১৬ মে, ২০১৬

মুখে ধর্ম মনে পর্নো

পর্নাসক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে কালের কণ্ঠ পত্রিকার একটি সংবাদ থেকে তিনটি অংশ উদ্ধৃত করা যাক:
১. যারা পর্ন দেখে তাদের অনেকেই যথেষ্ট ধর্মকর্ম করে...
২. যারা পর্নোগ্রাফি ব্যবহার করেন সবচেয়ে বেশিবার তাদের প্রার্থনা ও ধর্মীয় কার্যক্রমের সংখ্যাও বেশি...
৩. এ গবেষণা প্রতিবেদনে বহু মানুষই আশ্চর্য হয়েছেন। কারণ সাধারণত ধর্মীয় কার্যক্রমে যারা জড়িত, তাদের মাঝে পর্নোগ্রাফি দেখার হার কম হবে বলেই অনেকের ধারণা ছিল...
সাধারণ ধর্মবিশ্বাসীদের ভেতরে পর্নপ্রীতি প্রবল - এটা প্রমাণিত সত্য। সবাই জানে, গুগলে পর্ন সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয় মূলত ধর্মকবলিত দেশগুলো থেকে। মুছলিমরা এ ব্যাপারে সবচেয়ে অগ্রগণ্য। এখন কথা হচ্ছে, প্রাপ্তবয়স্ক কেউ পর্ন দেখলে তাতে লজ্জা বা অপরাধের কিছু নেই বলেই মনে করি। কিন্তু পর্নবিরোধী চাপাবাজি করে মুখে ফেনা তুলে গোপনে পর্ন দেখার মধ্যে যে-ভণ্ডামিটা আছে, তা সহ্য করা যায় না।


আরেকটি পুরনো খবর। আমেরিকার যে-প্রদেশগুলোয় ধর্মবিশ্বাসীদের প্রাধান্য, সেই সব প্রদেশে পর্নোছবির গ্রাহক অন্য প্রদেশগুলোর তুলনায় বেশি। এ ব্যাপারে New Scientist-এ ২০০৯ সালে প্রকাশিত এই খবরে কৌতূহলোদ্দীপক কিছু তথ্য আছে:
১. পর্নোছবির সবচেয়ে বড়ো দশটি খদ্দের-প্রদেশের আটটি গত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছে ধর্মবাজ রিপাবলিকান দলের জন ম্যাককেইনকে, আর সবচেয়ে ছোট দশ খদ্দের-প্রদেশের ছ'টি ভোট দিয়েছে ওবামাকে।
২. যে সাতাশটি প্রদেশে সমকামী বিবাহ নিষিদ্ধ, সেখানে পর্নো-সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা অন্য প্রদেশগুলোর তুলনায় শতকরা এগারো ভাগ বেশি।
৩. "পরিবার ও বিয়ে প্রসঙ্গে আমি পুরনো মূল্যবোধে বিশ্বাসী" এবং "মানুষের অনৈতিক যৌনাচারের শাস্তি হিসেবে ঈশ্বর এইডস দিয়েছেন" - এই দুই মতবাদ যে-প্রদেশগুলোয় সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পায়, সেই সব প্রদেশেও পর্নো-সাবস্ক্রাইবার বেশি।
আমধার্মিকদের কথা নাহয় বাদই দিলাম। বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুদের অপ্রতিরোধ্য পর্নাসক্তিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গুগলে priest porn বা pastor porn লিখে সার্চ দিয়ে news অংশে চোখ বোলালে শত-শত সংবাদের লিংক পাওয়া যাবে।