিশদ আলোচনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে। খন্দক যুদ্ধে তাঁরা অংশ নিয়েছিলেন সত্যি, কিন্তু সেই যুদ্ধের উদ্যোক্তা তাঁরা ছিলেন না। কারা ছিলেন খন্দক যুদ্ধের উদ্যোক্তা ও সেই যুদ্ধেও মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের কী হাল হয়েছিল, তার বিশদ আলোচনাও ইতিমধ্যেই করা হয়েছে (পর্ব: ৭৭-৮৬)

কুরাইশরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সাথে সর্বদাই সংঘর্ষ এড়াতে চেয়েছিলেন। কী কারণে তা তাঁরা করেছিলেন, তাও আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় অত্যন্ত স্পষ্ট!  আর তা হলো, তাঁদের উদার ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা। শুধুমাত্র ভিন্ন-ধর্মাবম্বলী হওয়ার কারণে কোনো ধর্মগুরু ও তাঁর অনুসারীদের নির্মূল করার মানসিকতার অধিকারী কুরাইশরা কখনোই ছিলেন না। মুহাম্মদ ও তাঁর সহচরদের অনেকেই ছিলেন তাঁদেরই একান্ত পরিবার-পরিজন, নিকট-আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব বা প্রতিবেশী। এই লোকগুলোর প্রতি ছিল তাঁদের মানবিক দুর্বলতা, স্বজনদের প্রতি তাঁদের সহিষ্ণুতা, অনুকম্পা ও মানবতাবোধ। যে-কারণে বদর যুদ্ধে তাঁদের চরম পরাজয় ঘটেছিল (পর্ব: ৩৪)! যে-কারণে ওহুদ যুদ্ধে তাঁরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের একান্ত নাগালের মধ্যে পেয়েও তাঁদেরকে নির্মূল করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি (পর্ব: ৬৯); যে-কারণে বারংবার হুদাইবিয়া সন্ধি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করার পরেও তাঁরা মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে কোনোরূপ আক্রমণাত্মক অভিযানে জড়াতে চাননি।

অতীত অভিজ্ঞতা থেকে কুরাইশরা কোনো শিক্ষাই গ্রহণ করেননি। মুহাম্মদের চরম সাফল্য ('মক্কা বিজয়') ও কুরাইশদের চরম পরাজয়ের কারণ ছিল এখানেই। হুদাইবিয়া সন্ধিচুক্তির সাথে এর কোনোই সম্পর্ক নেই।

ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে মূল ইংরেজি অনুবাদের অংশটিও সংযুক্ত করছি।

The narrative of Al-Waqidi:

‘Ibne Abi Habiba related to me from Dawud b al-Husayn from Ikrima from Ibn abbas, who said: Indeed Umara bt Hamza b abd Al-Muttalib and her mother Salma bt Umays were in Mecca when the Messenger of God arrived. Ali spoke to the Prophet and said, “Why do we leave the daughter of our uncle, an orphan, in the midst of polytheists?” The prophet did not forbid Ali for going out to her, and he went to her. Zayd bin Haritha spoke, and he was the trustee of Hamza and the Prophet had established a brotherly bond between them when he fraternized the Muhajirin- emigrants - and established a brotherly pact between them. And he said: I have a greater right with her, the daughter of my brother. When Jafar heard that, he said, “The aunt is a mother, I have a greater right to her for her aunt, Asma bt Umays, is with me.” Ali said, “Do not dispute about my cousin, for it was I who set out with her from the midst of the polytheists. You do not have a relationship with her without me, and I am closer to her than you.”

The Messenger of God said, “I will judge between you! As for you O Zayd, you are the freedman of God and his Messenger; you, O Ali, are my brother and my companion. As for you, O Jafar, you bear a resemblance to my outer appearance (khalq) and my character (inner appearance). You, O jafar, have a greater right with her. Her aunt is your wife. A woman should not be married to the husband of her maternal or paternal aunt.” And the Messenger of God judged her for Jafar.

Ibn Waqid said, when he judged her for Jafar, Jafar stood up and skipped around the Prophet. The Prophet said, “What is this, O Jafar?” He replied, “O messenger of God, when the Negus satisfied one from his community, the man would stand up and skip around the Negus.” It was said to the Prophet, “Marry her!” He said, “She is the daughter of my foster brother who nursed with me.” The Messenger of God married her to Salama bin Abi Salama. The Prophet used to say, “Have I rewarded Salama?”’ 

(চলবে)

[কুরানের উদ্ধৃতি সৌদি আরবের বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ (হারাম শরীফের খাদেম) কর্তৃক বিতরণকৃত বাংলা তরজমা  থেকে নেয়া, অনুবাদে ত্রুটি-বিচ্যুতির দায় অনুবাদকারীর। কুরানের ছয়জন বিশিষ্ট ইংরেজি অনুবাদকারীর ও চৌত্রিশ-টি বিভিন্ন ভাষায় পাশাপাশি অনুবাদ এখানে]

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] “সিরাত রসুল আল্লাহ”- লেখক: মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ খৃষ্টাব্দ), সম্পাদনা: ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৮৩৩ খৃষ্টাব্দ), ইংরেজি অনুবাদ:  A. GUILLAUME, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, করাচী, ১৯৫৫, ISBN 0-19-636033-1, পৃষ্ঠা ৫৩০ http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[2] “তারিক আল রসুল ওয়াল মুলুক”- লেখক: আল-তাবারী (৮৩৮-৯২৩ খৃষ্টাব্দ), ভলুউম ৮, ইংরেজী অনুবাদ: Michael Fishbein, University of California, Los Angeles, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৮৭, ISBN 0-7914-3150—9 (pbk), পৃষ্ঠা (Leiden) ১৫৯৩-১৫৯৪

[3] “কিতাব আল-মাগাজি”- লেখক:  আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ খৃষ্টাব্দ), ed. Marsden Jones, লন্ডন ১৯৬৬; ভলুম ২, পৃষ্ঠা ৭৩৮-৭৩৯
ইংরেজি অনুবাদ: Rizwi Faizer, Amal Ismail and Abdul Kader Tayob; ISBN: 978-0-415-86485-5 (pbk); পৃষ্ঠা ৩৬৩-৩৬৪

[4] অনুরূপ বর্ণনা: সহি বুখারী: ভলিউম ৫, বই ৫৯, নম্বর ৫৫৩
(বড় হাদিস, এই পর্বের প্রাসঙ্গিক অংশ)
‘Narrated By Al-Bara : -----Then Allah's Apostle took the writing sheet... and he did not know a better writing... and he wrote or got it the following written!" This is the peace treaty which Muhammad, the son of 'Abdullah, has concluded: "Muhammad should not bring arms into Mecca except sheathed swords, and should not take with him any person of the people of Mecca even if such a person wanted to follow him, and if any of his companions wants to stay in Mecca, he should not forbid him."

(In the next year) when the Prophet entered Mecca and the allowed period of stay elapsed, the infidels came to Ali and said "Tell your companion (Muhammad) to go out, as the allowed period of his stay has finished." So the Prophet departed (from Mecca) and the daughter of Hamza followed him shouting "O Uncle, O Uncle!" Ali took her by the hand and said to Fatima, "Take the daughter of your uncle." So she made her ride (on her horse). (When they reached Medina) 'Ali, Zaid and Ja'far quarreled about her. 'Ali said, "I took her for she is the daughter of my uncle." Ja'far said, "She is the daughter of my uncle and her aunt is my wife." Zaid said, "She is the daughter of my brother." On that, the Prophet gave her to her aunt and said, "The aunt is of the same status as the mother." He then said to 'Ali, "You are from me, and I am from you," and said to Ja'far, "You resemble me in appearance and character," and said to Zaid, "You are our brother and our freed slave." 'Ali said to the Prophet 'Won't you marry the daughter of Hamza?" The Prophet said, "She is the daughter of my foster brother."’